দিনাজপুর বোর্ড ২০২৬
১. দৃশ্যকল্প-১: মাহদীয়ার বাবা পেট্রোবাংলায় চাকরি করেন। এ প্রতিষ্ঠানটি প্রাকৃতিক গ্যাস, কয়লা, খনিজ তেল প্রভৃতি নিয়ন্ত্রণ করে।
দৃশ্যকল্প-২: আরিফের মামা বাগেরহাট জেলায় থাকেন। আরিফ সেখানে বেড়াতে গেলে তিনি আরিফকে সুন্দরী, কেওড়া, গড়ান ইত্যাদি বৃক্ষ সংবলিত বনটি ঘুরে দেখান।
উত্তর যে সমস্ত দ্রব্য পাওয়ার জন্য মানুষকে অর্থ প্রদান করতে হয়, তাকে অর্থনৈতিক দ্রব্য বলা হয়।
উত্তর মরুভূমির বালি প্রকৃতিতে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায় এবং এর কোনো অপ্রাচুর্যতা নেই বলে একে অর্থনীতিতে সম্পদ বলা যায় না।
অর্থনীতিতে কোনো জিনিস সম্পদ হতে হলে তার উপযোগ, অপ্রাচুর্যতা, হস্তান্তরযোগ্যতা এবং বাহ্যিকতা থাকতে হয়। মরুভূমিতে বালির জোগান সীমাহীন এবং এটি পেতে মানুষকে কোনো অর্থ প্রদান করতে হয় না। অপ্রাচুর্যতা বা সীমাবদ্ধতা না থাকায় এটি অর্থনৈতিক দ্রব্য বা সম্পদ নয়।
উত্তর উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-১ এ উল্লিখিত সম্পদটি অর্থনীতির 'খনিজসম্পদ' ধারণাকে নির্দেশ করে।
বাংলাদেশ খনিজসম্পদে তেমন সমৃদ্ধ, না হলেও এখানে বেশ কিছু খনিজসম্পদ আবিষ্কৃত হয়েছে। এর মধ্যে প্রাকৃতিক গ্যাস বাংলাদেশের প্রধান খনিজসম্পদ, যা বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে, কলকারখানা ও গৃহে জ্বালানি হিসেবে এবং রাসায়নিক সার তৈরিতে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে কয়লার ক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়েছে, যা শক্তি সম্পদের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়। পাশাপাশি দেশের উপকূলীয় এলাকা ও সিলেটে খনিজ তেলের সন্ধানও চালানো হচ্ছে।
উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-১ এ বলা হয়েছে, মাহ্দীয়ার বাবা পেট্রোবাংলায় চাকরি করেন এবং প্রতিষ্ঠানটি প্রাকৃতিক গ্যাস, কয়লা, খনিজ তেল প্রভৃতি নিয়ন্ত্রণ করে। এই গ্যাস, কয়লা ও তেল সবই মাটির নিচ থেকে প্রাপ্ত প্রাকৃতিক পদার্থ। এইগুলো উত্তোলন করে শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও গৃহস্থালির কাজে ব্যবহার করা হয়, যা দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে সাহায্য করে।
সুতরাং বলা যায়, দৃশ্যকল্প-১ এর প্রাকৃতিক গ্যাস, কয়লা ও খনিজ তেল সরাসরি দেশের খনিজসম্পদকেই নির্দেশ করছে।
উত্তর উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-২ এ নির্দেশিত সম্পদটি হলো বাংলাদেশের 'বনজসম্পদ'। প্রাকৃতিক ও পরিবেশগত অবস্থা ভালো রাখার জন্য যার গুরুত্ব অপরিসীম।
বনভূমি ও বনজসম্পদ যেকোনো দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ। প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য যেকোনো দেশের মোট ভূখণ্ডের কমপক্ষে শতকরা $25$ ভাগ বনাঞ্চল থাকা দরকার। বাংলাদেশে বিভিন্ন ধরনের বন রয়েছে। পাহাড়ি বন, শাল বন ও জলাভূমির বনের পাশাপাশি খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা অঞ্চলে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বনভূমি রয়েছে। এসব বনের প্রধান প্রধান বৃক্ষগুলো হলো সুন্দরী, গেওয়া, কেওড়া, পশুর, বাইন, গরান ইত্যাদি।
উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-২ এ আরিফের মামা বাগেরহাট জেলায় থাকেন এবং তিনি আরিফকে সুন্দরী, কেওড়া, গড়ান ইত্যাদি বৃক্ষ সংবলিত যে বনটি ঘুরে দেখান, তা মূলত দেশের এই গুরুত্বপূর্ণ বনজসম্পদকেই তুলে ধরেছে। বাংলাদেশে মোট বনভূমির পরিমাণ মাত্র শতকরা $17.62$ ভাগ, যা অন্যান্য দেশের তুলনায় এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় প্রয়োজনীয় $25$ ভাগের চেয়ে অনেক কম। তাই দেশের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা এবং প্রাকৃতিক বিপর্যয় রোধে বাগেরহাটের এই বনজসম্পদের অস্তিত্ব টিকে থাকা অত্যন্ত জরুরি।
সুতরাং উপরিউক্ত আলোচনা থেকে বলা যায়, দৃশ্যকল্প-২ এ নির্দেশিত সম্পদটি হলো বনজসম্পদ, দেশের সার্বিক পরিবেশ ও অস্তিত্ব রক্ষার স্বার্থে যার গুরুত্ব অপরিসীম।
২. উদ্দীপকটি পড়ো এবং নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
উদ্দীপকের ছবি
উত্তর কোনো অর্থনৈতিক দ্রব্য ও সেবার মালিকানা পরিবর্তনের মাধ্যমে যে অতিরিক্ত উপযোগ সৃষ্টি করা হয়, তাকে মালিকানাগত উপযোগ বলে।
উত্তর মানুষ কর্তৃক উৎপাদিত যে, উপকরণ বর্তমান ভোগের জন্য ব্যবহার না করে নতুন দ্রব্য উৎপাদনে পুনরায় ব্যবহার করা হয়, তাকে মূলধন বলে।
প্রকৃতিতে মূলধন সরাসরি পাওয়া যায় না, এটি মূলত মানুষের শ্রমের ফল। যেমন- মানুষ কারখানায় যেসব যন্ত্রপাতি তৈরি করে, সেগুলো পরবর্তীতে নতুন পণ্য উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়। এভাবেই উৎপাদিত দ্রব্য পুনরায় উৎপাদন কাজে ব্যবহার করা হয় বলেই মূলধনকে 'উৎপাদনের উৎপাদিত উপকরণ' বলা হয়।
উত্তর

