বরিশাল বোর্ড ২০২৬
১. নাজিম মিয়া স্ত্রী ও এক সন্তান নিয়ে গ্রামে বসবাস করেন। রফিক মিয়া তার প্রতিবেশী। তারা উভয়েই তাদের এলাকায় স্বাচ্ছন্দে বসবাস করেন এবং সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেন। তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দেন ও নিয়মিত কর প্রদান করেন।
উত্তর পারস্পরিক সম্পর্ক, সহযোগিতা ও অভিন্ন নিয়মের ভিত্তিতে একত্রে বসবাসকারী মানুষের সংগঠিত সমষ্টিকে সমাজ বলে।
উত্তর শিশু পরিবারেই প্রথম ভাষা, আচরণ, শৃঙ্খলা, মূল্যবোধ ও পারস্পরিক সহযোগিতা শেখে। মা-বাবা ও অন্য সদস্যদের অনুকরণ এবং তাঁদের নির্দেশনা থেকে তার সামাজিক শিক্ষা শুরু হয়। বিদ্যালয়ে যাওয়ার আগেই পরিবার শিশুর ব্যক্তিত্বের ভিত্তি গড়ে তোলে। তাই পরিবারকে জীবনের প্রথম পাঠশালা বলা হয়।
উত্তর

পারিবারিক গঠন বা কাঠামোর নীতির ভিত্তিতে নাজিম মিয়ার পরিবারটি একক পরিবার।

একক পরিবার সাধারণত স্বামী-স্ত্রী ও তাঁদের অবিবাহিত সন্তানদের নিয়ে গঠিত হয়। এতে দাদা-দাদি, চাচা-চাচি বা অন্য আত্মীয়দের নিয়ে যৌথ বসবাসের উল্লেখ থাকে না। সদস্যদের পরিসর তুলনামূলক ছোট হয়।

উদ্দীপকে নাজিম মিয়া স্ত্রী ও এক সন্তান নিয়ে বসবাস করেন। তাই গঠনগতভাবে এটি একক পরিবারের বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে মিলে যায়। বৈবাহিক সূত্রে একজন স্বামী ও একজন স্ত্রী থাকার কারণে একে একপত্নীকও বলা যায়, তবে সেটি ভিন্ন শ্রেণিবিভাগের নীতি। এখানে সদস্যসমষ্টির বর্ণনা থেকে প্রধানত পারিবারিক কাঠামোভিত্তিক একক পরিবারের পরিচয়ই ফুটে উঠেছে। বংশপরিচয় বা নেতৃত্বের তথ্য না থাকায় পিতৃতান্ত্রিক বলে নিশ্চিত করা যায় না।

উত্তর

নাজিম মিয়া ও রফিক মিয়ার কর্মকাণ্ডে পৌরনীতি ও নাগরিকতার বিষয়বস্তুর নাগরিকের অধিকার ও কর্তব্য এবং রাষ্ট্রের সঙ্গে নাগরিকের সম্পর্কের দিকটি ফুটে উঠেছে।

পৌরনীতি নাগরিকের জীবন, সুযোগ-সুবিধা, দায়িত্ব এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করে। উদ্দীপকে দুই প্রতিবেশী স্বাচ্ছন্দ্যে বসবাস ও নানা সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেন। এটি নাগরিকের নিরাপত্তা ও জীবনবিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় অধিকার ভোগের দিক নির্দেশ করে।

তাঁরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দেন। ভোট দেওয়া রাজনৈতিক অধিকার প্রয়োগের পাশাপাশি প্রতিনিধি নির্বাচনে দায়িত্বশীল অংশগ্রহণ। এর মাধ্যমে জনগণের মতামত রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রতিফলিত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়। আবার নিয়মিত কর প্রদান রাষ্ট্রের প্রতি অর্থনৈতিক কর্তব্য পালনের উদাহরণ। করের অর্থ জনসেবা ও উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনায় সহায়তা করে।

অধিকার ও কর্তব্য পরস্পর সম্পর্কিত। রাষ্ট্র নাগরিকের অধিকার রক্ষা করে, আর নাগরিক আইন মেনে ও দায়িত্ব পালন করে রাষ্ট্রকে কার্যকর রাখতে সহযোগিতা করেন। অন্যের অধিকারকেও সম্মান করতে হয়। তাই উদ্দীপকের সুযোগ-সুবিধা ভোগ, ভোটদান ও কর প্রদান একত্রে সচেতন নাগরিকজীবন এবং রাষ্ট্র-নাগরিকের পারস্পরিক দায়িত্বের সম্পর্ককে প্রকাশ করেছে।

