যশোর বোর্ড ২০২৬
১.

দৃশ্যকল্প-১: ভূগোল বিষয়ের শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে বললেন, ভূগোলের একটি শাখায় বিভিন্ন পরিবেশে মানুষ কীভাবে তার জীবিকা নির্বাহ করছে, কীভাবে বসবাস করছে প্রভৃতি সম্পর্কে আলোচনা করা হয়।

দৃশ্যকল্প-২: লুনা টেলিভিশনে সৌরজগতের উপর নির্মিত একটি প্রতিবেদনে দেখল, একটি গ্রহ পূর্ব থেকে পশ্চিম দিকে আবর্তন করে। অপরদিকে আরেকটি গ্রহ আছে যেটি লালচে বর্ণের দেখায়।

উত্তর রাতের অন্ধকার আকাশে উত্তর-দক্ষিণে উজ্জ্বল দীপ্ত দীর্ঘপথের মতো যে তারকারাশি দেখা যায় তাকে ছায়াপথ বলে।
উত্তর

৪.২ আলোকবর্ষ বলতে বোঝায়, আলোকরশ্মি শূন্য মাধ্যমে একটানা ৪.২ বছর (বা প্রায় ৪ বছর ২ মাস) ধরে ভ্রমণ করলে যে বিশাল দূরত্ব অতিক্রম করে।

আমরা জানি, আলো প্রতি সেকেন্ডে ১,৮৬,০০০ মাইল গতিতে চলে। এই গতিতে ১ বছর চললে আলো যে পথ অতিক্রম করে তাকে ১ আলোকবর্ষ বলে। সুতরাং ৪.২ আলোকবর্ষ মানে ঐ একই গতিতে আলো ৪ বছর ২ মাস চললে যে পথ অতিক্রম করবে তাকে বোঝায়।

উত্তর

দৃশ্যকল্প-১ এ উল্লিখিত ভূগোলের শাখাটি হলো মানব ভূগোল। নিম্নে ব্যাখ্যা করা হলো-

ভূগোলের যে শাখায় পৃথিবীর ভিন্ন ভিন্ন অঞ্চলের প্রাকৃতিক পরিবেশের সাথে মানুষের সম্পর্ক এবং মানুষের জীবনযাত্রা নিয়ে আলোচনা করা হয়, তাকে মানব ভূগোল বলে। মানুষ বিভিন্ন পরিবেশে কীভাবে তার জীবিকা নির্বাহ করছে, কীভাবে বসবাস করছে প্রভৃতি সম্পর্কে আলোচনা করে মানব ভূগোল। মানুষ কীভাবে পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে বা পরিবেশ পরিবর্তন করে বেঁচে থাকে, তাদের সংস্কৃতি, ভাষা, ধর্ম, জনসংখ্যা এবং অর্থনৈতিক কার্যকলাপ (যেমন- কৃষি, শিল্প ও বাণিজ্য) প্রভৃতি মানব ভূগোলের প্রধান আলোচ্য বিষয়। সহজে বলা যায়, মানব ভূগোল হলো মানুষ, স্থান এবং পরিবেশের পারস্পরিক সম্পর্কের একটি সাময়িক অধ্যয়ন।

উত্তর

দৃশ্যকল্প-২ এ লুনার দেখা প্রথম গ্রহটি হলো 'শুক্র' এবং অপরটি হলো 'মঙ্গল'। দুটি গ্রহের মধ্যে মঙ্গল গ্রহটির সূর্যকে পরিক্রমণ কাল অধিক। নিম্নে বিশ্লেষণ করা হলো-

সূর্য থেকে নিকটতম গ্রহ হিসেবে 'শুক্র' দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। সূর্য থেকে এ গ্রহের দূরত্ব ১০.৮ কোটি কিলোমিটার। সূর্যের কাছাকাছি হওয়ায় এ গ্রহটির পরিক্রমণকাল তথা সূর্যকে ঘুরে আসতে সময় লাগে ২২৫ দিন।

