যে সমস্ত উৎপাদিত দ্রব্য সরাসরি ভোগের জন্য ব্যবহৃত না হয়ে অন্য দ্রব্য উৎপাদনে সাহায্য করে, অর্থনীতিতে সেগুলোকে মূলধনি দ্রব্য বলে। গুদামঘর বারবার উৎপাদন ও সংরক্ষণের কাজে ব্যবহৃত হয় এবং চূড়ান্ত দ্রব্য বা নতুন মূলধনি দ্রব্য উৎপাদনে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। এ কারণেই গুদামঘর মূলধনি দ্রব্যের অন্তর্ভুক্ত।
উদ্দীপকে রিনার নানার বাড়ির দৃশ্যটি অর্থনীতির 'বনজসম্পদ' খাতকে, বিশেষ করে প্রাকৃতিক ম্যানগ্রোভ বনকে নির্দেশ করে।
বনভূমি ও বনজসম্পদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ। প্রাকৃতিক ও পরিবেশগত অবস্থা ভালো রাখার জন্য যেকোনো দেশের কমপক্ষে শতকরা ২৫ ভাগ বনাঞ্চল থাকা দরকার। বাংলাদেশের সমগ্র বনভূমিকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায়, যার মধ্যে প্রাকৃতিক ম্যানগ্রোভ বন অন্যতম। খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলায় অবস্থিত এই বনে সুন্দরী, গেওয়া, কেওড়া, পশুর, বাইন, গরান ইত্যাদি প্রধান প্রধান বৃক্ষ পাওয়া যায়।
উদ্দীপকে রিনা তার নানার বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে বনাঞ্চলে সুন্দরী, গরান, গেওয়া প্রভৃতি মূল্যবান গাছপালা দেখতে পায়। এই গাছগুলোর বর্ণনা সরাসরি প্রাকৃতিক ম্যানগ্রোভ বনের বৃক্ষরাজির সাথে মিলে যায়, যা বাংলাদেশের একটি অন্যতম বনজসম্পদ। যেহেতু এই অঞ্চলে সুন্দরী, গেওয়া ও গরানের মতো গাছ রয়েছে, তাই এটি মূলত প্রাকৃতিক ম্যানগ্রোভ বনকেই তুলে ধরেছে।
সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের দৃশ্যটি বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ বনজসম্পদকে নির্দেশ করছে।
আমাদের পুষ্টির চাহিদা পূরণে যে সম্পদ অবদান রাখে, তা হলো। 'প্রাণিজসম্পদ'; উদ্দীপকের আলোকে এই সম্পদের অর্থনৈতিক অবদান ও গুরুত্ব অপরিসীম।
বাংলাদেশের সর্বত্র বিভিন্ন প্রজাতির পশুপাখির পাশাপাশি নদনদী, বিল, হাওর, পুকুর ইত্যাদি জলাশয় এবং বঙ্গোপসাগরে বিভিন্ন রকম মাছ পাওয়া যায়। গৃহপালিত পশুপাখি, বন্য জীবজন্তু এবং মৎস্য-এসবকিছুই প্রাণিজসম্পদের অন্তর্ভুক্ত। এ ধরনের সম্পদ আমাদের পুষ্টির চাহিদা পূরণ করার পাশাপাশি ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে। এছাড়া এটি চামড়াশিল্পের কাঁচামালের জোগান দেয় এবং রপ্তানি আয় বৃদ্ধিতে অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
উদ্দীপকে রিনার নানা তাকে জানান যে, তাদের এলাকার নদনদী ও বঙ্গোপসাগরে বিভিন্ন রকম মাছ পাওয়া যায়। নদী ও বঙ্গোপসাগর থেকে প্রাপ্ত এই বিশাল মৎস্যভাণ্ডার মূলত প্রাণিজসম্পদের একটি বিশেষ অংশ। এই মাছ মানুষের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় প্রাণিজ আমিষের জোগান দেয়, যা পুষ্টির অভাব দূর করতে সরাসরি ভূমিকা রাখে। শুধু তাই নয়, এই মৎস্য আহরণ ও বিপণনের মাধ্যমে অসংখ্য মানুষের জীবিকাও নির্বাহ হয়।
সুতরাং উপরিউক্ত আলোচনা থেকে বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লিখিত মৎস্যসম্পদ তথা প্রাণিজসম্পদ মানুষের পুষ্টির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
