সীমিত সম্পদের সাহায্যে একাধিক বিকল্পের মধ্য থেকে কোনো নির্দিষ্ট অভাব পূরণের সিদ্ধান্ত গ্রহণকে চয়ন বা নির্বাচন বলা হয়। অন্যদিকে, এই নির্বাচিত সুযোগটি গ্রহণ করার জন্য যে সর্বোত্তম বিকল্প সুযোগটি ত্যাগ করতে হয়, সেই ত্যাগকৃত পরিমাণই হলো সুযোগ ব্যয়।
উৎস বা উৎপত্তির দিক থেকে সম্পদ তিন প্রকার, যার মধ্যে উৎপাদিত সম্পদ অন্যতম। প্রাকৃতিক ও মানবিক সম্পদ কাজে লাগিয়ে যে নতুন সম্পদ সৃষ্টি হয়, তাকে উৎপাদিত সম্পদ বলা হয়। যেমন- যন্ত্রপাতি, কলকারখানা, যাতায়াত ও যোগাযোগব্যবস্থা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যকেন্দ্র ইত্যাদি মানুষ নিজে তৈরি করে বলে এগুলো উৎপাদিত সম্পদের অন্তর্ভুক্ত।
উদ্দীপকের ছক-১ এ স্কুল-কলেজ, শিল্প-কারখানা এবং হাসপাতালের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এগুলো কোনোটিই প্রকৃতির কাছ থেকে সরাসরি পাওয়া যায় না। বরং মানুষ নিজের শ্রম, দক্ষতা ও মানবিক সম্পদকে কাজে লাগিয়ে প্রাকৃতিক সম্পদের রূপগত পরিবর্তন ঘটিয়ে এগুলো তৈরি করে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (স্কুল-কলেজ), স্বাস্থ্যকেন্দ্র (হাসপাতাল) এবং শিল্প-কারখানা-এসবকিছুই মানবসৃষ্ট বা উৎপাদিত সম্পদ।
সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের ছক-১ এর উপাদানগুলো সুস্পষ্টভাবে উৎপাদিত সম্পদকে নির্দেশ করছে।
উদ্দীপকের ছক-২ দ্বারা নির্দেশিত সম্পদগুলো হলো 'প্রাকৃতিক সম্পদ', বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের অর্থনীতিতে যার গুরুত্ব অপরিসীম।
প্রকৃতির কাছ থেকে পাওয়া যেসব দ্রব্য সরাসরি মানুষের প্রয়োজন মেটায়, তাকে প্রাকৃতিক সম্পদ বলে। যেমন- ভূমি, বনভূমি, খনিজ সম্পদ, নদনদী ইত্যাদি। বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম এবং উন্নয়নের সাথে দেশের অর্থনৈতিক সম্পদের বিশেষ সম্পর্ক থাকে। দেশের বনভূমি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে, প্রাকৃতিক গ্যাস সার কারখানায় কাঁচামাল ও বিদ্যুৎ কেন্দ্রে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। আবার নদ-নদীর পানি কৃষিকাজে সেচ, মৎস্য আহরণ, পানিবিদ্যুৎ উৎপাদন এবং ব্যবসায়-বাণিজ্যের জন্য যাতায়াতব্যবস্থা গড়ে তুলতে সাহায্য করে।
উদ্দীপকের ছক-২ এ বনভূমি, প্রাকৃতিক গ্যাস এবং নদনদীর কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণভাবে প্রাকৃতিক সম্পদের অন্তর্গত। বাংলাদেশের মতো একটি উন্নয়নশীল দেশের কৃষিনির্ভর ও শিল্পমুখী অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে এই সম্পদগুলোর অবদান অনস্বীকার্য। প্রাকৃতিক গ্যাসের সাহায্যে কলকারখানা সচল থাকে, নদনদীর পানি কৃষির অস্তিত্ব রক্ষা করে এবং বনভূমি দেশের সার্বিক পরিবেশ বাসযোগ্য রাখে। পানিসম্পদসহ অন্যান্য প্রাকৃতিক সম্পদের উন্নয়ন ও সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের গতি আরও বৃদ্ধি পাবে।
সুতরাং উপরিউক্ত আলোচনা থেকে বলা যায়, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও সার্বিক উন্নয়নে ছক-২ এ নির্দেশিত প্রাকৃতিক সম্পদের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।
