A, B ও C তৃতীয় পর্যায়ের তিনটি মৌল; তাদের যোজ্যতা ইলেকট্রন সংখ্যা যথাক্রমে 1, 2 ও 4।
[A, B ও C প্রতীকী অর্থে ব্যবহৃত]
রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেলকে নিউক্লিয়ার মডেল বলা হয়।
এই মডেল অনুযায়ী পরমাণুর প্রায় সমগ্র ভর ও ধনাত্মক আধান অতি ক্ষুদ্র কেন্দ্রীয় নিউক্লিয়াসে কেন্দ্রীভূত এবং ইলেকট্রনগুলো তার চারদিকে ঘোরে; নিউক্লিয়াসকে কেন্দ্র করে গঠিত বলেই এ নাম।
B-এর পাঁচটি পরমাণুর ভর 1.99×10⁻²² g; তাই একটি পরমাণুর ভর প্রথমে নির্ণয় করা হয়।
একটি B পরমাণুর ভর
= (1.99×10⁻²²)÷5
= 3.98×10⁻²³ g
আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর = (3.98×10⁻²³)÷(1.66×10⁻²⁴)
= 23.98 ≈ 24
অতএব B-এর আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর 24।
তৃতীয় পর্যায়ে A, B ও C-এর যোজ্যতা ইলেকট্রন যথাক্রমে 1, 2 ও 4; তাই এরা Na, Mg ও Si এবং প্রথম আয়নিকরণ শক্তির ক্রম A < B < C।
একই পর্যায়ে বাম থেকে ডানে নতুন শক্তিস্তর যোগ হয় না, কিন্তু প্রোটন সংখ্যা ও কার্যকর নিউক্লীয় আধান বাড়ে; ফলে পরমাণুর আকার কমে এবং বহিঃস্থ ইলেকট্রন বেশি দৃঢ়ভাবে আবদ্ধ হয়।
Na-এর 3s¹ ইলেকট্রন সবচেয়ে সহজে অপসারিত হয়; Mg-এর পূর্ণ 3s² উপস্তর বেশি স্থিতিশীল এবং Si-তে আরও বেশি কার্যকর নিউক্লীয় আকর্ষণ কাজ করে।
অতএব ইলেকট্রন অপসারণের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি Na থেকে Si-এর দিকে বাড়ে; প্রতীকীভাবে আয়নিকরণ শক্তির ক্রম A < B < C।
X একটি হাইড্রোকার্বন; এতে 85.71% কার্বন এবং এর আণবিক ভর N₂-এর সমান।
[X প্রতীকী অর্থে ব্যবহৃত]
ম্যাগনেসিয়াম পর্যায় সারণির গ্রুপ-2-এর ধাতু এবং প্রকৃতিতে মাটির বিভিন্ন খনিজ যৌগে পাওয়া যায়।
এর অক্সাইড MgO ও হাইড্রোক্সাইড Mg(OH)₂ ক্ষারধর্মী এবং MgO+H₂O → Mg(OH)₂ বিক্রিয়ায় ক্ষারধর্মী পদার্থ তৈরি করে; তাই ম্যাগনেসিয়ামকে মৃৎক্ষার ধাতু বলা হয়।
X-এর আণবিক ভর N₂-এর সমান, অর্থাৎ 28; এক মোল X-এ কার্বনের ভর = 28×85.71÷100 = 24 g।
C পরমাণুর সংখ্যা = 24÷12 = 2
H-এর ভর = 28−24 = 4 g
H পরমাণুর সংখ্যা = 4÷1 = 4
অতএব X-এর আণবিক সংকেত C₂H₄; এটি ইথিন বা ইথিলিন।
X=C₂H₄ বা ইথিন থেকে ইথানল, ইথানয়িক এসিড ও সোডিয়াম ইথানোয়েট হয়ে প্রাকৃতিক গ্যাসের মূল উপাদান CH₄ প্রস্তুত করা সম্ভব।
H₃PO₄ প্রভাবকে 300°C ও 60 atm চাপে
CH₂=CH₂+H₂O → CH₃CH₂OH
তারপর CH₃CH₂OH+2[O] → CH₃COOH+H₂O।
