যশোর বোর্ড ২০২৬
১.

দৃশ্যকল্প-১:

দৃশ্যকল্প-২: কাশেম একজন অভিজ্ঞ কৃষক। তার ৩ বিঘা জমি আছে। উক্ত জমিতে শুধু পাট চাষ করলে ৩০ মণ পাট উৎপাদন করতে পারেন আবার শুধু ভুট্টা চাষ করলে ৬০ মণ ভুট্টা উৎপাদন করতে পারেন। তিনি ইচ্ছা করলে কিছু অংশে পাট ও কিছু অংশে ভুট্টা চাষও করতে পারেন। অনেক চিন্তা করে কাশেম পাট চাষের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেন।

উদ্দীপকের ছবি
উত্তর ভোগ বা ব্যবহারের মাধ্যমে যে সমস্ত দ্রব্যের উপযোগ নিঃশেষ করা হয়, তাদেরকে ভোগ্য দ্রব্য বলে।
উত্তর যে কার্যাবলির মাধ্যমে অর্থ উপার্জিত হয় তাকে অর্থনৈতিক কাজ বলে, আর যার মাধ্যমে অর্থ উপার্জিত হয় না তাকে অ-অর্থনৈতিক কাজ বলে।
অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মূল উদ্দেশ্য হলো নতুন দ্রব্য বা সেবাপণ্য সৃষ্টি করে জীবিকা নির্বাহ করা (যেমন- কারখানায় কাজ করা)। অন্যদিকে, অ-অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড মানুষের অভাব বা শখ পূরণ করলেও তা অর্থ উপার্জনে কোনো ভূমিকা রাখে না (যেমন- পিতামাতা কর্তৃক সন্তান লালন-পালন)।
উত্তর

দৃশ্যকল্প-১-এর আলোকে উৎপাদন সম্ভাবনা রেখাটি অঙ্কন করা হলো-

চিত্রে ভূমি অক্ষে (OX অক্ষে) পাটের পরিমাণ (মিলিয়ন বেল) এবং লম্ব অক্ষে (OY অক্ষে) ভুট্টার পরিমাণ (মিলিয়ন টন) নির্দেশ করা হয়েছে। দৃশ্যকল্প-১ এর সূচি অনুযায়ী পাটের উৎপাদন যখন ০ মিলিয়ন বেল তখন ভুট্টার উৎপাদন ১৬ মিলিয়ন টন, যার সমন্বয় বিন্দু A। পাটের উৎপাদন বাড়িয়ে যথাক্রমে ২, ৪, ৬ ও ৮ মিলিয়ন বেল করা হলে ভুট্টার উৎপাদন কমে যথাক্রমে ১৫, ১১, ৭ ও ৫ মিলিয়ন টন হয়, যাদের সমন্বয় বিন্দু যথাক্রমে B, C, D এবং E। পাটের উৎপাদন আরও বাড়িয়ে যখন ১০ মিলিয়ন বেল করা হয় তখন ভুট্টার উৎপাদন হয় ০ মিলিয়ন টন, যার সমন্বয় বিন্দু F। এখন A, B, C, D, E ও F বিন্দুগুলো যোগ করলে যে রেখাটি পাওয়া যায় তা বাম থেকে ডানে নিম্নগামী এবং মূলবিন্দুর দিকে অবতল হয়। এ রেখাটিই হলো দৃশ্যকল্প-১ এর তথ্যানুযায়ী অঙ্কিত উৎপাদন সম্ভাবনা রেখা।

উত্তরের ছবি
উত্তর

দৃশ্যকল্প-২ অনুযায়ী কৃষক কাশেমের ফসল উৎপাদনের জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াটি অর্থনীতির 'নির্বাচন বা চয়ন' ধারণার সাথে সংগতিপূর্ণ। সম্পদের স্বল্পতার কারণেই ব্যক্তি পর্যায়ের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় পর্যায়েও এরূপ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হয়।

মানুষের অভাব অসীম, কিন্তু সেই অভাব পূরণের জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদ সীমিত। এই সীমিত সম্পদ দিয়ে মানুষ তার সব অভাব একসঙ্গে পূরণ করতে পারে না বলে তাকে প্রতিনিয়ত বাছাই করতে হয়। অভাবের গুরুত্ব বিবেচনা করে অতি প্রয়োজনীয় অভাবগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পূরণ করার এই প্রক্রিয়াটিই হলো নির্বাচন বা চয়ন। আর এই নির্বাচনের ক্ষেত্রে কোনো একটি জিনিস পাওয়ার জন্য অন্যটিকে ত্যাগ করতে হয়, যা সুযোগ ব্যয় ধারণার সৃষ্টি করে।

দৃশ্যকল্প-২ এ কৃষক কাশেম তার নির্দিষ্ট ৩ বিঘা জমিতে শুধু পাট চাষ করলে ৩০ মণ পাট অথবা শুধু ভুট্টা চাষ করলে ৬০ মণ ভুট্টা উৎপাদন করতে পারেন। কিন্তু জমির পরিমাণ সীমিত হওয়ায় তিনি একই সাথে উভয় ফসলের সর্বোচ্চ উৎপাদন পেতে পারেন না। তাই সম্পদের এই সীমাবদ্ধতার কারণে তিনি অনেক চিন্তাভাবনা করে কেবল পাট চাষ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেন। অর্থাৎ তিনি ভুট্টার উৎপাদন ত্যাগ করে পাট নির্বাচন করলেন। ফসল উৎপাদনের জন্য তার এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াই হলো নির্বাচন বা চয়ন।

