যশোর বোর্ড ২০২৬
১. দৃশ্যপট-১: জনাব ফজলু মিয়া যুব উন্নয়ন কেন্দ্র থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে হাঁস-মুরগির খামার শুরু করেন। এর আয় দিয়ে তার সংসার চলে। তিনি তার পিতা-মাতা এবং ছেলেমেয়েকে নিয়ে সুখে-শান্তিতে বসবাস করছেন।
দৃশ্যপট-২: ফজলু মিয়ার বন্ধু বিয়ের পর শ্বশুর বাড়িতে চলে যান। সেখানে তার এক মেয়ে এবং এক ছেলে জন্মগ্রহণ করে। সন্তানরা তাদের মায়ের বংশ পরিচয়ে পরিচিতি লাভ করে।
উত্তর রাষ্ট্রের অধিকারভুক্ত নির্দিষ্ট স্থলভাগ, জলভাগ ও উপরিস্থ আকাশসীমাকে ভূখণ্ড বলে।
উত্তর সার্বভৌমত্ব রাষ্ট্রের চরম ও সর্বোচ্চ ক্ষমতা। এর মাধ্যমে রাষ্ট্র অভ্যন্তরে আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগ করে এবং বাইরে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। অন্য কোনো কর্তৃপক্ষের অধীন থাকলে একটি জনগোষ্ঠীর নিজস্ব সরকার ও ভূখণ্ড থাকলেও স্বাধীন রাষ্ট্রের পূর্ণ মর্যাদা থাকে না। তাই রাষ্ট্রের স্বাধীন অস্তিত্ব ও কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠায় সার্বভৌমত্ব অপরিহার্য।
উত্তর

ফজলু মিয়ার পরিবারের সঙ্গে যৌথ বা বর্ধিত পারিবারিক কাঠামোর মিল রয়েছে। কারণ তিনি নিজের সন্তানদের পাশাপাশি পিতা-মাতাকে নিয়ে একই সংসারে বসবাস করছেন।

যৌথ বা বর্ধিত পরিবারে শুধু বাবা-মা ও অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তান নয়, অন্য প্রজন্মের নিকটাত্মীয়ও একসঙ্গে থাকে। এ ধরনের পরিবারে একাধিক প্রজন্মের মধ্যে সহায়তা, অভিজ্ঞতার বিনিময় এবং দায়িত্ব ভাগ করার সুযোগ সৃষ্টি হয়।

উদ্দীপকে ফজলুর খামারের আয়ে সংসার চলে এবং সেখানে তাঁর পিতা-মাতা ও ছেলে-মেয়েরা একত্রে থাকে। তিন প্রজন্মের উপস্থিতি এই পরিবারের বিস্তৃত কাঠামোকে নির্দেশ করে। তাই সদস্যসংখ্যা বেশি বলেই নয়, প্রজন্ম ও আত্মীয়তার গঠনের ভিত্তিতে তাঁর পরিবারকে যৌথ বা বর্ধিত পরিবারের সঙ্গে তুলনা করা যায়।

উত্তর

দুই পরিবারের মধ্যে বর্ণিত বৈশিষ্ট্যে ভিন্নতা আছে, তবে তাদের একটিকে যৌথ ও অন্যটিকে মাতৃতান্ত্রিক বললে শ্রেণিবিভাগের ভিত্তির পার্থক্য মনে রাখতে হবে। যৌথ পরিবার সদস্য ও প্রজন্মের গঠনভিত্তিক, আর মাতৃতান্ত্রিক পরিবার কর্তৃত্ব ও বংশপরিচয়ভিত্তিক ধারণা।

ফজলু মিয়া পিতা-মাতা ও সন্তানদের সঙ্গে একই সংসারে বসবাস করছেন। এতে একাধিক প্রজন্মের সমন্বয়ে যৌথ বা বর্ধিত কাঠামো প্রকাশ পায়। তাঁর আয়ে সংসার চলে বলা হলেও পরিবারে সব সিদ্ধান্ত তাঁরই একক কর্তৃত্বে হয়—এ তথ্য দেওয়া নেই।

বন্ধু বিয়ের পর শ্বশুরবাড়িতে গেছেন এবং সন্তানরা মায়ের বংশপরিচয় গ্রহণ করেছে। এতে মাতৃস্থানীয় বাসস্থান ও মাতৃসূত্রীয় বংশপরিচয় স্পষ্ট। পাঠ্যপুস্তকের মাতৃতান্ত্রিক পরিবারের ধারণার সঙ্গে এর মিল আছে, তবে নারীর নেতৃত্ব বা চূড়ান্ত কর্তৃত্বের বিষয়টি উদ্দীপকে আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয়নি।

