ঘটনা-১: স্ত্রী-সন্তান নিয়ে মাসুদ সাহেব সোনাপুর গ্রামে বসবাস সেই সিদ্ধান্ত করেন। তাদের সন্তান জনি কোন স্কুলে ভর্তি হবে। গ্রহণের ক্ষেত্রে পিতার ইচ্ছাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। এছাড়াও পরিবারের সকল সিদ্ধান্ত মাসুদ সাহেব নিজেই গ্রহণ করেন।
ঘটনা-২: সেলিম সাহেব একজন ব্যাংক কর্মকর্তা। তার ছেলে-মেয়েরা গ্রামের স্কুলে পড়ালেখা করে। তিনি মা-বাবা ও ভাই-বোনদের নিয়ে বসবাস করেন। অন্যদিকে, শামীম সাহেব একই গ্রামের বাসিন্দা। তার স্ত্রী একজন চাকরিজীবী। তাদের একমাত্র সন্তান সাব্বির কাজের মেয়ের কাছে থাকে। সে ভালোভাবে খেলে না, খেতে চায় না। এমনকি পড়ালেখাও করতে চায় না।
নেতৃত্বের ভিত্তিতে জনাব মাসুদ সাহেবের পরিবারটি পিতৃতান্ত্রিক পরিবার। এ ধরনের পরিবারে পিতা পরিবারের প্রধান হিসেবে নেতৃত্ব দেন এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাঁর কর্তৃত্ব প্রাধান্য পায়। পাঠ্যবইয়ে পিতার বংশপরিচয়ে সন্তানদের পরিচিত হওয়াও এ পরিবারের বৈশিষ্ট্য হিসেবে উল্লেখ আছে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, জনি কোন স্কুলে ভর্তি হবে, সে সিদ্ধান্তে পিতার ইচ্ছাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। পরিবারের অন্যান্য সিদ্ধান্তও মাসুদ সাহেব নিজেই গ্রহণ করেন। অর্থাৎ পারিবারিক নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা পিতার হাতে কেন্দ্রীভূত। এই বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে তাঁর পরিবারকে পিতৃতান্ত্রিক বলা যায়।
স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বসবাসের কারণে কাঠামোগতভাবে পরিবারটি একক হলেও উদ্দীপকে বিশেষভাবে পিতার সিদ্ধান্তের প্রাধান্য দেখানো হয়েছে; তাই এখানে নেতৃত্বভিত্তিক পরিচয়টিই মুখ্য।
উদ্দীপকের পরিস্থিতিতে সাব্বিরের মানসিক বিকাশের জন্য সেলিম সাহেবের যৌথ পরিবারের মতো পরিবেশকে অধিকতর উপযোগী মনে করি। সেখানে একাধিক প্রজন্মের সদস্যদের সান্নিধ্য ও পারস্পরিক যত্ন পাওয়ার সুযোগ বেশি।
সেলিম সাহেব মা-বাবা, ভাই-বোন ও নিজের সন্তানদের নিয়ে থাকেন। এমন পরিবারে শিশুরা দাদা-দাদি, চাচা-ফুফু ও অন্য সদস্যদের কাছ থেকে স্নেহ, গল্প, পরামর্শ ও সঙ্গ পেতে পারে। একসঙ্গে সময় কাটানো ও খেলাধুলা শিশুর আনন্দ, নিরাপত্তাবোধ এবং সামাজিক যোগাযোগের দক্ষতা বাড়াতে সহায়তা করে। ভাগাভাগি, সহমর্মিতা ও সহযোগিতাও সে শেখে।
অন্যদিকে শামীম সাহেবের একমাত্র সন্তান সাব্বির পরিচর্যাকারীর কাছে থাকে এবং খেলাধুলা, খাওয়া ও পড়ালেখায় আগ্রহ দেখায় না। উদ্দীপকটি তার আবেগগত যত্ন ও সঙ্গের চাহিদা পূরণের দিকে মনোযোগ দেওয়ার প্রয়োজন বোঝায়। যৌথ পরিবারের একাধিক সদস্য এই যত্নে অংশ নিতে পারেন।
তবে শুধু যৌথ পরিবার হলেই সুস্থ বিকাশ নিশ্চিত হয় না, কিংবা মা চাকরি করলেই শিশুর বিকাশ ব্যাহত হয় না। মূল বিষয় হলো স্নেহ, নিরাপদ পরিবেশ, নিয়মিত সঙ্গ ও দায়িত্বশীল পরিচর্যা। এসব নিশ্চিত হলে একক পরিবারেও ভালো বিকাশ সম্ভব। প্রদত্ত দুই পরিস্থিতির তুলনায় সেলিম সাহেবের পরিবারের সঙ্গ ও যত্নের সম্ভাবনাই সেটিকে অধিকতর উপযোগী করে।
