ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৬
১. নাদিম সাহেব একজন ব্যবসায়ী। তার একটি মুদির দোকান আছে। দোকান থেকে যা আয় হয় তা দিয়ে তিনি সংসার চালান। অপরদিকে, তার স্ত্রী রায়হানা বেগম উচ্চ শিক্ষিত হওয়া সত্ত্বেও চাকরি না করে ছেলেমেয়েদের দেখাশুনা করেন।
উত্তর যে সমস্ত দ্রব্য পাওয়ার জন্য মানুষকে অর্থ প্রদান করতে হয়, তাকে অর্থনৈতিক দ্রব্য বলা হয়।
উত্তর

সম্পদের মালিকানা বা হাত বদল করার ক্ষমতাকেই অর্থনীতিতে হস্তান্তরযোগ্যতা বলা হয়।

অর্থনীতিতে কোনো জিনিস সম্পদ হতে হলে তার হস্তান্তরযোগ্যতা থাকা আবশ্যক। যে দ্রব্যের মালিকানা একজনের কাছ থেকে সহজেই অন্যজনের কাছে বদল করা যায় (যেমন- টিভি বা জমি), সেটিই সম্পদ। কিন্তু মানুষের প্রতিভা, দক্ষতা বা অভ্যন্তরীণ গুণাবলি কোনোভাবেই অন্যের কাছে হস্তান্তর করা সম্ভব নয় বলে অর্থনীতির ভাষায় এগুলোকে সম্পদ বলা যায় না।

উত্তর

উদ্দীপকে উল্লিখিত নাদিম সাহেবের কাজের ধরনটি অর্থনীতির 'অর্থনৈতিক কার্যাবলি'-কে নির্দেশ করে।

মানুষ জীবিকা নির্বাহের জন্য যে কার্যাবলি করে থাকে, তাকে অর্থনৈতিক কার্যাবলি বলা হয়। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মানুষ অর্থ উপার্জন করে এবং জীবনধারণের জন্য তা ব্যয় করে। মানুষের এই অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের মূল প্রেরণা হলো দ্রব্যসামগ্রীর অভাব পূরণ করা এবং নতুন দ্রব্য ও সেবাপণ্য সৃষ্টি করা। যেমন- শ্রমিকরা কলকারখানায় কাজ করে, কৃষকরা জমিতে কাজ করে বা ব্যবসায়ীরা শিল্পপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে।

উদ্দীপকে নাদিম সাহেব একজন ব্যবসায়ী এবং তিনি একটি মুদির দোকান পরিচালনা করেন। এই মুদির দোকান থেকে তিনি যা আয় করেন, তা দিয়ে তিনি তার সংসারের যাবতীয় খরচ মেটান। অর্থাৎ, তিনি ব্যবসার মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করছেন এবং সেই উপার্জিত অর্থ দিয়ে নিজের ও পরিবারের জীবনধারণের ব্যয় নির্বাহ করছেন। তার এই কাজ সরাসরি জীবিকা নির্বাহ ও অর্থ উপার্জনের সাথে জড়িত।

সুতরাং বলা যায়, নাদিম সাহেবের মুদির দোকান পরিচালনার কাজটি সুস্পষ্টভাবে অর্থনৈতিক কার্যাবলির অন্তর্ভুক্ত।

উত্তর

"নাদিম সাহেবের স্ত্রী রায়হানা বেগমের কাজে অর্থ উপার্জন হয় না কিন্তু উপযোগ অনেক বেশি"- উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ; কারণ তার কাজটি অ-অর্থনৈতিক কাজ হলেও তা পরিবারের একটি অপরিহার্য অভাব পূরণ করে।

যে সমস্ত কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অর্থ উপার্জিত হয় না এবং যা জীবনধারণের জন্য ব্যয় করা যায় না, তাকে অ-অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বলা হয়। এ ধরনের কার্যাবলি অর্থ উপার্জনে কোনো ভূমিকা না রাখলেও তা মানুষের অভাব পূরণ করে; যেমন- পিতামাতা কর্তৃক সন্তান লালন-পালন করা। অন্যদিকে, উপযোগ বলতে বোঝায় কোনো দ্রব্য বা সেবার মানুষের অভাব মেটানোর ক্ষমতা। অর্থাৎ, কোনো কাজ থেকে আর্থিক আয় না এলেও যদি তা মানুষের কোনো গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজন বা অভাব মেটায়, তবে অর্থনীতিতে তার উপযোগ রয়েছে বলে গণ্য করা হয়।

উদ্দীপকে নাদিম সাহেবের স্ত্রী রায়হানা বেগম উচ্চশিক্ষিত হওয়া সত্ত্বেও কোনো চাকরি করেন না, বরং তিনি ঘরে থেকে তার ছেলেমেয়েদের দেখাশোনা করেন। তার এই সন্তান লালন-পালন করার মাধ্যমে তিনি কোনো অর্থ উপার্জন করেন না বলে এটি একটি অ-অর্থনৈতিক কাজ। কিন্তু একজন শিক্ষিত মা হিসেবে তিনি সন্তানদের যে সেবা ও সময় দিচ্ছেন, তা সন্তানদের মানসিক বিকাশ ও সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার মতো সবচেয়ে বড়ো অভাবটি পূরণ করছে। মায়ের এই মমতাময়ী সেবার বিনিময়ে কোনো আর্থিক মূল্য পাওয়া না গেলেও, সন্তানদের সঠিক ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে রায়হানা বেগমের কাজটির অভাব মেটানোর ক্ষমতা বা উপযোগ সীমাহীন।

সুতরাং উপরিউক্ত আলোচনা থেকে বলা যায়, রায়হানা বেগমের সন্তান লালন-পালনের কাজটিতে কোনো আর্থিক উপার্জন না থাকলেও এর উপযোগ অনেক বেশি।

