i. জমিতে ধান চাষ করা
ii. পোশাক কারখানায় কাজ করা
iii. বাড়ি বাড়ি সবজি বিক্রয় করা
দৃশ্যকল্প-খ :
i. বাবা কর্তৃক সন্তানকে পাঠদান
ii. বাড়িতে বিড়াল পোষা
iii. বন্ধুদের গান শুনানো
অর্থনীতিতে কোনো জিনিস সম্পদ হতে হলে তার উপযোগ, অপ্রাচুর্যতা, হস্তান্তরযোগ্যতা এবং বাহ্যিকতা থাকতে হয়। সমুদ্রের পানি প্রকৃতিতে বিনামূল্যে এবং প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়, যা পেতে মানুষকে কোনো অর্থ প্রদান করতে হয় না। এর জোগান সীমাহীন হওয়ায় এটি অবাধলভ্য দ্রব্য, অর্থনৈতিক দ্রব্য বা সম্পদ নয়।
উদ্দীপকে 'দৃশ্যকল্প-খ' এর উপাদানগুলো দ্বারা অর্থনীতির 'অ-অর্থনৈতিক কার্যাবলি'-কে নির্দেশ করা হয়েছে।
যে সমস্ত কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অর্থ উপার্জিত হয় না এবং তা জীবনধারণের জন্য ব্যয় করা যায় না, তাকে অ-অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বলা হয়। এ ধরনের কর্মকাণ্ড মানুষের অভাব পূরণ করলেও অর্থ উপার্জনে কোনো ভূমিকা রাখতে পারে না। পিতামাতার সন্তান লালন-পালন, শখের বশে খেলাধুলা করা বা চিত্তবিনোদনের মতো কাজগুলো এ ধরনের কর্মকাণ্ডের উদাহরণ।
উদ্দীপকের 'দৃশ্যকল্প-খ' এ বাবা কর্তৃক সন্তানকে পাঠদান, বাড়িতে বিড়াল পোষা এবং বন্ধুদের গান শোনানোর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এই কাজগুলো মানুষ সাধারণত শখের বশে, স্নেহ-ভালোবাসা থেকে বা বিনোদনের জন্য করে থাকে। এগুলোর মাধ্যমে কোনো অর্থ উপার্জিত হয় না বা জীবিকা নির্বাহের উদ্দেশ্যে এগুলো করা হয় না।
সুতরাং বলা যায়, অর্থ উপার্জনের সাথে সম্পৃক্ত না থাকায় উদ্দীপকের 'দৃশ্যকল্প-খ' এর কাজগুলো অ-অর্থনৈতিক কার্যাবলিকে নির্দেশ করছে।
উদ্দীপকের 'দৃশ্যকল্প-ক' এর উপাদানগুলো মূলত অর্থনৈতিক কার্যাবলি, যা বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে- উক্তিটি যথার্থ।
মানুষ জীবিকা নির্বাহের জন্য বা অর্থ উপার্জনের উদ্দেশ্যে যেসব কাজ করে থাকে, সেগুলোকে অর্থনৈতিক কার্যাবলি বলা হয়। নতুন দ্রব্য ও সেবাপণ্য সৃষ্টি করে মানুষের অভাব পূরণ করাই এসব কাজের মূল উদ্দেশ্য। বাংলাদেশের অর্থনীতি মূলত তিনটি প্রধান খাতের ওপর নির্ভরশীল- কৃষি, শিল্প এবং সেবা। কর্মসংস্থানের সবচেয়ে বড়ো খাত কৃষিতে দেশের শ্রমশক্তির প্রায় ৪০.০৬% নিয়োজিত, যা জনসংখ্যার একটি বিশাল অংশের জীবিকা নিশ্চিত করে। আবার, শিল্পের মধ্যে তৈরি পোশাক খাতের অবদান সবচেয়ে বেশি, যা বৈদেশিক মুদ্রার সিংহভাগ আয় করে। পাশাপাশি বিভিন্ন ক্ষুদ্র ব্যবসায় বা সেবা খাতও অর্থনৈতিক অগ্রগতির সাথে সাথে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বড়ো ভূমিকা রাখছে।
উদ্দীপকের 'দৃশ্যকল্প-ক'-তে জমিতে ধান চাষ করা, পোশাক কারখানায় কাজ করা এবং বাড়ি বাড়ি সবজি বিক্রয় করার কথা বলা হয়েছে। এখানে জমিতে ধান চাষ হলো কৃষিসংক্রান্ত' কাজ, পোশাক কারখানায় কাজ করা হলো শিল্পসংক্রান্ত কাজ এবং সবজি বিক্রি হলো ব্যবসায় বা সেবা খাতের কাজ। এই প্রতিটি কাজের মাধ্যমেই মানুষ অর্থ উপার্জন করে নিজেদের অভাব মেটায় এবং জীবিকা নির্বাহ করে।
সুতরাং উপরিউক্ত আলোচনার ভিত্তিতে বলা যায়, 'দৃশ্যকল্প-ক' এর উপাদানগুলো কৃষি, শিল্প ও সেবা খাতের মাধ্যমে দেশের উৎপাদন ও জাতীয় আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
