চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৬
১. দৃশ্যকল্প-১: মাহদীয়ার বাবা পেট্রোবাংলায় চাকরি করেন। এ প্রতিষ্ঠানটি প্রাকৃতিক গ্যাস, কয়লা, খনিজ তেল প্রভৃতি নিয়ন্ত্রণ করে।
দৃশ্যকল্প-২: আরিফের মামা বাগেরহাট জেলায় থাকেন। আরিফ সেখানে বেড়াতে গেলে তিনি আরিফকে সুন্দরী, কেওড়া, গড়ান ইত্যাদি বৃক্ষ সংবলিত বনটি ঘুরে দেখান।
উত্তর যে সমস্ত দ্রব্য পাওয়ার জন্য মানুষকে অর্থ প্রদান করতে হয়, তাকে অর্থনৈতিক দ্রব্য বলা হয়।
উত্তর মরুভূমির বালি প্রকৃতিতে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায় এবং এর কোনো অপ্রাচুর্যতা নেই বলে একে অর্থনীতিতে সম্পদ বলা যায় না।
অর্থনীতিতে কোনো জিনিস সম্পদ হতে হলে তার উপযোগ, অপ্রাচুর্যতা, হস্তান্তরযোগ্যতা এবং বাহ্যিকতা থাকতে হয়। মরুভূমিতে বালির জোগান সীমাহীন এবং এটি পেতে মানুষকে কোনো অর্থ প্রদান করতে হয় না। অপ্রাচুর্যতা বা সীমাবদ্ধতা না থাকায় এটি অর্থনৈতিক দ্রব্য বা সম্পদ নয়।
উত্তর উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-১ এ উল্লিখিত সম্পদটি অর্থনীতির 'খনিজসম্পদ' ধারণাকে নির্দেশ করে।
বাংলাদেশ খনিজসম্পদে তেমন সমৃদ্ধ, না হলেও এখানে বেশ কিছু খনিজসম্পদ আবিষ্কৃত হয়েছে। এর মধ্যে প্রাকৃতিক গ্যাস বাংলাদেশের প্রধান খনিজসম্পদ, যা বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে, কলকারখানা ও গৃহে জ্বালানি হিসেবে এবং রাসায়নিক সার তৈরিতে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে কয়লার ক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়েছে, যা শক্তি সম্পদের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়। পাশাপাশি দেশের উপকূলীয় এলাকা ও সিলেটে খনিজ তেলের সন্ধানও চালানো হচ্ছে।
উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-১ এ বলা হয়েছে, মাহ্দীয়ার বাবা পেট্রোবাংলায় চাকরি করেন এবং প্রতিষ্ঠানটি প্রাকৃতিক গ্যাস, কয়লা, খনিজ তেল প্রভৃতি নিয়ন্ত্রণ করে। এই গ্যাস, কয়লা ও তেল সবই মাটির নিচ থেকে প্রাপ্ত প্রাকৃতিক পদার্থ। এইগুলো উত্তোলন করে শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও গৃহস্থালির কাজে ব্যবহার করা হয়, যা দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে সাহায্য করে।
সুতরাং বলা যায়, দৃশ্যকল্প-১ এর প্রাকৃতিক গ্যাস, কয়লা ও খনিজ তেল সরাসরি দেশের খনিজসম্পদকেই নির্দেশ করছে।
উত্তর উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-২ এ নির্দেশিত সম্পদটি হলো বাংলাদেশের 'বনজসম্পদ'। প্রাকৃতিক ও পরিবেশগত অবস্থা ভালো রাখার জন্য যার গুরুত্ব অপরিসীম।
বনভূমি ও বনজসম্পদ যেকোনো দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ। প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য যেকোনো দেশের মোট ভূখণ্ডের কমপক্ষে শতকরা $25$ ভাগ বনাঞ্চল থাকা দরকার। বাংলাদেশে বিভিন্ন ধরনের বন রয়েছে। পাহাড়ি বন, শাল বন ও জলাভূমির বনের পাশাপাশি খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা অঞ্চলে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বনভূমি রয়েছে। এসব বনের প্রধান প্রধান বৃক্ষগুলো হলো সুন্দরী, গেওয়া, কেওড়া, পশুর, বাইন, গরান ইত্যাদি।
উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-২ এ আরিফের মামা বাগেরহাট জেলায় থাকেন এবং তিনি আরিফকে সুন্দরী, কেওড়া, গড়ান ইত্যাদি বৃক্ষ সংবলিত যে বনটি ঘুরে দেখান, তা মূলত দেশের এই গুরুত্বপূর্ণ বনজসম্পদকেই তুলে ধরেছে। বাংলাদেশে মোট বনভূমির পরিমাণ মাত্র শতকরা $17.62$ ভাগ, যা অন্যান্য দেশের তুলনায় এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় প্রয়োজনীয় $25$ ভাগের চেয়ে অনেক কম। তাই দেশের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা এবং প্রাকৃতিক বিপর্যয় রোধে বাগেরহাটের এই বনজসম্পদের অস্তিত্ব টিকে থাকা অত্যন্ত জরুরি।
সুতরাং উপরিউক্ত আলোচনা থেকে বলা যায়, দৃশ্যকল্প-২ এ নির্দেশিত সম্পদটি হলো বনজসম্পদ, দেশের সার্বিক পরিবেশ ও অস্তিত্ব রক্ষার স্বার্থে যার গুরুত্ব অপরিসীম।
২. বাজার চাহিদা সূচি
উদ্দীপকের ছবি
উত্তর অর্থনীতিতে কোনো দ্রব্যের বা সেবার দ্বারা ব্যক্তির অভাব পূরণের ক্ষমতাকে উপযোগ বলে।
উত্তর অর্থনীতিতে যে বিধির সাহায্যে দাম ও জোগানের মধ্যকার সমমুখী বা প্রত্যক্ষ সম্পর্ক প্রকাশ করা হয়, তাকে জোগানবিধি বলে।
অন্যান্য অবস্থা অপরিবর্তিত থাকলে কোনো নির্দিষ্ট সময়ে পণ্যের দাম বৃদ্ধি পেলে জোগানের পরিমাণ বৃদ্ধি পায় এবং দাম হ্রাস পেলে জোগানের পরিমাণ হ্রাস পায়। অর্থাৎ, দাম যেদিকে পরিবর্তিত হয়, জোগানও সেদিকে পরিবর্তিত হয়। দাম ও জোগানের পরিমাণের মধ্যে বিদ্যমান এই নির্ভরশীলতার সম্পর্কটিই হলো জোগানবিধি।
উত্তর