২. নিচে একটি সারণি দেওয়া হলো-
উদ্দীপকের ছবি
উত্তর সঞ্চিত অর্থ যখন উৎপাদন বাড়ানোর কাজে ব্যবহৃত হয়, তখন তাকে বিনিয়োগ বলে।
উত্তর

কোনো দ্রব্যের শুধু উপযোগ বা অভাব মেটানোর ক্ষমতা থাকলেই তাকে সম্পদ বলা যায় না, এর সাথে আরও তিনটি সুনির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য থাকা আবশ্যক।

অর্থনীতিতে কোনো জিনিস সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হতে হলে উপযোগের পাশাপাশি দ্রব্যটির অপ্রাচুর্যতা, হস্তান্তরযোগ্যতা এবং বাহ্যিকতা থাকতে হয়। যদি কোনো দ্রব্যের কেবল উপযোগ থাকে কিন্তু তা প্রকৃতিতে বিনামূল্যে ও প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায় (যেমন- আলো বা বাতাস) কিংবা তা হস্তান্তরযোগ্য না হয়, তবে অর্থনীতির ভাষায় সেটি সম্পদ নয়।

উত্তর

অর্থনীতিতে কোনো একটি দ্রব্যের অতিরিক্ত এক একক উৎপাদনের জন্য অন্য দ্রব্যটির উৎপাদন যতটুকু ছাড়তে হয় বা ত্যাগ করতে হয়, তাকে ওই অতিরিক্ত এককের সুযোগ ব্যয় বলে।

উদ্দীপকের সারণিতে ধানের উৎপাদন ১ মিলিয়ন টন করে বৃদ্ধির জন্য পাটের উৎপাদন যে পরিমাণ হ্রাস পাচ্ছে, সেটিই হলো ধানের সুযোগ ব্যয়। নিচে সারণির '?' চিহ্নের স্থলে যথাযথ সুযোগ ব্যয় নির্ণয় করে সম্পূর্ণ সারণিটি তৈরি করা হলো-

সারণিতে দেখা যায়, 'A' সংমিশ্রণে ধানের উৎপাদন শূন্য হওয়ায় এর কোনো সুযোগ ব্যয় নেই। 'B' সংমিশ্রণে ১ মিলিয়ন টন ধান উৎপাদনের জন্য পাট উৎপাদন ১৭ থেকে কমে ১৬ মিলিয়ন বেল হয়। অর্থাৎ, এখানে ১ মিলিয়ন টন ধানের সুযোগ ব্যয় হলো ১ মিলিয়ন বেল পাট। একইভাবে, 'C', 'D', 'E' এবং 'F' সংমিশ্রণে ধানের উৎপাদন ক্রমান্বয়ে ১ মিলিয়ন টন করে বৃদ্ধির ফলে পাটের উৎপাদন যথাক্রমে ২, ৩, ৪ ও ৭ মিলিয়ন বেল ছাড়তে হয়।

উত্তরের ছবি
উত্তর

উদ্দীপকের সারণির আলোকে ধানের উৎপাদন ও পাটের উৎপাদনের বিভিন্ন সংমিশ্রণ নিয়ে নিচে একটি রেখাচিত্র অঙ্কন করা হলো-

চিত্রে ভূমি অক্ষে (OX অক্ষে) ধানের উৎপাদন (মিলিয়ন টন) এবং লম্ব অক্ষে (OY অক্ষে) পাটের উৎপাদন (মিলিয়ন বেল) নির্দেশ করা হয়েছে। সারণি অনুযায়ী, ধানের উৎপাদন যখন 0 মিলিয়ন টন তখন পাটের উৎপাদন ১৭ মিলিয়ন বেল, যার সমন্বয় বিন্দু A। ধানের উৎপাদন বাড়িয়ে যখন ১ মিলিয়ন টন করা হয় তখন পাটের উৎপাদন কমে ১৬ মিলিয়ন বেল হয়, যার সমন্বয় বিন্দু B। ধানের উৎপাদন আরও বাড়িয়ে ক্রমান্বয়ে ২, ৩ ও ৪ মিলিয়ন টন করা হলে পাটের উৎপাদন কমে যথাক্রমে ১৪, ১১ ও ৭ মিলিয়ন বেল হয়, যাদের সমন্বয় বিন্দু যথাক্রমে C, D এবং E। সবশেষে ধানের উৎপাদন যখন ৫ মিলিয়ন টন করা হয় তখন পাটের উৎপাদন 0 মিলিয়ন বেল হয় বা পুরাপুরি ছেড়ে দিতে হয়, যার সমন্বয় বিন্দু F।

এখন A, B, C, D, E এবং F বিন্দুগুলো যোগ করলে যে AF রেখাটি পাওয়া যায় তা বাম থেকে ডানে নিম্নগামী এবং মূলবিন্দুর দিকে অবতল আকৃতির। এই রেখাটিই হলো উদ্দীপকের সারণির আলোকে অঙ্কিত উৎপাদন সম্ভাবনা রেখা, যা ক্রমবর্ধমান সুযোগ ব্যয় ধারণা নির্দেশ করে।

উত্তরের ছবি
৩. রাজু পাইকারি বাজারে গিয়ে দেখে পেঁয়াজের দাম ৫০ টাকা। সে ১৩০ কেজি পেঁয়াজ কিনে। কিন্তু পাইকারি বাজারের দোকানদার একই দামে ১৭০ কেজি পেঁয়াজ বিক্রি করতে ইচ্ছুক। পরদিন পেঁয়াজের দাম কমে ৪০ টাকা হওয়াতে রাজু ১৫০ কেজি পেঁয়াজ কিনে। তখন দোকানদার ১৫০ কেজি পেঁয়াজ বিক্রি করতে ইচ্ছুক।
উত্তর যে দামে বাজারে কোনো দ্রব্যের চাহিদা ও জোগান পরস্পর সমান হয়, তাকে ভারসাম্য দাম বলে।
উত্তর

