বরিশাল বোর্ড ২০২৬
১. উদ্দীপকটি পড়ো এবং নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
উদ্দীপকের ছবি
উত্তর অর্থনীতিতে কোনো দ্রব্যের বা সেবার দ্বারা মানুষের অভাব পূরণের ক্ষমতাকে উপভোগ বলে।
উত্তর ভোক্তা কর্তৃক কোনো নির্দিষ্ট দ্রব্যের ভোগ বৃদ্ধির সাথে সাথে তার প্রান্তিক উপভোগ ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাওয়ার কারণে এই রেখাটি বাম থেকে ডানদিকে নিম্নগামী হয়।
ভোক্তা যখন একটি দ্রব্যের বিভিন্ন একক ক্রমাগত ভোগ করতে থাকে, তখন ওই দ্রব্যের প্রতি তার আকাঙ্ক্ষা বা তৃপ্তি ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকে। ফলে ভোগের পরিমাণ বাড়ার সাথে সাথে প্রান্তিক উপভোগ কমে যাওয়ার এই বিপরীতমুখী সম্পর্কের কারণেই রেখাটি নিম্নগামী আকৃতি ধারণ করে।
উত্তর

উপর্যুক্ত ছকের আলোকে একটি চাহিদারেখা অঙ্কন করে ব্যাখ্যা করা হলো—

চিত্রে ভূমি অক্ষে (OX অক্ষে) চাহিদার পরিমাণ (একক) এবং লম্ব অক্ষে (OY অক্ষে) দ্রব্যের দাম (টাকায়) নির্দেশ করা হয়েছে।
সূচি অনুযায়ী, দ্রব্যের দাম যখন ১০ টাকা তখন চাহিদার পরিমাণ ১২ একক, যার সমন্বয় বিন্দু a। দ্রব্যের দাম বৃদ্ধি পেয়ে যথাক্রমে ২০ টাকা, ৩০ টাকা ও ৪০ টাকা হলে চাহিদার পরিমাণ হ্রাস পেয়ে যথাক্রমে ১০ একক, b একক ও ৬ একক হয়, যাদের সমন্বয় বিন্দু যথাক্রমে b, c এবং d।
এখন a, b, c এবং d বিন্দুগুলো যোগ করলে DD রেখা পাওয়া যায় তা বাম থেকে ডানদিকে নিম্নগামী। এই রেখাটিই হলো উদ্দীপকের তথ্যের আলোকে অঙ্কিত চাহিদারেখা।

উত্তরের ছবি
উত্তর

উদ্দীপকের সূচিতে বর্ণিত ১ম ব্যক্তির জোগান জোগানবিধিকে পুরোপুরি সমর্থন করলেও ২য় ব্যক্তির জোগান জোগানবিধিকে সমর্থন করে না। নিচে এর সপক্ষে যৌক্তিক বিশ্লেষণ দেওয়া হলো—

জোগানবিধি অনুযায়ী, অন্যান্য অবস্থা অপরিবর্তিত থাকলে দ্রব্যের দাম বৃদ্ধি পেলে জোগানের পরিমাণ বৃদ্ধি পায় এবং দাম হ্রাস পেলে জোগানের পরিমাণ হ্রাস পায়। অর্থাৎ, দাম ও জোগানের মধ্যে সমমুখী সম্পর্ক বিদ্যমান।
উদ্দীপকের সূচিতে ১ম ব্যক্তির ক্ষেত্রে দেখা যায়, দ্রব্যের দাম যখন ১০ টাকা থেকে ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেয়ে ২০, ৩০ ও ৪০ টাকা হয়, তখন তার জোগানের পরিমাণও ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে যথাক্রমে b, ১০, ১২ ও ১৪ একক হয়। দাম বৃদ্ধির সাথে জোগানের পরিমাণের এই বৃদ্ধি জোগান বিধির শর্তকে সম্পূর্ণভাবে পূরণ করে।
অন্যদিকে, ২য় ব্যক্তির ক্ষেত্রে দেখা যায়, দ্রব্যের দাম যখন ১০ টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২০, ৩০ ও ৪০ টাকা হয়, তখন তার জোগানের পরিমাণ বৃদ্ধি না পেয়ে উল্টো ক্রমান্বয়ে হ্রাস পেয়ে যথাক্রমে ১০ একক থেকে b একক, ৬ একক ও ৪ একক নেমে আসে। অর্থাৎ, দামের পরিবর্তনের সাথে ২য় ব্যক্তির জোগানের কোনো সমমুখী বা স্বাভাবিক ধারাবাহিকতা নেই।
অতএব, উপরিউক্ত আলোচনা থেকে স্পষ্টভাবেই বলা যায় যে, ১ম ব্যক্তির জোগান আচরণ জোগানবিধির সাথে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ হলেও ২য় ব্যক্তির জোগান আচরণ জোগানবিধিকে সমর্থন করে না।

২. উদ্দীপকটি পড়ো এবং নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
উদ্দীপকের ছবি
উত্তর এক একক উৎপাদনের উপকরণ পরিবর্তনের ফলে মোট উৎপাদনের যে পরিবর্তন হয়, তাকে প্রান্তিক উৎপাদন বলে।
উত্তর কোনো উৎপাদনী প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন সম্পদ বা উপকরণ ক্রয়ের জন্য সরাসরি যে পরিমাণ আর্থিক ব্যয় এবং প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য ব্যয় করে, এগুলোর সমষ্টির মাধ্যমেই ব্যক্তিগত ব্যয় নিরূপণ করা হয়।
ব্যক্তিগত ব্যয়ের ক্ষেত্রে উৎপাদনের সাথে জড়িত দৃশ্যমান খরচ (যেমন— কাঁচামাল ক্রয়, শ্রমিকের মজুরি, বাড়ি ভাড়া) এবং অদৃশ্য বা অপ্রকাশ্য খরচ (যেমন— মালিকের নিজস্ব শ্রমের মূল্য বা নিজস্ব ভবনের সম্ভাব্য ভাড়া) উভয়েরই যোগফল হিসাব করা হয়। অর্থাৎ, প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য ব্যয়ের সমষ্টিই হলো ব্যক্তিগত ব্যয়।
উত্তর

