উদ্দীপকে উল্লিখিত 'N' গ্রহটি হলো 'মঙ্গল' গ্রহ। নিচে এর বর্ণনা করা হলো-
মঙ্গল পৃথিবীর নিকটতম প্রতিবেশী। বছরের অধিকাংশ সময় একে দেখা যায়। সূর্য থেকে এর গড় দূরত্ব ২২.৮ কোটি কিলোমিটার। এর ব্যাস ৬,৭৮৭ কিলোমিটার যা পৃথিবীর ব্যাসের প্রায় অর্ধেক। সূর্যের - চারদিকে একবার প্রদক্ষিণ করতে ৬৮৭ দিন সময় লাগে। মঙ্গল গ্রহের উপরিভাগে রয়েছে গিরিখাত ও আগ্নেয়গিরি। এ গ্রহে অক্সিজেন ও পানির পরিমাণ খুবই কম এবং কার্বন ডাইঅক্সাইডের পরিমাণ এত বেশি যে, প্রাণীর অস্তিত্ব থাকা সম্ভব নয়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'M' 'বলতে 'পৃথিবী' এবং 'O' বলতে 'শুক্র' গ্রহকে বোঝানো হয়েছে। উক্ত গ্রহ দুটির মধ্যে পৃথিবী নামক গ্রহতে মানুষের বসবাস উপযোগী।
পৃথিবী সূর্যের তৃতীয় নিকটতম গ্রহ। এর ব্যাস প্রায় ১২,৬৬৭কিলোমিটার। চাঁদ পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, তাপমাত্রা রয়েছে। এ গ্রহে প্রাণী উদ্ভিদকুলের বেঁচে থাকার জন্য বায়ু, পানি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপাদান সহনীয় মাত্রায় রয়েছে। অপরদিকে, শুক্র সূর্যের দ্বিতীয় নিকটতম গ্রহ। এর ব্যাস প্রায় ১২,১০৪ কিলোমিটার। এর কোনো উপগ্রহ নেই। সন্ধ্যাবেলা মেঘমুক্ত আকাশে যে তারা জ্বলজ্বল করে জ্বলতে দেখা যায় এটি শুক্র গ্রহ। শুক্রের মেঘাচ্ছন্ন বায়ুমণ্ডল কার্বন-ডাইঅক্সাইডের তৈরি এবং এখানে এসিড বৃষ্টি হয়। যা প্রাণীর বসবাসের উপযোগী নয়।
সুতরাং মানুষের বসবাস উপযোগী যেসব উপাদান পৃথিবী গ্রহে রয়েছে তা শুক্র গ্রহে নেই। তাই পৃথিবীই একমাত্র গ্রহ যেখানে প্রাণী ও উদ্ভিদকুলের বসবাসের উপযুক্ত।
দৃশ্যকল্প-২: পৃথিবীর ভূমিরূপ, মৃত্তিকা, প্রাণিজগৎ, জলবায়ু ইত্যাদি বিষয়গুলো আলোচিত হয়।
দৃশ্যকল্প-৩: জনসংখ্যা, নগর পরিবেশ ও রাজনৈতিক বিবর্তন এ বিষয়গুলো আলোচিত হয়।
দৃশ্যকল্প-১ এ বর্ণিত বিষয় (মাটি, পানি, বায়ু, পশুপাখি) যা প্রাকৃতিক পরিবেশকে নির্দেশ করে। নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
প্রাকৃতিক পরিবেশ হলো প্রকৃতির নিজস্ব সৃষ্ট উপাদান যেমন- মাটি, পানি, বায়ু, গাছপালা, নদ-নদী, পাহাড়-পর্বত এবং জীবজন্তুর সমন্বয়ে গঠিত সামগ্রিক অবস্থা, যেখানে মানুষের সরাসরি হস্তক্ষেপ নেই। এটি জৈব ও অজৈব উপাদানের মিথস্ক্রিয়ায় গঠিত, যা মানুষের বেঁচে থাকা ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমের মূল ভিত্তি। এটি প্রকৃতিতে নিজে নিজেই তৈরি হয়, মানুষ এটি তৈরি করে না।
এ দৃশ্যকল্প-২ দ্বারা প্রাকৃতিক ভূগোল ও দৃশ্যকল্প-৩ দ্বারা মানবিক ভূগোলকে বোঝানো হয়েছে। দুটি ভূগোল ভিন্ন রকম। নিম্নে তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হলো-