সাধারণত দাম বাড়লে জোগান বাড়ে এবং দাম কমলে জোগান কমে। কিন্তু ভবিষ্যতে দাম পরিবর্তনের প্রবল সম্ভাবনা থাকলে, সীমাবদ্ধ জোগানের ক্ষেত্রে (যেমন- ভূমির পরিমাণ) কিংবা পচনশীল দ্রব্যের ক্ষেত্রে এই স্বাভাবিক নিয়ম কাজ করে না। এ ধরনের বিশেষ পরিস্থিতিতে জোগানবিধি অকার্যকর হয়ে পড়ে।
কোনো নির্দিষ্ট সময়ে একটি দ্রব্যের ভোগের পরিমাণ বৃদ্ধির ফলে মোট উপযোগের যে পরিবর্তন হয়, তাকে প্রান্তিক উপযোগ বলে। নিচে উদ্দীপকের সূচি হতে প্রান্তিক উপযোগ নির্ণয় করে সারণিটি পূর্ণ করা হলো-
নির্ণীত সূচির আলোকে প্রান্তিক উপযোগ রেখাটি অঙ্কন করে ব্যাখ্যা করা হলো-
চিত্রে ভূমি অক্ষে ($\mathrm{OX}$ অক্ষে) দ্রব্যের একক এবং লম্ব অক্ষে ($\mathrm{OY}$ অক্ষে) প্রান্তিক উপযোগ (টাকায়) নির্দেশ করা হয়েছে।
সূচি অনুযায়ী, ১ম একক দ্রব্য থেকে প্রাপ্ত প্রান্তিক উপযোগ ৬ টাকা, যার সমন্বয় বিন্দু $\mathrm{a}$। ভোগ বাড়িয়ে ২য়, ৩য়, ৪র্থ ও ৫ম একক দ্রব্য ভোগ করলে প্রান্তিক উপযোগ হ্রাস পেয়ে যথাক্রমে ৫, ৪, ৩ ও ২ টাকা হয়, যাদের সমন্বয় বিন্দু যথাক্রমে $\mathrm{b}, \mathrm{c}, \mathrm{d}$ এবং $\mathrm{e}$। ৬ষ্ঠ একক দ্রব্যের ক্ষেত্রে প্রান্তিক উপযোগ শূন্য ($\mathrm{0}$) হয়, যার সমন্বয় বিন্দু $\mathrm{f}$। ৭ম একক দ্রব্য ভোগ করলে প্রান্তিক উপযোগ ঋণাত্মক (-১) হয়, যার সমন্বয় বিন্দু $\mathrm{g}$।
এখন $\mathrm{a}, \mathrm{b}, \mathrm{c}, \mathrm{d}, \mathrm{e}, \mathrm{f}$ এবং $\mathrm{g}$ বিন্দুগুলো যোগ করলে যে $\mathrm{MU}$ রেখাটি পাওয়া যায় তা বাম থেকে ডানদিকে নিম্নগামী। এই রেখাটিই হলো উদ্দীপকের তথ্যের আলোকে অঙ্কিত প্রান্তিক উপযোগ রেখা।
উদ্দীপকের সূচি দ্বারা অর্থনীতিতে 'ক্রমহ্রাসমান প্রান্তিক উপযোগ বিধি'-টি প্রকাশ পেয়েছে।
ভোক্তা কোনো একটি দ্রব্য যত বেশি ভোগ করতে থাকে, তার কাছে এ দ্রব্যের প্রান্তিক উপযোগ তত কমে যেতে থাকে। অর্থাৎ ভোগের মোট পরিমাণ বৃদ্ধির ফলে প্রান্তিক উপযোগ ক্রমান্বয়ে কমে যাওয়ার এই স্বাভাবিক প্রবণতাকেই ক্রমহ্রাসমান প্রান্তিক উপযোগবিধি বলা হয়।
উদ্দীপকের সূচি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, দ্রব্যের ভোগের পরিমাণ ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধির সাথে সাথে মোট উপযোগ বাড়ছে ঠিকই, কিন্তু তা ক্রমহ্রাসমান হারে। 'গ' হতে প্রাপ্ত প্রান্তিক উপযোগের দিকে লক্ষ করলে দেখা যায়, ১ম এককে প্রান্তিক উপযোগ ৬ টাকা হলেও, ২য়, ৩য়, ৪র্থ ও ৫ম এককে তা ধারাবাহিকভাবে কমে যথাক্রমে ৫, ৪, ৩ ও ২ টাকা হয়েছে। ৬ষ্ঠ একক ভোগের সময় প্রান্তিক উপযোগ শূন্য ($\mathrm{0}$) হয়েছে এবং লক্ষ করার বিষয় হলো ঠিক এ অবস্থায় মোট উপযোগ তার সর্বোচ্চ পর্যায়ে তথা ২০ টাকায় স্থির আছে। এরপরেও ভোক্তা ভোগ অব্যাহত রেখে ৭ম একক দ্রব্য ভোগ করায় তার প্রান্তিক উপযোগ ঋণাত্মক (-১) হয়ে গেছে এবং মোট উপযোগও ২০ থেকে কমে ১৯ টাকায় নেমে এসেছে।
