সিলেট বোর্ড ২০২৬
১.

দৃশ্যকল্প-১: ক্লাসে শিক্ষক আমাদের চারপাশের পরিবেশ সম্পর্কে পাঠদান করছিলেন। যা আমাদের পাঠ্যক্রমের এক বিশেষ অংশ।

দৃশ্যকল্প-২: একদল শিক্ষার্থী দেশের সর্ব দক্ষিণ অঞ্চলে গিয়ে দেখল কূল-কিনারা বিহীন এক বিশাল জলরাশি যেখানে অনেক সামুদ্রিক সম্পদ রয়েছে।

উত্তর ভূগোলের যে শাখায় ভৌত পরিবেশ ও এর মধ্যে কার্যরত বিভিন্ন প্রক্রিয়া অন্তর্ভুক্ত থাকে, তাকে প্রাকৃতিক ভূগোল বলে।
উত্তর

মহীঢালের ভূপ্রকৃতিগত কারণে এর প্রশস্ততা কম।

মহীসোপানের একটি বিস্তৃত ভূমির পর বেশ ঢালু একটি অঞ্চল হরো মহীঢাল। এটি সমুদ্রের ভিতর সমভূমি পর্যন্ত বিস্তৃত। মূলত ঢালু বেশি হওয়াতে মহীসোপান থেকে বালু, কর্দম, কাকর, পলি, বর্জ্য পদার্থ ফেলার পর তা সেখানে সঞ্চয় বা জমা না হয়ে গভীর সমুদ্রের সমভূমি অঞ্চলে পতিত হয়। এ কারণে মহীঢালের প্রশস্ততা বেশি হয় না।

উত্তর

দৃশ্যকল্প-১ এ শিক্ষক যে বিষয় নিয়ে পড়াচ্ছেন তা হলো পরিবেশ ভূগোল; যা ভূগোলের একটি শাখা। নিম্নে এ সম্পর্কে ব্যাখ্যা করা হলো-

পরিবেশ ভূগোল হলো আমাদের চারপাশে যেসব উপাদান রয়েছে তা স্থান ও সময় অনুযায়ী কেমন প্রকৃতির তা নির্দেশ করে।

মানুষ পৃথিবীতে বাস করে এবং পৃথিবীতেই তার জীবনযাত্রা নির্বাহ করে। পৃথিবীর প্রাকৃতিক পরিবেশ তার জীবনযাত্রাকে প্রভাবিত করে। যেমন- জলবায়ু, ভূপ্রকৃতি, উদ্ভিদ, প্রাণী, নদ-নদী, সাগর, খনিজ সম্পদ প্রভৃতি জীবন যাত্রাকে বিভিন্ন ভাবে প্রভাবিত করে।

মানুষের ক্রিয়াকলাপ তার পরিবেশে পরিবর্তন ঘটায়। যেমন- বনভূমি কেটে গ্রাম বা শহরের মতো লোকালয় তৈরি করছে। খাল, বিল, পুকুর ভরাট হয়। মানুষ ও পরিবেশের মধ্যে এই মিথস্ক্রিয়ার একটি সম্বন্ধ আছে। এই সম্বন্ধের মূলে আছে কার্যকরণের খেলা। পরিবেশ। ভূগোলের কাজ হলো এই কার্যকরণ উদঘাটন করা। পৃথিবীর চারপাশে যেসব পরিবেশের উপাদান রয়েছে সে সম্পর্কে যুক্তিপূর্ণ আলোচনাই পরিবেশ ভূগোল।

উত্তর

দৃশ্যকল্প-২ এ শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণের বঙ্গোপসাগর দেখতে পেল। উক্ত বঙ্গোপসাগরে যেসব সম্পদ রয়েছে তা বাংলাদেশের জাতীয় আয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিম্নে তা বর্ণনা করা হলো-

বঙ্গোপসাগর বাংলাদেশের জন্য একটি আশির্বাদ। এখানে প্রচুর পরিমাণ সামুদ্রিক মাছ রয়েছে যা সংরক্ষণ করে বিদেশে রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা হয়।

সমুদ্রের জোয়ারভাটার ফলে সামুদ্রিক বাণিজ্যিক জাহাজ সহজেই বন্দরে এসে পৌছে। এতে জ্বালানি খরচ কমে আসে। এছাড়া জোয়ারভাটাকে কেন্দ্র করে লবণ চাষ করা হয়। এতে দেশের আয়োডিন ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব হয়েছে। বঙ্গোপসাগরে অনেক ধরনের খনিজ পদার্থ রয়েছে যা সঠিকভাবে উত্তোলন করা সম্ভব হলে দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি মজবুত হবে। উল্লেখ্য বঙ্গোপসাগর থাকার কারণে কক্সবাজার, পটুয়াখালি জেলাগুলোতে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে উঠেছে। এর ফলে পর্যটন শিল্পে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি লাভ করছে।

