অর্থায়ন ব্যবস্থাপনার জ্ঞান থাকলে একজন ব্যবসায়ী পরিকল্পিতভাবে প্রয়োজনীয় অর্থ স্বল্প ব্যয়ে সংগ্রহ ও সঠিক খাতে ব্যবহার করতে পারেন।
এ জ্ঞান তহবিলের পরিমাণ, উৎস, মেয়াদ ও ব্যয় নির্ধারণে সহায়তা করে। ফলে তারল্য ও মুনাফার ভারসাম্য বজায় রাখা, আর্থিক ঝুঁকি কমানো এবং সংগৃহীত অর্থের দক্ষ ব্যবহারের মাধ্যমে পর্যাপ্ত মুনাফা অর্জন সম্ভব হয়।
জনাব আলীম দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায় অর্থায়ন করেছেন।
সাধারণত পাঁচ বছর বা তার বেশি সময়ের জন্য সংগৃহীত তহবিলকে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন বলে। ব্যবসা সম্প্রসারণ, স্থায়ী সম্পদ ক্রয় ও দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প বাস্তবায়নে এ অর্থ ব্যবহার করা হয়; ব্যাংকঋণ, শেয়ার ও বন্ড এর উল্লেখযোগ্য উৎস।
উদ্দীপকে জনাব আলীম ব্যবসায়ের আয়তন বাড়ানোর জন্য ব্যাংক থেকে পাঁচ বছর মেয়াদি ঋণ নিয়েছেন। ঋণের মেয়াদ ও সম্প্রসারণমূলক উদ্দেশ্য—দুই বৈশিষ্ট্যই দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাই তিনি দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায় অর্থায়ন করেছেন।
জনাব আলীম তারল্য বনাম মুনাফা নীতি অনুসরণ করে ব্যবসায়ের অর্থ ব্যবস্থাপনা করছেন।
এ নীতি অনুযায়ী ব্যবসায়ে এমন পরিমাণ নগদ অর্থ রাখতে হয় যাতে দৈনন্দিন ব্যয় ও স্বল্পমেয়াদি দায় সময়মতো পরিশোধ করা যায়, আবার অতিরিক্ত নগদ অলস রেখে সম্ভাব্য মুনাফাও নষ্ট না হয়। অর্থাৎ তারল্য ও মুনাফার মধ্যে উপযুক্ত ভারসাম্য বজায় রাখতে হয়।
উদ্দীপকে তিনি দৈনিক বিক্রয়ের সব অর্থ ব্যাংকে জমা না দিয়ে পরিচালন ব্যয়ের প্রয়োজনীয় অংশ হাতে রাখেন। এতে ব্যাংক আমানত থেকে কিছু সুদ কম পেলেও উপকরণ, মজুরি ও অন্যান্য চলতি ব্যয় নির্বাহে নগদ ঘাটতি হয় না।
হাতে প্রয়োজনীয় নগদ রাখা ব্যবসায়ের কার্যক্রম সচল ও স্বল্পমেয়াদি দায় পরিশোধে সহায়ক; অবশিষ্ট অর্থ ব্যাংকে রাখায় আয়ও হয়। অতএব, জনাব আলীম তারল্য ও মুনাফার মধ্যে যৌক্তিক ভারসাম্য রেখে অর্থায়নের নীতিটি যথাযথভাবে প্রয়োগ করেছেন।
যে পদ্ধতিতে আসলের সঙ্গে প্রতি সময়কালের সুদ যোগ করে পরবর্তী সময়ে সুদাসলের ওপর আবার সুদ হিসাব করে ভবিষ্যৎ মূল্য নির্ণয় করা হয়, তাকে চক্রবৃদ্ধিকরণ পদ্ধতি বলে।
যেমন, ১০% বার্ষিক হারে ১০০ টাকার এক বছর পর মূল্য = ১০০(১ + ০.১০) = ১১০ টাকা এবং দুই বছর পর মূল্য = ১০০(১ + ০.১০)² = ১২১ টাকা। অর্থাৎ দ্বিতীয় বছরে আগের বছরের সুদের ওপরও সুদ পাওয়া যায়।