অর্থাৎ, কোনো একটি দ্রব্যের ক্রমাগত ভোগ বৃদ্ধির ফলে প্রান্তিক উপযোগের ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাওয়া, এক পর্যায়ে গিয়ে তা শূন্য হওয়া এবং পরিশেষে ঋণাত্মক হওয়ার যে নিখুঁত চিত্রটি উদ্দীপকের সূচিতে ফুটে উঠেছে, তা ক্রমহ্রাসমান প্রান্তিক উপযোগবিধির শর্তগুলোকেই পুরাপুরি মেনে চলে। অতএব উপরিউক্ত বিশ্লেষণ থেকে সন্দেহাতীতভাবে বলা যায়, উদ্দীপকে এ বিধিটিই প্রকাশ পেয়েছে।
যেকোনো কিছু উৎপাদনের জন্য এই তিনটি উপকরণ বিচ্ছিন্নভাবে থেকে একা কোনো কাজ করতে পারে না। সংগঠক বা উদ্যোক্তা তার নিজস্ব দক্ষতা ও পরিকল্পনার মাধ্যমে এই ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা উপকরণগুলোকে একত্রিত করেন এবং এগুলোর মধ্যে সঠিক অনুপাত ও সুশৃঙ্খল সম্পর্ক তৈরি করেন। এই সমন্বয়ের কাজটি করেন বলেই তাকে সমন্বয়কারী বলা হয়।
আলোচ্য সূচির আলোকে মোট উৎপাদন ($\mathrm{TP}$) রেখা অঙ্কন করে ব্যাখ্যা করা হলো-
চিত্রে ভূমি অক্ষে ($\mathrm{OX}$ অক্ষে) শ্রম উপকরণ (শ্রম ঘণ্টা) এবং লম্ব অক্ষে ($\mathrm{OY}$ অক্ষে) মোট উৎপাদন (মণ) নির্দেশ করা হয়েছে।
সূচি অনুযায়ী, শ্রমিকের শ্রম ঘণ্টা যখন ১, তখন মোট উৎপাদন ১৬ মণ, যার সমন্বয় বিন্দু $\mathrm{a}$। শ্রম ঘণ্টা বৃদ্ধি করে ২, ৩, ৪, ৫ এবং ৬ করা হলে মোট উৎপাদন পরিবর্তিত হয়ে যথাক্রমে ৩৪, ৪২, ৪৮, ৪৮ এবং ৪৬ মণ হয়, যাদের সমন্বয় বিন্দু যথাক্রমে $\mathrm{b}, \mathrm{c}, \mathrm{d}, \mathrm{e}$ এবং $\mathrm{f}$।
এখন $\mathrm{a}, \mathrm{b}, \mathrm{c}, \mathrm{d}, \mathrm{e}$ এবং $\mathrm{f}$ বিন্দুগুলো যোগ করলে মোট উৎপাদন $\mathrm{TP}$ রেখা পাওয়া যায়। উক্ত '$\mathrm{TP}$ রেখা প্রথমে ক্রমবর্ধমান হারে বাড়ে, এরপর ক্রমহ্রাসমান হারে বেড়ে সর্বোচ্চ হয় এবং পরিশেষে নিম্নগামী হয়। এই রেখাটিই হলো উদ্দীপকের তথ্যের আলোকে অঙ্কিত মোট উৎপাদন রেখা।
উদ্দীপকের সূচি ব্যবহার করে নিচে গড় উৎপাদন ($\mathrm{AP}$) নির্ণয় করা হলো-
তৈরিকৃত সূচির আলোকে গড় উৎপাদন ($\mathrm{AP}$) ও প্রান্তিক উৎপাদন ($\mathrm{MP}$)-এর মধ্যকার সম্পর্কটিকে ৩টি পর্যায়ে বিশ্লেষণ করা হলো-
১. ক্রমবর্ধমান পর্যায় ($\mathrm{MP} > \mathrm{AP}$): সাধারণত গড় উৎপাদন ($\mathrm{AP}$) যখন বৃদ্ধি পায়, তখন প্রান্তিক উৎপাদন ($\mathrm{MP}$) তার চেয়ে বেশি থাকে। সূচিতে দেখা যায়, শ্রমের ২য় এককে $\mathrm{AP}$ বৃদ্ধি পেয়ে ১৭ হয়েছে, এবং এই পর্যায়ে $\mathrm{MP}$ হলো ১৮। অর্থাৎ এখানে $\mathrm{MP} > \mathrm{AP}$ (১৮ > ১৭)।
২. সর্বোচ্চ পর্যায় ($\mathrm{AP} = \mathrm{MP}$) : তাত্ত্বিকভাবে গড় উৎপাদন ($\mathrm{AP}$) যখন সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছায়, তখন প্রান্তিক উৎপাদন ($\mathrm{MP}$) এবং গড় উৎপাদন সমান হয়। তবে আলোচ্য কাল্পনিক সূচিতে ২য় এককে $\mathrm{AP}$ সর্বোচ্চ (১৭) হলেও তারা পরস্পর সমান হয়নি, বরং শুরুর ১ম এককেই উভয়ে সমান (১৬ = ১৬) ছিল।
৩. ক্রমহ্রাসমান পর্যায় ($\mathrm{MP} < \mathrm{AP}$) : গড় উৎপাদন ($\mathrm{AP}$) যখন হ্রাস পেতে শুরু করে, তখন প্রান্তিক উৎপাদন ($\mathrm{MP}$) তার চেয়ে অনেক দ্রুত হারে হ্রাস পায়। সূচির ৩য় থেকে ৬ষ্ঠ একক পর্যন্ত এই সম্পর্কটি বিদ্যমান। এছাড়া, হ্রাস পাওয়ার সময় $\mathrm{AP}$ সবসময় ধনাত্মক থাকলেও $\mathrm{MP}$ একপর্যায়ে শূন্য (৫ম এককে) এবং ঋণাত্মক (৬ষ্ঠ এককে) হয়ে যায়।