উদ্দীপকের টেবিল-ক এ জনাব গণি মিয়ার কাজ দ্বারা 'সময়গত উপভোগ' সৃষ্টি হয়েছে।

কোনো দ্রব্য উৎপাদনের পর সাথে সাথে ভোগ না করে যদি তা সংরক্ষণ করা হয় এবং সময়ের ব্যবধানে তার চাহিদা ও দাম বৃদ্ধি পায়, তবে তাকে সময়গত উপভোগ বলে। কৃষি অর্থনীতিতে অনেক ফসলের উৎপাদন একটি নির্দিষ্ট মৌসুমে প্রচুর পরিমাণে হয়। এ সময় সরবরাহ বেশি থাকায় দাম কম থাকে। কিন্তু উৎপাদিত পণ্যটি গুদামে সংরক্ষণ করে অফ-সিজনে বা অভাবের সময়ে বাজারে সরবরাহ করা হলে, তার অতিরিক্ত উপভোগ সৃষ্টি হয়। মূলত মজুতকরণের মাধ্যমেই একটি নির্দিষ্ট সময়ে এই উপভোগ তৈরি করা সম্ভব হয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, জনাব গণি নভেম্বর মাসে যখন আলুর দাম কম থাকে, তখন তা ক্রয় করে কোল্ড স্টোরেজে মজুত রাখেন এবং জুন মাসে দাম বৃদ্ধি পেলে তা বিক্রয় করেন। এখানে জনাব গণি আলুর কোনো বাহ্যিক রূপ পরিবর্তন করেননি, বরং সঠিক উপায়ে মজুত রাখার কারণে সময়ের ব্যবধানে আলুর উপভোগ ও দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। সুতরাং, তার এই মজুতকরণ প্রক্রিয়াটি সময়গত উপভোগ সৃষ্টির একটি প্রকৃত উদাহরণ।

উত্তর

উদ্দীপকের টেবিল-খ-এ নির্দেশিত উৎপাদনের উপকরণগুলো উন্নত এবং উন্নয়নশীল উভয় ধরনের দেশের কাছে সমান গুরুত্ব বহন করে না।

উৎপাদনের প্রধান উপকরণগুলো হলো— ভূমি, শ্রম, মূলধন ও সংগঠন। যেকোনো উৎপাদনের ক্ষেত্রে এই উপকরণগুলোর যৌথ অংশগ্রহণ অপরিহার্য হলেও, দেশের অর্থনৈতিক কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে এদের গুরুত্বের মাত্রা ভিন্ন হয়। জনবহুল ও কৃষিনির্ভর উন্নয়নশীল দেশে মূলধনের অভাব থাকে, কিন্তু প্রাকৃতিক সম্পদ (ভূমি) এবং সস্তা শ্রম প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়। তাই এসব শ্রমনিবিড় উৎপাদন ব্যবস্থায় ভূমি ও শ্রমের গুরুত্ব সর্বাধিক। অন্যদিকে, উন্নত ও শিল্পপ্রধান দেশগুলোতে আধুনিক প্রযুক্তি ও মূলধনের প্রাচুর্য রয়েছে। সেখানে কায়িক শ্রম ব্যয়বহুল হওয়ায় মূলধন বা যন্ত্রনির্ভর উৎপাদন ব্যবস্থা বেশি ব্যবহৃত হয়।
উদ্দীপকের টেবিল-খ-এ উৎপাদনের তিনটি উপকরণের উদাহরণ দেওয়া হয়েছে— 'পাহাড়' (ভূমি), 'তাঁতির কাজ' (শ্রম) এবং 'কম্পিউটার ও প্রিন্টার' (মূলধন)। তত্ত্ব অনুযায়ী, উন্নত দেশগুলো প্রযুক্তিগতভাবে এগিয়ে থাকায় তাদের উৎপাদনে 'কম্পিউটার ও প্রিন্টার' বা এ জাতীয় মূলধনের গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি। পক্ষান্তরে, উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনীতি মূলত কৃষি ও কুটির শিল্পনির্ভর হওয়ায় তাদের কাছে 'পাহাড়' বা প্রাকৃতিক ভূমির ব্যবহার এবং 'তাঁতির কাজ' বা কায়িক শ্রমের গুরুত্ব অনেক বেশি।
সুতরাং বলা যায়, উৎপাদনের জন্য প্রতিটি উপকরণই আবশ্যক হলেও, দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা ও উৎপাদন কাঠামোর কারণে উন্নত দেশে মূলধনের এবং উন্নয়নশীল দেশে ভূমি ও শ্রমের প্রয়োজনীয়তা বেশি অনুভূত হয়।

৩. উদ্দীপকটি পড়ো এবং নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
উদ্দীপকের ছবি
উত্তর অর্থনীতিতে উপকরণ বা প্রাথমিক দ্রব্য ব্যবহার করে নতুন কোনো দ্রব্য বা উপভোগ সৃষ্টি করাকে উৎপাদন বলে।
উত্তর

নার্সের সেবা উৎপাদনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ 'শ্রম'-কে নির্দেশ করে।