উদ্দীপক থেকে ১ম ভোক্তার চাহিদারেখা অঙ্কন করে ব্যাখ্যা করা হলো--

চিত্রে ভূমি অক্ষে ($\mathrm{OX}$ অক্ষে) ১ম ভোক্তার চাহিদার পরিমাণ (কুইন্টাল) এবং লম্ব অক্ষে ($\mathrm{OY}$ অক্ষে) দ্রব্যের দাম (টাকায়) নির্দেশ করা হয়েছে।
সূচি অনুযায়ী, দ্রব্যের দাম যখন সর্বোচ্চ $30$ টাকা তখন ১ম ভোক্তার চাহিদার পরিমাণ সর্বনিম্ন $6$ কুইন্টাল, যার সমন্বয় বিন্দু $\mathrm{a}$। দ্রব্যের দাম হ্রাস পেয়ে যখন $20$ টাকা ও $10$ টাকা হয়, তখন ১ম ভোক্তার চাহিদার পরিমাণ ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেয়ে যথাক্রমে $12$ কুইন্টাল ও $18$ কুইন্টাল হয়, যাদের সমন্বয় বিন্দু যথাক্রমে $\mathrm{b}$ এবং $\mathrm{c}$।
এখন $\mathrm{a}$, $\mathrm{b}$ এবং $\mathrm{c}$ বিন্দুগুলো যোগ করলে যে রেখাটি পাওয়া যায় তা বাম থেকে ডানদিকে নিম্নগামী। এই রেখাটিই হলো উদ্দীপকের তথ্যের আলোকে অঙ্কিত ১ম ভোক্তার ব্যক্তিগত চাহিদারেখা।

উত্তরের ছবি
উত্তর

বাজারে একটি নির্দিষ্ট দামে সব ভোক্তার ব্যক্তিগত চাহিদার সমষ্টিকে বাজার চাহিদা বলা হয়। উদ্দীপকের সূচিতে ১ম ও ২য় ভোক্তার চাহিদার সমষ্টি হিসেবে বাজার চাহিদার পরিমাণ ($\mathrm{Q}$) দেওয়া আছে। এর আলোকে নিচে বাজার চাহিদা রেখা অঙ্কন করে ব্যাখ্যা করা হলো-

চিত্রে ভূমি অক্ষে ($\mathrm{OX}$ অক্ষে) বাজার চাহিদার পরিমাণ (কুইন্টাল) এবং লম্ব অক্ষে ($\mathrm{OY}$ অক্ষে) দ্রব্যের দাম (টাকায়) নির্দেশ করা হয়েছে।
সূচি অনুযায়ী, দ্রব্যের দাম যখন সর্বোচ্চ $30$ টাকা তখন বাজারে ১ম ও ২য় ভোক্তার চাহিদার সমষ্টি বা বাজার চাহিদার পরিমাণ $18$ কুইন্টাল, যার সমন্বয় বিন্দু $\mathrm{a}$। দ্রব্যের দাম কমে যখন $20$ টাকা ও $10$ টাকা হয়, তখন বাজার চাহিদার পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে যথাক্রমে $28$ কুইন্টাল ও $30$ কুইন্টাল হয়, যাদের সমন্বয় বিন্দু যথাক্রমে $\mathrm{b}$ এবং $\mathrm{c}$।
এখন $\mathrm{a}$, $\mathrm{b}$ এবং $\mathrm{c}$ বিন্দুগুলো যোগ করলে যে রেখাটি পাওয়া যায় তা বাম থেকে ডানদিকে নিম্নগামী। এই রেখাটিই হলো উদ্দীপকের তথ্যের আলোকে অঙ্কিত বাজার চাহিদা রেখা। উল্লেখ্য, বাজার চাহিদা রেখাটি একাধিক ভোক্তার ব্যক্তিগত চাহিদা রেখাগুলোর আনুভূমিক যোগফল। এ কারণে বাজার চাহিদা রেখাটি ব্যক্তিগত চাহিদা রেখার তুলনায় অপেক্ষাকৃত বেশি ঢালু ($\mathrm{flatter}$) প্রকৃতির হয়ে থাকে।

উত্তরের ছবি
৩. নিচের সূচিটি লক্ষ করো এবং সংশ্লিষ্ট প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
উদ্দীপকের ছবি
উত্তর যে দামে বাজারে কোনো দ্রব্যের চাহিদা ও জোগান পরস্পর সমান হয়, তাকে ভারসাম্য দাম বলে।
উত্তর ভোগ ও ভোক্তার সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়; মূলত ভোক্তা দ্রব্যের ভোগ ও সেবার ব্যবহারের মাধ্যমেই উপযোগ পেয়ে থাকে।
অর্থনীতিতে মানুষের অভাব পূরণের জন্য কোনো দ্রব্যের উপযোগ নিঃশেষ করাকে ভোগ বলা হয়। অন্যদিকে, যে ব্যক্তি এই ভোগ করে বা ভোগ করার জন্য অর্থ ব্যয় করতে প্রস্তুত থাকে, তাকে ভোক্তা বলা হয়। অর্থাৎ, একজন ভোক্তা তার অসীম অভাব পূরণের উদ্দেশ্যেই দ্রব্য বা সেবা ভোগ করে থাকে। তাই ভোগ ছাড়া ভোক্তার যেমন অস্তিত্ব নেই, তেমনি ভোক্তা ছাড়াও ভোগের কোনো অর্থনৈতিক তাৎপর্য নেই।
উত্তর

