বরিশাল বোর্ড ২০২৬
১. উদ্দীপকটি পড়ো এবং নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
উদ্দীপকের ছবি
উত্তর সূর্য এর গ্রহ, উপগ্রহ, গ্রহাণুপুঞ্জ, ধূমকেতু, উল্কা প্রভৃতি নিয়ে যে পরিবার তাকে বলা হয় সৌরজগৎ।
উত্তর উপগ্রহগুলো গ্রহগুলোর চারদিকে আবর্তিত হয়। মহাকর্ষ বলের প্রভাবে এরা নিজ নিজ গ্রহকে কেন্দ্র করে ঘোরে এবং এদের নিজস্ব কোনো আলো বা তাপ থাকে না। মহাজাগতিক নিয়ম অনুযায়ী, সৌরজগতে কোনো কোনো গ্রহের একাধিক প্রাকৃতিক উপগ্রহ বা চাঁদ রয়েছে, আবার বুধ ও শুক্র গ্রহগুলোর কোনো উপগ্রহ নেই।
উত্তর

'A' চিহ্নিত গ্রহটি হলো 'শুক্র' গ্রহ। নিচে 'শুক্র' গ্রহের বর্ণনা দেওয়া হলো-

সূর্যের নিকটতম দিকে থেকে শুক্র দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। সূর্য থেকে এ গ্রহের দূরত্ব ১০.৮ কোটি কিলোমিটার। এ গ্রহের ব্যাস ১২,১০৪ কিলোমিটার। সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে শুক্র গ্রহের সময় লাগে ২২৫ দিন। এটি ঘনমেঘে ঢাকা। তাই এর উপরিভাগ থেকে সূর্যকে কখনোই দেখা, যায় না। এর মেঘাচ্ছন্ন বায়ুমণ্ডল প্রধানত কার্বন-ডাই - অক্সাইডের তৈরি।
এটি সৌরজগতের উজ্জ্বল ও সবচেয়ে উত্তপ্ত গ্রহ। শুক্রগ্রহ অন্যগ্রহের চেয়ে ব্যতিক্রম। কারণ, সকল গ্রহই পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে পাক খায়, কিন্তু শুক্র গ্রহ পূর্ব থেকে পশ্চিমে পাক খায়।

উত্তর

চিত্রে 'B' বলতে 'পৃথিবী' এবং 'C' বলতে 'মঙ্গল' গ্রহকে চিহ্নিত করা হয়েছে। উক্ত গ্রহ দুটির মধ্যে পৃথিবী নামক গ্রহেই প্রাণের অস্তিত্ব থাকা এবং টিকে থাকা সম্ভব। নিচে তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হলো-

পৃথিবী একমাত্র গ্রহ যার বায়ুমণ্ডলে জীবনধারণের প্রয়োজনীয় অক্সিজেন, নাইট্রোজেন ও তাপমাত্রা রয়েছে। যা উদ্ভিদ ও জীবজন্তু বসবাসের উপযোগী। অপরদিকে, মঙ্গল গ্রহের উপরিভাগে' রয়েছে গিরিখাত ও আগ্নেয়গিরি। এ গ্রহে অক্সিজেন ও পানির পরিমাণ খুবই কম। তবে কার্বন-ডাইঅক্সাইডের পরিমাণ এত বেশি যে, প্রাণীর অস্তিত্ব থাকা সম্ভব নয়। যেকোনো গ্রহে জীবের অস্তিত্ব থাকার জন্য গ্রহের বায়ুমণ্ডলে সহনীয় মাত্রায় অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, তাপমাত্রাসহ, পানি ও অন্যান্য উপাদান প্রয়োজন। সেক্ষেত্রে দুটি গ্রহের মধ্যে 'A' গ্রহে সহনীয় মাত্রায় এসব উপাদান বিদ্যমান রয়েছে। সুতরাং 'A' চিহ্নিত গ্রহটিতে (পৃথিবী) প্রাণীর অস্তিত্ব টিকে থাকা সম্ভব।