দাম ও চাহিদার পরিমাণের মধ্যে বিপরীতমুখী সম্পর্ক থাকার কারণে চাহিদারেখা বাম থেকে ডানদিকে নিম্নগামী হয়।

চাহিদাবিধি অনুসারে, অন্যান্য অবস্থা অপরিবর্তিত থাকলে কোনো দ্রব্যের দাম বাড়লে চাহিদার পরিমাণ কমে এবং দাম কমলে চাহিদার পরিমাণ বাড়ে। দামের সাথে চাহিদার পরিমাণের এই বিপরীত সম্পর্কের কারণেই রেখাচিত্রের মাধ্যমে প্রকাশ করা হলে চাহিদারেখা বাম থেকে ডানদিকে নিম্নগামী হয়।

উত্তর

উদ্দীপকের তথ্যের আলোকে পাইকারি বাজারের দোকানদারের পেঁয়াজের জোগান রেখা অঙ্কন করে ব্যাখ্যা করা হলো-

চিত্রে ভূমি অক্ষে (OX অক্ষে) পেঁয়াজের জোগানের পরিমাণ (কেজি) এবং লম্ব অক্ষে (OY অক্ষে) দাম (টাকায়) নির্দেশ করা হয়েছে।

উদ্দীপকের তথ্য অনুযায়ী, পেঁয়াজের দাম যখন ৪০ টাকা তখন দোকানদারের জোগানের পরিমাণ ১৫০ কেজি, যার সমন্বয় বিন্দু a। দাম বৃদ্ধি পেয়ে যখন ৫০ টাকা হয়, তখন বেশি লাভের আশায় দোকানদার জোগানের পরিমাণ বাড়িয়ে ১৭০ কেজি করে, যার সমন্বয় বিন্দু b।

এখন a এবং b বিন্দু দুটি যোগ করলে যে SS রেখাটি পাওয়া যায় তা বাম থেকে ডানদিকে ঊর্ধ্বগামী। এই রেখাটিই হলো উদ্দীপকের তথ্যের আলোকে অঙ্কিত পাইকারি বাজারের দোকানদারের জোগান রেখা।

উত্তরের ছবি
উত্তর

হ্যাঁ, আমি মনে করি রাজু ও দোকানদার পেঁয়াজের বাজারে একটি নির্দিষ্ট ভারসাম্য দামে পৌঁছাতে পেরেছে। নিচে এটি যৌক্তিকভাবে বিশ্লেষণ করা হলো-

ক্রেতা ও বিক্রেতার দরকষাকষির ফলে যে দামে দ্রব্যের চাহিদা ও জোগান পরস্পর সমান হয়, তাকে ভারসাম্য দাম বলে। উদ্দীপকের তথ্যের আলোকে রাজুর (ক্রেতা) চাহিদা এবং দোকানদারের (বিক্রেতা) জোগানের একটি সূচি নিচে তৈরি করা হলো-

সূচি অনুযায়ী, পেঁয়াজের দাম যখন ৫০ টাকা, তখন রাজুর চাহিদার পরিমাণ ১৩০ কেজি কিন্তু দোকানদারের জোগানের পরিমাণ ১৭০ কেজি। এক্ষেত্রে জোগান > চাহিদা হওয়ায় বাজারে ৪০ কেজি পেঁয়াজের উদ্বৃত্ত দেখা দেবে এবং অবিক্রীত পেঁয়াজ বিক্রয়ের জন্য বিক্রেতাদের মধ্যে প্রতিযোগিতার কারণে দাম হ্রাস পাবে।

অন্যদিকে, দাম কমে যখন ৪০ টাকা হয়, তখন রাজুর চাহিদার পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে ১৫০ কেজি হয় এবং দোকানদারের জোগানের পরিমাণ হ্রাস পেয়ে ১৫০ কেজি হয়। অর্থাৎ, এই ৪০ টাকা দামে ক্রেতার চাহিদা ও বিক্রেতার জোগান উভয়ই পরস্পর সমান (১৫০ কেজি) হয়ে যায়।

অতএব, উপরিউক্ত বিশ্লেষণ থেকে এটি স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় যে, রাজু ও দোকানদার পেঁয়াজের বাজারে ৪০ টাকা দামে এবং ১৫০ কেজি পরিমাণে একটি নিখুঁত বাজার ভারসাম্য অবস্থায় পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে।

উত্তরের ছবি
৪. নিচে একজন ভোক্তার উপযোগ সূচি দেওয়া হলো-
উদ্দীপকের ছবি
উত্তর একজন বিক্রেতা কোনো একটি দ্রব্যের যে পরিমাণ একটি নির্দিষ্ট সময়ে এবং একটি নির্দিষ্ট দামে বিক্রয় করতে ইচ্ছুক থাকে, তাকে জোগান বলে।
উত্তর

বাজারে একটি নির্দিষ্ট দামে সব ভোক্তার ব্যক্তিগত চাহিদার সমষ্টিকে বাজার চাহিদা বলা হয়।

কোনো একটি নির্দিষ্ট সময়ে ও নির্দিষ্ট দামে বাজারে অবস্থানরত সকল ক্রেতা বা ভোক্তা মিলে একটি দ্রব্যের যে পরিমাণ ক্রয় করতে ইচ্ছুক থাকে, তাকেই বাজার চাহিদা বলে। মূলত বাজারের সকল ভোক্তার ব্যক্তিগত চাহিদা রেখার আনুভূমিক যোগফল নির্ণয় করেই এই বাজার চাহিদা পাওয়া যায়।

