উদ্দীপকে বর্ণিত রাজা বিপিন রায়ের চরিত্রের সাথে প্রাচীন বাংলার সেন বংশের সুপণ্ডিত শাসক রাজা বল্লাল সেনের চরিত্রের সুস্পষ্ট মিল পাওয়া যায়।
রাজা বল্লাল সেন ছিলেন সেন বংশের একজন উল্লেখযোগ্য শাসক, যিনি রাজ্য পরিচালনার পাশাপাশি জ্ঞানচর্চায় গভীর অনুরাগী ছিলেন। তিনি বেদ, স্মৃতি, পুরাণ ইত্যাদি শাস্ত্র অধ্যয়ন করেছিলেন এবং সংস্কৃত সাহিত্যে তাঁর অসামান্য অবদান রয়েছে।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে যে, রাজা বিপিন রায় অত্যন্ত সুপণ্ডিত ছিলেন, সাহিত্যের বিকাশে অবদান রেখেছেন, একটি বিরাট পাঠাগার গড়ে তুলেছিলেন এবং দুটি গ্রন্থও রচনা করেছিলেন। পাঠ্যবইয়ের ইতিহাসেও আমরা দেখতে পাই, রাজা বল্লাল সেনের একটি বিরাট গ্রন্থাগার ছিল এবং তিনি স্বীয় পাণ্ডিত্যে 'দানসাগর' ও 'অদ্ভুতসাগর' নামক দুটি অমূল্য সংস্কৃত গ্রন্থ রচনা করেছিলেন। সুতরাং, বিদ্যা ও বিদ্বানের প্রতি অনুরাগ এবং গ্রন্থ রচনার এই সুনির্দিষ্ট দিকগুলো বিবেচনা করে বলা যায়, রাজা বিপিন রায় মূলত রাজা বল্লাল সেনেরই প্রতিচ্ছবি।
উদ্দীপকে নির্দেশিত রাজবংশটি হলো 'সেন বংশ', আর এই বংশের শ্রেষ্ঠ শাসক হিসেবে রাজা বিজয় সেনের রাজনৈতিক ও সামরিক কর্মকাণ্ড বাংলার ইতিহাসে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
পাল বংশের পতনের পর একাদশ শতকের দ্বিতীয় ভাগে বিজয় সেন নিজ বংশকে একটি স্বাধীন ও শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করান। তিনি অত্যন্ত রণকুশলী ও দূরদর্শী শাসক ছিলেন, যিনি বাংলার বিচ্ছিন্ন অংশগুলোকে একত্রিত করে একটি সুদৃঢ় সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিলেন। বিজয় সেন তাঁর সুদীর্ঘ রাজত্বকালে নানাবিধ কৌশল ও সফল যুদ্ধাভিযানের মাধ্যমে রাজ্য বিস্তার করেছিলেন। তিনি দক্ষিণ রাঢ়ের শূর বংশীয় রাজকন্যাকে বিয়ে করে রাঢ় অঞ্চল অধিকার করেন। কৈবর্ত বিদ্রোহে রামপালকে সাহায্যের বিনিময়ে তিনি বরেন্দ্র অঞ্চলে স্বীকৃতি পান এবং পরবর্তীতে বর্ম রাজাকে পরাজিত করে পূর্ব ও দক্ষিণ বাংলা সেন অধিকারে আনেন। এরপর তিনি শেষ পাল রাজা মদনপালকে পরাজিত করে উত্তর বাংলা থেকেও পালদের বিতাড়িত করেন।
বিজয় সেনের এই ধারাবাহিক সফলতার ফলেই প্রাচীন ইতিহাসে সর্বপ্রথম সমগ্র বাংলা দীর্ঘকালব্যাপী কোনো একক রাজার অধীনে শাসিত হওয়ার সুযোগ পায়। তিনি কামরূপ, কলিঙ্গ ও মিথিলা আক্রমণ করেও নিজ বীরত্বের প্রমাণ দেন। শিবের উপাসক এই পরাক্রমশালী রাজা সেন সাম্রাজ্যকে যে বিশালতা ও স্থায়িত্ব দিয়েছিলেন, তার সার্বিক বিশ্লেষণ করলে নিঃসন্দেহে তাঁকেই উক্ত রাজবংশের শ্রেষ্ঠ শাসক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া যায়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত চিত্রটি বিশ্ব ইতিহাসের অন্যতম প্রভাবশালী রোমান সভ্যতার স্থাপত্য শিল্পের এক অনন্য নিদর্শন, যা কলোসিয়াম (Colosseum) নামে পরিচিত।