দ্রব্যের দামের সাথে চাহিদার বিপরীতমুখী সম্পর্ক থাকার কারণে চাহিদারেখা বাম থেকে ডানদিকে নিম্নগামী হয়।
চাহিদাবিধি অনুসারে, অন্যান্য অবস্থা অপরিবর্তিত থাকলে কোনো দ্রব্যের দাম বাড়লে চাহিদার পরিমাণ কমে এবং দাম কমলে চাহিদার পরিমাণ বাড়ে। দাম ও চাহিদার পরিমাণের এই বিপরীতমুখী সম্পর্কের কারণেই রেখাচিত্রের মাধ্যমে প্রকাশ করা হলে চাহিদারেখা সর্বদা বাম থেকে ডানদিকে নিম্নগামী হয়।
উদ্দীপকের সূচিতে দ্রব্যের দাম কমার সাথে সাথে পরিমাণের বৃদ্ধি দেখানো হয়েছে, যা মূলত একটি চাহিদাসূচি। নিচে উদ্দীপকের আলোকে চাহিদারেখা অঙ্কন করে ব্যাখ্যা করা হলো-
চিত্রে ভূমি অক্ষে (OX অক্ষে) চাহিদার পরিমাণ (একক) এবং লম্ব অক্ষে (OY অক্ষে) দ্রব্যের দাম (টাকায়) নির্দেশ করা হয়েছে। সূচি অনুযায়ী, দ্রব্যের দাম যখন ১০ টাকা তখন চাহিদার পরিমাণ ৫ একক, যার সমন্বয় বিন্দু a। দ্রব্যের দাম কমে যখন ৮ টাকা, ৬ টাকা ও ৪ টাকা হয়, তখন চাহিদার পরিমাণ বেড়ে যথাক্রমে ১০ একক, ১৫ একক ও ২০ একক হয়, যাদের সমন্বয় বিন্দু যথাক্রমে b, c এবং d। এখন a, b, c এবং d বিন্দুগুলো যোগ করে DD রেখা পাওয়া যায়। রেখাটি বাম থেকে ডানদিকে নিম্নগামী। এই DD রেখাটিই হলো উদ্দীপকের তথ্যের আলোকে অঙ্কিত চাহিদারেখা।
উদ্দীপকে 'চাহিদাবিধি' প্রকাশ পেয়েছে।
অন্যান্য অবস্থা (যেমন- ক্রেতার রুচি, অভ্যাস, আয় ইত্যাদি) অপরিবর্তিত থেকে কোনো নির্দিষ্ট সময়ে পণ্যের দাম কমলে তার চাহিদার পরিমাণ বাড়ে এবং দাম বাড়লে চাহিদার পরিমাণ কমে। দামের সাথে চাহিদার এরূপ বিপরীত সম্পর্ককেই অর্থনীতিতে চাহিদাবিধি বলা হয়।
উদ্দীপকের সূচিতে লক্ষ করলে দেখা যায়, দ্রব্যের দাম যখন সর্বোচ্চ ১০ টাকা তখন ভোক্তার চাহিদার পরিমাণ সর্বনিম্ন অর্থাৎ ৫ একক। এরপর দ্রব্যের দাম ক্রমান্বয়ে হ্রাস পেয়ে যখন ৮ টাকা, ৬ টাকা ও ৪ টাকায় নেমে আসে, তখন ভোক্তার চাহিদার পরিমাণ ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেয়ে যথাক্রমে ১০ একক, ১৫ একক এবং ২০ একক হয়।
অর্থাৎ, সূচিটি স্পষ্টভাবে নির্দেশ করছে যে, দ্রব্যের দাম কমার সাথে সাথে চাহিদার পরিমাণ ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। দাম এবং চাহিদার পরিমাণের মধ্যে বিদ্যমান এই বিপরীতমুখী সম্পর্কই হলো চাহিদাবিধির মূল ভিত্তি। উপরিউক্ত আলোচনা থেকে তাই নিশ্চিতভাবে বলা যায়, উদ্দীপকের সূচিতে চাহিদাবিধিটিই যথাযথভাবে কার্যকর ও প্রকাশিত হয়েছে।
অর্থনীতিতে মানুষের অভাব পূরণের জন্য কোনো দ্রব্যের বা সেবার উপযোগ নিঃশেষ করাকে ভোগ বলা হয়।
প্রতিদিন আমরা ভাত, মাছ, জামাকাপড় ইত্যাদি ব্যবহার করি। আমরা কোনো জিনিস সম্পূর্ণ ধ্বংস বা নিঃশেষ করতে পারি না, শুধু দ্রব্যগুলো ব্যবহারের দ্বারা এর উপযোগ গ্রহণ করতে পারি। তবে খেয়াল রাখতে হবে, অভাব মোচন ছাড়া অন্য কোনোভাবে দ্রব্যের উপযোগ ধ্বংস করা হলে (যেমন- আগুনে পুড়ে যাওয়া) তাকে অর্থনীতিতে ভোগ বলা হবে না।
উদ্দীপকের সূচি থেকে জোগানরেখা অঙ্কন করে ব্যাখ্যা করা হলো-