সমুদ্র থাকার কারণে বিদেশের সাথে জলপথে নিরাপদে পণ্য আনা দেওয়ার ক্ষেত্রে সহজ হয়েছে। এতে বিদেশি বিনিয়োগ কারীরা জলপথে উন্নত ধরনের যোগাযোগ সুবিধা থাকায় এদেশে বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ করছে। এতে দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী হচ্ছে।

সর্বোপরি, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নতিরমূলে রয়েছে দক্ষিণাঞ্চলের আশির্বাদ বঙ্গোপসাগর।

২. উদ্দীপকটি পড়ো এবং নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
উদ্দীপকের ছবি
উত্তর স্থান ও সময়ের প্রেক্ষিতে পরিবেশ ও মানুষের মিথস্ক্রিয়া অধ্যয়ন ও বিশ্লেষণ করাই ভূগোল।
উত্তর পরিবেশের- জীব উপাদান হলো প্রকৃতির সেই সব অংশ যাদের। জীবন আছে, বুদ্ধি ও বংশ বৃদ্ধি হয়। এরা পরিবেশে শ্বাস নেয়, খাদ্য। গ্রহণ করে এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা রাখে।
প্রধান জীব উপাদানের মধ্যে রয়েছে গাছপালা, মানুষ, পশুপাখি, কীটপতঙ্গ এবং অণজীব।
উত্তর

কলাম-A উপাদানগুলো মানব ভূগোলের আওতাভুক্ত অর্থনৈতিক ভূগোলের অন্তর্ভুক্ত। নিম্নে এ সম্পর্কে আলোচনা করা হলো-

পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে মানুষের অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের বিকাশ, বিস্তার ও স্থানিক বণ্টন নিয়ে আলোচনা করে অর্থনৈতিক ভূগোল। এটি প্রাকৃতিক পরিবেশের সাথে মানুষের অর্থনৈতিক ত্রিয়াকলাপের - পারস্পরিক সম্পর্কের বিচার-বিশ্লেষণ করে। সহজে বলা যায়, কোথায় কী উৎপন্ন হচ্ছে, কেন হচ্ছে এবং কীভাবে তা বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ছে তা জানাই অর্থনৈতিক ভূগোলের মূল বিষয়। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়- কৃষিকাজ, পশুপালন, বনজ সম্পদ, খনিজ সম্পদ সংগ্রহ, ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা প্রভৃতি অর্থনৈতিক কাজগুলো মানুষ প্রাকৃতিক ও সামাজিক পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে পরিচালনা করছে যা উদ্দীপকের উপাদানগুলোর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। এসব কিছুই অর্থনৈতিক ভূগোল বিশদভাবে বর্ণনা করে থাকে।

উত্তর

কলাম-B এর যেসব উপাদান গুলো রয়েছে সেগুলো প্রাকৃতিক ভূগোলের বিভিন্ন শাখার অন্তর্ভুক্ত। তন্মধ্যে ভূমিরূপ বিদ্যা, জলবায়ু বিদ্যা, জীবভূগোল, মৃত্তিকা ভূগোল ও সমুদ্রবিদ্যা উল্লেখযোগ্য। নিচে এর সপক্ষে মতামত উপস্থাপন করা হলো-

উদ্দীপকে B কলামের ১ম উপাদান হলো মানুষ যা জীব-ভূগোলের আওতাভুক্ত। এখানে পৃথিবীপৃষ্ঠের প্রাণিজগৎ এবং উদ্ভিদের বণ্টন নিয়ে আলোচনা করা হয়।

২য় উপাদান হলো মাটি, যা মৃত্তিকা ভূগোলের আওতাভুক্ত। এখানে অশ্মমন্ডলের উপরিভাগের মৃত্তিকা এবং এর বণ্টন নিয়ে আলোচনা করা হয়। ৩য় উপাদান হলো পানি; যা সমুদ্রবিদ্যার অন্তর্গত। এ শাখায় বিভিন্ন মহাদেশের মধ্যে সমুদ্রপথে যোগাযোগ, সমুদ্রের পানির রাসায়নিক গুণাগুণ ও সামুদ্রিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা করে।

এছাড়া রয়েছে বায়ু, যা জলবায়ু বিদ্যার আওতাভুক্ত। এ শাখায় বায়ু-মণ্ডলের দীর্ঘমেয়াদি আবহাওয়ার ধরন এবং এর সপক্ষে পৃথিবীর প্রভার সম্পর্কে আলোচনা করে।

৩. উদ্দীপকটি পড়ো এবং নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
উদ্দীপকের ছবি
উত্তর পৃথিবীর উপরিভাগে, নিচে এবং বায়ুমণ্ডলে বিদ্যমান সমস্ত জল রাশির সমষ্টিকে বারিমণ্ডল বলে।
উত্তর