প্রাকৃতিক ভূগোল মূলত প্রকৃতি থেকে প্রাপ্ত বিভিন্ন উপাদান নিয়ে আলোচনা করে। এটি পৃথিবীর ভৌত পরিবেশ যেমন- ভূমি, জলবায়ু, মাটি, উদ্ভিদ ও পানি (অশ্মমণ্ডল, বায়ুমণ্ডল, বারিমণ্ডল, জীবমণ্ডল) নিয়ে আলোচনা করে। অপরদিকে, মানবিক ভূগোল মানুষের তৈরি এবং মানুষের সাথে সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করে। এটি পৃথিবীর মানুষের সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক এবং অর্থনৈতিক কার্যকলাপ ও পরিবেশের ওপর মানুষের প্রভাব নিয়ে আলোচনা করে। সুতরাং বলা যায়, যদিও তারা ভিন্ন বিষয় নিয়ে কাজ করে, তবুও তারা একে অপরের সাথে গভীরভাবে সম্পর্কিত। প্রাকৃতিক পরিবেশ যেমন মানুষের জীবনযাত্রাকে প্রভাবিত করে তেমনি মানুষও তার প্রয়োজনে প্রাকৃতিক পরিবেশকে পরিবর্তন করে।
দৃশ্যকল্প-২ : 'Y' গতির কারণে পৃথিবীর এক অংশ পর্যায়ক্রমে আলোকিত হয় ও অপর অংশ অন্ধকার থাকে?
বাংলাদেশের নদীগুলোর নাব্যতা কমে যাওয়ার কারণগুলো হলো-পলি সঞ্চয় ও ভরাট, উজানে বাঁধ নির্মাণ করে পানির প্রবাহ কমিয়ে আনা এবং নিয়মিত নদী খনন না করা।
বাংলাদেশের অধিকাংশ নদীগুলোর উজানে খরস্রোতা হলেও ভাটিতে সমতল ভূমি, যার ফলে নদীর প্রবাহ কমে যায়। ফলে প্রতিবছর পাহাড়ি পলিমাটি নদীর তলদেশে জমা হয়। এতে নাব্যতা কমে যায়। নাব্যতা কমাতে নিয়মিত নদী খনন করা হয় না। এছাড়া উজানে বাঁধ নির্মাণ করার কারণে নদীর প্রবাহ স্বাভাবিক থাকে না তখন নদীর গভীরতা হ্রাস পায়।
দৃশ্যকল্প-২ এ Y চিহ্নিত গতি হলো আহ্নিক গতি। নিচে আহ্নিক গতির ফলাফল বর্ণনা করা হলো-
আহ্নিক গতির ফলে দিন-রাত সংঘটিত হয়। পৃথিবী গোল হওয়ার কারণে আবর্তনের সময় যে অংশ সূর্যের সামনে আসে সেখানে দিন এবং পেছনের অংশে রাত হয়, যা পর্যায়ক্রমে চলতে থাকে। আহ্নিক গতির প্রভাবে বায়ু প্রবাহ ও সমুদ্রস্রোতের সৃষ্টি হয়। পৃথিবীর গতির কারণে উত্তর গোলার্ধে বায়ু ও সমুদ্রস্রোত ডান দিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বাম দিকে বেঁকে প্রবাহিত হয়। মূলত পৃথিবীর ঘূর্ণনের কারণে বায়ুপ্রবাহ হয় এবং সমুদ্রের মধ্যে স্রোতও হয়। পৃথিবীর আবর্তন তথা আহ্নিক গতির ফলে সমুদ্রের জলরাশির প্রতিদিন নিয়মিতভাবে জোয়ার ও ভাটা হিসেবে ফুলে ওঠে ও নেমে যায়।
সুতরাং বলা যায়, উপরিল্লিখিত প্রভাবগুলো আহ্নিক গতির কারণে সংঘটিত হয়। যদি আহ্নিক গতি না থাকত, তবে পৃথিবীর একদিক চিরকাল অন্ধকার ও অন্যদিক চিরকাল আলোয় থাকত।
দৃশ্যকল্প-১ এ 'X' চিহ্নিত গতি দ্বারা বার্ষিক গতিকে বোঝানো হয়েছে। এই গতির কারণে ২৩ সেপ্টেম্বর তারিখে উত্তর গোলার্ধে যে ঋতু বিরাজ করে তখন দক্ষিণ গোলার্ধে অন্য ঋতু বিরাজ করে। নিচে যুক্তিসহ মতামত দেওয়া হলো-
