সঞ্চয় ও বিনিয়োগের মধ্যে ধনাত্মক ও অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক বিদ্যমান, কারণ সঞ্চয় থেকেই মূলত বিনিয়োগের সৃষ্টি হয়।
মানুষ তার বর্তমান আয়ের যে অংশ ভবিষ্যতের জন্য জমা রাখে তা হলো সঞ্চয়। আর সেই সঞ্চিত অর্থ যখন উৎপাদন বাড়ানোর উদ্দেশ্যে কোনো লাভজনক খাতে ব্যবহার করা হয়, তখন তাকে বিনিয়োগ বলে। অর্থাৎ মানুষের সঞ্চয় বাড়লেই বিনিয়োগ বাড়ে।
উদ্দীপকের (i) নং ছকের দ্রব্যগুলো অর্থনীতির প্রাকৃতিক সম্পদকে নির্দেশ করে।
উৎস বা উৎপত্তির দিক থেকে সম্পদ তিন প্রকার, যার মধ্যে প্রাকৃতিক সম্পদ অন্যতম। প্রকৃতির কাছ থেকে পাওয়া যেসব দ্রব্য সরাসরি মানুষের অভাব ও প্রয়োজন মেটায়, সেগুলোকে প্রাকৃতিক সম্পদ বলা হয়। ভূমি, বনভূমি, খনিজ সম্পদ, নদনদী ইত্যাদি সরাসরি প্রকৃতি থেকে পাওয়া যায় বলে এগুলো প্রাকৃতিক সম্পদের অন্তর্ভুক্ত।
উদ্দীপকের (i) নং ছকে গ্যাসক্ষেত্র, ভূমি এবং খনিজ সম্পদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এগুলো কোনোটিই মানুষের নিজের তৈরি নয়, বরং মানুষ প্রকৃতি থেকেই এগুলো লাভ করে। এই সম্পদগুলো প্রাকৃতিক পরিবেশের অংশ হয়ে দেশের উৎপাদন ও মানুষের দৈনন্দিন নানা অর্থনৈতিক প্রয়োজন মিটিয়ে থাকে। তাই ছক-(i) এর উপাদানগুলো সরাসরি প্রাকৃতিক সম্পদের সংজ্ঞার সাথে মিলে যায়।
সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের (i) নং ছকের দ্রব্যগুলো অর্থনীতিতে প্রাকৃতিক সম্পদ।
উদ্দীপকের (ii) নং ছকের দ্রব্যগুলোকে অর্থনীতির ভাষায় সম্পদ বলা যায় না, বরং এগুলো মানুষের 'মানবিক সম্পদ'।
অর্থনীতিতে কোনো জিনিসকে সম্পদ হিসেবে গণ্য হতে হলে তার চারটি বৈশিষ্ট্য থাকা আবশ্যক- উপযোগ, অপ্রাচুর্যতা, হস্তান্তরযোগ্যতা এবং বাহ্যিকতা। হস্তান্তরযোগ্যতা বলতে বোঝায় হাত বদল হওয়া বা মালিকানা বদল হওয়া। আর বাহ্যিকতা বলতে বোঝায় দ্রব্যের বাহ্যিক অস্তিত্ব থাকা। যে সমস্ত দ্রব্য মানুষের অভ্যন্তরীণ গুণ বোঝায়, অর্থনীতির ভাষায় তা সম্পদ নয়। কারণ এসব অভ্যন্তরীণ গুণের কোনো বাহ্যিক অস্তিত্ব উপলব্ধি করা যায় না এবং এগুলোর মালিকানাও হস্তান্তর করা যায় না। মানুষের এ ধরনের বিভিন্ন প্রকার যোগ্যতা ও দক্ষতাকে মূলত মানবিক সম্পদ বলা হয়।
উদ্দীপকের (ii) নং ছকে প্রযুক্তি জ্ঞান, শ্রমিকের দক্ষতা এবং শিল্পীর প্রতিভার কথা বলা হয়েছে। এই গুণগুলো মানুষের একান্তই নিজস্ব এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়। একজন শিল্পীর প্রতিভা বা একজন শ্রমিকের দক্ষতাকে চাইলেই অর্থের বিনিময়ে অন্যের কাছে হস্তান্তর বা হাত বদল করা সম্ভব নয়। তাছাড়া এগুলোর কোনো বাহ্যিক আকার বা অস্তিত্ব নেই, যা বস্তুগতভাবে উপলব্ধি করা যায়। এগুলো মানুষের অভাব পূরণ বা উপযোগ সৃষ্টি করতে পারলেও অর্থনীতিতে সম্পদ হওয়ার অত্যাবশ্যকীয় দুটি বৈশিষ্ট্য (হস্তান্তরযোগ্যতা ও বাহ্যিকতা) এদের মধ্যে সম্পূর্ণ অনুপস্থিত।
তাই উপরিউক্ত যুক্তির আলোকে বলা যায়, উদ্দীপকের (ii) নং ছকে উল্লিখিত জ্ঞান, দক্ষতা ও প্রতিভা অর্থনীতির ভাষায় সম্পদ নয়, এগুলো একান্তই মানবিক সম্পদ।
জোগান বিধিতে দামের সাথে জোগানের সম্পর্ক প্রত্যক্ষ বা সমমুখী।
