অপরদিকে, $'Y'$ ও একটি বড়ো সংগঠন, যা সাংবিধানিকভাবে গঠিত একটি বৈধ প্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠানটি $'X'$ সংগঠনের প্রতিনিধি - নির্বাচনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
উদ্দীপকে ‘X’-এর প্রতিনিধি বলতে রাষ্ট্র পরিচালনায় অংশগ্রহণকারী নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের বোঝানো হয়েছে। তাঁদের নির্বাচনের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
রাজনৈতিক দল যোগ্য ও জনসম্পৃক্ত ব্যক্তিকে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেয়। দলীয় নীতি, কর্মসূচি ও প্রতিশ্রুতি ইশতেহারে তুলে ধরে এবং প্রচারের মাধ্যমে জনগণের সমর্থন চায়। এতে ভোটাররা বিভিন্ন প্রার্থী ও দলের পরিকল্পনা তুলনা করে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
উদ্দীপকে প্রতিনিধি হতে আগ্রহীদের জনগণের কাছে সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এটি দলীয় কর্মসূচি ও নির্বাচনি প্রচারের সঙ্গে মিলে যায়। দল প্রার্থী নির্বাচন ও জনমত গঠনে ভূমিকা রাখলেও নির্বাচিত প্রতিনিধি নির্ধারণের চূড়ান্ত ক্ষমতা ভোটারের। তাই রাজনৈতিক দল জনগণ ও প্রতিনিধিদের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে।
উদ্দীপকের ‘Y’ হলো নির্বাচন কমিশন। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচন পরিচালনার মাধ্যমে এটি রাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্বমূলক প্রতিষ্ঠানগুলো গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই অর্থে ‘X’ সংগঠন ‘Y’-এর কার্যাবলির মাধ্যমে প্রতিনিধি পায়—বক্তব্যটি যথার্থ।
নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের জন্য ভোটার তালিকা প্রস্তুত ও হালনাগাদ, নির্বাচনি এলাকার সীমানা নির্ধারণ এবং নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব পালন করে। তফসিল ঘোষণা, প্রার্থীর মনোনয়নসংক্রান্ত প্রক্রিয়া, ভোট গ্রহণ ও ফলাফল প্রকাশ আইন অনুযায়ী সম্পন্ন করার ব্যবস্থাও নেয়। এসব কাজ ছাড়া জনগণের ভোটকে আনুষ্ঠানিক প্রতিনিধিত্বে রূপ দেওয়া সম্ভব নয়।
রাজনৈতিক দল প্রার্থী দেয় এবং প্রতিশ্রুতি তুলে ধরে; জনগণ প্রার্থীদের মধ্য থেকে পছন্দ করেন। কমিশনের দায়িত্ব হলো এই নির্বাচনকে নিরপেক্ষ, নিয়মসম্মত ও বিশ্বাসযোগ্য করার পরিবেশ নিশ্চিত করা। আচরণবিধি প্রয়োগ, অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং প্রশাসনিক সহযোগিতা গ্রহণ এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
তবে নির্বাচন কমিশন নিজের পছন্দে প্রতিনিধি নিয়োগ করে না। জনগণের ভোটে নির্ধারিত ফলকে আইনানুগ নির্বাচনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কার্যকর করে। তাই ‘X’-এর নির্বাচিত প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে ‘Y’-এর কার্যক্রম অপরিহার্য হলেও তার ভিত্তি জনগণের স্বাধীন ভোটাধিকার। কমিশনের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা বজায় থাকলে এই প্রতিনিধিত্ব আরও গ্রহণযোগ্য হয়।