রোমান স্থাপত্যের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল এর বিশালতা। রোমান সম্রাটদের নির্মিত নানা অট্টালিকা ও ধর্মমন্দির তাদের স্থাপত্যকলার চরম উৎকর্ষের প্রমাণ দেয়। স্থাপত্যের পাশাপাশি তারা মার্বেল পাথর দিয়ে দেব-দেবী ও সম্রাটদের বিশাল সব ভাস্কর্য নির্মাণ করত, যা তাদের নির্মাণশৈলীর শক্তির পরিচায়ক।
উদ্দীপকের চিত্রটিতে আমরা রোমের সেই বিখ্যাত কলোসিয়াম নাট্যশালা দেখতে পাচ্ছি। ৮০ খ্রিষ্টাব্দে রোমান সম্রাট টিটাস কর্তৃক নির্মিত এই বিশাল ও সুদৃশ্য গোলাকার নাট্যশালায় একসঙ্গে ৫৬০০ দর্শক বসতে পারত। এটি মূলত গ্ল্যাডিয়েটরদের যুদ্ধ বা অন্যান্য প্রদর্শনীর জন্য ব্যবহৃত হতো। রোমান সভ্যতার মানুষেরা স্থাপত্য নির্মাণের ক্ষেত্রে কতটা দক্ষ এবং উন্নত প্রকৌশল জ্ঞানের অধিকারী ছিল, উদ্দীপকের এই চিত্রটি তারই একটি বাস্তব প্রমাণ।
উক্ত সভ্যতা অর্থাৎ রোমান সভ্যতার সর্বশ্রেষ্ঠ ও যুগান্তকারী অবদান হলো তাদের প্রণীত সুসংগঠিত আইন ব্যবস্থা, যার প্রতি বিশ্ববাসী আজও গভীরভাবে শ্রদ্ধাশীল।বিশ্বসভ্যতার ইতিহাসে রোমানরাই সর্বপ্রথম খ্রিষ্টপূর্ব পঞ্চম শতকে ফৌজদারি ও দেওয়ানি আইনগুলো সুষ্ঠুভাবে একসঙ্গে লিপিবদ্ধ করে। ৫৪০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে ১২টি ব্রোঞ্জ পাতে খোদাই করে এই আইন। জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়। রোমান আইনের মূল কথাই ছিল আইনের। দৃষ্টিতে সকল মানুষ সমান।
উদ্দীপকের উক্তিটিতে যে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার কথা বলা। হয়েছে, তা মূলত রোমানদের 'প্রাকৃতিক' ও 'জনগণের' আইনের। প্রভাবকে নির্দেশ করে। রোমানরা তাদের আইনের মাধ্যমে নাগরিকদের মৌলিক অধিকার রক্ষা এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের ভিত্তি স্থাপন করেছিল। সিসেরোর মতো আইনজ্ঞরা জনগণের অধিকার রক্ষায় যে রূপরেখা দিয়েছিলেন, তা সে যুগেও মানুষের আইনি অধিকার নিশ্চিত করেছিল। পরিশেষে বলা যায়, আধুনিক বিচারব্যবস্থা এবং আইনের শাসন 'অনেকাংশেই রোমান আইনের ওপর নির্ভরশীল। আজকের আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলোর সংবিধানে মানবাধিকার, সমতা এবং দেওয়ানি-ফৌজদারি বিধিমালার যে বিভাজন দেখা যায়, তা মূলত রোমানদেরই অবদান। নাগরিক অধিকার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় যুগান্তকারী এই আদর্শ অবদানের কারণেই আমরা উক্ত সভ্যতার আইনের প্রতি আজও বিনম্রভাবে শ্রদ্ধাশীল।
উদ্দীপকে রহিম সাহেব প্রাচীন বাংলার ইতিহাসের চরম অরাজকতামূলক সময়কাল 'মাৎস্যন্যায়'-এর ঐতিহাসিক পটভূমিকে নির্দেশ করেছেন।