২. উদ্দীপকটি পড়ো এবং নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
উদ্দীপকের ছবি
উত্তর পৃথিবী বা কোনো অঞ্চল বা এর অংশবিশেষকে কোনো সমতল ক্ষেত্রের উপর অঙ্কন করাকে মানচিত্র বলে।
উত্তর

শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের জন্য দেয়াল মানচিত্র ব্যবহার করা হয়।

বিভিন্ন দেশ, মহাদেশ ও অঞ্চলের তুলনামূলক অবস্থান সহজেই একসাথে দেখা যায়। ভূগোল ও সাধারণ জ্ঞান ক্লাসে পৃথিবীর ভূপ্রকৃতি, রাজনৈতিক সীমানা এবং অর্থনৈতিক অঞ্চল বুঝাতে দেয়াল মানচিত্র ব্যবহার করা হয়। এর মাধ্যমে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করা যায়।

উত্তর

দেওয়া আছে,

উত্তর গোলার্ধে, 'P' স্থানের দ্রাঘিমা ২০° পূর্ব

দক্ষিণ গোলার্ধে,'Q' " " " ৫০° "

∴ 'P' ও 'Q' দ্রাঘিমার পাথর্য্য ৫০° - ২০° = ৩০°

আমরা জানি,

দ্রাঘিমার পার্থক্য ১° এর জন্য সময়ের ব্যবধান = ৪ মিনিট

" " ৩০° " " " "= ৪ × ৩০ "

= ১২০ মিনিট

= ২ ঘণ্টা

[∴৬০ মিনিট = ১ ঘণ্টা]

'P' স্থানের পূর্বে 'Q' স্থান থাকায় 'Q' স্থানের স্থানীয় সময় হবে 'p' স্থানের স্থানীয় সময় থেকে ২ ঘণ্টা বেশি।
দেওয়া আছে, 'P' স্থানে সকাল ৮ টা।

∴Q স্থানের সময় হবে সকাল ৮ টা+ ২ ঘণ্টা= সকাল ১০ টা গোলার্ধ ভিন্নতার জন্য নয় বরং দ্রাঘিমার পার্থক্যের জন্য Q' স্থানের সময় সকাল ১০টা।

উত্তর

য 'P' হলো উত্তর গোলার্ধে ২০° পূর্ব দ্রাঘিমা এবং 'Q' হলো দক্ষিণ গোলার্ধে অবস্থিত ৫০° পূর্ব দ্রাঘিমা। দুটি স্থানে ঋতুর পরিবর্তন ঘটবে। নিম্নে যুক্তি উপস্থাপন করা হলো-
'P' স্থানটি উত্তর গোলার্ধে এবং 'Q' স্থানটি দক্ষিণ গোলার্ধে ১০ অবস্থিত। পৃথিবী তার নিজ অক্ষে$(২৩÷০.৫)$ কোণে সূর্যকে আবর্তন করার কারণে সবসময় এক গোলার্ধে সূর্যের দিকে ঝুঁকে থাকে, অন্য গোলার্ধ দূরে থাকে।
উত্তর গোলার্ধ যখন সূর্যের দিকে হেলে থাকে, তখন সেখানে গ্রীষ্মকাল এবং একই সময়ে দক্ষিণ গোলার্ধে শীতকাল বিরাজ করে। আবার দক্ষিণ গোলার্ধ সূর্যের দিকে ঝুঁকলে সেখানে গ্রীষ্ম এবং উত্তরে শীতকাল আসে। উদ্দীপকে উল্লিখিত ২০°৳ পূর্ব এবং ৫০° পূর্ব দ্রাঘিমা রয়েছে। এই দ্রাঘিমাংশ দিয়ে কেবল সময় ও স্থানের অবস্থান নির্ণয় করা হয়। কিন্তু ঋতু পরিবর্তনে এর কোনো ভূমিকা নেই।

