চিত্রে পৃথিবীর 'B' অবস্থান বলতে দীর্ঘতম দিন ও ক্ষুদ্রতম রাত পরিলক্ষিত হয়। নিম্নে তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হলো-
২৩ সেপ্টেম্বরের পর দক্ষিণ গোলার্ধ ক্রমশ সূর্যের দিকে হেলতে থাকে। এ সময় দক্ষিণ গোলার্ধ সূর্যের কাছে আসতে থাকে। উত্তর গোলার্ধ দূরে সরতে থাকে। ফলে দক্ষিণ গোলার্ধে সূর্য লম্বভাবে এবং উত্তর গোলার্ধে কোণ করে কিরণ দিতে থাকে। এতে উত্তর গোলার্ধে দিন ছোটো ও দক্ষিণ গোলার্ধে দিন বড়ো এবং রাত ছোটো হতে থাকে। এর মধ্যে ২২ ডিসেম্বর সূর্য মকরক্রান্তির উপর লম্বভাবে কিরণ দেয়। সেদিন উত্তর গোলার্ধে ছোটো দিন ও বড়ো রাত হওয়াতে শীতকাল হয়। ঐ দিনই সূর্যের দক্ষিণায়নের শেষ এবং তার পরের দিন থেকে পুনরায় সূর্য উত্তর দিকে আসতে থাকে। ২২ ডিসেম্বরের দেড় মাস পূর্বেই উত্তর গোলার্ধে শীতকাল শুরু হয় এবং পরের দেড় মাস পর্যন্ত বিরাজ করে। এ সময়টাতে দক্ষিণ গোলার্ধে গ্রীষ্মকাল হয়।
সুতরাং দেখা যায়, একই তারিখে দুই গোলার্ধে সূর্যের কিরণ দেওয়ার পার্থক্যর কারণে ভিন্ন ভিন্ন ঋতু পরিলক্ষিত হয়।
দৃশ্যকল্প-১: ফারিয়া সন্ধ্যাবেলা পূর্ণিমার আলোয় লক্ষ করল, সমুদ্রের শান্ত পানি ধীরে ধীরে ফুলে উঠে তীরে প্রবলবেগে আছড়ে পড়ছে। সে শিক্ষকের কাছ থেকে জেনেছে সমুদ্রের পানিতে এরূপ ঘটনা প্রতিদিনই ঘটে।
দৃশ্যকল্প-২: ২০০৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর সমুদ্র তলদেশে সংঘটিত একটি দুর্যোগের প্রভাব বাংলাদেশের উপকূলের জলরাশিতে দেখা গিয়েছিল।
দৃশ্যকল্প-৩: ২১ নভেম্বর, ২০২৫ তারিখে একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল হঠাৎ কেঁপে ওঠে। মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়ে।
সেবল ব্যাঙ্ক সৃষ্টির প্রধান কারণ অগভীর মগ্নচড়া গুলোতে প্রচুর পরিমাণে প্ল্যাংটন (একপ্রকার অতি ক্ষুদ্র উদ্ভিদ ও প্রাণী) জন্মায় ও বংশবৃদ্ধি করে। এই প্ল্যাংটন মাছের অতি প্রিয় খাদ্য।
সেবল ব্যাঙ্ক একটি মগ্নচড়া। হিমশৈলের মধ্যে অবস্থিত বিভিন্ন নুড়ি, কাঁকর, বালি প্রভৃতি সমুদ্রতলে সঞ্চিত হয় এবং একসময় মগ্নচড়ার সৃষ্টি হয়। নিউ ফাউন্ডল্যান্ডের উপকূলে সেবল ব্যাঙ্ক এভাবে সৃষ্টি হয়।
দৃশ্যকল্প-১ এ ফারিয়া সন্ধ্যাবেলায় সমুদ্রের জলরাশিতে যে ঘটনা দেখল তা হলো জোয়ারভাটা।
নির্দিষ্ট সময় অন্তর সমুদ্রের পানির নিয়মিত ফুলে ওঠা এবং নিচে নেমে যাওয়াকে জোয়ারভাটা বলে। প্রধানত দুটি কারণে জোয়ারভাটার সৃষ্টি হয়। এগুলো হলো চাঁদ ও সূর্যের মহাকর্ষ শক্তির প্রভাব এবং পৃথিবীর আবর্তনের ফলে উৎপন্ন কেন্দ্রাতিগ বল।