কোনো নির্দিষ্ট সময়ে একটি দ্রব্যের বিভিন্ন একক থেকে প্রাপ্ত তৃপ্তির সমষ্টিকে মোট উপযোগ বলে। ভোগকৃত দ্রব্যের অতিরিক্ত এককের উপযোগ বা প্রান্তিক উপযোগগুলো যোগ করেই মোট উপযোগ পাওয়া যায়। নিচে উদ্দীপকের সূচি হতে মোট উপযোগ নির্ণয় করে একটি নতুন সূচি তৈরি করা হলো-

তৈরিকৃত সূচিতে দেখা যায়, ১ম একক দ্রব্য ভোগ করে ভোক্তা ১৬ একক প্রান্তিক উপযোগ লাভ করে, তাই এ পর্যায়ে মোট উপযোগও ১৬। এরপর ২য়, ৩য় ও ৪র্থ একক দ্রব্য ভোগের ক্ষেত্রে প্রান্তিক উপযোগ ক্রমান্বয়ে হ্রাস পেয়ে যথাক্রমে ১২, ৮ ও ৪ হলেও মোট উপযোগ ক্রমহ্রাসমান হারে বৃদ্ধি পেয়ে যথাক্রমে ২৮, ৩৬ ও ৪০ হয়। ৫ম একক ভোগের সময় প্রান্তিক উপযোগ শূন্য (০) হয় এবং মোট উপযোগ সর্বোচ্চ তথা ৪০-এ স্থির থাকে। কিন্তু ৬ষ্ঠ একক দ্রব্য ভোগ করলে প্রান্তিক উপযোগ ঋণাত্মক (-৪) হয়ে যায়, যার ফলে মোট উপযোগ হ্রাস পেয়ে ৩৬-এ নেমে আসে।

উত্তরের ছবি
উত্তর

উদ্দীপকের সূচিতে অর্থনীতির 'ক্রমহ্রাসমান প্রান্তিক উপযোগ বিধি'-কে নির্দেশ করা হয়েছে।

নিচে উদ্দীপকের সূচির আলোকে চিত্রসহ বিধিটি বিশ্লেষণ করা হলো-

চিত্রে ভূমি অক্ষে ($\mathrm{OX}$ অক্ষে) ভোগের পরিমাণ এবং লম্ব অক্ষে ($\mathrm{OY}$ অক্ষে) প্রান্তিক উপযোগ নির্দেশ করা হয়েছে।

সূচি অনুযায়ী, ভোক্তা যখন ১ম একক দ্রব্য ভোগ করে তখন তার প্রান্তিক উপযোগ ১৬, যার সমন্বয় বিন্দু $\mathrm{a}$। ভোগের পরিমাণ বাড়িয়ে ২য়, ৩য়, ৪র্থ ও ৫ম একক করার ফলে প্রান্তিক উপযোগ ক্রমান্বয়ে হ্রাস পেয়ে যথাক্রমে ১২, ৮, ৪ ও ০ হয়, যাদের সমন্বয় বিন্দু যথাক্রমে $\mathrm{b}$, $\mathrm{c}$, $\mathrm{d}$ এবং $\mathrm{e}$। অর্থাৎ $\mathrm{e}$ বিন্দুতে (৫ম এককে) প্রান্তিক উপযোগ শূন্য। এরপর ভোক্তা যখন ৬ষ্ঠ একক দ্রব্য ভোগ করে তখন তার প্রান্তিক উপযোগ ঋণাত্মক তথা -৪ হয়, যা ভূমি অক্ষের নিচে $\mathrm{f}$ বিন্দু দ্বারা নির্দেশ করা হয়েছে।

এখন $\mathrm{a}$, $\mathrm{b}$, $\mathrm{c}$, $\mathrm{d}$, $\mathrm{e}$ এবং $\mathrm{f}$ বিন্দুগুলো যোগ করলে যে $\mathrm{MU}$ ($\mathrm{Marginal~Utility}$) রেখাটি পাওয়া যায়, তা বাম থেকে ডান দিকে নিম্নগামী। রেখাটি নিম্নগামী হওয়ার মূল কারণ হলো ভোগের পরিমাণ বৃদ্ধির সাথে সাথে প্রান্তিক উপযোগের ক্রমহ্রাসমান প্রবণতা।

সুতরাং, উদ্দীপকে ক্রমহ্রাসমান প্রান্তিক উপযোগ বিধিটিই নিখুঁতভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

উত্তরের ছবি
৪. উদ্দীপকটি পড়ো এবং নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
উদ্দীপকের ছবি
উত্তর কোনো অর্থনৈতিক দ্রব্য ও সেবার মালিকানা পরিবর্তনের মাধ্যমে যে অতিরিক্ত উপযোগ সৃষ্টি করা হয়, তাকে মালিকানাগত উপযোগ বলে।
উত্তর মানুষ কর্তৃক উৎপাদিত যে, উপকরণ বর্তমান ভোগের জন্য ব্যবহার না করে নতুন দ্রব্য উৎপাদনে পুনরায় ব্যবহার করা হয়, তাকে মূলধন বলে।
প্রকৃতিতে মূলধন সরাসরি পাওয়া যায় না, এটি মূলত মানুষের শ্রমের ফল। যেমন- মানুষ কারখানায় যেসব যন্ত্রপাতি তৈরি করে, সেগুলো পরবর্তীতে নতুন পণ্য উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়। এভাবেই উৎপাদিত দ্রব্য পুনরায় উৎপাদন কাজে ব্যবহার করা হয় বলেই মূলধনকে 'উৎপাদনের উৎপাদিত উপকরণ' বলা হয়।
উত্তর