দৃশ্যকল্প-১: জনাব আলম সাহেব 'উন্নয়ন' নামক একটি সংস্থার 'মালিক। 'অধিকার' ও 'প্রতিভা' নামে সংস্থার আরও অনেকগুলো শাখা আছে। 'অধিকার' সংস্থাটি একটি স্টেডিয়াম প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দিলে আলম সাহেব নিজের সিদ্ধান্তে তা বাতিল করে দেয়।
দৃশ্যকল্প-২: জনাব হালিম সাহেব 'আলোর ছায়া' নামক একটি সংস্থার মালিক। 'দিপালী' ও 'মিতালী' নামে আরও অনেক শাখা রয়েছে। 'দিপালী' শাখার পরিচালক কৃষকের উন্নয়নের জন্য নিজেরাই বাজেট অনুমোদন করে প্রকল্পের কাজটি সম্পন্ন করেন।
আলম সাহেবের ‘উন্নয়ন’ সংস্থার পরিচালনাপদ্ধতির সঙ্গে এককেন্দ্রিক সরকারব্যবস্থার মিল রয়েছে।
এককেন্দ্রিক ব্যবস্থায় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার মূল কর্তৃত্ব কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে থাকে। প্রশাসনিক সুবিধার জন্য স্থানীয় বা আঞ্চলিক প্রতিষ্ঠান থাকলেও তাদের ক্ষমতা কেন্দ্রীয় আইন ও ব্যবস্থার অধীনে পরিচালিত হয়। তারা যুক্তরাষ্ট্রীয় অঙ্গরাজ্যের মতো সংবিধান দ্বারা পৃথকভাবে সুরক্ষিত ক্ষমতার অধিকারী নয়।
উদ্দীপকে ‘উন্নয়ন’ সংস্থার একাধিক শাখা থাকলেও ‘অধিকার’ শাখার স্টেডিয়াম নির্মাণের প্রস্তাব আলম সাহেব নিজের সিদ্ধান্তে বাতিল করেন। এতে শাখার সিদ্ধান্তের ওপর প্রধান কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ প্রকাশ পায়। এ ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ এককেন্দ্রিক ব্যবস্থার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। তবে এককেন্দ্রিক সরকার মানেই ব্যক্তিগত খেয়ালখুশির শাসন নয়; সেটিও আইন ও গণতান্ত্রিক নিয়মে পরিচালিত হতে পারে।
দৃশ্যকল্প-২-কে যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার উদাহরণ হিসেবে বোঝালে সেটিকে বাংলাদেশের সরকারব্যবস্থার প্রতিচ্ছবি বলা যথার্থ নয়। বাংলাদেশের সাংবিধানিক রাষ্ট্রকাঠামো এককেন্দ্রিক।
দৃশ্যকল্পে ‘আলোর ছায়া’ সংস্থার ‘দিপালী’ শাখা নিজেরাই বাজেট অনুমোদন করে কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প সম্পন্ন করে। কেন্দ্রের পাশাপাশি আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষের নিজস্ব সিদ্ধান্ত গ্রহণের এই বৈশিষ্ট্য যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার সঙ্গে তুলনীয়। যুক্তরাষ্ট্রীয় রাষ্ট্রে সংবিধান কেন্দ্র ও অঙ্গরাজ্যের মধ্যে ক্ষমতা বণ্টন করে; নিজ নিজ ক্ষেত্রে উভয়ের কর্তৃত্ব থাকে।
বাংলাদেশে বিভাগ, জেলা, উপজেলা এবং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান থাকলেও এগুলো যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য নয়। স্থানীয় প্রতিষ্ঠান আইন অনুযায়ী বাজেট ও উন্নয়নকাজ করতে পারে, কিন্তু তাদের ক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রীয় অঙ্গরাজ্যের মতো পৃথক সাংবিধানিক ক্ষমতাবণ্টনের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত নয়।