অন্যান্য অবস্থা অপরিবর্তিত থাকলে, কোনো দ্রব্যের দাম বৃদ্ধি পেলে জোগানের পরিমাণ বৃদ্ধি পায় এবং দাম হ্রাস পেলে জোগানের পরিমাণ হ্রাস পায়। অর্থাৎ দাম যেদিকে পরিবর্তিত হয়, জোগানও সেদিকে পরিবর্তিত হয়। দাম ও জোগানের পরিমাণের মধ্যে বিদ্যমান এই সমমুখী সম্পর্ককেই জোগানবিধিতে প্রকাশ করা হয়।
উদ্দীপকের সূচির আলোকে একটি চাহিদারেখা অঙ্কন করে ব্যাখ্যা করা হলো-
চিত্রে ভূমি অক্ষে (OX অক্ষে) চাহিদার পরিমাণ (একক) এবং লম্ব অক্ষে (OY অক্ষে) দ্রব্যের দাম (টাকা) নির্দেশ করা হয়েছে।
সূচি অনুযায়ী, দ্রব্যের দাম যখন সর্বোচ্চ ৪৫ টাকা তখন চাহিদার পরিমাণ সর্বনিম্ন ২০ একক, যার সমন্বয় বিন্দু a। দ্রব্যের দাম হ্রাস পেয়ে যখন ৩০ টাকা ও ১৫ টাকা হয়, তখন চাহিদার পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে যথাক্রমে ৪০ একক ও ৬০ একক হয়, যাদের সমন্বয় বিন্দু যথাক্রমে b এবং c।
এখন a, b এবং c বিন্দুগুলো যোগ করলে যে DD রেখাটি পাওয়া যায়, তা বাম থেকে ডানদিকে নিম্নগামী। এই রেখাটিই হলো উদ্দীপকের তথ্যের আলোকে অঙ্কিত চাহিদা রেখা।
উদ্দীপকের সূচি থেকে বাজার ভারসাম্যের চিত্র অঙ্কন করে বিশ্লেষণ করা হলো-
চিত্রে ভূমি অক্ষে (OX অক্ষে) চাহিদা ও জোগানের পরিমাণ (একক) এবং লম্ব অক্ষে (OY অক্ষে) দ্রব্যের দাম (টাকা) নির্দেশ করা হয়েছে। চিত্রে DD হলো নিম্নগামী চাহিদারেখা এবং SS হলো ঊর্ধ্বগামী জোগানরেখা।
চিত্র অনুযায়ী, দ্রব্যের দাম যখন ৩০ টাকা, তখন চাহিদার পরিমাণ ও জোগানের পরিমাণ উভয়ই ৪০ একক, যা পরস্পর সমান। অর্থাৎ, এই দামে চাহিদা = জোগান (৪০ একক) এবং বাজার স্থিতিশীল। চিত্রে DD চাহিদারেখা এবং SS জোগানরেখা পরস্পরকে E বিন্দুতে ছেদ করেছে। এই E বিন্দুই হলো বাজার ভারসাম্য বিন্দু। অতএব, ভারসাম্য দাম হলো ৩০ টাকা এবং ভারসাম্য পরিমাণ হলো ৪০ একক।
এখন দ্রব্যের দাম যখন ১৫ টাকা, তখন চাহিদার পরিমাণ ৬০ একক কিন্তু জোগানের পরিমাণ ২০ একক। এক্ষেত্রে চাহিদা > জোগান (৬০ > ২০) হওয়ায় বাজারে দ্রব্যটির ঘাটতি দেখা দেবে। ক্রেতাদের মধ্যে প্রতিযোগিতার কারণে দ্রব্যের দাম বৃদ্ধি পাবে এবং তা পুনরায় ভারসাম্য অবস্থার দিকে ধাবিত হবে। অন্যদিকে, দ্রব্যের দাম যখন ৪৫ টাকা, তখন চাহিদার পরিমাণ ২০ একক কিন্তু জোগানের পরিমাণ ৬০ একক। এক্ষেত্রে জোগান > চাহিদা (৬০ > ২০) হওয়ায় বাজারে দ্রব্যটির উদ্বৃত্ত দেখা দেবে। অবিক্রীত দ্রব্য বিক্রয়ের জন্য বিক্রেতাদের মধ্যে প্রতিযোগিতার কারণে দ্রব্যের দাম হ্রাস পাবে এবং পুনরায় ভারসাম্য দামের দিকে ধাবিত হবে।
অতএব, উপরিউক্ত বিশ্লেষণ থেকে এটি স্পষ্ট যে, ১৫ টাকা ও ৪৫ টাকা দামে বাজারে চাহিদা ও জোগানের মধ্যে অসংগতি বা ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টি হয়, যা কেবল ৩০ টাকা দামেই একটি স্থিতিশীল বাজার ভারসাম্য অবস্থায় পৌঁছায়।
বাণিজ্যিক ব্যাংক আমানতকারীকে তার জমাকৃত অর্থ চাওয়ামাত্র ফেরত দিতে বাধ্য থাকে বলে এই ব্যাংককে স্বল্পমেয়াদি ঋণের ব্যবসায়ী বলা হয়।
বাণিজ্যিক ব্যাংকের মূল উদ্দেশ্য হলো মুনাফা অর্জন। এ ব্যাংক আমানতকারীর জমাকৃত অর্থের ওপর কম হারে সুদ দেয় এবং ঋণগ্রহীতাদের কাছ থেকে অপেক্ষাকৃত বেশি হারে সুদ আদায় করে। যেহেতু আমানতকারী তার জমাকৃত অর্থ যেকোনো সময় তুলে নেওয়ার অধিকার রাখে, তাই ব্যাংক ঝুঁকি না নিয়ে তার তহবিল থেকে মূলত স্বল্পকালের জন্যই ঋণ প্রদান করে থাকে।
