দৃশ্য-১ : ঢাকা শহরের বর্তমান সময়ে বিভিন্ন হাউজিংগুলোর রাস্তাঘাট খুবই প্রশস্ত। পয়ঃনিষ্কাশনের জন্য সুপরিকল্পিত ড্রেন ব্যবস্থাও রয়েছে।
দৃশ্য-২: সুখিপুর গ্রামের দুই অঞ্চলের মধ্যে দীর্ঘদিন ঝগড়া-বিবাদ গেলে ছিল। ঐ গ্রামের একটি সমিতি ছিল। তারা পরিকল্পিতভাবে একটি খেলার আয়োজন করে।66 ফলে দেখা যায় তারা এর মাধ্যমে দীর্ঘদিনের সমস্যার নিরসন করতে সক্ষম হয়।
দৃশ্য-১ এ বর্ণিত ঢাকা শহরের পরিকল্পিত রাস্তাঘাট ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার সাথে প্রাচীন সিন্ধু সভ্যতার নগর পরিকল্পনার গভীর মিল রয়েছে। প্রাচীন সভ্যতার ইতিহাসে সিন্ধু সভ্যতার (হরপ্পা ও মহেঞ্জোদারো) নগর পরিকল্পনা ছিল অত্যন্ত উন্নত এবং আধুনিক। এই নগরীগুলোর রাস্তাগুলো ছিল সোজা ও প্রশস্ত। স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতার দিকে লক্ষ্য রেখে তারা অত্যন্ত উন্নত পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে তুলেছিল। প্রতিটি বাড়িতে খোলা জায়গা, কূপ ও স্নানাগার ছিল এবং বাড়ির পানি নিষ্কাশনের জন্য ছোট নর্দমাগুলোকে রাস্তার মূল ঢাকা নর্দমার সাথে সংযুক্ত করা হতো।
উদ্দীপকের দৃশ্য-১ এ ঢাকা শহরের বর্তমান হাউজিংগুলোর প্রশস্ত রাস্তা ও সুপরিকল্পিত ড্রেন ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে। এই চিত্রটি সরাসরি সিন্ধু সভ্যতার উন্নত নগর ব্যবস্থাপনার প্রতিচ্ছবি। হাজার বছর আগেই সিন্ধুবাসীরা আজকের আধুনিক শহরের মতোই পরিকল্পিত, স্বাস্থ্যসম্মত ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তুলেছিল।
দৃশ্য-২ এ বর্ণিত খেলাধুলার মাধ্যমে বিবাদ মীমাংসার বিষয়টি প্রাচীন গ্রিক সভ্যতায় ঘটেছিল। খেলাধুলার মাধ্যমে বর্তমান সময়েও যে সমস্যা নিরসন করা সম্ভব, তা যুক্তিসংগত। প্রাচীন গ্রিসের নগররাষ্ট্রগুলোর (যেমন- এথেন্স, স্পার্টা ইত্যাদি) মধ্যে প্রায়ই রাজনৈতিক ও সামরিক দ্বন্দ্ব লেগেই থাকত। এই বৈরিতা দূর করে ঐক্য ও সম্প্রীতি স্থাপনের লক্ষ্যে তারা দেবতা জিউসের সম্মানে অলিম্পিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন শুরু করে। প্রতি চার বছর পর পর এই খেলা অনুষ্ঠিত হতো। অলিম্পিক চলাকালীন সময়ে সকল যুদ্ধ ও বিবাদ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হতো, যার ফলে নগররাষ্ট্রগুলোর মধ্যে শত্রুতার-বদলে সৌহার্দ্যপূর্ণ মনোভাব গড়ে উঠত।
উদ্দীপকের দৃশ্য-২ এ আমরা দেখতে পাই, সুখিপুর গ্রামের দুটি অঞ্চলের দীর্ঘদিনের বিবাদ মেটাতে স্থানীয় একটি সমিতি পরিকল্পিতভাবে খেলার আয়োজন করে এবং সফলভাবে সমস্যার সমাধান করে। প্রাচীন গ্রিসের অলিম্পিক গেমসের মূল উদ্দেশ্যও ছিল ঠিক একই-খেলাধুলার মাধ্যমে সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে শান্তির অন্বেষণ। বর্তমান সময়েও খেলাধুলা বা এ ধরনের সামাজিক উদ্যোগ অত্যন্ত কার্যকর। খেলাধুলা মানুষের মধ্যে কেবল সুস্থ প্রতিযোগিতার জন্ম দেয় না, বরং সহনশীলতা, শৃঙ্খলা ও দলগত একতা শেখায়। খেলার মাঠে বিভিন্ন মত ও পথের মানুষ একত্রিত হয়, যা পারস্পরিক দূরত্ব ও ভুল বোঝাবুঝি কমিয়ে আনতে সাহায্য করে। তাই গ্রিক সভ্যতার অলিম্পিকের এই চেতনা ধারণ করে বর্তমান সমাজেও খেলাধুলার মাধ্যমে অনেক সামাজিক ও আঞ্চলিক বিবাদের শান্তিপূর্ণ সমাধান আনা সম্ভব।