২. জনাব ফিরোজ সাহেব বাংলাদেশের একটি স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের প্রধান। তিনি ছাড়াও উক্ত প্রতিষ্ঠানের বিশজন সদস্য জনগণের পরোক্ষ ভোটের দ্বারা নির্বাচিত। যাদের কার্যকাল পাঁচ বছর। উক্ত প্রতিষ্ঠান এলাকাবাসীর জন্য বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করেন।
উত্তর রাষ্ট্রের নির্দিষ্ট স্থানীয় এলাকার জনসেবা, প্রশাসন ও উন্নয়ন পরিচালনার জন্য আইন দ্বারা গঠিত শাসনব্যবস্থাকে স্থানীয় সরকার বলে।
উত্তর নারীর ক্ষমতায়ন হলো পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে নারীর মতামত প্রকাশ, সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সম্পদ ও সুযোগ-সুবিধায় প্রবেশ এবং নিজের জীবন সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বৃদ্ধি। শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণ এতে সহায়তা করে। নারী-পুরুষের সমান অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করা এবং বৈষম্য দূর করা এর মূল ভিত্তি।
উত্তর

জনাব ফিরোজ সাহেব জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান। উদ্দীপকের একজন প্রধান ও বিশজন সদস্যের পরোক্ষ নির্বাচন এবং পাঁচ বছরের মেয়াদ পাঠ্যবইয়ে বর্ণিত জেলা পরিষদের কাঠামোর সঙ্গে মেলে।

চেয়ারম্যান প্রার্থী হতে তাঁকে বাংলাদেশের নাগরিক ও কমপক্ষে ২৫ বছর বয়স্ক হতে হবে। সংশ্লিষ্ট জেলার প্রযোজ্য ভোটার তালিকায় তাঁর নাম থাকতে হবে। এ ছাড়া আইননির্ধারিত অযোগ্যতা থেকে মুক্ত থাকতে হবে; যেমন আদালত কর্তৃক অপ্রকৃতিস্থ ঘোষিত হওয়া বা দেউলিয়াত্বের দায় থেকে অব্যাহতি না পাওয়া।

উদ্দীপকে তাঁকে নির্বাচিত বলা হয়েছে, কিন্তু বয়স ও ভোটার তালিকাসংক্রান্ত ব্যক্তিগত তথ্য নেই। তাই শর্তগুলোই তাঁর প্রার্থিতার যোগ্যতা নির্ধারণের মানদণ্ড। সদস্যসংখ্যাকে প্রশ্নের উৎসকালীন কাঠামো হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

উত্তর

ফিরোজ সাহেব জেলা পরিষদে নির্বাচিত হয়েছেন। জেলার মানুষের উন্নয়ন ও জনকল্যাণের জন্য এ প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব থাকায় একে জনবান্ধব স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান বলা যায়; তবে তা কার্যক্রমের সুষ্ঠু বাস্তবায়নের ওপর নির্ভরশীল।

জেলা পরিষদ স্থানীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা ও অবকাঠামো উন্নয়নে ভূমিকা রাখে। রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সহায়তা, জনস্বাস্থ্য, সংস্কৃতি ও বিভিন্ন কল্যাণমূলক উদ্যোগ মানুষের সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে পারে। পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে সহায়তা সামাজিক বৈষম্য কমাতে সাহায্য করে।

উদ্দীপকে পরিষদ এলাকাবাসীর জন্য উন্নয়নমূলক কাজ করছে। এসব কাজ যদি মানুষের প্রকৃত চাহিদা অনুযায়ী হয়, তবে জীবনযাত্রা সহজ হয় এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ বাড়ে। জেলা পর্যায়ে বিভিন্ন এলাকার চাহিদা বিবেচনা করে উন্নয়নের সমন্বয় করাও গুরুত্বপূর্ণ।

তবে নির্বাচিত হলেই প্রতিষ্ঠান স্বয়ংক্রিয়ভাবে জনবান্ধব হয়ে যায় না। স্বচ্ছ অর্থব্যবস্থাপনা, জবাবদিহি, দুর্নীতিমুক্ত কাজ এবং দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষের মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে। অন্য স্থানীয় প্রতিষ্ঠান ও সরকারি দপ্তরের সঙ্গেও সহযোগিতা দরকার। সুতরাং ফিরোজ সাহেবের পরিষদ প্রদত্ত দায়িত্ব সততা ও সমতার সঙ্গে পালন করলে তা যথেষ্ট জনবান্ধব ভূমিকা রাখতে পারবে।

