চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৬
১. 'ক' ও 'খ' দুটি রাষ্ট্র। 'ক' রাষ্ট্রে যারা সবল তারা দুর্বলের ওপর কর্তৃত্ব দেখায় এবং বিভিন্নভাবে অত্যাচার করে। এক পর্যায়ে জনগণ তাদের নিরাপত্তা ও শান্তিশৃঙ্খলার জন্য নিজেদের মধ্যে কিছু বিধি-বিধান তৈরির মাধ্যমে একজন শাসকের হাতে ক্ষমতা অর্পণ করে।
অন্যদিকে, 'খ' রাষ্ট্র তার ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে তার পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রে হামলা করে এবং নিজেদের ভূখণ্ডে পরিণত করে।
উত্তর রাষ্ট্রের জনগণের বসবাস ও সরকারের কর্তৃত্ব প্রয়োগের জন্য নির্ধারিত স্থলভাগ, জলসীমা ও সংশ্লিষ্ট আকাশসীমাকে নির্দিষ্ট ভূখণ্ড বলে।
উত্তর চাকরি, শিক্ষা ও জীবিকার জন্য মানুষ গ্রাম থেকে শহরে বা অন্য স্থানে যাচ্ছে। সীমিত বাসস্থান, পেশাগত ব্যস্ততা এবং স্বাধীনভাবে সংসার পরিচালনার প্রবণতাও ছোট পরিবার গঠনে ভূমিকা রাখছে। ফলে অনেক দম্পতি সন্তানদের নিয়ে আলাদা বাস করছেন। এসব সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনের কারণে একক পরিবারের সংখ্যা বাড়ছে।
উত্তর

‘ক’ রাষ্ট্রের বিবরণ সামাজিক চুক্তি মতবাদের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। নিরাপত্তা ও শান্তিশৃঙ্খলার জন্য জনগণের সম্মতিতে শাসকের হাতে ক্ষমতা অর্পণের ঘটনাই এখানে নির্ধারক।

সামাজিক চুক্তি মতবাদ অনুযায়ী প্রাকৃতিক অবস্থার অনিশ্চয়তা ও নিরাপত্তাহীনতা দূর করতে মানুষ পারস্পরিক চুক্তির মাধ্যমে রাজনৈতিক কর্তৃত্ব গড়ে তোলে। শাসনব্যবস্থার উদ্দেশ্য হয় মানুষের নিরাপত্তা ও সাধারণ স্বার্থ রক্ষা।

উদ্দীপকের শুরুতে সবলের অত্যাচারের কথা থাকলেও শেষে জনগণ নিজেরা বিধিবিধান তৈরি করে একজন শাসককে ক্ষমতা দিয়েছে। তাই এটি শুধু শক্তিশালীর দখল নয়; অত্যাচার থেকে মুক্তির জন্য সম্মতিভিত্তিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা। এ অংশ সামাজিক চুক্তি মতবাদের মূল বক্তব্যের সঙ্গে সরাসরি মিলে যায়।

উত্তর

‘ক’ সামাজিক চুক্তি এবং ‘খ’ বলপ্রয়োগ মতবাদ নির্দেশ করে। এ দুটির মধ্যে সামাজিক চুক্তি মতবাদকে অধিক যুক্তিযুক্ত মনে করি; তবে রাষ্ট্রের পূর্ণ ঐতিহাসিক উৎপত্তির ব্যাখ্যায় বিবর্তনমূলক মতবাদ বেশি গ্রহণযোগ্য।

‘ক’-এর জনগণ নিরাপত্তা ও শান্তির জন্য বিধান তৈরি করে শাসককে ক্ষমতা দিয়েছে। এতে শাসনের ভিত্তি জনগণের সম্মতি এবং লক্ষ্য জনকল্যাণ। এই ধারণা শাসকের দায়িত্ব ও জনগণের অধিকারের যৌক্তিক ভিত্তি তৈরি করে।

অন্যদিকে ‘খ’ প্রতিবেশী রাষ্ট্রে হামলা করে ভূখণ্ড দখল করেছে। এটি ক্ষমতা বিস্তারে শক্তির ভূমিকা দেখায়। কিন্তু দখল বা সাম্রাজ্য বিস্তার দিয়ে সব রাষ্ট্রের প্রথম উৎপত্তি ব্যাখ্যা করা যায় না। জনগণের সহযোগিতা ও রাজনৈতিক আনুগত্যের প্রশ্নও শুধু বল দিয়ে মেটে না।