যেসব ক্ষেত্রে কোনো প্রকার দ্রব্য বা সেবার উৎপাদন ছাড়াই অর্থ হস্তান্তর করা হয়, সেসব ক্ষেত্রে তা জাতীয় আয়ে অন্তর্ভুক্ত হয় না। যেমন- যুদ্ধকালীন সময়ে বা অনুৎপাদনশীল খাতে সরকার যে ঋণ করে তা জাতীয় উৎপাদনে কোনো ভূমিকা রাখে না। এই ঋণের বিপরীতে সুদ প্রদান কেবল অর্থের হস্তান্তর মাত্র, নতুন কোনো উৎপাদন নয়। এজন্য সরকারি ঋণের সুদ জিডিপি গণনার হিসাব থেকে বাদ দেওয়া হয়।
উদ্দীপকের '$\mathrm{X}$' দেশের মাথাপিছু মোট দেশজ উৎপাদন নির্ণয় করা হলো-
মাথাপিছু মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) বলতে জনপ্রতি বার্ষিক জিডিপিকে বোঝায়। কোনো নির্দিষ্ট আর্থিক বছরে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনকে উক্ত বছরের মধ্য সময়ের মোট জনসংখ্যা দ্বারা ভাগ করলেই মাথাপিছু জিডিপি পাওয়া যায়। সূত্রাকারে,
মাথাপিছু জিডিপি = $\frac{\mathrm{কোনো~নির্দিষ্ট~বছরে~মোট~দেশজ~উৎপাদন}}{\mathrm{ঐ~বছরের~মধ্য~সময়ের~মোট~জনসংখ্যা}}$
উদ্দীপকে দেওয়া আছে,
'$\mathrm{X}$' দেশের একটি সাম্প্রতিক আর্থিক বছরে মোট দেশজ উৎপাদন = ৭০,০০০ কোটি টাকা
এবং দেশটির মোট জনসংখ্যা = ১০ কোটি
অতএব, '$\mathrm{X}$' দেশের মাথাপিছু জিডিপি = $\frac{৭০,০০০ \mathrm{~কোটি~টাকা}}{১০ \mathrm{~কোটি~টাকা}}$
$\quad = ৭,০০০ \mathrm{~টাকা}$।
অর্থাৎ, '$\mathrm{X}$' দেশটির মাথাপিছু মোট দেশজ উৎপাদন ৭,০০০ টাকা।
কোনো নির্দিষ্ট সময়ে সাধারণত আর্থিক বছরে কোনো দেশের নাগরিকগণ কর্তৃক যে পরিমাণ চূড়ান্ত দ্রব্য ও সেবা উৎপন্ন হয় তার বাজারমূল্যের সমষ্টিকে মোট জাতীয় আয় ($\mathrm{GNI}$) বলে। মোট জাতীয় আয় হলো দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদিত দ্রব্য ও সেবার বাজারমূল্য এবং প্রবাসীদের আয়ের সমষ্টি থেকে দেশে কর্মরত বিদেশিদের আয় বাদ দেওয়ার পর অবশিষ্ট আর্থিক মূল্য। অর্থাৎ, মোট জাতীয় আয় = দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদিত চূড়ান্ত দ্রব্য ও সেবার বাজারমূল্য + বিদেশে কর্মরত দেশীয়দের আয় – দেশে কর্মরত বিদেশিদের আয়।
উদ্দীপকে মাসুদ সাহেব বাংলাদেশের নাগরিক, যিনি '$\mathrm{X}$' দেশে প্রবাসী হিসেবে কাজ করেন এবং দেশে অর্থ পাঠান। যেহেতু তিনি বাংলাদেশের, নাগরিক, তাই রেমিট্যান্স হিসেবে তার প্রেরিত অর্থ বাংলাদেশের মোট জাতীয় আয়ে ($\mathrm{GNI}$) অন্তর্ভুক্ত বা যোগ হবে।
অন্যদিকে, কলিন উড হলেন '$\mathrm{X}$' দেশের নাগরিক, যিনি বাংলাদেশের একটি কয়লা খনিতে কাজ করে আয়ের একটি অংশ তার নিজ দেশে পাঠান। যেহেতু তিনি বিদেশি নাগরিক, তাই বাংলাদেশের সীমানায় বসে তিনি যে অর্থ উপার্জন করছেন তা বাংলাদেশের জিডিপিতে ($\mathrm{GDP}$) অন্তর্ভুক্ত হলেও মোট জাতীয় আয় ($\mathrm{GNI}$) পরিমাপের সময় তা বাদ বা বিয়োগ দেওয়া হবে।
সুতরাং দেখা যায়, বাংলাদেশের জাতীয় আয় গণনায় মাসুদ সাহেবের আয় যোগ করা হবে এবং কলিন উডের আয় বাদ দেওয়া হবে।
নিচে চলতি বাজেট ও মূলধন বাজেটের মধ্যে দুটি পার্থক্য দেওয়া হলো-