অর্থনীতিতে সম্পদের স্বল্পতা কেবল ব্যক্তিবিশেষের সমস্যা নয়, এটি একটি সার্বজনীন সমস্যা। একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদ দিয়ে কোনো রাষ্ট্রও একসাথে দেশের সব চাহিদা মেটাতে পারে না। তাই সীমিত সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে দেশের সর্বাধিক উন্নয়ন ও কল্যাণ নিশ্চিত করার জন্য ব্যক্তি পর্যায়ের পাশাপাশি সমাজ ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়েও সম্পদের স্বল্পতার কারণে প্রতিনিয়ত এরূপ চয়ন বা নির্বাচনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হয়।

২. নিচের সূচিটি লক্ষ কর এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
উদ্দীপকের ছবি
উত্তর একজন বিক্রেতা কোনো একটি দ্রব্যের যে পরিমাণ একটি নির্দিষ্ট সময়ে এবং একটি নির্দিষ্ট দামে বিক্রয় করতে ইচ্ছুক থাকে, তাকে জোগান বলে।
উত্তর অর্থনীতিতে কোনো আকাঙ্ক্ষা চাহিদা হতে হলে মূলত তিনটি শর্ত পূরণ করতে হয়। শর্তগুলো হলো-
১. কোনো দ্রব্য পাওয়ার ইচ্ছা বা আকাঙ্ক্ষা,
২. দ্রব্যটি ক্রয়ের জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক সামর্থ্য এবং
৩. অর্থ ব্যয় করে দ্রব্যটি ক্রয়ের ইচ্ছা।
এই তিনটি শর্ত একসাথে পূরণ হলেই কেবল কোনো আকাঙ্ক্ষাকে অর্থনীতিতে চাহিদা (Demand) বলা হয়।
উত্তর

উপরের সূচি থেকে চাহিদারেখা অঙ্কন করে ব্যাখ্যা করা হলো-

চিত্রে ভূমি অক্ষে (OX অক্ষে) চাহিদার পরিমাণ (একক) এবং লম্ব অক্ষে (OY অক্ষে) কমলার দাম (টাকায়) নির্দেশ করা হয়েছে।
সূচি অনুযায়ী, কমলার দাম যখন সর্বোচ্চ ৮ টাকা তখন চাহিদার পরিমাণ সর্বনিম্ন ৭ একক, যার সমন্বয় বিন্দু a। কমলার দাম হ্রাস পেয়ে যখন ৬ টাকা ও ৪ টাকা হয়, তখন চাহিদার পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে যথাক্রমে ১৪ একক ও ২১ একক হয়, যাদের সমন্বয় বিন্দু যথাক্রমে b এবং c।
এখন a, b এবং c বিন্দুগুলো যোগ করলে যে DD রেখাটি পাওয়া যায় তা বাম থেকে ডানদিকে নিম্নগামী। এই রেখাটিই হলো উদ্দীপকের তথ্যের আলোকে অঙ্কিত চাহিদারেখা।

উত্তরের ছবি
উত্তর উদ্দীপকের সূচিতে অর্থনীতিতে দাম ও চাহিদার বিপরীতমুখী সম্পর্ক নির্দেশক 'চাহিদাবিধি'-এর প্রকাশ ঘটেছে। তবে ক্রেতার আয় এবং পছন্দের পরিবর্তন হলে এই বিধিটি কার্যকর হবে না। নিচে এর সপক্ষে যৌক্তিক মতামত উপস্থাপন করা হলো-
অন্যান্য অবস্থা অপরিবর্তিত থেকে কোনো নির্দিষ্ট সময়ে পণ্যের দাম কমলে তার চাহিদার পরিমাণ বাড়ে এবং দাম বাড়লে চাহিদার পরিমাণ কমে দামের সাথে চাহিদার এরূপ বিপরীত সম্পর্ককেই চাহিদাবিধি বলা হয়। উদ্দীপকের সূচিতে দেখা যায়, কমলার দাম ৮ টাকা থেকে কমে ক্রমান্বয়ে ৬ টাকা ও ৪ টাকা হওয়ায় চাহিদার পরিমাণ ৭ একক থেকে বেড়ে যথাক্রমে ১৪ একক ও ২১ একক হয়েছে। অর্থাৎ সূচিতে চাহিদাবিধিটি পুরাপুরি কার্যকর হয়েছে।
কিন্তু এই বিধিটি কার্যকর হওয়ার অন্যতম প্রধান শর্ত হলো “অন্যান্য অবস্থা অপরিবর্তিত থাকা”। এই 'অন্যান্য অবস্থা'-র মধ্যে ক্রেতার আয়, পছন্দ, রুচি ও অভ্যাস অন্যতম। এগুলোর পরিবর্তন ঘটলে চাহিদাবিধিটি অকার্যকর হয়ে পড়ে।
উদাহরণস্বরূপ, দ্রব্যের দাম কমার পাশাপাশি ক্রেতার আয় যদি কমে যায়, তবে দাম কমা সত্ত্বেও আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় 'সে বেশি দ্রব্য কিনবে না, ফলে চাহিদা বাড়বে না। আবার, ক্রেতার যদি কমলালেবুর প্রতি পছন্দ বা রুচি না থাকে, তবে দাম ৪ টাকায় নেমে এলেও তার কাছে কমলার চাহিদা বাড়বে না। বিপরীতক্রমে, দাম বাড়ার সাথে সাথে ক্রেতার আয় যদি বহুগুণ বেড়ে যায় বা ওই দ্রব্যের প্রতি তার তীব্র পছন্দ সৃষ্টি হয়, তবে বেশি দামেও সে অধিক দ্রব্য ক্রয় করবে।
অতএব যৌক্তিকভাবেই বলা যায়, ক্রেতার আয় এবং পছন্দের পরিবর্তন ঘটলে দাম ও চাহিদার স্বাভাবিক বিপরীতমুখী সম্পর্কটি আর বজায় থাকে না, যার ফলে উদ্দীপকে প্রকাশিত চাহিদাবিধিটি তখন আর কার্যকর হবে না।
৩. নিচের ছকটি লক্ষ করো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
উদ্দীপকের ছবি
উত্তর অর্থনীতিতে উপকরণ বা প্রাথমিক দ্রব্য ব্যবহার করে নতুন কোনো দ্রব্য বা উপযোগ সৃষ্টি করাকে উৎপাদন বলে।
উত্তর সঞ্চয় হলো আয়ের সেই অংশ, যা বর্তমানে ভোগ না করে ভবিষ্যতের জন্য জমা রাখা হয়, আর সেই সঞ্চিত অর্থ যখন মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে উৎপাদন কাজে খাটানো হয়, তখন তাকে বিনিয়োগ বলে।
সঞ্চয় ও বিনিয়োগের মধ্যে সরাসরি ও ধনাত্মক সম্পর্ক বিদ্যমান। মানুষের আয় বাড়লে সঞ্চয় বাড়ে, আর সঞ্চয় বাড়লে তা মূলধন গঠনে সহায়তা করে, যা পরিশেষে দেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করে। অর্থাৎ, সঞ্চয় হলো বিনিয়োগের প্রধান ভিত্তি বা উৎস।
উত্তর

