দৃশ্যকল্প-১: একটি জাহাজ সমুদ্রে ভ্রমণ করছে। অধিনায়ক একটি ঘড়িতে গ্রিনিচ সময় (GMT) রাখেন এবং আরেকটি ঘড়িতে স্থানীয় সময়। তিনি দেখলেন স্থানীয় সময় GMT থেকে ৩ ঘণ্টা এগিয়ে।
দৃশ্যকল্প-২: একজন ভ্রমণকারী যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১০ জুলাই দুপুরে রওয়ানা হয়ে জাপানে পৌছালো ১১ জুলাই সকালে। ফেরার পথে সে একই দিনে আবার ১০ জুলাই দেখতে পেল।
পৃথিবীর ব্যাস নিরক্ষীয় অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি।
পৃথিবী পুরোপুরি গোল না হয়ে উত্তর-দক্ষিণে কিছুটা চাপা এবং নিরক্ষীয় অঞ্চলে কিছুটা স্ফীত হওয়ার কারণে এই পার্থক্যের সৃষ্টি হয়। পৃথিবীর কেন্দ্র বরাবর নিরক্ষরেখা বরাবর পরিমাপ করা ব্যাস প্রায় ১২,৭৫৭ কিলোমিটার ও মেরু অঞ্চলে ব্যাস প্রায় ১২,৭১৪ কিলোমিটার। নিরক্ষীয় অঞ্চলের ব্যাস মেরু অঞ্চলের তুলনায় প্রায় ৪৩ কিলোমিটার বেশি।
স্থানীয় সময় GMT থেকে ৩ ঘণ্টা এগিয়ে থাকায় জাহাজটি পূর্ব দ্রাঘিমায় অবস্থান করছে।
১ ঘণ্টা সময়ের পার্থক্য = ১৫° দ্রাঘিমার পার্থক্য
৩ ঘণ্টা সময়ের পার্থক্য = ৩ × ১৫° = ৪৫°
অতএব জাহাজটি ৪৫° পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অবস্থান করছে।
একই দিনের পুনরাবৃত্তি আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা অতিক্রমের ফলে ঘটে। রেখাটি মূলত ১৮০° দ্রাঘিমা অনুসরণ করে প্রশান্ত মহাসাগরের ওপর দিয়ে গেছে।
কোনো ভ্রমণকারী রেখাটি পশ্চিম দিকে—অর্থাৎ আমেরিকা থেকে এশিয়ার দিকে—অতিক্রম করলে তারিখের সঙ্গে এক দিন যোগ করে। বিপরীতভাবে এশিয়া থেকে আমেরিকার দিকে পূর্বমুখে রেখাটি অতিক্রম করলে তারিখ থেকে এক দিন বিয়োগ করে। তাই জাপান থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার পথে আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা পূর্বমুখে অতিক্রম করায় ভ্রমণকারী আবার ১০ জুলাই তারিখটি দেখতে পেয়েছে।
নদীর জীবনচক্রের চূড়ান্ত পর্যায়ে নদীর গতি অত্যন্ত ধীর বা মন্থর হয়।
এ পর্যায়ে নদীর স্রোত কমে যাওয়ার কারণে নদী আর পলি বা বালি বহন করতে পারে না, ফলে নদীগর্ভ ও মোহনায় পলি জমা হয়ে সমভূমি বা প্রায় সমভূমি গঠন করে। নদীর প্রথম পর্যায়ে ঢাল বেশি থাকায় গতিবেগ বেশি থাকে। কিন্তু চূড়ান্ত পর্যায়ে ঢাল নেই বললেই চলে। ফলে পার্শ্বক্ষয় হয় না এবং গতিবেগ কম থাকে বলে এ পর্যায়ে গতি মন্থর হয়ে থাকে।
চিত্র-২ এর ভূমিরূপটি হলো পাদদেশীয় পলল সমভূমি। নিচে বর্ণনা করা হলো:
পাহাড়ি নদীর পাদদেশে পলি সঞ্চয় করতে করতে একটা সময় পাহাড়ের পাদদেশে নতুন বিশাল সমভূমি গড়ে তোলে। এ ধরনের সমভূমিকে পাদদেশীয় পলল সমভূমি বলে। বাংলাদেশের বেশিরভাগ পাহাড়ি অঞ্চলের নদীগুলোতে হিমালয় থেকে উৎপন্ন হয়ে পাহাড় থেকে পলল বহন করে সঞ্চয়ের মাধ্যমে এরূপ পাদদেশীয় পললভূমি গঠন করেছে।