তবে ইতিহাসে একদিন সবাই আনুষ্ঠানিক চুক্তি করে রাষ্ট্র সৃষ্টি করেছে—এমন সার্বজনীন প্রমাণ নেই। রাষ্ট্র দীর্ঘ সময়ে আত্মীয়তা, ধর্ম, অর্থনৈতিক প্রয়োজন, শক্তি ও রাজনৈতিক চেতনার প্রভাবে বিকশিত হয়েছে। তাই প্রদত্ত দুই মতবাদের তুলনায় সম্মতি ও নিরাপত্তাভিত্তিক ‘ক’ অধিক গ্রহণযোগ্য, কিন্তু কোনো একক কারণকে চূড়ান্ত ঐতিহাসিক ব্যাখ্যা বলা যথার্থ নয়।

২. দৃশ্যকল্প-১: গণি সাহেব একজন সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি। তিনি স্ত্রী, কন্যা, পুত্র, পুত্রবধূ ও বৃদ্ধা মাকে নিয়ে গ্রামে বসবাস করেন।
দৃশ্যকল্প-২: অর্চিতা তার স্বামী, কন্যা ও ছেলে নিয়ে পাহাড়ি এলাকায় বসবাস করেন। ছেলে, মেয়ে সকল ক্ষেত্রে অর্চিতার পরিচয়কে প্রাধান্য দিয়ে থাকে। অর্চিতাই তার পরিবারের নেতৃত্ব দেন।
উত্তর নাগরিকের জীবন, অধিকার-কর্তব্য এবং সমাজ ও রাষ্ট্রের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করে যে শাস্ত্র, তাকে পৌরনীতি বলে।
উত্তর ঐশী মতবাদ অনুযায়ী রাষ্ট্র সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টি এবং শাসক তাঁর প্রতিনিধি হিসেবে শাসন করেন। ফলে শাসকের প্রতি আনুগত্যকে ধর্মীয় কর্তব্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। এটি রাষ্ট্রের উৎপত্তির প্রাচীন ধর্মভিত্তিক ব্যাখ্যা; ঐতিহাসিক প্রমাণের ভিত্তিতে রাষ্ট্রগঠনের পূর্ণ ব্যাখ্যা দেয় না।
উত্তর

গণি সাহেবের পরিবারটি কাঠামোর ভিত্তিতে যৌথ পরিবার।

যৌথ পরিবারে একাধিক প্রজন্ম ও দাম্পত্য সম্পর্কের সদস্যরা একই পারিবারিক পরিসরে বাস করেন। মা-বাবা ও সন্তানের পাশাপাশি প্রবীণ সদস্য, বিবাহিত সন্তান ও তাঁদের জীবনসঙ্গী এতে অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারেন।

গণি সাহেব স্ত্রী, কন্যা, পুত্র, পুত্রবধূ ও বৃদ্ধা মাকে নিয়ে বাস করেন। তাঁর নিজের দাম্পত্য পরিবারের সঙ্গে পুত্র-পুত্রবধূ এবং পূর্ববর্তী প্রজন্মের সদস্যও একই সংসারে রয়েছেন। তাই এটি কেবল মা-বাবা ও অবিবাহিত সন্তান নিয়ে ছোট পরিবার নয়; বিস্তৃত যৌথ পরিবারের বৈশিষ্ট্য বহন করে। গ্রামের বাসস্থান নয়, সদস্যগঠনের এই বৈশিষ্ট্যই শ্রেণি নির্ধারণের ভিত্তি।

উত্তর

বংশপরিচয় ও নেতৃত্বের ভিত্তিতে অর্চিতার পরিবারের সঙ্গে পাঠ্যবইয়ের মাতৃতান্ত্রিক পরিবারের সাদৃশ্য রয়েছে।

পাঠ্যবইয়ের শ্রেণিবিভাগে মাতৃতান্ত্রিক পরিবারে মায়ের পরিচয়ে সন্তানদের বংশপরিচয় নির্ধারিত হয় এবং মা নেতৃত্ব দেন। উদ্দীপকে ছেলে-মেয়ে অর্চিতার পরিচয়কে প্রাধান্য দেয় এবং তিনিই পরিবারের নেতৃত্বে আছেন। এই দুটি তথ্য সরাসরি উক্ত বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে মেলে।

শুধু পাহাড়ি এলাকায় বাস করা বা পরিবারের উপার্জনকারী নারী হওয়া থেকে মাতৃতান্ত্রিক পরিবার নির্ধারণ করা যায় না। এখানে মাতৃপরিচয় ও নেতৃত্ব দুটিই স্পষ্ট বলে সিদ্ধান্তটি গ্রহণযোগ্য।

আবার সদস্যগঠনের বিচারে অর্চিতা, তাঁর স্বামী ও সন্তানদের পরিবারটি একক পরিবারও হতে পারে। এতে বিরোধ নেই, কারণ একক-যৌথ বিভাজন সদস্যকাঠামোর ভিত্তিতে, আর পিতৃতান্ত্রিক-মাতৃতান্ত্রিক বিভাজন পরিচয় ও নেতৃত্বের ভিত্তিতে করা হয়।