দৃশ্যপট-২: মারিয়া তার মায়ের সাথে গ্রামে বসবাস করে। তার বাবা শহরে চাকরি করেন। মারিয়ার মা প্রতিদিন তাকে বিদ্যালয়ে আনা নেওয়া করেন। বাবা বাড়ি আসলে মেয়েকে নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় বেড়াতে যান।
কাঠামোর ভিত্তিতে মাহেরের পরিবারটি যৌথ পরিবার। একাধিক প্রজন্ম ও নিকটাত্মীয়রা একত্রে বসবাস করলে সে পরিবারকে যৌথ পরিবার বলা হয়। এতে মা-বাবা ও সন্তানদের পাশাপাশি দাদা-দাদি, চাচা-চাচি এবং অন্যান্য পরিজন থাকতে পারেন।
উদ্দীপকে মাহের তার মা-বাবা, দাদা-দাদি, চাচা-চাচি ও ফুপুর সঙ্গে গ্রামে থাকে। অর্থাৎ তার পরিবার কেবল মা-বাবা ও সন্তানদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; একই পরিবারে একাধিক প্রজন্ম ও আত্মীয়ের উপস্থিতি রয়েছে। বিদ্যালয় থেকে ফিরে দাদির তৈরি পিঠা দেখে তার আনন্দ পাওয়া পারিবারিক সান্নিধ্য ও স্নেহের পরিচয়ও বহন করে।
এসব গঠনগত বৈশিষ্ট্য যৌথ পরিবারের সঙ্গে মিলে যায়। তাই মাহেরের পরিবারকে যৌথ পরিবার হিসেবে চিহ্নিত করা যথার্থ।
মারিয়ার বাবার কাজটিই পরিবারের একমাত্র কাজ নয়—উক্তিটি যথার্থ। পরিবার মানুষের জীবনে অর্থনৈতিক, জৈবিক, শিক্ষামূলক, রাজনৈতিক, মনস্তাত্ত্বিক ও বিনোদনমূলক বিভিন্ন কাজ করে।
উদ্দীপকে মারিয়ার বাবা শহরে চাকরি করেন। পরিবারের ভরণপোষণের জন্য আয় করার দিকটি অর্থনৈতিক কাজের অন্তর্ভুক্ত। আবার বাড়িতে এসে মেয়েকে নিয়ে বিভিন্ন স্থানে বেড়াতে যাওয়া বিনোদনমূলক কাজ। এতে শিশুর আনন্দ ও পারিবারিক ঘনিষ্ঠতাও বাড়ে। বাবার বর্ণিত উভয় কাজই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু পরিবারের কাজ এগুলোতেই সীমিত নয়।
মারিয়ার মা প্রতিদিন তাকে বিদ্যালয়ে আনা-নেওয়া করেন। এটি সন্তানের শিক্ষা অর্জনে পরিবারের সহায়তার উদাহরণ। পরিবার ভাষা, আচরণ ও মূল্যবোধ শেখানোর প্রথম ক্ষেত্রও বটে। সন্তান জন্মদান, লালন-পালন ও বংশরক্ষা এর জৈবিক কাজ। স্নেহ, ভালোবাসা ও নিরাপত্তাবোধ দেওয়া মনস্তাত্ত্বিক কাজ। নিয়ম মানা, কর্তব্যবোধ, সহযোগিতা ও অন্যের মতামতের প্রতি সম্মান শেখানোর মাধ্যমে পরিবার রাজনৈতিক জীবনেও শিশুকে প্রস্তুত করে।
অতএব বাবার উপার্জন বা বেড়াতে নিয়ে যাওয়া পরিবারের সামগ্রিক কাজের অংশমাত্র। বিভিন্ন কাজ সম্মিলিতভাবে সম্পাদিত হলেই শিশুর শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক বিকাশের উপযুক্ত পরিবেশ গড়ে ওঠে।
ঘটনা-২: মমিন সাহেব বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ালেখা শেষ করে বাংলাদেশ সরকারের উচ্চ পদে চাকরি করেন। নির্বাচনের সময় তিনি তার পছন্দমতো প্রার্থীকে ভোট দেন এবং নিয়মিত ধর্মচর্চা করেন।
আলেয়া অর্থনৈতিক সাম্য থেকে বঞ্চিত। যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ করার এবং কাজের ন্যায্য মজুরি পাওয়ার সমান সুযোগকে অর্থনৈতিক সাম্য বলে। একই ধরনের সমান কাজের জন্য নারী-পুরুষের মধ্যে বৈষম্যমূলক মজুরি দেওয়া এই সাম্যের পরিপন্থী।