তবে উদ্দীপকে শাখার ক্ষমতার উৎস বলা হয়নি। শুধু একটি শাখার নিজস্ব বাজেট অনুমোদন দেখেই যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো নিশ্চিত করা যায় না; এককেন্দ্রিক ব্যবস্থাতেও প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ সম্ভব। তাই পাঠ্যবইয়ের তুলনায় দৃশ্যকল্পটি যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাকে ইঙ্গিত করলে বাংলাদেশের সঙ্গে তার মৌলিক অমিল রয়েছে। আর কেবল স্থানীয় সিদ্ধান্তের স্বাধীনতা বোঝালে সীমিত সাদৃশ্য থাকতে পারে। সে কারণে উক্তিটিকে নিঃশর্তভাবে গ্রহণ করা যায় না।
দৃশ্যকল্প-২: জনাব $'Y'$ একটি দেশের প্রধানমন্ত্রী। তিনি বিদেশ সফরে অতিরিক্ত খরচ করলে আদালত কর্তৃক তার ওপর জরিমানা ধার্য করা হয়, যার ব্যাখ্যা তার দপ্তর থেকে প্রদান করা হয়।
দৃশ্যকল্প-১-এ রাজনৈতিক স্বাধীনতার প্রকাশ ঘটেছে।
রাজনৈতিক স্বাধীনতা হলো রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ, ভোট দেওয়া, নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া এবং সরকারের নীতি ও কাজ সম্পর্কে মতামত প্রকাশের সুযোগ। এর মাধ্যমে নাগরিক নিজের প্রতিনিধি নির্বাচন এবং জনস্বার্থের প্রশ্নে সরকারকে জবাবদিহির মুখোমুখি করতে পারেন।
উদ্দীপকে ‘X’ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিজয়ী হয়েছেন। এটি নির্বাচিত প্রতিনিধি হওয়ার রাজনৈতিক অধিকারের চর্চা। আবার তিনি প্রয়োজন হলে নিজের দল ও সরকারের সমালোচনা করেন, যা রাজনৈতিক মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পরিচায়ক। সমাজসেবার পাশাপাশি নির্বাচনে অংশগ্রহণ ও সরকারের সমালোচনা করার এই সুযোগের কারণে দৃশ্যকল্পে রাজনৈতিক স্বাধীনতা ফুটে উঠেছে।
দৃশ্যকল্প-২-এ আইনের শাসন বা আইনের অনুশাসনের বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে। এখানে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা তাঁকে আইনগত জবাবদিহি থেকে অব্যাহতি দেয়নি।
আইনের শাসনের মূল কথা হলো সবাই আইনের অধীন এবং ক্ষমতার ব্যবহারও আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। রাষ্ট্রের উচ্চপদে থাকা ব্যক্তি আইন ভঙ্গ করলে তাঁর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হতে হবে। বিচার বিভাগ নির্বাহী কর্তৃপক্ষের প্রভাবমুক্তভাবে আইন প্রয়োগ করতে পারলে এই নীতি কার্যকর হয়।
উদ্দীপকে প্রধানমন্ত্রী ‘Y’ বিদেশ সফরে অতিরিক্ত ব্যয় করায় আদালত তাঁর ওপর জরিমানা ধার্য করে। তাঁর দপ্তর থেকে বিষয়টির ব্যাখ্যাও দেওয়া হয়। ঘটনাটি সরকারি অর্থ ব্যবহারের জবাবদিহি এবং উচ্চপদস্থ ব্যক্তির ওপর আদালতের আইনানুগ কর্তৃত্বের পরিচয় দেয়।