অতএব প্রশ্নে বিশেষভাবে উল্লেখিত মাতৃপরিচয় ও অর্চিতার নেতৃত্বের কারণে মাতৃতান্ত্রিক পরিবারের সাদৃশ্যই প্রধান।

৩. ঘটনা-১: জনাব রহিম একজন সামাজিক লোক। তিনি সমাজে বিদ্যমান বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কারো সাথে বৈষম্য করেন না। সকল মানুষকে সমান ভাবেন এবং সুবিচার নিশ্চিত করেন।
ঘটনা-২: জনাব করিম একজন বড়ো ব্যবসায়ী। তিনি তার কারখানাতে নিয়োজিত নারী ও পুরুষ কর্মীদের কম বেশি করে মজুরি দেন। এতে জামিলা নামের একজন নারী প্রতিবাদ করলে পরবর্তীতে তাকে কাজে আসতে নিষেধ করা হয়।
উত্তর রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত ও প্রয়োগকৃত যেসব নিয়মকানুন মানুষের বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে, সেগুলোকে আইন বলে।
উত্তর আইন মানুষের অধিকার ও স্বাধীনতার সীমা নির্ধারণ করে এবং অন্যের অন্যায় হস্তক্ষেপ থেকে তা রক্ষা করে। এটি সবলের অত্যাচার ও স্বেচ্ছাচারিতা নিয়ন্ত্রণ করে দুর্বলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। আইন ভঙ্গের প্রতিকার ও শাস্তির ব্যবস্থা থাকায় প্রত্যেকে অন্যের স্বাধীনতা অক্ষুণ্ণ রেখে নিজের স্বাধীনতা ভোগ করতে পারে। তাই আইনকে স্বাধীনতার রক্ষাকবচ বলা হয়।
উত্তর

জনাব রহিমের কর্মকাণ্ড পাঠ্যবইয়ের সাম্য, বিশেষভাবে সামাজিক সাম্যের ধারণাকে ইঙ্গিত করে।

সাম্য বলতে বৈষম্য দূর করে প্রত্যেকের ব্যক্তিত্ব বিকাশের উপযোগী সুযোগ নিশ্চিত করাকে বোঝায়। জাতি, ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ ও পেশা নির্বিশেষে সমাজের সব সদস্যের সমানভাবে সামাজিক সুযোগ-সুবিধা ভোগ করা সামাজিক সাম্য। এতে কোনো ব্যক্তি বা শ্রেণি অন্যায্য বিশেষ সুবিধা পায় না।

উদ্দীপকে রহিম সামাজিক সমস্যা সমাধানে কারও সঙ্গে বৈষম্য করেন না। তিনি সবাইকে সমান মনে করে সুবিচার নিশ্চিত করেন। অর্থাৎ ব্যক্তিগত পরিচয় বা সামাজিক অবস্থানের কারণে কাউকে প্রাধান্য বা অবহেলা করেন না। তাঁর এ নিরপেক্ষ আচরণ মানুষের সমমর্যাদা ও ন্যায্য সুযোগ প্রতিষ্ঠা করে। তাই তাঁর কর্মকাণ্ডে সামাজিক সাম্যের প্রতিফলন ঘটেছে।

উত্তর

উদ্দীপকে জামিলা প্রধানত অর্থনৈতিক স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

যোগ্যতা অনুযায়ী পেশা গ্রহণ ও উপযুক্ত পারিশ্রমিক লাভের সুযোগকে অর্থনৈতিক স্বাধীনতা বলে। এর মাধ্যমে মানুষ জীবিকা নির্বাহ করে এবং অন্যের অর্থনৈতিক শোষণ থেকে মুক্ত থাকার সুযোগ পায়। এ স্বাধীনতার জন্য কর্মক্ষেত্রে ন্যায্য আচরণ ও কাজের উপযুক্ত মজুরি অপরিহার্য।