কানাডার পূর্ব উপকূলে বরফাচ্ছন্ন অবস্থা দেখা যাওয়ার প্রদান কারণ হলো ভৌগোলিক অবস্থান, সমুদ্রস্রোত এবং মহাদেশীয় জলবায়ুর প্রভাব।

কানাডার পূর্ব উপকূলে উত্তর মেরু থেকে আগত শীতল স্রোতের প্রভাবে বাতাস প্রচণ্ড শীতল হয়ে বরফ জমাতে সাহায্য করে। এছাড়া, কানাডার বেশিরভাগ অঞ্চলে মহাদেশীয় জলবায়ু বিরাজ করে, যার ফলে শীতকালে তাপমাত্রা প্রচণ্ড কমে যায় এবং বরফাচ্ছন্ন হয়। সর্বোপরি, এ অঞ্চলটি ভৌগোলিকভাবে উত্তর মেরুর কাছাকাছি হওয়ায় উত্তর মেরু থেকে আগত শীতল বায়ু বরফে পরিণত করতে সহায়তা করে।

উত্তর

চিত্রে 'A' দ্বারা মহীসোপানকে বোঝানো হয়েছে। নিম্নে ভূমিরূপটির বর্ণনা দেওয়া হলো-

পৃথিবীর মহাদেশ আসমূহের চারদিকে স্থলভাগের কিছু অংশ অল্প ঢালু হয়ে সমুদ্রের পানির মধ্যে নেমে গেছে। এরূপ সমুদ্রের উপকূলরেখা থেকে তলদেশ ক্রমনিম্ন নিমজ্জিত অংশকে মহীসোপান বলে। এ ভূমিরূপটির সর্বোচ্চ গভীরতা ১৫০ মিটার। এটি ১° কোণে সমুদ্র তলদেশে নিমজ্জিত থাকে। এর গড় প্রশস্ততা ৭০ কিলোমিটার।

মহীসোপানের সবচেয়ে উপরের অংশকে উপকূলীয় ঢাল বলে। এর বিস্তৃতি সর্বত্র সমান নয়। উপকূলভাগের বন্ধুরতার উপর এর বিস্তৃতি নির্ভর করে। উপকূল যদি বিস্তৃত সমভূমি হয়, তবে মহীসোপান অধিক প্রশস্ত হয়। মহাদেশের উপকূলে পর্বত বা মালভূমি থাকলে মহীসোপান সংকীর্ণ হয়।

উত্তর

চিত্রে 'B' দ্বারা মহীঢাল ও 'C' দ্বারা গভীর সমুদ্র খাতকে বোঝানো হয়েছে। উক্ত দুটি ভূমিরূপের মধ্যে 'C' অর্থাৎ গভীর সমুদ্রখাতে আগ্নেয়গিরি অধিক হয়। নিচে মতামত দেওয়া হলো-

'B' অর্থাৎ মহীঢাল হঠাৎ খাড়াভাবে নেমে সমুদ্রের তলদেশের সাথে মিশে যায়। এর গভীরতা ২০০ থেকে ৩,০০০ মিটার। এটি বেশি ঢালু ও বন্ধুর প্রকৃতির হওয়ায় কিছু গিরিখাত রয়েছে।

অন্যদিকে, গভীর সমুদ্রখাতে প্রচুর আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ঘটে। এর মূল কারণ হলো পৃথিবীর টেকটোনিক প্লেটের নড়াচড়া এবং ভূগর্ভস্থ গলিত ম্যাগমার চাপ। সমুদ্রের তলদেশে বিশেষ করে যেখানে একটি প্লেট অন্য প্লেটের নিচে ঢুকে যায়, সেখানে প্রচণ্ড চাপের ফলে ম্যাগমা উপরের দিকে উঠে এসে অগ্ন্যুৎপাত ঘটায়। এই গলিত শিলা বা ম্যাগমা ঘনত্ব কম হওয়ায় উপরের দিকে উঠে আসে তখন গভীর সমুদ্রখাতে দুর্বল ফাটল দিয়ে এসে এখানে ব্যাপক হারে অগ্নুৎপাত ঘটায়।

সুতরাং বলা যায়, উপরিউক্ত কারণে মহীঢালের চেয়ে গভীর সমুদ্রখাতে আগ্নেয়গিরি অধিক হয়।

৪. উদ্দীপকটি পড়ো এবং নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
উদ্দীপকের ছবি
উত্তর পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের বাইরে এবং বিভিন্ন বস্তুর (গ্রহ, নক্ষত্র, গ্যালাক্সি) মধ্যবর্তী সুবিশাল ফাঁকা স্থানকে মহাকাশ বলে।
উত্তর পৃথিবী সূর্যের প্রচন্ড মহাকর্ষ বলের টানে তার চারদিকে ঘোরে। সূর্যের বিশাল ভর এবং এর কেন্দ্রমুখী আকর্ষণ পৃথিবীকে নির্দিষ্ট উপবৃত্তাকার কক্ষপথে ধরে রাখে। অন্যদিকে পৃথিবীর নিজস্ব গতি তাকে সূর্যের ভেতর ছিটকে পড়া থেকে রক্ষা করে। এই দুই বলের ভারসাম্যেই পৃথিবী সূর্যের চারপাশে প্রদক্ষিণ করে।
উত্তর

