অন্যদিকে, 'খ' রাষ্ট্র তার ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে তার পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রে হামলা করে এবং নিজেদের ভূখণ্ডে পরিণত করে।
‘ক’ রাষ্ট্রের বর্ণনা সামাজিক চুক্তি মতবাদের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
সামাজিক চুক্তি মতবাদ অনুযায়ী মানুষ নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার প্রয়োজনে পারস্পরিক চুক্তির মাধ্যমে রাজনৈতিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে। প্রাক্রাষ্ট্রীয় অবস্থার সমস্যা কাটিয়ে সংগঠিত শাসন গড়ে তোলার সম্মতিকেই এ মতবাদ গুরুত্ব দেয়।
উদ্দীপকে প্রথমে সবলের অত্যাচারে দুর্বলরা নিরাপত্তাহীন ছিল। পরে জনগণ নিজেদের মধ্যে বিধিবিধান তৈরি করে একজন শাসকের হাতে ক্ষমতা দিয়েছে। অর্থাৎ শুধু অত্যাচারের ঘটনা নয়, নিরাপত্তার জন্য জনগণের সম্মতিতে কর্তৃত্ব সৃষ্টি হওয়াই এখানে রাষ্ট্রগঠনের প্রধান ধাপ। তাই এটি বলপ্রয়োগের পরিবর্তে সামাজিক চুক্তি মতবাদের উদাহরণ।
‘ক’-এর সামাজিক চুক্তি ও ‘খ’-এর বলপ্রয়োগ মতবাদের মধ্যে জনসম্মতি ও রাজনৈতিক কর্তৃত্বের ভিত্তি ব্যাখ্যায় সামাজিক চুক্তি মতবাদকে অধিক গ্রহণযোগ্য মনে করি। তবে রাষ্ট্রের প্রকৃত ঐতিহাসিক উৎপত্তির পূর্ণ ব্যাখ্যা হিসেবে উভয়ের সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
‘ক’-এ জনগণ নিরাপত্তার জন্য নিজেদের সম্মতিতে শাসকের হাতে ক্ষমতা দিয়েছে। এতে শাসনের লক্ষ্য হিসেবে মানুষের কল্যাণ এবং ক্ষমতার ভিত্তি হিসেবে সম্মতির গুরুত্ব বোঝা যায়। এই ধারণা গণতান্ত্রিক অধিকার ও দায়িত্বশীল শাসনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
‘খ’-এ শক্তিশালী রাষ্ট্র প্রতিবেশীকে আক্রমণ করে নিজের ভূখণ্ডে যুক্ত করেছে। এটি বলপ্রয়োগ মতবাদের সঙ্গে মেলে, কিন্তু মূলত দখল ও সম্প্রসারণের দৃষ্টান্ত। সব রাষ্ট্র কেবল যুদ্ধের মাধ্যমে সৃষ্টি হয়েছে—এ দাবি এতে প্রমাণিত হয় না।
আবার ইতিহাসে সব মানুষ একবার চুক্তি করে রাষ্ট্র তৈরি করেছে—এমন সাধারণ প্রমাণও নেই। রাষ্ট্রের উৎপত্তিতে সামাজিক সম্পর্ক, অর্থনীতি, সংস্কৃতি, সংঘাত ও রাজনৈতিক চেতনার দীর্ঘ বিকাশ কাজ করেছে। এ জন্য পাঠ্যবইয়ে ঐতিহাসিক বা বিবর্তনমূলক মতবাদকে সামগ্রিকভাবে অধিক গ্রহণযোগ্য বলা হয়েছে।
সুতরাং আলোচ্য দুটির মধ্যে সম্মতিভিত্তিক ‘ক’ অধিক যুক্তিসংগত, আর পূর্ণ ঐতিহাসিক ব্যাখ্যায় বহুকারণভিত্তিক বিবর্তনমূলক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োজন।
আবার জনাব মাফি একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। তার প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত করা।
রাব্বানীর দল বিরোধী রাজনৈতিক দলের ভূমিকা পালন করে গণতন্ত্রের বিকাশে সহায়তা করছে।
