উনবিংশ শতাব্দীতে ভূগোলের পরিধি মূলত পৃথিবী ও এর ভৌত বৈশিষ্ট্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। বর্তমানে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও মানুষের জীবনযাত্রার ক্রমবিকাশের ফলে ভূগোলের পরিধি বিকাশ লাভকরেছে।
জিপিএস, জিআইএস সিস্টেম চালু হওয়ায় মানুষ সহজেই দ্রুত সময়ের মধ্যে মহাকাশ থেকে ছবি তুলে পৃথিবীর যেকোনো স্থানের তথ্য জানিয়ে দিচ্ছে। কোন স্থানে প্রাকৃতিক দুর্যোগ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে তা উপগ্রহের সাহায্যে ছবি তুলে পাঠিয়ে দিচ্ছে। সমুদ্রের তলদেশ বায়ুমণ্ডল এবং ভূ-অভ্যন্তরের অনেক গভীরের খবরাখবর নিমেষেই সংগ্রহ করে ভূগোলের পরিধিকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।
ছক-১ দ্বারা মানব ভূগোলের শাখা আঞ্চলিক ভূগোলকে বোঝানো হয়েছে। নিম্নে আলোচনা করা হলো-
অঞ্চলভেদে পৃথিবীর ভূপ্রকৃতি, জলবায়ু, উদ্ভিদ, মানুষ ও মানুষের জীবন ধারণ প্রণালি বিশেষ বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। আঞ্চলিক বৈশিষ্ট্য অনুসারে পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের ভৌগোলিক বিষয়বস্তু অনুশীলন করা আঞ্চলিক ভূগোলের প্রধান বিষয়। উদ্দীপকের দুটি স্থানের তাপমাত্রার বিষয়টি আঞ্চলিক ভূগোলের মাধ্যমে আমরা সহজেই ঐ স্থানের জলবায়ুগত পরিষ্কার ধারণা পাই এবং সে অনুযায়ী ঐ অঞ্চল গুলোতে কী ধরনের কর্মকাণ্ড পরিচালিত করা যায় তা জানতে পারি। তাই আঞ্চলিক ভূগোল মানব ভূগোলের একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা।
২ 'A' ও 'B' দ্বারা যথাক্রমে প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং সামাজিক পরিবেশকে বোঝানো হয়েছে।
দুটি পরিবেশই অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনে সহায়তা করে, তবে তাদের ভূমিকা ভিন্ন এবং একে অপরের পরিপূরক। আধুনিক অর্থনীতিতে বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশের প্রেক্ষাপটে, সামাজিক পরিবেশ অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনে বেশি কার্যকর ভূমিকা রাখে। কারণ এটি প্রাকৃতিক সম্পদকে কাজে লাগানোর সক্ষমতা তৈরি করে। খনিজ সম্পদ, উর্বর মাটি, নদী, বনজ সম্পদ, আলো, বায়ু যা প্রাকৃতিক সম্পদের উপাদান। এসব সম্পদকে সঠিকভাবে কাজে লাগানোর জন্য দরকার দক্ষ মানব সম্পদ, শিক্ষিত নাগরিক; যা সামাজিক পরিবেশের উপাদান।