উৎপাদন কাজে ব্যবহৃত মানুষের সব ধরনের শারীরিক ও মানসিক পরিশ্রমকে শ্রম বলে। উৎপাদনে শুধু কায়িক পরিশ্রমই শ্রম নয়, বরং সেবা প্রদানের উদ্দেশ্যে করা মানসিক ও শারীরিক প্রচেষ্টাকেও অর্থনীতিতে শ্রম হিসেবে গণ্য করা হয়। একজন নার্স হাসপাতালে রোগীদের চিকিৎসাসেবা প্রদানে যে শারীরিক ও মানসিক পরিশ্রম করেন, তা মানুষের সরাসরি উপকারে আসে এবং এর বিনিময়ে অর্থ প্রদান করতে হয় বা নার্সের সেবার বিনিময় মূল্য আছে। তাই অর্থনীতিতে এটি শ্রমের অন্তর্ভুক্ত।

উত্তর

উদ্দীপকের সূচি হতে উৎপাদনের বিভিন্ন স্তরের মোট উৎপাদনকে (TP) শ্রমের পরিমাণ দিয়ে ভাগ করে গড় উৎপাদন (AP) নির্ণয় করে পূর্ণাঙ্গ সূচিটি নিচে দেওয়া হলো—

মোট উৎপাদনের পরিমাণকে মোট উপকরণ বা উপাদান (শ্রমিক) দ্বারা ভাগ করলে গড় উৎপাদন পাওয়া যায়। অর্থাৎ, নির্দিষ্ট পরিমাণ শ্রম নিয়োগের ফলে গড়ে যে উৎপাদন আসে, তা-ই গড় উৎপাদন।

উদ্দীপকের সূচিতে দেখা যায়, স্থির ভূমিতে (১ একর) শ্রমিকের নিয়োগ ১ থেকে ২ এককে বৃদ্ধি করা হলে গড় উৎপাদন ২০ থেকে বেড়ে ২২ মণ হয়। কিন্তু এরপর শ্রমিকের পরিমাণ ৩ ও ৪ এককে উন্নীত করলে মোট উৎপাদন বাড়লেও গড় উৎপাদন হ্রাস পেয়ে যথাক্রমে ২১ এবং ১৯ মণ হয়। অর্থাৎ, শ্রম বৃদ্ধির প্রাথমিক পর্যায়ে গড় উৎপাদন বাড়লেও একটি নির্দিষ্ট স্তরের পর তা ক্রমান্বয়ে কমতে থাকে।

উত্তরের ছবি
উত্তর

উদ্দীপকে বর্ণিত সূচি দ্বারা 'ক্রমহ্রাসমান প্রান্তিক উৎপাদন বিধি' নির্দেশিত হয়েছে এবং এই বিধিটি মূলত কৃষিক্ষেত্রেই সবচেয়ে বেশি কার্যকর হয়।

উৎপাদন প্রক্রিয়ায় অন্যান্য উপকরণ স্থির রেখে কোনো একটি নির্দিষ্ট উপকরণ (যেমন— শ্রম) ক্রমাগত বৃদ্ধি করা হলে, মোট উৎপাদন প্রাথমিকভাবে ক্রমবর্ধমান হারে বাড়লেও একপর্যায়ে তা ক্রমহ্রাসমান হারে বাড়ে। এর ফলে প্রান্তিক উৎপাদন ক্রমশ কমতে থাকে। উৎপাদনের এই নিয়মকেই ক্রমহ্রাসমান প্রান্তিক উৎপাদন বিধি বলা হয়। কৃষিক্ষেত্রে সাধারণত জমির পরিমাণ নির্দিষ্ট থাকে। সেই নির্দিষ্ট ও সীমাবদ্ধ জমিতে যতই শ্রম ও মূলধন নিয়োগ করা হোক না কেন, মাটির উর্বরতা শক্তি সসীম হওয়ায় উৎপাদন একটি নির্দিষ্ট সীমার পর উপকরণের সমানুপাতিক হারে বাড়ে না।

উদ্দীপকের সূচিতে দেখা যায়, ১ একর স্থির ভূমিতে শ্রমিকের সংখ্যা ১ থেকে ২ এককে বৃদ্ধি করলে প্রান্তিক উৎপাদন ২০ থেকে বেড়ে ২৪ মণ হয়। এটি উৎপাদনের ক্রমবর্ধমান স্তর। কিন্তু এরপর শ্রমিকের সংখ্যা ৩ ও ৪ এককে উন্নীত করা হলে মোট উৎপাদন বাড়লেও ক্রমহ্রাসমান হারে বাড়ে, যার ফলে প্রান্তিক উৎপাদন হ্রাস পেয়ে যথাক্রমে ১৯ এবং ১৩ মণ হয়। অর্থাৎ, স্থির ভূমিতে শ্রম ক্রমাগত বাড়ানোর ফলে প্রান্তিক উৎপাদন ক্রমশ কমেছে। এই পরিস্থিতি কৃষিকাজের সাথে পুরোপুরি সাদৃশ্যপূর্ণ। কৃষিতে প্রথমদিকে নিবিড় চাষাবাদের ফলে উৎপাদন বেশি হারে বাড়লেও, জমির পরিমাণ নির্দিষ্ট থাকায় পরবর্তীতে অতিরিক্ত শ্রমিকের জন্য পর্যাপ্ত ভূমি থাকে না। ফলে অতিরিক্ত শ্রমিকের প্রান্তিক উৎপাদন কমতে বাধ্য হয়।

সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকে নির্দেশিত ক্রমহ্রাসমান প্রান্তিক উৎপাদন বিধিটি কৃষিক্ষেত্রের বাস্তব অবস্থার একটি নিখুঁত প্রতিফলন এবং এটি কৃষিতে অত্যন্ত জোরালোভাবে কার্যকর হয়।