উদ্দীপকে জমার মেয়াদ উল্লেখ না থাকায় ভবিষ্যৎ মূল্যের একক সংখ্যামান সরাসরি নির্ণয় করা যায় না। মেয়াদ n বছর হলে—
বর্তমান মূল্য, PV = ৩০,০০,০০০ টাকা
বার্ষিক নামিক মুনাফার হার, i = ৯.৫% = ০.০৯৫
মাসিক চক্রবৃদ্ধির সংখ্যা, m = ১২
$FV = PV(1 + i/m)^{nm}$
$FV = ৩০,০০,০০০(1 + ০.০৯৫/১২)^{১২n}$ টাকা
উৎস-সমাধানে ব্যবহৃত ৫ বছর মেয়াদ ধরলে—
$FV = ৩০,০০,০০০(১.০০৭৯১৬৭)^{৬০}$
$= ৪৮,১৫,০২৮.৪১$ টাকা প্রায়
অতএব, ৫ বছর মেয়াদে ‘খ’ ব্যাংকে অর্থের ভবিষ্যৎ মূল্য প্রায় ৪৮,১৫,০২৮.৪১ টাকা।
একই মেয়াদে কোন ব্যাংক বেশি লাভজনক তা প্রকৃত বার্ষিক মুনাফার হার তুলনা করে নির্ধারণ করা যায়।
‘ক’ ব্যাংকের বার্ষিক চক্রবৃদ্ধি হার = ১০%
অতএব, ‘ক’ ব্যাংকের EAR = ১০%
‘খ’ ব্যাংকের ক্ষেত্রে i = ৯.৫% এবং m = ১২
$EAR = [(1 + i/m)^m - 1] × ১০০$
$= [(1 + ০.০৯৫/১২)^{১২} - 1] × ১০০$
$= ৯.৯২%$ প্রায়
‘ক’ ব্যাংকের প্রকৃত বার্ষিক হার ১০%, যা ‘খ’ ব্যাংকের প্রায় ৯.৯২%-এর চেয়ে বেশি। তাই একই মেয়াদে জনাব রাব্বানীর জন্য ‘ক’ ব্যাংকে টাকা জমা রাখা অধিক লাভজনক।
ব্যবসায়ে বিভিন্ন ধরনের পণ্য সংযোজন ও বাজারজাত করাকে পণ্য বৈচিত্র্যায়ন বলে।
নতুন পণ্যের আয়ুষ্কাল, উৎপাদন ও পরিচালন ব্যয়, বাজারের চাহিদা, প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ এবং সম্ভাব্য নগদ প্রবাহ মূলধন বাজেটিংয়ের মাধ্যমে বিশ্লেষণ করা যায়। এতে লাভজনক পণ্য নির্বাচন, ঝুঁকি বণ্টন এবং বৈচিত্র্যায়নের সাফল্যের সম্ভাবনা বাড়ে।
প্রকল্পের প্রাথমিক বিনিয়োগ ৪ কোটি বা ৪০০ লক্ষ টাকা এবং আয়ুষ্কাল ৪ বছর। অবশিষ্ট মূল্য শূন্য ধরে বার্ষিক অবচয় = ৪০০ ÷ ৪ = ১০০ লক্ষ টাকা।
১ম বছর: করযোগ্য মুনাফা = ২৪০ − ৪৮ − ১০০ = ৯২ লক্ষ টাকা; নিট মুনাফা = ৯২ × ৭০% = ৬৪.৪ লক্ষ টাকা
২য় বছর: করযোগ্য মুনাফা = ২৮০ − ৫৬ − ১০০ = ১২৪ লক্ষ টাকা; নিট মুনাফা = ১২৪ × ৭০% = ৮৬.৮ লক্ষ টাকা
৩য় বছর: করযোগ্য মুনাফা = ৪০ − ৮ − ১০০ = −৬৮ লক্ষ টাকা; কর-সুবিধাসহ নিট ক্ষতি = −৬৮ × ৭০% = −৪৭.৬ লক্ষ টাকা
৪র্থ বছর: করযোগ্য মুনাফা = ১৬০ − ৩২ − ১০০ = ২৮ লক্ষ টাকা; নিট মুনাফা = ২৮ × ৭০% = ১৯.৬ লক্ষ টাকা
গড় নিট মুনাফা = (৬৪.৪ + ৮৬.৮ − ৪৭.৬ + ১৯.৬) ÷ ৪ = ৩০.৮ লক্ষ টাকা
গড় বিনিয়োগ = (৪০০ + ০) ÷ ২ = ২০০ লক্ষ টাকা
গড় মুনাফার হার = (৩০.৮ ÷ ২০০) × ১০০ = ১৫.৪%
অতএব, প্রকল্পটির গড় মুনাফার হার ১৫.৪%।
জনাব আদনানের বড় অঙ্কের দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ প্রকল্পে মূলধন বাজেটিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মূলধন বাজেটিংয়ের গড় মুনাফার হার, পে-ব্যাক সময় ও নিট বর্তমান মূল্য প্রভৃতি পদ্ধতি দিয়ে প্রত্যাশিত আয়, ব্যয়, নগদ প্রবাহ ও ঝুঁকি বিশ্লেষণ করা হয়। এতে প্রকল্পটি গ্রহণযোগ্য কি না বিনিয়োগের আগেই জানা যায়।
