দৃশ্যকল্প-১: রিপন গত শীতের ছুটিতে পরিবারের সাথে বান্দরবান বেড়াতে যায়। সেখানে তারা প্রকৃতি দেখে, গান শুনে ও গল্প করে অনেক চমৎকার সময় ব্যয় করে।
দৃশ্যকল্প-২: পদ্মায় নতুন জেগে ওঠা 'পাখির চরে' চারদিক থেকে লোকজন এসে বসবাস শুরু করে। এরপর একটি কমিটির মাধ্যমে সেখানকার শৃঙ্খলা রক্ষাসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ পরিচালিত হতে থাকে।
দৃশ্যকল্প-৩: 'পাখির চরে' কমিটির প্রধান হিসেবে রহমান সাহেব বিভিন্ন নির্দেশনা জারির মাধ্যমে চরের লোকদের যেমন নিয়ন্ত্রণ করেন তেমনি অন্য চরের বা অন্য লোকালয়ের কেউ যেন অবাধে এখানে প্রবেশ করতে না পারে বা প্রভাব খাটাতে না পারে সে ব্যবস্থাও করেন।
দৃশ্যকল্প-১-এ পরিবারের বিনোদনমূলক কাজের কথা বলা হয়েছে।
পরিবারের সদস্যরা একসঙ্গে অবসর কাটানো, বেড়ানো, গান শোনা ও গল্প করার মাধ্যমে আনন্দ লাভ করেন। এসব কাজ দৈনন্দিন জীবনের একঘেয়েমি ও মানসিক ক্লান্তি দূর করে। একই সঙ্গে সদস্যদের মধ্যে যোগাযোগ ও স্নেহের সম্পর্ক দৃঢ় হয়।
রিপন শীতের ছুটিতে পরিবারের সঙ্গে বান্দরবান বেড়াতে গেছে। সেখানে প্রকৃতি দেখা, গান শোনা ও গল্প করে তারা আনন্দময় সময় কাটিয়েছে। এই কাজগুলো জীবিকা অর্জন বা প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের উদ্দেশ্যে নয়, অবসরকে আনন্দদায়ক করে তোলার জন্য করা হয়েছে। তাই দৃশ্যকল্পটি পরিবারের বিনোদনমূলক কাজের সরাসরি উদাহরণ।
দৃশ্যকল্প-৩-এ রাষ্ট্রের চরম ও সর্বোচ্চ ক্ষমতা অর্থাৎ সার্বভৌমত্বের ধারণার প্রতীকী চিত্র ফুটে উঠেছে।
সার্বভৌমত্বের অভ্যন্তরীণ দিক হলো রাষ্ট্রের ভূখণ্ডের সব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর চূড়ান্ত কর্তৃত্ব। বাহ্যিক দিক হলো বাইরের কোনো রাষ্ট্রের অধীন না থেকে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা। এ দুটি দিক রাষ্ট্রের স্বাধীন কর্তৃত্বকে প্রকাশ করে।
দৃশ্যকল্প-৩-এ রহমান সাহেব নির্দেশনা দিয়ে চরের মানুষের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করছেন। এটি অভ্যন্তরীণ কর্তৃত্বের সাদৃশ্য। অন্য লোকালয়ের অনধিকার প্রভাব ঠেকানোর ব্যবস্থা বাহ্যিক নিয়ন্ত্রণমুক্ত থাকার ধারণার সঙ্গে মেলে। বিপরীতে, দৃশ্যকল্প-২-এ বসতি ও কমিটির মাধ্যমে শৃঙ্খলা-উন্নয়ন পরিচালনার কথা আছে; তা জনসমষ্টি, ভূখণ্ড ও প্রশাসনিক সংগঠনের দিকটি দেখায়।
তবে পাখির চর বা তার কমিটি বাস্তবে স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র—এ কথা উদ্দীপক থেকে প্রমাণিত হয় না। স্থানীয় কমিটির ক্ষমতা রাষ্ট্রের আইন ও কর্তৃত্বের অধীন। তাই তুলনাটি ধারণাগত: দৃশ্যকল্প-৩ সার্বভৌমত্বের দুই দিক বোঝাতে বেশি উপযোগী, কিন্তু রহমান সাহেবের ব্যক্তিগত ক্ষমতাকে প্রকৃত রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব বলা যাবে না।