তাই প্রথম পরিবারে প্রজন্মভিত্তিক গঠন এবং দ্বিতীয়টিতে বাসস্থান ও বংশপরিচয়ের বৈশিষ্ট্য আলাদা করে বোঝা যায়। কিন্তু যৌথ ও মাতৃসূত্রীয় বৈশিষ্ট্য পরস্পরবিরোধী নয়; একই পরিবারে দুটিই থাকতে পারে। সুতরাং ভিন্নতা স্বীকার করলেও দ্বিতীয় পরিবারের সদস্যবিন্যাস না জেনে তাকে অবশ্যই একক পরিবার বলা যাবে না।

২. জনাব রাসেল এলাকার একজন দরিদ্র কৃষক। কৃষিকাজ করে তার সংসার চলে। একদিন এলাকার এক প্রভাবশালী ব্যক্তি তার দলবল নিয়ে জোরপূর্বক রাসেলের জমির ফসল তুলে নেয়। রাসেল স্থানীয় প্রশাসনের নিকট এর প্রতিকার চেয়ে কোনো সুফল পায়নি বরং তাকে জেল-জুলুমের শিকার হতে হয়েছে।
উত্তর রাষ্ট্রসমূহের পারস্পরিক সম্পর্ক ও আচরণ নিয়ন্ত্রণকারী স্বীকৃত নিয়মসমষ্টিকে আন্তর্জাতিক আইন বলে।
উত্তর আইনের শাসন জনগণকে ক্ষমতাবান ব্যক্তির স্বেচ্ছাচারিতা ও অন্যায় আচরণ থেকে রক্ষা করে। এতে শাসক ও সাধারণ নাগরিক উভয়েই আইনের অধীন থাকেন এবং অধিকার ক্ষুণ্ণ হলে আইনানুগ প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ থাকে। ন্যায্য বিচার ও সমান আইনি সুরক্ষা মানুষের জীবন, সম্পদ ও স্বাধীনতা নিরাপদ করে। তাই জনগণের মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনে আইনের শাসন গুরুত্বপূর্ণ।
উত্তর

রাসেল প্রধানত সামাজিক স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত। তার সম্পদের নিরাপত্তা ও আইনগত প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ ক্ষুণ্ণ হয়েছে; বিনা ন্যায্য কারণে জেল-জুলুমের শিকার হওয়ায় ব্যক্তিস্বাধীনতাও আক্রান্ত হয়েছে।

সামাজিক স্বাধীনতা নাগরিককে সমাজে নিরাপদে জীবনযাপন, সম্পদ ভোগ এবং বৈধ পেশা পরিচালনার সুযোগ দেয়। এই স্বাধীনতা কার্যকর হলে অন্য কেউ জোর করে ব্যক্তির সম্পদ কেড়ে নিতে পারে না এবং অন্যায় হলে প্রতিকার পাওয়ার ব্যবস্থা থাকে।

উদ্দীপকে প্রভাবশালী ব্যক্তি রাসেলের জমির ফসল জোর করে নিয়ে গেছে। প্রশাসনের কাছে গিয়েও সে সুরক্ষা পায়নি; বরং নির্যাতিত হয়েছে। এতে তার সম্পত্তি ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তার অভাব স্পষ্ট। কৃষকের জীবিকাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তবে ঘটনাটির কেন্দ্রীয় দিক হলো সামাজিক স্বাধীনতার অধীন জীবন ও সম্পদের সুরক্ষা না পাওয়া।

উত্তর

রাসেলের বর্তমান অবস্থায় আইনের শাসনের অভাব গুরুত্বপূর্ণভাবে দায়ী—উক্তিটি যথার্থ। প্রভাবশালী ব্যক্তির ফসল কেড়ে নেওয়া এবং প্রশাসনের কাছে প্রতিকার চেয়েও উল্টো জেল-জুলুমের শিকার হওয়া আইনি সুরক্ষার ব্যর্থতা প্রকাশ করে।

আইনের শাসনে ধনী-দরিদ্র ও প্রভাবশালী-দুর্বল সবাই আইনের অধীন থাকে। কারও দলবল বা সামাজিক ক্ষমতা অন্যের সম্পদ দখলের অনুমতি দেয় না। রাসেলের অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত এবং অপরাধ প্রমাণিত হলে দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল।

কিন্তু উদ্দীপকে ক্ষমতাবান ব্যক্তি অন্যায় করেও প্রতিকারমূলক ব্যবস্থার মুখোমুখি হয়েছে বলে দেখা যায় না। বরং অভিযোগকারী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা, সমান সুরক্ষা ও ন্যায়বিচারের অভাব প্রকাশ পায়। আইনানুগ কারণ ও প্রক্রিয়া ছাড়া শাস্তি বা হয়রানিও আইনের শাসনের পরিপন্থী।