উদ্দীপকে মাতাব ও আলেয়া একই ইটভাটায় সারাদিন সমান কাজ করেন। কিন্তু মালিক দিন শেষে আলেয়াকে মাতাবের চেয়ে কম মজুরি দেন। কাজের পরিমাণ সমান হওয়া সত্ত্বেও তাঁর পারিশ্রমিক কম হওয়ায় শ্রমের ন্যায্য মূল্য পাওয়ার সুযোগ ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।
এখানে নারী হিসেবে বৈষম্যের দিকটিও আছে; তবে প্রশ্নের মূল ঘটনা মজুরির অসমতা। তাই সাম্যের নির্দিষ্ট শ্রেণি হিসেবে অর্থনৈতিক সাম্য থেকেই আলেয়ার বঞ্চনা সবচেয়ে সরাসরি প্রকাশ পেয়েছে।
না, মমিন সাহেবের কাজের মধ্যে স্বাধীনতার সবগুলো রূপ স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠেনি। পাঠ্যবইয়ে ব্যক্তি, সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও জাতীয়—এই পাঁচ ধরনের স্বাধীনতা আলোচনা করা হয়েছে। উদ্দীপকে এর কয়েকটির উদাহরণ আছে।
মমিন সাহেব নিয়মিত ধর্মচর্চা করেন। নিজের বিশ্বাস অনুযায়ী ধর্মচর্চা ব্যক্তি স্বাধীনতার উদাহরণ। নির্বাচনে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়া তাঁর রাজনৈতিক স্বাধীনতা প্রকাশ করে; এর মাধ্যমে তিনি রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রতিনিধি নির্বাচনের সুযোগ পান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ালেখা শেষে সরকারি উচ্চ পদে চাকরি করা যোগ্যতা অনুযায়ী পেশা গ্রহণের সুযোগকে নির্দেশ করে, যা অর্থনৈতিক স্বাধীনতার সঙ্গে সম্পর্কিত। বৈধ পেশা গ্রহণের দিক থেকে এতে সামাজিক স্বাধীনতার পরিচয়ও রয়েছে। তবে তাঁর উপযুক্ত পারিশ্রমিক বা সামাজিক স্বাধীনতার অন্য সব ক্ষেত্র সম্পর্কে উদ্দীপকে আলাদা তথ্য নেই।
জাতীয় স্বাধীনতা হলো একটি রাষ্ট্রের অন্য রাষ্ট্রের কর্তৃত্বমুক্ত অবস্থান। মমিন সাহেবের ব্যক্তিগত চাকরি, ভোটদান ও ধর্মচর্চার মাধ্যমে রাষ্ট্রের এই স্বাধীন অবস্থার সরাসরি বর্ণনা পাওয়া যায় না। বাংলাদেশ স্বাধীন রাষ্ট্র হলেও শুধু তার নাম উল্লেখ থাকাকে ব্যক্তির কাজের মধ্যে জাতীয় স্বাধীনতার প্রকাশ বলা যথেষ্ট নয়। তাই উদ্দীপকে স্বাধীনতার একাধিক রূপ থাকলেও সব রূপ ফুটে উঠেছে—এ বক্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়।
দৃশ্যকল্প-২: জনাব জামান সাহেব একটি রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত কোম্পানিতে চাকরি করেন। কোম্পানিটি জামানের খাদ্য, বাসা বাড়ি, চিকিৎসা ও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা প্রদান করে।
দৃশ্যকল্প-৩: জনাব আরিফ সাহেব অন্য একটি কোম্পানিতে চাকরি করেন। সেখানে কোম্পানির মালিক কর্মচারীদের মতামত নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। কর্মচারীরাও তাদের সমস্যার কথা মালিকের কাছে সহজেই তুলে ধরতে পারেন।
দৃশ্যকল্প-১-এর সঙ্গে পুঁজিবাদী বা ধনতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার অর্থনৈতিক বৈশিষ্ট্যের মিল রয়েছে। এ ব্যবস্থায় উৎপাদনের উপকরণে ব্যক্তিমালিকানা, ব্যক্তিগত উদ্যোগ এবং মুনাফা অর্জনের সুযোগ থাকে।