১. যে বাজেটে সরকারের চলতি আয় ও চলতি ব্যয়ের হিসাব দেখানো হয়, তাকে চলতি বাজেট বলে। অন্যদিকে, সরকারের মূলধন আয় ও ব্যয়ের হিসাব যে বাজেটে দেখানো হয়, তাকে মূলধন বাজেট বলে।
২. চলতি বাজেটের প্রধান লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো সরকারের প্রশাসনের সুষ্ঠু পরিচালনা ও দেশরক্ষা করা। পক্ষান্তরে, মূলধন বাজেটের প্রধান লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধি অর্জন করা।
উদ্দীপকের 'ছক-১' বাংলাদেশ সরকারের আয়ের প্রধান উৎস 'কর রাজস্ব'-কে নির্দেশ করে।
সরকার জনগণের নিকট হতে বাধ্যতামূলকভাবে যে অর্থ আদায় করে কিন্তু তার বিনিময়ে জনগণ সরকার থেকে সরাসরি বিশেষ কোনো সুযোগ-সুবিধা আশা করতে পারে না, তাকে কর বলে। দেশের নিবাসী বা অনিবাসী ব্যক্তি, বিভিন্ন ব্যবসায় ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং উৎপাদিত ও আমদানিকৃত পণ্যের ওপর সরকার যে কর ধার্য করে, তা থেকে প্রাপ্ত মোট আয়কে কর রাজস্ব বলা হয়। এটি সরকারের আয়ের সবচেয়ে বড় ও প্রধান চালিকাশক্তি।
উদ্দীপকের 'ছক-১' এ উল্লিখিত আয়কর, মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট), আমদানি শুল্ক, আবগারি শুল্ক ও ভূমি রাজস্ব হলো কর রাজস্বের সুনির্দিষ্ট ও মূল উৎসসমূহ। এ খাতগুলো থেকে প্রাপ্ত অর্থ সরাসরি কর রাজস্বের সংজ্ঞার সাথে মিলে যায়। সুতরাং দেখা যায়, 'ছক-১' বাংলাদেশ সরকারের কর রাজস্ব উৎসকে নির্দেশ করে।
হ্যাঁ, আমি মনে করি 'ছক-২' (ব্যয়ের খাতসমূহ) এর ওপর 'ছক-১' (কর রাজস্ব বা আয়ের উৎসসমূহ) নির্ভরশীল।
সরকারি অর্থব্যবস্থার একটি অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো- সরকার প্রথমে তার ব্যয়ের পরিমাণ ও খাতসমূহ নির্ধারণ করে এবং সেই সম্ভাব্য ব্যয় নির্বাহের তাগিদে পরবর্তীতে আয়ের উৎস খুঁজে বের করে। একটি দেশের প্রশাসন পরিচালনা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, দেশরক্ষা, মানবসম্পদ উন্নয়ন, জনস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা এবং দারিদ্র্য বিমোচনের মতো জনকল্যাণমূলক বহুবিধ কার্যাবলি সম্পাদনের জন্য প্রতিবছর প্রচুর অর্থের প্রয়োজন হয়। এই রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক দায়িত্ব বা ব্যয়ের খাতগুলো সচল রাখার তাগিদেই সরকারকে বিভিন্ন উৎস হতে অর্থ আয় করতে হয়। অর্থাৎ ব্যয়ের পরিধি ও প্রয়োজনের ওপর ভিত্তি করেই আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ও করের হার নির্ধারিত হয়।
উদ্দীপকের 'ছক-১' এ রয়েছে সরকারের আয়ের উৎস বা কর রাজস্ব (যেমন- আয়কর, ভ্যাট, শুল্ক ইত্যাদি) এবং 'ছক-২' এ রয়েছে সরকারের ব্যয়ের খাতসমূহ (যেমন: শিল্প ও প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা, জনস্বাস্থ্য, দারিদ্র্য বিমোচন ও কর্মসংস্থান ইত্যাদি)। রাষ্ট্র যদি জনকল্যাণ, দেশরক্ষা ও উন্নয়নের জন্য 'ছক-২' এর খাতগুলোতে ব্যয় করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ না করে, তবে 'ছক-১' এর মাধ্যমে জনগণের কাছ থেকে বাধ্যতামূলকভাবে কর আদায়ের কোনো প্রয়োজন বা যৌক্তিকতা থাকে না। ব্যয়ের পরিধি যত বৃদ্ধি পায়, সেই ব্যয় মেটানোর জন্য সরকারকে কর রাজস্বের আওতাও তত বাড়াতে হয়।
