উদ্দীপকের ছকে 'B' চিহ্নিত উপাদানগুলোর উদাহরণ হিসেবে পানি, বাতাস ও উপত্যকার কথা বলা হয়েছে। এগুলো পরিবেশের জড় বা অজীব (Abiotic) উপাদান। নিচে এই উপাদানগুলোর বর্ণনা দেওয়া হলো:
যে সমস্ত উপাদান প্রাণহীন, সেগুলোকে জড় উপাদান বলা হয় উদ্দীপকের পানি, বাতাস ও উপত্যকা হলো প্রাকৃতিক পরিবেশের মূল জড় উপাদান, যা জীবমণ্ডলের বেঁচে থাকার ভিত্তি। পানি (বারিমণ্ডল) এবং বাতাস (বায়ুমণ্ডল) জীবের বেঁচে থাকার জন্য অপরিহার্য। বাতাস থেকে জীব অক্সিজেন গ্রহণ করে এবং পানি ছাড়া কোনো উদ্ভিদ বা প্রাণী বেঁচে থাকতে পারে না। উপত্যকা হলো ভূমিরূপের (অশ্মমন্ডল) একটি অংশ। এটি দুটি পাহাড় বা পর্বতের মধ্যবর্তী নিচু সমতল ভূমি। এই উপত্যকা অঞ্চলের মাটি সাধারণত উর্বর হয়, যা কৃষি কাজ এবং মানব বসতি গড়ে তোলার জন্য অত্যন্ত উপযোগী।
সুতরাং, 'B' চিহ্নিত উপাদানগুলো হলো পরিবেশের প্রাণহীন ভৌত বা জড় উপাদান, যা পৃথিবীর সামগ্রিক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে।
উদ্দীপকের 'A' চিহ্নিত উপাদানগুলো (উদ্ভিদরাজি, জনগণ, বাঘ) হলো পরিবেশের জীব উপাদান এবং 'B' চিহ্নিত উপাদানগুলো (পানি, বাতাস, উপত্যকা) হলো পরিবেশের জড় উপাদান। এই দুই ধরনের উপাদানের মধ্যে অত্যন্ত গভীর এবং অবিচ্ছেদ্য আন্তঃসম্পর্ক রয়েছে। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো:
জীব উপাদানগুলো (A) তাদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য সম্পূর্ণভাবে জড় উপাদানের (B) ওপর নির্ভরশীল। যেমন- উদ্ভিদ ও প্রাণী (মানুষ ও বাঘ) শ্বাসকার্যের জন্য বাতাসের অক্সিজেনের ওপর এবং তৃষ্ণা নিবারণের জন্য পানির ওপর সরাসরি নির্ভরশীল। সবুজ উদ্ভিদরাজি (A) জড় উপাদান সূর্যের আলো, বাতাস (কার্বন ডাই-অক্সাইড) এবং মাটি ও পানি (B) ব্যবহার করে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য তৈরি করে। এই উদ্ভিদের ওপর আবার বাঘ বা মানুষের মতো প্রাণীরা খাদ্যের জন্য প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নির্ভর করে। উপত্যকা বা সমতল ভূমির মতো জড় উপাদানের ওপর মানুষ ঘরবাড়ি তৈরি করে এবং বনাঞ্চলের মাটিতে উদ্ভিদরাজি ও বাঘের মতো বন্যপ্রাণী বসবাস করে। জীব ও জড় উপাদানের এই পারস্পরিক আদান-প্রদানের মাধ্যমেই প্রকৃতিতে শক্তির প্রবাহ বজায় থাকে এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষিত হয়। একটি উপাদান ক্ষতিগ্রস্ত হলে অন্যটির ওপর তার মারাত্মক প্রভাব পড়ে। সুতরাং জড় উপাদান (B) ছাড়া জীব উপাদানের (A) বেঁচে থাকা অসম্ভব। তাই পরিবেশের এই সজীব ও জড় উপাদান দুটি একে অপরের পরিপূরক এবং এদের মধ্যে একটি নিবিড় আন্তঃসম্পর্ক বিদ্যমান।
উদ্দীপকের 'Q' চিহ্নিত গ্রহটি হলো পৃথিবী।