রাজা শশাঙ্কের মৃত্যুর পর বাংলায় দীর্ঘ একশো বছর কোনো যোগ্য শাসক ছিলেন না। কেন্দ্রীয় শাসনের অভাবে সর্বত্র বিশৃঙ্খল অবস্থার সৃষ্টি হয়। পুকুরে বড় মাছ যেমন ছোট মাছকে গিলে খায়, তেমনি সবল ভূস্বামীরা দুর্বলদের উপর অত্যাচার চালিয়ে ছোট রাজ্যগুলো গ্রাস করতে শুরু করে। দীর্ঘদিনের এই চরম নৈরাজ্যকর ও আইনহীন পরিস্থিতিকেই ইতিহাসে 'মাৎস্যন্যায়' বলা হয়।
উদ্দীপকে রহিম সাহেবের বর্ণনায় আমরা দেখতে পাই, কেন্দ্রীয় শাসনের দুর্বলতায় স্থানীয় ক্ষুদ্র শাসকরা ক্ষমতার দ্বন্দ্বে লিপ্ত ছিল এবং সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিল। পাঠ্যবইয়েও উল্লেখ আছে যে, সপ্তম শতকে শশাঙ্কের মৃত্যুর পর থেকে অষ্টম শতকের মাঝামাঝি পর্যন্ত বাংলায় সবল অধিপতিরা দুর্বলদের উপর আধিপত্য বিস্তার করছিল। পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির এই বিবরণ মূলত মাৎস্যন্যায়েরই ঐতিহাসিক পটভূমিকে সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরে।
উদ্দীপকের শেষ বাক্যে ইঙ্গিতকৃত সাধারণ নেতা গোপালের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে পাল বংশ প্রতিষ্ঠার ঘটনা প্রাচীন বাংলার রাজনীতিতে যুগান্তকারী পরিবর্তন ও দীর্ঘস্থায়ী স্থিতিশীলতা নিয়ে এসেছিল। শতবর্ষব্যাপী মাৎস্যন্যায়ের চরম অরাজকতায় বাংলার জনজীবন যখন বিপর্যস্ত, তখন স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ঐকমত্যের ভিত্তিতে গোপালকে রাজা হিসেবে নির্বাচিত করেন। গোপালের এই ক্ষমতা গ্রহণের মাধ্যমে বাংলায় কেবল অরাজকতারই অবসান ঘটেনি, বরং চারশ বছরব্যাপী এক শক্তিশালী পাল সাম্রাজ্যের ভিত রচিত হয়, যা বাংলার ইতিহাসে প্রথম দীর্ঘস্থায়ী রাজবংশ।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে যে, প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গ একত্রিত হয়ে একজনকে শাসক হিসেবে নির্বাচন করেন এবং এরপর বাংলায় শান্তি ও দীর্ঘস্থায়ী রাজবংশের সূচনা হয়। এই ঘটনাটি মূলত অষ্টম শতকের মাঝামাঝি সময়ে রাজা গোপালের নির্বাচনের ঐতিহাসিক সত্যতাকেই প্রমাণ করে। এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের ফলে বাংলার ক্ষুদ্র ও বিচ্ছিন্ন রাজ্যগুলো একটি শক্তিশালী কেন্দ্রীয় শাসনের অধীনে ঐক্যবদ্ধ হয়। এই নির্বাচনের রাজনৈতিক তাৎপর্য ছিল সুদূরপ্রসারী। এর ফলে বাংলার রাজনৈতিক অস্থিরতা দূর হয়ে আর্থসামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নের পথ প্রশস্ত হয়। গোপাল প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েই পরবর্তী শাসক ধর্মপাল ও দেবপাল সাম্রাজ্যের - সীমানা বিস্তার এবং শিক্ষা ও ধর্মের ব্যাপক প্রসার ঘটাতে সক্ষম হন। সুতরাং, এই নির্বাচন বাংলার রাজনীতিতে নিছক ক্ষমতা বদল ছিল না, বরং এটি ছিল এক সমৃদ্ধ যুগের সূচনালগ্ন।