উদ্দীপকের ২নং ছকে '?' চিহ্নিত স্থানের উপকরণটি হলো 'শ্রম'।

উৎপাদন কাজে ব্যবহৃত মানুষের সব ধরনের শারীরিক ও মানসিক পরিশ্রমকে শ্রম বলে। উৎপাদনে শুধু কৃষকের বা শ্রমিকের কায়িক পরিশ্রমই শ্রম নয়, বরং অফিস-আদালতের কর্মচারী, শিক্ষক বা ডাক্তারের শারীরিক ও মানসিক সেবাকেও অর্থনীতিতে শ্রম হিসেবে গণ্য করা হয়।

কোনো কিছু উৎপাদনের জন্য যেসব দ্রব্য বা সেবাকর্ম প্রয়োজন হয়, সেগুলোকে উৎপাদনের উপকরণ বলে। অর্থনীতিতে উৎপাদনের উপকরণ মূলত চারটি, যথা- ভূমি, শ্রম, মূলধন ও সংগঠন। উদ্দীপকের ছকে উৎপাদনের চার প্রকার উপকরণের একটি তালিকা দেখানো হয়েছে, যেখানে ১নং ও ৩নং স্থানে যথাক্রমে ভূমি ও মূলধনের নাম উল্লেখ রয়েছে। উৎপাদনের ধারাবাহিকতা ও নিয়মানুযায়ী ভূমি ও মূলধনের পাশাপাশি মানুষের কায়িক ও মানসিক প্রচেষ্টা অপরিহার্য। তাই সামগ্রিক উৎপাদন ব্যবস্থায় উপকরণের ক্রম অনুযায়ী ২নং '?' চিহ্নিত স্থানটিতে উৎপাদনের অন্যতম সচল উপকরণ 'শ্রম' বসবে।

উত্তর

উদ্দীপকের ৪নং '?' চিহ্নিত উপকরণটি হলো 'সংগঠন', যা যেকোনো ব্যবসায়ের মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।

উৎপাদন ক্ষেত্রে ভূমি, শ্রম ও মূলধন- এই তিনটি উপকরণের মধ্যে উপযুক্ত সমন্বয় ঘটিয়ে উৎপাদন কাজ পরিচালনা করাকে সংগঠন বলে। আধুনিক বিশ্বে উৎপাদন কর্মকাণ্ডে বিভিন্ন জন বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন। ব্যবসায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ, কার্যাবলি বিভাজন, কর্মীদের মধ্যে অধিকার ও দায়িত্ব বণ্টন এবং নিয়ম-শৃঙ্খলা গড়ে তোলার মতো যাবতীয় কাজ এই সাংগঠনিক কাঠামোর অন্তর্গত।

উদ্দীপকের ছকে উৎপাদনের চারটি উপকরণের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে, যার সর্বশেষ বা ৪নং উপকরণটি হলো সংগঠন। সত্যিকার অর্থে সংগঠন ছাড়া উৎপাদন ও ব্যবসায়ের নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যবস্থাপনা প্রায় অসম্ভব। উৎপাদনের অন্যান্য উপকরণ- ভূমি, শ্রম ও মূলধন প্রচুর পরিমাণে থাকলেও একটি সুষ্ঠু সংগঠন ছাড়া এগুলোর কোনোটিই নিজে নিজে উৎপাদন কাজ সম্পন্ন করতে পারে না। সংগঠক বা উদ্যোক্তা এই ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা উপকরণগুলোকে একত্র করেন এবং কর্মীদের সহায়তায় ব্যবসায়ের বিভিন্ন কার্যাবলি সম্পাদন করেন, যার ফলে কর্মীদের মধ্যে একটি পারস্পরিক অধিকার ও দায়িত্বের কাঠামো সৃষ্টি হয়।