অপরদিকে, সূর্য থেকে মঙ্গল গ্রহটি শুক্রের তুলনায় দূরে অবস্থান করে। সূর্য থেকে মঙ্গল গ্রহের দূরত্ব ২২.৮ কোটি কিলোমিটার; যা শুক্র গ্রহের দূরত্বের দ্বিগুণের চেয়েও বেশি। সেহেতু মঙ্গল গ্রহটির সূর্যকে পরিক্রমণ করতে সময় লাগে ৬৮৭ দিন যা শুক্র গ্রহের পরিক্রমণকালের তিনগুণের চেয়েও বেশি।

সুতরাং বলা যায়, সূর্য থেকে দূরবর্তী হওয়ায় শুক্রের চেয়ে মঙ্গল গ্রহের পরিক্রমণকাল অধিক।

২. উদ্দীপকটি পড়ো এবং নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
উদ্দীপকের ছবি
উত্তর মহাবিশ্বের যেসব বিশাল গ্যাসীয় জ্যোতিষ্কের নিজস্ব আলো, তাপ ও শক্তি আছে এবং মিটমিট করে জ্বলে, তাদের নক্ষত্র বলে।
উত্তর

পৃথিবীর আবর্তন গতি অনুভব না করার প্রধান কারণ হলো সুষম গতিতে পৃথিবীর ঘূর্ণন, মাধ্যাকর্ষণ শক্তি এবং তুলনামূলক ক্ষুদ্রাকৃতি।

আমরা পৃথিবীর সাথে সমান গতিতে আবর্তিত হচ্ছি এর সাথে বায়ুমণ্ডলও সমান ভাবে আবর্তিত হচ্ছে। আবার পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ বল আমাদের সবসময় মাটির দিকে টেনে রাখে, ফলে পৃথিবী ঘুরলেও আমরা ছিটকে পড়ি না বা ঘূর্ণন অনুভব করি না। এছাড়া পৃথিবীর বিশাল আয়তনের তুলনায় মানুষের আকার ক্ষুদ্র হওয়ায় আবর্তনের প্রভাব আমাদের শরীরের ওপর পড়ে না।

উত্তর

চিত্রের 'A' ও 'B' স্থানের দ্রাঘিমার পার্থক্য = ৪০° – ৩০° = ১০°

আমরা জানি,
১° দ্রাঘিমার পার্থক্যে সময়ের ব্যবধান হয় = ৪ মিনিট .

১০° " " " " = ৪ × ১০ মিনিট = ৪০ মিনিট

যদি 'A' স্থানের স্থানীয় সময় সকাল ৯টা হয়,

তবে 'B' স্থানের স্থানীয় সময় হবে = সকাল ৯টা + ৪০ মিনিট

= সকাল ৯টা ৪০ মিনিট

[∴ B' স্থানটি 'A' স্থানের পূর্বে হওয়ায় সময় 'যোগ' হবে]

∴ 'B' স্থানের স্থানীয় সময় ৯:৪০ মিনিট।

উত্তর

চিত্র-২ এর 'C' চিহ্নিত স্থানের দ্রাঘিমা ১৬৫° পশ্চিম এবং 'D' চিহ্নিত স্থানের দ্রাঘিমা ১৬৫° পূর্বে অবস্থিত। ১৬৫° পূর্ব দ্রাঘিমা এবং' ১৬৫° পশ্চিম দ্রাঘিমাংশ উভয়ই আন্তর্জাতিক তারিখ রেখার কাছাকাছি অবস্থিত, তবে এদের ভৌগোলিক অবস্থান ও বারের মধ্যে বড়ো পার্থক্য রয়েছে।

১৬৫° পূর্ব ও ১৬৫ পশ্চিমের মধ্যে দ্রাঘিমার পার্থক্য হলো (১৬৫ + ১৬৫)° = ৩৩০°।

১° দ্রাঘিমার জন্য সময়ের ব্যবধান = ৪ মিনিট

৩৩০°. ” " " " =(৩৩০ ÷ ৪ )

= ১,৩২০ মিনিট [∴ ১ ঘণ্টা = ৬০ মি.]