এতে জনগণ বুঝতে পারে যে রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষমতা ব্যক্তিগত সুবিধা নেওয়ার অবাধ অধিকার নয়। প্রধানমন্ত্রীরও কাজের ব্যাখ্যা দেওয়া এবং আইনি সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হওয়ার দায়িত্ব আছে। তবে উদ্দীপকের একটি ঘটনা দিয়ে দেশের সব ক্ষেত্রে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলা যায় না; ধারাবাহিক নিরপেক্ষ বিচার ও সমান আইনি সুরক্ষা প্রয়োজন। তাই ঘটনাটিকে আইনের শাসনের কার্যকর প্রকাশ হিসেবে চিহ্নিত করা যায়, কোনো নির্দিষ্ট সংসদীয় বা রাষ্ট্রপতিশাসিত কাঠামোর একমাত্র প্রমাণ হিসেবে নয়।
উদ্দীপকের ‘A’ দ্বারা রাষ্ট্রের জনসমষ্টি উপাদানকে নির্দেশ করা হয়েছে। নাগরিকদের স্থায়ী বসবাস এবং তাঁদের সংখ্যা কম বা বেশি হওয়ার উল্লেখ এ পরিচয়ের প্রধান সূত্র।
রাষ্ট্র মানুষের রাজনৈতিক সংগঠন। নির্দিষ্ট ভূখণ্ডে স্থায়ীভাবে বসবাসকারী জনগণ ছাড়া রাষ্ট্র গঠিত হয় না। রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠান ও কার্যক্রম এই জনগণের প্রয়োজন, অধিকার ও নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত।
রাষ্ট্র গঠনের জন্য জনসংখ্যার কোনো সর্বজনীন নির্দিষ্ট সংখ্যা নেই। কোনো রাষ্ট্রে জনসংখ্যা কম, আবার কোনো রাষ্ট্রে অনেক বেশি হতে পারে। উদ্দীপকে সংখ্যা কম বা বেশি হওয়ার কথা ব্যক্তির সংখ্যাকেই বোঝায়। তাই স্থায়ী অধিবাসীদের সমষ্টি হিসেবে ‘A’ হলো জনসমষ্টি, যা রাষ্ট্রের চারটি অপরিহার্য উপাদানের একটি।
উদ্দীপকের ‘C’ উপাদানটি সরকার। রাষ্ট্রের যাবতীয় কার্যাবলি সরকারের মাধ্যমে পরিচালিত হয় বলে সরকার ছাড়া রাষ্ট্র পরিচালনা সম্ভব নয়।
রাষ্ট্র একটি বিমূর্ত রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান; তার ইচ্ছা ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য কার্যকর কর্তৃপক্ষ প্রয়োজন। সরকার সেই কর্তৃপক্ষ হিসেবে আইন প্রণয়ন, আইন প্রয়োগ ও বিচারকার্য পরিচালনা করে। তাই জনসমষ্টি, ভূখণ্ড ও সার্বভৌমত্ব থাকলেও সংগঠিত সরকার ছাড়া স্বাভাবিক রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম চালানো যায় না।
সরকারের আইন বিভাগ প্রয়োজনীয় আইন তৈরি করে। শাসন বিভাগ প্রশাসন পরিচালনা, নিরাপত্তা রক্ষা এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও উন্নয়নসেবা বাস্তবায়ন করে। বিচার বিভাগ বিরোধ নিষ্পত্তি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় কাজ করে। এসব কার্যক্রমের সমন্বয়েই সামাজিক শৃঙ্খলা ও নাগরিকের অধিকার রক্ষার ব্যবস্থা গড়ে ওঠে।
সরকার রাজস্ব সংগ্রহ, বাজেট বাস্তবায়ন এবং বৈদেশিক সম্পর্ক পরিচালনার দায়িত্বও পালন করে। কার্যকর সরকার অনুপস্থিত হলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ, জনসেবা ও আইন প্রয়োগ ব্যাহত হয় এবং বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা বাড়ে।
তবে কোনো নির্দিষ্ট সরকার চিরস্থায়ী নয়; এক সরকার বদলে আরেক সরকার দায়িত্ব নিতে পারে। রাষ্ট্র পরিচালনায় অপরিহার্য হলো সরকার নামের প্রতিষ্ঠানটির কার্যকর উপস্থিতি। এ কারণেই ‘C’ রাষ্ট্র পরিচালনার অপরিহার্য উপাদান।