সুতরাং বলা যায়, সংগঠনের বিভিন্ন অংশ একসঙ্গে ধরে রাখা, লক্ষ্য অর্জনের রূপরেখা তৈরি করা এবং সম্মিলিত উৎপাদনে অংশগ্রহণকারীদের আয়ের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করার মাধ্যমেই একটি ব্যবসা সফল হয়। তাই পারস্পরিক অধিকার ও দায়িত্বের এই কাঠামোগত রূপ অর্থাৎ 'সংগঠন' কেই ব্যবসায়ের প্রধান ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

৪. নিচে একটি কাল্পনিক সূচি দেওয়া হলো-
উদ্দীপকের ছবি
উত্তর কোনো নির্দিষ্ট সময়ে একটি দ্রব্যের ভোগের পরিমাণ এক একক পরিবর্তনের ফলে মোট উপযোগের যে পরিবর্তন হয়, তাকে প্রান্তিক উপযোগ বলে।
উত্তর অর্থনীতিতে 'সুযোগ ব্যয়' হলো একটি দ্রব্য পাওয়ার জন্য অন্য একটি দ্রব্যের ত্যাগ করা পরিমাণ, আর 'চয়ন' হলো একাধিক বিকল্প থেকে সর্বোত্তমটি বেছে নেওয়ার প্রক্রিয়া।
সম্পদের সীমাবদ্ধতার কারণে মানুষকে সবসময় তার অভাবগুলো ক্রমানুসারে সাজিয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণটি নির্বাচন বা চয়ন করতে হয়। আর এই নির্বাচিত বিকল্পটি পাওয়ার জন্য যে দ্বিতীয় সর্বোত্তম বিকল্পটি তাকে ত্যাগ করতে হয়, সেটিই হলো সুযোগ ব্যয়। তাই ধারণা দুটি পরস্পরের সাথে গভীরভাবে জড়িত হলেও এগুলো সম্পূর্ণ পৃথক।
উত্তর

উদ্দীপকের আলোকে জোগানরেখাটি অঙ্কন করে ব্যাখ্যা করা হলো-

চিত্রে ভূমি অক্ষে (OX অক্ষে) জোগানের পরিমাণ (একক) এবং লম্ব অক্ষে (OY অক্ষে) চিনির দাম (টাকায়) নির্দেশ করা হয়েছে।
সূচি অনুযায়ী, চিনির দাম যখন ৪০ টাকা তখন জোগানের পরিমাণ ১৫ একক, যার সমন্বয় বিন্দু a। চিনির দাম বৃদ্ধি পেয়ে যথাক্রমে ৮০ টাকা ও ১২০ টাকা হলে জোগানের পরিমাণও ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেয়ে যথাক্রমে ৩০ একক ও ৪৫ একক হয়, যাদের সমন্বয় বিন্দু যথাক্রমে b এবং c।
এখন a, b এবং c বিন্দুগুলো যোগ করলে যে SS রেখাটি পাওয়া যায় তা বাম থেকে ডানদিকে ঊর্ধ্বগামী। এই রেখাটিই হলো উদ্দীপকের তথ্যের আলোকে অঙ্কিত জোগানরেখা।

উত্তরের ছবি
উত্তর

উদ্দীপকের সূচি থেকে বাজার ভারসাম্যের চিত্র অঙ্কন করে ৪০ ও ১২০ টাকা দামের প্রভাব বিশ্লেষণ করা হলো-

চিত্রে ভূমি অক্ষে (OX অক্ষে) চাহিদা ও জোগানের পরিমাণ (একক) এবং লম্ব অক্ষে (OY অক্ষে) চিনির দাম (টাকায়) নির্দেশ করা হয়েছে। চিত্রে DD হলো নিম্নগামী চাহিদারেখা এবং SS হলো ঊর্ধ্বগামী জোগানরেখা।
চিত্র অনুযায়ী, চিনির দাম যখন ৮০ টাকা, তখন চাহিদার পরিমাণ ও জোগানের পরিমাণ উভয়ই ৩০ একক, যা পরস্পর সমান। অর্থাৎ, এই দামে চাহিদা = জোগান (৩০ একক) এবং বাজার স্থিতিশীল। চিত্রে DD চাহিদারেখা এবং SS জোগানরেখা পরস্পরকে E বিন্দুতে ছেদ করেছে, যা বাজার ভারসাম্য বিন্দু। অতএব, ভারসাম্য দাম হলো ৮০ টাকা এবং ভারসাম্য পরিমাণ হলো ৩০ একক।