৩. রামিসা ও রিয়া দশম শ্রেণির মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী। তারা নিজেদের মধ্যে রাষ্ট্রের উৎপত্তি সম্পর্কে আলোচনা করে। রামিসা বলে, শক্তি প্রয়োগের ফলেই রাষ্ট্রের উৎপত্তি হয়েছে। প্রভাবশালী ব্যক্তিরাই দুর্বলের ওপর আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করে। অপরদিকে রিয়া বলে, সমাজের জনগণের পারস্পরিক সহযোগিতা ও শান্তিপূর্ণ চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্রের জন্ম হয়। জনগণ নিজেদের নিরাপত্তার জন্য অন্যের ওপর শাসন ক্ষমতা অর্পণ করেন।
উত্তর ‘Civitas’ শব্দের অর্থ নগররাষ্ট্র।
উত্তর প্রাচীন গ্রিসের নগররাষ্ট্রে সাধারণভাবে স্বাধীন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষদের নাগরিক হিসেবে গণ্য করা হতো। তাঁরা রাষ্ট্রের রাজনৈতিক কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার অধিকার পেতেন। নারী, দাস ও বিদেশিরা পূর্ণ নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিলেন। নগররাষ্ট্রভেদে কিছু পার্থক্য থাকলেও নাগরিকতার এ সীমিত ধারণা আধুনিক সর্বজনীন ও সমঅধিকারভিত্তিক নাগরিকতা থেকে ভিন্ন ছিল।
উত্তর

রামিসা রাষ্ট্রের উৎপত্তিসংক্রান্ত বলপ্রয়োগ মতবাদের কথা বলেছে।

বলপ্রয়োগ মতবাদ অনুযায়ী শক্তিশালী ব্যক্তি বা গোষ্ঠী দুর্বলদের বশীভূত করে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করলে রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়। এখানে শারীরিক বা সামরিক শক্তিকে শাসনক্ষমতার ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বিজয়ী গোষ্ঠী শাসক এবং পরাজিত গোষ্ঠী শাসিতের অবস্থানে আসে।

উদ্দীপকে রামিসা বলেছে, শক্তি প্রয়োগের ফলেই রাষ্ট্রের উৎপত্তি হয়েছে এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিরা দুর্বলদের ওপর আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করে। এই বক্তব্যে জনগণের চুক্তি বা দীর্ঘ সামাজিক বিবর্তনের চেয়ে বল ও আধিপত্যকে প্রধান কারণ ধরা হয়েছে। তাই তার ব্যাখ্যা বলপ্রয়োগ মতবাদের সঙ্গে সরাসরি মিলে যায়। তবে এটি রাষ্ট্রের উৎপত্তি ব্যাখ্যার একটি মতবাদ, সব রাষ্ট্রের ইতিহাসের পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা নয়।

উত্তর

উদ্দীপকের দুই মতবাদের মধ্যে রিয়ার সামাজিক চুক্তি মতবাদকে রামিসার বলপ্রয়োগ মতবাদের তুলনায় অধিক যুক্তিযুক্ত মনে করি। তবে রাষ্ট্রের প্রকৃত উৎপত্তির পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যায় বিবর্তনমূলক মতবাদ অধিক গ্রহণযোগ্য।

রিয়া জনগণের পারস্পরিক সহযোগিতা ও নিরাপত্তার জন্য শাসনক্ষমতা অর্পণের কথা বলেছে। সামাজিক চুক্তি মতবাদ শাসনের ভিত্তি হিসেবে মানুষের সম্মতি ও সাধারণ স্বার্থকে গুরুত্ব দেয়। এতে সরকার মানুষের নিরাপত্তা ও কল্যাণের জন্য প্রতিষ্ঠিত—এ ধারণা স্পষ্ট হয়। গণতান্ত্রিক জবাবদিহি ও জনগণের অধিকারের সঙ্গে এ যুক্তি সামঞ্জস্যপূর্ণ।

অন্যদিকে রামিসা শক্তিশালীর আধিপত্যকে রাষ্ট্রের একমাত্র ভিত্তি বলেছে। বলপ্রয়োগ কিছু রাষ্ট্র বা সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠা ও বিস্তারে ভূমিকা রাখলেও শুধু ভয় ও দমন দিয়ে স্থায়ী সামাজিক সহযোগিতা ব্যাখ্যা করা যায় না। জনগণের সম্মতি ও কল্যাণ উপেক্ষিত হলে শাসনের গ্রহণযোগ্যতাও দুর্বল হয়।

তবে ইতিহাসে সব মানুষ একদিন আনুষ্ঠানিক চুক্তি করে রাষ্ট্র গড়েছে—এমন প্রমাণও নেই। রাষ্ট্র আত্মীয়তা, ধর্ম, অর্থনৈতিক প্রয়োজন, শক্তি ও রাজনৈতিক চেতনার দীর্ঘ বিকাশের ফল। তাই প্রদত্ত তুলনায় রিয়ার সম্মতিভিত্তিক যুক্তি উত্তম, যদিও সামগ্রিক ঐতিহাসিক ব্যাখ্যায় বিবর্তনমূলক মতবাদ বেশি যথার্থ।