উদ্দীপকের সূচি হতে শ্রমের বিভিন্ন এককে মোট উৎপাদনকে ($\mathrm{TP}$) মোট শ্রম উপকরণ ($\mathrm{L}$) দ্বারা ভাগ করে গড় উৎপাদন ($\mathrm{AP}$) নির্ণয় করা হলো-

মোট উৎপাদনের পরিমাণকে মোট উপকরণ বা উপাদান দ্বারা ভাগ করলে গড় উৎপাদন পাওয়া যায়। অর্থাৎ, প্রতি একক শ্রমের বিপরীতে গড়ে যে পরিমাণ উৎপাদন হয়, তা-ই গড় উৎপাদন।

সূচি অনুযায়ী দেখা যায়, শ্রমের নিয়োগ ১ একক থেকে বৃদ্ধি করে ২ একক করা হলে গড় উৎপাদন ৪ থেকে বেড়ে ৫ হয়। এরপর শ্রম ৩ এককে উন্নীত করলেও গড় উৎপাদন ৫-ই থাকে। পরবর্তীতে শ্রমের পরিমাণ ৪, ৫ এবং ৬ একক পর্যন্ত বৃদ্ধি করতে থাকলে গড় উৎপাদন ক্রমান্বয়ে হ্রাস পেয়ে যথাক্রমে ৪, ৩.২ এবং ২ হয়। অর্থাৎ, শ্রম বৃদ্ধির প্রাথমিক পর্যায়ে গড় উৎপাদন বাড়লেও একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ের পর তা ক্রমশ কমতে থাকে।

উত্তরের ছবি
উত্তর

উদ্দীপকে প্রদত্ত তথ্যের আলোকে সূচি তৈরি করে গড় উৎপাদন ($\mathrm{AP}$) ও প্রান্তিক উৎপাদনের ($\mathrm{MP}$) মধ্যকার নিবিড় সম্পর্কটি চিত্রের সাহায্যে বিশ্লেষণ করা হলো-

চিত্রে ভূমি অক্ষে শ্রমের পরিমাণ এবং লম্ব অক্ষে গড় ও প্রান্তিক উৎপাদন নির্দেশ করা হয়েছে। সূচি অনুযায়ী শ্রমের বিভিন্ন এককের বিপরীতে প্রাপ্ত $\mathrm{AP}$ এর মানগুলোর সমন্বয় বিন্দু যোগ করে $\mathrm{AP}$ রেখা এবং $\mathrm{MP}$-এর মানগুলোর সমন্বয় বিন্দু যোগ করে $\mathrm{MP}$ রেখা অঙ্কন করা হয়েছে। রেখাদ্বয় ৩য় একক শ্রমে পরস্পরকে ছেদ করেছে।

চিত্র ও সূচি থেকে $\mathrm{AP}$ ও $\mathrm{MP}$ রেখার মধ্যকার সম্পর্কটি অত্যন্ত স্পষ্ট। প্রথমত, শ্রম নিয়োগের প্রাথমিক পর্যায়ে $\mathrm{MP}$ রেখা $\mathrm{AP}$ রেখার উপরে অবস্থান করে, অর্থাৎ প্রান্তিক উৎপাদন বেশি হারে বাড়ে। দ্বিতীয়ত, ৩য় এককে গড় ও প্রান্তিক উৎপাদন পরস্পর সমান (৫) হয় এবং এ বিন্দুতেই গড় উৎপাদন সর্বোচ্চ হয়। তৃতীয়ত, ৩য় এককের পর থেকে শ্রম বৃদ্ধি করলে উভয়েই কমতে থাকে, তবে $\mathrm{MP}$ রেখা $\mathrm{AP}$ রেখার নিচে অবস্থান করে। এমনকি একপর্যায়ে $\mathrm{MP}$ শূন্য ও ঋণাত্মক হলেও $\mathrm{AP}$ সর্বদা ধনাত্মক থাকে।

সুতরাং বলা যায়, উৎপাদনের ক্ষেত্রে গড় ও প্রান্তিক উৎপাদন একটি সুনির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলে এবং পরস্পরকে প্রভাবিত করে।

উত্তরের ছবি
৫.

ঘটনা-১ : 'ক' দেশে ২০২৪ সালে মোট দেশজ উৎপাদন ছিল $27,660$ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। একই বছর দেশটির মোট জনসংখ্যা ছিল $15$ কোটি।

ঘটনা-২: জনাব ইরাদ হোসেন উচ্চশিক্ষা অর্জনের জন্য 'খ' দেশে যান। পড়াশোনা শেষ করে সেখানেই তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ভালো চাকরি পান। তিনি পারিবারিক ব্যয় মেটানোর জন্য প্রতি মাসে $50,000$ টাকা দেশে পাঠান।

উত্তর CCA-এর পূর্ণরূপ হলো- Capital Consumption Allowance.
উত্তর প্রযুক্তি উৎপাদনের উন্নত কৌশল, নতুন যন্ত্রপাতি ও উন্নত উপকরণ ব্যবহারের মাধ্যমে উৎপাদনের উপকরণের উৎপাদনশীলতা বাড়িয়ে দেয়।
প্রযুক্তির উন্নয়ন বলতে নতুন আবিষ্কার, যন্ত্রপাতির নকশা ও দক্ষতার উন্নতি ইত্যাদিকে বোঝায়। প্রযুক্তি মূলত কম উপকরণ ব্যবহার করে অধিক উৎপাদন বা একই পরিমাণ উপকরণ দিয়ে আগের চেয়ে বেশি উৎপাদন নিশ্চিত করে। যেমন- কৃষিতে সনাতন পদ্ধতির পরিবর্তে আধুনিক যন্ত্রপাতি এবং উচ্চ ফলনশীল (উফশী) বীজ ব্যবহার করলে উৎপাদন বহুগুণ বৃদ্ধি পায়।
উত্তর