মহাকাশে বিভিন্ন ধরনের গ্রহ, উপগ্রহ, নক্ষত্র প্রভৃতি প্রতিটি জ্যোতিষ্ক পরস্পরকে আকর্ষণ করে। তেমনি চন্দ্র এবং সূর্যও পৃথিবীকে আকর্ষণ করে। তবে চন্দ্র ও সূর্যের মধ্যে দূরত্বের কারণে চন্দ্র পৃথিবীকে বেশি আকর্ষণ করায় নিজের দিকে টানে। ফলে সমুদ্রের পানি কিছুটা স্ফীত হয়ে জোয়ারের সৃষ্টি করে। আবার, পৃথিবী তার নিজ মেরুরেখায় আবর্তন করার সময় কেন্দ্রাতিগ বল বা বিকর্ষণ শক্তির সৃষ্টি হয়। ফলে পৃথিবী মহাকর্ষ শক্তির বিপরীত দিকে ছিটকে যেতে চায়। এর ফলে জোয়ারের সৃষ্টি হয়।
দৃশ্যকল্প-১ এ ফারিয়া সন্ধ্যাবেলার পূর্বে সমুদ্রের পানি কম থাকায় সৈকতে আসতে পেরেছিল। তখন ভাটা চলছিল। এরপর কিছুক্ষণ পরেই জোয়ার শুরু হয়েছিল। তাই বলা যায়, উপরিল্লিখিত কারণে জোয়ারভাটা সংঘটিত হয়।
দৃশ্যকল্প-২ ও দৃশ্যকল্প-৩ এ ঘটা দুর্যোগ দুটি হলো যথাক্রমে সুনামি ও ভূমিকম্প। উক্ত দুটি দুর্যোগের মধ্যে সুনামি অপেক্ষাকৃত কম বিস্তৃত অঞ্চলে আঘাত হানলেও এর ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা ও তীব্রতা অনেক বেশি হয় এবং এতে সম্পত্তি ও প্রাণ হানির পরিমাণ তুলনামূলক বেশি থাকে। নিম্নে তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হলো-
ভূমিকম্প যেকোনো স্থানে, এমনকি স্থলভাগের গভীরেও আঘাত হানতে পারে। এটি ভূমি কাঁপানো, ভবন ধস, রাস্তাঘাট ও সেতুর ক্ষতি এবং ভূমিধস ঘটিয়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। তবে সতর্কতা থাকলে এটি থেকে ক্ষয়ক্ষতি কিছুটা এড়ানো সম্ভব।
অন্যদিকে, সুনামি কেবল সমুদ্র উপকূলবর্তী বা এর কাছাকাছি এলাকায় ঘটে থাকে। এটি মূলত সমুদ্রের তলদেশে ভূমিকম্প বা আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ফলে সৃষ্ট বিশাল জলরাশি। এটি যখন উপকূলে আছড়ে পড়ে, তখন পুরো উপকূলীয় এলাকা প্লাবিত করে। তাছাড়া স্বাদু পানিতে লবণাক্ত পানি প্রবেশ করে পানি অনিরাপদ হয়। প্রবল গতির কারণে মানুষের ঘরবাড়ি, শহর ও বন্দর ভাসিয়ে নিয়ে যায়। কৃষি জমির ফসল নষ্ট হয়।
সুতরাং বলা যায়, ভূমিকম্পের তুলনায় সুনামির ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা একটু বেশি হয়ে থাকে।
চিত্র-১ এর ভূমিরূপ হলো 'ভি' আকৃতির উপত্যকা। এটি নদীর ক্ষয়জাত ভূমিরূপ। নিচে এর ভূমিরূপের গঠন প্রক্রিয়া বর্ণনা করা হলো:
ঊর্ধ্বগতি অবস্থায় নদীর স্রোতের বেগ প্রবল হওয়ার কারণে নদী বড়ো বড়ো শিলাখন্ডকে বহন করে নিচের দিকে অগ্রসর হয়। পর্বতগুলো কঠিন শিলা দ্বারা গঠিত হলেও মাঝে মাঝে নরম শিলাও থাকে। নদীখাতে পার্শ্বক্ষয় অপেক্ষা নিম্নক্ষয় বেশি হয়। এভাবে ক্রমশ ক্ষয়ের ফলে নদী উপত্যকা (ভি-আকৃতির) সৃষ্টি হয়।