ঘটনায় ব্যক্তির লোভ ও ক্ষমতার অপব্যবহারও রয়েছে। তবে কার্যকর আইনের শাসন থাকলে এসব আচরণ প্রতিরোধ ও প্রতিকারের সুযোগ তৈরি হতো। তাই স্বাধীন তদন্ত, অভিযোগকারীর সুরক্ষা, প্রশাসনের জবাবদিহি এবং আদালতে ন্যায্য প্রতিকার নিশ্চিত করা দরকার। রাসেলের দারিদ্র্য তার অধিকার কমিয়ে দেয় না; আইনি সুরক্ষার ঘাটতিই তাকে অধিক অসহায় করেছে।

৩. 'A' নামক প্রতিষ্ঠানটি দেশের জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি নিয়ে গঠিত। এ প্রতিষ্ঠানটি দেশের আইন বিষয়ে সকল কার্যাদি সম্পাদন করে। তা বিভাগটি সরকারের আয়-ব্যায়ের বাৎসরিক হিসাব পাশ করে। অন্যদিকে, 'B' নামক প্রতিষ্ঠানটি জনগণের প্রধান অধিকার রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। দেশের রাষ্ট্রপ্রধান কোনো আইনের ব্যাখ্যা চাইলে এ বিভাগ উক্ত বিষয়ে পরামর্শ দান করে থাকে।
উত্তর রাষ্ট্রের নির্দিষ্ট এলাকার জনগণের স্থানীয় সমস্যা সমাধান, জনসেবা ও উন্নয়ন পরিচালনার জন্য গঠিত শাসনব্যবস্থাকে স্থানীয় সরকার বলে।
উত্তর সচিবালয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের নীতি প্রণয়নে সহায়তা, সিদ্ধান্ত প্রস্তুতি, নির্দেশ জারি এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমের সমন্বয় করা হয়। মাঠ প্রশাসন ও অধীন দপ্তরগুলোর কাজ তদারকি এবং সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অগ্রগতিও এখানে পর্যালোচিত হয়। রাষ্ট্রের নীতি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার মধ্যে এই কেন্দ্রীয় সংযোগের কারণে সচিবালয়কে প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দু বলা হয়।
উত্তর

উদ্দীপকের ‘A’ প্রতিষ্ঠান সরকারের আইন বিভাগকে নির্দেশ করে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এটি জাতীয় সংসদ। নির্বাচিত প্রতিনিধি, আইন প্রণয়ন ও বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব অনুমোদনের বৈশিষ্ট্য থেকে এই সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়।

আইন বিভাগ রাষ্ট্রের প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন আইন প্রণয়ন, বিদ্যমান আইন সংশোধন বা বাতিল করে। জনগণের প্রতিনিধিরা আলোচনা ও নির্ধারিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এসব সিদ্ধান্ত নেন। সরকারের বাজেট ও ব্যয়ের অনুমোদনেও আইন বিভাগের ভূমিকা রয়েছে।

উদ্দীপকে ‘A’ দেশের আইনসংক্রান্ত কার্যাদি সম্পাদন এবং বার্ষিক হিসাব পাস করছে। এই আর্থিক অনুমোদন শাসন বিভাগের ওপর সংসদীয় নিয়ন্ত্রণের একটি মাধ্যম। তাই ‘A’ বিচারকাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান নয়; আইন প্রণয়ন ও প্রতিনিধিত্বমূলক তদারকির দায়িত্বে থাকা আইন বিভাগ।

উত্তর

উদ্দীপকের ‘B’ বিচার বিভাগকে নির্দেশ করে। নাগরিকের অধিকার রক্ষা এবং আইনসংক্রান্ত ব্যাখ্যা দেওয়ার কাজ থেকে এটি শনাক্ত করা যায়। আইনের অনুশাসন বা আইনের শাসন রক্ষায় স্বাধীন বিচার বিভাগ অগ্রণী ভূমিকা পালন করে।

বিচার বিভাগ আইন অনুযায়ী বিরোধ নিষ্পত্তি করে এবং অপরাধ প্রমাণিত হলে অপরাধীকে শাস্তি দেয়। এতে ব্যক্তির সামাজিক অবস্থান বা রাজনৈতিক প্রভাবের পরিবর্তে আইনি বিধান ও প্রমাণের ভিত্তিতে বিচার পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। নাগরিক অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিকার চাইতে পারেন।

সংবিধান ও মৌলিক অধিকার রক্ষায় আদালত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আইন বা নির্বাহী সিদ্ধান্তের বৈধতা পরীক্ষা করে ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। উদ্দীপকে রাষ্ট্রপ্রধানকে পরামর্শ দেওয়ার বিষয়টি বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সাংবিধানিক পরামর্শমূলক এখতিয়ারের সঙ্গে মেলে; এটি নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় প্রযোজ্য।