উদ্দীপকের ঘটনা-১ এ নির্দেশিত 'ক' দেশের মাথাপিছু মোট দেশজ উৎপাদন নির্ণয় করা হলো-

মাথাপিছু মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) বলতে জনপ্রতি বার্ষিক জিডিপিকে বোঝায়। কোনো নির্দিষ্ট আর্থিক বছরে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনকে উক্ত বছরের মধ্য সময়ের মোট জনসংখ্যা দ্বারা ভাগ করলেই মাথাপিছু জিডিপি পাওয়া যায়। সূত্রাকারে,

মাথাপিছু জিডিপি = $\frac{\mathrm{কোনো~নির্দিষ্ট~বছরে~মোট~দেশজ~উৎপাদন}}{\mathrm{ঐ~বছরের~মধ্য~সময়ের~মোট~জনসংখ্যা}}$

উদ্দীপকের ঘটনা-১-এ দেওয়া আছে,
'ক' দেশের ২০২৪ সালে মোট দেশজ উৎপাদন = $27,660$ মিলিয়ন মার্কিন ডলার
'ক' দেশের মোট জনসংখ্যা = $15$ কোটি (বা $150$ মিলিয়ন)

অতএব, 'ক' দেশের মাথাপিছু জিডিপি = $\frac{27,660~\mathrm{মিলিয়ন~মার্কিন~ডলার}}{150~\mathrm{মিলিয়ন}}$
= $184.4$ মার্কিন ডলার।

অর্থাৎ, 'ক' দেশটির মাথাপিছু মোট দেশজ উৎপাদন $184.4$ মার্কিন ডলার।

উত্তর উদ্দীপকের ঘটনা-২-এ নির্দেশিত জনাব ইরাদ হোসেনের প্রেরিত অর্থ বাংলাদেশের মোট জাতীয় আয়ে ($\mathrm{GNI}$) ধনাত্মক প্রভাব ফেলবে এবং জাতীয় আয় বৃদ্ধি করবে।
কোনো নির্দিষ্ট সময়ে সাধারণত আর্থিক বছরে কোনো দেশের নাগরিকগণ কর্তৃক যে পরিমাণ চূড়ান্ত দ্রব্য ও সেবা উৎপন্ন হয় তার বাজারমূল্যের সমষ্টিকে মোট জাতীয় আয় ($\mathrm{GNI}$) বলে। মোট দেশজ উৎপাদনের ($\mathrm{GDP}$) সাথে নিট উপাদান আয় যোগ করে মোট জাতীয় আয় পাওয়া যায়। নিট উপাদান আয় বলতে একটি দেশের নাগরিকগণ বৈদেশিক বিনিয়োগ ও শ্রম থেকে যে আয় করে এবং বিদেশি নাগরিকগণ আলোচ্য দেশে বিনিয়োগ ও শ্রম থেকে যে আয় করে এ দুয়ের বিয়োগফলকে বোঝায়। অর্থাৎ জাতীয় আয় নির্ণয়ের ক্ষেত্রে বিদেশে অবস্থানরত দেশীয় নাগরিকদের আয় মোট দেশজ উৎপাদনের সাথে যোগ করতে হয়।
উদ্দীপকের ঘটনা-২-এ দেখা যায়, জনাব ইরাদ হোসেন 'খ' দেশে উচ্চশিক্ষা শেষে সেখানেই একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছেন। তিনি পারিবারিক ব্যয় মেটানোর জন্য প্রতি মাসে $50,000$ টাকা দেশে পাঠান। যেহেতু তিনি বাংলাদেশের নাগরিক এবং বিদেশে কাজ করে রেমিট্যান্স হিসেবে এই অর্থ দেশে পাঠাচ্ছেন, তাই তার এই আয় বাংলাদেশের মোট জাতীয় আয়ের ($\mathrm{GNI}$) সাথে সরাসরি যোগ হবে।
সুতরাং দেখা যায়, জনাব ইরাদ হোসেনের প্রেরিত অর্থ বাংলাদেশের নিট উপাদান আয়কে বৃদ্ধি করতে সাহায্য করবে, যা চূড়ান্তভাবে বাংলাদেশের মোট জাতীয় আয় বৃদ্ধিতে সরাসরি প্রভাব ফেলবে।
৬. জনাব আঃ গাফফার একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন, যেটি মুদ্রার বিনিময় হার নির্ধারণ ও নিয়ন্ত্রণ করে। এছাড়াও প্রতিষ্ঠানটি দেশের সরকারকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে সুষ্ঠুভাবে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নে সহায়তা করে। অন্যদিকে, তার বন্ধু জনাব মোজাফফর অন্য একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। এ প্রতিষ্ঠানটি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ব্যক্তিগত সঞ্চয়কে আমানত হিসেবে গ্রহণ করে এবং বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার ও সরকারি বন্ড ক্রয়-বিক্রয়ে সাহায্য করে। ব্যবসায় বাণিজ্য ও নতুন শিল্প স্থাপনেও প্রতিষ্ঠানটি ঋণ প্রদান করে।
উত্তর সরকার কর্তৃক প্রবর্তিত যে বস্তু মূল্যের পরিমাপক, দেনা-পাওনা মেটানোর উপায় হিসেবে সর্বত্র গ্রহণযোগ্য, সঞ্চয়ের বাহন ও ঋণের ভিত্তি হিসেবে স্বীকৃত, তাকে অর্থ বলে।
উত্তর স্থায়ী আমানত একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য ব্যাংকে রাখা হয় বলে ব্যাংক এই আমানতের ওপর অধিক হারে সুদ প্রদান করে থাকে। এই আমানত সাধারণত $3$ মাস, $6$ মাস, $1$ বছর বা $5$ বছর ইত্যাদি নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য করা হয়। যেহেতু একটি নির্দিষ্ট সময়ের আগে আমানতকারী সাধারণত এই অর্থ তোলেন না, তাই ব্যাংক এই অর্থ দীর্ঘমেয়াদে লাভজনক খাতে বিনিয়োগ করতে পারে এবং এর বিপরীতে আমানতকারীকে অপেক্ষাকৃত অধিক হারে সুদ প্রদান করে।
উত্তর