বার্ষিক গতির কারণে ঋতুর পরিবর্তন হয়। ২১ জুন থেকে দক্ষিণ মেরু সূর্যের দিকে হেলতে থাকে। উত্তর গোলার্ধের অংশগুলো কম কিরণ পেতে থাকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধের অংশগুলো বেশি সূর্যকিরণ পেতে থাকে। এভাবে ২৩ এ সেপ্টেম্বর সূর্য নিরক্ষরেখার উপর লম্বভাবে কিরণ দেয়। তাই এ সময় পৃথিবীর সর্বত্র দিন ও রাত্রি সমান হয়। দিনের বেলায় যে তাপ আসে রাত সমান হওয়ায় একই পরিমাণ তাপ বিকিরিত হওয়ার সুযোগ পায়। ফলে আবহাওয়াতে ঠান্ডা গরমের পরিমাণ সমান থাকে। এ সময় উত্তর গোলার্ধে শরৎকাল ও দক্ষিণ গোলার্ধে বসন্তকাল বিরাজ করে।
ঘটনা-২: রাশেদ প্রতিদিন সাগরে মাছ ধরতে যায়। সে প্রত্যক্ষ করে, সাগরের পানি দিনের এক সময় বেড়ে যায় এবং প্রায় ছয় ঘণ্টা পর ঐ পানি আবার নেমে যায়।
এ ঘটনা-১ এর ভূমিরূপটি হলো মহীসোপান। নিচে উক্ত ভূমিরূপ সম্পর্কে বর্ণনা করা হলো-
পৃথিবীর মহাদেশসমূহের চারদিকে স্থলভাগের কিছু অংশ অল্প ঢালু হয়ে সমুদ্রের পানির মধ্যে নেমে গেছে। এরূপে সমুদ্রের উপকূলরেখা থেকে তলদেশ ক্রমনিমজ্জিত অংশকে মহীসোপান বলে। এ ভূমিরূপটির সর্বোচ্চ গভীরতা ১৫০ মিটার। এটি ১° কোণে সমুদ্র তলদেশে নিমজ্জিত থাকে। এর গড় প্রশস্ততা ৭০ কিলোমিটার। মহীসোপানের সবচেয়ে উপরের অংশকে উপকূলীয় ঢাল বলে। এর বিস্তৃতি সর্বত্র সমান নয়। উপকূলভাগের বন্ধুরতার ওপর এর বিস্তৃতি নির্ভর করে। উপকূল যদি বিস্তৃত সমভূমি হয়, তবে মহীসোপান অধিক প্রশস্ত হয়। মহাদেশের উপকূলে পর্বত বা মালভূমি থাকলে মহীসোপান সংকীর্ণ হয়।
ঘটনা-২ এর বিষয়টি হলো জোয়ারভাটা। উক্ত ঘটনা মানবজীবনে ইতিবাচক ও নেতিবাচক প্রভাববিস্তার করে।
জোয়ার-ভাটার মাধ্যমে মূল ভূখণ্ড থেকে বর্জ্য পদার্থসমূহ নদীর মধ্য দিয়ে সমুদ্রে গিয়ে পতিত হয়। দৈনিক দুবার জোয়ারভাটা হওয়ার গলে ভাটার টানে নদীর মোহনায় পলি ও আবর্জনা জমতে পারে না। বহু নদীতে ভাটার স্রোতের বিপরীতে বাঁধ দিয়ে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়।
জোয়ারের পানি নদীর মাধ্যমে সেচে সহায়তা করে এবং অনেক সময় খাল খনন করে জোয়ারের পানি আটকিয়ে সেচকার্যে ব্যবহার করা হয়। জোয়ারভাটাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোতে বিশেষ করে কক্সবাজার অঞ্চলে লবণ উৎপাদন করা হয়। সর্বোপরি বলা যায়, জোয়ারভাটার ফলে নৌযান চলাচলের মাধ্যমে ব্যবসা-বাণিজ্যের সুবিধা হয়। জোয়ারের সময় নদীর মোহনায় ও তার অভ্যন্তরে পার্নি অধিক হয় বলে বড়ো বড়ো সমুদ্রগামী জাহাজের পক্ষে নদীতে প্রবেশ করা সুবিধা হয়।
'X' অঞ্চল বলতে বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহকে বোঝানো হয়েছে। নিচে উক্ত ভূমিরূপের গঠন বর্ণনা করা হলো-
বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ মূলত টারশিয়ারি যুগে (প্রায় ২ থেকে ৫ কোটি বছর) হিমালয় পর্বত উত্থানের সময় গঠিত হয়েছে। এই অঞ্চলটি ময়মনসিংহের উত্তরাংশ, নেত্রকোনা, সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলায় অবস্থিত। এগুলো প্রধানত বেলে পাথর, শেল ও কর্দম দ্বারা গঠিত এবং টিলা বা কম উচ্চতার পাহাড় (গড় উচ্চতা ৩০-৯০ মিটার) হিসেবে পরিচিত।