এছাড়া সামাজিক পরিবেশের মধ্যে রয়েছে বিদ্যুৎ, রাস্তাঘাট, যোগাযোগ ব্যবস্থা, ব্যাংকিং সেবা প্রভৃতি; যা দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে। এছাড়া আইন-কানুন, রাজনীতি, স্থিতিশীল রাজনৈতিক অবস্থা যা সামাজিক পরিবেশের উপাদান। এগুলোর কারণে বিদেশি ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগে আগ্রহী হয়।
সুতরাং বলা যায় যে, প্রাকৃতিক পরিবেশের উপাদান গুলোকে ব্যবহার্য ও চালিকাশক্তিতে রূপান্তর করার জন্য সামাজিক পরিবেশের উপাদান প্রয়োজন। তাই দুটিই গুরুত্ব বহন করে। তথাপিও সামাজিক পরিবেশ যেহেতু সরাসরি সম্পৃক্ত, তাই অর্থনৈতিক অগ্রগতির ক্ষেত্রে এর ভূমিকা অধিক।
দৃশ্যকল্প-১: বাবু পড়ার টেবিলে বসে একটি বই পড়ছিল। হঠাৎ করে সে দেখতে পায় তার টেবিলের বই গুলো কাঁপছিল। সে আরও দেখল যে, বাসার আসবাবপত্র গুলো ঝাঁকুনি দিয়ে সরে যাচ্ছে।
দৃশ্যকল্প-২: রবি খবরের কাগজ পড়ে জানতে পারল যে, জাপানের একটি এলাকায় কম্পনের মাধ্যমে মাটিতে ফাটল সৃষ্টি হয়। ফাটলের মধ্য দিয়ে গরম গলিত পদার্থ বের হয়ে চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ছে।
নগ্নীভবন, মূলত তিন ধাপে কাজ করে। যেমন- বিচূর্ণীভবন, ক্ষয়ী ভবন এবং পরিবহন ও অপসারণ।
প্রথমে আবহাওয়ার বিভিন্ন উপাদান (সূর্যতাপ, তুষার, অক্সিজেন, জলীয়বাষ্প) দ্বারা শিলা চূর্ণ-বিচূর্ণ ও বিয়োজিত হয়। এরপর আবহাওয়াজনিত কারণে শিল্প দুর্বল হয়ে পড়লে নদী, বায়ু, হিমবাহ সেগুলোকে ক্ষয় করে এবং শেষে ক্ষয়প্রাপ্ত শিলা চূর্ণ স্থানান্তরিত হয়।
দুশ্যকল্প-১ এ বাবুর দেখা ঘটনাটি হলো ভূমিকম্প। নিচে ভূমিকম্পের কারণ বর্ণনা করা হলো-
ভূত্বক তাপ বিকিরণ করে সংকুচিত হলে ভূ-নিম্নস্থ শিলাস্তরে ভারের সামঞ্জস্য রক্ষার্থে ফাটল ও ভাঁজের সৃষ্টির ফলে ভূকম্পন অনুভূত হয়। ভূআলোড়নের ফলে ভূত্বকের কোনো স্থানে শিলা ধসে পড়লে বা শিলা চ্যুতি ঘটলে ভূমিকম্প হয়।
সমগ্র পৃথিবী ৭টি প্লেটের সমন্বয়ে গঠিত এবং এসব প্লেট সঞ্চরণশীল। যার কারণে একটি প্লেটের সাথে অন্য প্লেটের সংঘর্ষ বা ধাক্কা লাগে এবং শিলাস্তরের মধ্যে কম্পন অনুভূত হয়। জাপানের পূর্ব পার্শ্বে একটি প্লেট থাকায় এখানে ভূমিকম্প বেশি অনুভূত হয়। মূলত প্লেটগুলোর সঞ্চরণশীলতার কারণেই শিলাস্তরের মধ্যে কম্পনের সৃষ্টি হয়, যা ভূমিকম্প নামে পরিচিত।
দৃশ্যকল্প-২ এ আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতকে বোঝানো হয়েছে।
আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ফলে ভূপৃষ্ঠের অনেক পরিবর্তন সাধিত হয়। এর ফলে লাভা চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ে গ্রাম, নগর, কৃষিক্ষেত্র সব ধ্বংস করে। এটি শুধু মানুষের অপকার করে এমন নয়; অনেক ক্ষেত্রে মানুষের উপকারও হয়। নিচে তার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করা হলো-
ভূত্বকে দুর্বল স্থান বা ফাটল দিয়ে ভূঅভ্যন্তরের গলিত ম্যাগমা, ভস্ম, ধাতু প্রবলবেগে বের হয়ে অগ্ন্যুৎপাত ঘটায়। এটি শুধু ধ্বংস ও ক্ষতিসাধন করে না অনেক ক্ষেত্রে উপকারও বয়ে আনে।
আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ফলে লাভা উপরের দিকে ওঠে এবং বহুদূরে লাভার ঢল ছড়িয়ে পড়ে বহু নগর, গ্রাম ধ্বংস করে। এর দাহ্য ও বিষাক্ত গ্যাস উদগিরণে নিকটবর্তী এলাকার হাজার হাজার লোকের নিমিষে প্রাণহানি ঘটে। অনেক সময় আগ্নেয়গিরি থেকে উদগীরিত লাভা, ভস্ম ও ধূলিকণা আকাশের উপরের দিকে স্ট্রাটোমণ্ডলে উঠে, যায় এবং তা দ্রুত পৃথিবীপৃষ্ঠে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে পৃথিবীপৃষ্ঠে সূর্য রশ্মির তাপমাত্রা হ্রাস পায় এবং এর ফলে শীত বেড়ে যায়। আগ্নেয়গিরির কারণে কেবল মানুষের অপকার নয় উপকারও হয়ে থাকে। এর ফলে ভূমির উর্বরতাও বৃদ্ধি পায়। যেমন- দাক্ষিণাত্যের লাড়া গঠিত কৃষ্ণমৃত্তিকা কার্পাস চাষের জন্য বিশেষ উপযোগী। অনেক সময় লাভার সঙ্গে অনেক খনিজ পদার্থ নির্গত হয়। আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমাংশে অগ্ন্যুৎপাতের জন্য অধিক পরিমাণে খনিজ দ্রব্য পাওয়া যায়।
উদ্দীপকের শ্রেণিকক্ষে উল্লিখিত গতিটি হলো আহ্নিক গতি। নিচে আহ্নিক গতির কারণ ব্যাখ্যা করা হলো :
আহ্নিক গতির মূল কারণ হলো পৃথিবীর আবর্তন এবং পৃথিবীর আকৃতি। উল্লেখ্য, পৃথিবীর আকৃতি বর্তুলাকার হলেও উভয় মেরুতে কিছুটা চাপা ও নিরক্ষরেখা বরাবর কিছুটা স্ফীত। নিরক্ষরেখা বরাবর পৃথিবীর ব্যাস সর্বাপেক্ষা অধিক হওয়ায় এ অঞ্চলে আহ্নিক গতির বেগও সর্বাপেক্ষা অধিক। এই বেগ প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ১,৭০০ কিলোমিটার। আহ্নিক গতির বেগ ক্রমশ কমতে কমতে দুই মেরুর নিকটবর্তী স্থানে প্রায় স্তিমিত হয়ে যায়।
এছাড়া পৃথিবীর আবর্তন গতি থাকা সত্ত্বেও পৃথিবীর আয়তনের তুলনায় ভূপৃষ্ঠে বসবাসরত প্রাণিজগৎ ক্ষুদ্র হওয়ায় গতিবেগ অনুধাবন করতে পারে না এবং ছিটকে পড়ে না।
উদ্দীপকে শ্রেণিকক্ষে উল্লিখিত ভিন্ন গতিটি হলো বার্ষিক গতি। উক্ত গতি যেভাবে জলবায়ুকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে তা বিশ্লেষণ করা হলো:
বার্ষিক গতির ফলে পৃথিবী কক্ষপথের বিভিন্ন অবস্থানে সূর্যের চারপাশে ঘোরে। এর ফলে বছরের বিভিন্ন সময়ে উত্তর ও দক্ষিণ গোলার্ধ সূর্যের দিকে হেলে থাকে, যার কারণে গ্রীষ্ম, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত ঋতুর আবর্তন ঘটে।
বার্ষিক গতির ফলে ঋতুভেদে দিন ও রাতের দৈর্ঘ্য পরিবর্তিত হয়। গ্রীষ্মকালে দিন বড়ো এবং রাত ছোটো হয়। ফলে বেশি তাপ শোষণ হয় এবং তাপমাত্রা কমে যায়।
বার্ষিক গতির কারণে বছরের বিভিন্ন সময়ে সূর্যরশ্মি কখনো কর্কটক্রান্তি (২৩ ১/২° উত্তর), কখনো মকরক্রান্তি (২৩ ১/২° দক্ষিণ) রেখার ওপর লম্বভাবে পড়ে। আবার অনেক সময় সূর্য বেশি হেলে থাকে ফলে সেখানে তাপমাত্রা বেশি থাকে।
পৃথিবী জুড়ে উষ্ণ, নীতিশীতোষ্ণ ও শীতল এই যে ভিন্ন ভিন্ন জলবায়ু অঞ্চল তৈরি হয়েছে, তা মূলত বার্ষিক গতির ফলেই সম্ভব হয়েছে। সুতরাং বলা যায়, বার্ষিক গতি পৃথিবীর তাপীয় সমতা নষ্ট করে ঋতু
পরিবর্তনের মাধ্যমে বিভিন্ন জলবায় অঞ্চলের সষ্টি করে।
চাঁদ ও সূর্যের মহাকর্ষ শক্তির প্রভাব এবং পৃথিবীর আবর্তনের ফলে কেন্দ্রাতিগ শক্তির ফলে জোয়ারভাটা হয়।
চাঁদ পৃথিবীর খুব কাছে হওয়ায় এর আকর্ষণে সমুদ্রের পানি ফুলে ওঠে জোয়ার সৃষ্টি করে। এছাড়া পৃথিবী তার অক্ষে আবর্তনের ফলে সৃষ্ট বিকর্ষণশক্তি বা কেন্দ্রাতিগ শক্তি জোয়ারের পানি ফুলে ওঠায় বিশেষ ভূমিকা পালন করে। পানি ফুলে উঠে যে পাশে সেখানে জোয়ার এবং বিপরীত পাশে ভাটার সৃষ্টি করে।
'C' চিহ্নিত ভূমিরূপটি হলো গভীর সমুদ্রখাত। নিম্নে ব্যাখ্যা করা হলো :
গভীর সমুদ্রের সমভূমি অঞ্চলের মাঝে মাঝে গভীর খাত দেখা যায়। এসব খাতকে গভীর সমুদ্রখাত বলে। পাশাপাশি অবস্থিত মহাদেশীয় ও সামুদ্রিক প্লেট সংঘর্ষের ফলে সমুদ্রখাত প্লেট সীমানায় অবস্থিত। এ প্লেট সীমানায় ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরি অধিক হয় বলেই এসব খাত সৃষ্টি হয়েছে। এ খাতগুলো অধিক প্রশস্ত না হলেও খাড়া ঢালবিশিষ্ট। এদের গভীরতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৫.৪০০ মিটারের অধিক। প্রশান্ত মহাসাগরেই গভীর সমুদ্রখাতের সংখ্যা অধিক।
'E' ও 'F' স্রোতদ্বয় হলো যথাক্রমে কুমেরু স্রোত এবং নিরক্ষীয় স্রোত। কুমেরু স্রোতটি হলো শীতল স্রোত এবং নিরক্ষীয় স্রোতটি হলো উষ্ণ স্রোত। ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য উষ্ণ স্রোত শীতল স্রোতের তুলনায় অধিক গুরুত্বপূর্ণ।