দৃশ্য-১: স্নেহা তার ভাইয়ের সাথে জামালপুরের গারো পাহাড়ে যায়। এই প্রথম তার পাহাড় দেখার অভিজ্ঞতা হয়। সে দেখে এখানে অনেক উঁচু উঁচু পাহাড় এবং সেখানে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীরা বসবাস করছে।
দৃশ্য-২: রাহিবুল জনগণের ভোটে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়। নির্বাচিত হওয়ার পর এলাকার প্রতিনিধি হিসাবে বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ সম্পাদন করেন।
দৃশ্য-১ এর পাহাড়ি বসতির ন্যায় সুউচ্চ পাহাড়ের ওপর লাতিন আমেরিকার প্রাচীন 'ইনকা সভ্যতা' গড়ে উঠেছিল। পেরুর আন্দিজ পর্বতমালার উঁচুতে উরুবামবা নদীর পাহাড়ি এলাকায় ইনকারা তাদের হারানো শহর 'মাচুপিচু' নির্মাণ করেছিল। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২৪০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত এই সুপরিকল্পিত নগরীটি ইনকাদের উন্নত স্থাপত্যশৈলীর এক অনন্য নিদর্শন। দুর্গম পাহাড়ে বসবাস করেও তারা কৃষি, পশুপালন ও নগর নির্মাণে অসাধারণ দক্ষতা দেখিয়েছিল।
উদ্দীপকের দৃশ্য-১ এ স্নেহা জামালপুরের গারো পাহাড়ে গিয়ে উঁচু উঁচু পাহাড় এবং সেখানে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের দেখতে পায়। দুর্গম পাহাড়ি পরিবেশে মানুষের এই বসবাস ও টিকে থাকার চিত্রটি প্রাচীন ইনকা সভ্যতার মানুষদের স্মরণ করিয়ে দেয়। কারণ, ইনকারাও ঠিক এভাবেই সুউচ্চ আন্দিজ পর্বতমালার দুর্গম পরিবেশে মাচুপিচুর মতো সমৃদ্ধ শহর গড়ে তুলেছিল। তাই স্নেহার দেখা পাহাড়ি বসতির সাথে ইনকা সভ্যতার গভীর মিল রয়েছে।
দৃশ্য-২ এ রাহিবুল 'গণতান্ত্রিক' সরকার ব্যবস্থার মাধ্যমে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছেন, যার আদি রূপ প্রাচীন গ্রিসের এথেন্সে গড়ে উঠেছিল। প্রাচীন গ্রিসের নগররাষ্ট্র এথেন্সে সর্বপ্রথম গণতন্ত্রের সূচনা হয়। সোলন, ক্লিসথেনিস এবং পেরিক্লিসের মতো মনীষীদের হাত ধরে এথেন্সে নাগরিকদের রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়। পেরিক্লিসের যুগে প্রশাসন, আইন ও বিচার বিভাগে নাগরিকদের অবাধ অংশগ্রহণের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছিল, যা ছিল আধুনিক গণতন্ত্রের প্রাথমিক ভিত্তি।
উদ্দীপকের দৃশ্য-২ এ আমরা দেখতে পাই, রাহিবুল জনগণের ভোটে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন এবং প্রতিনিধি হিসেবে এলাকার উন্নয়ন কাজ করছেন। এই ভোটাধিকার প্রয়োগ ও জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের বিষয়টি সরাসরি এথেন্সের সেই প্রাচীন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থারই আধুনিক প্রতিফলন। জনগণের মতামতের ভিত্তিতে শাসনকার্য পরিচালনার যে শিক্ষা এথেন্স বিশ্বকে দিয়েছিল, রাহিবুলের নির্বাচন