উত্তর

কোনো নির্দিষ্ট সময়ে একটি দ্রব্যের ভোগের পরিমাণ এক একক বৃদ্ধির ফলে মোট উপযোগের যে পরিবর্তন হয়, তাকে প্রান্তিক উপযোগ (MU) বলে।

উদ্দীপকের ছক হতে মোট উপযোগ (TU) থেকে প্রান্তিক উপযোগ (MU) নির্ণয় করে নিচে সূচিটি তৈরি করা হলো-

সূচিতে দেখা যায়, ১ম একক দ্রব্য থেকে ভোক্তা ৫ টাকা উপযোগ পায়, তাই তার প্রান্তিক উপযোগও ৫ টাকা। এরপর ২য়, ৩য় ও ৪র্থ একক দ্রব্য ভোগের ক্ষেত্রে প্রান্তিক উপযোগ ক্রমান্বয়ে হ্রাস পেয়ে যথাক্রমে ৩, ২ ও ১ টাকা হয়। ৫ম এককে মোট উপযোগ সর্বোচ্চ (১১ টাকা) হওয়ায় প্রান্তিক উপযোগ শূন্য (০) হয়। সবশেষে ৬ষ্ঠ এককে মোট উপযোগ হ্রাস পেয়ে ১০ টাকা হওয়ায় প্রান্তিক উপযোগ ঋণাত্মক (-১) হয়ে যায়।

উত্তরের ছবি
উত্তর

উদ্দীপকের আলোকে ভোক্তা ৫ম এককের পর অর্থাৎ ৬ষ্ঠ একক দ্রব্যটি আর ক্রয় করবে না। নিচে এর সপক্ষে যৌক্তিক বিশ্লেষণ উপস্থাপন করা হলো-

সাধারণত একজন যুক্তিবাদী ভোক্তা ততক্ষণ পর্যন্ত কোনো দ্রব্য ক্রয় বা ভোগ করতে থাকে, যতক্ষণ পর্যন্ত সে ওই দ্রব্য থেকে ধনাত্মক প্রান্তিক উপযোগ লাভ করে। যখন প্রান্তিক উপযোগ শূন্য হয়, তখন ভোক্তার তৃপ্তি সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়, এরপরেও যদি সে দ্রব্যটি ভোগ করে, তবে তার প্রান্তিক উপযোগ ঋণাত্মক হয়ে যায়, যা ভোক্তার জন্য কোনো তৃপ্তি তো আনেই না, বরং অকল্যাণ বা বিরক্তির সৃষ্টি করে।

'গ' হতে প্রাপ্ত সূচি অনুযায়ী, ভোক্তা যখন ১ম, ২য়, ৩য় ও ৪র্থ একক দ্রব্য ভোগ করে, তখন তার প্রান্তিক উপযোগ ক্রমান্বয়ে হ্রাস পেলেও তা ধনাত্মক (যথাক্রমে ৫, ৩, ২ ও ১ টাকা) থাকে। অর্থাৎ, এই পর্যায়গুলোতে দ্রব্যটি ভোগ করে সে কিছু না কিছু অতিরিক্ত তৃপ্তি পাচ্ছে। কিন্তু ভোক্তা যখন ৫ম একক দ্রব্য ভোগ করে, তখন তার মোট উপযোগ সর্বোচ্চ পর্যায়ে (১১ টাকা) পৌঁছায় এবং প্রান্তিক উপযোগ শূন্য (০) হয়ে যায়। এই ৫ম এককটিই হলো ভোক্তার সর্বোচ্চ তৃপ্তির স্তর বা পরিতৃপ্তির বিন্দু।

এরপরও যদি ভোক্তা ৬ষ্ঠ একক দ্রব্য ক্রয় ও ভোগ করে, তবে তার মোট উপযোগ কমে ১০ টাকা হয়ে যায় এবং প্রান্তিক উপযোগ ঋণাত্মক (-১ টাকা) হয়। ঋণাত্মক প্রান্তিক উপযোগ মানে হলো দ্রব্যটি ভোগ করার ফলে ভোক্তা আর কোনো উপযোগ পাচ্ছে না। একজন স্বাভাবিক ও যুক্তিবাদী ভোক্তা কখনই নিজের অর্থের বিনিময়ে উপযোগের ক্ষতি করে কোনো দ্রব্য ক্রয় করবে না।

অতএব, উপরিউক্ত আলোচনা থেকে এটি নিশ্চিতভাবে বলা যায় যে, ভোক্তা ৫ম একক পর্যন্ত দ্রব্যটি ভোগ করে সর্বোচ্চ তৃপ্তি লাভ করবে এবং কোনোভাবেই ৬ষ্ঠ একক দ্রব্যটি আর ক্রয় করবে না।

৫. চিত্রটি লক্ষ কর :
উদ্দীপকের ছবি
উত্তর মানুষ তার সেবা দ্বারা যে উপযোগ সৃষ্টি করে, তাকে সেবাগত উপযোগ বলে।
উত্তর

ব্যক্তিগত ব্যয় বলতে কোনো ফার্ম বা উৎপাদনকারীর নিজস্ব প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য ব্যয়ের সমষ্টিকে বোঝায়। অন্যদিকে, এই উৎপাদন বা ভোগের কারণে সমাজের অন্যান্য মানুষের যে পরোক্ষ ক্ষতি হয়, তার ক্ষতিপূরণ বাবদ ব্যয়কে সামাজিক ব্যয় বলে।