ঘটনা-১ : রূপনগর বাজারে দুটি দোকানের মধ্যে কতটুকু দূরত্ব রাখতে হবে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নিয়ম না থাকায় প্রায়ই একাধিক দোকানদার ঝগড়া করত। পরবর্তীতে বাজার কমিটির সভাপতি নিজের মেধা ও প্রজ্ঞা দিয়ে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট দিক নির্দেশনা দিলে সকলেই তা মেনে নেয়। এরপর থেকে সবসময়ের জন্য এটি একটি প্রতিষ্ঠিত নিয়মে পরিণত হয়।
ঘটনা-২ : রতনপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সবাই সমান সুযোগ ভোগ করে। রানা গরিব হলেও কঠোর পরিশ্রম করে বিজ্ঞান প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান লাভ করে। এই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন, “প্রত্যেকেই নিজ যোগ্যতা অনুসারে সফল হওয়ার সুযোগ রয়েছে।”
ঘটনা-৩ : রতনপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে উচ্চ শব্দে গান-বাজনার আয়োজনের ইচ্ছা প্রকাশ করল। কিন্তু প্রধান শিক্ষক বললেন “ঐ সময় পাশের কলেজ ভবনে শ্রেণি কার্যক্রমের ব্যাঘাত ঘটবে।” পরে শিক্ষার্থীরা অল্প আওয়াজে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে প্রাক্তন শিক্ষার্থীরাও আনন্দ করল আবার বর্তমান কলেজ শিক্ষার্থীদেরও ক্ষতি হলো না।
ঘটনা-১-এ নির্দিষ্ট বিধানের অভাব পূরণের দিক থেকে আইনের উৎস হিসেবে ন্যায়বোধের ইঙ্গিত রয়েছে।
পাঠ্যবই অনুসারে কোনো বিরোধ সমাধানের জন্য প্রযোজ্য আইন না থাকলে বিচারক ন্যায়বোধ ও বিবেকের সাহায্যে সিদ্ধান্ত দেন। এ ধরনের সিদ্ধান্ত পরবর্তী আইনগত বিকাশে ভূমিকা রাখতে পারে।
উদ্দীপকে দোকানগুলোর দূরত্ব সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট নিয়ম না থাকায় বিরোধ হচ্ছিল। সভাপতি মেধা ও প্রজ্ঞা দিয়ে নির্দেশনা দেন এবং তা পরে স্থায়ী নিয়মে পরিণত হয়। বিদ্যমান নির্দিষ্ট বিধির অভাব পূরণে বিচারবোধ প্রয়োগের কারণে ঘটনাটি ন্যায়বোধের সঙ্গে মেলে। সিদ্ধান্তটি পরে অনুসৃত হওয়ায় নজিরের সাদৃশ্যও রয়েছে। তবে বাজার সভাপতির নির্দেশ নিজে আদালতের রায় বা রাষ্ট্রীয় আইন নয়; উদাহরণটি আইনের উৎসের ধারণা বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে।
ঘটনা-২-এ সাম্য এবং ঘটনা-৩-এ স্বাধীনতার ধারণা প্রকাশ পেয়েছে। এ দুটি ধারণা পরস্পরের পরিপূরক।
সাম্য মানে সবাইকে একই ফল দেওয়া নয়; যোগ্যতা বিকাশ ও সাফল্যের জন্য ন্যায্য সুযোগ নিশ্চিত করা। রানা দরিদ্র হলেও অন্যদের মতো সুযোগ পেয়ে পরিশ্রমের মাধ্যমে বিজ্ঞান প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়েছে। প্রধান শিক্ষকের বক্তব্যও যোগ্যতা অনুযায়ী সফল হওয়ার সমান সুযোগকে গুরুত্ব দেয়।
ঘটনা-৩-এ প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করতে পেরেছে, কিন্তু পাশের কলেজের পাঠদান ব্যাহত না করতে শব্দ কমিয়েছে। এটি অন্যের অধিকার অক্ষুণ্ন রেখে স্বাধীনতা ভোগের উদাহরণ। স্বাধীনতা তাই সীমাহীন ইচ্ছাচার নয়।
সমান সুযোগ না থাকলে দরিদ্র বা দুর্বল মানুষের স্বাধীনতা বাস্তবে সীমিত হয়ে যায়। আবার মতপ্রকাশ ও কাজ করার স্বাধীনতা না থাকলে সমান সুযোগ পেলেও ব্যক্তি নিজের প্রতিভা বিকাশ করতে পারে না। একইভাবে কিছু মানুষের বিনোদনের স্বাধীনতা অন্যদের শিক্ষার সুযোগ নষ্ট করলে সাম্য ক্ষুণ্ন হয়।