জনাব রহিম নিজের সঞ্চিত অর্থ দিয়ে গার্মেন্টস কারখানা স্থাপন করেছেন। অর্থাৎ মূলধন বিনিয়োগ ও কারখানার মালিকানা ব্যক্তির হাতে রয়েছে। পণ্য বিক্রির আয় থেকে কর্মচারীদের পারিশ্রমিক দিয়ে অবশিষ্ট অর্থ তিনি নিজের নামে সঞ্চয় করেন। এতে ব্যক্তিগত উদ্যোগ, মজুরিভিত্তিক শ্রম এবং মালিকের মুনাফা ভোগের বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পায়।
এই বৈশিষ্ট্যগুলো পুঁজিবাদী অর্থনৈতিক ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে একটি ব্যক্তিমালিকানাধীন কারখানার উপস্থিতি দিয়ে কোনো দেশের পুরো অর্থনীতিকে বিচার করা যায় না; উদ্দীপকটি মূলত পুঁজিবাদের বৈশিষ্ট্যের একটি তুলনামূলক উদাহরণ।
দৃশ্যকল্প-২ সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার অর্থনৈতিক কল্যাণের ধারণার সঙ্গে এবং দৃশ্যকল্প-৩ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার অংশগ্রহণমূলক বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। নাগরিকের মতামত, অধিকার ও শাসকের জবাবদিহিতার বিচারে আমি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে উত্তম মনে করি।
দৃশ্যকল্প-২-এ রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠান জামান সাহেবের খাদ্য, বাসস্থান, চিকিৎসা ও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেয়। রাষ্ট্রের উদ্যোগে মৌলিক চাহিদা পূরণ ও অর্থনৈতিক সুরক্ষা সমাজতান্ত্রিক আদর্শের গুরুত্বপূর্ণ দিক। এটি মানুষের কল্যাণে মূল্যবান।
দৃশ্যকল্প-৩-এ মালিক কর্মচারীদের মতামত নিয়ে সিদ্ধান্ত নেন এবং তাঁরা সহজে সমস্যা তুলে ধরতে পারেন। গণতন্ত্রেও জনগণের মতামত, অংশগ্রহণ ও সমস্যা প্রকাশের সুযোগ থাকে। নির্বাচন ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে শাসকদের কাজ মূল্যায়ন এবং শান্তিপূর্ণ পরিবর্তন সম্ভব হয়। এতে মানুষের মর্যাদা ও স্বাধীনতা রক্ষার সুযোগ বাড়ে।
তবে সমাজতন্ত্র অর্থনৈতিক সংগঠনের এবং গণতন্ত্র শাসন ও অংশগ্রহণের ধারণা; দুটিকে সব ক্ষেত্রে পরস্পরবিরোধী বলা যায় না। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাও জনকল্যাণমূলক নীতির মাধ্যমে খাদ্য, শিক্ষা ও চিকিৎসার সুযোগ নিশ্চিত করতে পারে। তাই অর্থনৈতিক কল্যাণের সঙ্গে স্বাধীনতা, অংশগ্রহণ ও জবাবদিহিতা যুক্ত রয়েছে—এমন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাই আমার বিচারে অধিকতর কাম্য।
ঘটনা-২: জনাব বাদল সাহেব একটি সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক। তিনি সকল কাজ সংস্থার সদস্যদের মধ্যে ভাগ করে দেন। তিনি ইচ্ছা করলে সভাপতির অনুমতি ছাড়াই সংস্থার কোনো সদস্যকে তার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিতে পারেন।