সুতরাং স্থান দুটি একই দ্রাঘিমাংশ হলেও গোলার্ধ ভিন্ন হওয়ার কারণে তাদের ঋতু সবসময় একে অপরের বিপরীত হবে।

৩. উদ্দীপকটি পড়ো এবং নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
উদ্দীপকের ছবি
উত্তর ভূপৃষ্ঠে শিলার যে কঠিন বহিরাবরণ দেখা যায় তাই ভূত্বক।
উত্তর বায়ুর ক্ষয়কার্য মূলত বৃষ্টিহীন, উদ্ভিদহীন উষ্ণ মরুভূমি ও মরুপ্রায় অঞ্চলে এবং সমুদ্র উপকূলের বালিয়াড়ি এলাকায় সর্বাধিক হয়। গাছপালা না থাকায় বায়ু বাধাহীনভাবে প্রচণ্ডবেগে আর্দ্রতাহীন মাটি এবং বালুকণা আলগা হওয়ায় তা উড়িয়ে নিয়ে যেতে পারে। এছাড়া মরু অঞ্চলে দিন ও রাতের তাপমাত্রা ব্যাপক পার্থক্যের কারণে শিলা ফেটে চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যায়, যা বায়ুর ক্ষয়কে আরও ত্বরান্বিত করে।
উত্তর

'X' চিহ্নিত শিলাটি আগ্নেয় শিলা। নিচে বর্ণনা করা হলো-

আগ্নেয় শিলা তৈরি হয় যখন ম্যাগমা (গলিত শিলা) ঠান্ডা হয়ে ঘনীভূত হয়। ম্যাগমা ভূপৃষ্ঠের উপরে বা নিচে ঠান্ডা হতে পারে। যদি ম্যাগমা ভূ-পৃষ্ঠের উপরে ঠান্ডা হয়, তবে এটি অগ্ন্যুৎপাতী শিলা তৈরি করে। যদি ম্যাগমা ভূপৃষ্ঠের নিচে ঠান্ডা হয়, তবে এটি অন্তর্নিহিত আগ্নেয় শিলা তৈরি করে। গ্রানাইট এজাতীয় একটি আগ্নেয় শিলা। এটি খনিজ কোয়ার্টজ ফেলম্পার ও মাইকা দিয়ে তৈরি। গ্রানাইট একটি শক্ত এবং টেকসই শিলা এবং এটি প্রায়শই নির্মাণ উপকরণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

উত্তর

'Y' দ্বারা কয়লা এবং 'Z' দ্বারা মার্বেলকে দেখানো হয়েছে, যা যথাক্রমে পাললিক ও রূপান্তরিত শিলা। উক্ত শিলাদ্বয়ের মধ্যে কেবল কয়লার জীবাশ্ম দেখা যায়। নিম্নে বিশ্লেষণ করা হলো-

কয়লা পাললিক শিলা থেকে তৈরি একটি জীবাশ্ম জ্বালানি। কোটি কোটি বছর আগে উদ্ভিদ ও প্রাণী ভূগর্ভে চাপা পড়ে পচে-গলে এই স্তরে পরিণত হয়েছে। তাই এতে গাছপালা ও জীবের জীবাশ্ম বা তাদের ছাপ সংরক্ষিত থাকে। অন্যদিকে, মার্বেল চুনাপাথর থেকে গঠিত রূপান্তরিত শিলা। চুনাপাথর যখন মাটির গভীরে প্রচণ্ড তাপ ও চাপের কারণে রূপান্তরিত হয়ে মার্বেলে পরিণত হয়, তখন তার মধ্যকার সমস্ত জীবাশ্ম পুড়ে ধ্বংস হয়ে যায়।