তারই একটি উদাহরণ। বর্তমান পৃথিবীতে এই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা সবচেয়ে জনপ্রিয় হওয়ার কারণ হলো-এটি নাগরিকদের অধিকার নিশ্চিত করে। এই ব্যবস্থায় রাষ্ট্রের ক্ষমতার প্রকৃত মালিক জনগণ। স্বৈরতন্ত্রের মতো এখানে কেউ জোরপূর্বক ক্ষমতা দখল করতে পারে না। বরং জনসমর্থনের ভিত্তিতে প্রতিনিধি নির্বাচিত হয়ে দেশ পরিচালনা করে এবং শাসকরা জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকে বলেই এটি বিশ্বজুড়ে সর্বাধিক সমাদৃত ও জনপ্রিয় একটি ব্যবস্থা।
দৃশ্য-১: বখতিয়ার খলজি নদীয়া বিজয়ের মাধ্যমে একটি যুগের সূচনা করেন এবং একটি যুগের অবসান ঘটিয়েছেন। এটি করার জন্য তিনি কৌশল প্রয়োগ করেন।
দৃশ্য-২: 'ক' নামক একজন শাসকের মৃত্যুর পর ঐ রাজ্যে দীর্ঘদিন অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলা চলেছিল। এরপর বিভিন্ন ঘটনার মধ্য দিয়ে একটি রাজবংশের সূচনা হয়। যা বাংলার ইতিহাসে সবচেয়ে - দীর্ঘস্থায়ী রাজবংশ।
দৃশ্য-১ এর ব্যক্তি বখতিয়ার খলজি দায়িত্ব গ্রহণের পূর্বে বাংলায় 'সেন বংশের' শাসনকাল বিদ্যমান ছিল এবং সাম্রাজ্যের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও শাসকের বার্ধক্যজনিত দুর্বলতাই ছিল এই বংশের পতনের মূল কারণ। সেন বংশের শেষ প্রতাপশালী রাজা ছিলেন লক্ষণ সেন। তিনি তাঁর রাজত্বকালের প্রথমদিকে একজন দক্ষ যোদ্ধা হিসেবে রাজ্য বিস্তার করলেও শেষ বয়সে এসে তিনি শাসনকার্যে দুর্বল হয়ে পড়েন। দীর্ঘদিনের যুদ্ধবিগ্রহ, রাজার বার্ধক্য এবং রাজসভার অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্র ও অন্তর্বিরোধের ফলে গৌড় সাম্রাজ্য ক্রমশ দুর্বল হতে থাকে।
উদ্দীপকের দৃশ্য-১ এ বখতিয়ার খলজি নদীয়া বিজয়ের মাধ্যমে কৌশলে পূর্ববর্তী যুগের অবসান ঘটানোর কথা বলা হয়েছে। যা সেন বংশের অবসানের ঘটনার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। তেরো শতকের শুরুতে বয়োবৃদ্ধ লক্ষণ সেনের দুর্বলতার সুযোগে ১১৯৬ সালে ডোম্মন পাল নামে এক সামন্ত রাজা সুন্দরবন এলাকায় স্বাধীন রাজ্য গড়ে তোলেন, যা সেন সাম্রাজ্যের ভাঙনের সুস্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়। অবশেষে ১২০৪ সালে তুর্কি সেনাপতি বখতিয়ার খলজির অতর্কিত নদীয়া আক্রমণের মুখে প্রতিরোধ গড়তে না পেরে রাজা লক্ষণ সেন রাজধানী ছেড়ে পালিয়ে যান। এভাবেই অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা ও দূরদর্শিতার অভাবে - বাংলায় সেন বংশের পতন ঘটে।
দৃশ্য-২ এর রাজবংশ অর্থাৎ পাল বংশের সূচনার পূর্বে বাংলায় 'মাৎস্যন্যায়' নামক চরম অরাজক অবস্থা বিরাজ করছিল এবং স্থানীয় নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের দ্বারা গোপালকে রাজা হিসেবে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে এই অবস্থার অবসান ঘটেছিল। ! রাজা শশাঙ্কের মৃত্যুর পর বাংলায় প্রায় একশো বছর কোনো কেন্দ্রীয় শাসক ছিলেন না। ফলে রাজ্যের শক্তিশালী ভূস্বামীরা ছোট ছোট অঞ্চলগুলো গ্রাস করে নিজেদের মধ্যে সংঘাতে মেতে ওঠে। পুকুরে বড় মাছ যেমন ছোট মাছকে গিলে খায়, সমাজেও ঠিক তেমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল, যাকে কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্রে 'মাৎস্যন্যায়' বলা হয়েছে।