তবে বিচার বিভাগ কার্যকর হতে বিচারকের স্বাধীনতা, নিরপেক্ষতা এবং জনগণের বিচারপ্রাপ্তির বাস্তব সুযোগ থাকতে হবে। অযথা বিলম্ব ও প্রভাবমুক্ত বিচার নিশ্চিত করা জরুরি। তাই বিচার বিভাগ আইনকে সবার জন্য কার্যকর করা, অধিকার রক্ষা ও সাংবিধানিক সীমা বজায় রাখার মাধ্যমে আইনের শাসনকে শক্তিশালী করে।

৪. উদ্দীপকটি পড়ো এবং নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
উদ্দীপকের ছবি
উত্তর যে রাজতন্ত্রে রাজা বা রানির ক্ষমতা সংবিধান ও আইনের দ্বারা সীমাবদ্ধ থাকে এবং তিনি সাংবিধানিক নিয়ম মেনে দায়িত্ব পালন করেন, তাকে নিয়মতান্ত্রিক রাজতন্ত্র বলে।
উত্তর আইনের শাসন বলতে ব্যক্তি বা শাসকের খেয়ালখুশির পরিবর্তে আইন অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনা এবং আইনের দৃষ্টিতে সবার সমান অবস্থান বোঝায়। শাসক ও সাধারণ নাগরিক উভয়েই আইনের অধীন থাকেন। আইনানুগ প্রক্রিয়া ছাড়া কাউকে শাস্তি দেওয়া যায় না। এর মাধ্যমে নাগরিকের অধিকার রক্ষা এবং ক্ষমতার স্বেচ্ছাচারী ব্যবহার প্রতিরোধের সুযোগ তৈরি হয়।
উত্তর

‘ক’ রাষ্ট্র ধনতান্ত্রিক বা পুঁজিবাদী রাষ্ট্রব্যবস্থাকে ইঙ্গিত করে। ব্যক্তিমালিকানার স্বীকৃতি এবং চাহিদা ও জোগানের ভিত্তিতে মূল্য নির্ধারণ এই ব্যবস্থার প্রধান বৈশিষ্ট্য।

ধনতান্ত্রিক ব্যবস্থায় উৎপাদনের উপকরণ ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ব্যক্তিমালিকানা স্বীকৃত থাকে। ব্যক্তি লাভের উদ্দেশ্যে বিনিয়োগ ও উৎপাদনের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতার চাহিদা, জোগান ও প্রতিযোগিতা মূল্য ও উৎপাদনকে প্রভাবিত করে।

উদ্দীপকের ‘ক’ রাষ্ট্রে এই দুটি বৈশিষ্ট্যই উল্লেখ আছে। তাই অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ভিত্তিতে রাষ্ট্রটিকে ধনতান্ত্রিক বলা যায়। তবে এর অর্থ সরকার কোনো নিয়ন্ত্রণই করে না, এমন নয়; বাস্তবে আইন, কর ও জনকল্যাণমূলক নীতির মাধ্যমে বাজার নিয়ন্ত্রণ থাকতে পারে। ছকটি ব্যবস্থাটির মৌলিক বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেছে।

উত্তর

‘খ’ রাষ্ট্র সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য নির্দেশ করে। উৎপাদনের উপকরণের ব্যক্তিমালিকানা সীমিত বা বিলুপ্ত করে সামাজিক বা রাষ্ট্রীয় মালিকানা এবং পরিকল্পিত নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে শ্রেণিবৈষম্য কমানো এ ব্যবস্থার লক্ষ্য। তবে এর সীমাবদ্ধতাও রয়েছে।

সম্পদ অল্পসংখ্যক ব্যক্তির হাতে কেন্দ্রীভূত না রেখে পরিকল্পিতভাবে ব্যবহার করলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও মৌলিক চাহিদা পূরণে অগ্রাধিকার দেওয়া যায়। উৎপাদন ও বণ্টনে জনকল্যাণকে গুরুত্ব দিলে ধনী-দরিদ্রের ব্যবধান এবং শোষণ কমানোর সুযোগ তৈরি হয়। উদ্দীপকের সরকারি মূল্যনিয়ন্ত্রণও এই পরিকল্পিত ব্যবস্থার অংশ।

অন্যদিকে অতিরিক্ত কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় চাহিদা সম্পর্কে সঠিক তথ্য পাওয়া কঠিন হতে পারে। সিদ্ধান্তে বিলম্ব, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং ভুল পরিকল্পনায় পণ্যের ঘাটতি বা অপচয় দেখা দিতে পারে। ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও কাজের প্রেরণা যথাযথভাবে উৎসাহিত না হলে উৎপাদনশীলতাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হলে জবাবদিহি দুর্বল হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তবে এসব সমস্যা সব সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থায় একই মাত্রায় ঘটে না। দক্ষ পরিকল্পনা, অংশগ্রহণ ও স্বচ্ছতা গুরুত্বপূর্ণ। তাই শ্রেণিবৈষম্য কমানোর সম্ভাবনা স্বীকার করেও অর্থনৈতিক দক্ষতা এবং নাগরিকের স্বাধীনতা রক্ষার সীমাবদ্ধতাগুলো বিবেচনা করা প্রয়োজন।