যেমন- একটি ইটভাটার মালিকের ব্যক্তিগত ব্যয়ে শুধু কাঁচামাল বা শ্রমিকের মজুরি হিসাব করা হয়। কিন্তু ইটভাটার ধোঁয়ায় চারপাশের মানুষের যে স্বাস্থ্যগত ক্ষতি হয়, তা সামাজিক ব্যয়ের অন্তর্ভুক্ত। সামাজিক ব্যয়ে ব্যক্তিগত ব্যয় প্রতিফলিত হলেও, ব্যক্তিগত ব্যয়ে সমাজের এই পরোক্ষ ক্ষতি অন্তর্ভুক্ত থাকে না বলেই এরা পরস্পর থেকে ভিন্ন হয়।

উত্তর

চিত্রে মোট উৎপাদন (TP) রেখার 'F' বিন্দুতে সর্বোচ্চ উৎপাদন নির্দেশ করা হয়েছে।

একটি নির্দিষ্ট সময়ে স্থির উপকরণের সাথে পরিবর্তনশীল উপকরণের (যেমন- শ্রম) ক্রমাগত বৃদ্ধির ফলে যে মোট দ্রব্য উৎপাদিত হয়, তাকে মোট উৎপাদন বলে। উৎপাদন বিধি অনুযায়ী, অন্যান্য উপকরণ স্থির রেখে শ্রম নিয়োগ বাড়ানোর সাথে সাথে মোট উৎপাদন প্রথমদিকে ক্রমবর্ধমান ও পরে ক্রমহ্রাসমান হারে বাড়ে এবং একপর্যায়ে তা তার সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছায়।

উদ্দীপকের চিত্রে দেখা যায়, ভূমি (X) অক্ষে শ্রমের পরিমাণ এবং লম্ব (Y) অক্ষে উৎপাদনের পরিমাণ নির্দেশ করা হয়েছে। শ্রম নিয়োগ বৃদ্ধির সাথে সাথে TP রেখাটি মূলবিন্দু (O) থেকে উপরের দিকে উঠতে থাকে। শ্রম নিয়োগ বাড়াতে বাড়াতে রেখাটি যখন F বিন্দুতে পৌঁছায়, তখন মোট উৎপাদন তার সর্বোচ্চ আকার ধারণ করে। F বিন্দুর পর শ্রম আরও বাড়ানো হলে মোট উৎপাদন রেখাটি নিচের দিকে নামতে শুরু করে, যা মোট উৎপাদনের হ্রাস নির্দেশ করে। অর্থাৎ, ঊর্ধ্বগামী TP রেখার চূড়া বা F বিন্দুটিই হলো উৎপাদনের চূড়ান্ত স্তর, যেখানে উৎপাদন সর্বোচ্চ।

উত্তর

চিত্রে মোট উৎপাদন (TP) রেখা ব্যতীত প্রদর্শিত অন্য দুটি রেখা হলো গড় উৎপাদন (AP) এবং প্রান্তিক উৎপাদন (MP) রেখা, যাদের মধ্যে অত্যন্ত নিবিড় ও সুনির্দিষ্ট সম্পর্ক বিদ্যমান।

মোট উৎপাদনকে মোট উপকরণ দিয়ে ভাগ করলে গড় উৎপাদন (AP) পাওয়া যায়। অন্যদিকে, এক একক অতিরিক্ত উপকরণ নিয়োগের ফলে মোট উৎপাদনের যে পরিবর্তন ঘটে, তাকে প্রান্তিক উৎপাদন (MP) বলে। উৎপাদন ব্যবস্থায় শ্রমের নিয়োগ ক্রমাগত বৃদ্ধি করা হলে AP ও MP উভয়ই একটি নির্দিষ্ট স্তর পর্যন্ত বাড়ে এবং এরপর কমতে শুরু করে। তবে এদের হ্রাস-বৃদ্ধির হার সবসময় এক রকম হয় না।

উদ্দীপকের চিত্রে AP এবং MP রেখার গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণ করলে এদের মধ্যকার সম্পর্কটি স্পষ্টভাবে পরিলক্ষিত হয়। প্রথমত, শ্রম নিয়োগের প্রাথমিক পর্যায়ে MP রেখাটি AP রেখার উপরে অবস্থান করে, যার অর্থ প্রান্তিক উৎপাদন গড় উৎপাদনের চেয়ে দ্রুত হারে বাড়ে। দ্বিতীয়ত, শ্রম বাড়াতে থাকলে একপর্যায়ে AP রেখা তার সর্বোচ্চ বিন্দু E-তে পৌঁছায় এবং ঠিক এই E বিন্দুতেই MP রেখাটি AP রেখাকে ছেদ করে। অর্থাৎ, গড় উৎপাদনের সর্বোচ্চ বিন্দুতে গড় ও প্রান্তিক উৎপাদন পরস্পর সমান হয়। তৃতীয়ত, E বিন্দুর পর শ্রম আরও বৃদ্ধি করলে উভয়ই নিম্নগামী হয়, তবে তখন MP রেখা AP রেখার নিচে অবস্থান করে এবং একপর্যায়ে MP ভূমি অক্ষ (X) ছেদ করে নিচে নামলেও বা ঋণাত্মক হলেও AP রেখা সর্বদা ধনাত্মক থাকে।

সুতরাং বলা যায়, উৎপাদনের ক্ষেত্রে গড় ও প্রান্তিক উৎপাদন স্বাধীনভাবে পরিবর্তিত হয় না, বরং একটি সুনির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলে এবং এদের গতিপ্রকৃতি একে অপরকে প্রত্যক্ষভাবে প্রভাবিত করে।

৬. উদ্দীপকটি পড়ো এবং নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
উদ্দীপকের ছবি
উত্তর CCA-এর পূর্ণরূপ হলো- Capital Consumption Allowance.
উত্তর

দ্বৈত গণনা সমস্যা দূর করার জন্য জাতীয় আয় গণনায় মাধ্যমিক দ্রব্য ও সেবা অন্তর্ভুক্ত করা হয় না।