'A' চিহ্নিত গ্রহটি হলো 'শুক্র'। নিম্নে এ গ্রহ সম্পর্কে আলোচনা করা হলো-

সূর্য থেকে নিকটতম দিক থেকে শুক্র দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। সূর্য থেকে এ গ্রহের দূরত্ব ১০.৮ কোটি কিলোমিটার। এ গ্রহের ব্যাস ১২,১০৪ কিলোমিটার। সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে শুক্রের সময় লাগে ২২৫ দিন। এটি ঘন মেঘে ঢাকা। তাই এর উপরিভাগ থেকে সূর্যকে কখনই দেখা যায় না। এর মেঘাচ্ছন্ন বায়ুমণ্ডল প্রধানত কার্বন-ডাইঅক্সাইডের তৈরি। এটি সৌরজগতের উজ্জ্বল ও সবচেয়ে উত্তপ্ত গ্রহ। শুক্র গ্রহ অন্য গ্রহের চেয়ে ব্যতিক্রম। এটি পূর্ব থেকে পশ্চিমে পাক খায়।

উত্তর

উদ্দীপকে 'C' ও 'B' চিহ্নিত গ্রহ দুটি হলো যথাক্রমে মঙ্গল ও পৃথিবী গ্রহ। এ দুয়ের মধ্যে 'B' গ্রহ তথা পৃথিবী গ্রহ মানব বসবাসের জন্য উপযুক্ত।

পৃথিবী গ্রহটি সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে সময় লাগে ৩৬৫ দিন। পৃথিবীই একমাত্র গ্রহ যার বায়ুমণ্ডলে জীবন ধারণের প্রয়োজনীয় অক্সিজেন, নাইট্রোজেন ও তাপমাত্রা রয়েছে। যা উদ্ভিদ ও জীবজন্তু বসবাসের উপযোগী।

অপরদিকে, মঙ্গল গ্রহটি সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে সময় নেয় ৬৮৭ দিন মঙ্গল গ্রহের উপরিভাগে রয়েছে গিরিখাত ও আগ্নেয়গিরি। এ গ্রহে অক্সিজেন ও পানির পরিমাণ খুবই কম। তবে কার্বন-ডাইঅক্সাইডের পরিমাণ এত বেশি যে প্রাণীর অস্তিত্ব থাকা সম্ভব নয়।

যেকোনো গ্রহে জীবের অস্তিত্ব থাকার জন্য গ্রহের বায়ুমণ্ডলে সহনীয় মাত্রায় অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, তাপমাত্রাসহ, পানি ও অন্যান্য উপাদান প্রয়োজন। সেক্ষেত্রে দুটি গ্রহের মধ্যে 'B' গ্রহে সহনীয় মাত্রায় এসব উপাদান বিদ্যমান রয়েছে। সুতরাং 'C' গ্রহটিতে প্রাণী বসবাসের উপযোগী পরিবেশ নেই; বরং 'B' তথা পৃথিবী নামক গ্রহটি প্রাণী বসবাসের জন্য উপযুক্ত।

বুধ সৌরজগতের ক্ষুদ্রতম এবং সূর্যের নিকটতম পাথুরে গ্রহ। অন্যদিকে, বৃহস্পতি হলো সূর্য হতে দূরতম ও বৃহত্তম গ্যাসীয় গ্রহ। সূর্য থেকে বুধ গ্রহের গড় দূরত্ব ৫.৮ কোটি কিলোমিটার। বুধ মাত্র ৮৮ দিনে সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করে। এর ব্যাস মাত্র ৪,৮৭৯ কিলোমিটার। অপরদিকে, সূর্য থেকে বৃহস্পতি গ্রহের গড় দূরত্ব ৭৭.৮ কোটি কিলোমিটার। সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করতে বৃহস্পতি গ্রহের প্রায় ১২ বছর সময় লাগে। এর ব্যাস প্রায় ১,৪২,৯৮৪ কিলোমিটার। বুধ গ্রহের বায়ুমণ্ডল নেই বললেই চলে। সূর্যের প্রচণ্ড কাছের কারণে দিনের তাপমাত্রা ৪০০° সেলসিয়াস এবং রাতে -১৮০° সেলসিয়াস। অন্যদিকে বৃহস্পতির বায়ুমণ্ডল অত্যন্ত ঘন এবং এখানে বিশাল ঝড় ও ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হয়। বুধ গ্রহের কোনো প্রাকৃতিক উপগ্রহ নেই। কিন্তু বৃহস্পতি গ্রহের অন্তত ৯৫টি স্বীকৃত প্রাকৃতিক উপগ্রহ রয়েছে।

সুতরাং, উপরের দুটি গ্রহের তুলনামূলক বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে বলা যায় যে, বুধ ও বৃহস্পতি গ্রহের বৈশিষ্ট্যের মধ্যে ভিন্নতা লক্ষ করা যায়।

৫.