উদ্দীপকে আধুনিক যন্ত্র কেনার জন্য ৪ কোটি টাকা চার বছরের জন্য বিনিয়োগ করতে হবে এবং জনাব আদনান ২৫% মুনাফা প্রত্যাশা করেন। কিন্তু হিসাব অনুযায়ী প্রকল্পের গড় মুনাফার হার মাত্র ১৫.৪%, যা তাঁর প্রত্যাশিত ২৫%-এর চেয়ে ৯.৬ শতাংশ পয়েন্ট কম।
মূলধন বাজেটিং প্রয়োগ না করলে তিনি কম লাভজনক প্রকল্পে বিপুল অর্থ আবদ্ধ করে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারতেন। এই বিশ্লেষণ প্রকল্পটি পুনর্বিবেচনা বা বর্জনের যৌক্তিক ভিত্তি দিয়েছে। তাই তাঁর বিনিয়োগ সিদ্ধান্তে মূলধন বাজেটিংয়ের গুরুত্ব অপরিসীম।
একটি বিনিয়োগ নির্বাচন করার ফলে পরবর্তী সর্বোত্তম বিকল্প থেকে যে আয় ত্যাগ করতে হয়, তাকে সুযোগ ব্যয় বলে।
যেমন, জমিতে বিনিয়োগের কারণে ৮% সুদদায়ী ব্যাংক আমানতের সুযোগ ত্যাগ করা হলে জমিতে বিনিয়োগের সুযোগ ব্যয় হলো ত্যাগ করা ৮% আয়। সুযোগ ব্যয় সরাসরি নগদ ব্যয় না হলেও বিনিয়োগ সিদ্ধান্তে তা বিবেচ্য।
আলফা ব্যাংকে বর্তমানে কত টাকা জমা রাখতে হবে তা বর্তমান মূল্য সূত্রে নির্ণয় করতে হবে।
ভবিষ্যৎ মূল্য, FV = ২,০০,০০০ টাকা
বার্ষিক নামিক হার, i = ৮% = ০.০৮
ষান্মাসিক চক্রবৃদ্ধির সংখ্যা, m = ২
মেয়াদ, n = ৪ বছর
$PV = rac\{FV\}\{(1 + i/m)^{nm}\}$
$PV = rac\{২,০০,০০০\}\{(1 + ০.০৮/২)^{৪×২}\}$
$= rac\{২,০০,০০০\}\{(১.০৪)^৮\}$
$= rac\{২,০০,০০০\}\{১.৩৬৮৫৬৯\}$
$= ১,৪৬,১৩৮.০৪$ টাকা প্রায়
অতএব, জনাব তাহমিদকে আলফা ব্যাংকে বর্তমানে প্রায় ১,৪৬,১৩৮.০৪ টাকা জমা রাখতে হবে।
একই ২,০০,০০০ টাকা ভবিষ্যৎ মূল্য পেতে যে ব্যাংকে বর্তমানে কম অর্থ জমা দিতে হবে, সেটিই অধিক লাভজনক।
গামা ব্যাংকের ক্ষেত্রে FV = ২,০০,০০০ টাকা, i = ৮.৫% = ০.০৮৫, m = ৪ এবং n = ৪ বছর
$PV = rac\{FV\}\{(1 + i/m)^{nm}\}$
$PV = rac\{২,০০,০০০\}\{(1 + ০.০৮৫/৪)^{৪×৪}\}$
$= rac\{২,০০,০০০\}\{(১.০২১২৫)^{১৬}\}$
$= ১,৪২,৮৬২.০৫$ টাকা প্রায়
আলফা ব্যাংকে প্রয়োজন ১,৪৬,১৩৮.০৪ টাকা, আর গামা ব্যাংকে প্রয়োজন ১,৪২,৮৬২.০৫ টাকা। গামা ব্যাংকে প্রায় ৩,২৭৫.৯৯ টাকা কম জমা দিয়েই একই ভবিষ্যৎ মূল্য পাওয়া যাবে। তাই জনাব তাহমিদের জন্য গামা ব্যাংকে টাকা জমা রাখা অধিক লাভজনক।
ব্যাংক আমানতের প্রকৃত আয় সাধারণত পূর্বনির্ধারিত প্রত্যাশিত আয়ের সমান হয় বলে এ আয়কে ঝুঁকিমুক্ত ধরা হয়।