৫. জনাব $'X'$ একটি রাজনৈতিক দলের কর্মী। তিনি তার সংগঠনের নীতি আদর্শ ও কর্মসূচির পক্ষে জনমত গঠনের জন্য সভা, মিছিল ও গণযোগাযোগ কর্মসূচি গ্রহণ করেন। জনকল্যাণমুখী কাজের জন্য তিনি এলাকায় খুবই জনপ্রিয়। ফলে গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তিনি বিপুল ভোটে চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হন।
উত্তর যে নির্বাচনে জনগণ প্রথমে প্রতিনিধি নির্বাচন করে এবং সেই প্রতিনিধিরা পরবর্তী পর্যায়ে অন্য প্রতিনিধি বা পদাধিকারী নির্বাচন করেন, তাকে পরোক্ষ নির্বাচন বলে।
উত্তর এক ব্যক্তি এক ভোট পদ্ধতিতে প্রত্যেক যোগ্য ভোটার নির্দিষ্ট নির্বাচনে একটি ভোট দেওয়ার অধিকার পান এবং সবার ভোটের মূল্য সমান থাকে। ধনসম্পদ, শিক্ষা, পেশা বা সামাজিক মর্যাদার কারণে কেউ অতিরিক্ত ভোট পান না। এই নীতি রাজনৈতিক সাম্য প্রতিষ্ঠা করে এবং প্রতিনিধি নির্বাচনে সকল ভোটারের সমান অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করে।
উত্তর

জনাব ‘X’ প্রত্যক্ষ নির্বাচন পদ্ধতিতে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। ইউনিয়নের ভোটাররা সরাসরি তাঁকে ভোট দিয়ে এই পদে নির্বাচিত করেছেন।

প্রত্যক্ষ নির্বাচনে জনগণ কোনো মধ্যবর্তী নির্বাচকমণ্ডলীর মাধ্যমে নয়, নিজের ভোট দিয়ে নির্দিষ্ট প্রতিনিধি বেছে নেয়। প্রার্থী ভোটারদের কাছে নিজের কর্মসূচি তুলে ধরেন এবং জনগণ তাঁর যোগ্যতা ও কাজ বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়।

উদ্দীপকে ‘X’ সভা, মিছিল ও গণযোগাযোগের মাধ্যমে দলের নীতি ও কর্মসূচি প্রচার করেছেন। জনকল্যাণমূলক কাজের কারণে জনপ্রিয়তা অর্জন করে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিপুল ভোট পেয়েছেন। চেয়ারম্যান পদে জনগণের সরাসরি ভোটই তাঁর নির্বাচনের ভিত্তি। তাই এখানে পরোক্ষ নয়, প্রত্যক্ষ নির্বাচন পদ্ধতি প্রযোজ্য।

উত্তর

জনাব ‘X’-এর দলের কর্মসূচি জনগণের মনে আশা সৃষ্টি করতে পারে, তবে শুধু প্রচারমূলক কার্যক্রমই যথেষ্ট—এ দাবি নিঃশর্তভাবে গ্রহণ করা যায় না। কর্মসূচির বাস্তবতা ও জনকল্যাণমূলক কাজের ফলও গুরুত্বপূর্ণ।

সভা, মিছিল ও গণযোগাযোগের মাধ্যমে রাজনৈতিক দল নিজের আদর্শ এবং সমস্যার সমাধান সম্পর্কে জনগণকে জানায়। এতে মানুষ বিকল্প নীতি ও নেতৃত্ব সম্পর্কে ধারণা পায় এবং রাজনৈতিকভাবে সচেতন হয়। উদ্দীপকে ‘X’-এর জনকল্যাণমূলক কাজ তাঁকে জনপ্রিয় করেছে, যা তাঁর প্রতি আস্থা তৈরির বাস্তব ভিত্তি।

শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, কর্মসংস্থান ও দুর্নীতি প্রতিরোধের মতো জনচাহিদা কর্মসূচিতে গুরুত্ব পেলে মানুষের জীবন উন্নয়নের প্রত্যাশা জন্মায়। জনগণের মতামত শুনে পরিকল্পনা করা এবং যোগ্য নেতৃত্ব গড়ে তোলাও সেই আশাকে শক্তিশালী করে।

তবে প্রচার ও নির্বাচনী বিজয় কর্মসূচি বাস্তবায়নের বিকল্প নয়। অর্থায়ন, নির্দিষ্ট পরিকল্পনা, স্বচ্ছতা এবং অগ্রগতির জবাবদিহি দরকার। ‘X’ জনপ্রিয় হয়েছেন বলেই দলের প্রতিটি প্রতিশ্রুতি পূরণ হবে বলা যায় না। তাই জনমনে আশার সঞ্চারে বর্ণিত কাজগুলো সহায়ক, কিন্তু সেই আশা স্থায়ী করতে জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির কার্যকর বাস্তবায়ন অপরিহার্য।