উদ্দীপকে রমিজের 'ক' নামক প্রতিষ্ঠানটি হলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক হলো এমন একটি প্রতিষ্ঠান, যা ব্যাংকব্যবস্থার শীর্ষে অবস্থান করে সমগ্র ব্যাংকব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করে এবং মুদ্রাবাজারের অভিভাবক হিসেবে কাজ করে। এটি সরকারের ব্যাংক হিসেবে সরকারের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও নীতি নির্ধারণে প্রয়োজনীয় তথ্য ও পরামর্শ দিয়ে থাকে। অন্যান্য ব্যাংকের ব্যাংক হিসেবে এ ব্যাংক তালিকাভুক্ত ব্যাংকসমূহকে সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য দিকনির্দেশনা ও পরামর্শ প্রদান করে। এছাড়া, বৈদেশিক লেনদেনে ভারসাম্য আনয়ন ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেশীয় মুদ্রার সাথে বিদেশি মুদ্রার বিনিময় হার নির্ধারণ ও নিয়ন্ত্রণ করে।
উদ্দীপকে রমিজের 'ক' নামক আর্থিক প্রতিষ্ঠানটি সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, এটি বিনিময় হার নির্ধারণ করে এবং সরকার ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করে। এ কার্যাবলিগুলো সম্পূর্ণভাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কার্যাবলির অন্তর্ভুক্ত।
সুতরাং দেখা যায়, রমিজের প্রতিষ্ঠানটির ধরন হলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
উদ্দীপকে সুজনের 'খ' নামক আর্থিক প্রতিষ্ঠানটি হলো বাণিজ্যিক ব্যাংক। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সুজনের প্রতিষ্ঠান তথা বাণিজ্যিক ব্যাংক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের ব্যবসায় বাণিজ্যের সম্প্রসারণ এবং উন্নয়ন, কৃষি উন্নয়ন ও শিল্পায়নে অর্থসংস্থানের পাশাপাশি আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রক্রিয়ার একটি বড়ো অংশীদার বাণিজ্যিক ব্যাংক। বাণিজ্যিক ব্যাংক দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ব্যক্তিগত সঞ্চয়কে আমানত হিসেবে গ্রহণ করে তা থেকে ব্যাংকসমূহ ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বৃহৎ শিল্পকারখানা নির্মাণ ও সম্প্রসারণে ঋণ সহায়তা দান করে থাকে। শিল্পের কাঁচামাল এবং উন্নতমানের যন্ত্রপাতি ক্রয় করতে ব্যাংক সহজ শর্তে পর্যাপ্ত ঋণ প্রদান করে। এছাড়া ব্যাংকটি দেশীয় ও বৈদেশিক বাণিজ্যে সহায়তায় ব্যবসায়ীদের অর্থ জোগান দেওয়ার পাশাপাশি পরামর্শ দেয়, বিনিময় বিলে স্বীকৃতি প্রদান এবং আমদানি-রপ্তানিকারককে ঋণ প্রদানের মাধ্যমে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পাশাপাশি, বিভিন্ন খাতে ব্যক্তিগত জামানতের বিপরীতে ঋণ প্রদান করে দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও সহায়তা করে।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, সুজনের 'খ' নামক আর্থিক প্রতিষ্ঠানটি জনগণের অর্থ আমানত হিসেবে জমা রাখে, ঋণ প্রদান করে এবং দেশীয় ও বৈদেশিক বাণিজ্যে সহায়তা করে। এগুলো মূলত মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে পরিচালিত বাণিজ্যিক ব্যাংকের প্রধান কার্যাবলি।
পরিশেষে বলা যায়, ব্যবসায় বাণিজ্য সম্প্রসারণ, শিল্পের মূলধন গঠন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে বাণিজ্যিক ব্যাংক একটি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে সত্যিই অভাবনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দ্রব্য বিনিময় প্রথার প্রধান অসুবিধা হলো দ্রব্য বিভাজনে অসুবিধা এবং পারস্পরিক অভাবের অমিল দেখা দেওয়া।