বিরোধী দল সরকারের ভুলত্রুটি চিহ্নিত করে এবং গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে সংশোধনের দাবি জানায়। এতে সরকারি কাজ সম্পর্কে জনগণ জানতে পারে এবং ক্ষমতাসীন দলের জবাবদিহির ওপর চাপ সৃষ্টি হয়। উদ্দীপকে রাব্বানীর দল ঠিক এই কাজ করছে।
দলটি বিকল্প রাজনৈতিক কর্মসূচিও ঘোষণা করছে। ফলে ভোটাররা সরকারের নীতির সঙ্গে অন্য প্রস্তাবের তুলনা করে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। পরবর্তী নির্বাচনে জনসমর্থন নিয়ে সরকার গঠনের চেষ্টা শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা পরিবর্তনের পথকে সক্রিয় রাখে।
অতএব দলটি সমালোচনা, জনমত গঠন, বিকল্প কর্মসূচি ও নির্বাচনি প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বহুমত ও গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণকে শক্তিশালী করছে।
মাফির প্রতিষ্ঠানটি নির্বাচন কমিশন। এর স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা গণতন্ত্রের জন্য অত্যাবশ্যক—উক্তিটি যথার্থ।
জনগণ নির্বাচনের মাধ্যমে প্রতিনিধি বেছে নেয়। নির্বাচন পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান যদি কোনো দল বা প্রার্থীর প্রভাবে কাজ করে, তবে ভোটারদের প্রকৃত পছন্দ ফলাফলে প্রতিফলিত নাও হতে পারে। এতে সরকারের গণতান্ত্রিক বৈধতা ও জনগণের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
স্বাধীন নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকা, নির্বাচনি ব্যবস্থাপনা ও আচরণবিধি তদারকিতে চাপমুক্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারে। নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করে সব প্রার্থীর প্রতি সমান আচরণ এবং ভোটারদের অবাধ অংশগ্রহণের পরিবেশ।
কমিশনের জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদ, দক্ষ কর্মী ও প্রশাসনিক সহযোগিতাও দরকার। পাশাপাশি কমিশনের সিদ্ধান্ত স্বচ্ছ ও আইনসম্মত হতে হবে; স্বাধীনতা জবাবদিহির বিকল্প নয়। রাজনৈতিক দল ও নাগরিকদেরও নির্বাচনি নিয়ম মানতে হবে।
সুতরাং উদ্দীপকের সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্য পূরণে কমিশনের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ ভূমিকা মৌলিক শর্ত। এটি শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা পরিবর্তন ও জনগণের প্রতিনিধিত্বকে বিশ্বাসযোগ্য করে।
অপরদিকে, বাংলাদেশের মতো সরকারব্যবস্থায় জনাব 'খ' প্রকৃত শাসন ক্ষমতার অধিকারী। তিনি দেশের সকল স্বার্থ রক্ষা করেন এবং বিদেশে কোনো আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানে তাঁর দেশের প্রতিনিধিত্ব করেন।
উদ্দীপকের ‘ক’ রাষ্ট্রপতিকে নির্দেশ করে।
বাংলাদেশের সংসদীয় কাঠামোতে রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের সাংবিধানিক প্রধান ও সর্বোচ্চ মর্যাদার ব্যক্তি। তিনি সংসদ সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হন। তাঁর অবস্থান রাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক প্রতিনিধিত্ব ও সাংবিধানিক দায়িত্বের সঙ্গে যুক্ত।