অন্যান্য অবস্থা অপরিবর্তিত থাকলে কোনো নির্দিষ্ট সময়ে দ্রব্যের দাম বৃদ্ধি পেলে জোগানের পরিমাণ বৃদ্ধি পায় এবং দাম হ্রাস পেলে জোগানের পরিমাণ হ্রাস পায়।
অর্থাৎ, দাম যেদিকে পরিবর্তিত হয়, জোগানও সেদিকে পরিবর্তিত হয়। দাম এবং জোগানের পরিমাণের মধ্যে বিদ্যমান এই প্রত্যক্ষ বা সমমুখী সম্পর্ককেই অর্থনীতিতে জোগানবিধি বলা হয়।
উদ্দীপকের তথ্য ব্যবহার করে 'ক' ব্যক্তির আলুর চাহিদারেখা অঙ্কন করে ব্যাখ্যা করা হলো-
চিত্রে ভূমি অক্ষে (OX অক্ষে) আলুর চাহিদার পরিমাণ (কেজি) এবং লম্ব অক্ষে (OY অক্ষে) আলুর দাম (টাকায়) নির্দেশ করা হয়েছে।
সূচি অনুযায়ী, আলুর দাম যখন সর্বোচ্চ ৭০ টাকা তখন চাহিদার পরিমাণ ১০ কেজি, চিত্রে যার সমন্বয় বিন্দু a। আলুর দাম হ্রাস পেয়ে যখন ৫০ টাকা ও ৩০ টাকা হয়, তখন চাহিদার পরিমাণ ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেয়ে যথাক্রমে ১৫ কেজি ও ২৫ কেজি হয়, যাদের সমন্বয় বিন্দু যথাক্রমে b এবং c।
এখন a, b এবং c বিন্দুগুলো যোগ করলে যে DD রেখাটি পাওয়া যায় তা বাম থেকে ডানদিকে নিম্নগামী। এই রেখাটিই হলো উদ্দীপকের তথ্যের আলোকে অঙ্কিত 'ক' ব্যক্তির চাহিদা রেখা।
হ্যাঁ, আমি মনে করি উদ্দীপকে বাজার ভারসাম্য অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। নিচে এর সপক্ষে যৌক্তিক বিশ্লেষণ উপস্থাপন করা হলো-
ক্রেতা ও বিক্রেতার দর-কষাকষির ফলে যে দামে দ্রব্যের চাহিদা ও জোগান পরস্পর সমান হয়, তাকে ভারসাম্য দাম বলে।
উদ্দীপকের সূচি অনুযায়ী, আলুর দাম যখন ৭০ টাকা, তখন চাহিদার পরিমাণ ১০ কেজি এবং জোগানের পরিমাণ ২৫ কেজি। এক্ষেত্রে জোগান > চাহিদা হওয়ায় বাজারে আলুর উদ্বৃত্ত দেখা দেবে এবং বিক্রেতাদের মধ্যে প্রতিযোগিতার কারণে আলুর দাম হ্রাস পাবে।
অন্যদিকে, আলুর দাম যখন ৩০ টাকা, তখন চাহিদার পরিমাণ ২৫ কেজি এবং জোগানের পরিমাণ ১০ কেজি। এক্ষেত্রে চাহিদা > জোগান হওয়ায় বাজারে আলুর ঘাটতি দেখা দেবে এবং ক্রেতাদের মধ্যে প্রতিযোগিতার কারণে আলুর দাম বৃদ্ধি পাবে।
কিন্তু আলুর দাম যখন ৫০ টাকা, তখন 'ক' ব্যক্তির চাহিদার পরিমাণ-ও 'খ' ব্যক্তির জোগানের পরিমাণ উভয়ই ১৫ কেজি, যা পরস্পর সমান। অর্থাৎ, এই দামে চাহিদা = জোগান (১৫ কেজি) এবং বাজার একটি স্থিতিশীল অবস্থায় পৌঁছায়।
অতএব, উপরিউক্ত বিশ্লেষণ থেকে এটি স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় যে, উদ্দীপকের সূচিতে আলুর ৫০ টাকা দামে এবং ১৫ কেজি পরিমাণে একটি নিখুঁত বাজার ভারসাম্য অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।
দাম ও চাহিদার বিপরীতমুখী সম্পর্কের কারণে চাহিদারেখা বাম থেকে ডানদিকে নিম্নগামী হয়।
চাহিদাবিধি অনুসারে, অন্যান্য অবস্থা অপরিবর্তিত থাকলে কোনো দ্রব্যের দাম বাড়লে চাহিদার পরিমাণ কমে এবং দাম কমলে চাহিদার পরিমাণ বাড়ে। দামের সাথে চাহিদার পরিমাণের এই বিপরীত সম্পর্কের কারণেই রেখাচিত্রের মাধ্যমে প্রকাশ করা হলে চাহিদারেখা সর্বদা বাম থেকে ডানদিকে নিম্নগামী হয়।
উদ্দীপকের তথ্য ব্যবহার করে 'ক' ব্যক্তির আলুর জোগানরেখা অঙ্কন করে ব্যাখ্যা করা হলো-
চিত্রে ভূমি অক্ষে (OX অক্ষে) জোগানের পরিমাণ (কুইন্টাল) এবং লম্ব অক্ষে (OY অক্ষে) দ্রব্যের দাম (টাকায়) নির্দেশ করা হয়েছে।
সূচি অনুযায়ী, আলুর দাম যখন ২০ টাকা তখন 'ক' ব্যক্তির জোগানের পরিমাণ ৫০ কুইন্টাল, যার সমন্বয় বিন্দু । আলুর দাম বৃদ্ধি পেয়ে যখন ২৫ টাকা ও ৩০ টাকা হয়, তখন জোগানের পরিমাণও বৃদ্ধি পেয়ে যথাক্রমে ৮০ কুইন্টাল ও ১০০ কুইন্টাল হয়, যাদের সমন্বয় বিন্দু যথাক্রমে b এবং c।