চিত্র-১ এর ভূমিরূপটি হলো প্লাবন সমভূমি; যা বাংলাদেশের ভূমিরূপের সাথে মিল রয়েছে। নিচে এ সম্পর্কে মতামত দেওয়া হলো-
বর্ষাকালে বিশেষ করে পানি বৃদ্ধির কারণে নদীর উভয়কূল প্লাবিত করে তখন তাকে প্লাবন বা বন্যা বলে। বন্যা শেষে নদীর দুপাশের ভূমিতে খুব পুরু স্তর কাদা, পলি দেখতে পাওয়া যায়। এভাবে অনেকদিন পলি জমতে জমতে যে বিস্তৃত সমভূমির সৃষ্টি হয় তাকে প্লাবন সমভূমি বলে। বাংলাদেশের কয়েকটি জেলা ছাড়া বাকি সব জেলাই পদ্মা, যমুনা, মেঘনা প্রভৃতি নদীবিধৌত প্লাবন সমভূমির অন্তর্গত।
সুতরাং বলা যায় যে, প্লাবন সমভূমির যেসব বৈশিষ্ট্য রয়েছে তা বাংলাদেশের ভূমিরূপগুলোর মধ্যে সাদৃশ্য লক্ষ্য করা যায়।
যে মানচিত্রের দিক জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মানচিত্রে উত্তর দিক ব্যবহার করা হয় পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানের অবস্থান ও দিক সঠিকভাবে নির্ণয় করার জন্য।
সাধারণত উত্তর দিককে ভিত্তি ধরে পূর্ব, পশ্চিম ও দক্ষিণ দিক নির্ধারণ করা সহজ হয়। ফলে মানচিত্র পড়া এবং বিভিন্ন স্থানের অবস্থান বোঝা সুবিধাজনক হয়।
চিত্র-১ দ্বারা প্রাকৃতিক মানচিত্রকে বোঝানো হয়েছে।
এ মানচিত্র হলো পৃথিবীর উপরিভাগের প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য যেমন-পর্বত, মালভূমি, সমভূমি, হ্রদ এবং মহাসাগর ইত্যাদির ভৌগোলিক অবস্থান ও বিস্তৃতি তুলে ধরার একটি চিত্ররূপ। এটি মূলত ভূ-প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য, উচ্চতা এবং জলাশয় নির্দেশ করে, যা ভৌগোলিক জ্ঞান ও ভূমি ব্যবহার পরিকল্পনার অপরিহার্য। এই মানচিত্রের মাধ্যমে একটি দেশের সামগ্রিক প্রাকৃতিক কাঠামো সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়।
চিত্র-২ দ্বারা মৌজা মানচিত্রকে বোঝানো হয়েছে। উক্ত মানচিত্রটি জমিজমা সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে যেরূপ ভূমিকা পালন করে তাঁ আলোচনা করা হলো-
জমিজমা সংক্রান্ত জটিলতা ও বিরোধ নিরসনে মৌজা মানচিত্র একটি অপরিহার্য আইনি ও কারিগরি দলিল। মৌজা ম্যাপ মূলত একটি নির্দিষ্ট এলাকার ভূপ্রকৃতি, জমির সীমানা, দাগ নম্বর, রাস্তা, জলাশয় এবং বিভিন্ন প্লটের অবস্থান নির্দেশক স্কেলভিত্তিক চিত্র। ম্যাপের মাধ্যমে জমির প্রকৃত অবস্থান, পরিধি, আকৃতি এবং প্রতিবেশী জমির সাথে সীমানা স্পষ্ট বুঝা যায়।
জমির দলিলে বর্ণিত দাগ নম্বর এবং বাস্তব জমির মিল আছে কিনা তা মৌজা ম্যাপের সাহায্যে নিশ্চিত করা যায়। সিএস (CS), এসএ (SA), আরএস (RS) বা বিআরএস (BS/BRS) ম্যাপের মাধ্যমে মালিকানা সংক্রান্ত যেকোনো ভুল সংশোধন করা যায়।
সুতরাং বলা যায়, সঠিক সীমানা নির্ধারণ, মালিকানার প্রমাণ এবং জমিসংক্রান্ত যেকোনো বিরোধপূর্ণ তথ্য উদঘাটনে মৌজা ম্যাপ একটি ভিত্তিগত ও চূড়ান্ত প্রামাণ্য দলিল।