৪. দৃশ্যপট-১ : মোট দেশজ উৎপাদন = $\sum$ ভূমির আয় + $\sum$ শ্রমিকের আয় + $\sum$ মূলধনের আয় + $\sum$ সংগঠনের আয়।
দৃশ্যপট-২ : জনাব নেপাল চন্দ্র একজন ভারতের নাগরিক। তিনি বাংলাদেশে একটি নির্মাণ শিল্পে কাজ করেন। তিনি প্রতি মাসে আয়ের একটি অংশ তার দেশ ভারতে পাঠান।
উত্তর নিট উপাদান আয় বলতে একটি দেশের নাগরিকগণ বৈদেশিক বিনিয়োগ ও শ্রম থেকে যে আয় করে এবং বিদেশি নাগরিকগণ আলোচ্য দেশে বিনিয়োগ ও শ্রম থেকে যে আয় করে এ দুয়ের বিয়োগফলকে বোঝায়।
উত্তর কোনো নির্দিষ্ট আর্থিক বছরে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনকে উক্ত বছরের মধ্য সময়ের মোট জনসংখ্যা দ্বারা ভাগ করে মাথাপিছু মোট দেশজ উৎপাদন নির্ণয় করা যায়।
মাথাপিছু মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি হলো একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও জীবনযাত্রার মানের অন্যতম সূচক। সূত্রাকারে এটি হলো—
মাথাপিছু জিডিপি = (কোনো নির্দিষ্ট বছরের মোট দেশজ উৎপাদন) / (ঐ বছরের মধ্য সময়ের মোট জনসংখ্যা)
উত্তর

উদ্দীপকের দৃশ্যপট-১ এ জিডিপি (GDP) পরিমাপের আয় পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়েছে।

আয় পদ্ধতিতে মোট দেশজ উৎপাদন হলো উৎপাদন কার্যে ব্যবহৃত উপকরণসমূহের প্রাপ্ত আয়ের সমষ্টি। উৎপাদন ক্ষেত্রে ব্যবহৃত মৌলিক উপকরণ হলো ভূমি, শ্রম, মূলধন ও সংগঠন। এদের প্রাপ্ত আয় যথাক্রমে খাজনা, মজুরি, সুদ ও মুনাফা। অর্থাৎ এ পদ্ধতিতে, মোট দেশজ উৎপাদন = $\sum$খাজনা + $\sum$মজুরি + $\sum$সুদ + $\sum$মুনাফা (এখানে $\sum$ = সমষ্টি)।
উদ্দীপকের দৃশ্যপট-১ এ দেওয়া আছে, মোট দেশজ উৎপাদন = $\sum$ ভূমির আয় + $\sum$ শ্রমিকের আয় + $\sum$ মূলধনের আয় + $\sum$ সংগঠনের আয়। মূলত ভূমির আয়কে খাজনা, শ্রমিকের আয়কে মজুরি, মূলধনের আয়কে সুদ এবং সংগঠনের আয়কে মুনাফা বলা হয়। যেহেতু সমীকরণটিতে উৎপাদনের চারটি মৌলিক উপকরণের প্রাপ্ত আয়ের সমষ্টি দেখানো হয়েছে, তাই এটি জিডিপি পরিমাপের আয় পদ্ধতিকে নির্দেশ করে।

উত্তর

'জনাব নেপালের আয় ভারতের GNP এবং বাংলাদেশের GDP-তে অন্তর্ভুক্ত হয়'— উক্তিটি সম্পূর্ণ সঠিক ও যৌক্তিক।

একটি নির্দিষ্ট সময়ে একটি দেশের ভৌগোলিক সীমানার মধ্যে উৎপাদিত চূড়ান্ত দ্রব্য ও সেবার বাজারমূল্যকে মোট দেশজ উৎপাদন (GDP) বলে, যেখানে নাগরিকত্ব বিবেচনা করা হয় না। অন্যদিকে, কোনো দেশের নাগরিকগণ (দেশে বা বিদেশে অবস্থানরত) যে চূড়ান্ত দ্রব্য ও সেবা উৎপাদন করে তার বাজারমূল্যকে মোট জাতীয় আয় (GNP বা GNI) বলে, যেখানে ভৌগোলিক সীমানার চেয়ে নাগরিকত্বকে প্রাধান্য দেওয়া হয়।
উদ্দীপকের দৃশ্যপট-২-এ দেখা যায়, জনাব নেপাল চন্দ্র ভারতের নাগরিক হয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে একটি নির্মাণ শিল্পে কাজ করছেন। যেহেতু তিনি বাংলাদেশের ভৌগোলিক সীমানার ভেতরে থেকে আয় করছেন, তাই জিডিপির সংজ্ঞানুযায়ী তার আয় বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (GDP) অন্তর্ভুক্ত হবে, তবে বাংলাদেশের জিএনপিতে যুক্ত হবে না। অন্যদিকে, তিনি ভারতের নাগরিক হওয়ায় এবং উপার্জিত অর্থের একটি অংশ নিজ দেশে প্রেরণ করায়, জিএনপি বা জাতীয় আয়ের নিয়মানুযায়ী তার এই রেমিট্যান্স ভারতের মোট জাতীয় আয় (GNP) যোগ হবে।
সুতরাং বলা যায়, ভৌগোলিক সীমানার শর্তে জনাব নেপালের আয় বাংলাদেশের জিডিপি-তে এবং নাগরিকত্বের শর্তে তা ভারতের জিএনপি-তে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ নিখুঁত।