জনাব আকাশ সাহেবের পদের সঙ্গে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির পদের মিল রয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রপ্রধান এবং রাষ্ট্রের অন্য সব ব্যক্তির ঊর্ধ্বে স্থান লাভ করেন। সংসদীয় ব্যবস্থায় তিনি সাংবিধানিক বা নামমাত্র প্রধান; অধিকাংশ কার্য প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী সম্পাদন করেন।
উদ্দীপকে আকাশ সাহেব নির্বাচিত সভাপতি, সংগঠনের সর্বোচ্চ ব্যক্তি এবং নামমাত্র প্রধান। তাঁর মেয়াদ পাঁচ বছর এবং তিনি দুই মেয়াদের বেশি পদে থাকতে পারেন না। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতিও সংসদ সদস্যদের দ্বারা নির্বাচিত হন, তাঁর মেয়াদ পাঁচ বছর এবং এক ব্যক্তি মোট দুই মেয়াদের বেশি রাষ্ট্রপতি থাকতে পারেন না।
এসব বৈশিষ্ট্যের মিলের ভিত্তিতে আকাশ সাহেবের পদকে রাষ্ট্রপতির পদের সঙ্গে তুলনা করা যায়। নামমাত্র প্রধান বলার অর্থ অবশ্য তাঁর কোনো সাংবিধানিক দায়িত্ব নেই—এমন নয়।
ঘটনা-২-এর বাদল সাহেবের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকার সাদৃশ্য রয়েছে। কাজ বণ্টন ও সদস্যদের দায়িত্বের ওপর কর্তৃত্বের ইঙ্গিত থেকে এ তুলনা করা যায়। তবে উদ্দীপকের বাইরেও প্রধানমন্ত্রীর অনেক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে।
সংবিধান অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভার প্রধান। তাঁর কর্তৃত্বে নির্বাহী ক্ষমতা কার্যকর হয় এবং তিনি মন্ত্রণালয়গুলোর কাজের সমন্বয় ও সরকারের নীতি বাস্তবায়নে নেতৃত্ব দেন। মন্ত্রিসভা গঠন ও মন্ত্রীদের দায়িত্ব নির্ধারণে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে। সংসদে সরকারের নীতি ও কর্মসূচি উপস্থাপন, সংখ্যাগরিষ্ঠের সমর্থন বজায় রাখা এবং জনকল্যাণমূলক পরিকল্পনা বাস্তবায়নও তাঁর নেতৃত্বের অংশ।
প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক নীতিসংক্রান্ত বিষয় অবহিত করেন। রাষ্ট্র পরিচালনায় মন্ত্রিসভার সঙ্গে রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক যোগাযোগ রক্ষাতেও তিনি ভূমিকা রাখেন।
তবে সংগঠনের সদস্যকে অব্যাহতি দেওয়ার ঘটনাটি বাংলাদেশের মন্ত্রী অপসারণের হুবহু পদ্ধতি নয়। সংবিধানের ৫৮(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রীকে পদত্যাগের অনুরোধ করতে পারেন; তিনি না মানলে রাষ্ট্রপতিকে তাঁর নিয়োগের অবসান ঘটানোর পরামর্শ দিতে পারেন। সুতরাং সাংবিধানিক পদ্ধতি মেনেই এ ক্ষমতা প্রয়োগ হয়। বাদল সাহেবের বর্ণিত কাজের তুলনায় প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রীয় নেতৃত্ব, সমন্বয় ও নীতি বাস্তবায়নের দায়িত্ব অনেক বিস্তৃত।
দৃশ্যকল্প-২: জনাব বাহার সাহেব 'প্রত্যাশা' নামক একটি সংস্থার প্রধান। 'আলো', 'দিপাঞ্চল' ও 'চরাঞ্চল' ইত্যাদি নামে তার সংস্থাটির অনেকগুলো শাখা রয়েছে। আইনের মাধ্যমে তার সংস্থার ক্ষমতা ভাগ করে দেওয়া আছে। তাই 'চরাঞ্চল' শাখার পরিচালক তার অঞ্চলে দশ হাজার ঝাউ গাছ লাগানোর সিদ্ধান্ত নেয়। এর জন্য নিয়মানুযায়ী নিজেরাই বাজেট অনুমোদন করে কাজটি সম্পন্ন করেন।