৪. রাফি 'X' দেশের একজন নাগরিক। তার দেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়। নির্বাচন শেষে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন লাভকারী দল সরকার গঠন করে। এই দলের নেতা প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। তিনি অন্য মন্ত্রীদের মধ্যে দায়িত্ব বণ্টন করেন। তার মন্ত্রিসভা প্রকৃত শাসন ক্ষমতার অধিকারী। যেখানে শাসন বিভাগ তার কাজের জন্য আইন সভার নিকট দায়ী থাকে। অপরদিকে, সিফাত 'Y' দেশের নাগরিক। তার দেশের প্রধান তার কাজের জন্য আইন বিভাগের নিকট দায়ী থাকে না। তিনি পছন্দের ব্যক্তিদের নিয়ে মন্ত্রিসভা গঠন করেন।
উত্তর যে সরকারব্যবস্থায় সংবিধানের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক বা অঙ্গরাজ্য সরকারের মধ্যে ক্ষমতা বণ্টিত থাকে এবং উভয় সরকার নিজ নিজ ক্ষেত্রে ক্ষমতা প্রয়োগ করে, তাকে যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার বলে।
উত্তর গণতন্ত্র সফল করতে সুষ্ঠু নির্বাচন, আইনের শাসন, মৌলিক অধিকার ও সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হয়। নাগরিকদের সচেতন ও দায়িত্বশীল এবং রাজনৈতিক দলগুলোকে সহনশীল হতে হবে। স্বাধীন বিচারব্যবস্থা, মুক্ত গণমাধ্যম ও বিরোধী মতের প্রতি শ্রদ্ধা দরকার। অর্থনৈতিক বৈষম্য হ্রাস এবং জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণও গণতন্ত্রকে কার্যকর করে।
উত্তর

রাফির দেশে সংসদীয় বা মন্ত্রিপরিষদশাসিত সরকারব্যবস্থা চালু আছে।

এ ব্যবস্থায় সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার সমর্থনধারী দল বা জোট সরকার গঠন করে। প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিপরিষদের নেতৃত্ব দেন এবং মন্ত্রিসভা প্রকৃত নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগ করে। মন্ত্রিসভা তার কাজের জন্য আইনসভার কাছে দায়ী থাকে।

উদ্দীপকে রাফির দেশে নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পাওয়া দল সরকার গঠন করে। দলের নেতা প্রধানমন্ত্রী হয়ে মন্ত্রীদের দায়িত্ব বণ্টন করেন। মন্ত্রিসভার হাতে প্রকৃত শাসনক্ষমতা এবং শাসন বিভাগের আইনসভার কাছে দায়বদ্ধতা—দুটিই স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে। এ বৈশিষ্ট্যগুলো সংসদীয় ব্যবস্থার মৌলিক লক্ষণ। তাই রাফির দেশের সরকারকে সংসদীয় সরকার হিসেবে শনাক্ত করা যায়।

উত্তর

সিফাতের দেশে রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকারব্যবস্থা বিদ্যমান। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এর কিছু সুবিধা থাকলেও জবাবদিহিমূলক শাসনের জন্য কার্যকর সংসদীয় ব্যবস্থাকেই অধিক উপযোগী মনে করি।

উদ্দীপকে দেশের প্রধান নিজের পছন্দের ব্যক্তিদের নিয়ে মন্ত্রিসভা গঠন করেন এবং শাসন পরিচালনার জন্য আইনসভার আস্থার ওপর নির্ভরশীল নন। রাষ্ট্রপতিশাসিত ব্যবস্থায় এ বৈশিষ্ট্য থাকে। নির্দিষ্ট মেয়াদের নেতৃত্ব নীতির ধারাবাহিকতা ও স্থিতিশীলতা দিতে পারে এবং যোগ্য ব্যক্তিকে মন্ত্রী করার সুযোগ থাকে।

তবে বাংলাদেশের মতো রাজনৈতিক জবাবদিহি সুদৃঢ় করা প্রয়োজন এমন রাষ্ট্রে নির্বাহী ক্ষমতার কেন্দ্রীভবন সতর্কতার বিষয়। সংসদীয় ব্যবস্থায় মন্ত্রিসভাকে সংসদে প্রশ্নের জবাব দিতে হয় এবং সংখ্যাগরিষ্ঠতার আস্থা বজায় রাখতে হয়। জনগণের প্রতিনিধিদের মাধ্যমে সরকারের কাজ মূল্যায়নের এই সুযোগ গুরুত্বপূর্ণ।

রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকার মানেই একনায়কতন্ত্র নয়; স্বাধীন বিচারব্যবস্থা ও শক্তিশালী আইনসভার মাধ্যমে সেখানেও নিয়ন্ত্রণ থাকতে পারে। আবার নামমাত্র সংসদীয় ব্যবস্থাও যথেষ্ট নয়। বাংলাদেশের জন্য নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা, সংসদের কার্যকারিতা, বিচারিক স্বাধীনতা ও আইনের শাসন নিশ্চিত করা জরুরি। এসব প্রতিষ্ঠান কার্যকর রেখে সংসদীয় ব্যবস্থার জবাবদিহি শক্তিশালী করাই অধিক উপযোগী।