সুতরাং রতনপুর বিদ্যালয়ের ন্যায্য সুযোগ ও সংযত স্বাধীনতা ভোগের দুটি ঘটনা দেখায় যে সাম্য স্বাধীনতাকে অর্থবহ করে এবং স্বাধীনতা সাম্যের সুফল গ্রহণের সুযোগ দেয়।
দৃশ্য-১ : হিরন মিয়া 'P' দেশে কাজ করেন। সেখানে শ্রেণি বৈষম্য নেই বললেই চলে। 'P' দেশের সকল সম্পদ রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে। কোনো নাগরিক ইচ্ছে করলে নিজ উদ্যোগে কিছু করতে পারে না। 'P' রাষ্ট্রই সকল উৎপাদন পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করে থাকে।
দৃশ্য-২: 'সূচনা' নামক সংগঠনের সকল সিদ্ধান্তই তাদের প্রধান শাখা থেকে বাস্তবায়ন করা হয়। আঞ্চলিক অফিস 'ক' ও 'খ' কী দায়িত্ব ও কর্তব্য বা কোন ধরনের কাজ বাস্তবায়ন করবে সবই তারা ঠিক করে দেয়। আঞ্চলিক অফিসদ্বয় নিজেদের কোনো প্রস্তাব দিলে প্রধান শাখা তা বাতিল করে নিজেদের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে বলে।
দৃশ্য-১-এ অর্থনৈতিক দিক থেকে সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার চিত্র দেখা যায়।
পাঠ্যবইয়ের সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থায় উৎপাদনের উপকরণ ও সম্পদের ওপর রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ থাকে। কেন্দ্রীয় পরিকল্পনার মাধ্যমে উৎপাদন ও বণ্টন পরিচালিত হয়। ব্যক্তিগত মুনাফার পরিবর্তে শ্রেণিবৈষম্য হ্রাস ও সামগ্রিক কল্যাণকে লক্ষ্য করা হয়।
‘P’ দেশের সম্পদ রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে এবং উৎপাদন পরিকল্পনা রাষ্ট্রই তৈরি ও বাস্তবায়ন করে। নাগরিক ব্যক্তিগত উদ্যোগে ইচ্ছামতো উৎপাদন কার্যক্রম গ্রহণ করতে পারে না। শ্রেণিবৈষম্য প্রায় নেই বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। এই বৈশিষ্ট্যগুলো পাঠ্যবইয়ের সমাজতান্ত্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার সঙ্গে মিলে যায়। বিশেষত সম্পদের রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ ও কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা এখানে শনাক্তকরণের প্রধান ভিত্তি।
কেন্দ্র ও আঞ্চলিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষমতার সম্পর্কের দিক থেকে ‘সূচনা’র সঙ্গে বাংলাদেশের এককেন্দ্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার সাদৃশ্য রয়েছে। এই সীমিত অর্থে বক্তব্যটির সঙ্গে একমত।
এককেন্দ্রিক রাষ্ট্রে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার মূল কেন্দ্র একটিই। প্রশাসনিক সুবিধার জন্য বিভিন্ন এলাকায় দায়িত্ব বণ্টন করা হলেও যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্যের মতো সাংবিধানিকভাবে পৃথক সার্বভৌম ক্ষমতার স্তর থাকে না। বাংলাদেশে একটি কেন্দ্রীয় সরকার এবং আইন অনুযায়ী মাঠপ্রশাসন ও স্থানীয় সরকারব্যবস্থা রয়েছে।