সরাসরি পণ্য বিনিময় প্রথায় একজনের প্রয়োজনের সাথে অন্যজনের প্রয়োজনের মিল না থাকলে লেনদেন সম্পন্ন করা সম্ভব হতো না। এছাড়া অনেক দ্রব্য সহজে বিভাজন করা যায় না বলে সঠিক মূল্যে পণ্য বিনিময় করাও কঠিন হয়ে পড়ত, যার ফলে দৈনন্দিন লেনদেন করতে গিয়ে মানুষকে নানা অসুবিধায় পড়তে হতো।
উদ্দীপকে সালমা খাতুনকে ঋণ প্রদানকারী 'ক' নামক ব্যাংকটি হলো বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেড।
বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক সাধারণত দেশের সাথে সম্পৃক্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে ঋণ প্রদান করে। এই ব্যাংক সরকারি ও বেসরকারি খাতে নতুন শিল্প নির্মাণ, পুরাতন শিল্প সম্প্রসারণ ও আধুনিকীকরণের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ঋণ দিয়ে থাকে। শিল্পকারখানার প্রয়োজনে এ ব্যাংক স্বল্পমেয়াদি ঋণও প্রদান করে। এছাড়া স্বনির্ভরতা অর্জন, উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যে ব্যাংকটি ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করে মেয়াদি ঋণ প্রদান করে এবং নারীকে আত্মনির্ভরশীল করার জন্য ক্ষুদ্র শিল্প স্থাপনে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রদান করে থাকে।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে যে, সালমা খাতুন একটি ক্ষুদ্র শিল্প স্থাপনের জন্য 'ক' ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণ করেন এবং ব্যাংকটি পূর্বে বাংলাদেশের দুটি বৃহৎ আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে গঠিত হয়েছে। এই বৈশিষ্ট্যগুলো বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেডের কার্যাবলি ও গঠনপ্রকৃতির সুস্পষ্ট নির্দেশক, যা বাংলাদেশ শিল্প ব্যাংক ও বাংলাদেশ শিল্পঋণ সংস্থা একীভূত হয়ে গঠিত হয়েছে।
সুতরাং, সালমা খাতুনকে ঋণদানকারী 'ক' নামক ব্যাংকটির ধরন হলো বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেড।
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'খ' নামক ব্যাংকটি হলো গ্রামীণ ব্যাংক। রানু খাতুনের মতো নারীদের আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে গ্রামীণ ব্যাংক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
গ্রামের অতি স্বল্প জমির মালিক, ভূমিহীন এবং অন্যান্য অতি দরিদ্র নারী-পুরুষের মাঝে ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হয়। এ ব্যাংক গ্রামের ভূমিহীন দরিদ্র কৃষকদেরকে সহজ শর্তে ও জামানত ছাড়া ঋণ প্রদান করে। কৃষি খাতের উন্নয়নের জন্য এ ব্যাংক শাকসবজি চাষ, গাভি পালন, মৎস্য চাষ, হাঁস-মুরগি পালন ও জমি চাষাবাদ ইত্যাদি খাতে ঋণ প্রদান করে থাকে। সুবিধাবঞ্চিত বেকার জনগোষ্ঠীকে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় সংঘবদ্ধ করে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করার লক্ষ্যে এ ব্যাংক কাজ করে। বিশেষ করে, নারীকে কর্মে উদ্বুদ্ধকরণ ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশে এ ব্যাংক প্রত্যক্ষভাবে সহায়তা করে এবং দরিদ্র অসহায় নারীদের পুনর্বাসনের চেষ্টা করে।