চিত্রে ভূমি অক্ষে (OX অক্ষে) জোগানের পরিমাণ (একক) এবং লম্ব অক্ষে (OY অক্ষে) দ্রব্যের দাম (টাকায়) নির্দেশ করা হয়েছে।
সূচি অনুযায়ী, দ্রব্যের দাম যখন ১০ টাকা তখন জোগানের পরিমাণ ৪ একক, যার সমন্বয় বিন্দু a। দ্রব্যের দাম বেড়ে যখন ১৫ টাকা ও ২০ টাকা হয়, তখন জোগানের পরিমাণও বৃদ্ধি পেয়ে যথাক্রমে ৬ একক ও ৮ একক হয়, যাদের সমন্বয় বিন্দু যথাক্রমে b এবং c।
এখন a, b এবং c বিন্দুগুলো যোগ করলে যে SS রেখাটি পাওয়া যায় তা বাম থেকে ডানদিকে ঊর্ধ্বগামী। এই রেখাটিই হলো উদ্দীপকের তথ্যের আলোকে অঙ্কিত জোগান রেখা।
উদ্দীপকের সূচি থেকে বাজার ভারসাম্যের চিত্র অঙ্কন করে বিশ্লেষণ করা হলো-
চিত্রে ভূমি অক্ষে (OX অক্ষে) চাহিদা ও জোগানের পরিমাণ (একক) এবং লম্ব অক্ষে (OY অক্ষে) দ্রব্যের দাম (টাকায়) নির্দেশ করা হয়েছে। চিত্রে DD হলো নিম্নগামী চাহিদারেখা এবং SS হলো ঊর্ধ্বগামী জোগানরেখা।
চিত্রে দ্রব্যের দাম যখন ১০ টাকা, তখন চাহিদার পরিমাণ ৮ একক এবং জোগানের পরিমাণ ৪ একক। এক্ষেত্রে চাহিদা > জোগান হওয়ায় বাজারে দ্রব্যটির ঘাটতি দেখা দেবে এবং প্রতিযোগিতার কারণে দাম বৃদ্ধি পাবে।
অন্যদিকে, দ্রব্যের দাম যখন ২০ টাকা, তখন চাহিদার পরিমাণ ৪ একক এবং জোগানের পরিমাণ ৮ একক। এক্ষেত্রে জোগান > চাহিদা হওয়ায় বাজারে দ্রব্যটির উদ্বৃত্ত দেখা দেবে এবং অবিক্রীত থাকার কারণে দাম হ্রাস পাবে।
কিন্তু দ্রব্যের দাম যখন ১৫ টাকা, তখন চাহিদার পরিমাণ ও জোগানের পরিমাণ উভয়ই ৬ একক, যা পরস্পর সমান। অর্থাৎ, এই দামে চাহিদা = জোগান (৬ একক) এবং বাজার স্থিতিশীল। চিত্রে DD চাহিদারেখা এবং SS জোগানরেখা পরস্পরকে E বিন্দুতে ছেদ করেছে। এই E বিন্দুই হলো বাজার ভারসাম্য বিন্দু।
অতএব, বিশ্লেষণ থেকে বলা যায়, উদ্দীপকের বাজারে ভারসাম্য দাম হলো ১৫ টাকা এবং ভারসাম্য পরিমাণ হলো ৬ একক।
সমাজের বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষ তাদের নিজ নিজ দক্ষতা ও শ্রমের মাধ্যমে অন্যের অভাব মোচন করে থাকেন। যেমন- শিক্ষক শিক্ষাদান করেন, ডাক্তার চিকিৎসা সেবা দেন। এগুলোর কোনো বস্তুগত বা বাহ্যিক রূপ না থাকলেও এগুলো মানুষের প্রয়োজন মেটাতে সক্ষম হওয়ায় অর্থনীতিতে এগুলোকে সেবাগত উপযোগ হিসেবে গণ্য করা হয়।
উদ্দীপকে সমীরের আসবাবপত্র তৈরির কাজটির মাধ্যমে মূলত রূপগত উপযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
দ্রব্যের রূপ বা আকার পরিবর্তনের মাধ্যমে নতুন দ্রব্য উৎপাদন করাকে রূপগত উপযোগ বলে। প্রকৃতিপ্রদত্ত কোনো সম্পদের আকার-আকৃতি পরিবর্তন করে যখন মানুষের ব্যবহার উপযোগী নতুন পণ্য তৈরি করা হয়, তখন তার উপযোগ ও দাম বহুগুণে বৃদ্ধি পায়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, আসবাবপত্র ব্যবসায়ী সমীর কাঠ থেকে বিভিন্ন ধরনের আসবাবপত্র তৈরি করে দোকানে সরবরাহ করেন। সাধারণত বনের কাঠ সরাসরি মানুষের তেমন কোনো উপকারে আসে না। কিন্তু সেই কাঠের আকার ও রূপ পরিবর্তন করে সমীর যখন তার কর্মচারীদের সাহায্যে খাট, চেয়ার বা টেবিলের মতো আসবাবপত্র তৈরি করেন, তখন মানুষের কাছে তার চাহিদা অনেক বেড়ে যায়। সুতরাং বলা যায়, কাঠ থেকে আসবাবপত্র তৈরির মাধ্যমে সমীর রূপগত উপযোগ সৃষ্টির প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করেছেন।