উদ্দীপকের সেনাপতি 'ক' এর অবিস্মরণীয় সাফল্যে ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ বখতিয়ার খলজির ঐতিহাসিক 'নদীয়া বিজয়' অভিযানকে স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
বখতিয়ার খলজি ছিলেন তুর্কি বংশোদ্ভূত সৈনিক। শারীরিক কদাকার চেহারার কারণে তিনি গজনি ও দিল্লিতে সেনাবিভাগে চাকরি পেতে ব্যর্থ হন। তবে নিজ অদম্য সাহসে তিনি সৈন্য সংগ্রহ করে প্রথমে বিহার এবং পরে ১২০৪ খ্রিষ্টাব্দে রাজা লক্ষণ সেনের রাজধানী নদীয়া আক্রমণ করেন। তিনি এত ক্ষিপ্রগতিতে এসেছিলেন যে, তার সাথে মাত্র ১৭-১৮ জন অশ্বারোহী-সৈনিক ছিল।
উদ্দীপকে আমরা দেখতে পাই, সেনাপতি 'ক' শারীরিক ত্রুটির কারণে চাকরি না পেয়ে নিজ চেষ্টায় বাহিনী গড়েন এবং মাত্র ১৭-১৮ জন সৈন্য নিয়ে আকস্মিক আক্রমণে বিনা বাধায় রাজ্য দখল করেন। বাস্তবে বখতিয়ার খলজির নদীয়া অভিযানের সময়ও রাজা লক্ষণ সেন প্রাসাদের দ্বারপ্রান্তে মাত্র ১৭-১৮ জন তুর্কি সেনা দেখে ভীত হয়ে বিনা প্রতিরোধে নৌকায় চড়ে পালিয়ে যান। তাই সেনাপতি 'ক' এর অভিযানটি বখতিয়ার খলজির নদীয়া বিজয়েরই অবিকল প্রতিফলন।
উদ্দীপকের সেনাপতি 'ক' বা বখতিয়ার খলজির অভিযান কেবল একটি রাজনৈতিক ক্ষমতা দখল ছিল না, বরং এর মাধ্যমে বাংলায় একটি নতুন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক যুগের সূচনা হয়েছিল-বক্তব্যটি সর্বাংশে যথার্থ। ১২০৪ খ্রিস্টাব্দে বখতিয়ার খলজির বঙ্গ বিজয়ের মধ্য দিয়ে বাংলায় দীর্ঘস্থায়ী মুসলিম শাসনের মজবুত ভিত্তি স্থাপিত হয়। এই বিজয় শুধু সেন বংশের পতন ঘটায়নি, বরং সমাজ জীবনে সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের নতুন ইসলামি মূল্যবোধের অনুপ্রবেশ ঘটিয়েছিল।
উদ্দীপকে উল্লিখিত আছে যে, সেনাপতি 'ক' তার বিজিত অঞ্চলে মাদ্রাসা ও ধর্মীয় কেন্দ্র গড়ে তোলেন। বখতিয়ার খলজিও রাজ্য জয়ের পর তা সুপ্রতিষ্ঠিত করার পাশাপাশি ইসলাম ধর্ম ও মুসলিম সংস্কৃতির বিকাশে ব্যাপক ভূমিকা রাখেন। তিনি তার শাসিত অঞ্চলে অসংখ্য মসজিদ, মাদ্রাসা ও মক্তব নির্মাণ করেছিলেন। বস্তুত, এই ধর্মীয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো নির্মাণের ফলে বাংলায় নতুন। শিক্ষা ব্যবস্থার প্রসার ঘটে। দেশ-বিদেশ থেকে সুফি সাধকদের। আগমনে একটি সমৃদ্ধ মিশ্র সংস্কৃতির উদ্ভব হয়, যা এদেশের ভাষা ও শিল্পকলাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। তাই সার্বিক মূল্যায়নে বলা যায়, বখতিয়ার খলজির বিজয় নিছক কোনো সামরিক জয় ছিল না,। বরং এটি ছিল বাংলার বুকে যুগান্তকারী সামাজিক ও সাংস্কৃতিক নবজাগরণের সূচনা।
উদ্দীপকের 'ক' ছকের তথ্যগুলো ১৭৫৭ সালের ঐতিহাসিক 'পলাশীর যুদ্ধ'-এর সাথে সম্পৃক্ত।