উদ্দীপকে ‘ক’-কে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ব্যক্তি বলা হয়েছে এবং আইনসভার সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হওয়ার কথা আছে। এই বৈশিষ্ট্য বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে মেলে। তবে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ মর্যাদার ব্যক্তি হওয়া মানে সব নির্বাহী সিদ্ধান্ত ব্যক্তিগতভাবে নেওয়া নয়; সংসদীয় ব্যবস্থায় প্রকৃত নির্বাহী নেতৃত্ব প্রধানমন্ত্রীর হাতে থাকে।
বাংলাদেশের মতো সংসদীয় ব্যবস্থায় ‘খ’ অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রীকে সরকারের স্তম্ভ বলা যায়। কারণ তিনি প্রকৃত নির্বাহী নেতৃত্ব ও মন্ত্রিসভার কেন্দ্রীয় ব্যক্তিত্ব।
প্রধানমন্ত্রী সরকারের নীতি নির্ধারণ, মন্ত্রীদের দায়িত্ব বণ্টন ও কাজের সমন্বয়ে নেতৃত্ব দেন। রাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষায় দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। উদ্দীপকে ‘খ’-এর প্রকৃত শাসনক্ষমতা এবং আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানে প্রতিনিধিত্ব এই অবস্থানের সঙ্গে মেলে।
অন্যদিকে ‘ক’ অর্থাৎ রাষ্ট্রপতি সাংবিধানিক রাষ্ট্রপ্রধান। রাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক প্রতিনিধিত্ব ও নির্দিষ্ট সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকলেও সংসদীয় সরকারের দৈনন্দিন নির্বাহী নেতৃত্ব প্রধানমন্ত্রীর।
প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্ব মন্ত্রিসভার কার্যকারিতা ও রাজনৈতিক ঐক্যকে প্রভাবিত করে। তবে তিনি সীমাহীন ক্ষমতার অধিকারী নন; সংবিধান ও সংসদীয় জবাবদিহির অধীনে কাজ করেন।
সুতরাং উদ্দীপকের দুজনের মধ্যে সরকারের নীতি, সমন্বয় ও বাস্তবায়নের প্রধান চালক হিসেবে ‘খ’-কেই সরকারের স্তম্ভ বলা যুক্তিসংগত।
দৃশ্যকল্প-২: অর্চিতা তার স্বামী, কন্যা ও ছেলে নিয়ে পাহাড়ি এলাকায় বসবাস করেন। ছেলে, মেয়ে সকল ক্ষেত্রে অর্চিতার পরিচয়কে প্রাধান্য দিয়ে থাকে। অর্চিতাই তার পরিবারের নেতৃত্ব দেন।
গণি সাহেবের পরিবারটি কাঠামোর ভিত্তিতে যৌথ পরিবার।
যৌথ পরিবারে একাধিক প্রজন্ম ও দাম্পত্য সম্পর্কের সদস্যরা একই পারিবারিক পরিসরে বাস করেন। মা-বাবা ও সন্তানের পাশাপাশি প্রবীণ সদস্য, বিবাহিত সন্তান ও তাঁদের জীবনসঙ্গী এতে অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারেন।
গণি সাহেব স্ত্রী, কন্যা, পুত্র, পুত্রবধূ ও বৃদ্ধা মাকে নিয়ে বাস করেন। তাঁর নিজের দাম্পত্য পরিবারের সঙ্গে পুত্র-পুত্রবধূ এবং পূর্ববর্তী প্রজন্মের সদস্যও একই সংসারে রয়েছেন। তাই এটি কেবল মা-বাবা ও অবিবাহিত সন্তান নিয়ে ছোট পরিবার নয়; বিস্তৃত যৌথ পরিবারের বৈশিষ্ট্য বহন করে। গ্রামের বাসস্থান নয়, সদস্যগঠনের এই বৈশিষ্ট্যই শ্রেণি নির্ধারণের ভিত্তি।