= ২২ ঘণ্টা

যেহেতু ১৬৫° পূর্ব দ্রাঘিমা পশ্চিমের চেয়ে ২২ ঘণ্টা এগিয়ে থাকে। অর্থাৎ এখানে যখন সোমবার রাত ১১টা, তখন ১৬৫° পশ্চিম দ্রাঘিমায় রবিবার রাত ৯টা অর্থাৎ ২২ ঘণ্টা পেছনে রয়েছে।

সুতরাং ১৬৫° পূর্ব দ্রাঘিমা বা মধ্যরেখা থেকে পশ্চিম দিকে আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা পার হলে একদিন কমে যায়। আর উল্টোদিকে গেলে একদিন বেড়ে যায়।

৩.

দৃশ্যকল্প-১: সমুদ্র তীরে পূর্ণিমার চাঁদের আলোতে লিপি দেখল, সমুদ্রের শান্ত পানি ধীরে ধীরে স্ফীত হয়ে তীব্রবেগে তীরে আছড়ে পড়ছে। লিপি ভূগোল ও পরিবেশ বইয়ে পড়েছে সমুদ্রের পানিতে এরূপ ঘটনা প্রতিদিনই ঘটে থাকে।

দৃশ্যকল্প-২: রিতু টেলিভিশনে একটি প্রতিবেদেনে দেখল, সমুদ্রের তীরের স্থলভাগ সামান্য ঢালু হয়ে পানিতে নেমে গিয়েছে। আবার আরেকটি ভূমি হঠাৎ খাড়াভাবে নেমে গভীর সমুদ্রে মিশে গিয়েছে।

উত্তর সমুদ্র বা মহাসাগরের পানিরাশির একস্থান থেকে অন্যস্থানে নির্দিষ্ট দিকে এবং নিয়মিত বিরতিতে অনুভূমিক ভাবে প্রবাহিত হওয়াকে সমুদ্রস্রোত বলে।
উত্তর

শীতকালে নরওয়ে উপকূল বরফমুক্ত থাকার প্রধান কারণ হলো উষ্ণ উত্তর আটলান্টিক স্রোত।

মেক্সিকো উপসাগর থেকে আসা এই উষ্ণ ও লবণাক্ত জলের ধারাটি উত্তরদিকে প্রবাহিত হয়ে নরওয়ের উপকূলীয় অঞ্চলের তাপমাত্রা বৃদ্ধি করে। এর ফলে শীতকালে উপকূলীয় ঠান্ডায় বরফ জমতে পারে না।

উত্তর

দৃশ্যকল্প-১ এ লিপির দেখা পানিতে যে অবস্থার সৃষ্টি হয় তা হলো জোয়ার ভাটা। উক্ত জোয়ার ভাটার কারণ নিম্নে ব্যাখ্যা করা হলো-

জোয়ার ভাটা মূলত চাঁদ ও সূর্যের মহাকর্ষীয় আকর্ষণ এবং পৃথিবীর কেন্দ্রাতিগ শক্তির প্রভাবে সৃষ্ট সমুদ্রের পানির নিয়মিত স্ফীতি ও সংকোচন। চাঁদ পৃথিবীর কাছে থাকায় এর আকর্ষণেই প্রধান জোয়ার হয়। অন্যদিকে কেন্দ্রাতিগ শক্তির কারণে বিপরীত দিকে গৌণ জোয়ার হয়। এক্ষেত্রে আবর্তনের সময় পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে বাইরের দিকে একটি বল কাজ করে, যা পৃথিবীর বিপরীত দিকের পানিকে বাইরের দিকে ঠেলে দেয়। এর ফলে গৌণ জোয়ারের সৃষ্টি হয়।

সুতরাং বলতে পারি, পৃথিবীর আবর্তন জনিত কেন্দ্রাতিগ বল এবং চাঁদ, সূর্যের আকর্ষণেই জোয়ার ভাটার সৃষ্টি হয়।

উত্তর

দৃশ্যকল্প-২ এ রিতুর দেখা সমুদ্রের তলদেশের ভূমিরূপ দুটি হলো মহীসোপান ও মহীঢাল। দুটি ভূমিরূপের মধ্যে মহীঢাল অধিক বন্ধুর প্রকৃতির। নিচে ভূমিরূপ দুটির তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হলো-

পৃথিবীর মহাদেশ সমূহের চারদিকে স্থলভাগের কিছু অংশ অল্প ঢালু হয়ে সমুদ্রের পানির মধ্যে নেমে গেছে। এরূপ ক্রমনিমজ্জিত, ভূভাগকে মহীসোপান বলে। এটি ১° কোণে সমুদ্র তলদেশে নিমজ্জিত থাকে।