সুতরাং বলা যায়, কয়লায় জীবাশ্ম দেখা যায়, মার্বেলে জীবাশ্ম দেখা যায় না।

৪. টিভিতে প্রামাণ্যচিত্রে পরপর তিনটি পর্বতের ছবি দেখানো হলো। ১ম পর্বতটি কোমল পাললিক শিলায় ভাঁজ পড়ে সৃষ্টি হয়েছে, ২য় পর্বতটি লাভা দ্বারা সৃষ্ট এবং ৩য় পর্বতটি ম্যাগমার ঊর্ধ্বমুখী চাপের ফলে সৃষ্টি হয়েছে।
উত্তর প্রাকৃতিক উপায়ে এক বা একাধিক খনিজ পদার্থের সংমিশ্রণে গঠিত কঠিন বা কোমল উপাদানই হলো শিলা।
উত্তর নদীর মোহনায় মূলত ব-দ্বীপ সমভূমি গড়ে ওঠে। নদী যখন সাগর, উপসাগর বা হ্রদে পতিত হয়, তখন স্রোতের বেগ কমে গিয়ে তার সাথে ভেসে আসা পলি, বালি ও কাদা মোহনায় সঞ্চিত হয়। কালক্রমে এই সঞ্চিত পলি জমে ত্রিকোণাকার বা ব-আকৃতি নতুন ভূখণ্ড বা সমভূমির সৃষ্টি করে। নদীর মোহনায় গঠিত এই ব-দ্বীপ সমভূমিগুলো সাধারণত অত্যন্ত উর্বর হয়।
উত্তর

উদ্দীপকের ১ম পর্বতটি হলো ভঙ্গিল পর্বত। নিম্নে বর্ণনা করা হলো-

ভাঁজ থেকে ভঙ্গিল শব্দের উৎপত্তি। কোমল পাললিক শিলায় ভাঁজ পড়ে যে পর্বত গঠিত হয়েছে তাকে ভঙ্গিল পর্বত বলে। সমুদ্র তলদেশের বিস্তারিত অবনমিত স্থানে দীর্ঘকাল ধরে বিপুল পরিমাণ পলি এসে জমা হয়। এর চাপে অবনমিত স্থান আরও নিচে নেমে যায়। পরবর্তী পর্যায়ে ভূ-আলোড়ন বা ভূমিকম্পে ফলে এবং পার্শ্ববর্তী সুদৃঢ় ভূমিখন্ডের প্রবল পার্শ্বচাপের কারণে ঊর্ধ্বভাঁজ ও নিম্নভাঁজের সৃষ্টি হয়। বিস্তৃত এলাকা জুড়ে এ সমস্ত ঊর্ধ্বভাঁজ ও অধ: ভাঁজ সংবলিত ভূমিকা মিলেই ভঙ্গিল পর্বত গঠিত হয়।

উত্তর

উদ্দীপকের ২য় পর্বতটি হলো আগ্নেয় পর্বত ও ৩য় পর্বতটি হলো ল্যাকোলিথ পর্বত। দুটি পর্বতের মধ্যে ২য় পর্বত তথা আগ্নেয় পর্বত সাধারণত মোচাকৃতির হয়ে থাকে। নিম্নে যুক্তিসহ মতামত দেওয়া হলো-

আগ্নেয়গিরি থেকে উদ্গিরিত পদার্থ সঞ্চিত ও জমাট বেঁধে আগ্নেয় পর্বত সৃষ্টি করে। এভাবে বারবার লাভা, ছাই ও শিলা নির্গত হয়ে স্তরে স্তরে জমা হয়ে মোচাকৃতির পর্বতের সৃষ্টি করে। অন্যদিকে পৃথিবীর অভ্যন্তর থেকে গলিত শিলা বা ম্যাগমা বিভিন্ন গ্যাসের দ্বারা স্থানান্তরিত হয়ে ভূপৃষ্ঠে বের হয়ে আসার চেষ্টা করে। কখনো কখনো ভূপৃষ্ঠের উপরে এসে ভূত্বকের নিচে একস্থানে জমাট বাঁধে। ঊর্ধ্বমুখী চাপের কারণে স্ফীত হয়ে গম্বুজের আকার ধারণ করে বলে একে ল্যাকোলিথ পর্বত বলে। মূলত, আগ্নেয় পর্বত দেখতে মোচাকৃতির হয়ে থাকে এবং অন্যদিকে ল্যাকোলিথ পর্বত দেখতে গম্বুজ আকৃতির হয়ে থাকে।