উদ্দীপকের সূচি হতে শ্রমের বিভিন্ন এককে মোট উৎপাদনকে ($\mathrm{TP}$) মোট শ্রম উপকরণ ($\mathrm{L}$) দ্বারা ভাগ করে গড় উৎপাদন ($\mathrm{AP}$) নির্ণয় করা হলো-

মোট উৎপাদনের পরিমাণকে মোট উপকরণ বা উপাদান দ্বারা ভাগ করলে গড় উৎপাদন পাওয়া যায়। অর্থাৎ, প্রতি একক শ্রমের বিপরীতে গড়ে যে পরিমাণ উৎপাদন হয়, তা-ই গড় উৎপাদন।

সূচি অনুযায়ী দেখা যায়, শ্রমের নিয়োগ ১ একক থেকে বৃদ্ধি করে ২ একক করা হলে গড় উৎপাদন ৪ থেকে বেড়ে ৫ হয়। এরপর শ্রম ৩ এককে উন্নীত করলেও গড় উৎপাদন ৫-ই থাকে। পরবর্তীতে শ্রমের পরিমাণ ৪, ৫ এবং ৬ একক পর্যন্ত বৃদ্ধি করতে থাকলে গড় উৎপাদন ক্রমান্বয়ে হ্রাস পেয়ে যথাক্রমে ৪, ৩.২ এবং ২ হয়। অর্থাৎ, শ্রম বৃদ্ধির প্রাথমিক পর্যায়ে গড় উৎপাদন বাড়লেও একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ের পর তা ক্রমশ কমতে থাকে।

উত্তরের ছবি
উত্তর

উদ্দীপকে প্রদত্ত তথ্যের আলোকে সূচি তৈরি করে গড় উৎপাদন ($\mathrm{AP}$) ও প্রান্তিক উৎপাদনের ($\mathrm{MP}$) মধ্যকার নিবিড় সম্পর্কটি চিত্রের সাহায্যে বিশ্লেষণ করা হলো-

চিত্রে ভূমি অক্ষে শ্রমের পরিমাণ এবং লম্ব অক্ষে গড় ও প্রান্তিক উৎপাদন নির্দেশ করা হয়েছে। সূচি অনুযায়ী শ্রমের বিভিন্ন এককের বিপরীতে প্রাপ্ত $\mathrm{AP}$ এর মানগুলোর সমন্বয় বিন্দু যোগ করে $\mathrm{AP}$ রেখা এবং $\mathrm{MP}$-এর মানগুলোর সমন্বয় বিন্দু যোগ করে $\mathrm{MP}$ রেখা অঙ্কন করা হয়েছে। রেখাদ্বয় ৩য় একক শ্রমে পরস্পরকে ছেদ করেছে।

চিত্র ও সূচি থেকে $\mathrm{AP}$ ও $\mathrm{MP}$ রেখার মধ্যকার সম্পর্কটি অত্যন্ত স্পষ্ট। প্রথমত, শ্রম নিয়োগের প্রাথমিক পর্যায়ে $\mathrm{MP}$ রেখা $\mathrm{AP}$ রেখার উপরে অবস্থান করে, অর্থাৎ প্রান্তিক উৎপাদন বেশি হারে বাড়ে। দ্বিতীয়ত, ৩য় এককে গড় ও প্রান্তিক উৎপাদন পরস্পর সমান (৫) হয় এবং এ বিন্দুতেই গড় উৎপাদন সর্বোচ্চ হয়। তৃতীয়ত, ৩য় এককের পর থেকে শ্রম বৃদ্ধি করলে উভয়েই কমতে থাকে, তবে $\mathrm{MP}$ রেখা $\mathrm{AP}$ রেখার নিচে অবস্থান করে। এমনকি একপর্যায়ে $\mathrm{MP}$ শূন্য ও ঋণাত্মক হলেও $\mathrm{AP}$ সর্বদা ধনাত্মক থাকে।

সুতরাং বলা যায়, উৎপাদনের ক্ষেত্রে গড় ও প্রান্তিক উৎপাদন একটি সুনির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলে এবং পরস্পরকে প্রভাবিত করে।

উত্তরের ছবি
৩. নিচের সূচিটি লক্ষ করো এবং সংশ্লিষ্ট প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
উদ্দীপকের ছবি
উত্তর যে দামে বাজারে কোনো দ্রব্যের চাহিদা ও জোগান পরস্পর সমান হয়, তাকে ভারসাম্য দাম বলে।
উত্তর ভোগ ও ভোক্তার সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়; মূলত ভোক্তা দ্রব্যের ভোগ ও সেবার ব্যবহারের মাধ্যমেই উপযোগ পেয়ে থাকে।
অর্থনীতিতে মানুষের অভাব পূরণের জন্য কোনো দ্রব্যের উপযোগ নিঃশেষ করাকে ভোগ বলা হয়। অন্যদিকে, যে ব্যক্তি এই ভোগ করে বা ভোগ করার জন্য অর্থ ব্যয় করতে প্রস্তুত থাকে, তাকে ভোক্তা বলা হয়। অর্থাৎ, একজন ভোক্তা তার অসীম অভাব পূরণের উদ্দেশ্যেই দ্রব্য বা সেবা ভোগ করে থাকে। তাই ভোগ ছাড়া ভোক্তার যেমন অস্তিত্ব নেই, তেমনি ভোক্তা ছাড়াও ভোগের কোনো অর্থনৈতিক তাৎপর্য নেই।
উত্তর