উদ্দীপকের আলোকে সমীর উৎপাদন প্রক্রিয়ায় মূলত একজন দক্ষ সংগঠক বা উদ্যোক্তা হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।
উৎপাদন ক্ষেত্রে ভূমি, শ্রম, মূলধন ইত্যাদি উপকরণের মধ্যে উপযুক্ত সমন্বয় ঘটিয়ে উৎপাদন কাজ পরিচালনা করাকে সংগঠন বলে। আর যিনি এ কাজটি সম্পাদন করেন, তিনি হলেন সংগঠক বা উদ্যোক্তা।
একজন উদ্যোক্তা কোনো কিছু উৎপাদনের পরিকল্পনা প্রণয়ন, মূলধন একত্রীকরণ, কর্মীদের দায়িত্ব বণ্টন এবং ঝুঁকি নিয়ে উৎপাদন কাজ পরিচালনা করেন। আধুনিক যুগে দক্ষ সংগঠক ছাড়া উৎপাদন ও ব্যবসায়ের প্রসার ঘটানো প্রায় অসম্ভব।
উদ্দীপকে দেখা যায়, সমীর দেশের বিভিন্ন স্থানে আসবাবপত্রের দোকান স্থাপন করেছেন এবং ৬০ জন কর্মচারীর সাহায্যে কাঠ থেকে আসবাবপত্র তৈরি করছেন। তিনি শুধু উৎপাদনই করছেন না, বরং প্রতিটি দোকানের জন্য আলাদা লোক নিয়োগ করে সুষ্ঠুভাবে দায়িত্ব বণ্টন করেছেন। পণ্যের প্রসার ও বাজার বিস্তৃত করার জন্য তিনি প্রদর্শনীতেও অংশ নিচ্ছেন, যার ফলে তার পণ্যের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। সমীরের এই কার্যাবলি প্রমাণ করে যে, তিনি উৎপাদন প্রক্রিয়ার বিভিন্ন উপকরণের মধ্যে চমৎকার সমন্বয় ঘটিয়েছেন।
সুতরাং বলা যায়, সমীর একজন দূরদর্শী ও দক্ষ উদ্যোক্তা হিসেবে তার চমৎকার সাংগঠনিক যোগ্যতার মাধ্যমে উৎপাদন প্রক্রিয়ার প্রসার ঘটিয়ে অর্থনীতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।
কোনো দেশের মোট জাতীয় আয় থেকে মূলধন ব্যবহারজনিত অবচয় পূরণের ব্যয় (Capital Consumption Allowance বা Depreciation) বাদ দিলে যা থাকে তাকে নিট জাতীয় আয় বলে।
মূলধন ব্যবহারজনিত অবচয় ব্যয় বলতে উৎপাদন ব্যবস্থায় মূলধনের ব্যবহারজনিত যে ক্ষয় হয়, তা রক্ষণাবেক্ষণের জন্য যে ব্যয় বহন করতে হয়, তাকে বোঝায়। অর্থাৎ, দীর্ঘদিন ধরে উৎপাদন কাজে যন্ত্রপাতি ব্যবহারের ফলে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়, সেই ক্ষতিপূরণের ব্যয় মোট জাতীয় আয় থেকে বাদ দিলেই নিট জাতীয় আয় বা NNI পাওয়া যায়।
উদ্দীপকে কবিরের প্রেরিত অর্থ বাংলাদেশের মোট জাতীয় আয় বা জিএনআই (GNI)-তে সম্পৃক্ত হবে।
কোনো নির্দিষ্ট সময়ে সাধারণত আর্থিক বছরে কোনো দেশের নাগরিকগণ কর্তৃক যে পরিমাণ চূড়ান্ত দ্রব্য ও সেবা উৎপন্ন হয় তার বাজারমূল্যের সমষ্টিকে মোট জাতীয় আয় (GNI) বলে। মোট দেশজ উৎপাদনের (GDP) সাথে নিট উপাদান আয় যোগ করে মোট জাতীয় আয় পাওয়া যায়। নিট উপাদান আয় বলতে একটি দেশের নাগরিকগণ বৈদেশিক বিনিয়োগ ও শ্রম থেকে যে আয় করে এবং বিদেশি নাগরিকগণ আলোচ্য দেশে বিনিয়োগ ও শ্রম থেকে যে আয় করে এ দুয়ের বিয়োগফলকে বোঝায়। অর্থাৎ জাতীয় আয় নির্ণয়ের ক্ষেত্রে বিদেশে অবস্থানরত দেশীয় নাগরিকদের আয় মোট দেশজ উৎপাদনের সাথে যোগ করতে হয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, কবির মালয়েশিয়ায় কর্মরত আছেন। তিনি প্রতিমাসে তার আয়ের একটি অংশ অর্থাৎ ত্রিশ হাজার টাকা পরিবারের জন্য দেশে প্রেরণ করেন। যেহেতু তিনি বাংলাদেশের নাগরিক এবং বিদেশে কাজ করে রেমিট্যান্স হিসেবে এই অর্থ দেশে পাঠাচ্ছেন, তাই তার এই আয় বাংলাদেশের মোট জাতীয় আয়ের (GNI) সাথে সরাসরি যোগ হবে। কবিরের প্রেরিত অর্থ বাংলাদেশের জাতীয় আয় পরিমাপে এভাবেই ধনাত্মকভাবে সম্পৃক্ত হয়।