৫. সমুদ্র তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দা মাহিন প্রতিদিন চিংড়ির পোনা ধরে। সে সকালে দেখে পানি স্ফীত হয়ে উপরে উঠে এসেছে কিন্তু বিকেলে দেখে পানি পূর্বের অবস্থানে ফিরে গিয়েছে।
উত্তর সমুদ্রের উপকূলরেখা থেকে তলদেশ ক্রমনিম্ন নিমজ্জিত অংশকে মহীসোপান বলে।
উত্তর শীতল স্রোতে সাধারণত জাহাজ ও নৌযান চলাচলে মারাত্মক বাধার সৃষ্টি করে। মেরু অঞ্চল থেকে ভেসে আসা বিশাল বরফের খণ্ড বা হিমশৈল শীতল স্রোতের সাথে বাহিত হয়ে মূল সমুদ্রপথে চলে আসে। এছাড়া উচ্চ ও শীতল স্রোতের মিলনস্থলে ঘন কুয়াশার সৃষ্টি হয় বলে সেখানে দৃষ্টিসীমা শূন্যের কোঠায় নেমে আসে বলে জাহাজ চলাচলে বাধার সৃষ্টি হয়
উত্তর

উদ্দীপকে জোয়ার-ভাটার কথা বলা হয়েছে। উক্ত জোয়ার-ভাটার কারণ বর্ণনা করা হলো-

জোয়ারভাটার প্রধান কারণ হলো চাঁদ ও সূর্যের মহাকর্ষ শক্তির প্রভাব এবং পৃথিবীর আবর্তনের ফলে উৎপন্ন কেন্দ্রাতিগ শক্তি। চাঁদের আকর্ষণে পৃথিবীর যে অংশের জলভাগ থাকে সেখানে জলভাগ ফুলে ওঠে এবং জোয়ারের সৃষ্টি হয়। পৃথিবীর আবর্তনের কারণে বাইরের দিকে ছিটকে যাওয়ার মতো হয় এর ফলেও জোয়ার হয়। পৃথিবীর দুই দিকে পানি যখন ফুলে উঠে জোয়ার হয় তখন স্বাভাবিকভাবেই দুই পাশের পানি সরে গিয়ে ভাটার সৃষ্টি করে।

উত্তর

উদ্দীপকে দেখা ঘটনাটি জোয়ারভাটা। মানবজীবনে এর যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে। নিম্নে তা বিশ্লেষণ করা হলো-

জোয়ারভাটার ফলে নৌ চলাচল, ব্যবসা-বাণিজ্যবিদ্যুৎ উৎপাদন, এবং নদীবন্দর সচল রাখার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে থাকে। জোয়ারের সময় নদীর গভীরতা বৃদ্ধি পায়। ফলে বড়ো বড়ো মালবাহী জাহাজ ও নৌকা খুব সহজেই অগভীর নদী বা মোহনা পার হয়ে বন্দরে প্রবেশ করে। ভাটার ফলে নদী থেকে আবর্জনা ও পলিমাটি সমুদ্রে চলে যায়, যার ফলে নদীগর্ভ পরিষ্কার থাকে এবং নৌ চলাচল নিরাপদ হয়। জোয়ারভাটাকে কাজে লাগিয়ে পরিবেশ বান্ধব জলবিদ্যুৎ উৎপন্ন করা হয়। সমুদ্র উপকূলবর্তী অঞ্চলে জোয়ারের সময় লবণাক্ত পানি আটকে রেখে সূর্যের তাপে শুকিয়ে মানুষ খাবার লবণ তৈরি করে। জোয়ারের সময় সমুদ্রের অনেক ছোট ও মাঝারি মাছ নদীর মোহনায় প্রবেশ করে। এতে জেলেরা সহজেই প্রচুর মাছ ধরতে পারে, যা জাতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।