চিত্র-২ ও চিত্র-৩ এর ভূমিরূপ দুটি হলো যথাক্রমে ভঙ্গিল পর্বত ও ল্যাকোলিথ পর্বত। দুটি পর্বতের মধ্যে ভঙ্গিল পর্বতটি প্রবল পার্শ্বচাপের কারণে গঠিত হয়। নিম্নে তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হলো:
ভঙ্গিল পর্বতের প্রধান বৈশিষ্ট্য ভাঁজ। সমুদ্র তলদেশের বিস্তারিত অবনমিত স্থানে দীর্ঘকাল ধরে বিপুল পরিমাণ পলি এসে জমা হয়। এর চাপে অবনমিত স্থান আরও নিচে নেমে যায়। পরবর্তী পর্যায়ে ভূ-আলোড়ন বা ভূমিকম্পের ফলে এবং পার্শ্ববর্তী সুদৃঢ় ভূমিখণ্ডের প্রবল পার্শ্বচাপের কারণে ঊর্ধ্বভাঁজ ও নিম্নভাঁজের সৃষ্টি হয়ে পর্বত সৃষ্টি 'করে।
অপরদিকে, ল্যাকোলিথ পর্বতের গঠন প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, পৃথিবীর অভ্যন্তর থেকে গলিত শিলা বা ম্যাগমা বিভিন্ন গ্যাসের দ্বারা স্থানান্তরিত হয়ে ভূপৃষ্ঠে বের হয়ে আসার চেষ্টা করে। কিন্তু কোনো কোনো সময় বাধা পেয়ে এগুলো ভূপৃষ্ঠের উপরে না এসে ভূ-ত্বকের নিচে একস্থানে জমাট বাঁধে। উর্ধ্বচাপের কারণে স্ফীত হয়ে গম্বুজ আকারের পর্বতের সৃষ্টি করে।
সুতরাং উল্লিখিত দুটি ভূমিরূপ সৃষ্টির ইতিহাস পর্যালোচনা করলে বোঝা যায় যে, ভঙ্গিল পর্বতই প্রবল পার্শ্বচাপের ফলে সৃষ্টি হয়েছে।
ছকে 'A' দ্বারা চিহ্নিত গ্রহটি হলো পৃথিবী। নিচে পৃথিবী নামক গ্রহের বর্ণনা দেওয়া হলো:
পৃথিবী সূর্যের তৃতীয় নিকটতম গ্রহ। সূর্য থেকে পৃথিবীর গড় দূরত্ব ১৫ কোটি কিলোমিটার। এর ব্যাস প্রায় ১২,৬৬৭ কিলোমিটার। পৃথিবী একবার সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে সময় নেয় ৩৬৫ দিন ৫ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট ৪৭ সেকেন্ড। তাই এখানে ৩৬৫ দিনে এক বছর।
চাঁদ পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ। পৃথিবী একমাত্র গ্রহ যার বায়ুমণ্ডলে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন, নাইট্রোজেন ও তাপমাত্রা রয়েছে যা উদ্ভিদ ও জীবজন্তু বসবাসের উপযোগী। সৌরজগতের গ্রহগুলোর মধ্যে একমাত্র পৃথিবীতেই প্রাণের অস্তিত্ব রয়েছে।
ছকে 'B' ও 'C' দ্বারা চিহ্নিত গ্রহ দুটি হলো যথাক্রমে বৃহস্পতি ও শনি। দুটি গ্রহের মধ্যে বৈশিষ্ট্যগত বৈসাদৃশ্য রয়েছে। নিচে তুলনামূলক আলোচনা করা হলো:
শনি হলো সৌরজগতের দ্বিতীয় বৃহত্তম গ্রহ। এটি গ্যাসের তৈরি বিশাল এক গোলক। সূর্য থেকে শনি গ্রহের দূরত্ব ১৪৩ কোটি কি.মি.। এর ব্যাস ১,২০,০০০ কি.মি.। এর ভূত্বক বরফে ঢাকা এবং এর বায়ুমণ্ডলে আছে হাইড্রোজেন ও হিলিয়ামের মিশ্রণ, মিথেন ও অ্যামোনিয়া গ্যাস। সূর্যের চারিদিকে একবার ঘুরতে শনির সময় লাগে পৃথিবীর প্রায় ২৯.৫ বছরের সমান। শনির বলয় উজ্জ্বল আলোয় বেষ্টিত এবং এর উপগ্রহের সংখ্যা ৬২টি।