পরিবেশের যেসব উপাদানের জীবন আছে, সেগুলোকে জীব উপাদান বলে। উদ্ভিদ, প্রাণী, মানুষ ও অণুজীবের সমন্বয়ে পরিবেশের জীব উপাদান গঠিত হয়।
বাস্তুতন্ত্রে সবুজ উদ্ভিদ উৎপাদক, প্রাণী ও মানুষ ভোক্তা এবং ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক বিয়োজক হিসেবে কাজ করে। এদের খাদ্যগ্রহণ, শ্বসন, বৃদ্ধি ও বংশবৃদ্ধির মতো জীবনক্রিয়া রয়েছে এবং পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কের মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখে।
কলাম-A উপাদানগুলো মানব ভূগোলের আওতাভুক্ত অর্থনৈতিক ভূগোলের অন্তর্ভুক্ত। নিম্নে এ সম্পর্কে আলোচনা করা হলো-
পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে মানুষের অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের বিকাশ, বিস্তার ও স্থানিক বণ্টন নিয়ে আলোচনা করে অর্থনৈতিক ভূগোল। এটি প্রাকৃতিক পরিবেশের সাথে মানুষের অর্থনৈতিক ত্রিয়াকলাপের পারস্পরিক সম্পর্কের বিচার-বিশ্লেষণ করে। সহজে বলা যায়, কোথায় কী উৎপন্ন হচ্ছে, কেন হচ্ছে এবং কীভাবে তা বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ছে তা জানাই অর্থনৈতিক ভূগোলের মূল বিষয়। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়- কৃষিকাজ, পশুপালন, বনজ সম্পদ, খনিজ সম্পদ সংগ্রহ, ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা প্রভৃতি অর্থনৈতিক কাজগুলো মানুষ প্রাকৃতিক ও সামাজিক পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে পরিচালনা করছে যা উদ্দীপকের উপাদানগুলোর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। এসব কিছুই অর্থনৈতিক ভূগোল বিশদভাবে বর্ণনা করে থাকে।
কলাম-B-এর মানুষ, মাটি, পানি ও বায়ু পরিবেশের উপাদান। তবে এগুলো একই শ্রেণির নয়। মানুষ জীব উপাদান; কারণ তার জীবন, বৃদ্ধি, শ্বসন ও বংশবৃদ্ধি আছে। অন্যদিকে মাটি, পানি ও বায়ু জড় বা অজীব উপাদান; এদের জীবনক্রিয়া নেই।
জীব ও জড় উপাদান পরস্পর নির্ভরশীল। মানুষ শ্বাসের জন্য বায়ু, পান করার জন্য পানি এবং খাদ্য উৎপাদনের জন্য মাটির ওপর নির্ভর করে। আবার মানুষের কর্মকাণ্ড এসব জড় উপাদানের গুণগত অবস্থাকে পরিবর্তন করে। তাই কলাম-B পরিবেশের জীব ও জড়—উভয় ধরনের উপাদানের সমন্বয় নির্দেশ করে।
কানাডার পূর্ব উপকূল দিয়ে উত্তর মেরু অঞ্চল থেকে শীতল ল্যাব্রাডর স্রোত দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত হয়। এ স্রোত উপকূলীয় বায়ুর তাপমাত্রা কমিয়ে দেয় এবং উত্তর থেকে ভাসিয়ে আনা হিমশৈল নিউফাউন্ডল্যান্ডের আশপাশে পৌঁছে দেয়।
এখানে শীতল ল্যাব্রাডর স্রোত উষ্ণ উপসাগরীয় স্রোতের সঙ্গে মিলিত হলেও শীতকালে উচ্চ অক্ষাংশ, মেরু বায়ু ও শীতল স্রোতের সম্মিলিত প্রভাবে কানাডার পূর্ব উপকূলে তীব্র শীত ও বরফাচ্ছন্ন অবস্থা দেখা যায়।