পৃথিবী আমাদের বাসভূমি। এটি সূর্যের তৃতীয় নিকটতম গ্রহ। সূর্য থেকে পৃথিবীর গড় দূরত্ব ১৫ কোটি কিলোমিটার। এর ব্যাস প্রায় ১২,৬৬৭ কিলোমিটার। পৃথিবী একবার সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে সময় নেয় ৩৬৫ দিন ৫ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট ৪৭ সেকেন্ড। তাই এখানে ৩৬৫ দিনে এক বছর। চাঁদ পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ। পৃথিবী একমাত্র গ্রহ যার বায়ুমণ্ডলে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন, নাইট্রোজেন ও তাপমাত্রা রয়েছে যা উদ্ভিদ ও জীবজন্তু বসবাসের উপযোগী। সৌরজগতের গ্রহগুলোর মধ্যে একমাত্র পৃথিবীতেই প্রাণের অস্তিত্ব আছে।
উদ্দীপকের 'P' ও 'R' চিহ্নিত গ্রহ দুটি হলো যথাক্রমে বুধ ও বৃহস্পতি। দুটি গ্রহের মধ্যে বৃহস্পতিকে গ্রহরাজ বলা হয়। নিচে তুলনামূলক বিবরণ দেওয়া হলো-
বুধ সৌরজগতের ক্ষুদ্রতম এবং সূর্যের নিকটতম গ্রহ। সূর্য থেকে এর গড় দূরত্ব ৫.৮ কোটি কিলোমিটার; এর ব্যাস ৪,৮৫০ কিলোমিটার। সূর্যের খুব কাছাকাছি থাকায় সূর্যের আলোর তীব্রতার কারণে সবসময় একে দেখা যায় না। সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করে আসতে বুধের সময় লাগে ৮৮ দিন। সুতরাং বুধ গ্রহে ৮৮ দিনে এক বছর হয়। এর মাধ্যাকর্ষণ বল এত কম যে, এটি কোনো বায়ুমণ্ডল ধরে রাখতে পারে না। এখানে মেঘ, বৃষ্টি, বাতাস ও পানি নেই বলে প্রাণীর কোনো অস্তিত্বও নেই। বুধের উপরিতল একদম চাঁদের মতো। ভূত্বক অসংখ্য গর্তে ভরা, এবড়ো-থেবড়ো। এখানে আছে অসংখ্য পাহাড় ও সমতলভূমি। বুধের কোনো উপগ্রহ নেই।
অন্যদিকে, বৃহস্পতি সৌরজগতের সবচেয়ে বড় গ্রহ। একে গ্রহরাজ বলে। এর ব্যাস ১,৪২,৮০০ কিলোমিটার। আয়তনে পৃথিবীর চেয়ে ১,৩০০ গুণ বড়। এটি সূর্য থেকে প্রায় ৭৭.৮ কোটি কিলোমিটার দূরত্বে রয়েছে। তাই পৃথিবীর সাতাশ ভাগের এক ভাগ তাপ পায়। বৃহস্পতির বায়ুমণ্ডল হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম গ্যাস দিয়ে তৈরি। বায়ুমণ্ডলের উপরিভাগে তাপমাত্রা খুবই কম এবং অভ্যন্তরের তাপমাত্রা অত্যন্ত বেশি (প্রায় ৩০,০০০° সেলসিয়াস)। সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করতে বৃহস্পতির সময় লাগে ৪,৩৩১ দিন। বৃহস্পতির উপগ্রহের সংখ্যা ৬৭টি। এ গ্রহে জীবের অস্তিত্ব নেই।
সুতরাং উপরের বিশ্লেষণ থেকে বলা যায়, দুটি গ্রহের মধ্যে ব্যাস, দূরত্ব, গঠন উপাদান, উপগ্রহের সংখ্যা, প্রাণের অস্তিত্ব প্রভৃতি বৈশিষ্ট্যগত বৈসাদৃশ্য রয়েছে।
জেরিনের শহরের দ্রাঘিমা = ৯০° পূর্ব
তাসমির শহরের দ্রাঘিমা = ৪৫০° পূর্ব
দ্রাঘিমার পার্থক্য = ৯০ ° - ৪৫° = ৪৫°পূর্ব
পূর্ব প্রতি ১° দ্রাঘিমা সময় পার্থক্য = ৪ মিনিট
অতএব, ৪৫° দ্রাঘিমার জন্য সময়ের পার্থক্য = (৪৫ × ৪) মিনি
= ১৮০ মিনিট
= ৩ ঘণ্টা
[ ∵১ ঘণ্টা = ৬০ মি.]