বৃহস্পতি সৌরজগতের সবচেয়ে বড়ো গ্রহ। একে গ্রহরাজ বলে। এর ব্যাস ১,৪২,৮০০ কিলোমিটার। আয়তনে পৃথিবীর চেয়ে ১,৩০০ গুণ বড়ো। এটি সূর্য থেকে প্রায় ৭৭.৮ কোটি কিলোমিটার দূরত্বে রয়েছে। তাই পৃথিবীর সাতাশ ভাগের এক ভাগ তাপ পায়। বৃহস্পতির বায়ুমণ্ডল হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম গ্যাস দিয়ে তৈরি। বায়ুমণ্ডলের উপরিভাগে তাপমাত্রা খুবই কম এবং অভ্যন্তরের তাপমাত্রা অত্যন্ত বেশি (প্রায় ৩০,০০০° সেলসিয়াস)। সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করতে বৃহস্পতির সময় লাগে ৪,৩৩১ দিন। বৃহস্পতির উপগ্রহের সংখ্যা ৬৭টি। এ গ্রহে জীবের অস্তিত্ব নেই।
'C' এবং 'B' গ্রহ দুটির মধ্যে উপগ্রহের সংখ্যা, সূর্য হতে দূরত্ব, ব্যাস, নিজ অক্ষে পরিক্রমণ কাল, তাপমাত্রা প্রভৃতি বিষয়ে তুলনামূলক বৈশিষ্ট্য লক্ষ করা যায়।
চিত্রে 'A' চিহ্নিত নদীটি হলো কর্ণফুলী নদী। উক্ত নদীর গতিপথ বর্ণনা করা হলো-
আসামের লুসাই পাহাড় থেকে উৎপন্ন হয়ে প্রায় ২৭৪ কিলোমিটার দীর্ঘ কর্ণফুলী নদী রাঙামাটি ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে পড়েছে। এটি চট্টগ্রাম ও রাঙামাটি অঞ্চলের প্রধান নদী। এ নদীর প্রধান উপনদী কাসালং, হালদা এবং বোয়ালখালী।
কর্ণফুলী নদী সীমান্ত থেকে প্রবেশ করে রাঙামাটির সমভূমিতে প্রবাহিত হয় এবং পরে কাপ্তাই হ্রদে মিশেছে। কাপ্তাই হ্রদের দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে বেরিয়ে পতেঙ্গার কাছে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।
চিত্রে 'B' ও 'C' দ্বারা চিহ্নিত বাংলাদেশের দুটি ভূ-প্রাকৃতিক ছোটো অঞ্চল। 'B' দ্বারা বরেন্দ্রভূমি ও 'C' দ্বারা প্লাবন সমভূমিকে বোঝানো হয়েছে। উক্ত দুটি ভূ-প্রাকৃতিক অঞ্চল দুটির গঠনগত বৈশিষ্ট্য একই রূপ নয়। নিচে ভূ-প্রাকৃতিক অঞ্চল দুটির মধ্যে তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হলো:
'B' অর্থাৎ বরেন্দ্রভূমি হলো প্লাইস্টোসিন যুগের প্রাচীন সোপান বা উঁচু ভূমি যা গঠিত হয়েছে লালচে ও ধূসর রঙের প্রাচীন পলিমাটি দ্বারা। এটি চারপাশের প্লাবন সমভূমি হতে অপেক্ষাকৃত বেশ উঁচু। এর গড় উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ঠ হতে প্রায় ১৫ থেকে ৩০ মিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে। এর মাটি বেশ শক্ত এবং মূলত প্রাচীন পলিমাটি দ্বারা গঠিত। এখানকার মাটিতে জৈব পদার্থ, নাইট্রোজেন, ফসফরাসের পরিমাণ কম।