'Y' ও 'Z' নির্দেশিত নদী দুটি হলো যথাক্রমে যমুনা ও কর্ণফুলী। বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনীতির প্রেক্ষাপটে যমুনা নদী অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলেও সরাসরি বাণিজ্য, শিল্পায়ন এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে কর্ণফুলী নদী অর্থনৈতিকভাবে অধিকতর প্রভাবশালী ও গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম বন্দর; যা কর্ণফুলী নদীর তীরে অবস্থিত। দেশের মোট আমদানি-রপ্তানির সিংহভাগ এই বন্দরের মাধ্যমে হয়। এছাড়া কর্ণফুলীর তীরে অসংখ্য শিল্পকারখানা (তৈরি পোশাক, পাট, চামড়া, কাগজ) গড়ে উঠেছে যা জিডিপিতে বড়ো ভূমিকা রাখে। আবার, কাপ্তাইয়ে কর্ণফুলী নদীর উপর বাঁধ দিয়ে দেশের একমাত্র জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। উল্লেখ্য যে, কর্ণফুলী নদীর মৎস্য আহরণ ও বাণিজ্যিক মৎস্য চাষের অন্যতম প্রধান উৎস। অপরদিকে, যমুনা বাংলাদেশের একটি প্রধান নৌপথ যা পণ্য ও যাত্রী পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এছাড়া যমুনা অববাহিকার পলিমাটি কৃষি উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত উর্বর।
সুতরাং যমুনা নদী দেশের অভ্যন্তরীণ পরিবহন, কৃষি ও পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পক্ষান্তরে, সরাসরি বৈদেশিক বাণিজ্য ও শিল্পায়নের (চট্টগ্রাম বন্দর) কারণে কর্ণফুলী নদী বাংলাদেশের অর্থনীতির ক্ষেত্রে অধিক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দৃশ্যকল্প-২: রানা দেশের উপকূলীয় অঞ্চলের অধিবাসী। একদিন বিকেলে সে রেডিওতে ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাস শুনতে পেল।
দৃশ্যকল্প-১ এ উল্লিখিত প্রাকৃতিক দুর্যোগটি হলো ভূমিকম্প। উক্ত দুর্যোগের কারণ ব্যাখ্যা করা হলো-
ভূমিকম্পের মূল কারণ হলো পৃথিবীর অভ্যন্তরে টেকটোনিক প্লেটের নড়াচড়া ও সংঘর্ষ। ভূপৃষ্ঠের নিচে শিলায় জমে থাকা চাপ হঠাৎ মুক্ত হলে সিসমিক তরঙ্গের মাধ্যমে ভূকম্পন সৃষ্টি হয়, যা প্লেটগুলোর সংযোগস্থলে ফাটল বা চ্যুতি তৈরি করে। এছাড়া আগ্নেয়গিরির সক্রিয়তার সময় ভূপৃষ্ঠের নিচে ম্যাগমা চলাচলের কারণে ভূমিকম্প অনুভূত হয়। আবার পাহাড়ি এলাকায় বড়ো ধরনের ভূমিধস হলে ভূমিকম্প হতে পারে।
সুতরাং বলা যায়, উপরিল্লিখিত কারণ ছাড়াও বড়ো বড়ো বাঁধ নির্মাণ, খনিতে বিস্ফোরণ বা পারমাণবিক পরীক্ষার মাধ্যমেও কৃত্রিম ভূমিকম্প হতে পারে। এ ভূকিম্পের কারণেই একটি ঝাঁকুনি অনুভূত হয়, যার কারণে টেবিলে রাখা পানির গ্লাস, খাবারের প্লেটসহ সবকিছুই কাঁপছিল।