অন্যদিকে, জনাব রাহাত সাহেব স্ত্রী, দুই পুত্র ও এক কন্যাকে নিয়ে খুলনা শহরে বসবাস করেন। তার কন্যা ও ছোটো ছেলে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে। তার বড়ো ছেলে বিয়ে করলেও সে তার স্ত্রীকে নিয়ে বাবা-মায়ের সাথে থাকেন।
আকার বা কাঠামোর ভিত্তিতে রাহাত সাহেবের পরিবার যৌথ পরিবারকে নির্দেশ করে।
একক পরিবার সাধারণত স্বামী-স্ত্রী ও তাঁদের অবিবাহিত সন্তানদের নিয়ে গঠিত হয়। সন্তান বিয়ের পর নিজের স্ত্রী বা স্বামীসহ পিতা-মাতার সঙ্গে অভিন্ন পারিবারিক ব্যবস্থায় থাকলে পরিবারে একাধিক দাম্পত্য একক যুক্ত হয়। তখন তা যৌথ পরিবারের বৈশিষ্ট্য ধারণ করে।
উদ্দীপকে রাহাত সাহেব স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে বাস করেন। তাঁর বড় ছেলে বিয়ের পর স্ত্রীকে নিয়ে বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকেন। ফলে রাহাত ও তাঁর স্ত্রীর পাশাপাশি বড় ছেলে ও পুত্রবধূর দাম্পত্য এককও একই পরিবারে রয়েছে। এই যৌথ বসবাসের কারণে পরিবারটি যৌথ; শহরে বাস করা বা সন্তানদের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া এ শ্রেণিবিভাগ বদলায় না।
উদ্দীপকে দেওয়া সদস্যদের বিবরণ অনুসারে রমিজ মিয়ার পরিবারের সঙ্গে একক বা অণু পরিবারের সাদৃশ্য পাওয়া যায়। এখানে রমিজ মিয়া, তাঁর স্ত্রী ও ছেলের কথা বলা হয়েছে; অন্য কোনো দাম্পত্য একক বা নিকটাত্মীয়ের যৌথ বসবাসের উল্লেখ নেই।
একক পরিবারে স্বামী-স্ত্রী ও তাঁদের অবিবাহিত সন্তানরা একটি স্বতন্ত্র পারিবারিক একক গঠন করেন। রমিজের বর্ণিত পারিবারিক সদস্যবিন্যাস এ ধারণার সঙ্গে মেলে। বিপরীতে রাহাত সাহেবের পরিবারে বিবাহিত ছেলে ও পুত্রবধূও রয়েছেন, যা যৌথ পরিবারের লক্ষণ।
রমিজ রাজমিস্ত্রির কাজ করেন এবং তাঁর স্ত্রী মজুরির বিনিময়ে ফার্মে কাজ করেন। এ তথ্য পরিবারের অর্থনৈতিক কাজ ও সদস্যদের জীবিকা অর্জনে অংশগ্রহণ প্রকাশ করে। কিন্তু পেশা বা আয়ের পরিমাণ দিয়ে একক ও যৌথ পরিবার নির্ধারিত হয় না; পরিবারের সদস্যবিন্যাস ও যৌথ বসবাসই প্রধান বিবেচ্য।
একইভাবে স্ত্রী আয় করেন বলেই পরিবার মাতৃতান্ত্রিক, কিংবা রমিজ ছেলেকে কাজে নেন বলেই পিতৃতান্ত্রিক—এমন সিদ্ধান্ত দেওয়া যায় না। নেতৃত্ব ও বংশগণনার তথ্য আলাদা করে প্রয়োজন। ছেলের বয়সও বলা নেই বলে তার কাজের প্রকৃতি সম্পর্কে অনুমান করা উচিত নয়। তাই উপলব্ধ সদস্যবিন্যাসের ভিত্তিতেই রমিজের পরিবারকে একক পরিবারের সঙ্গে তুলনা করা যথাযথ।
দৃশ্যপট-১: মি. আমিন সাহেব $'X'$ দেশের অঞ্চলভিত্তিক 'প্রধান শহরের নির্বাচিত প্রতিনিধি। উক্ত প্রতিনিধির শপথ বাক্য পড়ান $'X'$ দেশের সরকারপ্রধান।
দৃশ্যপট-২: মি. জনি সাহেব একই দেশের তৃণমূল পর্যায়ের একজন জনপ্রতিনিধি। তার অধীনে পুরুষ ও মহিলা প্রতিনিধি দায়িত্ব পালন করে। তিনি রাস্তা মেরামত, সেতু তৈরি ও বিভিন্ন দক্ষতামূলক প্রশিক্ষণ প্রদান করেন।