অপরদিকে, 'C' অর্থাৎ সাম্প্রতিক কালের প্লাবন সমভূমি, যা নতুন বা নবীন যুগের সমতল ভূমি, যা নদনদীর বন্যায় সঞ্চিত পলি দ্বারা গঠিত। এটি প্রায় সমতল এবং উচ্চতায় সমুদ্রপৃষ্ঠের কাছাকাছি বা সামান্য উঁচুতে অবস্থান করে। প্রতিবছর বন্যার পানিতে বাহিত উর্বর নতুন গনি, বালি এবং কাদা দ্বারা গঠিত। নতুন পলিমাটি দ্বারা গঠিত হওয়ায় এখানকার মাটি অত্যন্ত উর্বর; যা কৃষিকাজের জন্য খুবই উপযোগী।
সুতরাং বলা যায় যে, উপরিল্লিখিত ভূ-প্রাকৃতিক অঞ্চল গুলোর গঠন বৈশিষ্ট্যের তারতম্য পরিলক্ষিত হয়।
দৃশ্যকল্প-১: মাসুম তার গ্রামের নদীর তীরে দাঁড়িয়ে ভাবছে, এই নদীতে প্রতিবছরই বহু বাড়িঘর বিলীন হয়ে যায়।
দৃশ্যকল্প-২: নাজমুল কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে। তার কৃষি জমিটি একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগে ধীরে ধীরে শুকিয়ে যাচ্ছে।
দৃশ্যকল্প-৩: সুমনাদের গ্রামটি প্রতিবছরই প্লাবিত হয়ে যায়। ফলে বহু ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রমুখী ও ঊর্ধ্বমুখী বায়ুরূপে পরিচিত। এর কেন্দ্রস্থলে নিম্নচাপ এবং উচ্চচাপ বিরাজ করে।
বাংলাদেশে চৈত্র-বৈশাখ মাসে কোনো স্থানে হঠাৎ অধিক তাপের কারণে নিম্নবায়ু চাপের সৃষ্টি হয়। ফলে চারপাশ থেকে মৌসুমি বায়ু সেখানে প্রবাহিত হয় এবং ঘূর্ণিঝড়ের সৃষ্টি করে। বাংলাদেশের দক্ষিণে ফানেলাকার আকৃতির কারণে এদেশের অধিকাংশ ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়।
দৃশ্যকল্প-১ এ উল্লিখিত দুর্যোগটি হলো নদীভাঙন। বিভিন্ন কারণে নদীভাঙন হয়ে থাকে।
নদীখাতে পানি প্রবাহের কারণে পার্শ্বক্ষয়কে নদী ভাঙন বলে। জলবায়ু পরিবর্তন, নদী প্রবাহপথ ও তীব্র গতিবেগ, গতিপথ পরিবর্তন, শিলার উপাদান, রাসায়নিক দ্রব্যের উপস্থিতি প্রভৃতি কারণে নদী ভাঙন হয়। এছাড়া তীব্র বন্যায় প্রবাহস্রোত সৃষ্টি হয়ে ও নদী পাড়ের খাড়া অংশে ভাঙনের সৃষ্টি হয়।
সুতরাং দৃশ্যকল্প-১ এ মাসুম তার গ্রামের নদীর তীরে দাঁড়িয়ে ভাবছে নদীর পার্শ্বক্ষয়ের কারণেই বহু বাড়িঘর বিলীন হয়ে যায়।
উদ্দীপকে দৃশ্যকল্প-২ ও দৃশ্যকল্প-৩ এ নাজমুল ও সুমনার গ্রামে ঘটে যাওয়া দুর্যোগটি হলো যথাক্রমে 'খরা' ও 'বন্যা'। উক্ত দুর্যোগ দুটির ক্ষয়ক্ষতি হ্রাসে যে ধরনের সচেতনতা মূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে তা বর্ণনা করা হলো:
বন্যার ক্ষয়ক্ষতি হ্রাসের পদক্ষেপ হিসেবে যে ধরনের কাজ প্রয়োজন তা হলো- বন্যা আসার অন্তত কয়েকদিন আগে পূর্বাভাস পেলে ক্ষয়ক্ষতি কমানো যায়। জনগণকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হবে। মজবুত বেড়িবাঁধ নির্মাণ, নদী খনন করা যেতে পারে। এছাড়া ঘরবাড়ি গুলো উঁচুতে বানানো উচিত যাতে সহজে পানি না উঠে। সর্বোপরি নদীর তীরে ও জলভূমিতে গাছপালা লাগালে মাটির ক্ষয়রোধ হয় এবং বন্যার প্রবল স্রোত বাধাগ্রস্ত হয়ে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা কমে।
অপরদিকে, খরা ক্ষয়ক্ষতি হ্রাসে পদক্ষেপ গুলো হলো: বৃষ্টির পানি ধরে রাখার জন্য খাল, পুকুর ও জলাধার খনন করতে হয়, যা খরার মৌসুমে সেচ ও গৃহস্থালির কাজে ব্যবহার করা হয়। মাটির আর্দ্রতা মালচিং পদ্ধতিতে চাষ। অর্থাৎ গাছের গোড়া শুকনো পাতা বা খড় দিয়ে ঢেকে রাখা। এতে আর্দ্রতা ধরে রাখে। খরা সহনশীল জাতের ফসল চাষ করতে হবে। খরা শুরু হওয়ার আগেই পানির অপচয় রোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।
সুতরাং উপরিউক্ত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করতে পারলে বন্যা ও খরার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতির ভয়াবহতা অনেকটাই হ্রাস পাবে।
চিত্রের 'A' চিহ্নিত ভূমিরূপটি হলো নিমজ্জিত শৈলশিরা। এর গঠন প্রক্রিয়া বর্ণনা করা হলো:
সমুদ্রের অভ্যন্তরে অনেকগুলো আগ্নেয়গিরি অবস্থান করছে। ঐসব। আগ্নেয়গিরি থেকে লাভা বেরিয়ে এসে সমুদ্রগর্ভে সঞ্চিত হয়ে শৈলশিরার ন্যায় ভূমিরূপ গঠন করেছে। এগুলোই নিমজ্জিত শৈলশিরা নামে পরিচিত। মূলত সমুদ্রের গভীরে সমভূমি অঞ্চলের মধ্যে সুপ্ত আগ্নেয়গিরি থাকে। হঠাৎ কোনো কারণে চ্যুতি বা স্ফীত হয়ে অগ্ন্যুৎপাত হয় এবং তা সমুদ্রের ভিতরেই সঞ্চিত হয়ে পাহাড় সদৃশ ভূ-প্রকৃতি তথা শৈলশিরা গঠন করে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, মধ্য আটলান্টিক শৈলশিরা সবচেয়ে বড়ো নিমজ্জিত শৈলশিরা।
চিত্রের 'B' দ্বারা মহীসোপান ও 'C' দ্বারা গভীর সমুদ্রের সমভূমিকে বোঝানো হয়েছে। উক্ত দুটি ভূমিরূপের মধ্যে গভীর সমুদ্রের সমভূমিতে আগ্নেয়গিরির প্রভাব রয়েছে। নিম্নে তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হলো:
সমুদ্রের উপকূলরেখা হতে তলদেশ ক্রমনিম্ন নিমজ্জিত অংশকে মহীসোপান বলে। এর গভীরতা ১৫০ মিটার। এটি ১° কোণে সমুদ্র তলদেশে অবস্থান করে। উপকূল বেশি বিস্তৃতি হলে মহীসোপান বেশি প্রশস্ত হয়। মহীসোপান সমুদ্র সমতলের কাছাকাছি অবস্থান করায় এখানে আগ্নেয়গিরির প্রভাব লক্ষ করা যায় না।
অপরদিকে, গভীর সমুদ্রের তলদেশের সমভূমিতে আগ্নেয়গিরির উপস্থিতি রয়েছে। পৃথিবীর টেকটোনিক পাতগুলো যখন একে অপরের থেকে দূরে সরে যায় তখন ভূত্বক দুর্বল হয়ে পড়ে। এই ফাঁক দিয়ে ম্যাগমা বেরিয়ে এসে সমুদ্রগর্ভে আগ্নেয়গিরি তৈরি করে। যখন একটি ভারী মহাসাগরীয় পাত অন্য একটি পাতের নিচে তলিয়ে যায়, তখন প্রচণ্ড তাপ ও চাপে তা গলে ম্যাগমা তৈরি করে। এই ম্যাগমা ওপরের দিকে উঠে আগ্নেয়গিরির সৃষ্টি করে।