উদ্দীপকে ‘সূচনা’র প্রধান শাখা সব সিদ্ধান্ত নেয় এবং আঞ্চলিক অফিসগুলোর কাজ নির্ধারণ করে। আঞ্চলিক অফিসের স্বাধীন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা নেই। এটি একক কেন্দ্রের অধীনে দায়িত্ব পরিচালনার সাদৃশ্য প্রকাশ করে।
তবে আঞ্চলিক প্রস্তাব সব সময় বাতিল করা এককেন্দ্রিক ব্যবস্থার অপরিহার্য বৈশিষ্ট্য নয়। বাংলাদেশের স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোরও আইননির্ধারিত দায়িত্ব, প্রতিনিধিত্ব ও মতামত প্রদানের সুযোগ রয়েছে। কার্যকর প্রশাসনের জন্য স্থানীয় চাহিদা বিবেচনা করা দরকার।
অতএব ক্ষমতার কেন্দ্র এক হওয়ার ক্ষেত্রে তুলনাটি যথার্থ। কিন্তু সংগঠনটির প্রতিটি আচরণকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রব্যবস্থার পূর্ণ প্রতিচ্ছবি বলা যাবে না; উদ্দীপক মূলত এককেন্দ্রিক কাঠামোর দিকটি তুলে ধরে।
‘ভিউ’ কোম্পানির পরিচালনাপদ্ধতির সঙ্গে সংসদীয় সরকারব্যবস্থার সাদৃশ্য রয়েছে।
সংসদীয় ব্যবস্থায় সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থাভাজন নেতা সরকার পরিচালনা করেন। প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভাকে সংসদের সমর্থন বজায় রাখতে হয়। এই সমর্থন হারালে সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারে না।
উদ্দীপকে নির্বাচিত বোর্ডের সদস্যরা ‘X’-কে নেতা বেছে নিয়েছেন। তিনি সদস্যদের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটিয়ে কাজ করেন এবং তাঁদের সমর্থন ছাড়া প্রধান থাকতে পারেন না। নির্বাচিত প্রতিনিধিদের আস্থার ওপর নেতৃত্বের স্থায়িত্ব নির্ভর করার এই বৈশিষ্ট্য সংসদীয় সরকারের সঙ্গে মেলে। এখানে বোর্ডের সদস্যরা সংসদের এবং ‘X’ প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকার প্রতীকী উদাহরণ।
‘ভিউ’ কোম্পানিতে সংসদীয় এবং ‘পিউ’ কোম্পানিতে রাষ্ট্রপতিশাসিত ব্যবস্থার কিছু বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে। তবে ‘পিউ’-এর জবাবদিহিহীনতার বর্ণনাকে সব রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকারের বৈশিষ্ট্য বলা সঠিক নয়।
‘ভিউ’-এর নেতা নির্বাচিত সদস্যদের মধ্য থেকে বাছাই হন এবং তাঁদের আস্থার ওপর নির্ভর করেন। সংসদীয় ব্যবস্থায়ও প্রধানমন্ত্রী সংসদের আস্থাভাজন নেতা; মন্ত্রিসভা সংসদের কাছে যৌথভাবে দায়বদ্ধ থাকে। এখানে আইনসভা ও শাসন বিভাগের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বিদ্যমান।
‘পিউ’-এর নির্বাচিত প্রধান নিজে নির্বাহী নেতৃত্ব দেন। রাষ্ট্রপতিশাসিত ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি শাসন বিভাগের প্রধান এবং সংসদীয় অনাস্থার মতো সাধারণ প্রক্রিয়ায় তাঁর মেয়াদ শেষ হয় না। আইনসভা ও শাসন বিভাগের ক্ষমতা তুলনামূলকভাবে পৃথক থাকে।
তবে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রপতিশাসিত ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি সংবিধান, আইনসভা, আদালত ও নির্বাচনের মাধ্যমে জবাবদিহির আওতায় থাকেন। ‘Y’ কারও কাছে জবাবদিহি করেন না এবং সব ক্ষমতার অধিকারী—এই অংশটি নিয়ন্ত্রণহীন ব্যক্তিকেন্দ্রিক শাসনের লক্ষণ।