আমিন সাহেবের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বাংলাদেশের সিটি কর্পোরেশনের মিল রয়েছে। প্রধান শহরের নির্বাচিত প্রতিনিধি এবং সরকারপ্রধানের কাছে শপথ নেওয়ার বর্ণনা সিটি মেয়রের পরিচয় নির্দেশ করে।
নির্বাচিত সিটি কর্পোরেশন একজন মেয়র, সাধারণ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এবং সংরক্ষিত আসনের নারী কাউন্সিলরদের নিয়ে গঠিত হয়। মেয়র পুরো সিটি এলাকার ভোটারদের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হন। প্রতিটি সাধারণ ওয়ার্ড থেকে একজন কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। সাধারণ ওয়ার্ডগুলোর এক-তৃতীয়াংশ সংখ্যক আসন নারীদের জন্য সংরক্ষিত থাকে; সংশ্লিষ্ট সমন্বিত এলাকার ভোটাররা তাঁদের নির্বাচন করেন।
ওয়ার্ডসংখ্যা সিটিভেদে ভিন্ন হতে পারে। মেয়র ও কাউন্সিলররা মিলিতভাবে নগরের সেবা ও উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করেন। এই নির্বাচিত নগর-প্রতিষ্ঠানই উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানের বাংলাদেশি প্রতিরূপ।
জনি সাহেবের প্রতিষ্ঠানটি ইউনিয়ন পরিষদ। তৃণমূল পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি, পুরুষ ও নারী সদস্য এবং গ্রামীণ সড়ক ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উল্লেখ এ পরিচয় নির্দেশ করে। গ্রামভিত্তিক উন্নয়নে এই প্রতিষ্ঠানের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি।
ইউনিয়ন পরিষদ স্থানীয় মানুষের কাছাকাছি থেকে প্রয়োজন চিহ্নিত করতে পারে। রাস্তা মেরামত ও সেতু-কালভার্ট নির্মাণের মতো কাজ গ্রামের যোগাযোগ উন্নত করে। এতে কৃষিপণ্য বাজারে নেওয়া, বিদ্যালয়ে যাতায়াত এবং চিকিৎসাসেবা পাওয়া সহজ হয়। উদ্দীপকে জনি সাহেবের কাজ এ অবকাঠামোগত ভূমিকার উদাহরণ।
দক্ষতামূলক প্রশিক্ষণ কর্মসংস্থান ও আত্মনির্ভরতার সুযোগ বাড়ায়। স্থানীয় পর্যায়ে কৃষি, মৎস্য, পশুপালন ও ক্ষুদ্র উদ্যোগের প্রসারে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের সঙ্গে সহযোগিতা করেও পরিষদ উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে।
পাশাপাশি জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, পরিচ্ছন্নতা, নিরাপদ পানি, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি এবং দুর্যোগে সহায়তার মতো সেবাও গ্রামীণ জীবনমানের জন্য প্রয়োজনীয়। নারী সদস্যদের অংশগ্রহণ নারীদের প্রয়োজন ও মতামত তুলে ধরতে সাহায্য করে।
তবে কার্যকর উন্নয়নের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ, স্বচ্ছতা, সঠিক প্রকল্প নির্বাচন ও জনগণের অংশগ্রহণ জরুরি। এসব শর্ত বজায় থাকলে ইউনিয়ন পরিষদ স্থানীয় প্রয়োজনকে বাস্তব সেবা ও উন্নয়নে রূপ দিতে পারে। তাই জনি সাহেবের প্রতিষ্ঠান গ্রামভিত্তিক উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।