এখন a, b এবং c বিন্দুগুলো যোগ করলে যে SS রেখাটি পাওয়া যায় তা বাম থেকে ডানদিকে ঊর্ধ্বগামী। এই রেখাটিই হলো উদ্দীপকের তথ্যের আলোকে অঙ্কিত 'ক' ব্যক্তির জোগানরেখা।
বাজারে একটি নির্দিষ্ট দামে সব বিক্রেতার ব্যক্তিগত জোগানের সমষ্টিকে বাজার জোগান বলা হয়। নিচে উদ্দীপকের তথ্য ব্যবহার করে 'ক' ও 'খ' ব্যক্তির জোগানের সমষ্টি নির্ণয়ের মাধ্যমে আলুর বাজার জোগানসূচি তৈরি করা হলো-
উপরের তৈরিকৃত সূচি থেকে আলুর বাজার জোগানরেখা অঙ্কন করে ব্যাখ্যা করা হলো-
চিত্রে ভূমি অক্ষে (OX অক্ষে) বাজার জোগানের পরিমাণ (কুইন্টাল) এবং লম্ব অক্ষে (OY অক্ষে) দ্রব্যের দাম (টাকায়) নির্দেশ করা হয়েছে।
তৈরিকৃত সূচি অনুযায়ী, আলুর দাম যখন ২০ টাকা তখন বাজার জোগানের পরিমাণ ১২০ কুইন্টাল, যার সমন্বয় বিন্দু । দাম বৃদ্ধি পেয়ে যখন ২৫ টাকা ও ৩০ টাকা হয়, তখন বাজার জোগানের পরিমাণও বৃদ্ধি পেয়ে যথাক্রমে ১৮০ কুইন্টাল ও ২২০ কুইন্টাল হয়, যাদের সমন্বয় বিন্দু যথাক্রমে b এবং c।
এখন a, b এবং c বিন্দুগুলো যোগ করলে যে ঝঝ রেখাটি পাওয়া যায় তা বাম থেকে ডানদিকে ঊর্ধ্বগামী। এই রেখাটিই হলো উদ্দীপকের তথ্যের আলোকে অঙ্কিত বাজার জোগানরেখা। উল্লেখ্য, বাজার জোগানরেখাটি ব্যক্তিগত জোগানরেখাগুলোর আনুভূমিক যোগফল হওয়ায় এটি ব্যক্তিগত জোগানরেখার তুলনায় কিছুটা বেশি ঢালু (flatter) প্রকৃতির হয়ে থাকে।
এ ধরনের ব্যয় সরাসরি আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে পরিশোধ করা হয় না এবং তা ফার্মের হিসাবের খাতায় অন্তর্ভুক্ত থাকে না। যেমন-মালিকের নিজস্ব বাড়ির সম্ভাব্য ভাড়া বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে নিজের দেওয়া শ্রমের সম্ভাব্য পারিশ্রমিক অপ্রকাশ্য ব্যয় হিসেবে গণ্য হয়।
উদ্দীপকে জনাব রাজীব আমের 'স্থানগত উপযোগ' সৃষ্টি করেছেন। কোনো দ্রব্য এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় স্থানান্তর করলে যদি তার উপযোগ বা দাম বৃদ্ধি পায়, তবে তাকে স্থানগত উপযোগ বলে। অনেক সময় এক স্থানে উৎপাদিত বা সহজলভ্য দ্রব্যের কদর বা চাহিদা সেখানে কম থাকে, কিন্তু অন্য স্থানে স্থানান্তরের মাধ্যমে সেই দ্রব্যের ব্যাপক চাহিদা তৈরি করা সম্ভব হয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, জনাব রাজীব রাজশাহীর একজন আম চাষি। নিজ এলাকায় আমের ফলন বেশি থাকায় স্বাভাবিকভাবেই সেখানে এর দাম কম থাকে। তাই তিনি তার উৎপাদিত আম রাজশাহীতে বিক্রি না করে ঢাকায় নিয়ে আসেন, যেখানে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। গ্রাম বা মফস্বল থেকে ঢাকায় স্থানান্তরের ফলে আমের উপযোগ ও দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, যার মাধ্যমে তিনি আর্থিকভাবে বেশ লাভবান হয়েছেন। সুতরাং, রাজীবের আম ঢাকায় নিয়ে এসে বিক্রি করার এই প্রক্রিয়াটি স্থানগত উপযোগ সৃষ্টির একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ।
হ্যাঁ, উদ্দীপকের জনাব রমিজ আলীকে নিঃসন্দেহে একজন সফল ও দক্ষ সংগঠক বলা যায়।
উৎপাদন ক্ষেত্রে ভূমি, শ্রম, মূলধন ইত্যাদি উপকরণের মধ্যে উপযুক্ত সমন্বয় ঘটিয়ে উৎপাদন কাজ পরিচালনা করাকে সংগঠন বলে এবং যিনি এ কাজটি সম্পাদন করেন তাকে সংগঠক বা উদ্যোক্তা বলা হয়। একজন সংগঠকের প্রধান কাজ হলো উৎপাদনের সুষ্ঠু পরিকল্পনা প্রণয়ন, কর্মীদের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা অনুযায়ী দায়িত্ব বণ্টন, কাজের তদারকি এবং উৎপাদিত পণ্যের যথাযথ বাজারজাতকরণের ব্যবস্থা করা।