দৃশ্যকম্প-২ উল্লিখিত দুর্যোগ তথা ঘূর্ণিঝড় সম্পর্কে বলা হয়েছে। উক্ত দুর্যোগ পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য যে যে ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে তা উল্লেখ করা হলো-
প্রচন্ড শক্তিশালী এবং মারাত্মক ধ্বংসকারী বাংলাদেশে সংঘটিত সাময়িক প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে একটি হলো ঘূর্ণিঝড়, যার ভয়াবহতা অবর্ণনীয়। শত চেষ্টা করেও মানুষ এটি এড়িয়ে যেতে পারে না। কিন্তু উত্তম ব্যবস্থাপনার দ্বারা কার্যকরী সাড়াদান, পুনরুদ্ধার ও উন্নয়ন কার্যাবলির মাধ্যমে এর ক্ষয়ক্ষতি কিছুটা হলেও কমানো সম্ভব। দুর্যোগের পর পরই উপযুক্ত সাড়াদানের প্রয়োজন হয়। সাড়াদান বলতে নিরাপদ স্থানে অপসারণ, তল্লাশি ও উদ্ধার, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ এবং ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমকে বোঝায়। দুর্যোগে সম্পদ, পরিবেশ, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামো ইত্যাদির যে ক্ষতি হয়ে থাকে তা পুনর্নির্মাণের মাধ্যমে দুর্যোগপূর্ব অবস্থায় ফিরিয়ে আনাকেই পুনরুদ্ধার বোঝায়। এক্ষেত্রেই সরকারি, বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ও আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহের সাহায্য ও সহায়তার প্রয়োজন হয়।
ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী সময়ে পুনরুদ্ধার কাজ সম্পন্ন হলে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার উন্নয়ন কাজে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। ভৌগোলিক ও পরিবেশগত বৈশিষ্ট্যের দিকে লক্ষ রেখে উন্নয়ন কাজ চালাতে হবে।
উদ্দীপকের 'Y' চিহ্নিত পর্বত হলো আগ্নেয় বা সঞ্চয়জাত পর্বত। নিচে এ পর্বতের গঠন ব্যাখ্যা করা হলো:
আগ্নেয়গিরি থেকে উদগিরিত পদার্থ উত্তপ্ত গলিত ম্যাগমা, লাভা, ছাই, ধোঁয়া ও পাথর ভূত্বকের ফাটল বা দুর্বল স্থান দিয়ে প্রবল চাপে বাইরে বেরিয়ে এসে সঞ্চিত ও জমাট বেঁধে আগ্নেয় পর্বত সৃষ্টি করে। একে সঞ্চিত পর্বতও বলে। এটি দেখতে মোচাকৃতির হয়ে থাকে। সাধারণত পাত সঞ্চালন প্রক্রিয়ায় ম্যাগমা বের হয়ে আসার সময় এ পর্বত সৃষ্টি হয়।
উদ্দীপকে 'X' দ্বারা ভঙ্গিল পর্বত এবং 'Z' দ্বারা ল্যাকোলিথ পর্বতকে বোঝানো হয়েছে। নিম্নে পর্বত দুটির 'তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হলো:
পাললিক শিলাস্তরে ভূ-আলোড়ন ও ভূমিকম্পের ফলে এবং পার্শ্ববর্তী সুদৃঢ় ভূমিখণ্ডের প্রবল পার্শ্বচাপের কারণে উঊর্ধ্ব ভাঁজ ও নিম্ন ভাঁজের সৃষ্টি হয়। এসব উর্ধ্ব ও নিম্নচাপসংবলিত ভূমিরূপ মিলে ভঙ্গিল পর্বত গঠিত হয়। অন্যদিকে, ভূঅভ্যন্তরের ম্যাগমা কোনো কারণে বেরিয়ে আসতে না পারলে ম্যাগমা জমে গম্বুজ আকার ধারণ করে ল্যাকোলিথ পর্বত গঠিত হয়। ভঙ্গিল পর্বতের শৃঙ্গ থাকে কিন্তু ল্যাকোলিথ পর্বতের শৃঙ্গ থাকে না। ভঙ্গিল পর্বত কোমল পাললিক শিলা দ্বারা গঠিত। অন্যদিকে, ল্যাকোলিথ পর্বত আগ্নেয় শিলা বা ম্যাগমা জমাট বেঁধে গঠিত হয়।