৫. জনাব শাহীন একটি বিশেষায়িত আর্থিক প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। তার প্রতিষ্ঠানটি গ্রামের যুবক-যুবতীদের ক্ষুদ্র ঋণ প্রদান করে। এছাড়া, সরকারের 'একটি বাড়ি একটি খামার' প্রকল্পের অংশীদার হিসেবে কাজ করে। অন্যদিকে, জনাব শাহীনের বড়ো ভাই জনাব কবীরও একটি বিশেষায়িত আর্থিক প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন, যা ১৯৭৩ সালে রাষ্ট্রপতির আদেশবলে প্রতিষ্ঠিত হয়। তার প্রতিষ্ঠানটি গ্রামের কৃষকদেরকে বিভিন্ন মেয়াদে ঋণ প্রদান করে থাকে।
উত্তর মানুষের এক দ্রব্যের পরিবর্তে অন্য দ্রব্য বিনিময় করে অভাব পূরণ করার ব্যবস্থাকে সরাসরি পণ্য বিনিময় প্রথা বলে।
উত্তর

১ টাকার নোটের পরিবর্তে সরকারের কাছ থেকে কোনো বৈদেশিক মুদ্রা, সোনা বা রূপা পাওয়া যায় না বলে একে রূপান্তর অযোগ্য মুদ্রা বলা হয়।

যে কাগুজি নোটের পরিবর্তে চাহিবা মাত্র সরকার সমমূল্যের দেশীয় মুদ্রা দিতে বাধ্য থাকে তা রূপান্তরযোগ্য, আর যার বিপরীতে কিছু পাওয়া যায় না তা রূপান্তর অযোগ্য। বাংলাদেশে ১ টাকা ও ২ টাকার নোটের বিপরীতে সরকারের কাছ থেকে কোনো বৈদেশিক মুদ্রা বা মূল্যবান ধাতু পাওয়া যায় না। এ কারণেই ১ টাকার নোটকে রূপান্তর অযোগ্য মুদ্রা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

উত্তর

উদ্দীপকে বর্ণিত জনাব শাহীন বাংলাদেশ সমবায় ব্যাংকে চাকরি করেন।

সমবায়ের নীতিমালার ভিত্তিতে গঠিত এবং পরিচালিত ব্যাংককে সমবায় ব্যাংক বলে। এ ব্যাংক গ্রামীণ যুব ও যুব মহিলাদের কর্মসংস্থানের জন্য ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম গ্রহণ করে। এছাড়া সরকারের 'একটি বাড়ি একটি খামার' প্রকল্পের অংশীদার হিসেবেও কাজ করে সমবায় ব্যাংক। দেশের আত্মকর্মসংস্থানের বিভিন্ন উপায়, যেমন— মাছ চাষ, পশুপালন, হাঁস-মুরগি পালন এবং উৎপাদিত পণ্য সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণে এ ব্যাংক অর্থায়ন করে থাকে।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, জনাব শাহীনের প্রতিষ্ঠানটি গ্রামের যুবক-যুবতীদের ক্ষুদ্র ঋণ প্রদান করে এবং এটি সরকারের 'একটি বাড়ি একটি খামার' প্রকল্পের অংশীদার হিসেবে কাজ করে। এই কার্যাবলিগুলো সরাসরি বাংলাদেশ সমবায় ব্যাংকের কার্যক্রমকে নির্দেশ করে।
সুতরাং বলা যায়, জনাব শাহীন বাংলাদেশ সমবায় ব্যাংকে চাকরি করেন।

উত্তর

উদ্দীপকে জনাব কবীরের বিশেষায়িত আর্থিক প্রতিষ্ঠানটি হলো বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক। 'বাংলাদেশের কৃষি উন্নয়নে জনাব কবীরের বিশেষায়িত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অবদান অনস্বীকার্য'— মন্তব্যটি সম্পূর্ণ যথার্থ।

কৃষি খাতের গতিশীলতা বৃদ্ধি, কৃষি স্বনির্ভরতা অর্জন এবং সার্বিক কৃষি উন্নয়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হয়। স্বাধীনতা লাভের পর বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক অধ্যাদেশ ১৯৭৩ রাষ্ট্রপতির আদেশ বলে এ ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক কৃষি ও কৃষির সাথে জড়িত খাতের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য কৃষককে স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি ঋণ প্রদান করে থাকে। আমাদের দেশের অধিকাংশ দরিদ্র কৃষকের ছোটোখাটো প্রয়োজন মেটানো যেমন— সার, বীজ, কীটনাশক ক্রয় এবং জমি চাষ ও ফসল কাটার ব্যয় নির্বাহের জন্য ব্যাংকটি স্বল্পমেয়াদি ঋণ প্রদান করে। পাশাপাশি, জমি সমতল করা, অগভীর নলকূপ স্থাপন, গবাদি পশু এবং হালকা কৃষি যন্ত্রপাতি ক্রয়ের জন্য মধ্যমেয়াদি ঋণ এবং ট্র্যাক্টর ক্রয়, গভীর নলকূপ স্থাপন, হিমাগার নির্মাণ ইত্যাদির জন্য দীর্ঘমেয়াদি ঋণও প্রদান করে থাকে। এর ফলে কৃষকরা আধুনিক যন্ত্রপাতি ও উন্নত উপকরণ ব্যবহারের সুযোগ পায়। এছাড়া এ ব্যাংক কৃষিভিত্তিক ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প স্থাপনে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তাও দিয়ে থাকে।

উদ্দীপকে উল্লেখ করা হয়েছে, জনাব কবীরের প্রতিষ্ঠানটি ১৯৭৩ সালে রাষ্ট্রপতির আদেশবলে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এটি গ্রামের কৃষকদের বিভিন্ন মেয়াদে ঋণ প্রদান করে, যা সুস্পষ্টভাবে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের বৈশিষ্ট্য ও কার্যক্রম।

পরিশেষে বলা যায়, কৃষকদের প্রয়োজন অনুযায়ী সহজ শর্তে বিভিন্ন মেয়াদি ঋণ সুবিধা দিয়ে কৃষির আধুনিকায়ন, উৎপাদন বৃদ্ধি ও স্বনির্ভরতা অর্জনে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক সত্যিই অভাবনীয় ও অনস্বীকার্য অবদান রাখছে।