ভারসাম্য দামের বাইরে ৪০ ও ১২০ টাকা দামে বাজারে চাহিদা ও জোগানের মধ্যে চরম ভারসাম্যহীনতা বা অসংগতি সৃষ্টি হয়। চিনির দাম যখন ৪০ টাকা, তখন চাহিদার পরিমাণ ৪৫ একক কিন্তু জোগানের পরিমাণ ১৫ একক। এক্ষেত্রে চাহিদা > জোগান হওয়ায় বাজারে চিনির ঘাটতি দেখা দেবে এবং ক্রেতাদের মধ্যে প্রতিযোগিতার কারণে দাম বৃদ্ধি পেতে থাকবে। অন্যদিকে, চিনির দাম যখন ১২০ টাকা, তখন চাহিদার পরিমাণ ১৫ একক কিন্তু জোগানের পরিমাণ ৪৫ একক। এক্ষেত্রে জোগান > চাহিদা হওয়ায় বাজারে চিনির উদ্বৃত্ত দেখা দেবে এবং অবিক্রীত চিনি বিক্রয়ের জন্য বিক্রেতাদের মধ্যে প্রতিযোগিতার কারণে দাম হ্রাস পেতে থাকবে। অর্থাৎ, ৪০ টাকা ও ১২০ টাকা দামে সৃষ্ট এই ঘাটতি ও উদ্বৃত্ত বাজার প্রক্রিয়ার দর-কষাকষির মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুনরায় ৮০ টাকা ভারসাম্য দামের দিকেই ধাবিত হবে।

উত্তরের ছবি
৫.

দৃশ্যকল্প-১: রাফিন 'ক' দেশে বসবাস করে। তার দেশে জিডিপি হিসাব করার সময় প্রাথমিক ও মাধ্যমিক দ্রব্যের পরিবর্তে চূড়ান্ত পর্যায়ের উৎপাদিত দ্রব্য ও সেবার বাজার মূল্য হিসাব করা হয়।

দৃশ্যকল্প-২: নাবিলা বেগম একজন গৃহিণী। সে তার সন্তানদের লালন-পালনের পাশাপাশি সংসারের যাবতীয় কাজ করে থাকেন।

উত্তর একটি নির্দিষ্ট সময়ে সাধারণত এক বছরে একটি দেশের ভৌগোলিক সীমানার মধ্যে মোট যে পরিমাণ চূড়ান্ত দ্রব্য ও সেবা উৎপাদিত হয়, তার বাজার দামের সমষ্টিকে মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি বলে।
উত্তর

সময়ের পরিবর্তনে সম্পদের বা উৎপাদিত পণ্যের মূল্য পরিবর্তনজনিত লাভ বা ক্ষতি জিডিপি গণনার ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করে না বলে মূলধনি লাভ জিডিপিতে অন্তর্ভুক্ত হয় না।

এই লাভ-ক্ষতি শুধু কাগজে-কলমে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে লিপিবদ্ধ করা হয়। সময়ের ব্যবধানে কোনো একটি প্রতিষ্ঠানের লাভ যতটুকু হয়, অন্য প্রতিষ্ঠানের ঠিক সমপরিমাণ ক্ষতি হয়। ফলে সামগ্রিকভাবে অর্থনীতিতে এর কোনো নতুন উৎপাদন যোগ হয় না এবং জিডিপি গণনায় মূলধনি লাভ বা ক্ষতির প্রভাব শূন্য থাকে।

উত্তর

দৃশ্যকল্প-২-এ নাবিলার কাজ জিডিপিতে অন্তর্ভুক্ত হবে না।

অর্থনীতিতে এমন কিছু দ্রব্য ও সেবা রয়েছে যেগুলো বাজারের মাধ্যমে বেচা-কেনা হয় না বা এগুলোর কোনো আর্থিক মূল্য নির্ধারণ করা সম্ভব হয় না। বিনামূল্যে ব্যবহৃত এসব সেবাকর্ম বা অপণ্যায়িত সেবার মূল্য জিডিপি বা মোট দেশজ উৎপাদন গণনায় অন্তর্ভুক্ত করা যায় না।

উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-২-এ নাবিলা বেগম একজন গৃহিণী, যিনি সন্তানদের লালন-পালন এবং সংসারের যাবতীয় কাজ করেন। তার এই কাজগুলো অত্যন্ত মূল্যবান হলেও বাজারের মাধ্যমে এগুলোর কোনো বেচা-কেনা হয় না বা এর বিনিময়ে তিনি কোনো পারিশ্রমিক পান না। মায়ের আদর বা স্ত্রীর রান্নাবান্নার মতো কাজগুলো বিনামূল্যে ব্যবহৃত সেবার আওতাভুক্ত। তাই আর্থিক মূল্যে পরিমাপযোগ্য না হওয়ায় নাবিলার এই কাজগুলো দেশের জিডিপি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হবে না।

উত্তর

দৃশ্যকল্প-১-এ রাফিনের দেশে জিডিপি হিসাবের সময় 'দ্বৈত গণনা সমস্যা' এড়ানোর জন্যই প্রাথমিক ও মাধ্যমিক দ্রব্যকে বিবেচনায় আনা হয় না।

জাতীয় আয় বা জিডিপি গণনায় শুধু চূড়ান্ত পর্যায়ের দ্রব্য ও সেবা বিবেচিত হয়। কারণ চূড়ান্ত পর্যায়ের দ্রব্যের বাজার মূল্যের ভেতরেই মাধ্যমিক পর্যায়ের দ্রব্য ও সেবার মূল্য আগে থেকেই অন্তর্ভুক্ত থাকে। চূড়ান্ত দ্রব্যের হিসাব করার পর আবার যদি আলাদাভাবে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের দ্রব্য বিবেচনা করা হয়, তবে একই জিনিসের মূল্য একাধিকবার হিসাব করা হয়ে যাবে। জিডিপি গণনার ক্ষেত্রে এই ত্রুটিকে দ্বৈত গণনা সমস্যা বলা হয়।