চিত্রে 'A' দ্বারা মহীসোপানকে বোঝানো হয়েছে। নিম্নে ভূমিরূপটির বর্ণনা দেওয়া হলো-
পৃথিবীর মহাদেশসমূহের চারদিকে স্থলভাগের কিছু অংশ অল্প ঢালু হয়ে সমুদ্রের পানির মধ্যে নেমে গেছে। এরূপ সমুদ্রের উপকূলরেখা থেকে তলদেশ ক্রমনিম্ন নিমজ্জিত অংশকে মহীসোপান বলে। এ ভূমিরূপটির সর্বোচ্চ গভীরতা ১৫০ মিটার। এটি ১° কোণে সমুদ্র তলদেশে নিমজ্জিত থাকে। এর গড় প্রশস্ততা ৭০ কিলোমিটার। মহীসোপানের সবচেয়ে উপরের অংশকে উপকূলীয় ঢাল বলে। এর বিস্তৃতি সর্বত্র সমান নয়। উপকূলভাগের বন্ধুরতার উপর এর বিস্তৃতি নির্ভর করে। উপকূল যদি বিস্তৃত সমভূমি হয়, তবে মহীসোপান অধিক প্রশস্ত হয়। মহাদেশের উপকূলে পর্বত বা মালভূমি থাকলে মহীসোপান সংকীর্ণ হয়।
চিত্রে 'B' দ্বারা মহীঢাল ও 'C' দ্বারা গভীর সমুদ্রখাতকে বোঝানো হয়েছে। উক্ত দুটি ভূমিরূপের মধ্যে 'C' অর্থাৎ গভীর সমুদ্রখাতে আগ্নেয়গিরি অধিক হয়। নিচে মতামত দেওয়া হলো-
'B' অর্থাৎ মহীঢাল হঠাৎ খাড়াভাবে নেমে সমুদ্রের তলদেশের সাথে মিশে যায়। এর গভীরতা ২০০ থেকে ৩,০০০ মিটার। এটি বেশি ঢালু ও বন্ধুর প্রকৃতির হওয়ায় কিছু গিরিখাত রয়েছে। অন্যদিকে, গভীর সমুদ্রখাতে প্রচুর আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ঘটে। এর মূল কারণ হলো পৃথিবীর টেকটোনিক প্লেটের নড়াচড়া এবং ভূগর্ভস্থ গলিত ম্যাগমার চাপ। সমুদ্রের তলদেশে বিশেষ করে যেখানে একটি প্লেট অন্য প্লেটের নিচে ঢুকে যায়, সেখানে প্রচণ্ড চাপের ফলে ম্যাগমা উপরের দিকে উঠে এসে অগ্ন্যুৎপাত ঘটায়। এই গলিত শিলা বা ম্যাগমা ঘনত্ব কম হওয়ায় উপরের দিকে উঠে আসে তখন গভীর সমুদ্রখাতে দুর্বল ফাটল দিয়ে এসে এখানে ব্যাপক হারে অগ্নুৎপাত ঘটায়।
সুতরাং বলা যায়, উপরিউক্ত কারণে মহীঢালের চেয়ে গভীর সমুদ্রখাতে আগ্নেয়গিরি অধিক হয়।
দৃশ্যকল্প-১: বিদ্যালয়ের পরিবেশ বিষয়ক প্রতিবেদনে দেখা যায়-বিদ্যালয়ের চারপাশের এলাকার গাছপালা শুকিয়ে যাচ্ছে, ফসলের ক্ষেত ফেটে চৌচির হয়ে গেছে, নলকূপের পানি কমে গেছে এবং মানুষ দৈনন্দিন কাজে পানির ব্যবহার কমাতে বাধ্য হচ্ছে।
দৃশ্যকল্প-২: হঠাৎ করে দেখা যায় যে, নদীর তীরে বসবাসকৃত দুলালের বাড়িটি নদীগর্ভে ভাসছে। পরিবার-পরিজন নিয়ে তার আর দুঃখের সীমা নেই।
দৃশ্যকল্প-১ এ যে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কথা বলা হয়েছে তা হলো 'খরা'। নিম্নে এ সম্পর্কে ব্যাখ্যা করা হলো-