জাতীয় আয় গণনায় শুধু চূড়ান্ত পর্যায়ের দ্রব্য ও সেবা বিবেচিত হয়। কারণ চূড়ান্ত পর্যায়ের দ্রব্যের ভেতরেই মাধ্যমিক পর্যায়ের দ্রব্য ও সেবার মূল্য অন্তর্ভুক্ত থাকে। চূড়ান্ত দ্রব্যের পরে আবার মাধ্যমিক পর্যায়ের দ্রব্য ও সেবা বিবেচনা করলে জাতীয় আয় গণনার ক্ষেত্রে দ্বৈত গণনা (Double Counting) সমস্যা দেখা দেয়। এজন্য মাধ্যমিক পর্যায়ের দ্রব্য ও সেবাকে জাতীয় আয় পরিমাপের সময় বিবেচনা করা হয় না।

উত্তর

উদ্দীপকে 'A' দ্বারা জিডিপি (GDP) বা জাতীয় আয় পরিমাপের আয় পদ্ধতিকে নির্দেশ করে।

আয় পদ্ধতিতে মোট দেশজ উৎপাদন হলো উৎপাদন কার্যে ব্যবহৃত উপকরণসমূহের প্রাপ্ত আয়ের সমষ্টি। উৎপাদন ক্ষেত্রে ব্যবহৃত মৌলিক উপকরণ ভূমি, শ্রম, মূলধন ও সংগঠন। এদের প্রাপ্ত আয় যথাক্রমে খাজনা, মজুরি, সুদ ও মুনাফা। অর্থাৎ এ পদ্ধতিতে, মোট দেশজ উৎপাদন = Σখাজনা + Σমজুরি + Σসুদ + Σমুনাফা (এখানে Σ = সমষ্টি)।

উদ্দীপকের ছকে 'A-পদ্ধতি' তে দেখা যায়, মোট দেশজ উৎপাদন = খাজনা + মজুরি + সুদ + মুনাফা সমীকরণটি দেওয়া আছে। যেহেতু সমীকরণটিতে উৎপাদনের চারটি মৌলিক উপকরণের প্রাপ্ত আয়ের সমষ্টি যোগ করে জিডিপি বা জাতীয় আয় নির্ণয় করার কথা বলা হয়েছে, তাই এটি নিশ্চিতভাবে জাতীয় আয় পরিমাপের আয় পদ্ধতিকে নির্দেশ করে।

উত্তর

উদ্দীপকে উল্লিখিত জাতীয় আয় পরিমাপের 'A' পদ্ধতিটি হলো 'আয় পদ্ধতি' এবং 'B' পদ্ধতিটি হলো 'ব্যয় পদ্ধতি'। নিচে পদ্ধতি দুটির মধ্যে তুলনামূলক পার্থক্য বিশ্লেষণ করা হলো-

১. উৎপাদনের মৌলিক উপকরণের প্রাপ্ত আয় যোগ করে জিডিপি নির্ণয়ের পদ্ধতিকে আয় পদ্ধতি বলা হয়। অন্যদিকে, কোনো নির্দিষ্ট সময়ে সমাজের সব ধরনের ব্যয়ের যোগফল নির্ণয় করে জিডিপি বের করার পদ্ধতিকে ব্যয় পদ্ধতি বলা হয়।

২. আয় পদ্ধতিতে জিডিপি নির্ণয়ের সূত্র হলো, মোট দেশজ উৎপাদন = Σখাজনা + Σমজুরি + Σসুদ + Σমুনাফা। অপরদিকে, ব্যয় পদ্ধতিতে জিডিপি নির্ণয়ের সূত্র হলো, মোট দেশজ উৎপাদন = ভোগ (C) + বিনিয়োগ (I) + সরকারি ব্যয় (G) + নিট রপ্তানি (X - M)।

৩. আয় পদ্ধতিতে জিডিপি নির্ণয়ের জন্য উৎপাদনের চারটি উপকরণের (ভূমি, শ্রম, মূলধন, সংগঠন) প্রাপ্ত আয় যোগ করা হয়। অপরদিকে, ব্যয় পদ্ধতিতে জিডিপি নির্ণয়ের জন্য ব্যক্তি খাতের ভোগ ব্যয়, বিনিয়োগ ব্যয়, সরকারি ব্যয় এবং নিট রপ্তানি যোগ করা হয়।

৪ বাংলাদেশে জিডিপি গণনার দায়িত্বে নিয়োজিত বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS) জিডিপি নির্ণয়ের জন্য ব্যয় পদ্ধতি ব্যবহার করে থাকে, কিন্তু তারা জিডিপি পরিমাপের জন্য আয় পদ্ধতি ব্যবহার করে না।

সুতরাং দেখা যায়, জিডিপি বা জাতীয় আয় পরিমাপের মূল লক্ষ্য এবং ফলাফল মোটামুটি একই হলেও, গণনার উপাদান, সূত্র এবং ব্যবহারিক দিক থেকে উদ্দীপকের 'A' (আয় পদ্ধতি) এবং 'B' (ব্যয় পদ্ধতি) এর মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে।

৭. উদ্দীপক-১: কৃষক কালা মিয়া একটি ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করেন। ১৯৭৩ সালে রাষ্ট্রপতির আদেশবলে এ ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হয়।
উদ্দীপক-২: সীমা এক আর্থিক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত, যা জনগণের অর্থ জমা রাখে এবং ঋণ প্রদান করে আর্থিক মুনাফা অর্জন করে।
উত্তর যে মুদ্রা গলানোর মাধ্যমে ধাতু হিসেবে বিক্রি করলে দৃশ্যমান মূল্যের সমপরিমাণ মূল্য পাওয়া যায়, তাকে প্রামাণিক মুদ্রা বলে।
উত্তর