উষ্ণ স্রোত সামুদ্রিক বাণিজ্য পথকে সচল রাখতে এবং বন্দরগুলোকে ব্যবহারযোগ্য রাখতে সরাসরি সহায়তা করে। উষ্ণ স্রোত উচ্চ অক্ষাংশের (ঠান্ডা এলাকা) বন্দরগুলোকে শীতকালেও বরফমুক্ত রাখে, ফলে জাহাজ চলাচল ও পণ্য পরিবহন সারা বছর চালু থাকে। উষ্ণ স্রোত যেদিকে প্রবাহিত হয়, সেদিকে জাহাজ চললে জ্বালানি সাশ্রয় হয় এবং কম সময়ে গন্তব্যে যায়।
শীতল স্রোতে বন্দরে বরফ জমে যাওয়ার কারণ হতে পারে এবং ঘন কুয়াশা তৈরি করে যা জাহাজ চলাচলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
সুতরাং বলা যায় যে, মৎস্য সম্পদের ক্ষেত্রে শীতল স্রোতের বড়ো ভূমিকা আছে, কিন্তু সামগ্রিক সামুদ্রিক বাণিজ্য, বন্দর ব্যবহার ও নিরাপদ জাহাজ চলাচলের জন্য উষ্ণ স্রোত বেশি সুবিধা জনক ও গুরুত্বপূর্ণ।
কোনো স্থানের সঠিক অবস্থান অর্থাৎ অক্ষাংশ, দ্রাঘিমাংশ, উচ্চতা প্রভৃতি জানার জন্য বর্তমানে সবচেয়ে বেশি ও নির্ভুলভাবে যে যন্ত্র বা প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়, তার নাম জিপিএস (GP.S- Global
Positioning System) |
জিপিএস মহাকাশে থাকা স্যাটেলাইট থেকে সংকেত গ্রহণ করে পৃথিবীর যেকোনো স্থানে সঠিক অবস্থান নির্ণয় করতে পারে। আধুনিক যুগে এই প্রযুক্তি স্মার্টফোন, গাড়ি, জাহাজ এবং উড়োজাহাজে ব্যবহার করা হয়। উল্লেখ্য, পূর্বে অক্ষাংশ নির্ণয়ের জন্য সেক্সট্যান্ট এবং দ্রাঘিমাংশ নির্ণয় করতে ক্রোনোমিটার ব্যবহার করা হতো।
জই উদ্দীপকের রহিমের বাংলাদেশ থেকে যাত্রার সময় ছিল বিকাল ৩:০০ টা। গমনকৃত দেশ সৌদি আরবে পৌঁছালে সেখানকার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬:০০ টা
∴ দুই দেশের মধ্যে সময়ের পার্থক্য = (৬:০০ – ৩:০০) ঘণ্টা
= ৩ ঘণ্টা
= ৩ × ৬০ মিনিট [∴১ ঘণ্টা = ৬০ মিনিট ]
= ১৮০ মিনি ট
আমরা জানি,
৪ মিনিটের জন্য দ্রাঘিমার পার্থক্য = ১ ডিগ্রি
১৮০ মিনিটের জন্য দ্রাঘিমার পার্থক্য =(১৮০ ÷ 8 ) ডিগ্রি
= ৪৫ ডিগ্রি
যেহেতু বাংলাদেশ সৌদি আরবের পূর্বে অবস্থিত, সেহেতু সৌদি আরবের দ্রাঘিমা বাংলাদেশ থেকে পিছিয়ে। অর্থাৎ বাংলাদেশের দ্রাঘিমা থেকে ৪৫ ডিগ্রি বিয়োগ করতে হবে।
বাংলাদেশের দ্রাঘিমাংশ দেওয়া আছে ৯০° পূর্ব।
সুতরাং সৌদি আরবের দ্রাঘিমাংশ হবে = ৯০° – ৪৫° পূর্ব
= ৪৫° পূর্ব
উদ্দীপকের রহিমের হাতঘড়ির সময়ের সাথে বিমানবন্দরের ঘড়ির সময়ের তারতম্যের কারণ আহ্নিক গতি। নিচে যুক্তিসহ বিশ্লেষণ করা হলো:
পৃথিবীর আহ্নিক গতির কারণেই মূলত সময়ের পার্থক্য হয়। পৃথিবী প্রতি ৪ মিনিটে ১ ডিগ্রি দ্রাঘিমাংশ অতিক্রম করে। বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের দ্রাঘিমাংশের পার্থক্যের কারণে ৩ ঘণ্টার এই তারতম্য তৈরি হয়।
রহিম সাহেব বাংলাদেশ সময় বিকাল ৩ টায় যাত্রা শুরু করে সৌদি আরবের সময় সন্ধ্যা ৬ টায় পৌঁছায়। যেহেতু সৌদি আরব ৩ ঘণ্টা পিছিয়ে তাই সৌদি আরবের সময় ৬ টা মানে বাংলাদেশ সময় রাত ৯ টা (৬ + ৩ = ৯)। এ কারণে রহিম সাহেব যখন বিমান থেকে নামলেন তার ঘড়িতে ৯ টা দেখলেন যা বাংলাদেশের স্থানীয় সময়। আর সৌদি বিমানবন্দরে ৬ টা দেখলেন তা সৌদি আরবের স্থানীয় সময়।
সুতরাং বলা যায় যে, পৃথিবীর ঘূর্ণন তথা আহ্নিক গতির কারণে এভাবে দ্রাঘিমার পার্থক্য হয় এবং সময়েরও পার্থক্য হয়।
উদ্দীপকে 'A' চিহ্নিত ঋতু বলতে বর্ষা কালকে বোঝানো হয়েছে। নিম্নে এই ঋতু সম্পর্কে বর্ণনা করা হলো:
গ্রীষ্মকালীন বা বর্ষার শুরুতে তাপমাত্রা কিছুটা বাড়লেও এ সময় মেঘাচ্ছন্ন আকাশ ও বৃষ্টির কারণে গড় তাপমাত্রা সাধারণত ২৭°-৩১° সেলসিয়াসের কাছাকাছি থাকে। দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে প্রচুর জলীয় বাষ্প বাতাসকে আর্দ্র ও ভারী করে তোলে। আর্দ্র বায়ু যখন পাহাড় বা উঁচু ভূমিতে বাধা পেয়ে উপরে উঠে ঠান্ডা হয়, তখন শৈলোৎক্ষেপ প্রক্রিয়ায় প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়, যা বাংলাদেশ ও ভারতের মেঘালয় পর্বতের পাদদেশে বর্ষা মৌসুমে পরিচালিত হয়।
মূলত, জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যবর্তী সময়ে এ অবস্থা বিরাজ করে।
উদ্দীপকে 'B' ও 'C' ঋতু বলতে যথাক্রমে গ্রীষ্মকাল ও শীতকালকে বোঝানো হয়েছে। উক্ত ঋতুদ্বয়ের মধ্যে শীতকালই মানব জীবন যাত্রার ক্ষেত্রে বেশি আরামদায়ক। নিম্নে বিশ্লেষণ করা হলো :
২৯° সেলসিয়াস তাপমাত্রা মানবদেহের জন্য একটি আরামদায়ক ও সহনশীল পরিসরে (২৫°C – ৩১°C) থাকে। অন্যদিকে, ৩৪° সেলসিয়াস তাপমাত্রা বেশ গরম এবং অস্বস্তিকর, যা ক্লান্তি বা হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
৫১ সেমি বৃষ্টিপাত অত্যন্ত ভারী বা দুর্যোগপূর্ণ বৃষ্টিপাত নির্দেশ করে, যা জীবনযাত্রা স্থবির করে দিতে পারে। বৃষ্টিহীন বা শুষ্ক আবহাওয়ায় দৈনন্দিন কাজকর্ম (যাতায়াত, কাজ) করা অনেক সহজ ও আরামদায়ক।
সুতরাং বলা যায়, অধিক তাপমাত্র (৩৪° সেলসিয়াস) ও ভারী বৃষ্টিপাত (৫১ সেমি) উভয়েই অস্বস্তি বাড়ায়। তাই 'C' অর্থাৎ ২৯° সেলসিয়াস তাপমাত্রা ও বৃষ্টিহীন আবহাওয়াই 'B' তথা গ্রীষ্মকালের চেয়ে আরামদায়ক।