সুতরাং বলা যায়, মহীসোপান ও গভীর সমুদ্রের সমভূমির মধ্যে ভূ-গঠনগত পার্থক্যের কারণে গভীর সমুদ্রের সমভূমি অঞ্চলে অধিক আগ্নেয়গিরি পরিলক্ষিত হয়।
চিত্র-১ এ 'X' ও 'Y' স্থান দুটির দ্রাঘিমার পার্থক্য = ২৫° – ১০°
= ১৫°
আমরা জানি,
১° দ্রাঘিমার পার্থক্যের জন্য সময়ের ব্যবধান হয় = ৪ মিনিট
১৫° " " " " = ৪ × ১৫ "
= ৬০ = ১ ঘণ্টা
দেওয়া আছে,
'X' চিহ্নিত স্থানের স্থানীয় সময় দুপুর ১ টা।
তাহলে, 'Y' স্থানের স্থানীয় সময় হবে দুপুর ১ টা + ১ ঘণ্টা = দুপুর ২ টা [কারণ 'Y' চিহ্নিত স্থান 'X' চিহ্নিত স্থানের চেয়ে পূর্বে অবস্থিত হওয়ায় সময় '+' হবে]
অর্থাৎ, 'Y' স্থানের স্থানীয় সময় দুপুর ২ টা।
চিত্র-২ এ 'B' ও 'A' স্থানের দ্রাঘিমা যথাক্রমে ১৭০° পূর্ব এবং ১৭০° পশ্চিম। দুটি স্থানের বারের পরিবর্তন ঘটবে। নিম্নে তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হলো :
১৭০° পূর্ব ও ১৭০° পশ্চিম দ্রাঘিমাংশ উভয়ই আন্তর্জাতিক তারিখ রেখার কাছাকাছি অবস্থিত। তবে এদের ভৌগোলিক অবস্থান ও বারের মধ্যে বড়ো পার্থক্য রয়েছে।
১৭০° পূর্ব ও ১৭০° পশ্চিমের মধ্যকার দ্রাঘিমার পার্থক্য = (১৭০ + ১৭০) ডিগ্রি = ৩৪০ ডিগ্রি
আমরা জানি,
১° দ্রাঘিমার পার্থক্যে সময় ব্যবধান = ৪ মিনিট
৩৪০° ” " " " = (৩৪০ x ৪) মিনিট
= ১৩৬০ মিনিট
= ২২ ঘণ্টা ৪০ মিনিট [.: ১ ঘণ্টা = ৬০ মিনিট]
যেহেতু 'B' স্থানের দ্রাঘিমা ১৭০° পূর্বে সেহেতু 'B' স্থান 'A' স্থানের (১৭০ পশ্চিম) চেয়ে ২২ ঘণ্টা ৪০ মিনিট এগিয়ে থাকে। অর্থাৎ 'A' স্থানে যদি সোমবার সকাল ১০টা হয় তখন 'B' স্থানে হবে মঙ্গলবার রাত ৮: ৪০ মিনিট হবে।
বাস্তবে দেখা যায়, ১৭০° পূর্ব ও ১৭০° পশ্চিম দ্রাঘিমা ১৮০° দ্রাঘিমা তথা আন্তর্জাতিক তারিখ রেখার নিকটবর্তী। কিন্তু দুটি স্থানের সময়ের পার্থক্য হয়ে যাচ্ছে ২২ ঘণ্টা ৪০ মিনিট। এ অসুবিধা দূর করার জন্য ১৮০° দ্রাঘিমা তথা আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা অতিক্রম করলে ২৪ ঘণ্টা বা ১ দিন যোগ বা বিয়োগ করতে হয়। এক্ষেত্রে এ অসুবিধা দূর করার জন্য 'B' অবস্থান থেকে ১৮০° অতিক্রম করে 'A' এর দিকে যেতে চাই তাহলে 'B' এর সময় হতে ১ দিন বা ২৪ ঘণ্টা কমাতে হবে। আর উল্টোদিকে গেলে ১ দিন বা ২৪ ঘণ্টা বাড়াতে হবে।
সুতরাং একই গোলার্ধে ও একই দ্রাঘিমা হলেও দিক ভিন্ন থাকায় সময়ের তথা বারের পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।