ছকে উল্লিখিত মীর মদন, মোহন লাল ও ফরাসি সেনাপতি সিনফ্রে ছিলেন নবাব সিরাজউদ্দৌলার বিশ্বস্ত সেনাপতি যারা পলাশীর যুদ্ধে প্রাণপণ লড়াই করেছিলেন। অন্যদিকে, মীর জাফর ছিলেন নবাবের প্রধান সেনাপতি, যিনি এই যুদ্ধে ইংরেজদের সাথে আঁতাত করে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিলেন। এই চরিত্রগুলো সরাসরি পলাশীর যুদ্ধের সাথে জড়িত।
পলাশী যুদ্ধের পেছনে ইংরেজদের ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণই প্রধান কারণ ছিল। নবাব সিরাজউদ্দৌলা সিংহাসনে বসার পর ইংরেজরা তাঁকে কোনো উপঢৌকন পাঠায়নি এবং সৌজন্য সাক্ষাৎ করেনি। তারা নবাবের নিষেধ অমান্য করে কলকাতায় দুর্গ নির্মাণ অব্যাহত রাখে এবং বাণিজ্যের ছাড়পত্র 'দস্তক'-এর চরম অপব্যবহার করে। এছাড়া রাজবল্লভের পুত্র কৃষ্ণদাসকে কলকাতায় আশ্রয় দেওয়া এবং তাকে ফেরত আনতে যাওয়া নবাবের দূতকে অপমান করে তাড়িয়ে দেওয়ার কারণেই নবাব ক্ষুব্ধ হয়ে ইংরেজদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করতে বাধ্য হন।
উদ্দীপকের 'খ' ছকের ব্যক্তিবর্গ ১৭৬৪ সালের ঐতিহাসিক 'বক্সারের যুদ্ধ'-এর সাথে সম্পৃক্ত। এই যুদ্ধের ফলাফল বাংলা তথা পুরো উপমহাদেশের ইতিহাসে সত্যিই অপরিসীম ছিল।
ছকে উল্লিখিত বাংলার নবাব মীর কাসিম, অযোধ্যার নবাব সুজাউদ্দৌলা (উদ্দীপকে সুজাউদ্দীন) এবং দিল্লির সম্রাট শাহ আলম একত্রিত হয়ে ইংরেজ সেনাপতি মেজর মনরোর বাহিনীর বিরুদ্ধে বক্সার নামক স্থানে যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছিলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে এই সম্মিলিত বাহিনী ইংরেজদের কাছে পরাজিত হয়। বক্সার যুদ্ধের ফলে মীর কাসিমের স্বাধীনতা রক্ষার শেষ চেষ্টাও সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়ে যায়। এ যুদ্ধে শুধু বাংলার নবাবই পরাজিত হননি, বরং ভারতবর্ষের সম্রাট এবং অযোধ্যার নবাবও পরাজিত হয়েছিলেন। ভারতবর্ষের তিন বৃহৎ শক্তির এই যৌথ পরাজয়ের ফলে ইংরেজদের ক্ষমতা, প্রভাব-প্রতিপত্তি ও সামরিক মর্যাদা বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। তারা বিনা বাধায় এই অঞ্চলে আধিপত্য বিস্তারের একচেটিয়া সুযোগ লাভ করে। বক্সারের যুদ্ধের সবচেয়ে সুদূরপ্রসারী ও অপরিসীম ফলাফল ছিল দেওয়ানি লাভ। এই যুদ্ধের পরপরই ১৭৬৫ সালে রবার্ট ক্লাইভ দিল্লির সম্রাটের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দেওয়ানি বা রাজস্ব আদায়ের পূর্ণ ক্ষমতা লাভকরেন। এর ফলে ইংরেজদের অধিকার যেমন আইনগত স্বীকৃতি পায়, তেমনি তারা অর্থনৈতিকভাবেও অসীম ক্ষমতার অধিকারী হয়ে ওঠে। স্বাধীন নবাব পরিণত হন ক্ষমতাহীন পুতুলে। মূলত বক্সারের যুদ্ধের মাধ্যমেই বাংলায় প্রত্যক্ষ ঔপনিবেশিক শাসনের শক্ত ভিত রচিত হয়েছিল। তাই প্রশ্নোক্ত উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ।
নারী শিক্ষার প্রসারে চিত্র 'A'-তে প্রদর্শিত ব্যক্তি অর্থাৎ বেগম রোকেয়ার অবদান অপরিসীম। তাকে বাঙালি নারী জাগরণের অগ্রদূত এবং প্রথম বাঙালি নারীবাদী হিসেবে অভিহিত করা হয়।