উদ্দীপকে রমিজ আলীর মধু উৎপাদনের খামারে একজন দক্ষ সংগঠকের এই কার্যাবলির শতভাগ প্রতিফলন ঘটেছে। তিনি দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মধু সংগ্রহের কাজ সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার জন্য শ্রমিকদের মাঝে সুনির্দিষ্টভাবে দায়িত্ব বণ্টন করে দেন। এটি একটি সফল সংগঠনের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য। এছাড়াও, তিনি শুধু মধু উৎপাদন করেই থেমে থাকেননি, বরং উৎপাদনের পর পণ্যের গুণগত মান যাচাই, বাজারজাতকরণ এবং শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করার মতো ব্যবস্থাপনাগত কাজগুলোও সুচারুরূপে পালন করছেন। তার এই কার্যাবলির মাধ্যমে উৎপাদন প্রক্রিয়ায় উপকরণগুলোর সর্বোচ্চ ও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত হয়েছে।
সুতরাং বলা যায়, উৎপাদনের বিভিন্ন অংশের মধ্যে নিখুঁত সমন্বয় সাধন এবং 'ব্যবসায়ের যাবতীয় কার্যক্রম অত্যন্ত দক্ষতার সাথে পরিচালনার কারণে রমিজ আলী একজন প্রকৃত সংগঠক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন।
অপরপক্ষে, জনাব হাসানের কর্মরত আর্থিক প্রতিষ্ঠানটি ১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। এই আর্থিক প্রতিষ্ঠানটি ভূমিহীন কৃষক, ভিক্ষুক ও দরিদ্র নারীদের বিনা জামানতে ঋণ প্রদান করে।
অর্থ সবার নিকট গ্রহণযোগ্য এবং এর মাধ্যমে যেকোনো লেনদেন সহজে সম্পন্ন করা যায় বলে অর্থকে বিনিময়ের সবচেয়ে সহজ মাধ্যম বলা হয়।
বিক্রেতা কোনো দ্রব্যের বিনিময়ে অর্থ গ্রহণ করে, আবার ক্রেতাও অর্থের বিনিময়ে দ্রব্যসামগ্রী গ্রহণ করে। এভাবে অর্থের দ্বারা যেকোনো সময় যেকোনো পরিমাণ পণ্য ও সেবা ক্রয়-বিক্রয় করা যায়। ফলে লেনদেন অতান্ত সহজ ও গতিশীল হয়।
গ্রামের অতি স্বল্প জমির মালিক, ভূমিহীন এবং অন্যান্য অতি দরিদ্র নারী-পুরুষের মাঝে ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত একটি বিশেষ আর্থিক প্রতিষ্ঠান হলো গ্রামীণ ব্যাংক। ১৯৮৩ সালে একটি বিশেষ অর্থলগ্নি প্রতিষ্ঠান হিসেবে গ্রামীণ ব্যাংক আত্মপ্রকাশ করে। এ ব্যাংক গ্রামের ভূমিহীন দরিদ্র কৃষকদেরকে সহজ শর্তে ও জামানত ছাড়া ঋণ প্রদান করে। সুবিধাবঞ্চিত বেকার জনগোষ্ঠীকে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় সংঘবদ্ধ করে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করার লক্ষ্যে পরিচালিত এই ব্যাংক ভিক্ষুককে সুদবিহীন ঋণ প্রদান করে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ প্রদান করে। পাশাপাশি নারীকে কর্মে উদ্বুদ্ধকরণ ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশে এ ব্যাংক সহায়তা করে।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, জনাব হাসানের কর্মরত প্রতিষ্ঠানটি ১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠা লাভ করে এবং এটি ভূমিহীন কৃষক, ভিক্ষুক ও দরিদ্র নারীদের বিনা জামানতে ঋণ প্রদান করে। এই কার্যক্রম ও বৈশিষ্ট্যগুলো সম্পূর্ণভাবে গ্রামীণ ব্যাংকের।
অতএব বলা যায়, জনাব হাসান গ্রামীণ ব্যাংকে কর্মরত আছেন।