ভবিষ্যৎ দেনা-পাওনার হিসাব-নিকাশ এবং ঋণ গ্রহণ ও পরিশোধের সহজ উপায় হিসেবে অর্থ স্থগিত লেনদেনের বাহন হিসেবে কাজ করে।

স্থগিত লেনদেন বলতে মূলত ভবিষ্যতের দেনা-পাওনাকে নির্দেশ করে। বর্তমান সময়ে অধিকাংশ ব্যবসায়িক লেনদেন চেক, ব্যাংক ড্রাফট, বিনিময় বিল প্রভৃতি ঋণপত্রের মাধ্যমে সম্পন্ন হয় এবং ব্যাংকে আমানত হিসেবে রক্ষিত নগদ অর্থের ভিত্তিতেই ব্যাংক এসব ঋণপত্র প্রচলন করে। অর্থের মাধ্যমে এভাবে ঋণ গ্রহণ ও তা পরিশোধ করা সুবিধাজনক বিধায় এটি স্থগিত লেনদেনের বাহন হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

উত্তর

উদ্দীপক-১ এ বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংককে নির্দেশ করা হয়েছে।

কৃষিখাতের গতিশীলতা বৃদ্ধি, কৃষি স্বনির্ভরতা অর্জন এবং সার্বিক কৃষি উন্নয়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হয়। স্বাধীনতা লাভের পর বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক অধ্যাদেশ ১৯৭৩ রাষ্ট্রপতির আদেশ বলে এ ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক কৃষি ও কৃষির সাথে জড়িত খাতের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি ঋণ প্রদান করে। কৃষকের ছোটোখাটো প্রয়োজন মেটানোর জন্য যেমন- সার, বীজ ক্রয়, জমি চাষ এবং ফসল কাটার ব্যয় নির্বাহের জন্য এ ব্যাংক সাধারণত ১৮ মাসের মধ্যে পরিশোধযোগ্য স্বল্পমেয়াদি ঋণ প্রদান করে থাকে।

উদ্দীপক-১ এ বলা হয়েছে যে, কৃষক কালা মিয়া একটি ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করেন এবং ব্যাংকটি ১৯৭৩ সালে রাষ্ট্রপতির আদেশবলে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ১৯৭৩ সালে রাষ্ট্রপতির আদেশে প্রতিষ্ঠা লাভ এবং কৃষকদের চাষাবাদের জন্য ঋণ প্রদানের বিষয়টি পুরাপুরি বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের বৈশিষ্ট্য ও কার্যাবলি।

এটি বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংককেই নির্দেশ করছে।

উত্তর

উদ্দীপক-২ এ সীমার কর্মরত আর্থিক প্রতিষ্ঠানটি হলো বাণিজ্যিক ব্যাংক। আমি মনে করি, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সীমার কর্মরত প্রতিষ্ঠান তথা বাণিজ্যিক ব্যাংক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

যে ব্যাংক কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অর্থ আমানত হিসেবে জমা রাখে এবং ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে তাদের চাহিদা অনুযায়ী ঋণ প্রদান করে, তাকে বাণিজ্যিক ব্যাংক বলে। বাণিজ্যিক ব্যাংক দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা বিক্ষিপ্ত ও ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ব্যক্তিগত সঞ্চয়কে আমানত হিসেবে গ্রহণ করে তা থেকে ব্যাংকসমূহ ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বৃহৎ শিল্পকারখানা নির্মাণ ও সম্প্রসারণে ঋণ সহায়তা দান করে থাকে। শিল্পের কাঁচামাল এবং উন্নতমানের যন্ত্রপাতি ক্রয় করতে বাণিজ্যিক ব্যাংক সহজ শর্তে পর্যাপ্ত ঋণ প্রদান করে। এছাড়া, কৃষি উন্নয়নের জন্য ব্যাংকটি বিভিন্ন মেয়াদি ঋণ প্রদান কর্মসূচি পরিচালনা করে। নতুন নতুন কোম্পানির শেয়ার কিনে দেশে কলকারখানা গড়তে সহায়তা করে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত জামানতের বিপরীতে ঋণ প্রদানের মাধ্যমে বাণিজ্যিক ব্যাংক দেশে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও সহায়তা করে।

উদ্দীপক-২ এ উল্লেখ করা হয়েছে, সীমা এমন এক আর্থিক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত যা জনগণের অর্থ জমা রাখে এবং ঋণ প্রদান করে আর্থিক মুনাফা অর্জন করে। আমানত গ্রহণ ও ঋণ দিয়ে মুনাফা অর্জন করা হলো বাণিজ্যিক ব্যাংকের প্রধান উদ্দেশ্য ও বৈশিষ্ট্য।

পরিশেষে বলা যায়, মূলধন গঠন, শিল্পায়ন, ব্যবসায়-বাণিজ্যের প্রসার ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে বাণিজ্যিক ব্যাংক একটি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে সত্যিই অবিচ্ছেদ্য ও অপরিসীম ভূমিকা পালন করে।

৮. উদ্দীপকটি পড়ো এবং নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
উদ্দীপকের ছবি
উত্তর অর্থনীতির যে শাখায় সরকারের আয়, ব্যয় ও ঋণসংক্রান্ত বিষয়াবলি আলোচনা হয়, তাকে সরকারি অর্থব্যবস্থা বলে।
উত্তর

উৎপাদন ক্ষেত্রে কাঁচামাল থেকে শুরু করে চূড়ান্ত দ্রব্য উৎপাদন পর্যন্ত বেশ কয়েকটি স্তর অতিক্রম করতে হয়। উৎপাদনের এরূপ বিভিন্ন স্তরে যে মূল্য সংযোজিত হয় তার ওপর একটি নির্দিষ্ট হারে যে কর আরোপ করা হয়, তাকে মূল্য সংযোজন কর (Value Added Tax- VAT) বলে।