অন্যদিকে, মহীঢাল হলো মহীসোপানের শেষ সীমা থেকে ভূভাগ হঠাৎ খাড়াভাবে নেমে সমুদ্রের গভীর তলদেশের সঙ্গে মিশে যায়। মহীঢাল সাধারণত ৫° থেকে ৭° কোণে হেলে থাকে। তবে এটি স্থান ভেদে ২° থেকে ১০° বা তারও বেশি হতে পারে। এটি মহীসোপানের তুলনায় অনেক বেশি খাড়া হয় এবং ২০০ থেকে ৩০০০ মিটার পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে।

সুতরাং বলা যায়, মহীসোপানের তুলনায় মহীঢাল অধিক বন্ধুর প্রকৃতির। তাছাড়া মহীঢালে অসংখ্য আন্তঃসাগরীয় গিরিখাত অবস্থান করায় তা খুবই বন্ধুর প্রকৃতির।

৪. উদ্দীপকটি পড়ো এবং নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
উদ্দীপকের ছবি
উত্তর প্রাকৃতিক কারণে শিলারাশির চূর্ণ-বিচূর্ণ ও বিশ্লিষ্ট হওয়া কিন্তু স্থানান্তর না হলে তাকে বিচূর্ণীভবন বলে।
উত্তর পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের গতিপথ পরিবর্তন বা পাল্টে যাওয়ার প্রধান কারণ হলো প্রলয়ঙ্করী ভূমিকম্প। এই ভূমিকম্পের ফলে নদীটির তলদেশ উপরে উঠে যায় এবং এটি তার স্বাভাবিক প্রবাহ হারিয়ে ফেলে, যা পরবর্তীকালে যমুনা নদীর সৃষ্টি করে। ১৮৮৭সালের ৮.৭ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের ফলে ব্রহ্মপুত্রের তলদেশ উত্থিত হয় এবং নদীর প্রবাহের পথ আটকে যায়।
উত্তর

চিত্র-১ এর ভূ-অভ্যন্তরে 'A' দ্বারা গুরুম ণ্ডলকে বোঝানো হয়েছে। এ স্তরটির বর্ণনা দেওয়া হলো-

ভূত্বকের নিচে প্রায় ২.৮৮৫ কিলোমিটার পর্যন্ত পুরুমণ্ডলকে গুরুমণ্ডল বলে। এটি মূলত ব্যাসল্ট শিলা দ্বারা গঠিত। এ অংশে রয়েছে সিলিকা, ম্যাগনেসিয়াম, লোহা, কার্বন ও অন্যান্য খনিজ পদার্থ। এটি দুইভাবে বিভক্ত। ঊর্ধ্ব গুরুমণ্ডল যা ৭০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত।

এটি প্রধানত লোহা ও ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ সিলিকেট খনিজ দ্বারা গঠিত। অন্যটি হলো নিম্ন গুরুমণ্ডল প্রধানত আয়রন অক্সাইড, ম্যাগনেসিয়াম অক্সাইড এবং সিলিকন ডাই-অক্সাইড সমৃদ্ধ খনিজ দ্বারা গঠিত।

উত্তর

চিত্র-২ ও চিত্র-৩ দ্বারা যে ভূমিরূপ দেখানো হয়েছে তা যথাক্রমে ভি-আকৃতির উপত্যকা এবং পলল কোণ। ভি-আকৃতির উপত্যকা নদীর ক্ষয়জাত কার্যের ফলে এবং পলল কোণ নদীর সঞ্চয়জাত কার্যের ফলে সৃষ্টি হয়েছে। নিম্নে ভূমিরূপ দুটির তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হলো-

ঊর্ধ্বগতি অবস্থায় নদীর স্রোতের বেগ প্রবল হওয়ার কারণে নদী 'বড়ো বড়ো শিলাখণ্ডকে বহন করে নিচের দিকে অগ্রসর হয়। পর্বতগুলো কঠিন শিলা দ্বারা গঠিত হলেও মাঝে মাঝে নরম শিলা থাকায় নিম্নদিকে ক্ষয় হয়ে ভি-আকৃতির উপত্যকার সৃষ্টি হয়।