উদ্দীপকে জনাব হাবিব-এর কর্মরত প্রতিষ্ঠানটি হলো বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক। 'জনাব হাবিব-এর কর্মরত প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়ক।'- উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ।
কৃষি খাতের গতিশীলতা বৃদ্ধি, কৃষি স্বনির্ভরতা অর্জন এবং সার্বিক কৃষি উন্নয়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হয়। স্বাধীনতা লাভের পর বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক অধ্যাদেশ ১৯৭৩ রাষ্ট্রপতির আদেশ বলে এ ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক কৃষি ও কৃষির সাথে জড়িত খাতের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি ঋণ প্রদান করে। কৃষকের ছোটোখাটো প্রয়োজন মেটানোর জন্য এ ব্যাংক যে স্বল্পমেয়াদি ঋণ দেয় তা সাধারণত ১৮ মাসের মধ্যে পরিশোধ করতে হয়, আবার ভারী যন্ত্রপাতি ক্রয় বা গুদামঘর নির্মাণের মতো কাজের জন্য দেওয়া দীর্ঘমেয়াদি ঋণ ৫ বছর থেকে ২০ বছরের মধ্যে পরিশোধ করতে হয়। আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও আত্মকর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে এ ব্যাংক কৃষিভিত্তিক ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প স্থাপনে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা দিয়ে থাকে। এ ব্যাংক হাঁস-মুরগি ও পশুপালন, মৌমাছি ও গুটিপোকার চাষ, মৎস্য খামার তৈরি প্রভৃতি কাজের জন্য ঋণ দিয়ে থাকে, যা নিয়ে বেকার যুবকরা তাদের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ পায়।
উদ্দীপকে উল্লেখ করা হয়েছে, জনাব হাবিবের প্রতিষ্ঠানটি ১৯৭৩ সালে রাষ্ট্রপতির আদেশবলে প্রতিষ্ঠিত এবং এটি ১৮ মাস থেকে ২০ বছরের মধ্যে পরিশোধযোগ্য বিভিন্ন মেয়াদের ঋণ প্রদান করে, যা বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সুস্পষ্ট নির্দেশক।
পরিশেষে বলা যায়, উৎপাদন বৃদ্ধি ও বেকারদের কাজের সুযোগ তৈরির মাধ্যমে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক তথা জনাব হাবিবের প্রতিষ্ঠানটি দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সত্যিই অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।
দৃশ্যকল্প-২: মনে করো, চলতি অর্থবছরে 'খ' দেশের মোট দেশজ উৎপাদন গণনায় তুলা, সুতা এবং শার্টের দাম আলাদা আলাদাভাবে সংযুক্ত করা হয়েছে। ফলে দেশটির মোট দেশজ উৎপাদন বহুলাংশে বেড়ে যায়।
প্রযুক্তির উন্নয়ন বলতে নতুন আবিষ্কার, যন্ত্রপাতির নকশা ও দক্ষতার উন্নতি ইত্যাদিকে বোঝায়। এর ফলে একই পরিমাণ উপকরণ দিয়ে আগের চেয়ে অধিক উৎপাদন সম্ভব হয়, যেমন- কৃষিতে আধুনিক যন্ত্রপাতি ও উফশী বীজের ব্যবহার। তাই জিডিপি বৃদ্ধিতে প্রযুক্তি একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নির্ধারক।
উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-১-এর আলোকে 'ক' দেশটির মাথাপিছু মোট দেশজ উৎপাদন নির্ণয় করা হলো-
মাথাপিছু মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) বলতে জনপ্রতি বার্ষিক জিডিপিকে বোঝায়। কোনো নির্দিষ্ট আর্থিক বছরে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনকে উক্ত বছরের মধ্য সময়ের মোট জনসংখ্যা দ্বারা ভাগ করলেই মাথাপিছু জিডিপি পাওয়া যায়। একটি দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা এবং জনগণের জীবনযাত্রার মান নির্ণয়ে এই হিসাবটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্রাকারে,
উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-১-এ দেওয়া আছে,
‘ক’ দেশের একটি নির্দিন্ট অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদন = ৫৪,০০০ কোটি মার্কিন ডলার
এবং দেশটির মোট জনসংখ্যা = ১৮ কোটি।
অর্থাৎ, ‘ক’ দেশটির মাথাপিছু মোট দেশজ উৎপাদন ৩,০০০ মার্কিন ডলার।
জাতীয় আয় বা জিডিপি গণনায় শুধু চূড়ান্ত পর্যায়ের দ্রব্য ও সেবা বিবেচিত হয়। কারণ চূড়ান্ত পর্যায়ের দ্রব্যের বাজারমূল্যের ভেতরেই প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের দ্রব্য ও সেবার মূল্য আগে থেকেই অন্তর্ভুক্ত থাকে। চূড়ান্ত দ্রব্যের হিসাব করার পর আবার আলাদাভাবে মাধ্যমিক পর্যায়ের দ্রব্য ও সেবা বিবেচনা করলে একই জিনিসের মূল্য বারবার হিসাব করা হয়ে যায়, যা জিডিপি গণনার ক্ষেত্রে দ্বৈত গণনা সমস্যা তৈরি করে। এজন্য জিডিপি পরিমাপ নির্ভুল করতে হলে মাধ্যমিক পর্যায়ের দ্রব্য ও সেবাকে গণনার সময় বাদ দিতে হয়।
উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-২-এ দেখা যায়, 'খ' দেশের মোট দেশজ উৎপাদন গণনায় তুলা, সুতা এবং শার্টের দাম আলাদা আলাদাভাবে সংযুক্ত করা হয়েছে। উৎপাদন প্রক্রিয়ায় তুলা হলো প্রাথমিক দ্রব্য, সুতা মাধ্যমিক দ্রব্য এবং শার্ট হলো চূড়ান্ত দ্রব্য। একটি শার্টের চূড়ান্ত দামের মধ্যেই মূলত তুলা ও সুতার দাম অন্তর্ভুক্ত থাকে। কিন্তু এগুলোকে আলাদাভাবে হিসাব করার কারণে একই পণ্যের দাম তিনবার গণনায় চলে এসেছে, যার ফলে দেশটির জিডিপির পরিমাণ ভুলভাবে বেড়ে গেছে।
সুতরাং বলা যায়, জিডিপি পরিমাপের এই দ্বৈত গণনা সমস্যা সমাধানের জন্য 'খ' দেশকে গণনার সময় প্রাথমিক ও মাধ্যমিক দ্রব্য অর্থাৎ তুলা ও সুতার দাম বাদ দিয়ে শুধু চূড়ান্ত দ্রব্য হিসেবে 'শার্ট'-এর বাজারমূল্য হিসাব করতে হবে।
দৃশ্যকল্প-২: 'Y' দেশ ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে একটি বাজেট প্রণয়ন করে, যার মূল্য লক্ষ্য হলো অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধি অর্জন। এ লক্ষ্যে সরকার অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক উৎস হতে অর্থ সংগ্রহ করে কৃষি, শিল্প ও জ্বালানি খাতে ব্যয় করে।
সূত্র: ঘাটতি বাজেট = (মোট আয় মোট ব্যয়) <০ হয়। অর্থাৎ, মোট আয় মোট ব্যয়।
আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশে প্রাকৃতিক সম্পদের পরিপূর্ণ ব্যবহার, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি এবং জনগণের জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে ঘাটতি বাজেট প্রণয়ন অত্যন্ত মঙ্গলজনক ও কার্যকর ভূমিকা পালন করে।।
উদ্দীপকের 'X' দেশের পেশকৃত বাজেটটি হলো চলতি বাজেট বা অ-উন্নয়ন বাজেট।
যে বাজেটে সরকারের চলতি আয় ও চলতি ব্যয়ের হিসাব দেখানো হয়, তাকে চলতি বাজেট বলে। কর রাজস্ব ও করবহির্ভূত রাজস্ব হতে এই বাজেটের চলতি আয় সংগৃহীত হয়। এই বাজেটের অর্থ মূলত সরকারের প্রশাসনিক কার্যসমূহ সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা ও দেশরক্ষার জন্য ব্যয় করা হয়। চলতি বাজেটের ব্যয়ের প্রধান খাতগুলোর মধ্যে শিক্ষা, জনপ্রশাসন, বিচার বিভাগ, পুলিশ প্রশাসন, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। যেহেতু এ খাতগুলোর ব্যয় সাধারণত অপরিবর্তিত থাকে, তাই প্রতিবছর বাজেটে এই ব্যয়ের পুনরাবৃত্তির প্রয়োজন হয় এবং চলতি বাজেট সাধারণত উদ্বৃত্ত থাকে।
উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-১-এ দেখা যায়, 'X' দেশের ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের বাজেটের অর্থ শিক্ষা, বিচার ও স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় করা হয়েছে এবং এই বাজেটের অর্থ সাধারণত উদ্বৃত্ত থাকে। এই ব্যয়ের খাতসমূহ এবং উদ্বৃত্ত থাকার বৈশিষ্ট্যটি সরাসরি চলতি বাজেটের তাত্ত্বিক কাঠামোর সাথে মিলে যায়। সুতরাং দেখা যায়, উদ্দীপকের 'X' দেশের পেশকৃত বাজেটটি একটি চলতি বাজেট বা অ-উন্নয়ন বাজেট।
উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-২ এর প্রণয়নকৃত বাজেটটি হলো মূলধন বাজেট 'বা উন্নয়ন বাজেট। এই বাজেটটি 'Y' দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধি অর্জনে কার্যকর ভূমিকা রাখে- উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ।
সরকারের মূলধন আয় ও ব্যয়ের হিসাব যে বাজেটে দেখানো হয়, তাকে মূলধন বা উন্নয়ন বাজেট বলে। এই বাজেটের মূল ও প্রধান লক্ষ্য হলো দেশের এবং জনগণের আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করা। এই উদ্দেশ্যে সরকার প্রতিবছর সুনির্দিষ্ট বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি প্রণয়ন করে এবং তা বাস্তবায়নের জন্য কৃষি, শিল্প, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, পরিবহণ ও যোগাযোগ, মহিলা ও যুব উন্নয়ন এবং পল্লি উন্নয়নের মতো উৎপাদনশীল ও কাঠামোগত খাতে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে। এই ব্যয়ের অর্থসংস্থানের জন্য সরকার একদিকে যেমন অভ্যন্তরীণ উৎস (যেমন- রাজস্ব উদ্বৃত্ত, বেসরকারি সঞ্চয় ও ব্যাংক ঋণ) ব্যবহার করে, অন্যদিকে, প্রয়োজন অনুযায়ী বৈদেশিক উৎস (যেমন- বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান) হতে অর্থ সংগ্রহ করে থাকে।
উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-২ এ উল্লিখিত 'Y' দেশের বাজেটের মূল লক্ষ্যই হলো অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধি অর্জন করা। এ লক্ষ্যে দেশটির সরকার অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক উভয় উৎস হতে অর্থসংস্থান নিশ্চিত করে দেশের সামগ্রিক চালিকাশক্তি অর্থাৎ কৃষি, শিল্প ও জ্বালানি খাতে ব্যয় করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এই বৈশিষ্ট্যগুলো সরাসরি মূলধন বাজেটের লক্ষ্য ও ব্যয়ের খাতকে নির্দেশ করে।
যেকোনো দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য মূলধন বাজেট অপরিহার্য। এটি যেমন দেশের উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, ঠিক তেমনি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে বেকারত্ব দূর করে ও জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নত করে। তাই পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকে বর্ণিত উন্নয়নমুখী খাতসমূহে অর্থায়নের মাধ্যমে 'Y' দেশের মূলধন বাজেটটি দেশটির অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধি অর্জনে ভূমিকা রাখে।
অপরদিকে, সুকান্ত বিশ্বাস এমন একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন, যা ২০০৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এ প্রতিষ্ঠানটি দুটি প্রতিষ্ঠানকে একীভূত করে সৃষ্টি হয়। এই আর্থিক প্রতিষ্ঠানের দেওয়া ঋণ পরিশোধের সময়সীমা সর্বোচ্চ ২০ বছর।