বংশপরিচয় ও নেতৃত্বের ভিত্তিতে অর্চিতার পরিবারের সঙ্গে পাঠ্যবইয়ের মাতৃতান্ত্রিক পরিবারের সাদৃশ্য রয়েছে।
পাঠ্যবইয়ের শ্রেণিবিভাগে মাতৃতান্ত্রিক পরিবারে মায়ের পরিচয়ে সন্তানদের বংশপরিচয় নির্ধারিত হয় এবং মা নেতৃত্ব দেন। উদ্দীপকে ছেলে-মেয়ে অর্চিতার পরিচয়কে প্রাধান্য দেয় এবং তিনিই পরিবারের নেতৃত্বে আছেন। এই দুটি তথ্য সরাসরি উক্ত বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে মেলে।
শুধু পাহাড়ি এলাকায় বাস করা বা পরিবারের উপার্জনকারী নারী হওয়া থেকে মাতৃতান্ত্রিক পরিবার নির্ধারণ করা যায় না। এখানে মাতৃপরিচয় ও নেতৃত্ব দুটিই স্পষ্ট বলে সিদ্ধান্তটি গ্রহণযোগ্য।
আবার সদস্যগঠনের বিচারে অর্চিতা, তাঁর স্বামী ও সন্তানদের পরিবারটি একক পরিবারও হতে পারে। এতে বিরোধ নেই, কারণ একক-যৌথ বিভাজন সদস্যকাঠামোর ভিত্তিতে, আর পিতৃতান্ত্রিক-মাতৃতান্ত্রিক বিভাজন পরিচয় ও নেতৃত্বের ভিত্তিতে করা হয়।
অতএব প্রশ্নে বিশেষভাবে উল্লেখিত মাতৃপরিচয় ও অর্চিতার নেতৃত্বের কারণে মাতৃতান্ত্রিক পরিবারের সাদৃশ্যই প্রধান।
ঘটনা-২: জনাব করিম একজন বড়ো ব্যবসায়ী। তিনি তার কারখানাতে নিয়োজিত নারী ও পুরুষ কর্মীদের কম বেশি করে মজুরি দেন। এতে জামিলা নামের একজন নারী প্রতিবাদ করলে পরবর্তীতে তাকে কাজে আসতে নিষেধ করা হয়।
জনাব রহিমের কর্মকাণ্ড পাঠ্যবইয়ের সাম্য, বিশেষভাবে সামাজিক সাম্যের ধারণাকে ইঙ্গিত করে।
সাম্য বলতে বৈষম্য দূর করে প্রত্যেকের ব্যক্তিত্ব বিকাশের উপযোগী সুযোগ নিশ্চিত করাকে বোঝায়। জাতি, ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ ও পেশা নির্বিশেষে সমাজের সব সদস্যের সমানভাবে সামাজিক সুযোগ-সুবিধা ভোগ করা সামাজিক সাম্য। এতে কোনো ব্যক্তি বা শ্রেণি অন্যায্য বিশেষ সুবিধা পায় না।
উদ্দীপকে রহিম সামাজিক সমস্যা সমাধানে কারও সঙ্গে বৈষম্য করেন না। তিনি সবাইকে সমান মনে করে সুবিচার নিশ্চিত করেন। অর্থাৎ ব্যক্তিগত পরিচয় বা সামাজিক অবস্থানের কারণে কাউকে প্রাধান্য বা অবহেলা করেন না। তাঁর এ নিরপেক্ষ আচরণ মানুষের সমমর্যাদা ও ন্যায্য সুযোগ প্রতিষ্ঠা করে। তাই তাঁর কর্মকাণ্ডে সামাজিক সাম্যের প্রতিফলন ঘটেছে।
উদ্দীপকে জামিলা প্রধানত অর্থনৈতিক স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
যোগ্যতা অনুযায়ী পেশা গ্রহণ ও উপযুক্ত পারিশ্রমিক লাভের সুযোগকে অর্থনৈতিক স্বাধীনতা বলে। এর মাধ্যমে মানুষ জীবিকা নির্বাহ করে এবং অন্যের অর্থনৈতিক শোষণ থেকে মুক্ত থাকার সুযোগ পায়। এ স্বাধীনতার জন্য কর্মক্ষেত্রে ন্যায্য আচরণ ও কাজের উপযুক্ত মজুরি অপরিহার্য।