দৃশ্যকল্প-১-এ দেখা যায়, রাফিন 'ক' দেশে বসবাস করে এবং তার দেশে জিডিপি হিসাব করার সময় প্রাথমিক ও মাধ্যমিক দ্রব্যের পরিবর্তে শুধু চূড়ান্ত পর্যায়ের উৎপাদিত দ্রব্য ও সেবার বাজার মূল্য হিসাব করা হয়। যদি তার দেশে তুলা ও সুতার মতো প্রাথমিক ও মাধ্যমিক দ্রব্যের দাম হিসাব করার পর আবার চূড়ান্ত দ্রব্য হিসেবে শার্টের দাম হিসাব করা হতো, তবে একই দ্রব্যের দাম বারবার যুক্ত হয়ে জিডিপি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যেত।

সুতরাং বলা যায়, জিডিপি পরিমাপে নির্ভুলতা বজায় রাখা এবং একই দ্রব্যের মূল্য বারবার গণনা করার ত্রুটি বা দ্বৈত গণনা সমস্যা পরিহার করার লক্ষ্যেই রাফিনের দেশে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক দ্রব্যকে বিবেচনায় আনা হয় না।

৬. নিচের ছকটি লক্ষ করো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
উদ্দীপকের ছবি
উত্তর NNI-এর পূর্ণরূপ হলো– Net National Income.
উত্তর

অর্থকে ঋণের ভিত্তি হিসেবে গণ্য করা হয় কারণ আধুনিক ঋণ ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে অর্থের ওপর নির্ভরশীল।

মানুষ তাদের উদ্বৃত্ত অর্থ ব্যাংকে জমা রাখে এবং ব্যাংক সেই জমাকৃত অর্থের ওপর ভিত্তি করেই সাধারণ মানুষ বা ব্যবসায়ীদের ঋণ প্রদান করে। এছাড়া চেক, বিনিময় বিল ইত্যাদি ঋণপত্রের ব্যবহারও অর্থের পরিমাপেই সম্পন্ন হয়। তাই অর্থ ছাড়া ঋণদান বা ঋণপত্র ইস্যু করা সম্ভব নয়।

উত্তর

উদ্দীপকের ছক 'X' অংশে জিডিপি (GDP) পরিমাপের ব্যয় পদ্ধতিকে নির্দেশ করে।

ব্যয় পদ্ধতিতে মোট দেশজ উৎপাদন হলো কোনো নির্দিষ্ট সময়ে সমাজের সব ধরনের ব্যয়ের যোগফল। সমাজের মোট ব্যয় বলতে ব্যক্তি খাতের ভোগ ও বিনিয়োগ ব্যয় এবং সরকারি ব্যয় ও নিট রপ্তানিকে বোঝায়। সূত্রাকারে এটি হলো- মোট দেশজ উৎপাদন বা Y = C + I + G + (X - M)। এখানে C = ভোগ, I = বিনিয়োগ, G = সরকারি ব্যয় এবং (X – M) বা (রপ্তানি – আমদানি) = নিট রপ্তানি।

উদ্দীপকের ছক 'X' অংশে লক্ষ করলে দেখা যায়, সেখানে C + I + G + (X - M) সমীকরণটি দেওয়া আছে। যেহেতু সমীকরণটিতে অর্থনীতিতে সংঘটিত ভোগ ব্যয়, বিনিয়োগ ব্যয়, সরকারি ব্যয় এবং নিট রপ্তানির সমষ্টি দেখানো হয়েছে, তাই এটি নিশ্চিতভাবে জিডিপি পরিমাপের ব্যয় পদ্ধতিকে নির্দেশ করে।

উত্তর

উদ্দীপকের ছকের 'Y' অংশের খাতগুলো বাংলাদেশের অর্থনীতিতে জিডিপি (GDP) পরিমাপের 'উৎপাদন পদ্ধতি'তে সম্পৃক্ত হয়।

বাংলাদেশে জিডিপি গণনার দায়িত্বে নিয়োজিত বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো উৎপাদন পদ্ধতি ব্যবহার করে জিডিপি গণনা করে থাকে। এই পদ্ধতিতে জিডিপি পরিমাপের জন্য দেশের সমগ্র অর্থনীতিকে মোট ১৫টি প্রধান খাতে বিভক্ত করে এক বছরে উৎপাদিত চূড়ান্ত দ্রব্য ও সেবার বাজারমূল্য যোগ করা হয়।

উদ্দীপকের ছক 'Y'-তে উল্লিখিত খাতগুলো এই ১৫টি খাতেরই অংশ। এগুলো জিডিপি পরিমাপে যেভাবে সম্পৃক্ত হয় তা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো-

১. কৃষি ও বনজ সম্পদ: এ খাতে উৎপাদিত শস্য ও শাকসবজি এবং প্রাণিসম্পদের চলতি বাজারমূল্য এবং বনজ সম্পদের মোট উৎপাদন হতে ৫% মূল্য বাদ দিয়ে যা থাকে, তাকে মূল্য সংযুক্তি হিসেবে জিডিপিতে যোগ করা হয়।

২. খনিজ ও খনন: প্রাকৃতিক গ্যাস, অপরিশোধিত তেল ও অন্যান্য খনিজ সম্পদের উৎপাদিত পণ্যের বাজারমূল্য হিসাব করে দেশজ উৎপাদনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