উদ্দীপকে করিম নারী ও পুরুষ কর্মীদের মধ্যে মজুরির বৈষম্য করেন। নারী কর্মী জামিলা প্রতিবাদ করলে তাকে কাজে আসতে নিষেধ করা হয়। এখানে মজুরির পার্থক্যের ভিত্তি হিসেবে দক্ষতা বা কাজের পরিমাণের কথা বলা হয়নি; নারী-পুরুষভেদে বৈষম্যের কথাই উঠে এসেছে। ফলে জামিলার ন্যায্য পারিশ্রমিক পাওয়ার সুযোগ ক্ষুণ্ণ হয়েছে। প্রতিবাদের কারণে কাজ থেকে বাদ দেওয়ায় তার জীবিকা অর্জনের সুযোগও বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ব্যাহত হলে একজন শ্রমিক নির্ভরশীল ও অনিরাপদ হয়ে পড়ে এবং অন্য অধিকার কার্যকরভাবে ভোগ করাও কঠিন হয়। জামিলার ক্ষেত্রে মজুরিতে বৈষম্য ও কর্মচ্যুতি—উভয় ঘটনাই এ স্বাধীনতার পরিপন্থী। তাই কাজ ও যোগ্যতার ভিত্তিতে ন্যায্য পারিশ্রমিক, বৈষম্যহীন কর্মপরিবেশ এবং অন্যায়ের প্রতিকার নিশ্চিত করার মাধ্যমেই তার অর্থনৈতিক স্বাধীনতা রক্ষা করা সম্ভব।

৪. জনাব সালাম 'সোনার বাংলা' সংগঠনের প্রধান। তিনি তার অধীনস্থ । কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মতামতের উপর ভিত্তি করে সংগঠনটি সফলতার সাথে পরিচালনা করেন।
অপরদিকে, জনাব কালাম 'সোনার তরী' সংগঠনের প্রধান। তিনি । সংগঠন পরিচালনার জন্য তার অধীনস্থ কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মতামতের উপর প্রাধান্য দেন না। তিনি বলেন, “সংগঠনের জন্যই কর্মচারী, কর্মচারীর জন্য সংগঠন নয়"।
উত্তর যে শাসনব্যবস্থায় জনগণ প্রত্যক্ষভাবে অথবা নির্বাচিত প্রতিনিধির মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনায় অংশগ্রহণ করে এবং জনগণের ইচ্ছার ভিত্তিতে সরকার পরিচালিত হয়, তাকে গণতন্ত্র বলে।
উত্তর কল্যাণমূলক রাষ্ট্র জনগণের সামগ্রিক মঙ্গল নিশ্চিত করতে কাজ করে। এটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে এবং অসহায় মানুষের সহায়তায় এগিয়ে আসে। অর্থনৈতিক বৈষম্য কমিয়ে সবার মর্যাদাপূর্ণ জীবন ও বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি করা এর লক্ষ্য। তাই জনগণের কল্যাণ ও ন্যায্য সুযোগ নিশ্চিত করতে কল্যাণমূলক রাষ্ট্র কাম্য।
উত্তর

জনাব সালামের ‘সোনার বাংলা’ সংগঠন পরিচালনার পদ্ধতির সঙ্গে গণতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থার সাদৃশ্য রয়েছে।

গণতান্ত্রিক সরকার জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দেয়। জনগণ সরাসরি অথবা নির্বাচিত প্রতিনিধির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশ নেয়। আলোচনা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও জবাবদিহি এ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য।

উদ্দীপকে সালাম তাঁর অধীনস্থ কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মতামতের ভিত্তিতে সংগঠন পরিচালনা করেন। ফলে সিদ্ধান্ত গ্রহণে শুধু প্রধানের একক ইচ্ছা কার্যকর হয় না; সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভিমতও বিবেচিত হয়। এই অংশগ্রহণমূলক পদ্ধতি গণতান্ত্রিক সরকারের জনমতকে গুরুত্ব দেওয়ার নীতির সঙ্গে মিলে যায়। সংগঠনটি নিজে রাষ্ট্রের সরকার না হলেও এর পরিচালনায় গণতান্ত্রিক মনোভাব প্রতিফলিত হয়েছে। তাই সালামের সংগঠন পরিচালনার সঙ্গে গণতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থার সাদৃশ্য নির্ণয় করা যায়।

উত্তর

উদ্দীপকে ‘সোনার বাংলা’ গণতন্ত্র এবং ‘সোনার তরী’ একনায়কতন্ত্রের বৈশিষ্ট্য নির্দেশ করে। এ দুই ব্যবস্থার মধ্যে আমি গণতন্ত্রকে উত্তম মনে করি।

সালাম কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মতামত নিয়ে সংগঠন পরিচালনা করেন। এটি গণতন্ত্রের অংশগ্রহণ ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধার পরিচায়ক। অন্যদিকে কালাম তাঁদের মতামতকে গুরুত্ব দেন না এবং সংগঠনের জন্যই কর্মচারী—এ ধারণা পোষণ করেন। ব্যক্তিকে শাসকের উদ্দেশ্যের অধীন করে দেখার এই মনোভাব একনায়কতন্ত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