৬. জনাব কামাল সাহেব একটি প্রতিষ্ঠানের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শহরে উক্ত প্রতিষ্ঠানটি গড়ে উঠেছে। প্রতিষ্ঠানের প্রধান, প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা পেয়ে থাকেন। অপরদিকে, সালমান সাহেব শহরভিত্তিক আরেকটি প্রতিষ্ঠানের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। প্রতিষ্ঠানটি সরকারি বরাদ্দ ছাড়াও বিভিন্ন উৎস থেকে কর ধার্য করে ব্যয়ভার নির্বাহ করে।
উত্তর ILO হলো International Labour Organization বা আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা; এটি শ্রমিকের অধিকার ও মর্যাদাপূর্ণ কাজের উন্নয়নে নিয়োজিত জাতিসংঘের বিশেষায়িত সংস্থা।
উত্তর গ্রাম আদালত হলো ইউনিয়ন পর্যায়ে আইন অনুযায়ী গঠিত একটি স্থানীয় বিচারব্যবস্থা, যেখানে নির্দিষ্ট ধরনের ছোটখাটো দেওয়ানি ও ফৌজদারি বিরোধ নিষ্পত্তি করা হয়। এর উদ্দেশ্য স্থানীয়ভাবে সহজে, কম ব্যয়ে ও দ্রুত প্রতিকার দেওয়া। এর ক্ষমতা সীমিত; সব ধরনের মামলা বিচার বা গুরুতর অপরাধের দণ্ড দেওয়ার এখতিয়ার গ্রাম আদালতের নেই।
উত্তর

কামাল সাহেব সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শহরে প্রতিষ্ঠানটির অবস্থান এবং প্রধানের বিশেষ পদমর্যাদার উল্লেখ এই প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশ করে।

সিটি কর্পোরেশন বড় নগর এলাকার স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান। এর নির্বাচিত কাঠামোতে মেয়র ও কাউন্সিলর থাকেন। নগরবাসীর জনসেবা ও উন্নয়নের জন্য প্রতিষ্ঠানটি রাস্তাঘাট, সড়কবাতি, বর্জ্য অপসারণ, স্যানিটেশন এবং অন্যান্য নাগরিক সুবিধা নিয়ে কাজ করে।

উদ্দীপকে প্রধানের প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদার উল্লেখ একটি সহায়ক সূত্র। তবে সব সিটি কর্পোরেশনের প্রধান সর্বদা একই সরকারি পদমর্যাদা পান—এটি সর্বজনীন নিয়ম নয়। নগরভিত্তিক অবস্থান ও অন্যান্য বৈশিষ্ট্য মিলিয়ে কামালের প্রতিষ্ঠানকে সিটি কর্পোরেশন বলা যায়। তাঁকে প্রতিনিধি বলা হয়েছে, তাই তিনি অবশ্যই মেয়র—এ সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না।

উত্তর

সালমান সাহেবের প্রতিষ্ঠানটি পৌরসভাকে নির্দেশ করে। সিটি কর্পোরেশনের পাশাপাশি শহরভিত্তিক আরেকটি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি বরাদ্দ ও কর থেকে ব্যয় নির্বাহের তথ্য এই পরিচয়ের সঙ্গে মেলে। জনগণের স্থানীয় সমস্যা সমাধান ও উন্নয়নে পৌরসভার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

পৌরসভা রাস্তাঘাট নির্মাণ ও মেরামত, সড়কবাতি, নর্দমা ও বর্জ্য অপসারণের ব্যবস্থা করে শহরের দৈনন্দিন জীবন সহজ করে। নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন ও জনস্বাস্থ্যসংক্রান্ত উদ্যোগ রোগব্যাধি কমাতে এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়তে সহায়তা করে।

জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, বাজার ব্যবস্থাপনা এবং আইন অনুযায়ী নির্মাণসংক্রান্ত অনুমতি ও তদারকিও নাগরিক সেবার অংশ। পরিকল্পিত উন্নয়ন, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কাজে সহায়তা মানুষের সামাজিক জীবন সমৃদ্ধ করে। উন্নত যোগাযোগ ও বাজার সুবিধা স্থানীয় ব্যবসা ও কর্মসংস্থানেও অনুকূল প্রভাব ফেলে।

এসব কাজের অর্থের জন্য সরকারি বরাদ্দের পাশাপাশি আইননির্ধারিত কর, ফি ও অন্যান্য আয় গুরুত্বপূর্ণ। তবে কর আদায় করলেই উন্নয়ন নিশ্চিত হয় না; স্বচ্ছ ব্যয়, অগ্রাধিকারভিত্তিক পরিকল্পনা এবং জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহি দরকার। জনগণের অংশগ্রহণে এই শর্তগুলো পূরণ হলে পৌরসভা স্থানীয় সমস্যা সমাধানে কার্যকর প্রতিষ্ঠান হয়ে ওঠে।