তাসমির শহর জেরিনের শহরের পশ্চিমে অবস্থিত, তাই সময় ৩ ঘণ্টা কম হবে।
সুতরাং, জেরিনের শহরে দুপুর ১টা হলে তাসমির শহরে সময় হবে (দুপুর ১টা – ৩ ঘণ্টা) বা সকাল ১০টা।
উদ্দীপকে উল্লিখিত জেরিন ও তাসমির বসবাসরত শহর দুইটিতে একই ঋতু বিরাজ করবে। নিম্নে যুক্তিসহ বর্ণনা করা হলো:
জেরিনের শহর উত্তর গোলার্ধের ২৩° উত্তর অক্ষাংশে এবং তাসমির শহরও উত্তর গোলার্ধে অবস্থিত। কিন্তু তাসমির শহর ২৫° উত্তর অক্ষাংশে অবস্থিত। পৃথিবী তার নিজ অক্ষের উপর ২৩.৫° কোণে হেলে থাকার কারণে সূর্যকিরণ বিভিন্ন স্থানে ভিন্ন কোণে পড়ে। ২৩° উত্তর অক্ষাংশে সূর্যের অধিক কাছাকাছি থাকায় এখানে সারা বছর তুলনামূলক বেশি উষ্ণতা থাকে।
অপরদিকে, ২৫° উত্তর অক্ষাংশে অক্ষাংশ বৃদ্ধির ফলে সূর্যকিরণ কিছুটা তীর্যকভাবে পড়ে। তাই ২৩° তুলনায় ২৫° উত্তর অক্ষাংশে শীতকালে তাপমাত্রা তুলনামূলক একটু কম হতে পারে।
সুতরাং উপরিউক্ত আলোচনা হতে বোঝা যায় যে, অক্ষাংশের কারণে তাপমাত্রা সামান্য কম হলেও একই গোলার্ধে অবস্থিত হলে দুটি শহরে একই ঋতু বিরাজ করবে।
মানুষের তৈরি উপগ্রহকে কৃত্রিম উপগ্রহ বলা হয়।
বিজ্ঞানীরা মহাকাশে গবেষণা, আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ, যোগাযোগ ব্যবস্থা, টেলিভিশন সম্প্রচার ও তথ্য আদান-প্রদানের জন্য বিশেষ যন্ত্রপাতিসমৃদ্ধ উপগ্রহ মহাকাশে প্রেরণ করেন। এগুলো পৃথিবীর চারদিকে নির্দিষ্ট কক্ষপথে ঘোরে। তাই এগুলোকে কৃত্রিম উপগ্রহ বলা হয়।
ছকের 'P' বলতে আহ্নিক গতিকে বোঝানো হয়েছে। 'P' গতির সময় হলো ২৩ ঘণ্টা ৫৬ মিনিট ৪ সেকেন্ড। এটি পৃথিবীর আবর্তন গতি। একে আহ্নিক গতি বলা হয়। নিম্নে এর ফলাফল বর্ণনা করা হলো:
পৃথিবী গোল এবং এর নিজের কোনো আলো নেই। আবর্তন গতির জন্য পৃথিবীর যেদিক সামনে আসে, সেদিক সূর্যের আলোয় আলোকিত হয়। তখন ঐ আলোকিত স্থানসমূহে দিন। আলোকিত স্থানের উল্টোদিকে সূর্যের আলো পৌঁছায় না। সেদিকটা অন্ধকার থাকে। এসব অন্ধকার স্থানে তখন রাত। পৃথিবীর পর্যায়ক্রমিক আবর্তনের ফলে আলোকিত দিকটি অন্ধকারে আর অন্ধকারের দিকটি সূর্যের দিকে বা আলোতে চলে আসে। ফলে দিনরাত্রি আবর্তিত হয়। অন্ধকার স্থানগুলো আলোকিত হওয়ার ফলে এসব স্থানে দিন হয়। আর আলোকিত স্থান আবার অন্ধকার হয়ে যাওয়ায় ঐসব স্থানে রাত হয়। এভাবে পর্যায়ক্রমে দিনরাত্রি সংঘটিত হতে থাকে।