CH₃COOH+NaOH → CH₃COONa+H₂O; এতে সোডিয়াম ইথানোয়েট তৈরি হয়, যা সোডালাইমে উত্তপ্ত করলে ডিকার্বক্সিলেশন ঘটে।
CH₃COONa+NaOH → CH₄+Na₂CO₃; একটি কার্বন অপসারিত হয়ে মিথেন তৈরি হয়, তাই X থেকে প্রাকৃতিক গ্যাসের মূল উপাদান প্রস্তুত সম্ভব।
360 g X বিশ্লেষণ করে 144 g C, 24 g H ও 192 g O পাওয়া গেল; X-এর আণবিক ভর 180।
[X প্রতীকী অর্থে ব্যবহৃত]
ধাতব স্ফটিকে ধনাত্মক ধাতব আয়নগুলো ডিলোকালাইজড বা মুক্ত যোজ্যতা ইলেকট্রনের সমুদ্রে অবস্থান করে।
বিভব পার্থক্য প্রয়োগ করলে এই চলনশীল ইলেকট্রনগুলো নির্দিষ্ট দিকে প্রবাহিত হয়ে বৈদ্যুতিক আধান বহন করে; তাই ধাতু বিদ্যুৎ পরিবহন করে।
X-এর আণবিক ভর 180, তাই 250 mL ডেসিমোলার বা 0.1 M দ্রবণ প্রস্তুতে 4.50 g X প্রয়োজন।
প্রয়োজনীয় মোল = MV
= 0.1×(250÷1000)
= 0.025 mol
প্রয়োজনীয় ভর = 0.025×180 = 4.50 g
4.50 g X ওজন করে অল্প বিশুদ্ধ পানিতে দ্রবীভূত করে 250 mL আয়তনমিতিক ফ্লাস্কে নিতে হবে; দাগ পর্যন্ত পানি যোগ করে ভালোভাবে মিশালে 250 mL 0.1 M দ্রবণ হবে।
X-এর শতকরা বিশ্লেষণ থেকে স্থূল সংকেত CH₂O, কিন্তু আণবিক ভর অনুযায়ী আণবিক সংকেত C₆H₁₂O₆; তাই সংকেত দুটি একই নয়।
মোল সংখ্যা
C = 144÷12 = 12
H = 24÷1 = 24
O = 192÷16 = 12
অনুপাত 1:2:1, তাই স্থূল সংকেত CH₂O।
CH₂O-এর সংকেত ভর = 12+2+16 = 30
n = আণবিক ভর÷স্থূল সংকেত ভর
= 180÷30 = 6
আণবিক সংকেত = (CH₂O)₆ = C₆H₁₂O₆; স্থূল সংকেত সরলতম অনুপাত এবং আণবিক সংকেত প্রকৃত পরমাণু সংখ্যা দেখায় বলে তারা ভিন্ন।
দৃশ্যকল্প-১: খোলা আকাশের নিচে দীর্ঘদিন থাকা লোহার রডে বাদামি আস্তরণ পড়েছে।
দৃশ্যকল্প-২:
(i) H₂S(g)+Cl₂(g) → 2HCl(g)+S(s)
(ii) 2SO₂(g)+O₂(g) → 2SO₃(g)
কোনো মৌলের আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর হলো ঐ মৌলের একটি পরমাণুর ভর ও কার্বন-12 পরমাণুর ভরের 1÷12 অংশের অনুপাত।
অনুপাতটির লব ও হর একই এককবিশিষ্ট ভর হওয়ায় ভাগের সময় একক বাতিল হয়ে যায়; তাই আপেক্ষিক পারমাণবিক ভরের কোনো একক নেই।
দৃশ্যকল্প-১-এ লোহার রডে মরিচা পড়েছে; নতুন বাদামি হাইড্রেটেড ফেরিক অক্সাইড সৃষ্টি হওয়ায় এটি ধীর রাসায়নিক পরিবর্তন।
আর্দ্রতা ও অক্সিজেনের উপস্থিতিতে লোহা জারিত হয়
4Fe+3O₂+2xH₂O → 2Fe₂O₃·xH₂O
উৎপন্ন Fe₂O₃·xH₂O-এর ধর্ম মূল Fe থেকে ভিন্ন এবং সহজে Fe-তে ফেরানো যায় না; তাই বাদামি আস্তরণটি রাসায়নিক ক্ষয় বা মরিচা।
(i) ও (ii) উভয় বিক্রিয়ায় একটি মৌলের জারণ সংখ্যা বাড়ে এবং অন্যটির কমে; তাই উভয়ই জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া।