৫. জনাব 'X' ও 'Y' দুটি সংগঠনের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য। জনাব 'X' তার সদস্যদের নিয়ে সংগঠনের আদর্শ ও বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তার সংগঠনটি দেশের বিদ্যমান সমস্যা চিহ্নিত করে সেগুলোর সমাধানের লক্ষ্যে জনগণের সমর্থন আদায়পূর্বক নির্বাচনে জয়লাভ করে সরকার গঠন করেন। জনাব 'Y' দ্বিতীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেন। জনাব 'X'-এর কোনো কার্যক্রমে ভুল হলে গঠনমূলক সমালোচনা করেন।
উত্তর যে নির্বাচনপদ্ধতিতে জনগণ প্রথমে প্রতিনিধি নির্বাচন করে এবং সেই প্রতিনিধিরা অন্য প্রতিনিধি বা পদাধিকারী নির্বাচন করেন, তাকে পরোক্ষ নির্বাচন বলে।
উত্তর ‘এক ব্যক্তি এক ভোট’ বলতে প্রত্যেক যোগ্য ভোটারের সংশ্লিষ্ট নির্বাচনে একটি ভোট দেওয়ার সমান অধিকারকে বোঝায়। ধনসম্পদ, শিক্ষা, পেশা বা সামাজিক মর্যাদার কারণে কেউ অতিরিক্ত ভোট পান না। এ নীতি ভোটাধিকার প্রয়োগে নাগরিকের সমতা প্রতিষ্ঠা করে এবং গণতান্ত্রিক প্রতিনিধিত্বের ভিত্তি শক্তিশালী করে।
উত্তর

জনাব ‘X’ একটি রাজনৈতিক দলের সদস্য। আদর্শ ও কর্মসূচি ঘোষণা, জনগণের সমর্থন অর্জন এবং নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করার উল্লেখ থেকে তা বোঝা যায়।

রাজনৈতিক দল হলো অভিন্ন নীতি ও আদর্শে বিশ্বাসী মানুষের সংগঠন, যারা সাংবিধানিক উপায়ে রাষ্ট্রক্ষমতা অর্জন ও নিজেদের কর্মসূচি বাস্তবায়নের চেষ্টা করে। দল জনগণের সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের প্রস্তাব দেয় এবং জনমত গঠন করে।

উদ্দীপকে ‘X’ সদস্যদের নিয়ে আদর্শ ও কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তাঁর সংগঠন দেশের সমস্যার সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সমর্থন লাভ করে এবং নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করে। এসব কাজ রাজনৈতিক দলের মূল বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে মেলে। তাই সংগঠনটি সাধারণ সামাজিক সমিতি নয়, ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল।

উত্তর

জনাব ‘Y’ সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করছেন। সরকারের ভুলের গঠনমূলক সমালোচনার এ ভূমিকা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক শাসনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং উপযুক্ত সুযোগ থাকলে কার্যকর হতে পারে।

বিরোধী দল সরকারি নীতি ও সিদ্ধান্ত পরীক্ষা করে ত্রুটি তুলে ধরে। সংসদে প্রশ্ন, আলোচনা ও কমিটির কাজে অংশ নিয়ে সরকারি ব্যয় ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের জবাবদিহি দাবি করতে পারে। এতে অনিয়ম শনাক্ত এবং ভুল সিদ্ধান্ত সংশোধনের সুযোগ সৃষ্টি হয়।

উদ্দীপকে ‘Y’ শুধু বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা করেন না; ‘X’-এর ভুল হলে গঠনমূলক সমালোচনা করেন। এই আচরণ সমস্যার বিকল্প সমাধান সামনে আনতে এবং জনস্বার্থ রক্ষায় সহায়তা করে। সরকারের বাইরে থাকা জনগণের মতামতও সংসদে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়।

বাংলাদেশে এ ভূমিকার কার্যকারিতার জন্য বিরোধী দলকে কথা বলার সুযোগ, তথ্যপ্রাপ্তি ও সংসদীয় প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। সরকারকে সমালোচনা গ্রহণ করতে এবং বিরোধী দলকে তথ্যভিত্তিক ও দায়িত্বশীল হতে হবে। বাস্তব কার্যকারিতা এসব শর্তের ওপর নির্ভর করে। তাই ‘Y’-এর মতো সহযোগিতামূলক কিন্তু সতর্ক বিরোধী ভূমিকা শাসনের মান, জনআস্থা ও গণতান্ত্রিক ভারসাম্য উন্নত করতে পারে।