গণতন্ত্রে মানুষ মতামত প্রকাশ, প্রতিনিধি নির্বাচন এবং সরকারের কাজের সমালোচনা করতে পারে। এতে জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার সুযোগ থাকে ও ভুল সিদ্ধান্ত সংশোধন করা সহজ হয়। নাগরিকের অধিকার, মর্যাদা এবং জনকল্যাণকে গুরুত্ব দেওয়ায় মানুষ রাষ্ট্র পরিচালনায় দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে উৎসাহিত হয়।

বিপরীতে একনায়কতন্ত্রে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত থাকে এবং বিরুদ্ধ মত দমিত হতে পারে। দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হলেও জনগণের অংশগ্রহণ ও কার্যকর জবাবদিহির অভাব স্বেচ্ছাচারিতার ঝুঁকি বাড়ায়। গণতন্ত্রে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে সময় লাগতে পারে, কিন্তু অধিকার, আইনের শাসন ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে এর সীমাবদ্ধতা সংশোধনের সুযোগ রয়েছে। এসব কারণে জনগণের মর্যাদা ও কল্যাণ রক্ষায় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাই অধিক গ্রহণযোগ্য।

৫. উদ্দীপকটি পড়ো এবং নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
উদ্দীপকের ছবি
উত্তর শাসন বিভাগ রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান, মন্ত্রিপরিষদ এবং প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে গঠিত।
উত্তর সংবিধান লঙ্ঘন বা গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগে সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপতিকে অপসারণের ব্যবস্থাকে অভিশংসন বলে। বাংলাদেশে জাতীয় সংসদে অভিযোগ উত্থাপন ও বিবেচনার পর মোট সদস্যের অন্তত দুই-তৃতীয়াংশের সমর্থনে তা গৃহীত হলে রাষ্ট্রপতি পদ থেকে অপসারিত হন। এটি রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক জবাবদিহি নিশ্চিত করার একটি বিশেষ ব্যবস্থা।
উত্তর

উদ্দীপকের ‘গ’ দ্বারা সরকারের বিচার বিভাগকে নির্দেশ করা হয়েছে। কারণ এ বিভাগের কাজ হিসেবে বিধিবিধান রক্ষা ও ব্যাখ্যা প্রদানের কথা বলা হয়েছে।

বিচার বিভাগ প্রচলিত আইনের ব্যাখ্যা করে এবং সেই আইন অনুযায়ী বিরোধ নিষ্পত্তি ও বিচারকাজ পরিচালনা করে। অপরাধ প্রমাণিত হলে অপরাধীকে শাস্তি দেয় এবং নিরপরাধ ব্যক্তির অধিকার রক্ষা করে। এর মাধ্যমে সমাজে ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।

এ ছাড়া বিচার বিভাগ সংবিধান ও নাগরিকের মৌলিক অধিকার রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কোনো কাজ বা সিদ্ধান্ত আইনসংগত কি না, তা বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারণ করে। উদ্দীপকের ‘গ’-এর বিধিবিধান রক্ষা ও ব্যাখ্যার কাজ এসব কার্যাবলির সঙ্গে মিলে যায়। তাই ‘গ’ বিচার বিভাগকেই বোঝায়।

উত্তর

উদ্দীপকের ‘ক’ আইন বিভাগ এবং ‘খ’ শাসন বিভাগ। ‘ক’ বিধি প্রণয়ন করে, আর ‘খ’ তা বাস্তবায়ন করে। সংসদীয় সরকারব্যবস্থায় আইন বিভাগ শাসন বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ করে—এ অর্থে উক্তিটি যথার্থ।

আইন বিভাগ রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য আইন প্রণয়ন করে। শাসন বিভাগকে সেই আইনের সীমার মধ্যে কাজ করতে হয়। সংসদীয় ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদ সংসদের কাছে দায়ী থাকেন। সংসদ সদস্যরা প্রশ্ন, আলোচনা ও সংসদীয় কমিটির মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ের কাজ সম্পর্কে তথ্য চান এবং ত্রুটি তুলে ধরেন। এতে প্রশাসনিক জবাবদিহি প্রতিষ্ঠিত হয়।

আর্থিক ক্ষেত্রেও সংসদের নিয়ন্ত্রণ গুরুত্বপূর্ণ। বাজেট ও সরকারি ব্যয়ের অনুমোদনের মাধ্যমে সংসদ শাসন বিভাগের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে। সরকার সংসদের আস্থা হারালে সংসদীয় পদ্ধতি অনুযায়ী তার ক্ষমতায় থাকা প্রশ্নের মুখে পড়ে।