কোনো নির্দিষ্ট সময়ে একটি দ্রব্যের বিভিন্ন একক থেকে প্রাপ্ত তৃপ্তির সমষ্টিকে মোট উপযোগ বলে। ভোগকৃত দ্রব্যের অতিরিক্ত এককের উপযোগ বা প্রান্তিক উপযোগগুলো যোগ করেই মোট উপযোগ পাওয়া যায়। নিচে উদ্দীপকের সূচি হতে মোট উপযোগ নির্ণয় করে একটি নতুন সূচি তৈরি করা হলো-

তৈরিকৃত সূচিতে দেখা যায়, ১ম একক দ্রব্য ভোগ করে ভোক্তা ১৬ একক প্রান্তিক উপযোগ লাভ করে, তাই এ পর্যায়ে মোট উপযোগও ১৬। এরপর ২য়, ৩য় ও ৪র্থ একক দ্রব্য ভোগের ক্ষেত্রে প্রান্তিক উপযোগ ক্রমান্বয়ে হ্রাস পেয়ে যথাক্রমে ১২, ৮ ও ৪ হলেও মোট উপযোগ ক্রমহ্রাসমান হারে বৃদ্ধি পেয়ে যথাক্রমে ২৮, ৩৬ ও ৪০ হয়। ৫ম একক ভোগের সময় প্রান্তিক উপযোগ শূন্য (০) হয় এবং মোট উপযোগ সর্বোচ্চ তথা ৪০-এ স্থির থাকে। কিন্তু ৬ষ্ঠ একক দ্রব্য ভোগ করলে প্রান্তিক উপযোগ ঋণাত্মক (-৪) হয়ে যায়, যার ফলে মোট উপযোগ হ্রাস পেয়ে ৩৬-এ নেমে আসে।

উত্তরের ছবি
উত্তর

উদ্দীপকের সূচিতে অর্থনীতির 'ক্রমহ্রাসমান প্রান্তিক উপযোগ বিধি'-কে নির্দেশ করা হয়েছে।

নিচে উদ্দীপকের সূচির আলোকে চিত্রসহ বিধিটি বিশ্লেষণ করা হলো-

চিত্রে ভূমি অক্ষে ($\mathrm{OX}$ অক্ষে) ভোগের পরিমাণ এবং লম্ব অক্ষে ($\mathrm{OY}$ অক্ষে) প্রান্তিক উপযোগ নির্দেশ করা হয়েছে।

সূচি অনুযায়ী, ভোক্তা যখন ১ম একক দ্রব্য ভোগ করে তখন তার প্রান্তিক উপযোগ ১৬, যার সমন্বয় বিন্দু $\mathrm{a}$। ভোগের পরিমাণ বাড়িয়ে ২য়, ৩য়, ৪র্থ ও ৫ম একক করার ফলে প্রান্তিক উপযোগ ক্রমান্বয়ে হ্রাস পেয়ে যথাক্রমে ১২, ৮, ৪ ও ০ হয়, যাদের সমন্বয় বিন্দু যথাক্রমে $\mathrm{b}$, $\mathrm{c}$, $\mathrm{d}$ এবং $\mathrm{e}$। অর্থাৎ $\mathrm{e}$ বিন্দুতে (৫ম এককে) প্রান্তিক উপযোগ শূন্য। এরপর ভোক্তা যখন ৬ষ্ঠ একক দ্রব্য ভোগ করে তখন তার প্রান্তিক উপযোগ ঋণাত্মক তথা -৪ হয়, যা ভূমি অক্ষের নিচে $\mathrm{f}$ বিন্দু দ্বারা নির্দেশ করা হয়েছে।

এখন $\mathrm{a}$, $\mathrm{b}$, $\mathrm{c}$, $\mathrm{d}$, $\mathrm{e}$ এবং $\mathrm{f}$ বিন্দুগুলো যোগ করলে যে $\mathrm{MU}$ ($\mathrm{Marginal~Utility}$) রেখাটি পাওয়া যায়, তা বাম থেকে ডান দিকে নিম্নগামী। রেখাটি নিম্নগামী হওয়ার মূল কারণ হলো ভোগের পরিমাণ বৃদ্ধির সাথে সাথে প্রান্তিক উপযোগের ক্রমহ্রাসমান প্রবণতা।

সুতরাং, উদ্দীপকে ক্রমহ্রাসমান প্রান্তিক উপযোগ বিধিটিই নিখুঁতভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

উত্তরের ছবি
৪. বাজার চাহিদা সূচি
উদ্দীপকের ছবি
উত্তর অর্থনীতিতে কোনো দ্রব্যের বা সেবার দ্বারা ব্যক্তির অভাব পূরণের ক্ষমতাকে উপযোগ বলে।
উত্তর অর্থনীতিতে যে বিধির সাহায্যে দাম ও জোগানের মধ্যকার সমমুখী বা প্রত্যক্ষ সম্পর্ক প্রকাশ করা হয়, তাকে জোগানবিধি বলে।
অন্যান্য অবস্থা অপরিবর্তিত থাকলে কোনো নির্দিষ্ট সময়ে পণ্যের দাম বৃদ্ধি পেলে জোগানের পরিমাণ বৃদ্ধি পায় এবং দাম হ্রাস পেলে জোগানের পরিমাণ হ্রাস পায়। অর্থাৎ, দাম যেদিকে পরিবর্তিত হয়, জোগানও সেদিকে পরিবর্তিত হয়। দাম ও জোগানের পরিমাণের মধ্যে বিদ্যমান এই নির্ভরশীলতার সম্পর্কটিই হলো জোগানবিধি।
উত্তর