রহিম চাচা বাংলাদেশের উপকূলী এলাকায় বসবাস করে। একদিন সে একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগের সতর্ক সংকেত শুনতে পায়। সে বাসা ছেড়ে দ্রুত আশ্রয় কেন্দ্রে চলে যায়।

অন্যদিকে সবুর মিয়া একজন গরিব কৃষক। সম্প্রতি প্রচণ্ড তাপ ও দীর্ঘ অনাবৃষ্টির কারণে তার জমির ফসল মরে যাচ্ছে।

উত্তর দূর্যোগ হচ্ছে এরূপ ঘটনা, যা সমাজের স্বাভাবিক কাজকর্মে প্রচণ্ড ভাবে বিঘ্ন ঘটায় এবং জীবন, সম্পদ ও পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে।
উত্তর

প্রাকৃতিক ও মনুষ্য-সৃষ্ট কারণেই ভূমিকম্প হয়ে থাকে। মহাদেশীয় প্লেট ও মহাসাগরীয় প্লেটে সংঘর্ষ হওয়ার কারণে ভূমিকম্প সৃষ্টি হয়। অন্যদিকে, জলবায়ুর পরিবর্তনে বরফ গলে যাচ্ছে ।

ফলে পাহাড় অঞ্চলের মাটি ক্ষয়ীভূত হয়ে বিশাল স্তূপ আকারে নিচের দিকে পতিত হয়ে ভূমিকম্প প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়া খনিজ পদার্থ অত্যধিক উত্তোলন করার ফলে ভূমিতে চ্যুতিতে বা ফাটল দেখা যায় তখন সে অঞ্চলে প্রচণ্ড রকম ভূমিধসের ফলে ভূমিকম্প অনুভূত হয়। সুতরাং উল্লিখিত কারণে ভূমিকল্প প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

উত্তর

উদ্দীপকে ঘূর্ণিঝড়ের কারণে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাস হতে রক্ষা পাওয়ার জন্য রহিম চাচা আশ্রয় কেন্দ্রে যায়। নিম্নে এ সক্ষর্কে আলোচনা করা হলো:

ঘূর্ণিঝড় একটি সামুদ্রিক ও স্থলভাগ উভয় অঞ্চলে হয়। যেহেতু রহিম চাচা উপকূলীয় অঞ্চলে বাস করেন সেহেতু তার এলাকায় এটি একটি সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড় এবং এর ফলে সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাস সৃষ্টি হয়। যেখানে সমুদ্রের পানির ঢেউ ২০ থেকে ১৫ ফুট উচ্চতায় উপরের দিকে উঠে উপকূলীয় অঞ্চলে আঘাত হানে এবং পাশাপাশি প্রচণ্ড বাতাস উপকূলীয় অঞ্চলে ধেয়ে আসে। এতে উপকূলীয় অঞ্চলের উদ্ভিদ ও প্রাণীকূল মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হয়। ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়, গাছপালা ভেঙ্গে, উগড়ে যায়, খাল, বিল, নিচু এলাকায় সমুদ্রের লবণকে পানি প্রবেশ করায় খাবারের পানির সংকট দেখা দেয়।

মানুষসহ গবাদি পশুর জীবন বিপন্ন হয়। অনেক সময় মারাও যেতে পারে। উল্লিখিত কারণে রহিম চাচা ঘূর্ণিঝড়ের সর্তক সংকেত বোঝার পরই আশ্রয়কেন্দ্রে বলে যান।

উত্তর

উদ্দীপকে সবুর মিয়ার অঞ্চলে সে দুর্যোগটি পরিলক্ষিত হয় তা হলো 'খরা'। উক্ত দুর্যোগ তথা খরা মোকাবেলায় যে যে পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে তা নিম্নে আলোচনা করা হলো:

খরা নিয়ন্ত্রণে স্থায়ীভাবে কোন প্রতিকার নেই, তবে কিছু কিছু কার্যক্রম করা ডেতে পারে। যেমন- বৃষ্টির মৌসুমে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করা যেতে পারে। এর জন্য পুকুর খাল, ডোবা প্রভৃতি খনন করে পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