সুতরাং আস্থানির্ভর সংসদীয় নেতৃত্ব ও পৃথক নির্বাহী নেতৃত্বের মধ্যে তুলনাটি প্রযোজ্য। উভয় ব্যবস্থার সাফল্যের জন্য সাংবিধানিক সীমা, জনগণের অধিকার ও কার্যকর জবাবদিহি অপরিহার্য।
জনাব আনিসের ভূমিকা শাসন বিভাগের প্রধানমন্ত্রী পদের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
সংসদীয় ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি সাংবিধানিক রাষ্ট্রপ্রধান এবং প্রধানমন্ত্রী প্রকৃত নির্বাহী নেতৃত্ব দেন। রাষ্ট্রের নির্বাহী কার্য রাষ্ট্রপতির নামে পরিচালিত হলেও প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভার মাধ্যমে তা বাস্তবায়িত হয়। রাষ্ট্রপতি সংসদের অধিবেশন আহ্বান করেন এবং সাংবিধানিক ক্ষমতায় দণ্ড মওকুফ করতে পারেন।
উদ্দীপকে রফিকের নামে ক্লাবের কাজ চলে, কিন্তু আনিস নেতৃত্ব দিয়ে তা বাস্তবায়ন করেন। সভা আহ্বানের জন্য আনিস রফিককে অনুরোধ করেন এবং ক্ষমা প্রদর্শনের ক্ষমতা রফিকের রয়েছে। তাই রফিক রাষ্ট্রপতির আর আনিস প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকার সঙ্গে মেলে। এটি ক্লাবের ঘটনাকে সাংবিধানিক দায়িত্বের সঙ্গে তুলনা করে বোঝানো হয়েছে।
সংসদীয় সরকারের সঙ্গে উদ্দীপকের তুলনা করলে আনিস রাষ্ট্রপতিসদৃশ রফিকের কাছে সংসদীয় অর্থে রাজনৈতিক জবাবদিহি করতে বাধ্য নন। প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার রাজনৈতিক জবাবদিহি সংসদের কাছে।
বাংলাদেশের সংসদীয় কাঠামোতে প্রধানমন্ত্রী প্রকৃত নির্বাহী নেতৃত্ব দেন এবং মন্ত্রিসভা সংসদের কাছে যৌথভাবে দায়ী থাকে। সংসদের আস্থা বজায় রাখা সরকারের ক্ষমতায় থাকার ভিত্তি। রাষ্ট্রপতির নামে নির্বাহী কার্য পরিচালিত হওয়া মানে রাষ্ট্রপতি ব্যক্তিগতভাবে সব সরকারি সিদ্ধান্তের রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রক—এমন নয়।
উদ্দীপকে রফিকের নামে কাজ হলেও আনিসের নেতৃত্বে তা বাস্তবায়িত হয়। তাই নামমাত্র রাষ্ট্রপ্রধান ও প্রকৃত নির্বাহী নেতৃত্বের পার্থক্য এখানে গুরুত্বপূর্ণ। রফিকের সভা আহ্বান বা ক্ষমা প্রদর্শনের ক্ষমতা এই পার্থক্য দূর করে না।
তবে প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ও পররাষ্ট্রসংক্রান্ত বিষয় সম্পর্কে অবহিত রাখার সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করেন। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে পরামর্শ ও তথ্য আদান-প্রদানের সম্পর্ক রয়েছে। এটিকে সংসদের কাছে রাজনৈতিক জবাবদিহির সমতুল্য বলা যায় না।
সুতরাং আনিসের ভূমিকা অনুযায়ী তাঁর প্রকৃত রাজনৈতিক দায়বদ্ধতার তুলনা হবে প্রতিনিধিত্বশীল সংসদের সঙ্গে; রফিকের প্রতি থাকবে সংশ্লিষ্ট সাংবিধানিক দায়িত্ব ও সহযোগিতার সম্পর্ক।
দৃশ্য-১: রশিদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে ‘স্টুডেন্টস কেবিনেট' নির্বাচনের জন্য প্রতি শ্রেণি থেকে ছাত্ররা দুজন প্রতিনিধি বাছাই করে হলো।