অপরদিকে, পার্বত্য কোনো অঞ্চল থেকে হঠাৎ করে কোনো নদী যখন সমভূমিতে পতিত হয়, তখন শিলাচূর্ণ, পলিমাটি প্রভৃতি পাহাড়ের পাদদেশে সমভূমিতে সঞ্চিত হয়ে ত্রিকোণ ও হাতপাখার ন্যায় ভূখণ্ডের সৃষ্টি হয়। এরূপ সঞ্চয়ের ফলে পলল কোণের সৃষ্টি হয়।

সুতরাং উপরিল্লিখিত দুটি ভূমিরূপ তুলনামূলক আলোচনার মাধ্যমে বলা যায় চিত্র-৩ অর্থাৎ পলল কোণ নদীর সঞ্চয়ের ফলে সৃষ্টি হয়।

৫.

দৃশ্যকল্প-১: শেফালীদের গ্রামটি প্রতিবছর এক ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্লাবিত হয়।

দৃশ্যকল্প-২ : আজিমদ্দি কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। তিনি লক্ষ করেছেন এক ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগে তার কৃষি জমিটি ধীরে ধীরে শুকিয়ে রুক্ষরূপ ধারণ করেছে। আবার তার গ্রামে ঘটা একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রতিবছরই বহু বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।

উত্তর দুর্যোগের দীর্ঘস্থায়ী হ্রাস এবং দুর্যোগ-পূর্ব প্রস্তুতিকেই দুর্যোগ প্রশমন বলে।
উত্তর দরিদ্র দেশ গুলোতে কাঠামোগত প্রশমন বেশ ব্যয়বহুল। কাঠামোগত প্রশমনের আওতায় বেড়িবাঁধ নির্মাণ, সাইক্লোন শেল্টার স্থাপন, বন্যা প্রতিরোধী পাকা ঘরবাড়ি নির্মাণ এবং নদী খনন ইত্যাদি কাজের প্রয়োজন হয়, যার জন্য বিশাল বিনিয়োগের প্রয়োজন হয়। দরিদ্র দেশ গুলোর সীমিত সম্পদ বা বাজেট থাকে, যার ফলে অবকাঠামো উন্নয়নের পাশা পাশি উচ্চ ব্যয়বহুল প্রশমন বাস্তবায়ন করা চ্যালেঞ্জিং।
উত্তর

দৃশ্যকল্প-১ এ শেফালীদের গ্রামটি যে প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্লাবিত হয় তা হলো বন্যা।

বন্যার প্রাকৃতিক কারণগুলোর অন্যতম হলো অতিবর্ষণ, নদ-নদীর পলিমাটি, নদীর গতিপথের পরিবর্তন ও ভূমিকম্প। অতিবর্ষণের কারণে নদী ও জলাশয় গুলোর ধারণ ক্ষমতা কমে পানি উপচে পড়ে। ফলে প্লাবন সংঘটিত হয়। বাংলাদেশের মতো দেশগুলো নদীমাতৃক এবং নিচু সমতল ভূমি হওয়ায় বন্যার ঝুঁকি বেশি থাকে। এছাড়া নদীগুলো পলি জমে ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি ধারণ ক্ষমতা কমে যায় এবং' অল্প বৃষ্টিতেই পানি উপচে পড়ে। নদীর গতিপথের কারণেও অনেক সময় পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টি হয়ে বন্যা দেখা দেয়।

সুতরাং বলা যায়, উপরিল্লিখিত প্রাকৃতিক কারণে বন্যার সৃষ্টি হয়।

উত্তর

দৃশ্যকল্প-২ এ আজিমদ্দির গ্রামে ঘটে যাওয়া প্রথম দুর্যোগটি হলো খরা এবং অন্যটি হলো নদী ভাঙন। উক্ত দুটি দুর্যোগের মধ্যে নদী ভাঙন অধিকতর ক্ষতিকর। নিম্নে তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হলো-