উদ্দীপকে উল্লেখ আছে যে, রানু খাতুন গাভি পালনের মাধ্যমে নিজেকে আত্মনির্ভরশীল করার জন্য বিনা জামানতে 'খ' নামক ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণ করেন। তার এই গাভি পালন এবং বিনা জামানতে ঋণ পাওয়ার বিষয়টি গ্রামীণ ব্যাংকের কার্যক্রমকে নির্দেশ করে।
পরিশেষে বলা যায়, গ্রামীণ ব্যাংক দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত নারীদের সহজ শর্তে ঋণ ও দিকনির্দেশনা দিয়ে তাদের আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি ও আত্মনির্ভরশীল করে তুলতে অসামান্য অবদান রাখছে।
সঞ্চয় ও বিনিয়োগের মধ্যে সরাসরি ও ধনাত্মক সম্পর্ক বিদ্যমান। মানুষের আয় বাড়লে সঞ্চয় বাড়ে, আর সঞ্চয় বাড়লে তা মূলধন গঠনে সহায়তা করে, যা পরিশেষে দেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করে। অর্থাৎ, সঞ্চয় হলো বিনিয়োগের প্রধান ভিত্তি বা উৎস।
উদ্দীপকের ২নং ছকে '?' চিহ্নিত স্থানের উপকরণটি হলো 'শ্রম'।
উৎপাদন কাজে ব্যবহৃত মানুষের সব ধরনের শারীরিক ও মানসিক পরিশ্রমকে শ্রম বলে। উৎপাদনে শুধু কৃষকের বা শ্রমিকের কায়িক পরিশ্রমই শ্রম নয়, বরং অফিস-আদালতের কর্মচারী, শিক্ষক বা ডাক্তারের শারীরিক ও মানসিক সেবাকেও অর্থনীতিতে শ্রম হিসেবে গণ্য করা হয়।
কোনো কিছু উৎপাদনের জন্য যেসব দ্রব্য বা সেবাকর্ম প্রয়োজন হয়, সেগুলোকে উৎপাদনের উপকরণ বলে। অর্থনীতিতে উৎপাদনের উপকরণ মূলত চারটি, যথা- ভূমি, শ্রম, মূলধন ও সংগঠন। উদ্দীপকের ছকে উৎপাদনের চার প্রকার উপকরণের একটি তালিকা দেখানো হয়েছে, যেখানে ১নং ও ৩নং স্থানে যথাক্রমে ভূমি ও মূলধনের নাম উল্লেখ রয়েছে। উৎপাদনের ধারাবাহিকতা ও নিয়মানুযায়ী ভূমি ও মূলধনের পাশাপাশি মানুষের কায়িক ও মানসিক প্রচেষ্টা অপরিহার্য। তাই সামগ্রিক উৎপাদন ব্যবস্থায় উপকরণের ক্রম অনুযায়ী ২নং '?' চিহ্নিত স্থানটিতে উৎপাদনের অন্যতম সচল উপকরণ 'শ্রম' বসবে।
উদ্দীপকের ৪নং '?' চিহ্নিত উপকরণটি হলো 'সংগঠন', যা যেকোনো ব্যবসায়ের মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।
উৎপাদন ক্ষেত্রে ভূমি, শ্রম ও মূলধন- এই তিনটি উপকরণের মধ্যে উপযুক্ত সমন্বয় ঘটিয়ে উৎপাদন কাজ পরিচালনা করাকে সংগঠন বলে। আধুনিক বিশ্বে উৎপাদন কর্মকাণ্ডে বিভিন্ন জন বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন। ব্যবসায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ, কার্যাবলি বিভাজন, কর্মীদের মধ্যে অধিকার ও দায়িত্ব বণ্টন এবং নিয়ম-শৃঙ্খলা গড়ে তোলার মতো যাবতীয় কাজ এই সাংগঠনিক কাঠামোর অন্তর্গত।
উদ্দীপকের ছকে উৎপাদনের চারটি উপকরণের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে, যার সর্বশেষ বা ৪নং উপকরণটি হলো সংগঠন। সত্যিকার অর্থে সংগঠন ছাড়া উৎপাদন ও ব্যবসায়ের নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যবস্থাপনা প্রায় অসম্ভব। উৎপাদনের অন্যান্য উপকরণ- ভূমি, শ্রম ও মূলধন প্রচুর পরিমাণে থাকলেও একটি সুষ্ঠু সংগঠন ছাড়া এগুলোর কোনোটিই নিজে নিজে উৎপাদন কাজ সম্পন্ন করতে পারে না। সংগঠক বা উদ্যোক্তা এই ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা উপকরণগুলোকে একত্র করেন এবং কর্মীদের সহায়তায় ব্যবসায়ের বিভিন্ন কার্যাবলি সম্পাদন করেন, যার ফলে কর্মীদের মধ্যে একটি পারস্পরিক অধিকার ও দায়িত্বের কাঠামো সৃষ্টি হয়।