উদ্দীপক থেকে ১ম ভোক্তার চাহিদারেখা অঙ্কন করে ব্যাখ্যা করা হলো--

চিত্রে ভূমি অক্ষে ($\mathrm{OX}$ অক্ষে) ১ম ভোক্তার চাহিদার পরিমাণ (কুইন্টাল) এবং লম্ব অক্ষে ($\mathrm{OY}$ অক্ষে) দ্রব্যের দাম (টাকায়) নির্দেশ করা হয়েছে।
সূচি অনুযায়ী, দ্রব্যের দাম যখন সর্বোচ্চ $30$ টাকা তখন ১ম ভোক্তার চাহিদার পরিমাণ সর্বনিম্ন $6$ কুইন্টাল, যার সমন্বয় বিন্দু $\mathrm{a}$। দ্রব্যের দাম হ্রাস পেয়ে যখন $20$ টাকা ও $10$ টাকা হয়, তখন ১ম ভোক্তার চাহিদার পরিমাণ ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেয়ে যথাক্রমে $12$ কুইন্টাল ও $18$ কুইন্টাল হয়, যাদের সমন্বয় বিন্দু যথাক্রমে $\mathrm{b}$ এবং $\mathrm{c}$।
এখন $\mathrm{a}$, $\mathrm{b}$ এবং $\mathrm{c}$ বিন্দুগুলো যোগ করলে যে রেখাটি পাওয়া যায় তা বাম থেকে ডানদিকে নিম্নগামী। এই রেখাটিই হলো উদ্দীপকের তথ্যের আলোকে অঙ্কিত ১ম ভোক্তার ব্যক্তিগত চাহিদারেখা।

উত্তরের ছবি
উত্তর

বাজারে একটি নির্দিষ্ট দামে সব ভোক্তার ব্যক্তিগত চাহিদার সমষ্টিকে বাজার চাহিদা বলা হয়। উদ্দীপকের সূচিতে ১ম ও ২য় ভোক্তার চাহিদার সমষ্টি হিসেবে বাজার চাহিদার পরিমাণ ($\mathrm{Q}$) দেওয়া আছে। এর আলোকে নিচে বাজার চাহিদা রেখা অঙ্কন করে ব্যাখ্যা করা হলো-

চিত্রে ভূমি অক্ষে ($\mathrm{OX}$ অক্ষে) বাজার চাহিদার পরিমাণ (কুইন্টাল) এবং লম্ব অক্ষে ($\mathrm{OY}$ অক্ষে) দ্রব্যের দাম (টাকায়) নির্দেশ করা হয়েছে।
সূচি অনুযায়ী, দ্রব্যের দাম যখন সর্বোচ্চ $30$ টাকা তখন বাজারে ১ম ও ২য় ভোক্তার চাহিদার সমষ্টি বা বাজার চাহিদার পরিমাণ $18$ কুইন্টাল, যার সমন্বয় বিন্দু $\mathrm{a}$। দ্রব্যের দাম কমে যখন $20$ টাকা ও $10$ টাকা হয়, তখন বাজার চাহিদার পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে যথাক্রমে $28$ কুইন্টাল ও $30$ কুইন্টাল হয়, যাদের সমন্বয় বিন্দু যথাক্রমে $\mathrm{b}$ এবং $\mathrm{c}$।
এখন $\mathrm{a}$, $\mathrm{b}$ এবং $\mathrm{c}$ বিন্দুগুলো যোগ করলে যে রেখাটি পাওয়া যায় তা বাম থেকে ডানদিকে নিম্নগামী। এই রেখাটিই হলো উদ্দীপকের তথ্যের আলোকে অঙ্কিত বাজার চাহিদা রেখা। উল্লেখ্য, বাজার চাহিদা রেখাটি একাধিক ভোক্তার ব্যক্তিগত চাহিদা রেখাগুলোর আনুভূমিক যোগফল। এ কারণে বাজার চাহিদা রেখাটি ব্যক্তিগত চাহিদা রেখার তুলনায় অপেক্ষাকৃত বেশি ঢালু ($\mathrm{flatter}$) প্রকৃতির হয়ে থাকে।