দৃশ্য-২ : ‘A’ রাষ্ট্রে একাধিক সংগঠন গড়ে ওঠে। যারা জনগণের কল্যাণে রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ আরও অনেক কিছু করার প্রতিশ্রুতি দেয়। তারা সভাসমাবেশ করে জনগণকে সচেতন করে।
দৃশ্য-১-এ শিক্ষার্থীদের নিজেদের শ্রেণির প্রতিনিধি বাছাইয়ের ঘটনাটি প্রত্যক্ষ নির্বাচনের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
প্রত্যক্ষ নির্বাচনে ভোটার নিজেই সরাসরি প্রতিনিধি নির্বাচন করেন। প্রতিনিধি নির্বাচনের জন্য সাধারণ ভোটার ও প্রার্থীর মাঝখানে আলাদা নির্বাচকমণ্ডলীর ধাপ থাকে না।
উদ্দীপকে প্রতি শ্রেণির শিক্ষার্থীরা দুজন প্রতিনিধি বাছাই করেছে। অর্থাৎ শিক্ষার্থীরাই তাদের প্রতিনিধি নির্বাচনের প্রথম ধাপে সরাসরি অংশ নিয়েছে। তাই বর্ণিত অংশটি প্রত্যক্ষ নির্বাচনের উদাহরণ হিসেবে ব্যাখ্যা করা যায়। পরে এই প্রতিনিধিরা আবার অন্য কাউকে নির্বাচিত করলে সেই পরবর্তী ধাপ পরোক্ষ নির্বাচন হতে পারত; কিন্তু উদ্দীপকে এমন দ্বিতীয় ধাপের উল্লেখ নেই।
না, গণতন্ত্রের সফলতার জন্য ‘A’ রাষ্ট্রের রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর বর্ণিত কার্যাবলি গুরুত্বপূর্ণ হলেও যথেষ্ট নয়।
সংগঠনগুলো উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে এবং সভা-সমাবেশের মাধ্যমে মানুষকে সচেতন করছে। এগুলো রাজনৈতিক দলের জনমত গঠন, কর্মসূচি তুলে ধরা ও রাজনৈতিক শিক্ষা দেওয়ার কাজের সঙ্গে মেলে। একাধিক সংগঠন থাকলে জনগণ বিভিন্ন মত ও কর্মসূচির মধ্যে তুলনা করার সুযোগ পায়।
তবে কেবল প্রতিশ্রুতি ও সভা করলেই গণতন্ত্র সফল হয় না। অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন, ভোটারের স্বাধীন মতপ্রকাশ এবং নির্বাচনের ফলকে সম্মান করা জরুরি। নির্বাচিত প্রতিনিধিদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন ও জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে হবে।
আইনের শাসন, স্বাধীন বিচার বিভাগ, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং বিরোধী মতের অধিকারও প্রয়োজন। দলগুলোর ভেতরে গণতান্ত্রিক চর্চা, সহনশীলতা ও দুর্নীতিমুক্ত আচরণ না থাকলে বহুদলীয় উপস্থিতির সুফল সীমিত হয়। নাগরিকদেরও সচেতনভাবে যোগ্য প্রতিনিধি নির্বাচন ও কর্তব্য পালন করতে হবে।
সুতরাং উদ্দীপকের সংগঠনগুলো গণতন্ত্রের একটি প্রয়োজনীয় ভিত্তি তৈরি করছে। এর সঙ্গে কার্যকর প্রতিষ্ঠান, অধিকার রক্ষা এবং দায়িত্বশীল নাগরিক অংশগ্রহণ যুক্ত হলেই গণতন্ত্র সফল হতে পারে।
দৃশ্যকল্প-১: কুতুবপুরে একসময় আলেয়াদের তেমন কোনো মতামত গ্রহণ করা হতো না। আজকাল আলেয়াসহ অনেকে স্থানীয় সরকারব্যবস্থায় নির্বাচিত হয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের অংশীদার হয়েছেন।