সুতরাং পরিশেষে বলা যায়, ব্যয়ের প্রয়োজনীয়তাই আয়ের ক্ষেত্র তৈরি করে। তাই 'ছক-২' এ বর্ণিত সরকারি ব্যয়ের খাতসমূহের সফল বাস্তবায়নের প্রয়োজনেই 'ছক-১' এ নির্দেশিত কর রাজস্বের উৎপত্তি ঘটে, যা এই দুই খাতের পারস্পরিক নির্ভরশীলতাকে স্পষ্ট করে তোলে।
অর্থের সাহায্যে আমরা সহজেই যেকোনো পণ্য ও সেবার মূল্য পরিমাপ করতে পারি। এর ফলে অতীত ও ভবিষ্যতের পণ্য এবং সেবার মূল্য সম্বন্ধে খুব সহজেই তুলনামূলক আলোচনা ও হিসাব-নিকাশ করা সম্ভব হয়।
সমবায়ের নীতিমালার ভিত্তিতে গঠিত এবং পরিচালিত ব্যাংককে সমবায় ব্যাংক বলে। পারস্পরিক সহায়তার ভিত্তিতে স্বল্প সুদে ঋণ প্রদান করাই সমবায় ব্যাংকের উদ্দেশ্য। সরকার ও দেশের সমবায়ীদের যৌথ মালিকানায় পরিচালিত বাংলাদেশ সমবায় ব্যাংক লিমিটেডের শেয়ারের ৮৬% মালিক সমবায় প্রতিষ্ঠানগুলো এবং ১৪% সরকারের মালিকানায় থাকে। এ ব্যাংক গ্রামীণ যুব ও যুব মহিলাদের কর্মসংস্থানের জন্য ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম গ্রহণ করে এবং সরকারের 'একটি বাড়ি একটি খামার' প্রকল্পের অংশীদার হিসেবে কাজ করে।
উদ্দীপকের ছকে '$\mathrm{Y}$' আর্থিক প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, এটি সরকারের 'একটি বাড়ি একটি খামার' প্রকল্পের অংশীদার এবং এতে সরকারের ১৪% মালিকানা রয়েছে। এই বৈশিষ্ট্যগুলো সরাসরি বাংলাদেশ সমবায় ব্যাংকের কার্যাবলি ও মালিকানা কাঠামোর সুস্পষ্ট নির্দেশক।
সুতরাং, '$\mathrm{Y}$' দ্বারা বাংলাদেশ সমবায় ব্যাংককেই বোঝানো হয়েছে।
৩১ ডিসেম্বর ২০০৯ তারিখে ভেন্ডরস এগ্রিমেন্ট (Vendors Agreement) স্বাক্ষরের মাধ্যমে বাংলাদেশ শিল্প ব্যাংক ও বাংলাদেশ শিল্পঋণ সংস্থা নামক প্রতিষ্ঠান দুটি একীভূত হয়ে বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেড গঠিত হয়। এ ব্যাংক দেশের সাথে সম্পৃক্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর (যেমন- পাটশিল্প, চামড়াশিল্প, চিনিশিল্প ও সারশিল্প ইত্যাদি) উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে ঋণ প্রদান করে। সরকারি ও বেসরকারি খাতে নতুন শিল্প নির্মাণ, পুরাতন শিল্প সম্প্রসারণ ও আধুনিকীকরণের জন্য ব্যাংকটি দীর্ঘমেয়াদি ঋণ দিয়ে থাকে। পাশাপাশি, ব্যাংকটি পল্লি এলাকায় কৃষিভিত্তিক শিল্প স্থাপনে অগ্রাধিকার প্রদান করে, যা কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির সাথে সাথে গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করে। স্বনির্ভরতা অর্জন, উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করে মেয়াদি ঋণ প্রদান করার পাশাপাশি নারীকে আত্মনির্ভরশীল করার জন্য ক্ষুদ্র শিল্প স্থাপনে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতাও এ ব্যাংক দিয়ে থাকে।
উদ্দীপকের ছকে উল্লেখ করা হয়েছে যে, '$\mathrm{X}$' আর্থিক প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশ শিল্প ব্যাংক ও বাংলাদেশ শিল্প ঋণ সংস্থা একীভূত হয়ে (Vendors Agreement) স্বাক্ষরের মাধ্যমে গঠিত হয়েছে, যা সরাসরি বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের গঠনপ্রক্রিয়াকে নির্দেশ করে।