উদ্দীপকের 'P' গতির কারণে পৃথিবীর এক অংশ পর্যায়ক্রমে আলোকিত হয় ও অপর অংশ অন্ধকার থাকে। এ ঘটনাটি মূলত আহ্নিক গতির ফলাফল। সুতরাং উদ্দীপকের 'P' আহ্নিক গতির ফলাফলকে নির্দেশ করেছে।
ছকের 'P' ও 'Q' বলতে যথাক্রমে আহ্নিক গতি ও বার্ষিক গতিকে বোঝানো হয়েছে। উক্ত গতি দুটির মধ্যে বার্ষিক গতির ফলে ঋতু পরিবর্তন হবে। নিম্নেন্ন বিশ্লেষণ করা হলো:
আহ্নিক গতি হলো পৃথিবী নিজ অক্ষের চারদিকে আবর্তনকাল। এর ফলে পর্যায়ক্রমে দিন-রাত সংঘটিত হয়, তাপমাত্রার পার্থক্য হয়, সময় গণনার সুবিধা হয়। কিন্তু ঋতু পরিবর্তন হয় না। অপরদিকে, সূর্যের মহাকর্ষ বলের আকর্ষণে পৃথিবী নিজ অক্ষের উপর অবিরাম ঘুরতে ঘুরতে একটি নির্দিষ্ট পথে, নির্দিষ্ট দিকে এবং নির্দিষ্ট সময়ে সূর্যের চারদিকে ঘুরছে। পৃথিবীর এ গতিকে বার্ষিক গতি বলে। এ গতির ফলে ঋতু পরিবর্তন হয়।
উপর্যুক্ত আলোচনার আলোকে বলা যায়, 'P' ও 'Q' গতির মধ্যে অর্থাৎ আহ্নিক ও বার্ষিক গতির মধ্যে বার্ষিক গতির ফলে ঋতু পরিবর্তন হয়।
দৃশ্যকল্প-২: জনাব নূর একজন তরুণ নাবিক। সম্প্রতি পণ্য বোঝাই জাহাজ নিয়ে তিনি সিঙ্গাপুর থেকে নিউইয়র্ক গমন করেন। যাত্রাপথে খেয়াল করেন, সমুদ্রের পানি একটি নির্দিষ্ট গতিপথ অনুসরণ করে
উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-১ এ মায়ানের পর্যবেক্ষণকৃত কুয়াকাটা সৈকতের পাশে যে ঘটনা ঘটেছে তা হলো সমুদ্রের জোয়ারভাটা।নিচে জোয়ারভাটার কারণ ব্যাখ্যা করা হলো:
নির্দিষ্ট সময় অন্তর সমুদ্রের পানির নিয়মিত ফুলে ওঠা এবং নিচে নেমে যাওয়াকে জোয়ারভাটা বলে। প্রধানত দুটি কারণে জোয়ারভাটার সৃষ্টি হয়। এগুলো হলো চাঁদ ও সূর্যের মহাকর্ষ শক্তির প্রভাব এবং পৃথিবীর আবর্তনের ফলে উৎপন্ন কেন্দ্রাতিগ বল। মহাকাশে বিভিন্ন ধরনের গ্রহ, উপগ্রহ, নক্ষত্র প্রভৃতি প্রতিটি জ্যোতিষ্ক পরস্পরকে আকর্ষণ করে। তেমনি চন্দ্র এবং সূর্যও পৃথিবীকে আকর্ষণ করে। তবে চন্দ্র ও সূর্যের মধ্যে দূরত্বের কারণে চন্দ্র পৃথিবীকে বেশি আকর্ষণ করায় নিজের দিকে টানে ফলে সমুদ্রের পানি কিছুটা স্ফীত হয়ে জোয়ারের সৃষ্টি করে। আবার, পৃথিবী তার নিজ মেরুরেখায় আবর্তন করার সময় কেন্দ্রাতিগ বল বা বিকর্ষণ শক্তির সৃষ্টি হয়। ফলে পৃথিবী মহাকর্ষ শক্তির বিপরীত দিকে ছিটকে যেতে চায়। এর ফলে জোয়ারের সৃষ্টি হয়।
উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-২ এ জাহাজের নাবিক জনাব নূর তিনি সমুদ্রের মধ্যে যে বিষয়টি খেয়াল করলেন তা হলো সমুদ্রস্রোত। মানবজীবনে সমুদ্রস্রোতের প্রভাব বিশ্লেষণ করা হলো-