সুতরাং বলা যায়, জোয়ারভাটা মানবজীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

৬. উদ্দীপকটি পড়ো এবং নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
উদ্দীপকের ছবি
উত্তর বছরের যে সময়ে কোনো অঞ্চলে মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি বৃষ্টিপাত ঘটে এবং বার্ষিক বৃষ্টিপাতের সিংহভাগ সম্পন্ন হয় সেই মৌসুমকে বর্ষাকাল বলে।
উত্তর বাংলাদেশে সবচেয়ে কম বৃষ্টিপাত হয় শীতকালে। উত্তর-পূর্ব শীতল মৌসুমি বায়ু এ সময় বাংলাদেশের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। বায়ুপ্রবাহটি স্থলভাগের উপর দিয়ে আসে বলে শুষ্ক থাকে। তাই বৃষ্টিপাত হয় না। তবে এ সময় পাহাড়ি এলাকায় সামান্য বৃষ্টিপাত হয়। বৃষ্টিপাতের পরিমাণ এ সময়ে ১০ সে.মি. এর কম।
উত্তর

'A' চিহ্নিত ভূমিরূপটি হলো মধুপুর ও ভাওয়াল গড়। নিম্নে উক্ত ভূমিরূপ অঞ্চলের বর্ণনা করা হলো-

মধুপুর ও ভাওয়াল গড় ভূমিরূপটি প্লাইস্টোসিন যুগে অর্থাৎ আনুমানিক ২৫,০০০ বছর পূর্বে সৃষ্টি হয়েছিল। এটি টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ জেলায় মধুপুর এবং গাজীপুর জেলায় ভাওয়ালের গড় নামে পরিচিত। এর আয়তন প্রায় ৪,১০৩ বর্গকিলোমিটার। সমভূমি থেকে এর উচ্চতা প্রায় ৩০ মিটার। এখানকার মাটির রং লালচে ও ধূসর। এখানে অনেক বনভূমি রয়েছে।

উত্তর

মানচিত্রে 'B' স্থান হলো বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ এবং 'C' স্থান হলো এদেশের সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি। দুটি অঞ্চলের মধ্যে 'C' অবস্থান তথা প্লাবন সমভূমি অঞ্চলটি বসবাসের অধিক উপযোগী। নিচে যুক্তিসহ বিশ্লেষণ করা হলো-

মানব বসতি গড়ে উঠে কিছু কিছু বিষয়কে কেন্দ্র করে। যেমন- খাদ্য, বাসস্থান, ব্যবসা-বাণিজ্যের অনুকূল পরিবেশ, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রভৃতি বিষয়। উদ্দীপকে 'C' স্থান দক্ষিণ-পশ্চিমাংশের বেশ কিছু জেলাকে (কুষ্টিয়া, যশোর, ফরিদপুর, বরিশাল, খুলনা, পটুয়াখালী) বোঝানো হয়েছে। এসব জেলাগুলোর ভূপ্রকৃতি পর্যালোচনা করলে দেখা যায় এগুলো সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমির অন্তর্গত। এখানকার ভূমিগুলো সমতল এবং উর্বর মৃত্তিকা দ্বারা গঠিত। এ কারণে এখানে কৃষি ফসল ভালো হয়, সমতল হয়, মানুষ ঘরবাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করে। নদীবিধৌত অঞ্চল বলে নদীপথে ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য পণ্যসামগ্রী সহজে একস্থান হতে অন্যস্থানে নেয়া সহজ হয়।

অপরদিকে 'B' স্থান তথা দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পার্বত্য চট্টগ্রাম। জেলাগুলো টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহের অন্তর্ভুক্ত। এখানে বন্ধুর। ভূপ্রকৃতি। পাহাড়ি অঞ্চল, প্রতিকূল জলবায়ু, মৃত্তিকা অনুর্বর, বেলে পাথর ও শেল দ্বারা গঠিত হওয়ায় কৃষিকাজ ভালো হয় না। ভূমি উঁচু-নিচু হওয়ায় ঘরবাড়ি নির্মাণ করা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা করার জন্য রাস্তাঘাট নির্মাণ করা কষ্টসাধ্য।