(i)-তে H₂S-এর S-এর জারণ সংখ্যা −2 থেকে মৌলিক S-এ 0 হয়, তাই S জারিত; Cl₂-এর Cl 0 থেকে HCl-এ −1 হয়, তাই Cl বিজারিত।
(ii)-তে SO₂-এর S-এর জারণ সংখ্যা +4 থেকে SO₃-এ +6 হয়, তাই S জারিত; O₂-এর O 0 থেকে SO₃-এ −2 হয়, তাই O বিজারিত।
অতএব (i)-তে H₂S বিজারক ও Cl₂ জারক, আর (ii)-তে SO₂ বিজারক ও O₂ জারক; উভয় ক্ষেত্রেই ইলেকট্রন ত্যাগ ও গ্রহণ যুগপৎ ঘটে।
CₙH₂ₙ₊₁OH (A) → B+H₂O
শর্ত: গাঢ় H₂SO₄
[A ও B প্রতীকী অর্থে ব্যবহৃত]
কার্বনের সর্বোচ্চ যোজনী 4, কিন্তু CO-তে কার্বন অক্সিজেনের সঙ্গে সক্রিয় যোজনী 2 প্রদর্শন করে।
সুপ্ত যোজনী = সর্বোচ্চ যোজনী−সক্রিয় যোজনী = 4−2 = 2; তাই কার্বন মনোক্সাইডে C-এর সুপ্ত যোজনী 2।
A হলো CₙH₂ₙ₊₁OH শ্রেণির অ্যালকোহল; দীর্ঘ শৃঙ্খলের প্রাইমারি অ্যালকোহল বেছে নিয়ে শক্তিশালী জারকে জারিত করলে একই কার্বনসংখ্যার ফ্যাটি এসিড পাওয়া যায়।
প্রথমে প্রাইমারি অ্যালকোহল অ্যালডিহাইডে জারিত হয়
RCH₂OH+[O] → RCHO+H₂O
এখানে R একটি দীর্ঘ অ্যালকাইল শৃঙ্খল।
পরবর্তী জারণে RCHO+[O] → RCOOH; উৎপন্ন দীর্ঘ শৃঙ্খলের একমূলক কার্বক্সিলিক এসিডই ফ্যাটি এসিড।
A অ্যালকোহল এবং B অ্যালকিন—যৌগ দুটি ভিন্ন হলেও উভয়েই শুধু C, H এবং A-এর ক্ষেত্রে অতিরিক্ত O থাকায় সম্পূর্ণ দহনে CO₂ ও H₂O উৎপন্ন হয়।
অ্যালকোহলের সাধারণ দহন
CₙH₂ₙ₊₂O+(3n÷2)O₂ → nCO₂+(n+1)H₂O
এতে C জারিত হয়ে CO₂ এবং H জারিত হয়ে H₂O হয়।
অ্যালকিনের সাধারণ দহন
CₙH₂ₙ+(3n÷2)O₂ → nCO₂+nH₂O
এখানেও C ও H-এর সম্পূর্ণ জারণে একই ধরনের উৎপাদ তৈরি হয়।
অতএব কার্যকরী মূলক ও H-এর সংখ্যা ভিন্ন হওয়ায় প্রয়োজনীয় O₂ ও উৎপন্ন H₂O-এর মোল ভিন্ন, কিন্তু উভয়ের সম্পূর্ণ দহনের উৎপাদের প্রকৃতি একই—CO₂ ও H₂O।
(i) NaCl+H₂SO₄ → NaHSO₄+HCl
(ii) MgCl₂+H₂O → Mg(OH)Cl+HCl
(iii) MgCl₂+7H₂O → MgCl₂·7H₂O
[A=NaHSO₄, B=Mg(OH)Cl ও C=MgCl₂·7H₂O]
একই আণবিক সংকেত কিন্তু ভিন্ন গাঠনিক সংকেত ও ভিন্ন ধর্মবিশিষ্ট যৌগ থাকার ঘটনাকে সমাণুতা বলে।
এ ধরনের যৌগে পরমাণুর সংখ্যা একই থাকে, কিন্তু পরমাণুগুলোর সংযোগক্রম বা স্থানিক বিন্যাস ভিন্ন হওয়ায় ভৌত ও রাসায়নিক ধর্ম বদলে যায়।
(i)-তে A=NaHSO₄; এর মোলার ভর = 23+1+32+4×16 = 120 g mol⁻¹।
Na-এর শতকরা পরিমাণ = (23÷120)×100 = 19.17%
H-এর শতকরা পরিমাণ = (1÷120)×100 = 0.83%
S-এর শতকরা পরিমাণ = (32÷120)×100 = 26.67%
O-এর শতকরা পরিমাণ = (64÷120)×100 = 53.33%
অতএব NaHSO₄-এ Na, H, S ও O যথাক্রমে 19.17%, 0.83%, 26.67% ও 53.33%।