মি. রিচার্ডের আয় বাংলাদেশের জাতীয় আয় পরিমাপের সময় হিসাব থেকে বাদ দেওয়া হবে, তাই এটি বাংলাদেশের মোট জাতীয় আয়ের অন্তর্ভুক্ত হবে না।
কোনো নির্দিষ্ট সময়ে কোনো দেশের নাগরিকগণ কর্তৃক যে পরিমাণ চূড়ান্ত দ্রব্য ও সেবা উৎপন্ন করা হয় তার বাজারমূল্যের সমষ্টিকে জাতীয় আয় বা জিএনআই (GNI) বলে। মোট জাতীয় আয় হলো দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদিত দ্রব্য ও সেবার বাজারমূল্য এবং প্রবাসীদের আয়ের সমষ্টি থেকে দেশে কর্মরত বিদেশিদের আয় বাদ দেওয়ার পর অবশিষ্ট আর্থিক মূল্য। অর্থাৎ, মোট জাতীয় আয় = দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদিত চূড়ান্ত দ্রব্য ও সেবার বাজারমূল্য + বিদেশে কর্মরত দেশীয়দের আয় দেশে কর্মরত বিদেশিদের আয়।
উদ্দীপকে লক্ষ করা যায়, মি. রিচার্ড কানাডার একজন নাগরিক। তিনি বাংলাদেশের একটি বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত আছেন এবং প্রতিমাসে তার আয়ের একটা অংশ নিজ দেশ কানাডায় পাঠিয়ে দেন। যেহেতু তিনি বিদেশি নাগরিক, তাই বাংলাদেশের সীমানায় বসে তিনি যে অর্থ উপার্জন করছেন তা বাংলাদেশের জিডিপিতে (GDP) অন্তর্ভুক্ত হলেও মোট জাতীয় আয়ে (GNI) অন্তর্ভুক্ত হবে না। জাতীয় আয় হিসাব করার নিয়মানুযায়ী, দেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিকদের আয় মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি থেকে বিয়োগ করে নিট উপাদান আয় বের করা হয়।
সুতরাং দেখা যায়, মি. রিচার্ড একজন বিদেশি নাগরিক হওয়ায় তার উপার্জিত ও প্রেরিত অর্থ বাংলাদেশের মোট জাতীয় আয় বা জিএনআই (GNI) পরিমাপের সময় বিয়োগ করা হবে এবং তা বাংলাদেশের জাতীয় আয়ের অন্তর্ভুক্ত হবে না।
উদ্দীপকে সুমনের প্রতিষ্ঠানটি হলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক হলো এমন একটি প্রতিষ্ঠান, যা ব্যাংকব্যবস্থার শীর্ষে অবস্থান করে সমগ্র ব্যাংকব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করে এবং মুদ্রাবাজারের অভিভাবক হিসেবে কাজ করে। এটি সরকারের মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণে থেকে নোট ও মুদ্রা প্রচলন, ঋণ নিয়ন্ত্রণ, মুদ্রার মান সংরক্ষণ, মুদ্রাবাজার সংগঠন ও পরিচালনা এবং সরকারের আর্থিক উপদেষ্টা ও ব্যাংকার হিসেবে কাজ করে। এর প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো, এটি সরকার কর্তৃক সর্বোচ্চ ক্ষমতাপ্রাপ্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠান। তাই এর প্রধান উদ্দেশ্য মুনাফা সর্বোচ্চকরণ নয়; বরং দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা, উন্নয়ন ও জনকল্যাণ সর্বোচ্চকরণ। কেন্দ্রীয় ব্যাংক অন্যান্য ব্যাংকের ব্যাংক হিসেবে তালিকাভুক্ত ব্যাংকসমূহকে সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য দিকনির্দেশনা ও পরামর্শ প্রদান করে এবং তাদের ঋণদান ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ব্যবস্থা প্রয়োগ করে।