নদীভাঙনে জমি, ঘরবাড়ি, গাছপালা সরাসরি নদীতে বিলীন হয়ে যায়, যা আর কখনোই পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয় না। প্রতিবছর নদী ভাঙনের ফলে প্রায় ১ লক্ষ মানুষ গৃহহীন হয়, যা তাদের চিরতরে ভূমিহীন করে দিতে পারে। এটি স্থানীয় মানুষের পেশা, শিক্ষা ও জীবনযাত্রা দীর্ঘ মেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ কৃষিজমি নষ্ট করে।

অপরদিকে, খরা একটি বিস্তৃত এলাকা জুড়ে ফসলের ক্ষতি করে, তবে এটি সাধারণত সাময়িক। পানি ফিরে আসলে পরিবেশ আবার স্বাভাবিক হতে পারে।

সুতরাং উপরিল্লিখিত দুটি দুর্যোগের তুলনা করলে দেখা যায়, খরায় খাদ্য সংকট ও পানির অভাব দেখা দেয় কিন্তু নদী ভাঙনের মতো মানুষের বসতভিটা ও জমি চিরতরে গিলে ফেলে না। তাই নদী ভাঙন অধিকতর ক্ষতিকর।

৬. উদ্দীপকটি পড়ো এবং নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
উদ্দীপকের ছবি
উত্তর নদী উপত্যকার তলদেশ বা নদীর তলানিকে নদীগর্ভ বলে।
উত্তর বাংলাদেশের নদী গুলোর মোহনায় চর জেগে ওঠার প্রধান কারণ হলো উজানের পাহাড়ি ঢল ও বন্যার সাথে বিপুল পরিমাণ পলিমাটি সঞ্চয়। নদী মোহনায় পানির স্রোতের গতি কমে যাওয়ায় নদী তার বহন ক্ষমতা হারায় এবং পলি তলদেশে জমতে শুরু করে, যা সময়ের সাথে সাথে চরে পরিণত হয়। এছাড়া নদী গুলোর নাব্যতা কমে যাওয়ায় তলদেশ ভরাট হয়ে চর জেগে ওঠে।
উত্তর

চিত্রে, 'A' চিহ্নিত অঞ্চলটি হলো বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের বরেন্দ্রভূমি। নিম্নে এ ভূ-প্রাকৃতিক অঞ্চলের বর্ণনা করা হলো-

বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় ৯,৩২০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় বরেন্দ্রভূমি বিস্তৃত। আনুমানিক ২৫,০০০ বছর পূর্বের সময় অর্থাৎ প্লাইস্টোসিন কালে এসব সোপান বা চত্বরভূমি গঠিত হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। প্লাবন সমভূমি হতে এসব ভূমির উচ্চতা ৬ থেকে ১২ মিটার। এ স্থানের মাটি ধূসর ও লাল বর্ণের।

উত্তর

চিত্রে, 'B' ও 'C' দ্বারা চিহ্নিত ভূ-প্রাকৃতিক অঞ্চলগুলো হলো যথাক্রমে টারশিয়ারি যুগের অন্তর্গত দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ ও সাম্প্রতিক কালের প্লাবন সমভূমি। উপরিউক্ত ভূ-প্রাকৃতিক অঞ্চলস মূহের ভূ-গাঠনিক বৈশিষ্ট্য একই রকম নয়। নিম্নে তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হলো-

'B' দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ, যা ভূ-আলোড়নের ফলে পাললিক শিলা ভাঁজ খেয়ে গঠিত হয়েছে। অন্যদিকে 'C' সাম্প্রতিক কালের প্লাবন সমভূমি নদী অববাহিকায় বছরের পর বছর বন্যার সাথে বয়ে আসা পলিমাটি সঞ্চিত হয়ে গঠিত হয়েছে।

দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড় সমূহ শক্ত বেলেপাথর, শেল এবং কদর্ম শিলা দ্বারা গঠিত। অন্যদিকে, প্লাবন সমভূমি নরম পলি, বালি এবং কাদা দ্বারা গঠিত। দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ উঁচু-নিচু, খাড়া ঢালবিশিষ্ট। অন্যদিকে, প্লাবন সমভূমি বর্তমান কালের নদ-নদীর প্রবাহের ফল।