নাতিশীতোষ্ণ এবং হিমমণ্ডলের অনেক সমুদ্রে শীতকালে পানি জমে বরফ হয়ে যায়। এরূপ অঞ্চলে উষ্ণ স্রোত প্রবাহিত হলে সমুদ্রের পানি বরফে পরিণত হতে পারে না।
সামুদ্রিক জাহাজ চলাচলের ওপর সমুদ্রস্রোতের যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে। স্রোতের অনুকূলে জাহাজ চালিয়ে অতি শীঘ্রই গন্তব্যস্থলে যাওয়া যায় কিন্তু প্রতিকূলে জাহাজ চালনা করলে অধিক সময় লাগে। উষ্ণ স্রোতের অনুকূলে জাহাজ চালনা নিরাপদ। কিন্তু শীতল স্রোতের গতিপথে হিমশৈল প্রভৃতির জন্য জাহাজ চালনায় অসুবিধা হয়।
হিমশৈল উষ্ণ স্রোতের সংস্পর্শে আসলে গলে যায় এবং তার সাথে প্রবাহিত মাটি, কাদা, উদ্ভিদ প্রভৃতি পানির তলদেশে সঞ্চিত হয়ে চড়াভূমির সৃষ্টি করে। নিউফাউন্ডল্যান্ডের নিকটে এরূপ এক বিরাট চড়ার সৃষ্টি হয়ে মৎস্যক্ষেত্র গড়ে উঠেছে।
উষ্ণ স্রোতের উপর দিয়ে আগত বায়ু উপকূলের দেশগুলোর উত্তাপ বৃদ্ধি করে। এ বায়ুতে অধিক জলীয়বাষ্প থাকে বলে তা স্থলভাগের উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সময় বৃষ্টিপাত ঘটায়। আবার শীতল স্রোত উপকূলস্থ দেশগুলোর জলবায়ুকে অপেক্ষাকৃত শীতল করে।
ঘন কুয়াশা, ঝড়-ঝঞ্ঝা প্রভৃতি প্রাকৃতিক বিপর্যয় অনেক সময় সমুদ্রস্রোতের প্রভাবেও সংঘটিত হয়ে থাকে। উষ্ণ ও শীতল সমুদ্রস্রোতের মিলনস্থলে উষ্ণতার পার্থক্যের কারণে ঘন কুয়াশা এবং ঝড়ের সৃষ্টি হয়।
সুতরাং সমুদ্রের পানির প্রবাহ অর্থাৎ সমুদ্রস্রোত মানবজীবনের কৃষি, শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য ও যাত্রী পরিবহনে, এমনকি জলবায়ুতে ইতিবাচক ও নেতিবাচক উভয় প্রভাবই রয়েছে।
উদ্দীপকে 'C' বলতে নদীর বার্ধক্য অবস্থাকে বোঝানো হয়েছে। নদীর বার্ধক্য অবস্থা হলো নদীর জীবনচক্রের শেষ পর্যায়, যা সাধারণত নদীর মোহনার কাছাকাছি সমভূমিতে দেখা যায়। এই পর্যায়ে নদীর স্রোত অত্যন্ত ধীর এবং পানির পরিমাণ বেশি থাকে। প্রধানত ক্ষয়কার্যের পরিবর্তে সঞ্চয় বা অবক্ষেপণ এই পর্যায়ের প্রধান কাজ।
এ অবস্থায় নদীর ঢাল না থাকায় সমতলভূমির পাশ দিয়ে নদী ধীরগতিতে প্রবাহিত হয়। নদীর তলদেশে পলি জমে ভরাট হয়ে যাওয়ার ফলে নুড়ি, বালি, পাথর সঞ্চয়ের ফলে প্লাবন সমভূমি গঠিত হয় এবং এটি মোহনার কাছে এলে গতিবেগ আরও কমে যায়।