আবার, কৃষিক্ষেত্রে মালাচিং পদ্ধতি প্রয়োগ করতে হবে। অর্থাৎ যেকোন উদ্ভিদের নিচের অংশে যেটা মাটির সাথে লেগে থাকে অর্থাৎ উদ্ভিদের গোড়া খর বা শুকনো পাতা দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। এতে ভিতরে আর্দ্রতা থাকে।
বেশি বেশি গাছ, লাগাতে হবে। এতে করে তাপমাত্রা কমবে এবং আর্দ্রতা বৃদ্ধি পাবে ও বৃষ্টিপাত বেশি সংঘটিত হবে। জমিতে বেশি পরিমাণ রাসায়নিক সারের পরিবতে জৈব সার ব্যবহার করতে হবে। এতে। কৃষি জমিতে আদ্রর্তা বাড়বে।

সুতরাং বলা যায় খরা যেমন একদিনে সৃষ্টি হয়নি তেমনি এর প্রতিকারও এত দ্রুত সম্ভব নয়। তথাপি উপরিউক্ত পদক্ষেপ গুলো দীর্ঘমেয়াদি করার মাধ্যমে খরাপ্রবণ এলাকায় খরা কিছুটা লাঘর হবে বলে মনে করি।

৬. উদ্দীপকটি পড়ো এবং নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
উদ্দীপকের ছবি
উত্তর দুই বা ততোধিক নদীর মিলনস্থকে নদী সংগম বলে।
উত্তর ভূপৃষ্ঠের ধীর পরিবর্তন হওয়ার পিছনে যেসব প্রাকৃতিক শক্তি রয়েছে তা হলো মহাদেশীয় ও মহাসাগরীয় প্লেটের গতিবেগ সূর্যতাপ, নদী, বায়ু, হিমবাহ দ্বারা শিলা পরিবর্তন। ভূমিরূপ এসব প্রাকৃতিক শক্তি দ্বারা খুব ধীরে ধীরে পরিবর্তন হয়ে নতুন ভূমিরূপের সৃষ্টি হয়। এতে সূর্যতাপ, বায়ু, বৃষ্টি নদী প্রভৃতি দ্বারা ধীরে ধীরে ভূত্বকের ক্ষয়সাধন হয়। ফলে ভূত্বকের উপরিস্থিত শিলা ভেঙ্গে চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়। এবং ধীরে ধীরে ক্ষয়প্রাপ্ত, সঞ্চয়ের মধ্যে নতুন ভূ-ভাগসৃষ্টি করে।
উত্তর

চিত্রে 'D' দ্বারা ভূ-অভ্যন্তরের দ্বিতীয়স্তর গুরুমণ্ডলকে চিহ্নিত করা হয়েছে। নিচে এ স্তর সম্পর্কে ব্যাখ্যা করা হলো:

ভূত্বকের নিচের প্রায় ২৮৮৫ কিলোমিটার পর্যন্ত পুরুমণ্ডলকে গুরুমণ্ডল বলে। এটি মূলত ব্যাসল্ট শিলা দ্বারা গঠিত। এ অংশে রয়েছে সিলিকণ, ম্যাগনেসিয়াম, লোহা, কার্বন ও অন্যান্য খনিজ পদার্থ। এটি দুটি ভাগে বিভক্ত। যথা- ঊর্ধ্ব গুরুমণ্ডল যা ৭০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। এই মণ্ডল প্রধানত লোহা ও ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ সিলিকেট খনিজ দ্বারা গঠিত। এছাড়া বাকী অংশ রয়েছে নিম্ন গুরুমণ্ডল। এখানে প্রধানত আয়রন অক্সাইড, ম্যাগনেসিয়াম অক্সাইড এবং সিলিকন ডাই-অক্সাইড সমৃদ্ধ খনিজ দ্বারা গঠিত।

উত্তর

চিত্রে 'A' দ্বারা কেন্দ্রমণ্ডল এবং 'C' দ্বারা অশ্মমণ্ডলকে চিহ্নিত করা হয়েছে। নিম্নে উক্ত দুটি স্তরের তুলনামূরক আলোচনা করা হলো :

ভূ-অভ্যন্তরের প্রথম স্তরটি হলো অশ্মমণ্ডল। অশ্মমণ্ডলের উপরে থাকে ভূত্বক এটি ভূপৃষ্ঠ থেকে ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত পুরু। ভূত্বক মহাদেশে ৩৫ কিলোমিটার এবং সমুদ্রের তলদেশে ৫ কিলোমিটার পুরু।
অপরদিকে, ভূ-অভ্যন্তরের তৃতীয় স্তর তথা সবশেষ স্তর হলো কেন্দ্রমণ্ডল। গুরুমণ্ডলের নিচ থেকে পৃথিবীর কেন্দ্র পর্যন্ত এই মণ্ডল বিস্তৃত। এ স্তর প্রায় ৩,৪৮৬ কিলোমিটার পুরু।