তবে এ নিয়ন্ত্রণের ধরন সব সরকারব্যবস্থায় এক নয়। রাষ্ট্রপতিশাসিত ব্যবস্থায় শাসন বিভাগ সংসদীয় মন্ত্রিসভার মতো আইনসভার আস্থার ওপর নির্ভরশীল নয়; সেখানে ক্ষমতার পৃথকীকরণ ও পারস্পরিক নিয়ন্ত্রণ কার্যকর থাকে। সুতরাং উদ্দীপকের উক্তিটি বিশেষত সংসদীয় ব্যবস্থায় সরাসরি প্রযোজ্য, যেখানে আইন বিভাগ আইন, অর্থ ও জবাবদিহির মাধ্যমে শাসন বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ করে।

৬. জনাব রাব্বানী একটি রাজনৈতিক দলের সদস্য। তার দল জনসমর্থন লাভের জন্য বিভিন্নভাবে ক্ষমতাসীন দলের গঠনমূলক সমালোচনা করে ও ভুলত্রুটি জনসম্মুখে তুলে ধরে। দলটি বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি ঘোষণা করে এবং পরবর্তী নির্বাচনে বিজয়লাভ করে সরকার গঠনের চেষ্টা করে।
আবার জনাব মাফি একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। তার প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত করা।
উত্তর জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে অন্য প্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়ার পদ্ধতিকে পরোক্ষ নির্বাচন বলে।
উত্তর গোপন ভোটে ভোটারের ব্যক্তিগত পছন্দ অন্যদের কাছে প্রকাশ পায় না। এতে ভয়ভীতি, সামাজিক চাপ বা প্রতিশোধের আশঙ্কা কমে এবং ভোটার স্বাধীনভাবে প্রার্থী বেছে নিতে পারেন। ব্যক্তির স্বাধীন মতপ্রকাশ ও প্রকৃত জনমতের প্রতিফলনে সহায়ক হওয়ায় গোপন ভোটদান গণতান্ত্রিক নির্বাচনে ব্যাপকভাবে স্বীকৃত।
উত্তর

রাব্বানীর দল বিরোধী রাজনৈতিক দলের ভূমিকা পালন করে গণতন্ত্রের বিকাশে সহায়তা করছে।

বিরোধী দল সরকারের ভুলত্রুটি চিহ্নিত করে এবং গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে সংশোধনের দাবি জানায়। এতে সরকারি কাজ সম্পর্কে জনগণ জানতে পারে এবং ক্ষমতাসীন দলের জবাবদিহির ওপর চাপ সৃষ্টি হয়। উদ্দীপকে রাব্বানীর দল ঠিক এই কাজ করছে।

দলটি বিকল্প রাজনৈতিক কর্মসূচিও ঘোষণা করছে। ফলে ভোটাররা সরকারের নীতির সঙ্গে অন্য প্রস্তাবের তুলনা করে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। পরবর্তী নির্বাচনে জনসমর্থন নিয়ে সরকার গঠনের চেষ্টা শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা পরিবর্তনের পথকে সক্রিয় রাখে।

অতএব দলটি সমালোচনা, জনমত গঠন, বিকল্প কর্মসূচি ও নির্বাচনি প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বহুমত ও গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণকে শক্তিশালী করছে।

উত্তর

মাফির প্রতিষ্ঠানটি নির্বাচন কমিশন। এর স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা গণতন্ত্রের জন্য অত্যাবশ্যক—উক্তিটি যথার্থ।

জনগণ নির্বাচনের মাধ্যমে প্রতিনিধি বেছে নেয়। নির্বাচন পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান যদি কোনো দল বা প্রার্থীর প্রভাবে কাজ করে, তবে ভোটারদের প্রকৃত পছন্দ ফলাফলে প্রতিফলিত নাও হতে পারে। এতে সরকারের গণতান্ত্রিক বৈধতা ও জনগণের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

স্বাধীন নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকা, নির্বাচনি ব্যবস্থাপনা ও আচরণবিধি তদারকিতে চাপমুক্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারে। নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করে সব প্রার্থীর প্রতি সমান আচরণ এবং ভোটারদের অবাধ অংশগ্রহণের পরিবেশ।

কমিশনের জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদ, দক্ষ কর্মী ও প্রশাসনিক সহযোগিতাও দরকার। পাশাপাশি কমিশনের সিদ্ধান্ত স্বচ্ছ ও আইনসম্মত হতে হবে; স্বাধীনতা জবাবদিহির বিকল্প নয়। রাজনৈতিক দল ও নাগরিকদেরও নির্বাচনি নিয়ম মানতে হবে।

সুতরাং উদ্দীপকের সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্য পূরণে কমিশনের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ ভূমিকা মৌলিক শর্ত। এটি শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা পরিবর্তন ও জনগণের প্রতিনিধিত্বকে বিশ্বাসযোগ্য করে।