মজিদ সাহেবের ‘প্রতিভা’ সংস্থার কার্যক্রমের সঙ্গে একনায়কতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার সাদৃশ্য রয়েছে। এ ব্যবস্থায় ক্ষমতা একজন শাসক বা সংকীর্ণ গোষ্ঠীর হাতে কেন্দ্রীভূত থাকে এবং স্বাধীন মতপ্রকাশ ও বিরোধী রাজনৈতিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়।
উদ্দীপকে বিভিন্ন শাখার পরিচালক থাকলেও সব বিষয়ে মজিদ সাহেবের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। শিক্ষা শাখার বিদ্যালয় স্থাপনের সিদ্ধান্ত তিনি এককভাবে বাতিল করেন। ফলে অন্যদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতা কার্যত সীমিত। এর সঙ্গে দল গঠনের সুযোগ না থাকা এবং সংবাদমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের বিষয়ও যুক্ত হয়েছে।
শুধু কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব থাকা একনায়কতন্ত্রের প্রমাণ নয়। কিন্তু ব্যক্তির একচ্ছত্র কর্তৃত্ব, রাজনৈতিক সংগঠনের সুযোগের অভাব এবং সংবাদমাধ্যমের নিয়ন্ত্রণ একত্রে উদ্দীপকের ব্যবস্থাকে একনায়কতন্ত্রের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ করেছে।
দৃশ্যকল্প-২-এর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারব্যবস্থার সাদৃশ্য রয়েছে। কেন্দ্র ও আঞ্চলিক সরকারের মধ্যে সাংবিধানিকভাবে ক্ষমতা বণ্টিত থাকার কারণে এ ব্যবস্থা বৈচিত্র্যময় জনগোষ্ঠীর জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
উদ্দীপকে বাহার সাহেবের সংস্থার বিভিন্ন শাখার ক্ষমতা আইন দ্বারা ভাগ করা আছে। চরাঞ্চল শাখা নিজ এলাকার গাছ লাগানোর সিদ্ধান্ত ও বাজেট নিজেই অনুমোদন করে। এটি নির্ধারিত ক্ষেত্রে আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষের নিজস্ব সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতাকে নির্দেশ করে, যা যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার সঙ্গে মেলে।
বৃহৎ রাষ্ট্রে বিভিন্ন অঞ্চলের ভাষা, সংস্কৃতি, সমস্যা ও চাহিদা ভিন্ন হতে পারে। আঞ্চলিক সরকারকে উপযুক্ত ক্ষমতা দিলে তারা নিজ এলাকার প্রয়োজন অনুযায়ী কাজ করতে পারে। এতে জনগণের অংশগ্রহণ ও আস্থা বাড়ে এবং কেন্দ্র সব সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিচ্ছে—এমন অসন্তোষ কমতে পারে। অন্যদিকে প্রতিরক্ষা, পররাষ্ট্রনীতি ও অন্যান্য অভিন্ন বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকার সবার স্বার্থ রক্ষা করে।
তাই আঞ্চলিক স্বাতন্ত্র্য ও রাষ্ট্রীয় ঐক্যের সমন্বয়ে যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা কার্যকর হতে পারে। তবে জাতীয় ঐক্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি হয় না; ন্যায্য সম্পদ বণ্টন, ক্ষমতার সীমা মেনে চলা এবং কেন্দ্র-অঞ্চলের সহযোগিতা দরকার। এসব শর্তে উক্তিটি যথার্থ।
দৃশ্যকল্প-২: জনাব তাহসিন সাহেব দেশের সাংবিধানিক সংস্থার প্রধান। সেই দেশের প্রধান উনাকে নিয়োগ দেন এবং শপথবাক্য পাঠ করান। তার সংস্থাটি দেশের সকল স্তরের জন্য প্রতিনিধি বাছাইয়ের দায়িত্ব পালন করে।