সুতরাং বলা যায়, সংগঠনের বিভিন্ন অংশ একসঙ্গে ধরে রাখা, লক্ষ্য অর্জনের রূপরেখা তৈরি করা এবং সম্মিলিত উৎপাদনে অংশগ্রহণকারীদের আয়ের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করার মাধ্যমেই একটি ব্যবসা সফল হয়। তাই পারস্পরিক অধিকার ও দায়িত্বের এই কাঠামোগত রূপ অর্থাৎ 'সংগঠন' কেই ব্যবসায়ের প্রধান ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
মানুষ কর্তৃক উৎপাদিত উৎপাদনের উপকরণটি হলো 'মূলধন'।
অর্থনীতিতে মূলধন বলতে মানুষের শ্রম দ্বারা উৎপাদিত ওইসব সম্পদকে বোঝায়, যা বর্তমানে ভোগের জন্য ব্যবহার না করে অধিকতর উৎপাদনের উদ্দেশ্যে পুনরায় উৎপাদন কাজে নিয়োজিত করা হয়। অর্থাৎ, মূলধন হলো উৎপাদনের উৎপাদিত উপাদান, যেমন- যন্ত্রপাতি, কাঁচামাল, কারখানা ইত্যাদি, যা মানুষের পূর্ববর্তী শ্রমের ফসল এবং ভবিষ্যতের উৎপাদন বৃদ্ধিতে সরাসরি সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
উদ্দীপকের আলোকে মোট উৎপাদন (TP) রেখা অঙ্কন করে ব্যাখ্যা করা হলো-
চিত্রে ভূমি অক্ষে (OX অক্ষে) পরিবর্তনশীল উপকরণ তথা শ্রমিকের শ্রমঘণ্টা এবং লম্ব অক্ষে (OY অক্ষে) মোট উৎপাদন (কুইন্টাল) নির্দেশ করা হয়েছে।
উদ্দীপকের সূচি অনুযায়ী, শ্রমিকের শ্রমঘণ্টা যখন ১ তখন মোট উৎপাদন ২০ কুইন্টাল, যার সমন্বয় বিন্দু a। শ্রমঘণ্টা বৃদ্ধি করে ২, ৩, ৪, ৫, ৬ ও ৭ করা হলে মোট উৎপাদন ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেয়ে যথাক্রমে ৩৪, ৪৬, ৫৬, ৬৪, ৭০ এবং ৭০ কুইন্টাল হয়, যাদের সমন্বয় বিন্দু যথাক্রমে b, c, d, e, f এবং g। সর্বশেষ শ্রমঘণ্টা বাড়িয়ে ৮ করা হলে মোট উৎপাদন হ্রাস পেয়ে ৬৫ কুইন্টাল হয়, যার সমন্বয় বিন্দু h।
এখন a, b, c, d, e, f, g এবং h বিন্দুগুলো যোগ করলে যে TP রেখাটি পাওয়া যায়, তা প্রথমে ক্রমবর্ধমান হারে বৃদ্ধি পায়, এরপর ক্রমহ্রাসমান হারে বৃদ্ধি পেয়ে সর্বোচ্চ হয় এবং পরিশেষে নিম্নগামী হয়। এই রেখাটিই হলো উদ্দীপকের তথ্যের আলোকে অঙ্কিত মোট উৎপাদন রেখা।
উদ্দীপকের সূচি ব্যবহার করে নিচে গড় উৎপাদন (AP) ও প্রান্তিক উৎপাদন (MP) নির্ণয় করা হলো-
তৈরিকৃত সূচির আলোকে গড় উৎপাদন (AP) ও প্রান্তিক উৎপাদন (MP)-এর মধ্যকার সম্পর্কটিকে ৩টি পর্যায়ে বিশ্লেষণ করা হলো-
১. ক্রমবর্ধমান পর্যায় (MP > AP): সাধারণত গড় উৎপাদন (AP) যখন বৃদ্ধি পায়, তখন প্রান্তিক উৎপাদন (MP) তার চেয়ে বেশি থাকে। তবে উদ্দীপকের সূচিতে শ্রমের ১ম একক থেকেই AP হ্রাস পাওয়ায় এই পর্যায়টি এখানে অনুপস্থিত।
২. সর্বোচ্চ পর্যায় (AP = MP): গড় উৎপাদন (AP) যখন সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছায়, তখন প্রান্তিক উৎপাদন (MP) এবং গড় উৎপাদন সমান হয়। সূচিতে শ্রমের ১ম এককেই AP এবং MP উভয়ই সর্বোচ্চ এবং পরস্পর সমান (২০ = ২০)।
৩. ক্রমহ্রাসমান পর্যায় (MP < AP): গড় উৎপাদন (AP) যখন হ্রাস পেতে শুরু করে, তখন প্রান্তিক উৎপাদন (MP) তার চেয়ে দ্রুত হারে হ্রাস পায়। সূচির ২য় থেকে ৮ম একক পর্যন্ত এই সম্পর্কটি বিদ্যমান। এছাড়া, হ্রাস পাওয়ার সময় AP সবসময় ধনাত্মক থাকলেও MP একপর্যায়ে শূন্য (৭ম এককে) এবং ঋণাত্মক (৮ম এককে) হয়ে যায়।
দেশে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক তালিকাভুক্ত ব্যাংকসমূহের ঋণদান ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করে।