খরা একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ। সাধারণত দীর্ঘসময় কম বৃষ্টিপাত বা অনাবৃষ্টির কারণে কোনো এলাকায় পানিসংকট ও মাটির আর্দ্রতা কমে গিয়ে শুষ্ক ও রুক্ষ অবস্থার সৃষ্টি হয়, তাই খরা। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগটি অনাবৃষ্টি, বন উজাড় এবং জলবায়ুর পরিবর্তনে সংঘটিত হয়ে থাকে। খরার ফলে ফসলের মাঠ ফেটে চৌচির হয়ে যায়। গবাদিপশুর খাদ্যসংকট দেখা দেয় যা উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ খরা সাধারণত বৈশ্বিক সমস্যা যা প্রতিরোধে কার্যকর পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা নীতি গ্রহণ করা জরুরি।
দৃশ্যকল্প-২ এ দুলাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যে প্রাকৃতিক দুর্যোগে তা হলো নদীভাঙন। নদীভাঙনের ফলে যে ধরনের ক্ষতি হতে পারে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
নদীভাঙনের ফলে কৃষি জমি, স্কুল-কলেজ, রাস্তাঘাট নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়, যা উপকূলীয় জনজীবনে বিপর্যয় নিয়ে আসে। প্রতিবছর হাজার হাজার মানুষ কর্মসংস্থান হারিয়ে বাস্তুহারা হয়ে পড়ে। চরম দারিদ্র্য ও সামাজিক নিরাপত্তাহীনতার সম্মুখীন হয় এবং আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়।
আবাদি জমি ও ফসল নদীতে বিলীন হয়ে যায়, যা দেশের খাদ্য উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় উপাসনালয় এবং রাস্তাঘাট ভেঙে পড়ে। তাছাড়া নদীভাঙন কবলিত এলাকার মানুষজন আয় উপার্জন হারিয়ে চরম দারিদ্র্যের কবলে পড়ে।
গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি বছর প্রায় ৫,০০০ থেকে ৬,০০০ হেক্টর জমি নদী ভাঙনে হারিয়ে যায়, যা মানুষের জীবনকে চরম ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেয়।
'A' চিহ্নিত গ্রহটি হলো 'শুক্র'। নিম্নে এ গ্রহ সম্পর্কে আলোচনা করা হলো-
সূর্য থেকে নিকটতম দিক থেকে শুক্র দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। সূর্য থেকে এ গ্রহের দূরত্ব ১০.৮ কোটি কিলোমিটার। এ গ্রহের ব্যাস ১২,১০৪ কিলোমিটার। সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে শুক্রের সময় লাগে ২২৫ দিন। এটি ঘন মেঘে ঢাকা। তাই এর উপরিভাগ থেকে সূর্যকে কখনই দেখা যায় না। এর মেঘাচ্ছন্ন বায়ুমণ্ডল প্রধানত কার্বন-ডাইঅক্সাইডের তৈরি। এটি সৌরজগতের উজ্জ্বল ও সবচেয়ে উত্তপ্ত গ্রহ। শুক্র গ্রহ অন্য গ্রহের চেয়ে ব্যতিক্রম। এটি পূর্ব থেকে পশ্চিমে পাক খায়।
উদ্দীপকে 'C' ও 'B' চিহ্নিত গ্রহ দুটি হলো যথাক্রমে মঙ্গল ও পৃথিবী গ্রহ। এ দুয়ের মধ্যে 'B' গ্রহ তথা পৃথিবী গ্রহ মানব বসবাসের জন্য উপযুক্ত।
পৃথিবী গ্রহটি সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে সময় লাগে ৩৬৫ দিন। পৃথিবীই একমাত্র গ্রহ যার বায়ুমণ্ডলে জীবনধারণের প্রয়োজনীয় অক্সিজেন, নাইট্রোজেন ও তাপমাত্রা রয়েছে। যা উদ্ভিদ ও জীবজন্তু বসবাসের উপযোগী।