দৃশ্যকল্প-২: জনাব আমজাদ হোসেন অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে সর্বোচ্চ সম্মানিত ব্যক্তি কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত। তার প্রতিষ্ঠানের আরও ২টি শাখা রয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানে তিনি সর্বোচ্চ ২ বার অথবা ৬৭ বছর বয়স পর্যন্ত উক্ত পদে থাকতে পারবেন।।
দৃশ্যকল্প-১-এ সরকারের আইন বিভাগের কাজের চিত্র ফুটে উঠেছে। বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ এই বিভাগের দায়িত্ব পালন করে।
আইন বিভাগ রাষ্ট্রের প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন, সংশোধন ও রহিত করে। সরকারের বার্ষিক আয়-ব্যয়ের বাজেট আলোচনার পর অনুমোদন করাও সংসদের গুরুত্বপূর্ণ কাজ। এসব ক্ষেত্রে প্রতিনিধিদের মতামত ও নির্ধারিত সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়।
উদ্দীপকে আবির সাহেবের প্রতিষ্ঠানে আয়-ব্যয়ের হিসাব উপস্থাপন করে সবার অনুমোদনে পাস করা হয়। নতুন নিয়ম যুক্ত করা বা পুরোনো নিয়ম পরিবর্তনের প্রস্তাবও কর্মীদের সমর্থনে অনুমোদিত হয়। নিয়ম প্রণয়ন ও পরিবর্তন এবং আয়-ব্যয় অনুমোদনের এই কার্যক্রম সংসদের কাজের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। তাই দৃশ্যকল্পটি আইন বিভাগকে নির্দেশ করে।
দৃশ্যকল্প-২-এর প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বাংলাদেশের বিচার বিভাগ, বিশেষত সুপ্রিম কোর্টের সাদৃশ্য রয়েছে। রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে প্রধান বিচারপতির নিয়োগ, সুপ্রিম কোর্টের দুটি বিভাগ এবং বিচারপতিদের ৬৭ বছর বয়স পর্যন্ত পদে থাকার বৈশিষ্ট্য এ পরিচয় নির্দেশ করে। তবে উদ্দীপকের ‘সর্বোচ্চ দুইবার’ কথাটি সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের জন্য প্রযোজ্য মেয়াদসীমা নয়।
সুপ্রিম কোর্টের দুটি বিভাগ হলো হাইকোর্ট বিভাগ ও আপিল বিভাগ। হাইকোর্ট বিভাগ আইনানুগ এখতিয়ার অনুযায়ী মামলা বিচার এবং অধস্তন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল শুনানি করে। নাগরিকের মৌলিক অধিকার রক্ষায় প্রতিকার এবং সরকারি কার্যক্রমের বৈধতা পরীক্ষা করার ক্ষেত্রেও এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
আপিল বিভাগ নির্ধারিত নিয়মে হাইকোর্ট বিভাগের রায়, আদেশ বা দণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল নিষ্পত্তি করে। সংবিধান ও আইনের ব্যাখ্যায় সর্বোচ্চ আদালতের সিদ্ধান্ত বিচারব্যবস্থাকে দিকনির্দেশনা দেয়। জনস্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ আইনগত প্রশ্নে রাষ্ট্রপতি আপিল বিভাগের মতামতও চাইতে পারেন।
বিচার বিভাগ অপরাধ ও বিরোধের আইনসম্মত নিষ্পত্তি, নির্দোষের সুরক্ষা এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে প্রতিকারের ব্যবস্থা করে। স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচারকার্যের মাধ্যমে এটি নাগরিক অধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখে। তাই উদ্দীপকের নিয়োগ ও বয়সসংক্রান্ত সঠিক সূত্র বিচার বিভাগের সঙ্গে মেলে, যদিও দুইবার দায়িত্ব পালনের তথ্যটি অসংগত।