এছাড়া দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড় সমূহ টারশিয়ারি যুগে ভাঁজ বা উত্তোলিত শিলা হতে সৃষ্টি। অপরদিকে, প্লাবন সমভূমি সাম্প্রতিককালে নদীর সঞ্চয়জাত সমভূমি।

সুতরাং উপরিল্লিখিত ভূমিরূপ অঞ্চল দুটির ভূ-প্রাকৃতিক গাঠনিক বৈশিষ্ট্য লক্ষ করলে দেখা যায়, দুটি অঞ্চলের ভূ-গাঠনিক বৈশিষ্ট্য ভিন্ন।

৭. উদ্দীপকটি পড়ো এবং নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
উদ্দীপকের ছবি
উত্তর উৎপত্তি স্থান থেকে শাখাপ্রশাখার মাধ্যমে যে বিস্তীর্ণ অঞ্চল দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়ে সমুদ্রে বা হ্রদে পতিত হয় সেই সমগ্র অঞ্চলই নদীর অববাহিকা।
উত্তর

বাংলাদেশের উত্তরের পাহাড়গুলোর গড় উচ্চতা ৩০ থেকে ৯০ মিটার বলে একে স্থানীয় ভাবে টিলা বলা হয়।

ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা জেলার উত্তরাংশ, সিলেট জেলার উত্তর ও উত্তর-পূর্বাংশ এবং মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার দক্ষিণের পাহাড়গুলোর গড় উচ্চতা ২৪৪ মিটারের বেশি নয়। উত্তরের -পাহাড়গুলোর উচ্চতা ৩০ - ৯০ মিটার। সেজন্য উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়স মূহকে টিলা বলা হয়।

উত্তর

ছকের 'X' দ্বারা চিহ্নিত নদীটি হলো 'মেঘনা'। উক্ত নদীটির গতিপথ বর্ণনা করা হলো-

আসামের বরাক নদী নাগা-মণিপুর অঞ্চল থেকে উৎপন্ন হয়ে সুরমা ও কুশিয়ারা নামে বিভক্ত হয়ে বাংলাদেশের সিলেট জেলায় প্রবেশ করেছে। উত্তরের শাখা সুরমা পশ্চিম দিকে সিলেট, ছাতক, সুনামগঞ্জ শহরের পাশ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। আজমিরীগঞ্জের কাছে উত্তর সিলেটের সুরমা, দক্ষিণ সিলেটের কুশিয়ারা নদী এবং হবিগঞ্জের কালনী নদী একসঙ্গে মিলিত হয়েছে। পরে কালনী, সুরমা ও কুশিয়ারার মিলিত প্রবাহ কালনী নামে দক্ষিণে কিছু দূর প্রবাহিত হয়ে মেঘনা নাম ধারণ করেছে। মেঘনা ভৈরব বাজারের দক্ষিণে প্রবাহিত হয়ে চাঁদপুরের কাছে পদ্মার সঙ্গে মিলিত হয়ে মেঘনা নামে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে। মনু, বাউলাই, তিতাস, গোমতী, মেঘনার উপনদী।

উত্তর

ছকের 'Y' এবং 'Z' দ্বারা চিহ্নিত নদী দুটো হলো যথাক্রমে ব্রহ্মপুত্র ও কর্ণফুলী।

দুটি নদী অর্থনৈতিক গুরুত্বের ক্ষেত্র ভিন্ন হলেও সরাসরি বাণিজ্যিক ও শিল্পায়নের দিক থেকে কর্ণফুলী নদী বাংলাদেশের জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ। নিম্নে তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হলো-

বাংলাদেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর, চট্টগ্রাম বন্দর কর্ণফুলী নদীর তীরে অবস্থিত। দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের সিংহভাগ এই বন্দর দিয়ে হয়। এছাড়া, দেশের একমাত্র জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি (কাপ্তাই) কর্ণফুলী নদীতে অবস্থিত।

অপরদিকে, ব্রহ্মপুত্র বাংলাদেশের প্রধান নদগুলোর অন্যতম, যা বিশাল এলাকায় কৃষি জমিতে সেচ ও পলিবাহিত উর্বর জমি তৈরিতে বড়ো ভূমিকা রাখে। এটি অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন ও মৎস্য সম্পদের জন্য গরতপর্ণ।