জনাব মাহিম সাহেবের সংগঠনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলের সাদৃশ্য রয়েছে। রাজনৈতিক দল হলো নির্দিষ্ট নীতি, আদর্শ ও কর্মসূচিতে বিশ্বাসী সংগঠিত জনগোষ্ঠী, যারা জনগণের সমর্থন নিয়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অংশগ্রহণ ও দেশ পরিচালনা করতে চায়।
উদ্দীপকে মাহিম সাহেবের সংগঠনের নিজস্ব বিধিবিধান রয়েছে। তারা সভা-সমাবেশ করে তাদের নীতি ও আদর্শ জনগণের সামনে তুলে ধরে। এভাবে জনমত গঠন ও জনগণের সমর্থন অর্জনের চেষ্টা করে। তাদের প্রধান লক্ষ্য দেশ পরিচালনা করা।
সাংগঠনিক নিয়ম, অভিন্ন আদর্শ, জনসংযোগ এবং রাষ্ট্র পরিচালনার লক্ষ্য—এসবই রাজনৈতিক দলের বৈশিষ্ট্য। কেবল কোনো একটি দাবি আদায়কারী সংগঠনের মতো নয়, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা পরিচালনার উদ্দেশ্য থাকায় মাহিম সাহেবের সংগঠনকে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তুলনা করা যথার্থ।
তাহসিন সাহেবের সংস্থার সঙ্গে বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনের সাদৃশ্য রয়েছে। নির্বাচন পরিচালনাকারী সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে এটি গণতন্ত্রের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
গণতন্ত্রে জনগণের সম্মতিতে প্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়া প্রয়োজন। নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকা প্রস্তুত, নির্বাচনি এলাকার সীমানা নির্ধারণ এবং আইন অনুযায়ী নির্বাচন পরিচালনা ও তত্ত্বাবধানের মাধ্যমে এ প্রক্রিয়া কার্যকর করে। ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ, আচরণবিধি অনুসরণ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন ব্যবস্থাপনা জনগণকে স্বাধীনভাবে পছন্দ প্রকাশের সুযোগ দেয়।
সুষ্ঠু নির্বাচনের ফল গ্রহণযোগ্য হলে নির্বাচিত প্রতিনিধির বৈধতা ও জনগণের আস্থা বাড়ে। নিয়মিত নির্বাচনের মাধ্যমে অযোগ্য প্রতিনিধিকে পরিবর্তন এবং শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের সুযোগ তৈরি হয়। এভাবে জবাবদিহিতা ও গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা শক্তিশালী হয়। কমিশন নিজে প্রতিনিধি বেছে দেয় না; ভোটারদের পছন্দ প্রকাশের প্রক্রিয়া পরিচালনা করে।
উদ্দীপকের তুলনার একটি সীমাও আছে: বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ দিলেও তাঁদের শপথ পাঠ করান প্রধান বিচারপতি। এ পার্থক্য সত্ত্বেও নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বই সংস্থাটিকে শনাক্ত করে। কমিশনের স্বাধীনতা, নিরপেক্ষতা এবং রাজনৈতিক দল ও প্রশাসনের সহযোগিতা নিশ্চিত থাকলে এটি গণতন্ত্র বিকাশে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
দৃশ্যপট-২: জনাব শফিক সাহেব গ্রামভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানের নির্বাচিত প্রতিনিধি। তার প্রতিষ্ঠান কর আদায়ের মাধ্যমে গ্রামের রাস্তাঘাট সংস্কার ও খালের কচুরিপানা পরিষ্কার করে থাকে। তার প্রতিষ্ঠানটি পারিবারিক ঝগড়া-বিবাদও মীমাংসা করে।