উদ্দীপকে করিম নারী ও পুরুষ কর্মীদের মধ্যে মজুরির বৈষম্য করেন। নারী কর্মী জামিলা প্রতিবাদ করলে তাকে কাজে আসতে নিষেধ করা হয়। এখানে মজুরির পার্থক্যের ভিত্তি হিসেবে দক্ষতা বা কাজের পরিমাণের কথা বলা হয়নি; নারী-পুরুষভেদে বৈষম্যের কথাই উঠে এসেছে। ফলে জামিলার ন্যায্য পারিশ্রমিক পাওয়ার সুযোগ ক্ষুণ্ণ হয়েছে। প্রতিবাদের কারণে কাজ থেকে বাদ দেওয়ায় তার জীবিকা অর্জনের সুযোগও বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ব্যাহত হলে একজন শ্রমিক নির্ভরশীল ও অনিরাপদ হয়ে পড়ে এবং অন্য অধিকার কার্যকরভাবে ভোগ করাও কঠিন হয়। জামিলার ক্ষেত্রে মজুরিতে বৈষম্য ও কর্মচ্যুতি—উভয় ঘটনাই এ স্বাধীনতার পরিপন্থী। তাই কাজ ও যোগ্যতার ভিত্তিতে ন্যায্য পারিশ্রমিক, বৈষম্যহীন কর্মপরিবেশ এবং অন্যায়ের প্রতিকার নিশ্চিত করার মাধ্যমেই তার অর্থনৈতিক স্বাধীনতা রক্ষা করা সম্ভব।
উদ্দীপকের ‘A’ প্রতিষ্ঠানটি পৌরসভা। প্রদত্ত সংখ্যা ও শিক্ষা, পানি সরবরাহ, জনস্বাস্থ্য এবং বাড়িঘর নির্মাণের অনুমতিসংক্রান্ত কাজ থেকে এটি শনাক্ত করা যায়।
পৌরসভা স্থানীয় আর্থসামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তৈরি ও অনুদান প্রদানের মাধ্যমে শিক্ষার সুযোগ বাড়িয়ে দক্ষ জনশক্তি গঠনে সহায়তা করে। নিরাপদ পানির ব্যবস্থা ও জনস্বাস্থ্য রক্ষার উদ্যোগ রোগব্যাধি কমিয়ে কর্মক্ষমতা বাড়ায়। বাড়িঘর নির্মাণের অনুমতি ও তদারকির মাধ্যমে পরিকল্পিত বসতি গড়তে সাহায্য করে।
এ ছাড়া রাস্তাঘাট, নর্দমা, বর্জ্য অপসারণ ও আলোর ব্যবস্থা মানুষের জীবনযাত্রা সহজ করে। বাজার ও যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতি ব্যবসা-বাণিজ্যের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করে। এভাবে পৌরসভা নাগরিক সুবিধা বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও সামাজিক উন্নয়নে সহায়তা করে।
উদ্দীপকে ‘B’ দ্বারা সিটি কর্পোরেশন বোঝানো হয়েছে। এর নাগরিক সেবা, নারীর ক্ষমতায়ন এবং গণতান্ত্রিক মনোভাব ও নেতৃত্ব বিকাশের কার্যক্রম নাগরিকতা বিকাশে স্থানীয় সরকারের গুরুত্ব প্রকাশ করে।
স্থানীয় সরকার নাগরিকদের কাছাকাছি থেকে জন্মনিবন্ধনসহ বিভিন্ন সেবা দেয়। এতে মানুষ সেবাপ্রাপ্তির অধিকার সম্পর্কে সচেতন হয় এবং প্রতিষ্ঠানের কাছে জবাবদিহি দাবি করতে শেখে। স্থানীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ নাগরিকের দায়িত্ববোধ বাড়ায়।
নারীরা প্রতিনিধি নির্বাচন ও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশ নিতে পারেন। এতে তাঁদের মতামতের গুরুত্ব ও নেতৃত্বের সুযোগ বাড়ে। স্থানীয় নির্বাচনে ভোটদান, মতবিনিময় এবং জনপ্রতিনিধির কাজ মূল্যায়নের মধ্য দিয়ে সহনশীলতা ও গণতান্ত্রিক মনোভাব গড়ে ওঠে। এখান থেকে জাতীয় পর্যায়ের নেতৃত্বও বিকশিত হতে পারে।
উদ্দীপকে বিবাদ নিষ্পত্তির কথাও আছে। স্থানীয় সরকার আইননির্ধারিত এখতিয়ারে বিরোধ সমাধানে সহায়তা করে সামাজিক সম্প্রীতি বাড়ায়। তবে সব প্রতিষ্ঠানের বিচারিক ক্ষমতা এক নয়; ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতের ক্ষমতাকে সিটি কর্পোরেশনের ক্ষমতা হিসেবে ধরা যায় না। সুতরাং নিজ নিজ আইনগত ক্ষমতার মধ্যে সেবা, অংশগ্রহণ, সমতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার মাধ্যমে স্থানীয় সরকার সচেতন ও দায়িত্বশীল নাগরিক গড়ে তোলে।