ব্যাংক নির্দিষ্ট মেয়াদ ও হারে সুদ বা মুনাফা প্রদানের চুক্তি করে এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়। ফলে সাধারণ বাজার ওঠানামায় আমানতকারীর নির্ধারিত আয় পরিবর্তিত হয় না এবং তুলনামূলক স্থিতিশীল আয় পাওয়া যায়।
জনাব রেফায়েত আর্থিক ঝুঁকির সম্মুখীন হয়েছেন।
ঋণ বা বহিঃস্থ উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহের ফলে নির্ধারিত সময়ে সুদ ও আসল পরিশোধের বাধ্যবাধকতা সৃষ্টি হয়। এই দায় পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ার আশঙ্কাকে আর্থিক ঝুঁকি বলে।
উদ্দীপকে তিনি ব্যাংকঋণ নিয়ে হাঁস ও মুরগির খামার স্থাপন করেছেন, কিন্তু কাঙ্ক্ষিত মুনাফা না হওয়ায় ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে পারছেন না। ঋণজনিত দায় পরিশোধের এই অক্ষমতাই আর্থিক ঝুঁকির প্রকাশ।
ঝুঁকির ভিত্তিতে যে খামারের আদর্শ বিচ্যুতি বেশি, সেটিই বন্ধ করা উচিত।
হাঁসের খামারের পাঁচ বছরের আয়ের হার: ২০%, ১০%, −৫%, ১৫% ও ৩০%
গড় আয় = (২০ + ১০ − ৫ + ১৫ + ৩০) ÷ ৫ = ১৪%
গড় থেকে ব্যবধানের বর্গের যোগফল = ৬² + (−৪)² + (−১৯)² + ১² + ১৬² = ৬৭০
নমুনা ব্যবধানের বর্গ = ৬৭০ ÷ (৫ − ১) = ১৬৭.৫
আদর্শ বিচ্যুতি = √১৬৭.৫ = ১২.৯৪% প্রায়
হাঁসের খামারের আদর্শ বিচ্যুতি ১২.৯৪%, আর মুরগির খামারের আদর্শ বিচ্যুতি ১০%। হাঁসের খামারের আয়ের বিচ্যুতি ও ঝুঁকি বেশি। তাই জনাব রেফায়েতের হাঁসের খামারটি বন্ধ করা উচিত।
বাণিজ্যিক ব্যাংক আস্থা ও নিরাপত্তার প্রতীক হিসেবে বিভিন্ন দলিল ও ইলেকট্রনিক উপকরণের প্রচলন ঘটিয়ে বিনিময়ের মাধ্যম সৃষ্টি করে।
চেক, বিনিময় বিল, প্রত্যয়পত্র, ব্যাংক ড্রাফট, পে-অর্ডার, ডেবিট কার্ড ও ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে নগদ অর্থ বহন না করেই আর্থিক লেনদেন ও দেনা-পাওনা নিষ্পত্তি করা যায়। ফলে এসব উপকরণ অর্থের বিকল্প বিনিময় মাধ্যম হিসেবে কাজ করে।
রংধনু ব্যাংকের তহবিলের উৎস হলো গ্রাহকদের আমানত।
বাণিজ্যিক ব্যাংক চলতি, সঞ্চয়ী ও স্থায়ী হিসাবের মাধ্যমে জনগণের অর্থ সংগ্রহ করে। আমানতকারীরা সব অর্থ একসঙ্গে উত্তোলন করেন না বলে ব্যাংক এর একটি অংশ ঋণ ও বিনিয়োগে ব্যবহার করে মুনাফা অর্জন করতে পারে।
উদ্দীপকে রংধনু ব্যাংক বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে জনগণের কাছ থেকে তহবিল সংগ্রহ করছে। হিসাবের মাধ্যমে জমা হওয়া এই অর্থই আমানত এবং ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ বাহ্যিক তহবিলের উৎস।
রংধনু ব্যাংক আমানত গ্রহণ, ঋণদান এবং বৈদেশিক বাণিজ্যে সহায়তা—বাণিজ্যিক ব্যাংকের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পাদন করছে।