সুতরাং বলা যায়, ভঙ্গিল পর্বত হলো ভূমিকম্পে পার্শ্বচাপের ফলে শিলার ভাঁজ আর ল্যাকোলিথ পর্বত হলো ঊর্ধ্বমুখী ম্যাগমার চাপে সৃষ্ট গম্বুজ আকৃতির আগ্নেয় ভূমিরূপ।
দৃশ্যকল্প-১: রাব্বি একটি দেশ ভ্রমণে গিয়ে এমন একটি ভূমিরূপ দেখল, যা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে অত্যন্ত উচু, খাড়া ঢালবিশিষ্ট ও শক্ত শিলা দ্বারা গঠিত।
দৃশ্যকল্প-২: শান্তার মামা একটি দেশে বাস করেন যার ভূমিরূপ সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে বেশ উঁচু, মৃদু ঢালবিশিষ্ট ও ভূমি বিস্তৃত।
দৃশ্যকল্প-৩: অভি তার বসবাসের স্থানে ভূমি পর্যবেক্ষণ করে দেখল -তা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে সামান্য উঁচু, সুবিস্তৃত ও সমতল।
দৃশ্যকল্প-২ এ নির্দেশিত শান্তার মামার বসবাসকৃত দেশের ভূমিরূপ হলো মালভূমি। নিচে মালভূমির বর্ণনা দেওয়া হলো-
পর্বত থেকে নিচু কিন্তু সমভূমি থেকে উঁচু খাড়া ঢালযুক্ত ঢেউ খেলানো বিস্তৃত সমতলভূমিকে মালভূমি বলে। মালভূমির উচ্চতা শত মিটার থেকে কয়েক হাজার মিটার পর্যন্ত হতে পারে। মালভূমির ধার বা কিনারাগুলো খাড়া ঢালবিশিষ্ট হয়। এটি বিশাল এলাকাব্যাপী বিস্তৃত হয়, কোথাও কোথাও নদী দ্বারা বিচ্ছিন্ন হয়ে ছোটো টিলায় পরিণত হয়। মালভূমি সাধারণত খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ হয়। কারণ এর উপরিভাগের কোমল শিলা ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে নিচের শক্ত শিলা বেরিয়ে আসে।
দৃশ্যকল্প-১ ও ৩ এর ভূমিরূপদ্বয় যথাক্রমে পর্বত ও সমভূমি। নিচে ভূমিরূপদ্বয়ের বৈসাদৃশ্য বিশ্লেষণ করা হলো:
পর্বত ও সমভূমির মধ্যে মূল বৈসাদৃশ্য হলো এদের উচ্চতা, ঢাল, গঠন প্রক্রিয়া ও মানববসতির উপযোগিতা। পর্বত হলো খাড়া ঢাল ও সুউচ্চ চূড়াবিশিষ্ট শিলাময় ভূভাগ যা আন্দোলনের ফলে সৃষ্টি হয়। অন্যদিকে, সমভূমি হলো সমুদ্রপৃষ্ঠের কাছাকাছি, প্রায় সমতল, উর্বর ও নিচু বিস্তীর্ণ স্থলভাগ। পর্বত সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১,০০০ মিটারের বেশি উঁচুতে অবস্থিত। অন্যদিকে, সমভূমি সমুদ্রপৃষ্ঠের কাছাকাছি বা ৩০০ মিটারের কম উচ্চতায় অবস্থিত। পর্বত প্রধানত ভূ-আলোড়ন, পাতসংস্থান বা আগ্নেয়গিরির কারণে সৃষ্ট। পক্ষান্তরে, সমভূমি প্রধানত নদী, হিমবাহ, বা বায়ুর সঞ্চয়কার্যের ফলে সৃষ্ট। পর্বতের উচ্চতার কারণে শীতল ও চরমভাবাপন্ন জলবায়ু বিরাজ করে। অপরদিকে সমভূমির কারণে মৃদু ও নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ু বিরাজ করে।
সুতরাং বলা যায় যে, গঠনগত দিক থেকে পর্বত ও সমভূমির মধ্যে বিভিন্ন ধরনের বৈসাদৃশ্য লক্ষ করা যায়।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।