উদ্দীপকে উল্লিখিত জনাব আঃ গাফফারের প্রতিষ্ঠানটি হলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক হলো এমন একটি প্রতিষ্ঠান, যা ব্যাংকব্যবস্থার শীর্ষে অবস্থান করে সমগ্র ব্যাংকব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করে এবং মুদ্রাবাজারের অভিভাবক হিসেবে কাজ করে। বৈদেশিক লেনদেনে ভারসাম্য আনয়ন ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেশীয় মুদ্রার সাথে বিদেশি মুদ্রার বিনিময় হার নির্ধারণ ও নিয়ন্ত্রণ করে। এছাড়া সরকারের ব্যাংক হিসেবে এ ব্যাংক সরকারের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও নীতি নির্ধারণে প্রয়োজনীয় তথ্য ও পরামর্শ দিয়ে তা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
উদ্দীপকে জনাব আঃ গাফফার যে প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন, সেটি মুদ্রার বিনিময় হার নির্ধারণ ও নিয়ন্ত্রণ করে এবংf সরকারকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নে পরামর্শ দেয়। এই কাজগুলো সম্পূর্ণভাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কার্যাবলির অন্তর্ভুক্ত।
সুতরাং, দেখা যায়, জনাব আঃ গাফফারের প্রতিষ্ঠানের প্রকৃতি হলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

উত্তর উদ্দীপকে নির্দেশিত জনাব আঃ গাফফারের প্রতিষ্ঠানটি হলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং জনাব মোজাফফরের প্রতিষ্ঠানটি হলো বাণিজ্যিক ব্যাংক। নিচে প্রতিষ্ঠান দুটির কার্যক্রমের তুলনামূলক বিশ্লেষণ তুলে ধরা হলো-
কেন্দ্রীয় ব্যাংক হলো দেশের সমগ্র ব্যাংকব্যবস্থার নিয়ন্ত্রক ও অভিভাবক, যার প্রধান উদ্দেশ্য মুনাফা সর্বোচ্চকরণ নয়; বরং দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা ও জনকল্যাণ নিশ্চিত করা। এটি নোট ও মুদ্রার প্রচলন করে, মুদ্রার মান সংরক্ষণ করে এবং সরকারের আর্থিক উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করে। অন্যদিকে, বাণিজ্যিক ব্যাংক হলো এমন একটি প্রতিষ্ঠান, যা মূলত মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অর্থ আমানত হিসেবে জমা রাখে এবং তাদের চাহিদা অনুযায়ী ঋণ প্রদান করে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সরাসরি জনগণের সাথে লেনদেন করে না, বরং অন্যান্য ব্যাংকের ব্যাংক হিসেবে কাজ করে। বিপরীতে, বাণিজ্যিক ব্যাংক দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ব্যক্তিগত সঞ্চয়কে আমানত হিসেবে গ্রহণ করে। এই জমাকৃত অর্থ থেকে ব্যাংকসমূহ নতুন শিল্পকারখানা নির্মাণ ও ব্যবসায় বাণিজ্যের সম্প্রসারণে ঋণ সহায়তা দান করে। এছাড়া বাণিজ্যিক ব্যাংক বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার ও সরকারি বন্ড ক্রয়-বিক্রয়ে সহায়তা করে, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাধারণ কার্যাবলির অন্তর্ভুক্ত নয়।
উদ্দীপকে আঃ গাফফারের প্রতিষ্ঠানটি মুদ্রার বিনিময় হার নিয়ন্ত্রণ ও সরকারকে পরামর্শ দেয়, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাজ। অন্যদিকে, মোজাফফরের প্রতিষ্ঠানটি ক্ষুদ্র সঞ্চয় গ্রহণ, শেয়ার ক্রয়-বিক্রয় ও শিল্পে ঋণ দেয়, যা বাণিজ্যিক ব্যাংকের বৈশিষ্ট্য। আমার মতে, একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে এই উভয় প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমই একে অপরের পরিপূরক। কেন্দ্রীয় ব্যাংক আর্থিক নীতি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখে, আর সেই কাঠামোর ভেতরে থেকে বাণিজ্যিক ব্যাংক শিল্পায়ন, মূলধন গঠন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে দেশের সার্বিক উন্নয়নকে সরাসরি ত্বরান্বিত করে।
৭. জনাব আহাদ একজন ব্যাংক কর্মকর্তা। তার ব্যাংকটি বাংলাদেশ শিল্প ব্যাংক ও বাংলাদেশ শিল্প ঋণ সংস্থা নামক প্রতিষ্ঠান দুটি একীভূত হয়ে গঠিত হয়। এই ব্যাংকের ক্ষেত্রে ঋণ পরিশোধের সময়সীমা সর্বোচ্চ $20$ বছর। অন্যদিকে, তার ছোটো ভাই জনাব ফাহাদ অন্য একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন, যা ১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি সাধারণ জনগণের মধ্যে তথ্যসেবা ও আধুনিক প্রযুক্তির সুযোগ পৌঁছে দিতে পল্লিফোন সেবা চালু করে।
উত্তর বাণিজ্যিক ব্যাংক ঋণ প্রদান বা আমানত সৃষ্টির মাধ্যমে যে অর্থ সৃষ্টি করে এবং যা ব্যবসায়িক লেনদেনে মানুষ বিনিময় মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করে, তাকে ব্যাংকসৃষ্ট অর্থ বলে।
উত্তর ভবিষ্যৎ বা স্থগিত দেনা-পাওনার হিসাব-নিকাশ অর্থের মাধ্যমে করা হয় বলে অর্থকে স্থগিত লেনদেনের বাহন বলা হয়।
স্থগিত লেনদেন বলতে ভবিষ্যতের দেনা-পাওনাকে নির্দেশ করে। বর্তমান সময়ে অধিকাংশ ব্যবসায়িক লেনদেন চেক, ব্যাংক ড্রাফট, বিনিময় বিল প্রভৃতি ঋণপত্রের মাধ্যমে সম্পন্ন হয় এবং ব্যাংকে আমানত হিসেবে রক্ষিত নগদ অর্থের ভিত্তিতেই ব্যাংক এসব ঋণপত্র প্রচলন করে। অর্থের মাধ্যমে এভাবে ঋণ গ্রহণ সহজ এবং ওই ঋণ পরিশোধ করাও সুবিধাজনক বিধায় এটি স্থগিত লেনদেনের বাহন হিসেবে কাজ করে।
উত্তর