পরিশেষে বলা যায়, দেশের নতুন শিল্পের প্রসার, কৃষিভিত্তিক শিল্পের সম্প্রসারণ এবং আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে এই ব্যাংকটি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে ব্যাপক ও বহুমুখী ভূমিকা পালন করছে।
অধিকাংশ দ্রব্যসামগ্রী পচনশীল হওয়ায় সেগুলোর মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয় করা সম্ভব নয়। কিন্তু মানুষ তার উৎপাদিত আয় থেকে ভোগ ব্যয় বাদ দিয়ে উদ্বৃত্ত অংশ অর্থের মাধ্যমে সহজেই সঞ্চয় করতে পারে। অর্থ দ্বারা সবকিছু বিনিময় করা যায় বলে সঞ্চয়ের ক্ষেত্রে এটি সবচেয়ে কার্যকর ও নির্ভরযোগ্য বাহন হিসেবে কাজ করে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক হলো এমন একটি প্রতিষ্ঠান, যা ব্যাংকব্যবস্থার শীর্ষে অবস্থান করে সমগ্র ব্যাংকব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করে এবং মুদ্রাবাজারের অভিভাবক হিসেবে কাজ করে। সরকারের ব্যাংক হিসেবে এটি সরকারের রাজস্ব পাওনা জমা করে, বিভিন্ন খাতে অর্থ প্রদান করে এবং সরকারের অর্থনৈতিক নীতি নির্ধারণে প্রয়োজনীয় তথ্য ও পরামর্শ দেয়। এছাড়া, বৈদেশিক লেনদেনে ভারসাম্য আনয়ন ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেশীয় মুদ্রার সাথে বিদেশি মুদ্রার বিনিময় হার নির্ধারণ ও নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।
উদ্দীপকে সিফাতের আর্থিক প্রতিষ্ঠানটি সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, এটি বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার নির্ধারণের পাশাপাশি সরকারের ব্যাংক হিসেবে কাজ করে। এই বৈশিষ্ট্য ও কার্যাবলিগুলো সম্পূর্ণভাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কার্যাবলির অন্তর্ভুক্ত।
সুতরাং, সিফাতের আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ধরন হলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
দেশের ব্যবসায়-বাণিজ্যের সম্প্রসারণ, কৃষি উন্নয়ন ও শিল্পায়নে অর্থসংস্থানের পাশাপাশি আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রক্রিয়ার একটি বড়ো অংশীদার বাণিজ্যিক ব্যাংক। বাণিজ্যিক ব্যাংক দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ব্যক্তিগত সঞ্চয়কে আমানত হিসেবে গ্রহণ করে তা থেকে ব্যাংকসমূহ ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বৃহৎ শিল্পকারখানা নির্মাণ ও সম্প্রসারণে ঋণ সহায়তা দান করে থাকে। শিল্পের কাঁচামাল এবং উন্নতমানের যন্ত্রপাতি ক্রয় করতে ব্যাংক সহজ শর্তে পর্যাপ্ত ঋণ প্রদান করে। এছাড়া নতুন নতুন কোম্পানির শেয়ার কিনে দেশে কলকারখানা গড়তে সহায়তা করে। বাণিজ্যিক ব্যাংক দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও সহায়তা করে এবং সহজ বিনিময় মাধ্যম হিসেবে চেক, ব্যাংক ড্রাফট, ই-পেমেন্ট, ক্রেডিট কার্ড ইত্যাদি সৃষ্টি করে দৈনন্দিন অর্থনৈতিক লেনদেনকে অত্যন্ত গতিশীল করে তোলে।