অশ্মমণ্ডলের মহাদেশীয় ভূত্বকের এ স্তরকে সিয়াল (Sial) স্তর বলে যা সিলিকণ (Si) ও অ্যালুমিনিয়াম (Al) দ্বারা গঠিত এবং মহাসাগরীয় ভূত্বকের নিচে রয়েছে সিমা (Sima) স্তর যা সিলিকণ (Si) ও ম্যাগনেসিয়াম (Mg) দ্বারা গঠিত। সিমা স্তর সিয়াল স্তরের তুলনায় ভারী। ব্যাসল্ট স্তরই পৃথিবী জুড়ে বহিরাবরণ ও সমুদ্রের গভীর তলদেশে বিদ্যামন।

অপরদিকে, ভূকম্পন তরঙ্গের মধ্যেমে জানাগেছে কেন্দ্রমণ্ডলের একটি তরল বাহিরাবরণ আছে যা ২২৭০ কিলোমিটার পুরু এবং একটি গঠিন অন্তঃভাগ আছে, যা ১২,১৬ কিলোমিটার পুরু। কেন্দ্র মণ্ডলের উপাদান গুলো, মধ্যে লোহা, নিকেল, পারদ ও সীসা রয়েছে।

সুতরাং বলা যায়, কেন্দ্রমণ্ডল ও অশ্মমণ্ডল দুটির গঠন বৈশিষ্ট্য ও অবস্থান অনুযায়ী ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়।

৭. উদ্দীপকটি পড়ো এবং নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
উদ্দীপকের ছবি
উত্তর পৃথিবী বা এর কোনো অংশ বিশেষকে কোনো সমতল ক্ষেত্রের ওপর স্কেল বা নির্দিষ্ট অনুপাতে ও সাংকেতিক চিহ্নের মাধ্যমে উপস্থাপন করাকে মানচিত্র (Map) বলে।
উত্তর

মানচিত্রের দিক জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মানচিত্রে উত্তর দিক ব্যবহার করা হয় পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানের অবস্থান ও দিক সঠিক ভাবে নির্ণয় করার জন্য।

সাধারণত উত্তর দিককে ভিত্তি ধরে পূর্ব, পশ্চিম ও দক্ষিণ দিক নির্ধারণ করা সহজ হয়। ফলে মানচিত্র পড়া এবং বিভিন্ন স্থানের অবস্থান বোঝা সুবিধা জনক হয়।

উত্তর

চিত্র-১ দ্বারা প্রাকৃতিক মানচিত্রকে বোঝানো হয়েছে।

এ মানচিত্র হলো পৃথিবীর উপরিভাগের প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য যেমন-পর্বত, মালভূমি, সমভূমি, হ্রদ এবং মহাসাগর ইত্যাদির ভৌগোলিক অবস্থান ও বিস্তৃতি তুলে ধরার একটি চিত্ররূপ। এটি মূলত ভূ-প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য, উচ্চতা এবং জলাশয় নির্দেশ করে, যা ভৌগোলিক জ্ঞান ও ভূমি ব্যবহার পরিকল্পনার অপরিহার্য। এই মানচিত্রের মাধ্যমে একটি দেশের সামগ্রিক প্রাকৃতিক কাঠামো সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়।

উত্তর

চিত্র-২ দ্বারা মৌজা মানচিত্রকে বোঝানো হয়েছে। উক্ত মানচিত্রটি জমিজমা সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে যেরূপ ভূমিকা পালন করে তাঁ আলোচনা করা হলো-

জমিজমা সংক্রান্ত জটিলতা ও বিরোধ নিরসনে মৌজা মানচিত্র একটি অপরিহার্য আইনি ও কারিগরি দলিল। মৌজা ম্যাপ মূলত একটি নির্দিষ্ট এলাকার ভূপ্রকৃতি, জমির সীমানা, দাগ নম্বর, রাস্তা, জলাশয় এবং বিভিন্ন প্লটের অবস্থান নির্দেশক স্কেলভিত্তিক চিত্র। ম্যাপের মাধ্যমে জমির প্রকৃত অবস্থান, পরিধি, আকৃতি এবং প্রতিবেশী জমির সাথে সীমানা স্পষ্ট বুঝা যায়।

জমির দলিলে বর্ণিত দাগ নম্বর এবং বাস্তব জমির মিল আছে কিনা তা মৌজা ম্যাপের সাহায্যে নিশ্চিত করা যায়। সিএস (CS), এসএ (SA), আরএস (RS) বা বিআরএস (BS/BRS) ম্যাপের মাধ্যমে মালিকানা সংক্রান্ত যেকোনো ভুল সংশোধন করা যায়।

সুতরাং বলা যায়, সঠিক সীমানা নির্ধারণ, মালিকানার প্রমাণ এবং জমিসংক্রান্ত যেকোনো বিরোধপূর্ণ তথ্য উদঘাটনে মৌজা ম্যাপ একটি ভিত্তিগত ও চূড়ান্ত প্রামাণ্য দলিল।