দৃশ্যকল্প-২: জনাব শিহাব একটি সংস্থার সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি ছাড়াও ১২ জন নির্বাচিত সদস্য নিয়ে এ পরিষদ গঠিত। সম্প্রতি তার সংস্থা থেকে পশুপালনের প্রশিক্ষণ ও বিভিন্ন খেলাধুলার আয়োজন করেছেন। অন্যদিকে জনাব হাসিব শহর এলাকায় একটি সংস্থার সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। সম্প্রতি তার প্রতিষ্ঠান বিভাগীয় শহর এলাকার সৌন্দর্য বর্ধনের পাশাপাশি পচা ও বাসি খাবার বিক্রির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছেন।
দৃশ্যকল্প-১-এ নাগরিকতা বিকাশে স্থানীয় সরকারের নারীর ক্ষমতায়নমূলক ভূমিকা প্রকাশ পেয়েছে।
নারীর ক্ষমতায়ন বলতে সামাজিক ও রাজনৈতিক জীবনে নারীর অংশগ্রহণ, মতামতের গুরুত্ব এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ বৃদ্ধি বোঝায়। স্থানীয় সরকারে নির্বাচিত হওয়ার মাধ্যমে নারীরা নিজ এলাকার চাহিদা ও সমস্যা তুলে ধরতে এবং সমাধানের সিদ্ধান্তে অংশ নিতে পারেন।
কুতুবপুরে আগে আলেয়াদের মতামত তেমন গ্রহণ করা হতো না। এখন আলেয়াসহ নারীরা নির্বাচিত হয়ে সিদ্ধান্তের অংশীদার হয়েছেন। ফলে তাঁরা কেবল সেবাগ্রহীতা নন, জনসেবা ও উন্নয়ন পরিচালনায় সক্রিয় প্রতিনিধি। এই পরিবর্তন তাঁদের মর্যাদা, নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক অধিকারচর্চার সুযোগ বাড়িয়েছে। তাই ঘটনাটি স্থানীয় সরকারের মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়নের দৃষ্টান্ত।
দৃশ্যকল্প-২-এ শিহাবের সংস্থা ইউনিয়ন পরিষদ এবং হাসিবের সংস্থা সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। তৃণমূল মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের বিচারে ইউনিয়ন পরিষদকে সবচেয়ে কার্যকর একক হিসেবে চিহ্নিত করা যায়।
শিহাব ছাড়াও বারোজন নির্বাচিত সদস্য রয়েছে। একজন চেয়ারম্যান, নয়জন সাধারণ সদস্য ও তিনজন নারী সদস্য—এই গঠন ইউনিয়ন পরিষদের সঙ্গে মেলে। পশুপালন প্রশিক্ষণ ও খেলাধুলায় সহায়তাও এর স্থানীয় উন্নয়নমূলক কাজ। অন্যদিকে বিভাগীয় শহরের সৌন্দর্যবর্ধন ও অস্বাস্থ্যকর খাবারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা সিটি কর্পোরেশনের কাজের পরিচায়ক।
ইউনিয়ন পরিষদ গ্রামীণ মানুষের কাছাকাছি থাকায় তাঁদের সমস্যা ও চাহিদা সহজে জানতে পারে। জন্মনিবন্ধন, স্থানীয় অবকাঠামো, সামাজিক সহায়তা এবং দুর্যোগে সহযোগিতার মতো কাজে মানুষ সরাসরি পরিষদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। পরিচিত নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে অভিযোগ ও দাবি তুলে ধরার সুযোগও বেশি থাকে।
তবে এই মূল্যায়ন তৃণমূল সংযোগের ভিত্তিতে; নগরসেবায় সিটি কর্পোরেশনের গুরুত্ব কম নয়। উভয় প্রতিষ্ঠানের বাস্তব কার্যকারিতা সম্পদ, দক্ষতা ও জবাবদিহির ওপর নির্ভর করে। পাঠ্যবইয়ের আলোকে নিচের স্তরে সরাসরি জনসম্পৃক্ততার জন্য ইউনিয়ন পরিষদ বিশেষভাবে কার্যকর।
প্রথম শিক্ষার্থী : আমার বাবা, কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য আগ্নেয়াস্ত্র রাখতে চাইলে শর্ত সাপেক্ষে লাইসেন্স প্রদান করেন।