ঘ উদ্দীপকে উল্লিখিত নদীর গতি 'A' ও 'B' দ্বারা যথাক্রমে নদীর ঊর্ধ্বগতি ও মধ্যগতিকে বোঝানো হয়েছে। নদীর উক্ত দুই পর্যায়ের মধ্যে মধ্যগতিতে বিস্তার অধিক হয়। নিচে তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হলো:
নদীর ঊর্ধ্বগতি হলো নদীর প্রাথমিক অবস্থা। পর্বতের যে স্থান থেকে নদীর উৎপত্তি হয়েছে, সেখান থেকে সমভূমিতে পৌছানো পর্যন্ত অংশকে নদীর ঊর্ধ্বগতি বলে। এ পর্যায়ে নদীর প্রধান কাজ হলো ক্ষয়সাধন। ঢালু বেশি হওয়ায় এখানে নদীর ক্ষয়কার্য বেশি হয়, সঞ্চয় খুব কম হয়।
অপরদিকে, পার্বত্য অঞ্চল পার হয়ে নদী যখন সমভূমির উপর দিয়ে প্রবাহিত হয় তখন এর প্রবাহকে মধ্যগতি বলে। এখানে নদীর বিস্তার উর্ধ্বগতি অবস্থার চেয়ে অনেক বেশি হয় কিন্তু গভীরতা ঊর্ধ্বগতি অবস্থার চেয়ে অনেক কম হয়। মধ্যগতিতে নদীর সঞ্চয় কাজ শুরু হয়। মধ্যগতিতে নদীর দুদিক ভরাট হয়ে নিচু ভূমি সমতল ভূমিতে রূপান্তরিত হয়। ফলে এ অবস্থায় নদীর বিস্তার অনেক বেশি থাকে।
বাংলাদেশে বর্ষাকালে বন্যার প্রধান কারণগুলো হলো-
১. অতিবৃষ্টি ও মৌসুমি বায়ুর প্রভাব।
২.উজান থেকে গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা নদীতে অতিরিক্ত পানি নেমে আসা।
৩. নদীগুলোর পলি জমে নাব্যতা কমে যাওয়া।
৪. নিম্নভূমি অঞ্চল বেশি হওয়ায় সহজে পানি জমে থাকা।
৫. জলোচ্ছ্বাস ও নদীভাঙনের প্রভাব।
মানচিত্রে 'Q' চিহ্নিত নদীটি হলো যমুনা নদী। এটি ব্রহ্মপুত্র নদের প্রধান ধারা হিসেবে উত্তর দিক থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করে দক্ষিণমুখে প্রবাহিত হয়েছে। নিচে এ নদীর গতিপথ বর্ণনা করা হলো:
ময়মনসিংহ জেলার দেওয়ানগঞ্জের কাছে ব্রহ্মপুত্রের শাখা যমুনা নদী নামে দক্ষিণে প্রবাহিত হয়ে দৌলতদিয়ার কাছে গঙ্গার সঙ্গে মিলিত হয়ে পদ্মা নাম ধারণ করে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়। করতোয়া ও আত্রাই যমুনার প্রধান উপনদী। ধলেশ্বরী এর শাখানদী এবং ধলেশ্বরীর শাখানদী বুড়িগঙ্গা।
মানচিত্রে 'P' ও 'R' নদী দুটি হলো যথাক্রমে কর্ণফুলী ও পদ্মা। বাংলাদেশের জাতীয় অর্থনীতি ও বাণিজ্যের ক্ষেত্রে দুটি নদীর মধ্যে তুলনামূলক 'P' অর্থাৎ কর্ণফুলী নদী অর্থনৈতিক দিক থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। নিচে তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হলো-