সুতরাং বলা যায়, 'B' স্থানের চেয়ে 'C' স্থান তথা সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমিতে মানব বসবাসের অধিক উপযোগী।

৭. শিমুলতলী গ্রামের অধিকাংশ বসতি ও ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গিয়েছে। অপেক্ষাকৃত উঁচু রাস্তাটিতে গ্রামবাসীরা আশ্রয় নিয়েছে।
উত্তর দীর্ঘ সময় বৃষ্টি না হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে যে অবস্থার সৃষ্টি হয় তাকে খরা বলে।
উত্তর হিমালয় থেকে নেমে আসা অসংখ্য খরস্রোতা নদী, ভৌগোলিক অবস্থান, পলিমাটির দুর্বল ভূতাত্ত্বিক গঠন এবং বর্ষাকালে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে নদীভাঙন বাংলাদেশের নিয়মিত সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে রয়েছে হিমালয় পর্বত। সেখান থেকে বিভিন্ন নদীর মাধ্যমে পলি, বালি, কাঁকর, এদেশের বিপুল পরিমাণ পানি নদীর ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয় এবং গতিবেগ বেশি হয়ে পার্শ্বক্ষয় হয়ে নদীভাঙন সংঘটিত হয়।
উত্তর

উদ্দীপকে শিমুলতলী গ্রামে যে দুর্যোগটি সংঘটিত হয়েছে তা হলো বন্যা। নিচে বন্যার কারণ বর্ণনা করা হলো-

বন্যাজনিত দুর্যোগ হলো স্বাভাবিকের তুলনায় অত্যধিক ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে সৃষ্ট পরিস্থিতি যা মানুষের জীবন, সম্পদ, পরিবেশ ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়। নিয়মিত ও আকস্মিক ভারী বৃষ্টি, বরফ গলে যাওয়া বা নদীর পানি উপচে যখন স্বাভাবিক শুকনো ভূমি প্লাবিত হয় তখন তাকে বন্যা বলে। এটি যখন মানুষের জীবন, সম্পদ, কৃষি ও পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে, তখন তা বন্যাজনিত দুর্যোগে পরিণত হয়।এছাড়া অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ, নদী দখল, জলাশয় ভরাট, বন উজাড় এবং জলবায়ুজনিত বৈশ্বিক উষ্ণতা যা মানবসৃষ্ট। এর ফলেও বন্যা হতে পারে।

উত্তর

য উদ্দীপকে শিমুলতলী গ্রামে বন্যা হওয়ায় গ্রামবাসীরা উঁচু রাস্তাটিতে আশ্রয় নিয়েছে। এমতাবস্থায় তাদেরকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে যে ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে তার মতামত উপস্থাপন করা হলো-

মাঠ পর্যায়ে জরিপ চালিয়ে দেখতে হবে কোন এলাকার বাড়িঘর বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তার একটি সুনির্দিষ্ট তালিকা তৈরি করতে হবে। যাদের ক্ষতির পরিমাণ বেশি তাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তালিকাভুক্ত করা।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সরকারি বা বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার উদ্যোগে ঢেউটিন, বাঁশ, ইট বা ঘর নির্মাণের আর্থিক অনুদান দেওয়া যেতে পারে। এছাড়া গৃহহীনদের দ্রুত আশ্রয়ন প্রকল্প বা গুচ্ছগ্রামের মাধ্যমে পুনর্বাসন করা যেতে পারে।

বাড়ি ফেরার পর যাতে ডায়রিয়া বা চর্মরোগের মতো পানিবাহিত রোগ না ছড়ায় সেজন্য মেডিক্যাল টিম গঠন ও বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