৩. বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানি সম্পদ: এ খাতে সরবরাহকৃত সেবার মূল্যের পরিপ্রেক্ষিতে দেশজ উৎপাদন মূল্য হিসাব করা হয়।

৪. হোটেল ও রেস্তোরাঁ: এই খাতের উৎপন্ন দ্রব্য ও সেবার বিক্রয় মূল্যের প্রেক্ষিতে হিসাব করে জিডিপিতে সম্পৃক্ত করা হয়।

সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের খাতগুলো উৎপাদন পদ্ধতিতে তাদের উৎপাদিত চূড়ান্ত দ্রব্য ও সেবার আর্থিক মূল্য যোগ করার মাধ্যমেই বাংলাদেশের জিডিপি পরিমাপে সম্পৃক্ত হয়।

৭. সালমা খাতুন একটি ক্ষুদ্র শিল্প স্থাপনের জন্য 'ক' নামক ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণ করেন, যা পূর্বে বাংলাদেশের দুটি বৃহৎ আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে গঠিত। অপরদিকে, রানু খাতুন গাভি পালনের মাধ্যমে নিজেকে আত্মনির্ভরশীল করার জন্য বিনা জামানতে 'খ' নামক ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণ করেন।
উত্তর নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য ব্যাংকে যে আমানত রাখা হয় এবং যার ওপর ব্যাংক অধিক হারে সুদ প্রদান করে, তাকে স্থায়ী আমানত বলে।
উত্তর

দ্রব্য বিনিময় প্রথার প্রধান অসুবিধা হলো দ্রব্য বিভাজনে অসুবিধা এবং পারস্পরিক অভাবের অমিল দেখা দেওয়া।

সরাসরি পণ্য বিনিময় প্রথায় একজনের প্রয়োজনের সাথে অন্যজনের প্রয়োজনের মিল না থাকলে লেনদেন সম্পন্ন করা সম্ভব হতো না। এছাড়া অনেক দ্রব্য সহজে বিভাজন করা যায় না বলে সঠিক মূল্যে পণ্য বিনিময় করাও কঠিন হয়ে পড়ত, যার ফলে দৈনন্দিন লেনদেন করতে গিয়ে মানুষকে নানা অসুবিধায় পড়তে হতো।

উত্তর

উদ্দীপকে সালমা খাতুনকে ঋণ প্রদানকারী 'ক' নামক ব্যাংকটি হলো বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেড।

বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক সাধারণত দেশের সাথে সম্পৃক্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে ঋণ প্রদান করে। এই ব্যাংক সরকারি ও বেসরকারি খাতে নতুন শিল্প নির্মাণ, পুরাতন শিল্প সম্প্রসারণ ও আধুনিকীকরণের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ঋণ দিয়ে থাকে। শিল্পকারখানার প্রয়োজনে এ ব্যাংক স্বল্পমেয়াদি ঋণও প্রদান করে। এছাড়া স্বনির্ভরতা অর্জন, উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যে ব্যাংকটি ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করে মেয়াদি ঋণ প্রদান করে এবং নারীকে আত্মনির্ভরশীল করার জন্য ক্ষুদ্র শিল্প স্থাপনে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রদান করে থাকে।

উদ্দীপকে বলা হয়েছে যে, সালমা খাতুন একটি ক্ষুদ্র শিল্প স্থাপনের জন্য 'ক' ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণ করেন এবং ব্যাংকটি পূর্বে বাংলাদেশের দুটি বৃহৎ আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে গঠিত হয়েছে। এই বৈশিষ্ট্যগুলো বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেডের কার্যাবলি ও গঠনপ্রকৃতির সুস্পষ্ট নির্দেশক, যা বাংলাদেশ শিল্প ব্যাংক ও বাংলাদেশ শিল্পঋণ সংস্থা একীভূত হয়ে গঠিত হয়েছে।

সুতরাং, সালমা খাতুনকে ঋণদানকারী 'ক' নামক ব্যাংকটির ধরন হলো বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেড।

উত্তর

উদ্দীপকে উল্লিখিত 'খ' নামক ব্যাংকটি হলো গ্রামীণ ব্যাংক। রানু খাতুনের মতো নারীদের আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে গ্রামীণ ব্যাংক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

গ্রামের অতি স্বল্প জমির মালিক, ভূমিহীন এবং অন্যান্য অতি দরিদ্র নারী-পুরুষের মাঝে ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হয়। এ ব্যাংক গ্রামের ভূমিহীন দরিদ্র কৃষকদেরকে সহজ শর্তে ও জামানত ছাড়া ঋণ প্রদান করে। কৃষি খাতের উন্নয়নের জন্য এ ব্যাংক শাকসবজি চাষ, গাভি পালন, মৎস্য চাষ, হাঁস-মুরগি পালন ও জমি চাষাবাদ ইত্যাদি খাতে ঋণ প্রদান করে থাকে। সুবিধাবঞ্চিত বেকার জনগোষ্ঠীকে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় সংঘবদ্ধ করে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করার লক্ষ্যে এ ব্যাংক কাজ করে। বিশেষ করে, নারীকে কর্মে উদ্বুদ্ধকরণ ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশে এ ব্যাংক প্রত্যক্ষভাবে সহায়তা করে এবং দরিদ্র অসহায় নারীদের পুনর্বাসনের চেষ্টা করে।