৬. ঘটনা-১: জনাব তমাল একটি প্লাস্টিক কারখানার মালিক। সাম্প্রতিককালে প্লাস্টিক পণ্য উৎপাদনের ফলে বায়ু দূষণ হওয়ায় সরকার তার উৎপাদিত পণ্যের ওপর এক ধরনের কর আরোপ করেছে।
ঘটনা-২ : 'ক' দেশের ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে মোট প্রত্যাশিত আয় ২০০ কোটি ডলার এবং মোট প্রত্যাশিত ব্যয়ও ২০০ কোটি ডলার।
উত্তর সরকার জনগণের নিকট হতে বাধ্যতামূলকভাবে যে অর্থ আদায় করে কিন্তু তার বিনিময়ে জনগণ সরকার থেকে সরাসরি বিশেষ কোনো সুযোগ-সুবিধা আশা করতে পারে না, তাকে কর বলে।
উত্তর

সরকার কর্তৃক বিনামূল্যে বই বিতরণ বাংলাদেশ সরকারের ব্যয়ের 'শিক্ষা ও প্রযুক্তি' খাতকে নির্দেশ করে।

সরকার মানবসম্পদ তৈরির লক্ষ্যে প্রাথমিক শিক্ষার সম্প্রসারণ ও গুণগত মান উন্নয়ন, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রসার এবং নারী শিক্ষার উন্নয়নে প্রতিবছর প্রচুর অর্থ ব্যয় করে। দেশের সর্বস্তরের শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশ ও শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ করা হয়। এই কার্যক্রমের যাবতীয় ব্যয় সরাসরি শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে বিবেচিত হয়।

উত্তর

উদ্দীপকের ঘটনা-১-এ জনাব তমালের উৎপাদিত পণ্যের ওপর আবগারি শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। নিচে ব্যাখ্যা করা হলো-

দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদিত ও ব্যবহৃত দ্রব্যের ওপর যে কর ধার্য করা হয়, তাকে আবগারি শুল্ক বলা হয়। এটি সরকারের কর রাজস্বের একটি অন্যতম প্রধান উৎস। সাধারণ রাজস্ব সংগ্রহ ছাড়াও সমাজে বিভিন্ন ক্ষতিকর বা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকারক দ্রব্যের উৎপাদন ও ভোগ হ্রাস করার উদ্দেশ্যেও সরকার আবগারি শুল্ক ধার্য করে থাকে।

উদ্দীপকের ঘটনা-১ এ দেখা যায়, জনাব তমাল একটি প্লাস্টিক কারখানার মালিক। তার কারখানায় প্লাস্টিক পণ্য উৎপাদনের ফলে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি তথা বায়ু দূষণ হচ্ছে। এই ক্ষতিকর প্রভাব হ্রাস করার উদ্দেশ্যে সরকার তার উৎপাদিত পণ্যের ওপর এক ধরনের কর আরোপ করেছে। যেহেতু পণ্যটি দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদিত হচ্ছে এবং এর পরিবেশগত নেতিবাচক প্রভাব কমানোর উদ্দেশ্যে এই কর ধার্য করা হয়েছে, যা সরাসরি আবগারি শুল্কের মূল উদ্দেশ্য ও বৈশিষ্ট্যকে নির্দেশ করে। সুতরাং দেখা যায়, জনাব তমালের উৎপাদিত পণ্যের ওপর আবগারি শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।

উত্তর

উদ্দীপকের ঘটনা-২ এ 'ক' দেশের প্রণীত বাজেটটি একটি সুষম বাজেট। "এই বাজেটটি বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য সহায়ক নয়”- আমি এ বক্তব্যের সাথে সম্পূর্ণ একমত। নিচে আমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দেওয়া হলো-

কোনো নির্দিষ্ট আর্থিক বছরে সরকারের প্রত্যাশিত মোট আয় এবং সম্ভাব্য মোট ব্যয়ের পরিমাণ পরস্পর সমান হলে তাকে সুষম বাজেট বলে। এই বাজেটে আয়ের সাথে সংগতি রেখে ব্যয় করা হয় বলে দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকে এবং মুদ্রাস্ফীতি ঘটার সম্ভাবনা কম থাকে। তবে বাংলাদেশের মতো একটি উন্নয়নশীল দেশের অনগ্রসরতা দূর করতে, ব্যাপক বেকারত্ব দূরীকরণে, জরুরি অবস্থা মোকাবিলা করতে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে সুষম বাজেট মোটেও সহায়ক নয়। উন্নয়নশীল দেশে প্রাকৃতিক সম্পদের পরিপূর্ণ ব্যবহার নিশ্চিত করতে এবং জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে প্রচুর পরিমাণে উন্নয়নমূলক ব্যয়ের প্রয়োজন হয়, যা সুষম বাজেট নীতির মাধ্যমে সম্ভব হয় না।

উদ্দীপকের ঘটনা-২ এ উল্লিখিত 'ক' দেশের বাজেটে মোট প্রত্যাশিত আয় ২০০ কোটি ডলার এবং মোট প্রত্যাশিত ব্যয়ও ২০০ কোটি ডলার। এখানে আয় ও ব্যয়ের পরিমাণ সম্পূর্ণ সমান অর্থাৎ (মোট আয় - মোট ব্যয়) = ০, যা একটি আদর্শ সুষম বাজেটের গাণিতিক। রূপকে প্রকাশ করে।