(ii) MgCl₂+H₂O → Mg(OH)Cl+HCl হলো আর্দ্র বিশ্লেষণ বা হাইড্রোলাইসিস, আর (iii) MgCl₂+7H₂O → MgCl₂·7H₂O হলো জলযোজন; তাই একই বিক্রিয়ক হলেও ধরন ভিন্ন।
(ii)-তে MgCl₂ ও পানির মধ্যে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় Mg—Cl বন্ধনের একটি অংশ OH দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়ে বেসিক লবণ Mg(OH)Cl ও HCl তৈরি হয়।
(iii)-তে পানির অণুগুলো MgCl₂ স্ফটিকের সঙ্গে নির্দিষ্ট অনুপাতে যুক্ত হয়ে হাইড্রেটেড লবণ MgCl₂·7H₂O গঠন করে; মূল লবণের আয়নগত পরিচয় বজায় থাকে।
অতএব (ii)-তে পানির দ্বারা যৌগের রাসায়নিক বিযোজন ও নতুন দুই উৎপাদ সৃষ্টি হয়, কিন্তু (iii)-তে পানি স্ফটিক-জল হিসেবে যুক্ত হয়—এটাই হাইড্রোলাইসিস ও জলযোজনের পার্থক্য।
পর্যায় সারণির খণ্ডিত অংশে গ্রুপ-K-তে A, B ও C যথাক্রমে H, Li ও Na-এর অবস্থানে; গ্রুপ-L-তে D ও E যথাক্রমে F ও Cl-এর অবস্থানে। Be, Mg, He, Ne ও Ar-ও নির্দেশিত।
[A, B, C, D ও E প্রতীকী অর্থে ব্যবহৃত]
Fe²⁺ একটি ইলেকট্রন ত্যাগ করে Fe³⁺ হতে পারে, আবার দুটি ইলেকট্রন গ্রহণ করে Fe হতে পারে; তাই এটি বিজারক ও জারক উভয়রূপে কাজ করে।
2FeCl₂+Cl₂ → 2FeCl₃ বিক্রিয়ায় Fe²⁺ জারিত হয়ে বিজারক, আর FeCl₂+Zn → ZnCl₂+Fe বিক্রিয়ায় Fe²⁺ বিজারিত হয়ে জারক হিসেবে কাজ করে।
উদ্দীপকে C হলো Na এবং A হলো H; ধাতব Na একটি ইলেকট্রন দান করে ও H একটি ইলেকট্রন গ্রহণ করে NaH আয়নিক হাইড্রাইড গঠন করে।
Na → Na⁺+e⁻
H+e⁻ → H⁻
ফলে Na নিষ্ক্রিয় গ্যাসীয় বিন্যাস এবং H দ্বিত্ব অর্জন করে।
উৎপন্ন Na⁺ ও H⁻ আয়নের বিপরীত আধানের তড়িৎস্থির আকর্ষণে Na⁺H⁻ বা NaH-এর তড়িৎযোজী বন্ধন গঠিত হয়।
গ্রুপ-K-এর Li ও Na এবং গ্রুপ-L-এর F ও Cl উচ্চ তাপমাত্রায় সক্রিয়, কিন্তু K-এর মৌল ইলেকট্রন বর্জন আর L-এর মৌল ইলেকট্রন গ্রহণের কারণে সক্রিয়।
গ্রুপ-K-এর বহিঃস্থ বিন্যাস ns¹; কম আয়নীকরণ শক্তির জন্য একটি ইলেকট্রন ত্যাগ করে M⁺ আয়ন ও স্থিতিশীল নিষ্ক্রিয় গ্যাসীয় বিন্যাস গঠন সহজ।
গ্রুপ-L-এর বহিঃস্থ বিন্যাস ns²np⁵; বেশি তড়িৎঋণাত্মকতা ও ইলেকট্রন আসক্তির জন্য একটি ইলেকট্রন গ্রহণ করে X⁻ আয়ন ও অষ্টক গঠন সহজ।
অতএব উভয় গ্রুপই অষ্টক অর্জনের প্রবল প্রবণতায় সক্রিয়, কিন্তু গ্রুপ-K তড়িৎধনাত্মক হয়ে ইলেকট্রন হারায় এবং গ্রুপ-L তড়িৎঋণাত্মক হয়ে ইলেকট্রন গ্রহণ করে—সক্রিয়তার কারণ বিপরীত।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।