উত্তরের ছবি
৫. নিচের উদ্দীপকটি লক্ষ করো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
উদ্দীপকের ছবি
উত্তর CCA-এর পূর্ণরূপ হলো- Capital Consumption Allowance.
উত্তর যে কোনো দেশের মোট জাতীয় আয় থেকে মূলধন ব্যবহারজনিত অবচয় পূরণের ব্যয় (Capital Consumption Allowance বা Depreciation) বাদ দিলে যা থাকে তাকে নিট জাতীয় আয় বলে।
মূলধন ব্যবহারজনিত অবচয় ব্যয় বলতে উৎপাদন ব্যবস্থায় মূলধনের ব্যবহারজনিত যে ক্ষয় হয়, তা রক্ষণাবেক্ষণের জন্য যে ব্যয় বহন করতে হয়, তাকে বোঝায়। অর্থাৎ, দীর্ঘদিন যন্ত্রপাতি ব্যবহারের ফলে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়, সেই ক্ষতিপূরণের ব্যয় মোট জাতীয় আয় থেকে বাদ দিলেই নিট জাতীয় আয় বা NNI পাওয়া যায়।
উত্তর উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত 'A' জাতীয় আয়টি হলো মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি (GDP), যা প্রধানত তিনটি পদ্ধতিতে পরিমাপ করা যায়।
মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) পরিমাপের তিনটি পদ্ধতি হলো- উৎপাদন পদ্ধতি, আয় পদ্ধতি এবং ব্যয় পদ্ধতি। উৎপাদন পদ্ধতিতে একটি দেশের অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে উৎপাদিত চূড়ান্ত দ্রব্য ও সেবার বাজারমূল্য যোগ করে জিডিপি নির্ণয় করা হয়। আয় পদ্ধতিতে উৎপাদন কারে‍্য ব্যবহৃত মৌলিক উপকরণসমূহ (ভূমি, শ্রম, মূলধন ও সংগঠন) হতে প্রাপ্ত আয়ের (খাজনা, মজুরি, সুদ ও মুনাফা) সমষ্টি বের করে জিডিপি গণনা করা হয়। অন্যদিকে, ব্যয় পদ্ধতিতে কোনো নির্দিষ্ট সময়ে সমাজের সব ধরনের ব্যয়ের (ভোগ, বিনিয়োগ, সরকারি ব্যয় ও নিট রপ্তানি) যোগফল নির্ণয়ের মাধ্যমে জিডিপি পরিমাপ করা হয়।
উদ্দীপকের ছকে 'A' দ্বারা এমন একটি জাতীয় আয়কে নির্দেশ করা হয়েছে, যা দেশের ভৌগোলিক সীমানার মধ্যে দেশি ও বিদেশি নাগরিকদের দ্বারা উৎপাদিত হয়। সংজ্ঞানুযায়ী এটি হলো মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি। জিডিপি গণনার দায়িত্বে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানগুলো দেশের অর্থনৈতিক কাঠামো ও তথ্যের প্রাপ্যতার ওপর ভিত্তি করে এই তিনটি পদ্ধতির (উৎপাদন, আয় ও ব্যয় পদ্ধতি) যেকোনো এক বা একাধিক পদ্ধতি ব্যবহার করে 'A' তথা জিডিপি পরিমাপ করতে পারে। বাংলাদেশে পরিসংখ্যান ব্যুরো মূলত উৎপাদন ও ব্যয় পদ্ধতি ব্যবহার করে এই পরিমাপ করে থাকে।
উত্তর দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে উদ্দীপকের 'B' জাতীয় আয় অর্থাৎ মোট জাতীয় আয় বা জিএনআই (GNI)-এর ভূমিকা সত্যিই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কোনো নির্দিষ্ট সময়ে কোনো দেশের নাগরিকগণ কর্তৃক দেশে ও বিদেশে যে পরিমাণ চূড়ান্ত দ্রব্য ও সেবা উৎপন্ন হয়, তার বাজারমূল্যের সমষ্টিকে মোট জাতীয় আয় (GNI) বলে। মোট দেশজ উৎপাদনের (GDP) সাথে নিট উপাদান আয় (প্রবাসীদের আয় থেকে বিদেশিদের আয় বাদ দিয়ে প্রাপ্ত অর্থ) যোগ করে এটি পাওয়া যায়। একটি দেশের প্রকৃত অর্থনৈতিক সামর্থ্য, নাগরিকদের জীবনযাত্রার মান এবং মাথাপিছু আয় সঠিকভাবে নির্ধারণ করতে জিএনআই-এর ধারণাটি অত্যন্ত কার্যকরী, কারণ এতে দেশের নাগরিকদের প্রকৃত উপার্জনের নিখুঁত চিত্র প্রতিফলিত হয়।
উদ্দীপকের ছকে 'B' দ্বারা যে জাতীয় আয়কে নির্দেশ করা হয়েছে, সেখানে ভৌগোলিক সীমানার চেয়ে দেশের নাগরিকদের নিজ দেশ ও বিদেশ থেকে উপার্জিত আয়কে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে, যা জিএনআই (GNI)-কে নির্দেশ করে। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে আর্থসামাজিক উন্নয়নে এই জিএনআই-এর বিশাল প্রভাব রয়েছে। কারণ, আমাদের প্রচুর জনশক্তি বিদেশে কর্মরত আছেন এবং তারা প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ রেমিট্যান্স দেশে পাঠান। এই বৈদেশিক আয় জিডিপিতে অন্তর্ভুক্ত না হলেও জিএনআই-তে যুক্ত হয়, যা দেশের গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, শিক্ষা ও চিকিৎসার প্রসার এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধিতে সরাসরি ভূমিকা রাখে।
সুতরাং বলা যায়, দেশের নাগরিকদের প্রকৃত অর্থনৈতিক অবস্থা অনুধাবন এবং রেমিট্যান্সের মতো গুরুত্বপূর্ণ বৈদেশিক আয়ের প্রভাব মূল্যায়নের মাধ্যমে জাতীয় উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে 'B' তথা মোট জাতীয় আয়ের (GNI) ভূমিকা অপরিসীম।
৬. জনাব নাঈম ইসলাম 'A' নামক একটি ব্যাংক থেকে স্বল্পমেয়াদি ঋণ গ্রহণ করে ব্যবসায় পরিচালনা করেন। ব্যাংকটি জনগণের অর্থ আমানত হিসেবেও গ্রহণ করে। অপরদিকে, মিসেস রেবেকা খাতুন 'B' নামক একটি বিশেষ ব্যাংক থেকে ক্ষুদ্র ঋণ গ্রহণ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। ব্যাংকটি ১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
উত্তর সমবায়ের নীতিমালার ভিত্তিতে গঠিত এবং পরিচালিত ব্যাংককে সমবায় ব্যাংক বলে।