উদ্দীপকে উল্লেখ করা হয়েছে যে, রিফাতের আর্থিক প্রতিষ্ঠানটি জনগণকে ঋণ প্রদান করে এবং বিনিময়ের সহজ মাধ্যম হিসেবে চেক, ব্যাংক ড্রাফট, ই-পেমেন্ট ইত্যাদি ইস্যুর কাজ করে থাকে। এই কার্যাবলি সরাসরি বাণিজ্যিক ব্যাংকের কার্যক্রমকে নির্দেশ করে।
পরিশেষে বলা যায়, মূলধন গঠন, ব্যবসায়-বাণিজ্যের প্রসার, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বিনিময়ের সহজ মাধ্যম তৈরির মাধ্যমে বাণিজ্যিক ব্যাংক দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে সত্যিই এক অভাবনীয় ভূমিকা পালন করছে।
১. কোনো দ্রব্য পাওয়ার ইচ্ছা বা আকাঙ্ক্ষা,
২. দ্রব্যটি ক্রয়ের জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক সামর্থ্য এবং
৩. অর্থ ব্যয় করে দ্রব্যটি ক্রয়ের ইচ্ছা।
এই তিনটি শর্ত একসাথে পূরণ হলেই কেবল কোনো আকাঙ্ক্ষাকে অর্থনীতিতে চাহিদা (Demand) বলা হয়।
উপরের সূচি থেকে চাহিদারেখা অঙ্কন করে ব্যাখ্যা করা হলো-
চিত্রে ভূমি অক্ষে (OX অক্ষে) চাহিদার পরিমাণ (একক) এবং লম্ব অক্ষে (OY অক্ষে) কমলার দাম (টাকায়) নির্দেশ করা হয়েছে।
সূচি অনুযায়ী, কমলার দাম যখন সর্বোচ্চ ৮ টাকা তখন চাহিদার পরিমাণ সর্বনিম্ন ৭ একক, যার সমন্বয় বিন্দু a। কমলার দাম হ্রাস পেয়ে যখন ৬ টাকা ও ৪ টাকা হয়, তখন চাহিদার পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে যথাক্রমে ১৪ একক ও ২১ একক হয়, যাদের সমন্বয় বিন্দু যথাক্রমে b এবং c।
এখন a, b এবং c বিন্দুগুলো যোগ করলে যে DD রেখাটি পাওয়া যায় তা বাম থেকে ডানদিকে নিম্নগামী। এই রেখাটিই হলো উদ্দীপকের তথ্যের আলোকে অঙ্কিত চাহিদারেখা।
অন্যান্য অবস্থা অপরিবর্তিত থেকে কোনো নির্দিষ্ট সময়ে পণ্যের দাম কমলে তার চাহিদার পরিমাণ বাড়ে এবং দাম বাড়লে চাহিদার পরিমাণ কমে দামের সাথে চাহিদার এরূপ বিপরীত সম্পর্ককেই চাহিদাবিধি বলা হয়। উদ্দীপকের সূচিতে দেখা যায়, কমলার দাম ৮ টাকা থেকে কমে ক্রমান্বয়ে ৬ টাকা ও ৪ টাকা হওয়ায় চাহিদার পরিমাণ ৭ একক থেকে বেড়ে যথাক্রমে ১৪ একক ও ২১ একক হয়েছে। অর্থাৎ সূচিতে চাহিদাবিধিটি পুরাপুরি কার্যকর হয়েছে।
কিন্তু এই বিধিটি কার্যকর হওয়ার অন্যতম প্রধান শর্ত হলো “অন্যান্য অবস্থা অপরিবর্তিত থাকা”। এই 'অন্যান্য অবস্থা'-র মধ্যে ক্রেতার আয়, পছন্দ, রুচি ও অভ্যাস অন্যতম। এগুলোর পরিবর্তন ঘটলে চাহিদাবিধিটি অকার্যকর হয়ে পড়ে।
উদাহরণস্বরূপ, দ্রব্যের দাম কমার পাশাপাশি ক্রেতার আয় যদি কমে যায়, তবে দাম কমা সত্ত্বেও আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় 'সে বেশি দ্রব্য কিনবে না, ফলে চাহিদা বাড়বে না। আবার, ক্রেতার যদি কমলালেবুর প্রতি পছন্দ বা রুচি না থাকে, তবে দাম ৪ টাকায় নেমে এলেও তার কাছে কমলার চাহিদা বাড়বে না। বিপরীতক্রমে, দাম বাড়ার সাথে সাথে ক্রেতার আয় যদি বহুগুণ বেড়ে যায় বা ওই দ্রব্যের প্রতি তার তীব্র পছন্দ সৃষ্টি হয়, তবে বেশি দামেও সে অধিক দ্রব্য ক্রয় করবে।
অতএব যৌক্তিকভাবেই বলা যায়, ক্রেতার আয় এবং পছন্দের পরিবর্তন ঘটলে দাম ও চাহিদার স্বাভাবিক বিপরীতমুখী সম্পর্কটি আর বজায় থাকে না, যার ফলে উদ্দীপকে প্রকাশিত চাহিদাবিধিটি তখন আর কার্যকর হবে না।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।