উদ্দীপকে উল্লিখিত জনাব আহাদের ব্যাংকটি হলো বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেড।

$2009$ সালের $31$ ডিসেম্বর বাংলাদেশ শিল্প ব্যাংক ও বাংলাদেশ শিল্পঋণ সংস্থা নামক প্রতিষ্ঠান দুটি একীভূত করে বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেড গঠিত হয়। এ ব্যাংক মূলত দেশের সাথে সম্পৃক্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে ঋণ প্রদান করে। সরকারি ও বেসরকারি খাতে নতুন শিল্প নির্মাণ, পুরাতন শিল্প সম্প্রসারণ ও আধুনিকীকরণের জন্য ব্যাংকটি দীর্ঘমেয়াদি ঋণ দিয়ে থাকে, যার পরিশোধের সময়সীমা সর্বোচ্চ $20$ বছর। এছাড়া, ব্যাংকটি পল্লি এলাকায় কৃষিভিত্তিক শিল্প স্থাপনে অগ্রাধিকার দেয় এবং স্বনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্যে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করে মেয়াদি ঋণ প্রদান করে থাকে।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে যে, জনাব আহাদের ব্যাংকটি বাংলাদেশ শিল্প ব্যাংক ও বাংলাদেশ শিল্প ঋণ সংস্থা একীভূত হয়ে গঠিত হয়েছে এবং এর ঋণ পরিশোধের সময়সীমা সর্বোচ্চ $20$ বছর। এই বৈশিষ্ট্যগুলো বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেডের গঠনপ্রকৃতি ও কার্যাবলির সুস্পষ্ট নির্দেশক।
সুতরাং বলা যায়, জনাব আহাদের ব্যাংকটির স্বরূপ হলো বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেড।

উত্তর উদ্দীপকে উল্লিখিত জনাব ফাহাদের প্রতিষ্ঠানটি হলো গ্রামীণ ব্যাংক। সুবিধাবঞ্চিত মানুষের ভাগ্য উন্নয়ন ও আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গ্রামীণ ব্যাংক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকরী ভূমিকা পালন করছে।
গ্রামের অতি স্বল্প জমির মালিক, ভূমিহীন এবং অন্যান্য অতি দরিদ্র নারী-পুরুষের মাঝে ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে $1983$ সালে গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হয়। সুবিধাবঞ্চিত বেকার জনগোষ্ঠীকে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় সংঘবদ্ধ করে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করার লক্ষ্যে এ ব্যাংক কাজ করে। ব্যাংকটি ভিক্ষুককে সুদবিহীন ঋণ দিয়ে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ প্রদান করে। এছাড়া, গ্রামীণফোনের কারিগরি সহায়তায় গ্রামের সাধারণ জনগণের মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তির সুযোগ পৌঁছে দেওয়ার জন্য এ ব্যাংক পল্লিফোন চালু করেছে। দরিদ্র অসহায় নারীদের ঋণ হিসেবে পল্লিফোন প্রদান করা হয় এবং এর আয় থেকে ঋণ পরিশোধ করে নারীদের পুনর্বাসনের চেষ্টা করা হয়। এর পাশাপাশি নারীকে কর্মে উদ্বুদ্ধকরণ ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশেও ব্যাংকটি সহায়তা করে।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, জনাব ফাহাদের প্রতিষ্ঠানটি $1983$ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং সাধারণ মানুষের কাছে আধুনিক প্রযুক্তির সুযোগ পৌঁছে দিতে পল্লিফোন সেবা চালু করে। এটি মূলত গ্রামীণ ব্যাংকেরই সুনির্দিষ্ট কার্যক্রম। আমার মতে, বিনা জামানতে ও সহজ শর্তে ঋণ প্রদান, পল্লিফোনের মাধ্যমে নারীদের পুনর্বাসন এবং বেকার জনগোষ্ঠীকে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় নিয়ে আসার মাধ্যমে গ্রামীণ ব্যাংক সমাজের সবচেয়ে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে এক অভাবনীয় ভূমিকা পালন করছে।
৮.

দৃশ্যকল্প-১: মোঃ ইবনে শাবিব শহরের একটি স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র। গত ঈদে গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার সময় সে নির্ধারিত মূল্যের একটি দোকান থেকে তার মায়ের জন্য একটি শাড়ি ক্রয় করে। শাড়ির মূল্য পরিশোধের সময় তাকে নির্ধারিত মূল্য ছাড়াও অতিরিক্ত অর্থ প্রদান করতে হয়।

দৃশ্যকল্প-২: জনাব আলিফ একজন ব্যবসায়ী। তার বার্ষিক নিট আয় $15$ লক্ষ টাকা হওয়ায় তাকে প্রতিবছর সরকারকে একটা নির্ধারিত হারে অতিরিক্ত অর্থ প্রদান করতে হয়।