বাণিজ্যিক বা তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলো জনগণের আমানতের ওপর ভিত্তি করে অতিরিক্ত ঋণ সৃষ্টি করতে পারে। এই ঋণের পরিমাণ অতিরিক্ত বেড়ে গেলে বাজারে অর্থের সরবরাহ বেড়ে যায়, যার ফলে মুদ্রাস্ফীতি দেখা দেয়। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্যই দেশের অভিভাবক হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন পদ্ধতি (যেমন- ব্যাংক হার, জমার হার পরিবর্তন ইত্যাদি) প্রয়োগের মাধ্যমে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ঋণদান ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করে।
উদ্দীপকের ছক 'A' অংশ জিডিপি (GDP) পরিমাপের আয় পদ্ধতিকে নির্দেশ করে।
আয় পদ্ধতিতে মোট দেশজ উৎপাদন হলো উৎপাদন কার্যে ব্যবহৃত উপকরণসমূহের প্রাপ্ত আয়ের সমষ্টি। উৎপাদন ক্ষেত্রে ব্যবহৃত মৌলিক উপকরণ ভূমি, শ্রম, মূলধন ও সংগঠন। এদের প্রাপ্ত আয় যথাক্রমে খাজনা, মজুরি, সুদ ও মুনাফা। অর্থাৎ এ পদ্ধতিতে, মোট দেশজ উৎপাদন = $\sum$খাজনা + $\sum$মজুরি + $\sum$সুদ + $\sum$মুনাফা (এখানে $\sum$ = সমষ্টি)।
উদ্দীপকের ছক 'A'-তে দেখা যায়, $\sum$ খাজনা + $\sum$ মজুরি + $\sum$ সুদ + $\sum$ মুনাফা সমীকরণটি দেওয়া আছে। যেহেতু সমীকরণটিতে উৎপাদনের চারটি মৌলিক উপকরণের প্রাপ্ত আয়ের সমষ্টি দেখানো হয়েছে, তাই এটি নিশ্চিতভাবে জিডিপি পরিমাপের আয় পদ্ধতিকে নির্দেশ করে।
উদ্দীপকের ছক 'B'-এর খাতগুলো বাংলাদেশের অর্থনীতিতে জিডিপি (GDP) পরিমাপের 'উৎপাদন পদ্ধতি'তে সম্পৃক্ত হয়।
বাংলাদেশে জিডিপি গণনার দায়িত্বে নিয়োজিত বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো উৎপাদন পদ্ধতি ব্যবহার করে জিডিপি গণনা করে থাকে। এই পদ্ধতিতে জিডিপি পরিমাপের জন্য দেশের সমগ্র অর্থনীতিকে মোট ১৫টি প্রধান খাতে বিভক্ত করে এক বছরে উৎপাদিত চূড়ান্ত দ্রব্য ও সেবার বাজারমূল্য যোগ করা হয়।
উদ্দীপকের ছক 'B'-তে উল্লিখিত খাতগুলো এই ১৫টি খাতেরই অংশ। এগুলো জিডিপি পরিমাপে যেভাবে সম্পৃক্ত হয় তা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো-
১. খনিজ ও খনন : প্রাকৃতিক গ্যাস, অপরিশোধিত তেল ও অন্যান্য খনিজ সম্পদের উৎপাদিত পণ্যের বাজারমূল্য হিসাব করে দেশজ উৎপাদনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
২. শিল্প (ম্যানুফ্যাকচারিং): বৃহৎ, মাঝারি ও ক্ষুদ্র শিল্পের উৎপাদিত পণ্যের বর্তমান বাজারমূল্য হিসাব করে জিডিপিতে যোগ করা হয়।
৩. আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা সেবা: এই খাত থেকে প্রাপ্ত সেবার মূল্যের ভিত্তিতে দেশজ উৎপাদনের পরিমাণ হিসাব করা হয়।
৪. নির্মাণ: ব্যক্তি, নির্মাণ প্রতিষ্ঠান, ভোক্তা এবং সরকারের প্রাপ্ত তথ্য থেকে এবং সরকারি বেঁধে দেওয়া মূল্যের প্রেক্ষিতে এই খাতের দেশজ উৎপাদনের পরিমাণ হিসাব করা হয়।
৫. শিক্ষা: বাংলাদেশের শিক্ষা খাতে মোট দেশজ উৎপাদন ব্যয়ের দিক থেকে হিসাব করে জিডিপিতে সম্পৃক্ত করা হয়।
সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের খাতগুলো উৎপাদন পদ্ধতিতে তাদের উৎপাদিত চূড়ান্ত দ্রব্য ও সেবার আর্থিক মূল্য বা ব্যয়ের পরিমাণ যোগ করার মাধ্যমেই বাংলাদেশের জিডিপি পরিমাপে সম্পৃক্ত হয়।