৭. দৃশ্যকল্প-১: রহিম মিয়া অভাবের তাড়নায় সপরিবারে ঢাকায় চলে আসেন। তিনি রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। তার ছেলে চা বিক্রি করে এবং স্ত্রী গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে কাজ করেন।
দৃশ্যকল্প-২: মোঙ্গল জাতির নেতা চেঙ্গিস খান প্রথমে আশপাশের গোত্রগুলোকে পরাজিত করেন। পরবর্তীতে তিনি যুদ্ধের মাধ্যমে বিভিন্ন রাজ্য দখল করে বিশাল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।
উত্তর নির্দিষ্ট ভূখণ্ডে স্থায়ীভাবে বসবাসকারী সুসংগঠিত জনসমষ্টি, যার নিজস্ব সরকার ও সার্বভৌম ক্ষমতা রয়েছে, তাকে রাষ্ট্র বলে।
উত্তর শিল্পায়ন ও নগরায়ণের ফলে মানুষ কাজ, শিক্ষা ও উন্নত সুযোগের জন্য পৈতৃক বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র বসবাস করছে। শহরে সীমিত বাসস্থান ও ব্যয়, পেশাগত গতিশীলতা এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতার চাহিদাও ছোট পরিবার গঠনে ভূমিকা রাখে। ফলে স্বামী-স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে আলাদা সংসারের প্রবণতা বাড়ছে। এসব কারণে একক পরিবারের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
উত্তর

দৃশ্যকল্প-১ পরিবারের অর্থনৈতিক কাজকে নির্দেশ করে। রহিম ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা উপার্জন করে সংসারের চাহিদা পূরণের চেষ্টা করছেন।

পরিবারের অর্থনৈতিক কাজ হলো জীবিকা অর্জন, সম্পদের ব্যবস্থাপনা এবং সদস্যদের খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থানসহ প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহ করা। পরিবারের আয় ও শ্রম সম্মিলিতভাবে এসব চাহিদা পূরণে ব্যবহৃত হয়।

উদ্দীপকে রহিম রিকশা চালান, তাঁর স্ত্রী পোশাক কারখানায় কাজ করেন এবং ছেলে চা বিক্রি করে। এসব কাজের আয় দিয়ে সংসার চলে। তাই এখানে জীবিকা ও ভরণপোষণের অর্থনৈতিক ভূমিকা স্পষ্ট। তবে ছেলের বয়স উল্লেখ নেই; সে শিশু হলে তার শিক্ষা ও নিরাপত্তা ক্ষুণ্ণ করে উপার্জনের দায় চাপানো সমর্থনযোগ্য নয়। অর্থনৈতিক কাজ শনাক্ত করা মানে এমন ঝুঁকিকে অনুমোদন করা নয়।

উত্তর

দৃশ্যকল্প-২ বল বা শক্তি প্রয়োগ মতবাদকে নির্দেশ করে। রাষ্ট্রের উৎপত্তির একমাত্র ও পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা হিসেবে এই মতবাদ সমর্থনযোগ্য নয়—এ অর্থে উক্তির সঙ্গে একমত। তবে ইতিহাসে শক্তির কোনো ভূমিকা ছিল না, এমন দাবি করি না।

শক্তি প্রয়োগ মতবাদে বলা হয়, শক্তিশালী ব্যক্তি বা গোষ্ঠী দুর্বলদের পরাজিত ও অধীন করে শাসন প্রতিষ্ঠা করেছে। উদ্দীপকে চেঙ্গিস খান প্রথমে গোত্রগুলোকে এবং পরে বিভিন্ন রাজ্যকে পরাজিত করে সাম্রাজ্য বিস্তার করেছেন। এতে সামরিক শক্তির মাধ্যমে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার বৈশিষ্ট্য দেখা যায়।

কিন্তু রাষ্ট্র গঠনে শুধু যুদ্ধ নয়, রক্তের সম্পর্ক, সামাজিক সহযোগিতা, ধর্ম, অর্থনৈতিক প্রয়োজন এবং রাজনৈতিক চেতনার বিকাশও গুরুত্বপূর্ণ। কেবল দখল ও বলপ্রয়োগ দিয়ে মানুষের দীর্ঘ সামাজিক সংগঠনের প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করা যায় না। বিদ্যমান রাজ্য দখল করে সাম্রাজ্য গড়াও সব রাষ্ট্রের আদি উৎপত্তির সমার্থক নয়।

এ ছাড়া শক্তি প্রয়োগের ঐতিহাসিক বর্ণনা দুর্বলের ওপর আক্রমণের নৈতিক অনুমোদন দেয় না। তাই বহুবিধ উপাদান ও দীর্ঘ পরিবর্তন বিবেচনাকারী ঐতিহাসিক বা বিবর্তনমূলক মতবাদ অধিক গ্রহণযোগ্য। শক্তি তার একটি উপাদান হতে পারে, একমাত্র কারণ নয়।