উত্তর অর্থনীতিতে মুদ্রাস্ফীতি বা মুদ্রা সংকোচন রোধ করে দামস্তর ও অর্থের মূল্য স্থিতিশীল রাখার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঋণ নিয়ন্ত্রণ করে। কোনো দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে ঋণের স্বল্পতা ও আধিক্য উভয়ই ক্ষতিকর। ঋণের আধিক্যের কারণে দেশে মুদ্রাস্ফীতি ঘটে, আবার ঋণের স্বল্পতার কারণে দেশে মুদ্রা সংকোচন দেখা দেয়। এসব আর্থিক অসুবিধা যেন দেখা না দেয় এবং অর্থনীতির স্থিতিশীলতা যেন বজায় থাকে, মূলত সেজন্যেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ঋণদান ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।
উত্তর উদ্দীপকে 'A' ব্যাংকটি হলো বাণিজ্যিক ব্যাংক। বাণিজ্যিক ব্যাংক মূলত চলতি, সঞ্চয়ী ও স্থায়ী- এই তিন ধরনের হিসাবের মাধ্যমে জনগণের অর্থ আমানত হিসেবে গ্রহণ করে।
বাণিজ্যিক ব্যাংকের প্রথম ও প্রধান কাজ হলো ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানের নিকট হতে আমানত সংগ্রহ করা। ব্যাংকটি তিন উপায়ে আমানত গ্রহণ করে। প্রথমত, চলতি আমানত; যার অর্থ আমানতকারী যেকোনো সময় ওঠাতে পারেন এবং এর ওপর কোনো সুদ প্রদান করা হয় না। দ্বিতীয়ত, সঞ্চয়ী আমানত; যার অর্থ একটি নির্দিষ্ট সময় মেয়াদে সাধারণত সপ্তাহে দুবার ওঠানো যায় এবং ব্যাংক এর ওপর কিছু সুদ দেয়। তৃতীয়ত, স্থায়ী আমানত; যা নির্দিষ্ট মেয়াদের (যেমন- ৩ মাস, ৬ মাস, ১ বছর ইত্যাদি) জন্য করা হয় এবং এর ওপর ব্যাংক অধিক হারে সুদ প্রদান করে থাকে।
উদ্দীপকে জনাব নাঈম ইসলাম 'A' ব্যাংক থেকে স্বল্পমেয়াদি ঋণ গ্রহণ করেন এবং ব্যাংকটি জনগণের অর্থ আমানত হিসেবে গ্রহণ করে। এই কার্যাবলি বাণিজ্যিক ব্যাংকের সুস্পষ্ট নির্দেশক। একটি বাণিজ্যিক ব্যাংক তার মুনাফা অর্জন ও ঋণ দেওয়ার মূলভিত্তি হিসেবে উপরের তিনটি সুনির্দিষ্ট আমানত ব্যবস্থার মাধ্যমেই জনসাধারণের বিক্ষিপ্ত সঞ্চয়গুলোকে একত্রিত করে আমানত গ্রহণ করে থাকে।
উত্তর উদ্দীপকে উল্লিখিত 'B' ব্যাংকটি হলো গ্রামীণ ব্যাংক। বাংলাদেশের দারিদ্র্য বিমোচন ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে 'B' ব্যাংক তথা গ্রামীণ ব্যাংকের ভূমিকা সত্যিই অপরিসীম।
গ্রামের অতি স্বল্প জমির মালিক, ভূমিহীন এবং অন্যান্য অতি দরিদ্র নারী-পুরুষের মাঝে ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হয়। দেশের অবহেলিত জনসাধারণকে অকৃষি খাতে সম্পৃক্ত করার জন্য গ্রামীণ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পে ব্যাংকটি ঋণ প্রদানসহ উপকরণ সরবরাহ ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করে। এ ব্যাংক গ্রামের ভূমিহীন দরিদ্র কৃষকদেরকে সহজ শর্তে ও জামানত ছাড়া ঋণ প্রদান করে। ফলে কৃষককে গ্রাম্য মহাজনদের কাছ থেকে কঠিন শর্তে ও চড়া সুদে ঋণ নিতে হয় না। সুবিধাবঞ্চিত বেকার জনগোষ্ঠীকে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় সংঘবদ্ধ করে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করার পাশাপাশি ব্যাংকটি ভিক্ষুককেও সুদবিহীন ঋণ দিয়ে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ প্রদান করে।
উদ্দীপকে মিসেস রেবেকা খাতুন ১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠিত 'B' নামক একটি বিশেষ ব্যাংক থেকে ক্ষুদ্র ঋণ গ্রহণ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। ১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠা লাভ করা এবং দরিদ্র নারীদের ঋণ দিয়ে স্বাবলম্বী করার এই কার্যক্রম সরাসরি গ্রামীণ ব্যাংকের বৈশিষ্ট্যের সাথে মিলে যায়।
পরিশেষে বলা যায়, সহজ শর্তে ও বিনা জামানতে ঋণ প্রদান করে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে বিশেষ করে দরিদ্র নারীদের কর্মে উদ্বুদ্ধকরণ ও নেতৃত্বের বিকাশ ঘটানোর মাধ্যমে গ্রামীণ ব্যাংক দেশের দারিদ্র্য বিমোচনে অত্যন্ত কার্যকরী ও অভাবনীয় ভূমিকা পালন করছে।
৭. জনাব রাসেল মাহমুদ 'X' নামক একটি ব্যাংক থেকে স্বল্প ঋণ গ্রহণ করে বিভিন্ন-প্রয়োজনীয় দ্রব্য ক্রয় করে উত্তমরূপে জমি চাষ করেন। এ ঋণটি ১৮ মাসের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। অপরদিকে, জনাব রোকনুজ্জামান মিলন 'Y' নামক একটি ব্যাংক থেকে ২০ বছর মেয়াদি একটি ঋণ গ্রহণ করে পোশাক শিল্প স্থাপন করেন।
উত্তর ধাতব খন্ড দ্বারা তৈরি যে মুদ্রার মাধ্যমে মানুষ প্রাত্যহিক জীবনের লেনদেন করে, তাকে ধাতব মুদ্রা বলে।
উত্তর মিটার যেমন দৈর্ঘ্যের বা কিলোগ্রাম যেমন ওজনের পরিমাপক, ঠিক তেমনি অর্থ যেকোনো পণ্য ও সেবার মূল্যের পরিমাপের মাপকাঠি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
অর্থের সাহায্যে আমরা সহজেই যেকোনো পণ্য ও সেবার মূল্য পরিমাপ করতে পারি। এর ফলে অতীত ও ভবিষ্যতের পণ্য এবং সেবার মূল্য সম্বন্ধে খুব সহজেই তুলনামূলক আলোচনা ও হিসাব-নিকাশ করা সম্ভব হয়, যা অর্থনৈতিক লেনদেনকে সহজ করে তোলে।
উত্তর