অপরদিকে, জনাব কালাম 'সোনার তরী' সংগঠনের প্রধান। তিনি । সংগঠন পরিচালনার জন্য তার অধীনস্থ কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মতামতের উপর প্রাধান্য দেন না। তিনি বলেন, “সংগঠনের জন্যই কর্মচারী, কর্মচারীর জন্য সংগঠন নয়"।
জনাব সালামের ‘সোনার বাংলা’ সংগঠন পরিচালনার পদ্ধতির সঙ্গে গণতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থার সাদৃশ্য রয়েছে।
গণতান্ত্রিক সরকার জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দেয়। জনগণ সরাসরি অথবা নির্বাচিত প্রতিনিধির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশ নেয়। আলোচনা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও জবাবদিহি এ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য।
উদ্দীপকে সালাম তাঁর অধীনস্থ কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মতামতের ভিত্তিতে সংগঠন পরিচালনা করেন। ফলে সিদ্ধান্ত গ্রহণে শুধু প্রধানের একক ইচ্ছা কার্যকর হয় না; সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভিমতও বিবেচিত হয়। এই অংশগ্রহণমূলক পদ্ধতি গণতান্ত্রিক সরকারের জনমতকে গুরুত্ব দেওয়ার নীতির সঙ্গে মিলে যায়। সংগঠনটি নিজে রাষ্ট্রের সরকার না হলেও এর পরিচালনায় গণতান্ত্রিক মনোভাব প্রতিফলিত হয়েছে। তাই সালামের সংগঠন পরিচালনার সঙ্গে গণতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থার সাদৃশ্য নির্ণয় করা যায়।
উদ্দীপকে ‘সোনার বাংলা’ গণতন্ত্র এবং ‘সোনার তরী’ একনায়কতন্ত্রের বৈশিষ্ট্য নির্দেশ করে। এ দুই ব্যবস্থার মধ্যে আমি গণতন্ত্রকে উত্তম মনে করি।
সালাম কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মতামত নিয়ে সংগঠন পরিচালনা করেন। এটি গণতন্ত্রের অংশগ্রহণ ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধার পরিচায়ক। অন্যদিকে কালাম তাঁদের মতামতকে গুরুত্ব দেন না এবং সংগঠনের জন্যই কর্মচারী—এ ধারণা পোষণ করেন। ব্যক্তিকে শাসকের উদ্দেশ্যের অধীন করে দেখার এই মনোভাব একনায়কতন্ত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
গণতন্ত্রে মানুষ মতামত প্রকাশ, প্রতিনিধি নির্বাচন এবং সরকারের কাজের সমালোচনা করতে পারে। এতে জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার সুযোগ থাকে ও ভুল সিদ্ধান্ত সংশোধন করা সহজ হয়। নাগরিকের অধিকার, মর্যাদা এবং জনকল্যাণকে গুরুত্ব দেওয়ায় মানুষ রাষ্ট্র পরিচালনায় দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে উৎসাহিত হয়।