৮. ক ও খ নামক দুটি দেশের সরকারের বৈশিষ্ট্য নিচের ছকে দেখানো হলো-
উদ্দীপকের ছবি
উত্তর নির্বাচনে ভোট দিয়ে প্রতিনিধি নির্বাচনের আইনগত অধিকারপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের নির্বাচক বলে।
উত্তর এককেন্দ্রিক সরকারব্যবস্থায় রাষ্ট্রের শাসনক্ষমতা সাংবিধানিকভাবে কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে কেন্দ্রীভূত থাকে। প্রশাসনিক সুবিধার জন্য স্থানীয় প্রতিষ্ঠানকে ক্ষমতা দেওয়া হলেও তারা পৃথক সাংবিধানিক সার্বভৌম কর্তৃত্বের অধিকারী হয় না। কেন্দ্রীয় আইনের অধীনে তাদের কাজ পরিচালিত হয়। তাই এককেন্দ্রিক সরকার মানে স্থানীয় সরকারহীন ব্যবস্থা নয়; চূড়ান্ত ক্ষমতার কেন্দ্রীয় অবস্থানই এর বৈশিষ্ট্য।
উত্তর

‘ক’ দেশের বৈশিষ্ট্যগুলো প্রধানত রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকারকে নির্দেশ করে। সরকারের বিভাগগুলোর ক্ষমতা পৃথক থাকা এবং সংকটে নির্বাহী নেতৃত্বের দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ এই ব্যবস্থার পরিচায়ক।

রাষ্ট্রপতিশাসিত ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধান হিসেবে নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগ করেন। আইন ও শাসন বিভাগ পৃথকভাবে কাজ করে এবং পারস্পরিক নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা থাকে। রাষ্ট্রপতি সাধারণত নির্ধারিত মেয়াদের জন্য নির্বাচিত হন।

তবে ছকের ‘শাসনব্যবস্থা সাধারণত স্থায়ী নয়’ কথাটি রাষ্ট্রপতিশাসিত ব্যবস্থার প্রচলিত বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে মেলে না। নির্দিষ্ট মেয়াদের কারণে স্থিতিশীল নির্বাহী নেতৃত্ব বরং এর একটি সুবিধা হিসেবে ধরা হয়। তাই ছকের অন্য বৈশিষ্ট্যগুলোর ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতিশাসিত ব্যবস্থা শনাক্ত করা যায়, কিন্তু প্রথম বক্তব্যটিকে যথার্থ বৈশিষ্ট্য হিসেবে গ্রহণ করা যায় না।

উত্তর

‘খ’ সরকারব্যবস্থা সংসদীয় সরকারকে নির্দেশ করে। জনগণের কাছে দায়বদ্ধতা, আইন ও শাসন বিভাগের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং পরামর্শের মাধ্যমে সংকট সমাধান বাংলাদেশের জন্য এ ব্যবস্থার গ্রহণযোগ্যতার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।

সংসদীয় ব্যবস্থায় নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সমর্থনে সরকার গঠিত হয় এবং মন্ত্রিপরিষদ সংসদের কাছে দায়ী থাকে। সংসদীয় প্রশ্ন, বিতর্ক ও কমিটির মাধ্যমে সরকারের কাজ পর্যালোচনার সুযোগ থাকে। বাংলাদেশের মতো জনদাবি ও উন্নয়নের বহুবিধ প্রয়োজনসম্পন্ন দেশে এই জবাবদিহি কার্যকর হলে নীতি জনগণের চাহিদার সঙ্গে যুক্ত থাকে।

আইন ও শাসন বিভাগের সহযোগিতা নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে সমন্বয় বাড়াতে পারে। মন্ত্রিসভায় আলোচনা ও বিরোধী মত বিবেচনার মাধ্যমে সংকট সমাধান করলে একক ব্যক্তির ভুল সিদ্ধান্তের ঝুঁকি কমে। সংসদের আস্থা হারালে সাংবিধানিকভাবে সরকার পরিবর্তনের পথও থাকে।

তবে দলীয় কর্তৃত্বে সংসদ নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়লে বা বিরোধী মত উপেক্ষিত হলে এসব সুবিধা নষ্ট হয়। তাই অবাধ নির্বাচন, কার্যকর সংসদ, স্বাধীন বিচার বিভাগ এবং দলগুলোর অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র দরকার। এসব শর্ত বজায় থাকলে ‘খ’ ব্যবস্থা বাংলাদেশের জনগণের প্রতিনিধিত্ব ও জবাবদিহিমূলক শাসনের জন্য অত্যন্ত গ্রহণযোগ্য।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।