উন্নয়নশীল দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতায় সুষম বাজেট অপেক্ষা ঘাটতি বাজেট অনেক বেশি কল্যাণকর ও মঙ্গলজনক। বাংলাদেশের মতো দেশে রাস্তাঘাট, সেতু, যোগাযোগ ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের মতো বৃহৎ অবকাঠামো নির্মাণের জন্য যে বিপুল পরিমাণের অর্থের প্রয়োজন হয়, তা কেবল সাধারণ রাজস্ব আয় দিয়ে মেটানো সম্ভব হয় না। এই' অনগ্রসরতা কাটিয়ে উঠতে সরকারকে আয়ের চেয়ে বেশি ব্যয় করতে হয় এবং ঘাটতি পূরণের জন্য বিভিন্ন উৎস থেকে ঋণ গ্রহণ করতে হয়। এই অতিরিক্ত ব্যয় অর্থনীতিতে বেসরকারি বিনিয়োগপ্রবণতা বৃদ্ধি করে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে এবং উৎপাদন বাড়িয়ে জাতীয় আয় বৃদ্ধিতে সরাসরি অবদান রাখে। পক্ষান্তরে, 'ক' দেশের মতো সুষম বাজেট নীতি অনুসরণ করলে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড স্থবির হয়ে পড়ে।

সুতরাং পরিশেষে বলা যায়, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, বেকারত্ব হ্রাস ও দ্রুত প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে বাংলাদেশের মতো একটি উন্নয়নশীল দেশের্ জন্য 'ক' দেশের সষম বাজেটটি কোনোভাবেই সহায়ক বা যৌক্তিক নয়।।

৭. নিচের ছকটি লক্ষ কর এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
উদ্দীপকের ছবি
উত্তর ফসল উৎপাদন বা অন্য কোনো অর্থনৈতিক কাজে একাধিক বিকল্পের মধ্য থেকে অভাবের গুরুত্ব বিবেচনা করে প্রয়োজনীয়টি বাছাই বা বেছে নেওয়ার প্রক্রিয়াই হলো চয়ন।
উত্তর

চিত্তবিনোদনের জন্য একজন ছাত্রের ফুটবল খেলাকে অর্থনৈতিক কার্যাবলি বলা যাবে না, বরং এটি একটি অ-অর্থনৈতিক কাজ।

যে সমস্ত কর্মকান্ডের মাধ্যমে অর্থ উপার্জিত হয় না এবং তা জীবনধারণের জন্য ব্যয় করা যায় না, তাকে অ-অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বলা হয়। চিত্তবিনোদনের জন্য খেলাধুলা করলে মানুষের মানসিক প্রশান্তি বা শখ পূরণ হয় ঠিকই, কিন্তু এর মাধ্যমে কোনো অর্থ উপার্জিত হয় না বলে এটি অর্থনৈতিক কার্যাবলির অন্তর্ভুক্ত নয়।

উত্তর

উদ্দীপকের ছক-১ এর উপাদানগুলো দ্বারা অর্থনীতিতে 'অবাধলভ্য দ্রব্য'-কে নির্দেশ করা হয়েছে।

যে সমস্ত দ্রব্য প্রকৃতিতে বিনামূল্যে পাওয়া যায় এবং যাদের জোগান সীমাহীন থাকে, সেগুলোকে অবাধলভ্য দ্রব্য বলে। মানুষের অভাব মেটানোর ক্ষমতা থাকলেও এসব দ্রব্য প্রকৃতিতে অবাধে পাওয়া যায় বলে এগুলো পাওয়ার জন্য মানুষকে কোনো অর্থ প্রদান বা ব্যয় করতে হয় না।

উদ্দীপকের ছক-১ এ জ্যোৎস্না, হাওরের পানি এবং সূর্যের তাপের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এগুলো প্রকৃতি থেকে পাওয়া যায় এবং এদের জোগান অসীম। জ্যোৎস্না বা সূর্যের তাপ পেতে কাউকে অর্থ প্রদান করতে হয় না, আবার হাওরের পানিও প্রকৃতিতে বিনামূল্যে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়। অর্থাৎ, এগুলোর জন্য কোনো আর্থিক মূল্য চোকাতে হয় না।

সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের ছক-১ এর উপাদানগুলো সুস্পষ্টভাবে অবাধলভ্য দ্রব্যকে নির্দেশ করছে।

উত্তর

"উদ্দীপকের ছক-২ এ নির্দেশিত অর্থনৈতিক সম্পদ একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে"- উক্তিটির সাথে আমি সম্পূর্ণ একমত। কারণ ছক-২ এ নির্দেশিত. সম্পদটি হলো 'পানিসম্পদ', যা উন্নয়নের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার।

পানি একটি মৌলিক প্রাকৃতিক সম্পদ, যা প্রাণী ও উদ্ভিদের জীবনধারণের জন্য অপরিহার্য। দেশের কৃষিজ, বনজ, প্রাণিজ ও শক্তিসম্পদের অস্তিত্ব রক্ষা ও উন্নয়নের জন্য পানিসম্পদ প্রয়োজন। নদনদী, খালবিল, পুকুর ও সমুদ্র হলো পানির প্রধান উৎস। অভ্যন্তরীণ জলাশয় ও সমুদ্রে রয়েছে মাছ ও অন্যান্য জলজ সম্পদ, নদীর স্রোত থেকে উৎপন্ন হয় পানিবিদ্যুৎ এবং এই অসংখ্য নদনদীকে কেন্দ্র করেই গড়ে ওঠে দেশের যাতায়াতব্যবস্থা ও ব্যবসায় বাণিজ্য।

উদ্দীপকের ছক-২ এ বঙ্গোপসাগর, চলনবিল এবং হালদা নদীর কথা বলা হয়েছে। এই তিনটিই পানিসম্পদের বিশাল ভান্ডার। বঙ্গোপসাগর ও চলনবিল থেকে বিপুল পরিমাণ মৎস্যসম্পদ আহরণ করে মানুষের পুষ্টির চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা যায় এবং সামুদ্রিক পথ ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ করা যায়। আবার হালদা নদীর মতো পানির উৎস কৃষিকাজে সেচের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পানিসম্পদের উন্নয়ন ও সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলেই দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের গতি বৃদ্ধি পায়।