উদ্দীপকে দেওয়া আছে,
'B' স্থানের দ্রাঘিমা = ২০° পূর্বে
'C' স্থানের দ্রাঘিমা = ৫০° পূর্বে
∴ 'B' ও 'C' স্থানের দ্রাঘিমার পার্থক্য = (৫০ ° – ২০ °) = ৩০° পূর্ব
আমরা জানি,
১° দ্রাঘিমার জন্য সময়ের ব্যবধান = ৪ মিনিট
৩০° দ্রাঘিমার জন্য সময়ের ব্যবধান = (৪ × ৩০) মিনিট
= ১২০ মিনিট বা ২ ঘণ্টা
যেহেতু 'C' এর অবস্থান 'B' এর পূর্বে। সে কারণে 'B' এর অবস্থানের সময় থেকে 'C' এর অবস্থানের সময় 'যোগ' হবে।
দেওয়া আছে,
'B' স্থানের সময় সকাল ৮.০০ টা হলে
'C' স্থানের সময় = সকাল ৮.০০ + ২ ঘণ্টা
= সকাল ১০.০০ টা
অতএব, 'C' স্থানের সময় হবে সকাল ১০.০০ টা।
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'A' ও 'C' স্থান যথাক্রমে ৫০° পশ্চিম দ্রাঘিমা রেখায় এবং ৫০° পূর্ব দ্রাঘিমা রেখায় অবস্থিত। উক্ত দুটি স্থানে জুলাই মাসে একই ধরনের ঋতু (গ্রীষ্মকাল) বিরাজ করে। জুলাই মাসে উত্তর গোলার্ধ সূর্যের দিকে হেলে থাকে, ফলে এই পুরো গোলার্ধে গ্রীষ্মকাল বিরাজ করে।
দ্রাঘিমাংশ সময়ের পার্থক্য তৈরি করে, কিন্তু ঋতু পরিবর্তনের মূল কারণ হলো অক্ষাংশ এবং পৃথিবীর অক্ষের হেলানো ভাব। যেহেতু ৫০° পূর্ব এবং ৫০° পশ্চিম উভয় স্থানই উত্তর গোলার্ধে অবস্থিত; তাই তাদের ঋতু একই হবে।
যদিও ঋতু একই (গ্রীষ্ম) কিন্তু ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে (যেমন- স্থলভাগ বনাম জলভাগ) তাপমাত্রায় ভিন্নতা থাকতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, ৫০° পূর্ব দ্রাঘিমাংশ সাধারণত স্থলভাগ দিয়ে যায়, যা অনেক বেশি গরম হতে পারে। অন্যদিকে ৫০° পশ্চিম দ্রাঘিমাংশ আটলান্টিক মহাসাগরের উপর দিয়ে যাওয়ায় সেখানে তুলনামূলক কম গরম বা আর্দ্রতা বেশি থাকতে পারে।
সুতরাং জুলাই মাসে উত্তর গোলর্ধের স্থানেই গ্রীষ্মকাল থাকবে।
দৃশ্যপট-১ : আসাদ সাহেবের বসবাসকৃত এলাকায় কয়েকদিন যাবৎ বৃষ্টি হওয়ায় ঘরের ভিতর পানি প্রবেশ করেছে। রাস্তাঘাট এবং ঘরের আসবাবপত্র পানিতে তলিয়ে গেছে। চারদিকে পানি থাকায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়।
দৃশ্যপট-২: রকিব হাতিয়ার বাসিন্দা। তারা প্রায়ই কেন্দ্রাভিমুখী ও ঊর্ধ্বমুখী মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট দুর্যোগের সম্মুখীন হয়।
দৃশ্যপট-১ এ আসাদ সাহেবের বসবাসকৃত এলাকায় বন্যাজনিত দুর্যোগ সংঘটিত হয়েছে।