অন্যান্য উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশের মতো বাংলাদেশে ১৯৯১-৯২ অর্থবছর থেকে মূল্য সংযোজন কর চালু করা হয়েছে। বর্তমানে আমদানিকৃত দ্রব্য ও স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত দ্রব্য এবং বিভিন্ন সেবা খাতের ওপর ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে।

উত্তর

উদ্দীপকের প্রবাহচিত্রে 'A' দ্বারা সুষম বাজেটকে নির্দেশ করে।

কোনো নির্দিষ্ট সময়ে সরকারের প্রত্যাশিত আয় এবং সম্ভাব্য ব্যয়ের পরিমাণ সমান হলে তাকে সুষম বাজেট বলে। এ বাজেটে আয়ের সাথে সংগতি রেখে ব্যয় করা হয় বলে দেশে মুদ্রাস্ফীতি বা দ্রব্যের দাম দ্রুত বৃদ্ধির সম্ভাবনা কম থাকে, যার ফলে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকে। তবে আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশে বেকারত্ব দূর করতে, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটাতে এবং জরুরি অবস্থা মোকাবিলা করতে এটি সহায়ক নয়।

সূত্র : সুষম বাজেট = মোট আয় – মোট ব্যয় = ০ হয়। অর্থাৎ, মোট আয় = মোট ব্যয়।

উদ্দীপকের প্রবাহচিত্রটি লক্ষ করলে দেখা যায়, আয়-ব্যয়ের ভারসাম্যের দিক থেকে বাজেটকে প্রথমত দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে, যার একটি হলো 'A' এবং অন্যটি হলো অসম বাজেট। অর্থনৈতিক তত্ত্ব অনুযায়ী, বাজেটের এই প্রধান দুটি শাখা হলো সুষম বাজেট ও অসম বাজেট। অতএব, ছকের শ্রেণিবিন্যাস ও কাঠামোগত অবস্থানের নিরিখে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, 'A' চিহ্নিত স্থানটি সুষম বাজেটকে নির্দেশ করছে।

উত্তর

উদ্দীপকের প্রবাহচিত্রে 'B' চিহ্নিত বাজেটটি হলো উদ্বৃত্ত বাজেট। বাংলাদেশের মতো একটি উন্নয়নশীল দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য এই উদ্বৃত্ত বাজেট মোটেও যৌক্তিক নয় বলে আমি মনে করি। নিচে আমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দেওয়া হলো-

কোনো আর্থিক বছরে সরকারের প্রত্যাশিত বা সম্ভাব্য আয় অপেক্ষা সম্ভাব্য ব্যয়ের পরিমাণ কম হলে, তাকে উদ্বৃত্ত বাজেট বলে। অর্থাৎ, এই বাজেটে সরকারের সম্ভাব্য ব্যয় অপেক্ষা আয়ের পরিমাণ বেশি থাকে।

সূত্র : উদ্বৃত্ত বাজেট = (মোট আয় – মোট ব্যয়) > ০ হয়। অর্থাৎ মোট আয় > মোট ব্যয়।

উদ্বৃত্ত বাজেট সাধারণত উন্নত দেশগুলোর অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে পারে, কিন্তু একটি অনগ্রসর ও উন্নয়নশীল দেশের অর্থনৈতিক মুক্তি ও জনকল্যাণের ক্ষেত্রে এই বাজেট নীতি কোনো সুফল বয়ে আনে না।

উন্নয়নশীল দেশগুলোতে প্রাকৃতিক সম্পদের পরিপূর্ণ ব্যবহার নিশ্চিত করা, ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি ও জনগণের জীবনযাত্রার মান বাড়ানোর মতো বিশাল চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান থাকে। এসব দেশে অর্থনৈতিক অনগ্রসরতা দূর করার জন্য রাস্তাঘাট, সেতু, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও যোগাযোগ ব্যবস্থার মতো বড় বড় অবকাঠামো নির্মাণের যে কর্মযজ্ঞ হাতে নিতে হয়, তাতে প্রচুর সরকারি অর্থ ব্যয়ের প্রয়োজন পড়ে। এই পরিস্থিতিতে সরকার যদি ব্যয়ের পরিধি সংকুচিত করে আয়ের বড় অংশ জমিয়ে রাখে বা উদ্বৃত্ত দেখায়, তবে দেশের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড স্থবির হয়ে পড়বে। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে উন্নয়নের খাত অনেক বেশি এবং সীমিত কর রাজস্ব দিয়ে তা সম্পন্ন করা সম্ভব হয় না বিধায় এখানে সুষম বা উদ্বৃত্ত বাজেট অপেক্ষা ঘাটতি বাজেট প্রণয়ন করাই অধিকতর মঙ্গলজনক ও প্রগতিশীল সিদ্ধান্ত।

উদ্দীপকের ছকটি পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, আয়ের তুলনায় ব্যয়ের তারতম্যের ভিত্তিতে অসম বাজেটকে আবার দুই ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে, যার একটি হলো 'B' এবং অন্যটি হলো ঘাটতি বাজেট। অসম বাজেটের এই প্রকারভেদের নিয়ম অনুযায়ী এটি সহজেই চিহ্নিত করা যায় যে, 'B' চিহ্নিত স্থানটি মূলত উদ্বৃত্ত বাজেটকে নির্দেশ করছে।

সুতরাং, অর্থনৈতিক বাস্তবতার নিরিখে দেশের উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি, বেকারত্ব হ্রাস এবং দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের বিশাল লক্ষ্য সচল রাখার তাগিদে উন্নয়নশীল দেশে 'B' চিহ্নিত উদ্বৃত্ত বাজেটটির ব্যবহার কোনোভাবেই যৌক্তিক হতে পারে না।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।