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে যে, সুমনের প্রতিষ্ঠানটি জনগণকে ঋণ দিতে পারে না, কিন্তু অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণ পরিচালনার ক্ষেত্রে পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করে। এই কার্যাবলি এবং প্রকৃতি পুরাপুরি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশক।
সুতরাং বলা যায়, সুমনের প্রতিষ্ঠানের প্রকৃতি হলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
উদ্দীপকে সুমনের বন্ধুর প্রতিষ্ঠানটি হলো বাণিজ্যিক ব্যাংক। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করতে সুমনের বন্ধুর প্রতিষ্ঠান তথা বাণিজ্যিক ব্যাংক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন' করে।
যে ব্যাংক কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অর্থ আমানত হিসেবে জমা রাখে এবং ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে তাদের চাহিদা অনুযায়ী ঋণ প্রদান করে, তাকে বাণিজ্যিক ব্যাংক বলে। বাণিজ্যিক ব্যাংক দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সঞ্চয়কে আমানত হিসেবে সংগ্রহ করে। ব্যাংক সঞ্চিত অর্থ ব্যবসায় ও উৎপাদন ক্ষেত্রে ঋণ দিয়ে পুঁজি গঠনে সহায়তা করে। বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহ খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি, উন্নত বীজ, সার, কীটনাশক ক্রয়, পানি সেচের জন্য গভীর ও অগভীর নলকূপ স্থাপন এবং কুটির শিল্প স্থাপনের জন্য বিভিন্ন মেয়াদি ঋণ প্রদান কর্মসূচি পরিচালনা করে।
তাছাড়া, বিক্ষিপ্ত ও ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ব্যক্তিগত সঞ্চয়কে আমানত হিসেবে গ্রহণ করে তা থেকে ব্যাংকসমূহ ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বৃহৎ শিল্পকারখানা নির্মাণ ও সম্প্রসারণে ঋণ সহায়তা দান করে থাকে। শিল্পের কাঁচামাল এবং উন্নতমানের যন্ত্রপাতি ক্রয় করতে বাণিজ্যিক ব্যাংক সহজ শর্তে পর্যাপ্ত ঋণ প্রদান করে। নতুন নতুন কোম্পানির শেয়ার কিনে দেশে কলকারখানা গড়তে সহায়তা করে। বাণিজ্যিক ব্যাংক দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও সহায়তা করে, যেমন- রিকশা ও ভ্যান ক্রয়, মুদির দোকান খোলা ইত্যাদি ক্ষেত্রে ঋণ প্রদানের মাধ্যমে।
উদ্দীপকে সুমনের বন্ধুর প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে বলা হয়েছে, এটি জনগণের সঞ্চিত অর্থ জমা রাখে এবং এর বিপরীতে অতিরিক্ত অর্থ প্রদান করে। এটি মূলত আমানত গ্রহণ এবং মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে পরিচালিত বাণিজ্যিক ব্যাংকের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