বিপরীতে একনায়কতন্ত্রে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত থাকে এবং বিরুদ্ধ মত দমিত হতে পারে। দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হলেও জনগণের অংশগ্রহণ ও কার্যকর জবাবদিহির অভাব স্বেচ্ছাচারিতার ঝুঁকি বাড়ায়। গণতন্ত্রে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে সময় লাগতে পারে, কিন্তু অধিকার, আইনের শাসন ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে এর সীমাবদ্ধতা সংশোধনের সুযোগ রয়েছে। এসব কারণে জনগণের মর্যাদা ও কল্যাণ রক্ষায় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাই অধিক গ্রহণযোগ্য।
উদ্দীপকের ‘গ’ দ্বারা সরকারের বিচার বিভাগকে নির্দেশ করা হয়েছে। কারণ এ বিভাগের কাজ হিসেবে বিধিবিধান রক্ষা ও ব্যাখ্যা প্রদানের কথা বলা হয়েছে।
বিচার বিভাগ প্রচলিত আইনের ব্যাখ্যা করে এবং সেই আইন অনুযায়ী বিরোধ নিষ্পত্তি ও বিচারকাজ পরিচালনা করে। অপরাধ প্রমাণিত হলে অপরাধীকে শাস্তি দেয় এবং নিরপরাধ ব্যক্তির অধিকার রক্ষা করে। এর মাধ্যমে সমাজে ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
এ ছাড়া বিচার বিভাগ সংবিধান ও নাগরিকের মৌলিক অধিকার রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কোনো কাজ বা সিদ্ধান্ত আইনসংগত কি না, তা বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারণ করে। উদ্দীপকের ‘গ’-এর বিধিবিধান রক্ষা ও ব্যাখ্যার কাজ এসব কার্যাবলির সঙ্গে মিলে যায়। তাই ‘গ’ বিচার বিভাগকেই বোঝায়।
উদ্দীপকের ‘ক’ আইন বিভাগ এবং ‘খ’ শাসন বিভাগ। ‘ক’ বিধি প্রণয়ন করে, আর ‘খ’ তা বাস্তবায়ন করে। সংসদীয় সরকারব্যবস্থায় আইন বিভাগ শাসন বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ করে—এ অর্থে উক্তিটি যথার্থ।
আইন বিভাগ রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য আইন প্রণয়ন করে। শাসন বিভাগকে সেই আইনের সীমার মধ্যে কাজ করতে হয়। সংসদীয় ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদ সংসদের কাছে দায়ী থাকেন। সংসদ সদস্যরা প্রশ্ন, আলোচনা ও সংসদীয় কমিটির মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ের কাজ সম্পর্কে তথ্য চান এবং ত্রুটি তুলে ধরেন। এতে প্রশাসনিক জবাবদিহি প্রতিষ্ঠিত হয়।
আর্থিক ক্ষেত্রেও সংসদের নিয়ন্ত্রণ গুরুত্বপূর্ণ। বাজেট ও সরকারি ব্যয়ের অনুমোদনের মাধ্যমে সংসদ শাসন বিভাগের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে। সরকার সংসদের আস্থা হারালে সংসদীয় পদ্ধতি অনুযায়ী তার ক্ষমতায় থাকা প্রশ্নের মুখে পড়ে।
তবে এ নিয়ন্ত্রণের ধরন সব সরকারব্যবস্থায় এক নয়। রাষ্ট্রপতিশাসিত ব্যবস্থায় শাসন বিভাগ সংসদীয় মন্ত্রিসভার মতো আইনসভার আস্থার ওপর নির্ভরশীল নয়; সেখানে ক্ষমতার পৃথকীকরণ ও পারস্পরিক নিয়ন্ত্রণ কার্যকর থাকে। সুতরাং উদ্দীপকের উক্তিটি বিশেষত সংসদীয় ব্যবস্থায় সরাসরি প্রযোজ্য, যেখানে আইন বিভাগ আইন, অর্থ ও জবাবদিহির মাধ্যমে শাসন বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ করে।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।