দ্বিতীয় শিক্ষার্থী : আমার বাবা একজন জনপ্রতিনিধি। সেখানে নিরাপদ সড়কের জন্য শিক্ষার্থীরা দাবি করলে, বেশিরভাগ সহকর্মীর সমর্থনে সড়ক চলাচলের জন্য নতুন নীতিমালা অনুমোদিত হয়।
তৃতীয় শিক্ষার্থী : একজন অসহায় নারীর সম্পত্তি প্রতিবেশী এক প্রভাবশালী ব্যক্তি দখল করে নিলে তিনি আমার বাবার কার্যালয়ে সমাধান চাইলে বাবা প্রভাবশালী ব্যক্তিকে উপযুক্ত প্রমাণ নিয়ে তার কার্যালয়ে উপস্থিত হতে নির্দেশ দেন।
প্রথম শিক্ষার্থীর বক্তব্যে মাঠ প্রশাসনের জেলা স্তরের কাজের সাদৃশ্য রয়েছে। তার বাবার ভূমিকা জেলা প্রশাসকের সঙ্গে মেলে।
জেলা প্রশাসক জেলার প্রশাসনিক কার্যক্রম সমন্বয় করেন এবং রাজস্ব, আইনশৃঙ্খলা ও বিভিন্ন নিয়ন্ত্রণমূলক দায়িত্ব পালন করেন। পাঠ্যবইয়ে আগ্নেয়াস্ত্রসহ বিভিন্ন বিষয়ের লাইসেন্স প্রদানকে তাঁর কাজের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
উদ্দীপকে প্রথম শিক্ষার্থীর বাবা ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য আগ্নেয়াস্ত্র রাখার ক্ষেত্রে শর্তসাপেক্ষে লাইসেন্স দেন। এটি জেলা প্রশাসকের উল্লিখিত দায়িত্বের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। শর্ত যাচাই করে লাইসেন্স দেওয়ার মাধ্যমে ব্যক্তিগত প্রয়োজনের পাশাপাশি জননিরাপত্তার বিষয় বিবেচিত হয়। তাই কাজটি জেলা প্রশাসন স্তরকে নির্দেশ করে।
দ্বিতীয় শিক্ষার্থীর বক্তব্যে আইন বিভাগ এবং তৃতীয় শিক্ষার্থীর বক্তব্যে বিচার বিভাগের পরিচয় রয়েছে। নির্দিষ্ট অধিকার লঙ্ঘনের প্রতিকার দেওয়ার ক্ষেত্রে বিচার বিভাগ অধিকতর প্রত্যক্ষ ও কার্যকর ভূমিকা রাখে।
দ্বিতীয় শিক্ষার্থীর বাবা জনপ্রতিনিধি হিসেবে সহকর্মীদের সমর্থনে সড়কসংক্রান্ত নীতিমালা অনুমোদন করেছেন। এটি আইনসভার আইন ও নীতি প্রণয়নের ভূমিকার সঙ্গে মেলে। আইন বিভাগ নাগরিকের নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষার সাধারণ বিধান তৈরি করে।
তৃতীয় শিক্ষার্থীর বাবা সম্পত্তি দখলের অভিযোগ শুনে প্রভাবশালী ব্যক্তিকে প্রমাণসহ উপস্থিত হতে বলেছেন। উভয় পক্ষের বক্তব্য ও প্রমাণ বিবেচনা করে বিরোধ নিষ্পত্তির এই প্রক্রিয়া বিচার বিভাগের কাজ। এতে অসহায় ব্যক্তিও প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে আইনগত প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ পান।
মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হলে উপযুক্ত আদালত প্রতিকার দেয়; সাংবিধানিক প্রতিকারে উচ্চ আদালতের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। তাই বিচার বিভাগ অধিকার রক্ষার বাস্তব আশ্রয়। তবে সম্পত্তিসংক্রান্ত প্রতিটি বিরোধকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাংবিধানিক রিটের বিষয় বলা যায় না; উপযুক্ত বিচারপ্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়।
সুতরাং প্রতিকার প্রদানে বিচার বিভাগকে অগ্রাধিকার দিলেও কার্যকর আইন ছাড়া তার কাজ দুর্বল হবে। অধিকার সংরক্ষণে আইন ও বিচার বিভাগ পরস্পরের পরিপূরক।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।