বেগম রোকেয়া সমাজের অবহেলিত নারীদের পক্ষে তখনই কলম ধরেছিলেন যখন নারীরা শিক্ষা অর্জনের অধিকার পেত না, তাদেরকে পর্দার অন্তরালে থাকতে হতো, পুরুষরা ছিল পরিবারের কর্তা আর নারীদেরকে পুরুষের সমকক্ষ ভাবা হতো না। বেগম রোকেয়া তার 'মতিচুর' গ্রন্থে নারী-পুরুষের সমকক্ষতার যুক্তি দিয়ে নারীদের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জন করে সম-অধিকার প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি তার প্রবন্ধ, গল্প ও উপন্যাসের মধ্য দিয়ে নারী শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা আর লিঙ্গ সমতার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেছেন। তার স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি স্বামীর নামে ভাগলপুরে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করেন। ১৯১১ সালে তিনি কোলকাতায় সাখাওয়াত মেমোরিয়াল উর্দু প্রাইমারি স্কুল স্থাপন করেন। ১৯৩১ সালে এটি উচ্চ ইংরেজি গার্লস স্কুলে উন্নীত হয়। নারী অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য ১৯১৬ সালে কোলকাতায় আঞ্জুমানে খাওয়াতিনে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করেন।
পরিশেষে বলা যায়, বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের হাত ধরেই বাংলার মুসলিম জাগরণ সূচিত হয় এবং বর্তমান নারী সমাজের এ অগ্রগতিতে তার অবদান অপরিসীম।
"আধুনিক সমাজ বিনির্মাণে চিত্র 'B'-তে প্রদর্শিত ব্যক্তি তথা রাজা রামমোহন রায়ের ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য।" মন্তব্যটি যথার্থ।
উদ্দীপকে চিত্র-B তে দেখানো ব্যক্তি হলেন রাজা রামমোহন রায়। সমাজ সংস্কারে তার অবদান অপরিসীম। বাংলার নবজাগরণের স্রষ্টা ভারতের প্রথম আধুনিক পুরুষ ছিলেন রাজা রামমোহন রায়। ১৭৭৪ সালে হুগলী জেলার রাধানগর গ্রামে তার জন্ম। অসাধারণ পাণ্ডিত্যের অধিকারী ছিলেন রাজা রামমোহন রায়। আধুনিক ভারতের রূপকার রাজা রামমোহন তৎকালীন সমাজের সামাজিক ও রাজনৈতিক গতিধারা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। নিজের চিন্তাধারার আলোকে নতুন সমাজ গঠনে প্রয়াসী হন। তিনি হিন্দু সমাজের সতীদাহ, বাল্যবিবাহ, কৌলীন্য প্রথা ও অন্যান্য কুসংস্কার দূর করতে প্রচেষ্টা চালান। তাছাড়া তিনি সব কুসংস্কার দূর করে আদি একেশ্বরবাদের ভিত্তিতে হিন্দুধর্ম পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে সচেষ্ট হন। হিন্দুধর্মের সংস্কার তথা নিজ ধর্মীয় মতবাদ প্রচারের উদ্দেশ্যে আত্মীয় সভা নামে একটি সমিতি গঠন করেন। ১৮২৮ সালের ২০ আগস্ট তিন ব্রাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠা করেন। এর পরে ব্রাহ্মসমাজের উপাসনালয় স্থাপন করেন। তার ব্রাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠা উপমহাদেশের ধর্মীয় ইতিহাসে এক নবযুগের সূচনা করে। শুধু সামাজিক আর ধর্মীয় বিষয় নয়, শিক্ষা বিস্তারেও তার অবদান ছিল। রাজা রামমোহন ১৮২২ সালে কোলকাতায় 'অ্যাংলো-হিন্দু স্কুল' প্রতিষ্ঠা করেন।