উদ্দীপকে 'Y' ব্যাংকটি হলো বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেড। বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেড সাধারণত দেশের সাথে সম্পৃক্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে ঋণ প্রদান করে থাকে। এই ব্যাংক সরকারি ও বেসরকারি খাতে নতুন শিল্প নির্মাণ, পুরাতন শিল্প সম্প্রসারণ ও আধুনিকীকরণের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ঋণ দিয়ে থাকে, যার পরিশোধের সময়সীমা সর্বোচ্চ ২০ বছর। এছাড়া, শিল্পকারখানার প্রয়োজনে এ ব্যাংক স্বল্পমেয়াদি ঋণও প্রদান করে এবং উদ্যোক্তাকে বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় কারিগরি পরামর্শ দেওয়াসহ শিল্পায়ন সম্পর্কিত বিভিন্ন প্রকার গবেষণা ও তথ্য সংগ্রহ করে থাকে।

উদ্দীপকে জনাব রোকনুজ্জামান মিলন 'Y' নামক একটি ব্যাংক থেকে ২০ বছর মেয়াদি একটি ঋণ গ্রহণ করে পোশাক শিল্প স্থাপন করেন। নতুন শিল্প স্থাপন এবং সর্বোচ্চ ২০ বছর মেয়াদি দীর্ঘমেয়াদি ঋণ প্রদানের এই বিষয়টি সরাসরি বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেডের কার্যাবলিকে নির্দেশ করে।

সুতরাং, 'Y' ব্যাংকটির কার্যক্রম হলো মূলত বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের শিল্পোন্নয়ন ও ঋণদান কার্যক্রম।

উত্তর

উদ্দীপকে 'X' ব্যাংকটি হলো বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক। দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে 'X' ব্যাংক তথা বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের ভূমিকা সত্যিই অপরিসীম।

কৃষি খাতের গতিশীলতা বৃদ্ধি, কৃষি স্বনির্ভরতা অর্জন এবং সার্বিক কৃষি উন্নয়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক কাজ করে যাচ্ছে আমাদের দেশের অধিকাংশ কৃষক দরিদ্র হওয়ায় তাদের ছোটোখাটে প্রয়োজন মেটানোর জন্য (যেমন- সার, বীজ, কীটনাশক ঔষধ প্রভৃতি ক্রয় এবং জমি চাষ বা ফল কাটার ব্যয় নির্বাহের জন্য) এ ব্যাংক স্বল্পমেয়াদি ঋণ প্রদান করে, যা সাধারণত ১৮ মাসের মধ্যে পরিশোধ করতে হয়। এছাড়া জমি সমতল করা বা গবাদি পশু ক্রয়ের জন্য মধ্যমমেয়াদি এবং ভারী যন্ত্রপাতি ক্রয় বা গুদামঘর নির্মাণের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ঋণও ব্যাংকটি প্রদান করে থাকে। কৃষির পাশাপাশি আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও বেকারত্ব দূরীকরণে এ ব্যাংক কৃষিভিত্তিক ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প স্থাপনে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা দিয়ে থাকে হাঁস-মুরগি ও পশুপালন, মৌমাছি ও গুটিপোকার চাষ, মৎস্য খামার তৈরি প্রভৃতি কাজের জন্য ব্যাংকটি ঋণ দেয়, যা নিয়ে দেশের বেকার যুবকরা তাদের আত্মকর্মসংস্থানের ব্যাপক সুযোগ পায়।

উদ্দীপকে জনাব রাসেল মাহমুদ 'X' নামক ব্যাংক থেকে স্বল্প ঋণ গ্রহণ করে বিভিন্ন প্রয়োজনীয় দ্রব্য ক্রয় করে জমি চাষ করেন এবং এই ঋণ ১৮ মাসের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। কৃষিকাজের জন্য ১৮ মাস মেয়াদি এই স্বল্পমেয়াদি ঋণ প্রদানের বিষয়টি সরাসরি বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের কার্যক্রম।

পরিশেষে বলা যায়, সহজ শর্তে বিভিন্ন মেয়াদি ঋণ দিয়ে কৃষির উৎপাদন বৃদ্ধি ও বেকারদের আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক দেশের সামগ্রিক আর্থসামাজিক উন্নয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

৮.