উদ্দীপকে উল্লেখ আছে যে, রানু খাতুন গাভি পালনের মাধ্যমে নিজেকে আত্মনির্ভরশীল করার জন্য বিনা জামানতে 'খ' নামক ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণ করেন। তার এই গাভি পালন এবং বিনা জামানতে ঋণ পাওয়ার বিষয়টি গ্রামীণ ব্যাংকের কার্যক্রমকে নির্দেশ করে।

পরিশেষে বলা যায়, গ্রামীণ ব্যাংক দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত নারীদের সহজ শর্তে ঋণ ও দিকনির্দেশনা দিয়ে তাদের আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি ও আত্মনির্ভরশীল করে তুলতে অসামান্য অবদান রাখছে।

৮. নিচে একটি কাল্পনিক বাজেট দেওয়া হলো-
উদ্দীপকের ছবি
উত্তর কোনো আর্থিক বছরে সরকারের প্রত্যাশিত বা সম্ভাব্য আয়ের তুলনায় সম্ভাব্য ব্যয়ের পরিমাণ কম হলে, তাকে উদ্বৃত্ত বাজেট বলে। অর্থাৎ এই বাজেটে ব্যয় অপেক্ষা আয়ের পরিমাণ বেশি থাকে।
উত্তর

মূলধন বা উন্নয়ন বাজেটের প্রধান লক্ষ্য হলো দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধি অর্জন।

সরকারের মূলধন আয় ও ব্যয়ের হিসাব যে বাজেটে দেখানো হয়, তাকে মূলধন বা উন্নয়ন বাজেট বলে। এই বাজেটের মূল উদ্দেশ্য হলো দেশের ও জনগণের দীর্ঘমেয়াদি আর্থসামাজিক উন্নয়ন সাধন করা। এই লক্ষ্যে সরকার প্রতিবছর বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি প্রণয়ন করে এবং তা বাস্তবায়নের জন্য কৃষি, শিল্প, বিদ্যুৎ, জ্বালানি, পরিবহণ ও যোগাযোগের মতো উৎপাদনশীল ও কাঠামোগত খাতসমূহে অর্থ ব্যয় করে থাকে, যা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধি অর্জনে সরাসরি অবদান রাখে।

উত্তর

সূচিতে প্রদত্ত বাজেটটি একটি সুষম বাজেট।

কোনো নির্দিষ্ট সময়ে বা আর্থিক বছরে সরকারের প্রত্যাশিত মোট আয় এবং সম্ভাব্য মোট ব্যয়ের পরিমাণ পরস্পর সমান হলে তাকে সুষম বাজেট বলে। এই বাজেটে আয়ের সাথে নিখুঁত সংগতি রেখে ব্যয়ের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয় বলে সাধারণত দেশে মুদ্রাস্ফীতি বা দ্রব্যের দাম দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে, যা অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।

সূত্র: সুষম বাজেট = মোট আয় – মোট ব্যয় = ০ হয়। অর্থাৎ, মোট আয় = মোট ব্যয়।

উদ্দীপকের কাল্পনিক বাজেট সূচিটি পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, সরকারের মোট আয়ের পরিমাণ (৬৫ + ৪৫ + ৫০ + ২১) হাজার কোটি টাকা বা ১৮১ হাজার কোটি টাকা। অন্যদিকে, সরকারের মোট ব্যয়ের পরিমাণ (৬০ + ৩৫ + ৫৫ + ৩১) হাজার কোটি টাকা বা ১৮১ হাজার কোটি টাকা। যেহেতু এখানে সরকারের মোট প্রত্যাশিত আয় এবং সম্ভাব্য ব্যয়ের পরিমাণ সম্পূর্ণ সমান, তাই এটি সুষম বাজেটের গাণিতিক রূপকে প্রকাশ করে। সুতরাং দেখা যায়, সূচিতে প্রদত্ত বাজেটটি একটি সুষম বাজেট।

উত্তর

প্রদত্ত বাজেটে যদি ব্যয়ের পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পায় তবে বাজেটটি ঘাটতি বাজেটে রূপান্তরিত হবে এবং তা বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য অত্যন্ত মঙ্গলজনক হবে বলে আমি মনে করি।

কোনো আর্থিক বছরে সরকারের প্রত্যাশিত বা সম্ভাব্য আয়ের তুলনায় সম্ভাব্য ব্যয়ের পরিমাণ বেশি হলে তাকে ঘাটতি বাজেট বলে। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে প্রাকৃতিক সম্পদের পরিপূর্ণ ব্যবহার নিশ্চিত করতে, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বেকারত্ব হ্রাস করতে এবং জনগণের জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধিতে ঘাটতি বাজেট প্রণয়ন অত্যন্ত কল্যাণকর। উন্নয়নশীল দেশে অর্থনৈতিক অনগ্রসরতা দূর করার জন্য রাস্তাঘাট, সেতু, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের মতো বড় বড় অবকাঠামো নির্মাণের যে বিশাল কর্মযজ্ঞ হাতে নিতে হয়, তা সীমিত কর রাজস্ব দিয়ে সম্পন্ন করা সম্ভব হয় না। এ অবস্থায় সরকার ঘাটতি বাজেটের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ ব্যাংকিং ব্যবস্থা ও বৈদেশিক উৎস থেকে ঋণ গ্রহণ করে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড সচল রাখে, যা বেসরকারি বিনিয়োগপ্রবণতা বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে উৎপাদন ও আয় বৃদ্ধি করে।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।