সুতরাং উপরিউক্ত যুক্তির আলোকে সহজেই বলা যায়, ছক-২ এ নির্দেশিত পানিসম্পদ দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।

৮. নিচের টেবিলটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
উদ্দীপকের ছবি
উত্তর প্রাকৃতিক ও মানবিক সম্পদ কাজে লাগিয়ে যে নতুন সম্পদ সৃষ্টি হয়, তাকে উৎপাদিত সম্পদ বলা হয়।
উত্তর

'জোগান < চাহিদা' অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় জোগান সীমিত থাকা মূলত সম্পদের 'অপ্রাচুর্যতা' বৈশিষ্ট্যকে নির্দেশ করে।

কোনো দ্রব্য সম্পদ হতে হলে তার পরিমাণ ও জোগান অবশ্যই সীমিত বা অপর্যাপ্ত হতে হবে। নদীর পানি বা বাতাসের জোগান প্রচুর বলে তা সম্পদ নয়, কিন্তু জমি, গ্যাস বা যন্ত্রপাতির চাহিদা বেশি অথচ জোগান কম হওয়ায় এগুলো অর্থনীতির ভাষায় সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হয়।

উত্তর

উদ্দীপকের টেবিল-১ এর তথ্য ব্যবহার করে উৎপাদন সম্ভাবনা রেখা অঙ্কন করা হলো-

চিত্রে ভূমি অক্ষে (OX অক্ষে) আলুর পরিমাণ (কুইন্টাল) এবং লম্ব অক্ষে (OY অক্ষে) গমের পরিমাণ (কুইন্টাল) নির্দেশ করা হয়েছে।

টেবিল-১ অনুযায়ী গমের উৎপাদন যখন ১০০ কুইন্টাল তখন আলুর উৎপাদন ০ কুইন্টাল, যার সমন্বয় বিন্দু A। গমের উৎপাদন কমিয়ে যখন ৯০ কুইন্টাল করা হয় তখন আলুর উৎপাদন হয় ৩০ কুইন্টাল, যার সমন্বয় বিন্দু B। গমের উৎপাদন আরও কমিয়ে যথাক্রমে ৬০ ও ৩০ কুইন্টাল করা হলে আলুর উৎপাদন বেড়ে যথাক্রমে ৬০ ও ৯০ কুইন্টাল হয়, যাদের সমন্বয় বিন্দু যথাক্রমে C এবং D। সবশেষে গমের উৎপাদন যখন ০ কুইন্টাল তখন আলুর উৎপাদন হয় ১০০ কুইন্টাল, যার সমন্বয় বিন্দু E। এখন A, B, C, D এবং E বিন্দুগুলো যোগ করলে যে AE রেখাটি পাওয়া যায় তা বাম থেকে ডানে নিম্নগামী এবং মূলবিন্দুর দিকে অবতল হয়। এ রেখাটিই হলো উদ্দীপকের টেবিল-১ এর তথ্যানুযায়ী অঙ্কিত উৎপাদন সম্ভাবনা রেখা।

উত্তরের ছবি
উত্তর

"উদ্দীপকের টেবিল-২ এ জসীম কর্তৃক জমাকৃত টাকা দিয়ে পানির পাম্প ক্রয় করার বিষয়টি অর্থনীতির 'বিনিয়োগ' ধারণাকে প্রতিফলিত করে, যা অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য"- উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ।

মানুষ তার বর্তমান আয়ের যে অংশ ভবিষ্যতের কথা ভেবে জমা রাখে, তা হলো সঞ্চয়। আর মানুষ তার সেই সঞ্চিত অর্থ যখন উৎপাদন বাড়ানোর কাজে ব্যবহার করে, তখন তাকে বিনিয়োগ বলে। যেমন- একটি কারখানায় এক লক্ষ টাকার মূলধন সামগ্রী থাকার পর উৎপাদন বাড়ানোর জন্য আরও পঞ্চাশ হাজার টাকার মূলধন সামগ্রী ক্রয় করা হলে, এই অতিরিক্ত পঞ্চাশ হাজার টাকাই হলো বিনিয়োগ। মূলত সঞ্চয় হলো বিনিয়োগের ভিত্তি। সঞ্চিত অর্থ যখন উৎপাদনশীল খাতে খাটানো হয়, তখন উৎপাদনের পরিমাণ বাড়ে, আয় বৃদ্ধি পায় এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব হয়।

উদ্দীপকের টেবিল-২ এ দেখা যায়, জসীম ধান বিক্রি করে ২ লক্ষ টাকা আয় করেন এবং সেখান থেকে ৮০ হাজার টাকা ভোগব্যয় মেটানোর পর অবশিষ্ট ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা তিনি ব্যাংকে জমা রাখেন। আয়ের এই জমানো অংশটি হলো তার সঞ্চয়। পরবর্তীতে তিনি সেই সঞ্চিত টাকা দিয়ে চাষাবাদের জন্য একটি পানির পাম্প ক্রয় করেন। এর ফলে তার জমিতে পানি সেচ দেওয়া সহজ হবে, যা তার ভবিষ্যৎ ফসল উৎপাদন এবং আয় আরও বৃদ্ধি করবে। জসীমের এই পানির পাম্প ক্রয় করা মূলত উৎপাদনশীল খাতে তার সঞ্চয়ের বিনিয়োগ।

সুতরাং বলা যায়, জসীমের এই বিনিয়োগ তার কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি করার পাশাপাশি জাতীয় আয় বাড়াতে সাহায্য করবে, যা অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।