৬. উদ্দীপকটি পড়ো এবং নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
উদ্দীপকের ছবি
উত্তর যে রাজতন্ত্রে রাজা বা রানি বংশানুক্রমে শাসনক্ষমতা লাভ করেন এবং কার্যকর সাংবিধানিক নিয়ন্ত্রণ ছাড়া সর্বময় ক্ষমতা প্রয়োগ করেন, তাকে নিরঙ্কুশ রাজতন্ত্র বলে।
উত্তর একনায়কতন্ত্র স্বেচ্ছাচারী সরকারব্যবস্থা হিসেবে পরিচিত। এতে একজন নেতা বা একটি দলের হাতে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত থাকে এবং জনগণের কাছে কার্যকর জবাবদিহি সীমিত হয়। বিরোধী মত দমন ও শাসকের ইচ্ছাকে প্রাধান্য দেওয়ার কারণে নাগরিকের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ হতে পারে। এ অনিয়ন্ত্রিত ব্যক্তিকেন্দ্রিক ক্ষমতাই ব্যবস্থাটিকে স্বেচ্ছাচারী করে তোলে।
উত্তর

ছকের প্রশ্নবোধক চিহ্নিত স্থানটি যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারব্যবস্থাকে নির্দেশ করে। ক্ষমতা বণ্টনের নীতির ভিত্তিতে এককেন্দ্রিক ব্যবস্থার অপর ধরন হলো যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা।

যুক্তরাষ্ট্রে সংবিধানের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকার ও প্রাদেশিক বা অঙ্গরাজ্য সরকারের মধ্যে ক্ষমতা ভাগ করা থাকে। জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কেন্দ্র পরিচালনা করে এবং আঞ্চলিক বিষয় অঙ্গরাজ্য পরিচালনা করে। উভয় সরকার নিজ নিজ সাংবিধানিক ক্ষেত্রে কর্তৃত্ব প্রয়োগ করে।

এ ব্যবস্থায় কেন্দ্র ও অঞ্চলের মধ্যে ক্ষমতার সীমা স্পষ্ট করার জন্য লিখিত সংবিধান এবং বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য স্বাধীন বিচারব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ। আঞ্চলিক সরকার পৃথক সার্বভৌম রাষ্ট্র নয়; একই রাষ্ট্রের অংশ হিসেবে স্বায়ত্তশাসন ভোগ করে। ছকে ক্ষমতা বণ্টনভিত্তিক শ্রেণিবিভাগ থাকার কারণেই অনুল্লিখিত ঘরে যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার স্থান পাবে।

উত্তর

প্রশ্নবোধক চিহ্নিত যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারব্যবস্থা বাংলাদেশের বিদ্যমান সাংবিধানিক কাঠামোর সঙ্গে মেলে না। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কার্যকর বিকেন্দ্রীকরণসহ এককেন্দ্রিক ব্যবস্থাকে অধিক উপযোগী মনে করি।

যুক্তরাষ্ট্র সাধারণত বৃহৎ ভূখণ্ড ও উল্লেখযোগ্য আঞ্চলিক বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য বজায় রেখে অঞ্চলগুলোর সাংবিধানিক স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করতে সহায়ক। সেখানে কেন্দ্র ও অঙ্গরাজ্যের পৃথক সরকার, ক্ষমতা এবং প্রশাসনিক কাঠামো থাকে।

বাংলাদেশ একটি এককেন্দ্রিক রাষ্ট্র। তুলনামূলক ছোট ভূখণ্ডে অভিন্ন জাতীয় নীতি ও প্রশাসনিক সমন্বয় বজায় রাখতে এককেন্দ্রিক কাঠামোর সুবিধা রয়েছে। পৃথক অঙ্গরাজ্য সরকার সৃষ্টি করলে প্রশাসনিক ব্যয় ও ক্ষমতার সমন্বয়সংক্রান্ত জটিলতা বাড়তে পারে।

তবে বাংলাদেশে আঞ্চলিক ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য নেই—এমন নয়। স্থানীয় চাহিদা ও জনগোষ্ঠীর অধিকারকে অবশ্যই গুরুত্ব দিতে হবে। এজন্য স্থানীয় সরকারকে সক্ষম করা, ক্ষমতা ও সম্পদ বিকেন্দ্রীকরণ এবং অংশগ্রহণমূলক উন্নয়ন দরকার। এসব কাজ এককেন্দ্রিক কাঠামোর মধ্যেও সম্ভব। তাই শুধু স্থানীয় সমস্যার সমাধানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে রূপান্তর অপরিহার্য নয়; বিদ্যমান কাঠামোতে কার্যকর স্থানীয় শাসন ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাই বাংলাদেশের জন্য অধিক বাস্তবসম্মত।

৭.