পদ্মা নদী অববাহিকার বিস্তীর্ণ পলিমাটি অত্যন্ত উর্বর, যা ধান, পাট ও আখসহ বিভিন্ন ফসল উৎপাদনে সাহায্য করে। এছাড়া সুস্বাদু ইলিশ মাছ আহরণ ও রপ্তানির মাধ্যমে অর্থনীতিতে বড়ো ধরনের বৈদেশিক মুদ্রা আয় করে। অন্যদিকে, কর্ণফুলী নদীর তীরে অবস্থিত চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর। দেশের আমদানি-রপ্তানির প্রায় ৯২ ভাগ চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর দিয়েই পরিচালিত হয়। এ বন্দর না থাকলে বাংলাদেশের পণ্য বিশ্ববাজার হতে বিচ্ছিন্ন থাকতো এবং দেশের সব ধরনের উন্নতি বন্ধ হয়ে যেত।
দেশের আমদানি-রপ্তানিজাত পণ্যসামগ্রী সুষ্ঠুভাবে পরিবহন ও সরবরাহের জন্য কর্ণফুলীর তীরে অবস্থিত এ বন্দর রেল, সড়ক ও জলপথে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে। বিভিন্ন প্রকার আমদানি ও রপ্তানিকৃত পণ্য কর্ণফুলী নদীর মাধ্যমে জলপথে স্থানান্তরিত হয়। এছাড়া আমদানি রপ্তানিসহ দেশে ব্যবহৃত পণ্যের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল কর্ণফুলী নদী দিয়ে পরিবহন হয়ে থাকে। এ নদীর পানি ব্যবহার করে আশপাশের অঞ্চলের কৃষিকাজ সম্পন্ন হয় যা দেশের প্রয়োজন মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি করা হয়।
সুতরাং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মূলভিত্তি চট্টগ্রাম বন্দর কর্ণফুলী নদীর তীরে অবস্থিত হওয়ায় সামগ্রিক জাতীয় অর্থনীতিতে কর্ণফুলী নদীর অবদান পদ্মা নদীর চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দৃশ্যকল্প-২: ১৯৯১ সালের ২৯শে এপ্রিল বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে এক ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ সংঘটিত হয়। এতে বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটে।
দৃশ্যকল্প-৩: যমুনা নদীর তীরের বাসিন্দা গনি মিয়া একজন গরীব কৃষক। সম্প্রতি এক প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে তাঁর বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
দৃশ্যকল্প-২ এর ধারণাটি হলো ঘূর্ণিঝড়। নিচে এর বর্ণনা করা হলো:
বাংলাদেশের দক্ষিণে ফানেলাকার আকৃতির কারণে এ দেশে ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রমুখী ও ঊর্ধ্বমুখী বায়ুরূপে পরিচিত। এর কেন্দ্রস্থলে নিম্নচাপ এবং উচ্চচাপ বিরাজ করে। বাংলাদেশে চৈত্র-বৈশাখ মাসে কোনো স্থানে হঠাৎ অধিক তাপের কারণে নিম্নবায়ুচাপের সৃষ্টি হয়। ফলে চারপাশ থেকে মৌসুমি বায়ু সেখানে প্রবাহিত হয় এবং ঘূর্ণিঝড়ের সৃষ্টি করে। বাংলাদেশের