বাণিজ্যিক ব্যাংক জনগণের সঞ্চয় আমানত হিসেবে সংগ্রহ করে এবং সেই অর্থ উদ্যোক্তাদের ঋণ দিয়ে উৎপাদনশীল কাজে নিয়োজিত করে। পাশাপাশি প্রত্যয়পত্র বা Letter of Credit ইস্যু করে আমদানিকারক ও রপ্তানিকারকের মধ্যে অর্থ পরিশোধের নিশ্চয়তা সৃষ্টি করে।
উদ্দীপকে ব্যাংকটি বিভিন্ন হিসাবের মাধ্যমে জনগণের অর্থ সংগ্রহ করছে, জমাকৃত অর্থ উদ্যোক্তাদের ঋণ দিচ্ছে এবং দেশের অভ্যন্তরীণ লেনদেনের পাশাপাশি বৈদেশিক বাণিজ্যে প্রত্যয়পত্র ইস্যু করছে। অর্থাৎ আমানত গ্রহণ, ঋণ প্রদান ও আমদানি-রপ্তানিতে সহায়তার কাজ একসঙ্গে করছে।
এসব কার্যক্রম সঞ্চয়কে বিনিয়োগে রূপান্তর করে, ব্যবসায়ের মূলধন জোগায় এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে আস্থা ও লেনদেনের নিরাপত্তা বাড়ায়। তাই রংধনু ব্যাংকের কার্যাবলি বাণিজ্যিক ব্যাংকের প্রধান কার্যাবলির সঙ্গে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ।
ব্যাংক জনগণের ছড়িয়ে থাকা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সঞ্চয় আমানত হিসেবে সংগ্রহ করে মূলধন গঠন করে।
বিভিন্ন হিসাবের মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ ব্যাংকের তহবিল বাড়ায় এবং আমানতকারীর সঞ্চয়কে মূলধনে রূপ দেয়। ব্যাংক এ অর্থ ঋণ ও বিনিয়োগের মাধ্যমে উৎপাদনশীল খাতে সরবরাহ করে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও দেশের মূলধন গঠনে সহায়তা করে।
‘পায়রা ব্যাংক লি.’-এর সামাজিক অবদান বা সমাজকল্যাণের উদ্দেশ্য অর্জিত হয়েছে।
ব্যাংকের মালিক ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের একটি উদ্দেশ্য হলো মুনাফা অর্জনের পাশাপাশি সামাজিক উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কাজে অংশ নেওয়া। এতে সামাজিক দায়বদ্ধতা পালিত হয় এবং প্রতিষ্ঠানের সুনাম বাড়ে।
উদ্দীপকে ব্যাংকটি দরিদ্র ও মেধাবী এসএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দিয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করছে। মুনাফার অংশ শিক্ষাবিস্তারে ব্যয় করার মাধ্যমে পায়রা ব্যাংক সামাজিক অবদানের উদ্দেশ্য পূরণ করেছে।
‘পায়রা ব্যাংক লি.’-এর কার্যক্রম ব্যাংকিং ব্যবসায়ের প্রচার নীতির যথার্থ প্রয়োগ।
প্রচার নীতি অনুযায়ী ব্যাংক তার সেবা, দক্ষতা ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম উপযুক্ত ও বোধগম্য মাধ্যমে জনসাধারণের কাছে তুলে ধরে। কার্যকর প্রচার গ্রাহকের আস্থা, পরিচিতি ও সুনাম বাড়িয়ে ব্যাংকের প্রসারে সহায়তা করে।