পরিশেষে বলা যায়, জনগণের ক্ষুদ্র সঞ্চয়কে আমানত হিসেবে গ্রহণ করে এবং তা বিভিন্ন উৎপাদনশীল, শিল্প ও ব্যবসায় ক্ষেত্রে ঋণ হিসেবে প্রদান করে বাণিজ্যিক ব্যাংক দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে ব্যাপকভাবে ত্বরান্বিত করে।
ঘটনা-১: আরমান সাহেব একজন সরকারি কর্মকর্তা। তিনি নিয়মিত কর পরিশোধ করেন।
ঘটনা-২: রহিম একটি খ্যাতনামা দোকানে গিয়ে একসেট জামা কিনলেন। মূল্য পরিশোধের সময় তাকে নির্ধারিত মূল্যের একটু বেশি অর্থ প্রদান করতে হয়। এর কারণ জানতে চাইলে ম্যানেজার তাকে বললেন, অতিরিক্ত অর্থ এক ধরনের কর।
কিশোর বুধা সাধারণ কাকতাড়ুয়ার ছদ্মবেশে মেঠোপথে দাঁড়িয়ে থাকার ভান করে অত্যন্ত নির্ভীক ও বুদ্ধিমত্তার সাথে পাকিস্তানি সেনাদের গোপন গতিবিধি ও বাংকারের খবর সংগ্রহ করে মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তা করত বলেই তাকে 'আশ্চর্য বীর কাকতাড়ুয়া' বলা হয়েছে।
বুধার এই কৌশলী গেরিলা বুদ্ধিমত্তাকে সম্মান জানাতেই উক্তিটি ব্যবহৃত হয়েছে।
উদ্দীপকে পাকিস্তানি হানাদারদের বর্বর আক্রমণে সর্বস্ব হারিয়ে জীবন বাঁচাতে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া লাখ লাখ ভয়ার্ত শরণার্থীর সাথে 'কাকতাড়ুয়া' উপন্যাসে নিশ্চিতপুর ও পার্শ্ববর্তী গ্রামের নিরীহ মানুষের স্বজন হারিয়ে দেশত্যাগের গভীর সাদৃশ্য লক্ষ করা যায়।
উপন্যাসে দেখা যায়, হানাদাররা বাড়িঘরে আগুন দিলে সাধারণ মানুষ প্রাণ বাঁচাতে সীমান্ত পাড়ি দিয়েছিল।
বাস্তুচ্যুত এই অসহায় শরণার্থীদের মানবিক সংকটের দিক থেকেই উভয় চিত্র হুবহু এক।
যৌক্তিক বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়— হ্যাঁ, উদ্দীপকের শরণার্থী পরিবারের কিশোর রাজু বড়দের মতো অস্ত্র তুলে নিয়ে পাকিস্তানিদের রুখে দেওয়ার যে বীরত্ব দেখিয়েছে, তা 'কাকতাড়ুয়া' উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র বুধার নির্ভীক মুক্তিসেনাসুলভ বৈশিষ্ট্যের অত্যন্ত যথার্থ প্রতিনিধিত্ব করে।
১. শোককে শক্তিতে রূপান্তর: বুধা ও রাজু উভয়েই স্বজন হারানোর চরম বেদনাকে প্রতিশোধের অনলে পরিণত করেছে এবং ভীরুর মতো বসে থাকেনি।
২. সশস্ত্র প্রতিরোধ ও দেশপ্রেম: বুধা যেমন নিজের জীবন বাজি রেখে পাকিস্তানি বাংকারে মাইন পেতে উড়িয়ে দিয়েছিল, রাজুও পরিবারকে নিরাপদে রেখে নিজে বীরের মতো শত্রুর ওপর আক্রমণ শানিয়েছে।
কিশোর বয়সে দেশের স্বাধীনতার জন্য অস্ত্র তুলে নেওয়ার এই মৃত্যুঞ্জয়ী সাহসের দিক থেকে রাজু বুধারই যোগ্য উত্তরসূরি।
সরকারের মূলধন আয় ও ব্যয়ের হিসাব যে বাজেটে দেখানো হয়, তাকে মূলধন বা উন্নয়ন বাজেট বলে।
এই বাজেটের প্রধান লক্ষ্য হলো দেশের এবং জনগণের আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করা। এই উদ্দেশ্যে সরকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি প্রণয়ন করে এবং তা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনে অভ্যন্তরীণ (যেমন- রাজস্ব উদ্বৃত্ত, ব্যাংক ঋণ) ও বৈদেশিক (যেমনবৈদেশিক ঋণ ও অনুদান) উভয় উৎস হতে প্রয়োজনীয় অর্থসংস্থান করে থাকে।