দক্ষিণে ফানেলাকার আকৃতির কারণে এদেশের অধিকাংশ ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়। ঘূর্ণিঝড় একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ। ঘূর্ণিঝড়ে বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটে, মানুষের ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ব্যাপক আকারে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। শুধু মানবজীবন কেড়ে নিয়ে ও বিপুল সম্পদ বিনষ্ট করেই ক্ষান্ত হয় না, এ প্রাকৃতিক বিপর্যয় উপদ্রুত অঞ্চলের মানবগোষ্ঠীর বিভিন্ন প্রতিবেশীসমূহের ক্ষতি করে। তারপরও সরকারি সহায়তা এবং বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার সাহায্যে আক্রান্ত অঞ্চলের মানুষ অনেকটাই বিপর্যয় কাটিয়ে ওঠে।
দৃশ্যকল্প-১ এ খরা এবং দৃশ্যকল্প-৩ এ নদীভাঙনের কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে নদীভাঙন অধিকতর ক্ষতিকর। নিচে তুলনামূলক আলোচনা করা হলো:
খরা প্রধানত বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের (রাজশাহী, রংপুর ও দিনাজপুর) মতো অঞ্চলে শীত ও গ্রীষ্মকালে দীর্ঘ শুষ্ক আবহাওয়ার সৃষ্টি করে। এতে সেচের অভাব দেখা দেয় এবং ধানসহ অন্যান্য ফসল উৎপাদন ব্যাহত হয়। অপরদিকে, নদীভাঙন মানুষকে রাতারাতি নিঃস্ব করে ভূমিহীনে পরিণত করে এবং দেশের মূল ভূখণ্ডের মানচিত্র পরিবর্তন করে। ধরার প্রভাব প্রধানত কৃষি ও খাদ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে এবং চার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে তা মোকাবিলা করা সম্ভব। কিন্তু দেীভাঙনে সবকিছু চিরতরে হারিয়ে যায়। খরার ফলে ফসলের ক্ষতি হলেও জমি অক্ষত থাকে। পক্ষান্তরে, নদীভাঙনে বসতভিটা ও আবাদি জমি চিরতরে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়, যা আর ফিরে পাওয়ার উপায় থাকে না।
সুতরাং উপরিউক্ত আলোচনা হতে বলা যায়, খরা একটি ধীরগতির দুর্যোগ যার জন্য আগে থেকে প্রস্তুতি নেওয়া যায় এবং অল্প অঞ্চলে ঘটে। বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। এ দেশের বড়ো বড়ো নদীতে ভাঙন সৃষ্টি হলে বিশাল এলাকাব্যাপী ভূমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। তাই এটি হলো অপরিবর্তনীয় ও ধ্বংসাত্মক। সর্বোপরি, খরার চেয়ে নদীভাঙন অধিকতর ক্ষতিকর।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।