স্থায়ী আমানত সাধারণত ৩ মাস, ৬ মাস, ১ বছর, ৩ বছর, ৫ বছর ইত্যাদি মেয়াদের জন্য করা হয়। এ আমানতের অর্থ মেয়াদ শেষ হওয়ার, আগেও তোলা যায়, তবে এক্ষেত্রে ব্যাংকের কিছু সুনির্দিষ্ট বিধিবিধান অনুসরণ করতে হয়।
উদ্দীপকে সুকান্ত বিশ্বাসের কর্মরত আর্থিক প্রতিষ্ঠানটি হলো বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেড।
বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেড সাধারণত দেশের সাথে সম্পৃক্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর (যেমন- পাটশিল্প, চামড়াশিল্প, চিনিশিল্প ও সারশিল্প ইত্যাদি) উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে ঋণ প্রদান করে। এই ব্যাংক সরকারি ও বেসরকারি খাতে নতুন শিল্প নির্মাণ, পুরাতন শিল্প সম্প্রসারণ ও আধুনিকীকরণের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ঋণ দিয়ে থাকে, যার পরিশোধের সময়সীমা সর্বোচ্চ ২০ বছর। এ ছাড়া ব্যাংকটি পল্লি এলাকায় কৃষিভিত্তিক শিল্প স্থাপনে অগ্রাধিকার প্রদান করে এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করে মেয়াদি ঋণ প্রদান করে থাকে।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে যে, সুকান্ত বিশ্বাসের কর্মরত আর্থিক প্রতিষ্ঠানটি ২০০৯ সালে দুটি প্রতিষ্ঠানকে একীভূত করে সৃষ্টি হয়েছে এবং এ প্রতিষ্ঠানের দেওয়া ঋণ পরিশোধের সময়সীমা সর্বোচ্চ ২০ বছর। এ বৈশিষ্ট্যগুলো বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেডের কার্যাবলি ও গঠনপ্রকৃতির সুস্পষ্ট নির্দেশক।
অতএব, সুকান্ত বিশ্বাসের প্রতিষ্ঠানটির ধরন হলো বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেড।
উদ্দীপকে আব্দুল আজিজ সাহেবের প্রদানকৃত সবার নিকট গ্রহণযোগ্য বস্তুটি হলো অর্থ। আধুনিক উৎপাদনব্যবস্থায় এবং সমাজজীবনে এই অর্থের ভূমিকা বা কার্যাবলি অপরিসীম।
অর্থ বিনিময়ের সবচেয়ে সহজ ও সুবিধাজনক মাধ্যম। অর্থ সবার নিকট গ্রহণযোগ্য বলে এর বিনিময়ে যেকোনো সময় যেকোনো পরিমাণ পণ্য ও সেবা ক্রয়-বিক্রয় করা যায়, ফলে লেনদেন সহজ ও গতিশীল হয়। পাশাপাশি, অর্থ পণ্য ও সেবার মূল্যের পরিমাপের মাপকাঠি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। অর্থের সাহায্যে সহজেই পণ্য ও সেবার মূল্য পরিমাপ করে অতীত ও ভবিষ্যতের তুলনামূলক আলোচনা করা যায়। অধিকাংশ দ্রব্যসামগ্রী পচনশীল হওয়ায় তার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয় সম্ভব নয়, কিন্তু অর্থের মাধ্যমে যেকোনো দ্রব্য ও সেবার মূল্য সংরক্ষণ করা যায়, যা অনেক বেশি নিরাপদ ও তুলনামূলকভাবে স্থায়ী। এছাড়া, অর্থকে ঋণের স্থগিত লেনদেনের বাহন হিসেবে গণ্য করা হয়। ভবিষ্যৎ দেনা-পাওনার হিসাব-নিকাশ অর্থের মাধ্যমেই করা হয় এবং এর মাধ্যমে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড নির্বিঘ্নে চলতে পারে।
উদ্দীপকে আব্দুল আজিজ সাহেব বাজারে মাছ, মাংস ও অন্যান্য পণ্য ক্রয়ের পর দোকানিকে বিনিময়ের মাধ্যম হিসেবে এমন একটি বস্তু দিলেন, যা সবার নিকট গ্রহণযোগ্য। এখানে অর্থের বিনিময়ের মাধ্যম হিসেবে কাজ করার বিষয়টিই সরাসরি ফুটে উঠেছে।
পরিশেষে বলা যায়, মানুষের দৈনন্দিন লেনদেন সহজ করা থেকে শুরু করে সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে উপরিউক্ত কার্যাবলি সম্পাদনের মাধ্যমে অর্থ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।