উদ্দীপকের 'X' দেশের বাজেটের ধরনটি হলো সুষম বাজেট।
কোনো নির্দিষ্ট সময়ে বা আর্থিক বছরে সরকারের প্রত্যাশিত আয় এবং সম্ভাব্য ব্যয়ের পরিমাণ পরস্পর সমান হলে তাকে সুষম বাজেট বলে। এই বাজেটে সরকারের আয়ের সাথে নিখুঁত সংগতি রেখে ব্যয়ের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়। ফলে বাজারে মুদ্রাস্ফীতি ঘটার বা আকস্মিক দ্রব্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে, যা দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। তবে উন্নয়নশীল দেশসমূহের অর্থনৈতিক মন্দা মোকাবিলা বা বেকারত্ব দূরীকরণে এই বাজেট খুব একটা সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে না।
সূত্র: সুষম বাজেট = মোট আয় মোট ব্যয় হয়। অর্থাৎ, মোট আয় = মোট ব্যয়।
উদ্দীপকের ছকে দেখা যায়, 'X' দেশের প্রত্যাশিত আয় ৭০,০০০ কোটি টাকা এবং প্রত্যাশিত ব্যয়ও ৭০,০০০ কোটি টাকা। অর্থাৎ, দেশটির মোট প্রত্যাশিত আয় ও সম্ভাব্য ব্যয়ের পরিমাণ সম্পূর্ণ সমান এবং এদের পার্থক্য শূন্য, যা সুষম বাজেটের গাণিতিক রূপকে প্রকাশ করে। অতএব বলা যায়, উদ্দীপকের 'X' দেশের বাজেটটি একটি সুষম বাজেট।
উদ্দীপকের আলোকে 'Y' দেশের বাজেটটি বাংলাদেশের বাজেটের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে আমি মনে করি। কারণ 'Y' দেশের বাজেটটি একটি ঘাটতি বাজেট এবং বাংলাদেশের বর্তমান বাজেটটিও একটি ঘাটতি বাজেট।
কোনো নির্দিষ্ট আর্থিক বছরে সরকারের প্রত্যাশিত বা সম্ভাব্য আয়ের তুলনায় সম্ভাব্য ব্যয়ের পরিমাণ বেশি হলে তাকে ঘাটতি বাজেট বলে। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে অপূর্ণ নিয়োগ অর্থনীতিতে পূর্ণ নিয়োগ অর্জন, প্রাকৃতিক সম্পদের সঠিক ব্যবহার, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং জনগণের জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে ঘাটতি বাজেট প্রণয়ন অত্যন্ত কল্যাণকর ও স্বাভাবিক একটি ঘটনা। এ ধরনের বাজেটে আয়ের ঘাটতি পূরণের জন্য সরকার অভ্যন্তরীণ ব্যাংকিং ব্যবস্থা, বন্ড বা বৈদেশিক উৎস থেকে ঋণ ও অনুদান গ্রহণ করে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড সচল রাখে। দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য উন্নয়নশীল দেশগুলো সাধারণত ঘাটতি বাজেটকেই অগ্রাধিকার দিয়ে থাকে।
উদ্দীপকের ছক অনুযায়ী, 'Y' দেশের প্রত্যাশিত আয় ৫০,০০০ কোটি টাকা এবং প্রত্যাশিত ব্যয় ৫৫,০০০ কোটি টাকা। এখানে আয়ের চেয়ে ব্যয়ের পরিমাণ ৫,০০০ কোটি টাকা বেশি, যা একটি আদর্শ ঘাটতি বাজেটকে নির্দেশ করে। অর্থনৈতিক পর্যালোচনায় দেখা যায়, আয়ের তুলনায় ব্যয়ের আধিক্য এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের বিশাল কর্মযজ্ঞের কারণে বর্তমান বাংলাদেশের জাতীয় বাজেটও মূলত একটি ঘাটতি বাজেট।
সুতরাং অর্থনৈতিক বৈশিষ্ট্য এবং দেশের উন্নয়ন চাহিদার বাস্তবতার নিরিখে নির্দ্বিধায় বলা যায় যে, উদ্দীপকের 'Y' দেশের ঘাটতি বাজেটটিই বাংলাদেশের বাজেটের সাথে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।