জনাব রফিক সাহেবের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বাংলাদেশের সিটি করপোরেশনের সাদৃশ্য রয়েছে। বড় শহরের নাগরিক সেবা ও স্থানীয় উন্নয়ন পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে সিটি করপোরেশন কাজ করে।
উদ্দীপকে প্রতিষ্ঠানটি শহরের ময়লা পরিষ্কার ও মশা নিধন করে। এসব কাজ জনস্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা রক্ষার সঙ্গে সম্পর্কিত। নৈশ বিদ্যালয়, মাতৃসদন ও শিশুসদন স্থাপনের উল্লেখ শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমকে নির্দেশ করে। আইন অনুযায়ী অবৈধ স্থাপনা অপসারণও নগর ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত।
প্রতিষ্ঠানটির বড় শহরভিত্তিক অবস্থান এবং এসব নাগরিক সেবার সমন্বয় সিটি করপোরেশনের বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে মিলে যায়। তাই উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানকে সিটি করপোরেশন হিসেবে শনাক্ত করা যথার্থ। এখানে শহরের সংখ্যাটি উদ্দীপকের তথ্য; প্রতিষ্ঠান শনাক্ত করার প্রধান ভিত্তি তার কাজ ও নগরভিত্তিক পরিসর।
শফিক সাহেবের প্রতিষ্ঠানটি ইউনিয়ন পরিষদের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। আদর্শ গ্রাম গঠনে উদ্দীপকে উল্লিখিত কাজগুলো গুরুত্বপূর্ণ হলেও কেবল এগুলো যথেষ্ট নয়। গ্রামের মানুষের সামগ্রিক জীবনমান উন্নয়নের জন্য আরও কাজ প্রয়োজন।
কর আদায় স্থানীয় উন্নয়নের অর্থ জোগায়। রাস্তাঘাট সংস্কার মানুষের যাতায়াত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়া ও পণ্য পরিবহন সহজ করে। খালের কচুরিপানা পরিষ্কার পানি চলাচল ও পরিবেশের উন্নতিতে সহায়তা করতে পারে। আইনসম্মত প্রক্রিয়ায় বিরোধ মীমাংসা গ্রামের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানেও ভূমিকা রাখে।
কিন্তু আদর্শ গ্রামে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন ও জীবিকার সুযোগও থাকতে হবে। ইউনিয়ন পরিষদকে সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠান ও জনগণের সহযোগিতায় এসব ক্ষেত্রে উদ্যোগ নিতে হবে। কৃষি ও ক্ষুদ্র উদ্যোগে সহায়তা, বৃক্ষরোপণ, দুর্যোগ প্রস্তুতি, দরিদ্র মানুষের সামাজিক সুরক্ষা এবং নারী ও শিশুর কল্যাণও জরুরি।
পাশাপাশি কর ও উন্নয়ন ব্যয়ের স্বচ্ছতা, জনগণের মতামত এবং সব শ্রেণির মানুষের সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। বিরোধ মীমাংসার নামে কাউকে জোর করে অধিকার থেকে বঞ্চিত করা চলবে না। সুতরাং উদ্দীপকের কাজগুলো আদর্শ গ্রামের ভিত্তি গড়ে, কিন্তু শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জীবিকা ও সুশাসনসহ সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া পূর্ণাঙ্গ আদর্শ গ্রাম গঠন সম্ভব নয়।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।