মূলধন বা উন্নয়ন বাজেটের প্রধান লক্ষ্য হলো দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধি অর্জন।
সরকারের মূলধন আয় ও ব্যয়ের হিসাব যে বাজেটে দেখানো হয়, তাকে মূলধন বা উন্নয়ন বাজেট বলে। এই বাজেটের মূল উদ্দেশ্য হলো দেশের ও জনগণের দীর্ঘমেয়াদি আর্থসামাজিক উন্নয়ন সাধন করা। এই লক্ষ্যে সরকার প্রতিবছর বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি প্রণয়ন করে এবং তা বাস্তবায়নের জন্য কৃষি, শিল্প, বিদ্যুৎ, জ্বালানি, পরিবহণ ও যোগাযোগের মতো উৎপাদনশীল ও কাঠামোগত খাতসমূহে অর্থ ব্যয় করে থাকে, যা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধি অর্জনে সরাসরি অবদান রাখে।
সূচিতে প্রদত্ত বাজেটটি একটি সুষম বাজেট।
কোনো নির্দিষ্ট সময়ে বা আর্থিক বছরে সরকারের প্রত্যাশিত মোট আয় এবং সম্ভাব্য মোট ব্যয়ের পরিমাণ পরস্পর সমান হলে তাকে সুষম বাজেট বলে। এই বাজেটে আয়ের সাথে নিখুঁত সংগতি রেখে ব্যয়ের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয় বলে সাধারণত দেশে মুদ্রাস্ফীতি বা দ্রব্যের দাম দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে, যা অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
সূত্র: সুষম বাজেট = মোট আয় – মোট ব্যয় = ০ হয়। অর্থাৎ, মোট আয় = মোট ব্যয়।
উদ্দীপকের কাল্পনিক বাজেট সূচিটি পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, সরকারের মোট আয়ের পরিমাণ (৬৫ + ৪৫ + ৫০ + ২১) হাজার কোটি টাকা বা ১৮১ হাজার কোটি টাকা। অন্যদিকে, সরকারের মোট ব্যয়ের পরিমাণ (৬০ + ৩৫ + ৫৫ + ৩১) হাজার কোটি টাকা বা ১৮১ হাজার কোটি টাকা। যেহেতু এখানে সরকারের মোট প্রত্যাশিত আয় এবং সম্ভাব্য ব্যয়ের পরিমাণ সম্পূর্ণ সমান, তাই এটি সুষম বাজেটের গাণিতিক রূপকে প্রকাশ করে। সুতরাং দেখা যায়, সূচিতে প্রদত্ত বাজেটটি একটি সুষম বাজেট।
প্রদত্ত বাজেটে যদি ব্যয়ের পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পায় তবে বাজেটটি ঘাটতি বাজেটে রূপান্তরিত হবে এবং তা বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য অত্যন্ত মঙ্গলজনক হবে বলে আমি মনে করি।
কোনো আর্থিক বছরে সরকারের প্রত্যাশিত বা সম্ভাব্য আয়ের তুলনায় সম্ভাব্য ব্যয়ের পরিমাণ বেশি হলে তাকে ঘাটতি বাজেট বলে। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে প্রাকৃতিক সম্পদের পরিপূর্ণ ব্যবহার নিশ্চিত করতে, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বেকারত্ব হ্রাস করতে এবং জনগণের জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধিতে ঘাটতি বাজেট প্রণয়ন অত্যন্ত কল্যাণকর। উন্নয়নশীল দেশে অর্থনৈতিক অনগ্রসরতা দূর করার জন্য রাস্তাঘাট, সেতু, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের মতো বড় বড় অবকাঠামো নির্মাণের যে বিশাল কর্মযজ্ঞ হাতে নিতে হয়, তা সীমিত কর রাজস্ব দিয়ে সম্পন্ন করা সম্ভব হয় না। এ অবস্থায় সরকার ঘাটতি বাজেটের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ ব্যাংকিং ব্যবস্থা ও বৈদেশিক উৎস থেকে ঋণ গ্রহণ করে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড সচল রাখে, যা বেসরকারি বিনিয়োগপ্রবণতা বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে উৎপাদন ও আয় বৃদ্ধি করে।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।