অপরদিকে, মঙ্গল গ্রহটি সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে সময় নেয় ৬৮৭ দিন। মঙ্গল গ্রহের উপরিভাগে রয়েছে গিরিখাত ও আগ্নেয়গিরি। এ গ্রহে অক্সিজেন ও পানির পরিমাণ খুবই কম। তবে কার্বন-ডাইঅক্সাইডের পরিমাণ এত বেশি যে, প্রাণীর অস্তিত্ব থাকা সম্ভব নয়। অন্যান্য যেকোনো গ্রহে জীবের অস্তিত্ব থাকার জন্য গ্রহের বায়ুমণ্ডলে সহনীয় মাত্রায় অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, তাপমাত্রাসহ, পানি ও উপাদান প্রয়োজন। সেক্ষেত্রে দুটি গ্রহের মধ্যে 'B' গ্রহে সহনীয় মাত্রায়, এসব উপাদান বিদ্যমান রয়েছে। সুতরাং 'C' গ্রহটিতে প্রাণী বসবাসের উপযোগী পরিবেশ নেই; বরং 'B' তথা পৃথিবী নামক গ্রহটি প্রাণী বসবাসের জন্য উপযুক্ত।
মানচিত্রের 'A' চিহ্নিত অঞ্চল বলতে বাংলাদেশের পাবর্ত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলকে বোঝানো হয়েছে। এ অঞ্চলটির ভূমিরূপ টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহের অন্তর্গত দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহকে বোঝানো হয়েছে। নিম্নে ব্যাখ্যা করা হলো-
রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলার পূর্বাংশ এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। দক্ষিণ-পূর্বের এ পাহাড়গুলোর গড় উচ্চতা ৬১০ মিটার। টারশিয়ারি যুগে হিমালয় পর্বত উত্থিত হওয়ার সময় এ সকল পাহাড় সৃষ্টি হয়েছে। এ পাহাড়গুলো বেলেপাথর, শেল ও কর্দম দ্বারা গঠিত।
চিত্রে 'B' বলতে সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি এবং 'C' বলতে বরেন্দ্র ভূমিকে বোঝানো হয়েছে। উভয় অঞ্চলের ভূমিরূপ একরকম নয়। নিচে তা উপস্থাপন করা হলো-
'B' অর্থাৎ সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি গঠিত হয়েছে নদী বিধৌত পলি দ্বারা। বাংলাদেশের অসংখ্য ছোটো-বড়ো নদী জালের মতো সর্বত্র ছড়িয়ে আছে। সমতল ভূমির ওপর দিয়ে এ নদীগুলো প্রবাহিত হওয়ার সময় বর্ষাকালে বন্যার সৃষ্টি হয়। বছরের পর বছর বন্যার সঙ্গে পরিবাহিত মাটি সঞ্চিত হয়ে এ প্লাবন সমভূমি গঠিত হয়েছে। এ প্লাবন সমভূমির আয়তন প্রায় ১,২৪,২৬৬ বর্গকিলোমিটার। অন্যদিকে 'C' অর্থাৎ বরেন্দ্রভূমি প্লাইস্টোসিনকালে অর্থাৎ আনুমানিক ২৫,০০০ বছর পূর্বে সৃষ্টি হয়েছে। বরেন্দ্রভূমি দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় ৯,৩২০ বর্গকিলোমিটার এলাকাব্যাপী বিস্তৃত। প্লাবন সমভূমি হতে এর উচ্চতা ৬ থেকে ১২ মিটার। এ স্থানের মাটি ধূসর ও লাল বর্ণের। সুতরাং উপরে উল্লিখিত দুটি ভূমিরূপ পর্যবেক্ষণ করে বলা যায় যে, 'C' বরেন্দ্রভূমি বহু পুরাতন। এর মৃত্তিকার গঠনশৈলী ভিন্ন। অন্যদিকে 'B' প্লাবন সমভূমি সাম্প্রতিককালে নদীবিধৌত পলি সঞ্চিত হয়ে সৃষ্টি হয়েছে। এর মৃত্তিকা সাধারণত পলি, দোঁআশ ও কর্দম প্রকৃতির। তবে এই মৃত্তিকা কৃষিকাজের জন্য উপযুক্ত।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।