উদ্দীপকের 'তথ্য-১' ছকটি পাকিস্তানের ইতিহাসে অনুষ্ঠিত ১৯৭০ সালের প্রথম সাধারণ নির্বাচনের ইঙ্গিত বহন করে।
১৯৭০ সালের নির্বাচনে জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের আসন নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছিল। পূর্ব পাকিস্তানের জন্য জাতীয় পরিষদে 'সংরক্ষিত মহিলা আসনসহ মোট ১৬৯টি এবং প্রাদেশিক পরিষদে ৩১০টি আসন নির্ধারিত ছিল। অন্যদিকে পশ্চিম পাকিস্তানের জন্য জাতীয় পরিষদে ১৪৪টি এবং প্রাদেশিক পরিষদে ৩১১টি আসন ছিল। এ নির্বাচনের ফলাফল পূর্ব পাকিস্তানকে একটি পৃথক অঞ্চল হিসেবে স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করেছিল।
উদ্দীপকের তথ্য-১ এ 'ক' ও 'খ' অঞ্চলের আসন সংখ্যা পাঠ্যবইয়ে বর্ণিত ১৯৭০ সালের পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের আসন সংখ্যার সাথে হুবহু মিলে যায়। উক্ত নির্বাচনে শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ অভাবনীয় সাফল্য লাভ করে। আওয়ামী লীগ জাতীয় পরিষদের ১৬৯টি আসনের মধ্যে ১৬৭টি আসন লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। একইভাবে, প্রাদেশিক পরিষদের ৩১০টি আসনের মধ্যে ২৯৮টি আসন পেয়ে বিপুল ব্যবধানে জয়লাভ করে। এ বিজয় স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পথ প্রশস্ত করেছিল।
উদ্দীপকের 'তথ্য-২' এ উল্লিখিত সরকারটি হলো ১০ই এপ্রিল গঠিত স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকার, যা ইতিহাসে 'মুজিবনগর সরকার' নামে পরিচিত।
মুক্তিযুদ্ধ সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা এবং স্বাধীন বাংলাদেশের পক্ষে বিশ্বজনমত গঠন করার লক্ষ্যে এই সরকার গঠিত হয়েছিল। ১৭ই এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলায় এ সরকার শপথ গ্রহণ করে। শেখ মুজিবুর রহমানকে এই সরকারের রাষ্ট্রপতি এবং তাজউদ্দীন আহমদকে প্রধানমন্ত্রী করা হয়।
উদ্দীপকের তথ্য-২ এ দেখা যায়, একটি সরকার গঠিত হয়েছে ১০ই এপ্রিল এবং শপথ নিয়েছে ১৭ই এপ্রিল, যার সদর দপ্তর ছিল কলকাতায়। এই তথ্যগুলো মুজিবনগর সরকারের গঠন ও কার্যক্রমের সাথে সম্পূর্ণ মিলে যায়। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যখন এদেশের নিরীহ মানুষের ওপর গণহত্যা চালাচ্ছিল, তখন মুজিবনগর সরকার ভারতে বসে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়ের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে গেছে। এই সরকারের বলিষ্ঠ কূটনৈতিক তৎপরতার ফলেই ভারত, সোভিয়েত ইউনিয়নসহ বিশ্বের অনেক দেশ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে অবস্থান নেয়। তারা বিদেশি গণমাধ্যম ও রাষ্ট্রপ্রধানদের কাছে পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বরতার চিত্র