নিচের উদ্দীপকটি লক্ষ করো এবং সংশ্লিষ্ট প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :

সরকারের আয়ের উৎস

উদ্দীপকের ছবি
উত্তর কোনো নির্দিষ্ট সময়ে বা আর্থিক বছরে সরকারের প্রত্যাশিত আয় এবং সম্ভাব্য ব্যয়ের পরিমাণ পরস্পর সমান হলে তাকে সুষম বাজেট বলে।
উত্তর দেশের ও জনগণের আর্থসামাজিক উন্নয়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে সরকার মূলধন বাজেট প্রণয়ন করে।
এই বাজেটের মূল উদ্দেশ্য হলো পরিকল্পিত উপায়ে দেশের উৎপাদন ক্ষমতা ও কাঠামোগত উন্নয়ন নিশ্চিত করা। এ লক্ষ্যে সরকার প্রতিবছর বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি প্রণয়ন করে এবং তা বাস্তবায়নের জন্য কৃষি, শিল্প, বিদ্যুৎ, জ্বালানি, পরিবহণ ও যোগাযোগের মতো উৎপাদনশীল খাতসমূহে বিপুল পরিমাণ অর্থ বরাদ্দের উদ্দেশ্যে এই বাজেট তৈরি করে থাকে।
উত্তর উদ্দীপকে নির্দেশিত 'ক' রাজস্ব সরকারের 'করবহির্ভূত রাজস্ব' (Non-Tax Revenue)-কে নির্দেশ করে।
সরকার কর ও শুল্ক ছাড়া আরও অনেক উৎস হতে যে রাজস্ব সংগ্রহ করে, তাকে করবহির্ভূত রাজস্ব বলে। সরকার জনগণকে বিভিন্ন প্রশাসনিক সেবা প্রদানের মাধ্যমে, সরকারি সম্পত্তি বা ঘাট ভাড়া ও ইজারা দিয়ে কিংবা রাষ্ট্রায়ত্ত বিভিন্ন ব্যবসা ও পরিবহণ প্রতিষ্ঠান পরিচালনার মাধ্যমে এই আয় সংগ্রহ করে থাকে। দেশের শান্তিশৃঙ্খলা ও জনকল্যাণের স্বার্থে সেবা দেওয়ার বিনিময়ে এই অর্থ অর্জিত হয়।
উদ্দীপকের ছকে 'ক' রাজস্বের অধীনে প্রশাসনিক ফিস, টোল ও লেভি এবং রেলপথের উল্লেখ রয়েছে। এই খাতগুলো থেকে প্রাপ্ত অর্থ কোনো বাধ্যতামূলক কর নয়, বরং সরকারের সেবা বা প্রতিষ্ঠান ব্যবহারের সরাসরি বিনিময় মূল্য। যেহেতু এই বৈশিষ্ট্যগুলো সম্পূর্ণভাবে করবহির্ভূত রাজস্বের মূল উৎসের সাথে মিলে যায়, তাই বলা যায় উদ্দীপকের 'ক' রাজস্ব হলো সরকারের করবহির্ভূত রাজস্ব।
উত্তর উদ্দীপকে নির্দেশিত 'খ' রাজস্ব হলো সরকারের 'কর রাজস্ব' (Tax Revenue)। দেশের বিভিন্ন উন্নয়ন ও প্রশাসনিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আয়ের উৎস হিসেবে এই কর রাজস্বের গুরুত্ব সত্যিই অপরিসীম- আমি এ বক্তব্যের সাথে সম্পূর্ণ একমত।
সরকার জনগণের নিকট হতে বাধ্যতামূলকভাবে যে অর্থ আদায় করে কিন্তু তার বিনিময়ে জনগণ সরকার থেকে সরাসরি বিশেষ কোনো সুযোগ-সুবিধা আশা করতে পারে না, তাকে কর বলে। আর সরকার দেশের নিবাসী বা অনিবাসী ব্যক্তি, বিভিন্ন ব্যবসায় ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং পণ্যের ওপর যে কর ধার্য করে, তা থেকে প্রাপ্ত আয়কে কর রাজস্ব বলা হয়। একটি দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন, জনকল্যাণ সাধন, প্রশাসন পরিচালনা ও দেশরক্ষার মতো বহুবিধ দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য প্রতিবছর যে বিপুল অর্থের প্রয়োজন হয়, তার মূল চালিকাশক্তি হলো এই কর রাজস্ব।
উদ্দীপকের ছকে 'খ' রাজস্বের অধীনে আমদানি শুল্ক, যানবাহন কর এবং নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পের উল্লেখ রয়েছে, যা কর রাজস্বের অন্যতম প্রধান খাত। যেকোনো দেশের অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা অর্জনের জন্য কর রাজস্বের ভূমিকা অনস্বীকার্য। এই করের পরিধি ও সংগ্রহ যত জোরদার হয়, সরকারের নিজস্ব তহবিলের আকার তত বড় হয়। ফলে রাষ্ট্র নিজস্ব অর্থায়নে শিক্ষা ও প্রযুক্তি, জনস্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি এবং পরিবহণ ও যোগাযোগের মতো জনকল্যাণমুখী মেগা পরিকল্পনাগুলো সফলভাবে বাস্তবায়ন করার সামর্থ্য লাভ করে।
কর রাজস্বের সফল সংগ্রহের ফলেই সরকারের অভ্যন্তরীণ আয়ের উৎস শক্তিশালী হয় এবং বিদেশি ঋণ বা অনুদানের ওপর দেশের নির্ভরতা ক্রমান্বয়ে হ্রাস পায়। এটি দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনাগুলোতে সরাসরি অর্থায়নে সাহায্য করে। তাই পরিশেষে বলা যায়, দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক মুক্তি ও প্রগতিশীল পরিকল্পনাগুলোর বাস্তব রূপায়ণে 'খ' রাজস্ব তথা কর রাজস্বের গুরুত্ব অপরিসীম।
বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।