আশ্রয়কেন্দ্র ছাড়ার সময় তাৎক্ষণিক খাবারের সংকট না হয় সেজন্য পরিবারগুলোকে অন্তত কয়েক সপ্তাহের জন্য শুকনো খাবার বা নগদ আর্থিক সহায়তা প্রদান করা।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে চারা, সবজি, বীজ ও গবাদিপশুর টিকা বিতরণ করা।

সুতরাং বলা যায় যে, উপরোল্লিখিত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করতে পারলে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামবাসীকে স্বাভাবিক জীবনে ফেরানো সম্ভব হবে বলে মনে করি।

৮. দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা একটি বিশেষ বিষয়ের ক্লাস করছিল, যাকে 'পৃথিবীর বিজ্ঞান' বলা হয়। ক্লাসে তাদের আজকের পাঠ্যসূচিতে ছিল বনজ সম্পদ ও খনিজ সম্পদ।
উত্তর অধ্যাপক ডাডলি স্ট্যাম্পের মতে, “পৃথিবী ও এর অধিবাসীদের বর্ণনাই ভূগোল।"
উত্তর মানুষের বিভিন্ন কার্যকলাপ যেমন- বনভূমি কেটে ঘরবাড়ি নির্মাণ ও আসবাবপত্র তৈরি, জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানো, অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে তাপমাত্রা বৃদ্ধি, পরিবেশ দূষণজনিত ঘটনা প্রভৃতি নিয়মিত ঘটাচ্ছে এবং এর ফলে পরিবেশ তার স্বাভাবিক অবস্থায় না থেকে পরিবর্তন হচ্ছে।
উত্তর

উদ্দীপকে শিক্ষার্থীদর আলোচ্য পাঠ ছিল ভূগোলের একটি শাখা তা হলো অর্থনৈতিক ভূগোল। নিচে বর্ণনা করা হলো-

প্রাকৃতিক ও সামাজিক পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে পৃথিবীতে বেঁচে থাকার জন্য মানুষ যেসব অর্থনৈতিক কাজ করে তা অর্থনৈতিক ভূগোলের আলোচ্য বিষয়। এসব কাজ হলো কৃষিকাজ, পশুপালন, বনজ সম্পদ, খনিজ সম্পদ সংগ্রহ, ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা ইত্যাদি। বনজ সম্পদ হলো বনভূমি; যা হতে আহরিত সম্পদ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও শিল্পের কাঁচামাল, সরবরাহ করে। এটি অর্থনৈতিক ভূগোলের সাথে সম্পৃক্ত থাকে। এছাড়া ভূগর্ভ থেকে যে খনিজ সম্পদ উত্তোলন করে শক্তিসম্পদ হিসেবে কাজে লাগানো হয় তা শিল্পের জন্য মূল চালিকাশক্তি; যা অর্থনৈতিক ভূগোলের সাথে সম্পর্কযুক্ত।

উত্তর

উদ্দীপকে ভূগোল পাঠের কথা বলা হয়েছে। নিচে উক্ত পাঠের গুরুত্ব বিশ্লেষণ করা হলো-

পৃথিবী আমাদের বাসভূমি। পৃথিবীতে বাস করে নানা রকম মানুষ, বিচিত্র তাদের জীবনধারা। পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে নানান রকম পরিবেশ ও প্রকৃতি এবং মানুষ ও মানুষের বিভিন্ন রকম সামাজিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড। এসব আধুনিক ভূগোলের আলোচ্য বিষয়। ভূগোল পাঠের মাধ্যমে আমরা পৃথিবীর পরিবেশ, প্রাকৃতিক সম্পদ এবং মানব প্রকৃতির মিথস্ক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত জ্ঞানলাভ করি। এটি আমাদের বৈশ্বিক সচেতনতা বৃদ্ধি করে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুত হতে সাহায্য করে।

সুতরাং, ভূগোল শুধুমাত্র একটি পঠন-পাঠনের বিষয় নয়, বরং বাস্তব জীবনে নিজের অবস্থান বুঝে পৃথিবীর সাথে খাপ খাইয়ে চলার একটি অপরিহার্য হাতিয়ার।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।