উদ্দীপকের চিত্র-১ এ প্রদর্শিত ভাস্কর্যটি মূলত বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে ছাত্র-তরুণদের গৌরবময় ত্যাগের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নির্মিত হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবন চত্বরে অবস্থিত এই ভাস্কর্যটির নাম 'অপরাজেয় বাংলা'। ভাস্কর সৈয়দ আবদুল্লাহ খালিদ এর স্থপতি। এতে অসম সাহসী তিনজন তরুণ-তরুণী মুক্তিযোদ্ধার অবয়ব ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এখানে দুইজন তরুণ রাইফেল হাতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং ঔষধের ব্যাগ কাঁধে এক তরুণী সেবায় নিবেদিতপ্রাণ হিসেবে দৃশ্যমান। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ছাত্র ও সাধারণ তরুণদের অংশগ্রহণ ছিল সবচেয়ে বেশি। তারা শুধু প্রতিরোধ গড়েনি, সম্মুখ সমরেও অংশ নিয়েছে। চিত্র-১ এর এই ভাস্কর্যটি সেই অকুতোভয় লড়াকু তরুণ মুক্তিযোদ্ধাদের চেতনারই মূর্ত প্রতীক। এটি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, ছাত্র ও তরুণদের অসীম সাহস ও আত্মত্যাগের ফলেই আমরা পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে স্বাধীনতা অর্জন করতে পেরেছি।
উদ্দীপকের চিত্র-২ এ নির্দেশিত সাভারের 'জাতীয় স্মৃতিসৌধ' নিঃসন্দেহে সমগ্র বাঙালি জাতির অহংকার, অপরিমেয় গৌরব এবং মাথা উঁচু করে বাঁচার পরম প্রতীক। স্থপতি মঈনুল হোসেনের নকশায় নির্মিত এই স্মৃতিসৌধের সাত জোড়া ত্রিভুজাকার দেয়াল মূলত আমাদের স্বাধিকার আদায়ের সাতটি গৌরবময় ঐতিহাসিক আন্দোলনের স্মৃতি বহন করে। এই রাজনৈতিক ঘটনাগুলো হলো ১৯৫২, ১৯৫৪, ১৯৫৬, ১৯৬২, ১৯৬৬, ১৯৬৯ এবং ১৯৭১।
চিত্র-২ এ আমরা যে বিশাল স্থাপনাটি দেখতে পাচ্ছি, তা এই দীর্ঘ মুক্তি সংগ্রামের এক অমর নিদর্শন। এর মূল বেদিতে পৌঁছানোর দীর্ঘ উঁচু-নিচু পথ আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের কণ্টকাকীর্ণ পথকে নির্দেশ করে, আর পাশেই রয়েছে লাখো শহিদের রক্তে ভেজা গণকবর। পরিশেষে বলা যায়, বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত দীর্ঘ ধারাবাহিক সংগ্রামের মধ্য দিয়েই বাঙালি পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙেছে। স্বাধীনতা অর্জনে জীবন উৎসর্গকারী সেই বীর শহিদদের পরম ত্যাগের প্রতি সম্মান জানাতেই এটি নির্মিত। তাই এই বিশাল স্থাপনাটি যুগ যুগ ধরে আমাদের জাতীয় জীবনে বীরত্ব, আত্মত্যাগ এবং চূড়ান্ত বিজয়ের এক চিরন্তন ও গৌরবময় প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।