বন্যাজনিত দুর্যোগ হলো স্বাভাবিকের তুলনায় অত্যধিক ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে সৃষ্ট পরিস্থিতি যা মানুষের জীবন, সম্পদ, পরিবেশ ও স্বাভাবিক জীবন যাত্রা ব্যাহত হয়। নিয়মিত ও আকস্মিক ভারী বৃষ্টি, বরফ গলে যাওয়া বা নদীর পানি উপচে যখন স্বাভাবিক শুকনো ভূমি ? প্লাবিত হয় তখন তাকে বন্যা বলে। এটি যখন মানুষের জীবন, সম্পদ, কৃষি ও পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে, তখন তা বন্যা জনিত দুর্যোগে পরিণত হয়।
এছাড়া অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ, নদী দখল, জলাশয় ভরাট, বন উজাড় এবং জলবায়ুজনিত বৈশ্বিক উষ্ণতা যা মানবসৃষ্ট। এর ফলেও বন্যা হতে পারে।
দৃশ্যপট-২, এ রাকিবের এলাকায় সংঘটিত দুর্যোগ হলো ঘূর্ণিঝড়। দুর্যোগ থেকে রক্ষার একমাত্র উপায় দুর্যোগ সংক্রান্ত সংকেতসমূহের প্রচার। উক্ত উক্তিটি যথার্থ নয় বলে মনে করি। নিচে যুক্তিসহ এ সম্পর্কে বিশ্লেষণ করা হলো:
ঘূর্ণিঝড় থেকে রক্ষা পাওয়ার একমাত্র উপায় পূর্বপ্রস্তুতি, সতর্কতা এবং সময়মতো নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করা। প্রচার সংকেত হচ্ছে কেবল সেই বিপদের বার্তা ও তাৎক্ষণিক নির্দেশনা জানানোর একটি মাধ্যম। বিপদ থেকে বাঁচতে সংকেত পাওয়ার পর তাৎক্ষণিক ও দীর্ঘ মেয়াদী কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হয়।
রেডিও, টেলিভিশন বা মাইকের মাধ্যমে আবহাওয়া অফিসের ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির প্রচার সংকেত শোনার সাথে সাথে সতর্ক হতে হবে। এজন্য পূর্ব প্রস্তুতির অংশ হিসেবে উপকূলের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষ ও গবাদিপশু কে নিরাপদ ও উঁচু সাইক্লোন শেল্টারে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নিতে হবে।
আবার, ঝড়ের তীব্রতা বাড়ার আগে ঘরের জানালা ও দরজা শক্ত করে বন্ধ করতে হবে। বাইরে উড়ে যেতে পারে এমনসব জিনিস নিরাপদ স্থানে রাখতে হবে। শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি, ফার্স্ট এইড বক্স, টর্চলাইট, মোমবাতি, দিয়াশলাই এবং প্রয়োজনীয় নগদ টাকা ও জরুরি কাগজপত্র একটি জলরোধী ব্যাগে গুছিয়ে রাখতে হবে।
সুতরাং উপরিউক্ত আলোচনা হতে বলা যায়, ঘূর্ণিঝড়ের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ হতে রক্ষা পাওয়ার অংশ হিসেবে প্রচার সংকেতের পাশাপাশি পূর্বপ্রস্তুতি গ্রহণ করা খুবই প্রয়োজন। এ কারণে প্রচার সংকেতই দুর্যোগ রক্ষায় একমাত্র উপায় বলাটা যুক্তিযুক্ত নয় বলে আমি মনে করি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।