৭. উদ্দীপকটি পড়ো এবং নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
উদ্দীপকের ছবি
উত্তর স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান কর্তৃক নাগরিকদের নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সেবা প্রদান নিশ্চিত করার প্রকাশিত বিবরণকে নাগরিক সনদ বলে।
উত্তর স্থানীয় জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট এলাকার জনসেবা ও উন্নয়ন পরিচালনার ব্যবস্থাকে স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত সরকার বলে। এ সরকার নিজস্ব কর্তৃত্ব ও তহবিল ব্যবহার করে স্থানীয় সমস্যা সমাধান করে। তবে এটি স্বাধীন রাষ্ট্রের সরকার নয়; কেন্দ্রীয় সরকারের আইন ও তত্ত্বাবধানের আওতায় কাজ করে। ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা এর উদাহরণ।
উত্তর

উদ্দীপকের ‘A’ প্রতিষ্ঠানটি পৌরসভা। প্রদত্ত সংখ্যা ও শিক্ষা, পানি সরবরাহ, জনস্বাস্থ্য এবং বাড়িঘর নির্মাণের অনুমতিসংক্রান্ত কাজ থেকে এটি শনাক্ত করা যায়।

পৌরসভা স্থানীয় আর্থসামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তৈরি ও অনুদান প্রদানের মাধ্যমে শিক্ষার সুযোগ বাড়িয়ে দক্ষ জনশক্তি গঠনে সহায়তা করে। নিরাপদ পানির ব্যবস্থা ও জনস্বাস্থ্য রক্ষার উদ্যোগ রোগব্যাধি কমিয়ে কর্মক্ষমতা বাড়ায়। বাড়িঘর নির্মাণের অনুমতি ও তদারকির মাধ্যমে পরিকল্পিত বসতি গড়তে সাহায্য করে।

এ ছাড়া রাস্তাঘাট, নর্দমা, বর্জ্য অপসারণ ও আলোর ব্যবস্থা মানুষের জীবনযাত্রা সহজ করে। বাজার ও যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতি ব্যবসা-বাণিজ্যের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করে। এভাবে পৌরসভা নাগরিক সুবিধা বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও সামাজিক উন্নয়নে সহায়তা করে।

উত্তর

উদ্দীপকে ‘B’ দ্বারা সিটি কর্পোরেশন বোঝানো হয়েছে। এর নাগরিক সেবা, নারীর ক্ষমতায়ন এবং গণতান্ত্রিক মনোভাব ও নেতৃত্ব বিকাশের কার্যক্রম নাগরিকতা বিকাশে স্থানীয় সরকারের গুরুত্ব প্রকাশ করে।

স্থানীয় সরকার নাগরিকদের কাছাকাছি থেকে জন্মনিবন্ধনসহ বিভিন্ন সেবা দেয়। এতে মানুষ সেবাপ্রাপ্তির অধিকার সম্পর্কে সচেতন হয় এবং প্রতিষ্ঠানের কাছে জবাবদিহি দাবি করতে শেখে। স্থানীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ নাগরিকের দায়িত্ববোধ বাড়ায়।

নারীরা প্রতিনিধি নির্বাচন ও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশ নিতে পারেন। এতে তাঁদের মতামতের গুরুত্ব ও নেতৃত্বের সুযোগ বাড়ে। স্থানীয় নির্বাচনে ভোটদান, মতবিনিময় এবং জনপ্রতিনিধির কাজ মূল্যায়নের মধ্য দিয়ে সহনশীলতা ও গণতান্ত্রিক মনোভাব গড়ে ওঠে। এখান থেকে জাতীয় পর্যায়ের নেতৃত্বও বিকশিত হতে পারে।

উদ্দীপকে বিবাদ নিষ্পত্তির কথাও আছে। স্থানীয় সরকার আইননির্ধারিত এখতিয়ারে বিরোধ সমাধানে সহায়তা করে সামাজিক সম্প্রীতি বাড়ায়। তবে সব প্রতিষ্ঠানের বিচারিক ক্ষমতা এক নয়; ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতের ক্ষমতাকে সিটি কর্পোরেশনের ক্ষমতা হিসেবে ধরা যায় না। সুতরাং নিজ নিজ আইনগত ক্ষমতার মধ্যে সেবা, অংশগ্রহণ, সমতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার মাধ্যমে স্থানীয় সরকার সচেতন ও দায়িত্বশীল নাগরিক গড়ে তোলে।