ঘটনা-১ : নীতুর বাবা একজন দিনমজুর। নীতুর কাকা ব্যবসা করে সমৃদ্ধশালী। তিনি এলাকায় প্রভাবশালী ব্যক্তিও। নীতুর বাবার ওপর প্রভাব খাটিয়ে তার সম্পত্তি সে নিজের নামে করে নেয়।

ঘটনা-২: মিতালি রাস্তার একজন পরিচ্ছন্নকর্মী। কাজ শেষে টাকা নিতে গিয়ে সে খেয়াল করল তাকে তার পুরুষ সহকর্মীদের তুলনায় কম পারিশ্রমিক দেওয়া হয়েছে। যদিও তাদের কাজের ধরন ও সময় এক। এতে মিতালি অসন্তোষ প্রকাশ করে এবং কাজ ছেড়ে দেওয়ার কথা বলে।

উত্তর রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত ও প্রয়োগকৃত যেসব নিয়মকানুন মানুষের বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে, সেগুলোকে আইন বলে।
উত্তর বিভিন্ন সমাজে মানুষের আচরণ, পারিবারিক সম্পর্ক ও সম্পত্তিসংক্রান্ত নিয়ম ধর্মীয় অনুশাসনের প্রভাবে গড়ে উঠেছে। রাষ্ট্র এসব নিয়মের কিছু অংশ স্বীকৃতি দিয়ে আইনে পরিণত করেছে। যেমন, বিবাহ ও উত্তরাধিকারের কিছু বিধানে ধর্মীয় প্রভাব রয়েছে। তাই ধর্মগ্রন্থ ও ধর্মীয় অনুশাসন আইন গঠনের অন্যতম উৎস, যদিও সব আইন ধর্ম থেকে আসে না।
উত্তর

নীতুর বাবা সামাজিক স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। পাঠ্যবইয়ে সম্পত্তি ভোগের সুযোগ সামাজিক স্বাধীনতার অন্তর্ভুক্ত।

সামাজিক স্বাধীনতা মানুষের জীবন, সম্পত্তি ও বৈধ পেশাসংক্রান্ত অধিকার রক্ষা করে সামাজিক জীবনে বিকাশের সুযোগ দেয়। অন্যের জবরদস্তি ছাড়া নিজের বৈধ সম্পত্তি ভোগ করা এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

উদ্দীপকে নীতুর কাকা প্রভাবশালী হওয়ার সুযোগ নিয়ে নীতুর বাবার সম্পত্তি নিজের নামে করে নিয়েছেন। এখানে স্বেচ্ছায় সম্পত্তি হস্তান্তরের পরিবর্তে প্রভাব খাটানোর কথা বলা হয়েছে। ফলে নীতুর বাবা নিজের সম্পত্তির ওপর অধিকার ও তা ভোগের সুযোগ হারিয়েছেন। তাঁর দারিদ্র্য এ অধিকার কমিয়ে দেয় না। তাই ঘটনাটি সামাজিক স্বাধীনতার সম্পত্তি ভোগসংক্রান্ত দিকের লঙ্ঘন হিসেবে চিহ্নিত হয়।

উত্তর

নীতুর বাবা ও মিতালি উভয়েই অন্যায্য আচরণের শিকার হলেও পাঠ্যবইয়ের শ্রেণিবিভাগ অনুযায়ী তাঁদের খর্ব হওয়া স্বাধীনতার প্রধান ধরন এক নয়।

নীতুর বাবার সম্পত্তি কাকা প্রভাব খাটিয়ে নিজের নামে করে নিয়েছেন। এতে বৈধ সম্পত্তি ভোগের সুযোগ ক্ষুণ্ণ হয়েছে, যা সামাজিক স্বাধীনতার অন্তর্ভুক্ত। তাঁর আর্থিক ক্ষতিও হয়েছে, কিন্তু ঘটনার মূল বিষয় সম্পত্তির অধিকার হরণ।

অন্যদিকে মিতালি পুরুষ সহকর্মীদের সমান সময় ও একই ধরনের কাজ করেও কম পারিশ্রমিক পেয়েছেন। এটি কাজের উপযুক্ত মজুরি ও বৈষম্যহীন আচরণ পাওয়ার অধিকারের লঙ্ঘন। তাই তাঁর অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ হয়েছে। দক্ষতা বা কাজের পার্থক্যের তথ্য নেই বলে নারী হওয়ার কারণে কম মজুরি দেওয়া ন্যায্য নয়।

দুটি ঘটনার সাধারণ মিল হলো দুর্বল অবস্থানে থাকা ব্যক্তির অধিকার ক্ষুণ্ণ হয়েছে এবং ন্যায্যতা ও সমতা লঙ্ঘিত হয়েছে। উভয় ক্ষেত্রেই আইনের সুরক্ষা ও কার্যকর প্রতিকার প্রয়োজন। তবে নির্দিষ্টভাবে প্রথমটি সামাজিক স্বাধীনতার সম্পত্তি ভোগের দিক এবং দ্বিতীয়টি অর্থনৈতিক স্বাধীনতার ন্যায্য পারিশ্রমিকের দিককে নির্দেশ করে। তাই একই রকম অন্যায় হলেও অধিকার লঙ্ঘনের ক্ষেত্র পুরোপুরি অভিন্ন নয়।