উদ্দীপকে ব্যাংকটি দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তির জন্য অনলাইন নিবন্ধনের বিজ্ঞাপন টেলিভিশনে প্রচার করেছে। এতে যোগ্য শিক্ষার্থীরা বৃত্তির তথ্য পেয়েছে এবং ব্যাংকের সমাজকল্যাণমূলক কাজ দেশব্যাপী পরিচিত হয়েছে।
ফলে বিজ্ঞাপনটি একই সঙ্গে জনসেবা সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য পৌঁছিয়েছে এবং ব্যাংকের ইতিবাচক ভাবমূর্তি ও পরিচিতি বৃদ্ধি করেছে। অতএব, প্রচার নীতির আলোকে পায়রা ব্যাংকের কার্যক্রম যৌক্তিক ও কার্যকর।
মোবাইল ফোনের SMS-এর মাধ্যমে ব্যাংকিং তথ্য ও সেবা গ্রহণ করাকে এসএমএস ব্যাংকিং বলে।
এর মাধ্যমে হিসাবের স্থিতি, লেনদেনের বার্তা, চেকবইয়ের অনুরোধ বা অন্যান্য তথ্য পাওয়া যায়। যেমন, ব্যাংকের নির্ধারিত নম্বরে SMS পাঠিয়ে নিজের হিসাবের বর্তমান ব্যালেন্স জানা এসএমএস ব্যাংকিংয়ের উদাহরণ।
মিসেস তাহমিনা ডিপোজিট পেনশন স্কিম বা DPS হিসাব খুলেছেন।
এ হিসাবে গ্রাহক নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত প্রতি মাসের নির্ধারিত তারিখে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ জমা দেন। মেয়াদ শেষে ব্যাংক জমাকৃত অর্থ ও চুক্তিবদ্ধ সুদ বা মুনাফা এককালীন পরিশোধ করে।
উদ্দীপকে মিসেস তাহমিনা পাঁচ বছর মেয়াদি হিসাব খুলে প্রতি মাসের ২৫ তারিখের মধ্যে ১,০০০ টাকা জমা দেন। নির্দিষ্ট মাসিক কিস্তি, নির্ধারিত তারিখ ও দীর্ঘ মেয়াদের বৈশিষ্ট্যগুলো DPS হিসাবের সঙ্গে সম্পূর্ণ মিলে যায়।
মিসেস মাহমুদার হিসাব খোলার আগে ব্যাংকের বৈধ স্বীকৃতি, আর্থিক নিরাপত্তা, শাখা ও ই-ব্যাংকিং সুবিধা, অবস্থান, সেবার মান এবং খরচ বিবেচনা করা উচিত।
বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদিত ও তত্ত্বাবধানাধীন ব্যাংক নির্বাচন করলে আমানত ও লেনদেনের নিরাপত্তা বাড়ে। ব্যাংকের সুনাম, আর্থিক সক্ষমতা, কর্মকর্তাদের আচরণ, সুদ বা মুনাফার হার, সেবামাশুল এবং নিকটবর্তী শাখা বা ATM-এর প্রাপ্যতাও গুরুত্বপূর্ণ।
উদ্দীপকে তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বীকৃতিপ্রাপ্ত ব্যাংক চান এবং যেকোনো সময় যেকোনো স্থান থেকে লেনদেন ও তথ্য গ্রহণ করতে চান। তাই নিরাপদ ও স্বীকৃত ব্যাংকের পাশাপাশি ইন্টারনেট ব্যাংকিং, মোবাইল ব্যাংকিং, SMS সেবা, ATM এবং বহুশাখা সুবিধা আছে কি না যাচাই করা প্রয়োজন।
এসব বিষয় যাচাই করলে তিনি নিরাপদে আমানত রাখতে, দ্রুত তথ্য পেতে এবং প্রয়োজনমতো দূরবর্তী লেনদেন করতে পারবেন। অতএব, স্বীকৃতি ও আধুনিক ই-ব্যাংকিং সুবিধাকে অগ্রাধিকার দিয়ে ব্যাংক নির্বাচন করাই তাঁর জন্য যৌক্তিক।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।