৮. দৃশ্য-ক : প্রবাল একটি বিভাগীয় শহরে বসবাস করেন। তিনি জন্ম নিবন্ধন সনদ আনতে 'A' নামক একটি প্রতিষ্ঠানে গেলেন। প্রতিষ্ঠানটি শহরের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য রাস্তার উভয় পাশে ফুল গাছ রোপণ করে।
দৃশ্য-খ : জনাব সিহাব গ্রামে বসবাস করেন। সম্প্রতি তার পিতা মারা যাওয়ার পর মৃত্যুর সনদ আনার জন্য তার এলাকায় অবস্থিত একটি প্রতিষ্ঠানে যান। মাঝে মাঝে তিনি উক্ত প্রতিষ্ঠান থেকে চাষের জন্য বিনামূল্যে বীজ, সার ও কীটনাশক পেয়ে থাকেন।
উত্তর রাষ্ট্রের নির্দিষ্ট এলাকার জনগণের স্থানীয় সমস্যা সমাধান, জনসেবা ও উন্নয়নমূলক কাজ পরিচালনার জন্য গঠিত শাসনব্যবস্থাকে স্থানীয় সরকার বলে।
উত্তর নারীর ক্ষমতায়ন বলতে নারীকে অধিকার ভোগ, সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত গ্রহণে কার্যকরভাবে অংশ নেওয়ার সামর্থ্য ও সুযোগ প্রদান বোঝায়। শিক্ষা, কর্মসংস্থান, অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণ এর গুরুত্বপূর্ণ উপায়। এর ফলে নারী নিজের মতামত প্রকাশ ও নেতৃত্ব দিতে পারেন এবং বৈষম্য দূর করে মর্যাদাপূর্ণ জীবন গড়তে সক্ষম হন।
উত্তর

উদ্দীপকের ‘A’ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সিটি কর্পোরেশনের সাদৃশ্য রয়েছে। বিভাগীয় শহরে নাগরিক সেবা প্রদান ও নগরের সৌন্দর্য বৃদ্ধির কাজ থেকে এ প্রতিষ্ঠানকে শনাক্ত করা যায়।

সিটি কর্পোরেশন বড় শহর এলাকার স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান। এটি নগরবাসীর জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনসহ বিভিন্ন সেবা প্রদান করে। পাশাপাশি রাস্তাঘাট, সড়কবাতি, নর্দমা, বর্জ্য অপসারণ এবং জনস্বাস্থ্য রক্ষার ব্যবস্থা গ্রহণ করে। বৃক্ষরোপণ ও উদ্যান রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে নগরের পরিবেশ ও সৌন্দর্য উন্নত করাও এর কাজ।

প্রবাল বিভাগীয় শহরে জন্মনিবন্ধন সনদ আনতে ‘A’ প্রতিষ্ঠানে যান। প্রতিষ্ঠানটি রাস্তার দুই পাশে ফুলগাছ রোপণ করে সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে। এসব কাজ সিটি কর্পোরেশনের নাগরিক সেবা ও নগর উন্নয়নের কার্যাবলির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

উত্তর

দৃশ্য-খ-এ ইউনিয়ন পরিষদের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। গ্রামে মৃত্যু নিবন্ধন সনদ প্রদান এবং কৃষকদের কৃষি উপকরণ পেতে সহায়তা করার কাজ থেকে প্রতিষ্ঠানটি শনাক্ত করা যায়। গ্রামীণ জনগণের উন্নয়নে এর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

ইউনিয়ন পরিষদ জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের মতো সেবা দিয়ে ব্যক্তির প্রয়োজনীয় তথ্যের স্বীকৃত নথি পেতে সহায়তা করে। সিহাবের পিতার মৃত্যুসনদ নেওয়ার ঘটনায় এই সেবামূলক ভূমিকা প্রকাশ পেয়েছে। পরিষদ স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে জনগণের কাছে সরকারি সেবা পৌঁছাতেও সাহায্য করে।

কৃষি উন্নয়নে কৃষকদের বীজ, সার ও অন্যান্য উপকরণ বিতরণে সহায়তা এবং উন্নত চাষাবাদে উৎসাহ প্রদান করে। উদ্দীপকে সিহাবের বিনামূল্যে কৃষি উপকরণ পাওয়া এই ভূমিকার উদাহরণ। কৃষি উৎপাদন বাড়লে কৃষকের আয় ও গ্রামীণ অর্থনীতি উপকৃত হয়।

এ ছাড়া গ্রামীণ রাস্তাঘাট নির্মাণ ও মেরামত, স্যানিটেশন, নিরাপদ পানি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় সহায়তা, দুস্থদের সহায়তা এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় পরিষদ কাজ করে। এসব উদ্যোগ যোগাযোগ, কর্মসংস্থান ও জীবনযাত্রার মান উন্নত করে। তাই ইউনিয়ন পরিষদ জনগণের নিকটবর্তী উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান। তবে এর সুফল নিশ্চিত করতে স্বচ্ছ উপকরণ বিতরণ, জনগণের অংশগ্রহণ এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিদের জবাবদিহি প্রয়োজন।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।