৮. উদ্দীপকটি পড়ো এবং নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
উদ্দীপকের ছবি
উত্তর বছরের যে সময়ে কোনো অঞ্চলে মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি বৃষ্টি পাত ঘটে এবং বার্ষিক বৃষ্টিপাতের সিংহভাগ সম্পন্ন হয় সেই সৌসুমকে বর্ষাকাল বলে।
উত্তর বাংলাদেশের জলবায়ু সাধারণত সমভাবাপন্ন। বিভিন্ন ঋতুতে জলবায়ুর কিছুটা তারতম্য হলে ও শীত ও গ্রীষ্মপ্রধান দেশের মতো চরমভাবাপন্ন হয় না। উষ্ণ ও আর্দ্র গ্রীষ্মকাল এবং শুষ্ক শীতকাল বাংলাদেশের জলবায়ুর প্রধান বৈশিষ্ট্য। মূলত মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বাংলাদেশের জলবায়ু সমভাবাপন্ন হয়ে থাকে। গ্রীষ্মকালে এখানে দক্ষিণ-পূর্ব মৌসুমি বায়ু প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটায়। ফলে তেমন ঠান্ডা অনুভূত হয় না। আবার শীকালে উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু এখানকার জলবায়ুকে আরামদায়ক রাখে।
উত্তর

চিত্রে 'A' চিহ্নিত দ্বারা দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড় সমূহকে বোঝানো হয়েছে যা টারশিয়ারী যুগে সৃষ্টি হয়েছে। নিম্নে এর ভূমিরূপ ব্যাখ্যা করা হলো:

দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ভূমিরূপগুলো উঁচু-নিচু বন্ধর প্রকৃতির। এটি টারশিয়ারী যুগে তথা হিমালয় পর্বত উত্থানের সময় সৃষ্টি হয়েছিল বলে ভূ-তাত্বিকদের অভিমত। উক্ত অঞ্চলের ভূমি গুলো বেসে পাথর শেল ও কর্দম দ্বারা গঠিত। এখানকার মৃত্তিকা ধূসর প্রকৃতির। এখানকার ভূমি গুলো সমুদ্র সমতল থেকে বেশ উচুতে অবস্থিত। প্রায় ৬১০ মিটারের অধিক উচ্চতাবিশিষ্ট উচ্চভূমি বা পর্বত এখানে দৃশ্যমান দক্ষিণ-পূর্বের পাহাড় গুলো গড় উচ্চতা ৬১০ মিটার।

সুতরাং বলা যায়, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড় গুলো বাংলাদেশের ভূমি গুলোর মধ্যে সবচেয়ে উচ্চভূমি ও পুরাতন ভূমি। এখানে ভূপ্রাকৃতিক বৈচিত্র্যতা পরিলক্ষিত হয়।

উত্তর

'B' চিহ্নিত অঞ্চল হলো বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল তথা মধুপুর ও ভাওয়াল গড় এবং 'C' চিহ্নিত অঞ্চল হলো উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বরেন্দ্রভূমি। উভয় অঞ্চলই একই ধরনের ভূপ্রকৃতির অন্তর্গত। নিম্নে বিশ্লেষণ করা হলো:

মধুপুর গড় ও বরেন্দ্রভূমি মূলত প্লাইস্টোসিনকালের যোপান বা চত্বরসমূহের অন্তর্গত। এরা পার্শ্ববর্তী প্লাবনভূমির তুলনায় তুলনামূলক উঁচু (প্রায় ১ থেকে ১০ মিটার) এবং প্রাচীন পলল দ্বারা গঠিত।
উভয় অঞ্চলের মাটির মূল উপাদান হলো অতিমাত্রায় বিচূর্ণিত ও জারিত লালচে ধূসর বা লালচে বাদামি কর্দম (ক্লে)। তবে মধুপুর গড়ের মাটি বেশি লালচে ও অম্ল প্রকৃতির। দুটি অঞ্চলেরই পানি ধারণক্ষমতা কম।

মধুপুর গড় অঞ্চলটি বরেন্দ্রভূমির মতো খণ্ড-বিখণ্ড বা কর্তিত নয়। এটি মূলত একটি বৃহদায়তনের একক ভূ-প্রকৃতি, যা চ্যুতি বা ফাটল দ্বারা কিছু অংশে বিভক্ত।
বরেন্দ্র ভূমি বেশ বিচ্ছিন্ন প্রকৃতির এবং অসংখ্য ছোটো বড়ো নদী ও খাঁড়ি দ্বারা কর্তিত ও বিভক্ত।

সুতরাং ভূ-তাত্ত্বিক গঠন, উৎপত্তি, ভূমিরূপের দিক থেকে এরা একই ধরনের হলেও অবস্থান, বিস্তৃতি এবং ভূমির অভ্যন্তরীণ গঠনের ক্ষুদ্র পার্থক্যের কারণ এদেরকে দুটি আলাদা ভূপ্রাকৃতিক অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।