৮. 'ক' বাংলাদেশে লেখাপড়া শেষ করে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে সরকারের এমন একটি বিভাগে যোগ দিলেন, যা নাগরিকের মৌলিক অধিকার রক্ষা ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠায় কাজ করে। বিভাগটি আইনের শাসন নিশ্চিত এবং সংবিধান অক্ষুণ্ণ রাখার বিষয়ে সচেতন থাকে।
উত্তর মন্ত্রণালয়গুলোর প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা এবং সরকারি নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে সহায়তাকারী কেন্দ্রীয় দপ্তরসমূহের সমষ্টিকে সচিবালয় বলে।
উত্তর উপজেলার প্রশাসনিক কাজ তদারকির অন্যতম দায়িত্ব উপজেলা নির্বাহী অফিসারের। তিনি উপজেলা পর্যায়ে সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন, বিভিন্ন দপ্তরের কাজের সমন্বয় ও উন্নয়ন কার্যক্রমে প্রশাসনিক সহায়তা দেন। উপজেলা পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনায়ও সহযোগিতা করেন। এভাবে স্থানীয় প্রশাসন ও জনসেবার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ভূমিকা রাখেন।
উত্তর

‘ক’ বিচার বিভাগে যোগ দিয়েছেন। মৌলিক অধিকার রক্ষা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং সংবিধান ও আইনের শাসন নিশ্চিত করার কাজ থেকে বিভাগটি শনাক্ত করা যায়।

বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থার শীর্ষে সুপ্রিম কোর্ট রয়েছে। এটি আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগ নিয়ে গঠিত। প্রধান বিচারপতি এবং অন্যান্য বিচারপতি উচ্চ আদালতের বিচারকার্য পরিচালনা করেন।

এর অধস্তন পর্যায়ে দেওয়ানি ও ফৌজদারি আদালত রয়েছে; আইন অনুযায়ী বিশেষ আদালত ও ট্রাইব্যুনালও গঠিত হয়। সংশ্লিষ্ট বিচারিক কর্মকর্তারা নিজ নিজ এখতিয়ারে মামলা নিষ্পত্তি করেন। উদ্দীপকের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে যোগদান অধস্তন বিচারিক সেবায় প্রবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। উচ্চ আদালতের বিচারপতি নিয়োগের পদ্ধতি আলাদা। এ স্তরবিন্যাসের মধ্য দিয়ে দেশের বিচারকার্য পরিচালিত হয়।

উত্তর

উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানটি বিচার বিভাগ। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় এর স্বাধীনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ নিরপেক্ষ বিচার ছাড়া সবার জন্য সমান আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা যায় না।

আইনের শাসনে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও সরকার সবাই আইনের অধীন। বিচারক যদি রাজনৈতিক, প্রশাসনিক বা ব্যক্তিগত চাপের কারণে সিদ্ধান্ত দেন, তবে ক্ষমতাবান ব্যক্তি অন্যায্য সুবিধা পেতে পারেন। স্বাধীন বিচার বিভাগ প্রমাণ ও আইন অনুসারে বিচার করে দোষীকে শাস্তি এবং নিরপরাধকে সুরক্ষা দেওয়ার সুযোগ পায়।

নাগরিকের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ণ হলে বিচারিক প্রতিকার রাষ্ট্রের ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করে। সরকারি সিদ্ধান্তের বৈধতা পরীক্ষা ও সংবিধানের ব্যাখ্যার মাধ্যমেও বিচার বিভাগ সাংবিধানিক শাসন রক্ষা করে। এতে নাগরিক আদালতের ওপর আস্থা রাখতে পারেন।

এ স্বাধীনতার জন্য বিচারকের নিরাপত্তা, নিরপেক্ষ নিয়োগ, যথাযথ কর্মপরিবেশ এবং বিচারকার্যে অযাচিত হস্তক্ষেপমুক্ত থাকা দরকার। তবে স্বাধীনতা জবাবদিহিহীনতা নয়; বিচারককে আইন, বিচারনৈতিকতা ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া মানতে হয়। সুতরাং স্বাধীন ও দায়িত্বশীল বিচার বিভাগই উদ্দীপকের ন্যায়বিচার, অধিকাররক্ষা ও সংবিধান অক্ষুণ্ণ রাখার কাজ কার্যকরভাবে করতে পারে, যা আইনের শাসনের অপরিহার্য ভিত্তি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।