উত্তর যে বাজেটে সরকারের চলতি আয় ও চলতি ব্যয়ের হিসাব দেখানো হয়, তাকে রাজস্ব বাজেট বলে।
উত্তর অর্থনীতির যে শাখায় সরকারের আয়, ব্যয় ও ঋণসংক্রান্ত বিষয়াবলি আলোচনা হয়, তাকে সরকারি অর্থব্যবস্থা বলে।
একটি দেশের জনসাধারণের সর্বোচ্চ কল্যাণ নিশ্চিত ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য সরকার কোন কোন খাতে, কীভাবে, কোন নীতিতে ব্যয় করবে, তা সরকারি অর্থব্যবস্থায় বিশদভাবে আলোচনা করা হয়। এছাড়া সরকারি ব্যয় নির্বাহের জন্য কীভাবে, কোন কোন উৎস হতে আয় সংগ্রহ করা হবে অথবা কোন উৎস থেকে কতটুকু ঋণ গ্রহণ করা হবে, তাও এ ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত।
উত্তর উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-১-এ মোঃ ইবনে শাবিব কর্তৃক প্রদত্ত অতিরিক্ত অর্থটি সরকারি রাজস্বের মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট ($\mathrm{VAT}$) উৎসের অন্তর্গত।
উৎপাদন ক্ষেত্রে কাঁচামাল থেকে শুরু করে চূড়ান্ত দ্রব্য উৎপাদন পর্যন্ত বেশ কয়েকটি স্তর অতিক্রম করতে হয়। উৎপাদনের এরূপ বিভিন্ন স্তরে যে মূল্য সংযোজিত হয় তার ওপর একটি নির্দিষ্ট হারে যে কর আরোপ করা হয়, তাকে মূল্য সংযোজন কর বলে। বাংলাদেশে $1991$-$92$ অর্থবছর থেকে এই কর চালু করা হয়েছে। বর্তমানে আমদানিকৃত দ্রব্য, স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত দ্রব্য এবং বিভিন্ন সেবা খাতের ওপর এই ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে, যা চূড়ান্ত পণ্য ক্রয়ের সময় ভোক্তার কাছ থেকে আদায় করা হয়।
উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-১-এ মোঃ ইবনে শাবিব একটি দোকান থেকে শাড়ি ক্রয় করার পর মূল্য পরিশোধের সময় নির্ধারিত দামের বাইরেও অতিরিক্ত কিছু অর্থ প্রদান করে। বিক্রয়কর্মীর তথ্য অনুযায়ী এই অতিরিক্ত অর্থটি মূলত এক ধরনের কর যা পণ্য বিক্রয়ের স্তরে ক্রেতাকে বাধ্যতামূলকভাবে দিতে হয়। কেনাকাটার সময় পরিশোধিত এই অতিরিক্ত অর্থ সরাসরি মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাটের স্বরূপ ও বৈশিষ্ট্যকে তুলে ধরে। সুতরাং দেখা যায়, ইবনে শাবিবের প্রদত্ত অর্থটি মূল্য সংযোজন কর।
উত্তর উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-২-এ জনাব আলিফ কর্তৃক প্রদত্ত অর্থটি হলো আয়কর। এই আয়কর দেশের আর্থসামাজিক তথা সার্বিক উন্নয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রত্যক্ষ সহায়ক ভূমিকা পালন করে বলে আমি মনে করি।
কোনো ব্যক্তির বা কোম্পানির আয়ের ওপর যে কর ধার্য করা হয়, তাকে আয়কর বলে। এটি সরকারের কর রাজস্বের একটি অন্যতম প্রধান উৎস। দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন, জনকল্যাণ সাধন, প্রশাসন পরিচালনা, দেশরক্ষা এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের জন্য সরকারকে প্রতিবছর প্রচুর অর্থ ব্যয় করতে হয়। এই বিপুল ব্যয় নির্বাহের অন্যতম বড় উৎস হলো নাগরিকদের নিকট থেকে সংগৃহীত আয়কর। সরকার এই কর থেকে প্রাপ্ত অর্থ শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতের গুণগত মান বৃদ্ধি, জনপ্রশাসন পরিচালনা, জনশৃঙ্খলা রক্ষা, প্রত্যন্ত অঞ্চলে জনস্বাস্থ্য সেবা সম্প্রসারণ এবং অসহায় জনগোষ্ঠীর জন্য সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনী কর্মসূচির বড় বড় তহবিল গঠনে সরাসরি ব্যবহার করে থাকে।
উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-২ এ জনাব আলিফ একজন ব্যবসায়ী এবং তার বার্ষিক নিট আয় $15$ লক্ষ টাকা। যেহেতু তার বার্ষিক আয় করসীমা অতিক্রম করেছে, তাই অর্জিত আয়ের ওপর তিনি সরকারকে একটি নির্ধারিত হারে যে অর্থ দিচ্ছেন তা সরাসরি আয়কর বা মুনাফার ওপর করের অন্তর্ভুক্ত। জনাব আলিফের মতো প্রতিষ্ঠিত ও উচ্চ আয়ের নাগরিকদের নিয়মিত কর প্রদানের ফলে সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পায়, যা রাষ্ট্রকে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণের ওপর নির্ভরতা কমাতে সাহায্য করে।
জাতীয় অর্থনীতির স্বনির্ভরতা অর্জন ও প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে আয়করের ভূমিকা অনস্বীকার্য। এই করের অর্থ দিয়ে সরকার দেশের যাতায়াত, যোগাযোগ ব্যবস্থা, পরিবহণ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের মতো কাঠামোগত খাতের উন্নয়ন ঘটায়, যা নতুন নতুন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে এবং জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নত করে। তাই পরিশেষে বলা যায়, জনাব আলিফ কর্তৃক নিয়মিত প্রদত্ত আয়কর দেশের অর্থনৈতিক চালিকাশক্তিকে সচল রেখে সার্বিক জাতীয় উন্নয়নে অনন্য ভূমিকা পালন করে।
বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।