সুতরাং বলা যায়, শিল্পায়ন ও বাণিজ্যিক বন্দরের কারণে কর্ণফুলী এবং কৃষি ও বিশাল জলরাশির কারণে ব্রহ্মপুত্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে সরাসরি অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে কর্ণফুলী অধিক গুরুত্বপূর্ণ।

৮. রাতুল ও জাহিদ দুই বন্ধু এবং দুজনই পর্যটক। রাতুল ভিসুভিয়াস, পিনাটুবো নামক ভূমিরূপ দুটি দেখেছেন। অপরদিকে জাহিদ ব্ল‍্যাক ফরেস্ট, কলোরাডো প্রভৃতি ভূমিরূপ গুলোতে বেড়াতে গিয়েছেন।
উত্তর নদীস্রোত, বায়ুপ্রবাহ ও হিমবাহ প্রভৃতি শক্তির দ্বারা চূর্ণ-বিচূর্ণ পদার্থ গুলো স্থানান্তরিত হয়, একে অপসারণ বলে।
উত্তর প্রাকৃতিক কারণ- (ভারী বৃষ্টিপাত, ভূমিরূপ, ভূ-গঠন ও মাটির ধরন) ও মানবসৃষ্ট কারণ (পাহাড় কাটা, বন উজাড়, ইটের ভাটা) এ ভূমিধস হয়। একটানা ভারী বর্ষণের ফলে পাহাড়ি ছিদ্র গুলো পানি দ্বারা পূর্ণ হয়ে যায়, যা মাটির ভার বহন ক্ষমতা কমিয়ে ফেলে এবং ভূমিধস হয়। এছাড়া তীব্র ভূমিকম্পের ফলে মাটির ভঙ্গুরতার কারণে ভূমিধস হয়। মানুষের বসতি নির্মাণে পাহাড় কাটা, বন উজাড় করা, ইটের ভাটা নির্মাণের কারণে ভূমিধস হয়।
উত্তর

উদ্দীপকের রাতুলের দেখা ভূমিরূপ হলো সঞ্চয়জাত আগ্নেয় পর্বত। নিচে এর গঠন প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করা হলো-

আগ্নেয়গিরি থেকে উদগিরিত পদার্থ সঞ্চিত ও জমাট বেঁধে সঞ্চয় জাত আগ্নেয় পর্বত সৃষ্টি হয়। এ পর্বত সাধারণত মোচাকৃতির হয়ে থাকে।

উদ্দীপকের রাতুলের দেখা ভিসুভিয়াস ও পিনাটুবো পর্বত এভাবে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত থেকে সৃষ্টি হয়েছে।

উত্তর

উদ্দীপকের জাহিদের দেখা ভূমিরূপ জার্মানির ব্ল‍্যাক ফরেস্ট এবং যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো একই প্রক্রিয়ায় সৃষ্টি হয়নি। নিচে তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হলো-

ভূআলোড়নের সময় ভূপৃষ্ঠের শিলান্তরে প্রসারণ এবং সংকোচনের সৃষ্টি হয়। এই প্রসারণ এবং সংকোচনের জন্য ভূত্বকে ফাটলের সৃষ্টি হয়। ফাটল বরাবর ভূত্বক ক্রমে স্থানচ্যুত হয়ে ব্ল‍্যাক ফরেস্ট ভূমিরূপ গঠিত হয়।

অন্যদিকে, কলোরাডো হলো একটি বড়ো রাজ্য যার বেশির ভাগ অংশ রকি পর্বত দ্বারা গঠিত। এই পর্বত গুলো টেকটোনিক প্লেটের সংঘর্ষ এবং উত্থান প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তৈরি হয়েছে; যা ব্ল্যাক ফরেস্টের চেয়ে ভিন্ন এবং অনেক বড়ো আকারের ঘটনা।

সুতরাং উল্লিখিত ভূমিরূপস মূহের তুলনামূলক আলোচনা হতে বলা যায় যে, ব্ল‍্যাক ফরেস্ট মূলত ফাটল বা ধসের মাধ্যমে সৃষ্ট পর্বত। আর কলোরাডো হলো রকি মাউন্টেন প্লেটের সংঘর্ষে সৃষ্ট বিশাল পর্বতমালা।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।