দৃশ্যপট-২: জনাব মামুন সাহেব আরেকটি সংস্থার প্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি অনেক সেবামূলক ও উন্নয়ন কাজের পাশাপাশি বাসা-বাড়ি ও দোকানসহ অন্যান্য খাত থেকে অর্থ আদায় করেন।
দৃশ্যপট-২-এর সংস্থার সঙ্গে পাঠ্যবইয়ের পৌরসভার মিল পাওয়া যায়। ঘরবাড়ি ও দোকানপাটসহ বিভিন্ন খাত থেকে অর্থ সংগ্রহ এবং নাগরিক সেবা ও উন্নয়নের কাজ এই পরিচয়ের সূত্র।
পৌরসভা শহরাঞ্চলের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান। এটি রাস্তা, নালা, পরিচ্ছন্নতা, পানি ও অন্যান্য নাগরিক সুবিধার জন্য কাজ করে। এসব ব্যয় মেটাতে আইন অনুযায়ী হোল্ডিং কর, বিভিন্ন ফি, বাজারের ভাড়া ও অন্যান্য অনুমোদিত আয় সংগ্রহ করা হয়।
উদ্দীপকে মামুন সাহেবের প্রতিষ্ঠানও উন্নয়ন ও সেবামূলক কাজের পাশাপাশি বাসাবাড়ি ও দোকান থেকে অর্থ আদায় করে। তাই পাঠ্যবইয়ের আয়সংক্রান্ত বর্ণনার সঙ্গে পৌরসভার সাদৃশ্য রয়েছে। তবে এ ধরনের আয় অন্য স্থানীয় প্রতিষ্ঠানেও থাকে; উদ্দীপকে এলাকা ও গঠনের বিস্তারিত না থাকায় শনাক্তকরণটি এই মিলের ভিত্তিতে করা হয়েছে।
মনির সাহেবের সংস্থাটি জেলা পরিষদ। অন্যান্য স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ভোট এবং ২০০০ সালের আইনে ১২টি বাধ্যতামূলক ও ৬৮টি ঐচ্ছিক কাজের উল্লেখ এ পরিচয় নির্দেশ করে। জেলা পরিষদ শহরের উন্নয়নে সহায়ক, তবে এটি শুধু শহরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান নয়; পুরো জেলার উন্নয়ন এর কাজের ক্ষেত্র।
জেলা পরিষদ উন্নয়ন কার্যক্রম পর্যালোচনা করে এবং উপজেলা পরিষদ ও পৌরসভার প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ ও সহযোগিতায় ভূমিকা রাখে। অন্য কর্তৃপক্ষের রক্ষণাবেক্ষণে নেই এমন জনপথ, সেতু ও কালভার্ট নির্মাণ ও সংরক্ষণও এর দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত।
সাধারণ পাঠাগার, উদ্যান, খেলার মাঠ, উন্মুক্ত স্থান ও বৃক্ষরোপণের ব্যবস্থা নাগরিক জীবনমান উন্নত করে। বিশ্রামাগার এবং অন্যান্য জনকল্যাণমূলক অবকাঠামোও অর্থনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সহায়তা করে। এসব কাজ শহরের পাশাপাশি গ্রামের জনগণকেও উপকৃত করে।
কিন্তু শহরের সব সেবা একা জেলা পরিষদ দেয় না। পানি, বর্জ্য, নালা ও নগরসেবার অনেক দায়িত্ব পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। তাই পর্যাপ্ত অর্থ, স্বচ্ছ প্রকল্প বাস্তবায়ন ও অন্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় ছাড়া জেলা পরিষদের কার্যকারিতা সীমিত হতে পারে। অতএব মনির সাহেবের প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক হলেও শহরের উন্নয়নে একাই যথেষ্ট নয়; সমন্বিত স্থানীয় শাসন ও উন্নয়নব্যবস্থা প্রয়োজন।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।