'উদ্দীপকের দৃশ্য-২ এ 'ক' নামক এক শাসকের মৃত্যুর পর দীর্ঘদিনের অরাজকতার পর বাংলার সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী রাজবংশের সূচনার কথা বলা হয়েছে। যা পাল বংশকে নির্দেশ করে, এই দীর্ঘস্থায়ী রাজবংশ একটানা চারশো বছর শাসন করা পাল বংশ। পাল রাজত্বের পূর্বে - রাজা শশাঙ্কের মৃত্যুর পর বাংলায় যে চরম বিশৃঙ্খলা ও অস্থির রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তা থেকে মুক্তির জন্যই এই বংশের সূত্রপাত ঘটে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক এই অস্থিতিশীলতা বাংলার সাধারণ জীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছিল। এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য বাংলার মানুষ নিজেদের মধ্যকার বিবাদ ভুলে একটি ঐকমত্যে পৌঁছান। তারা সিদ্ধান্ত নেন যে, স্বেচ্ছায় একজনকে রাজপদে মনোনীত করে তার নেতৃত্ব মেনে নেবেন। এই প্রক্রিয়ায় তারা সাধারণ কিন্তু যোগ্য ব্যক্তি গোপালকে রাজা হিসেবে নির্বাচিত করেন। গোপালের সিংহাসন আরোহণের মাধ্যমেই বাংলায় 'মাৎস্যন্যায়'-এর মতো এক শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির চূড়ান্ত অবসান ঘটে এবং দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতার যুগ শুরু হয়।
দৃশ্য-১ : 'ক' নামক একজন শাসক তার ক্ষমতাকে দীর্ঘস্থায়ী করার জন্য বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। তার মধ্যে অন্যতম হলো নৌবাহিনীর গোড়াপত্তন করেন। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন সেতু নির্মাণ ও খাল খনন করেন।
দৃশ্য-২: 'খ' নামক এক ব্যক্তিকে প্রথমে বাংলার দেওয়ান হিসাবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি তার বিচক্ষণতার দ্বারা বাংলার ইতিহাসের গতিপথ পরিবর্তন করেছিলেন। তিনি রাজস্ব ব্যবস্থার ব্যাপক সংস্কার করেন।
দৃশ্য-১ এ মধ্যযুগের বাংলার অন্যতম বিচক্ষণ ও দূরদর্শী সুশাসক সুলতান গিয়াসউদ্দিন ইওজ খলজিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
উদ্দীপকের দৃশ্য-১ এ উল্লিখিত নৌবাহিনীর গোড়াপত্তন, সেতু নির্মাণ ও খাল খননের বিষয়টি ইওজ খলজির শাসনকালের সাথেই হুবহু মিলে যায়। বখতিয়ার খলজি প্রতিষ্ঠিত বাংলার মুসলিম রাজ্যকে শক্তিশালী ও সুদৃঢ় করতে ইওজ খলজি নানামুখী বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। রাজধানী স্থানান্তর থেকে শুরু করে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মজবুত করা, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার এবং প্রজা কল্যাণে তিনি বেশ কিছু যুগান্তকারী উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তিনি অনুধাবন করতে পেরেছিলেন যে, নদীমাতৃক বাংলায় রাজ্য বিস্তার ও সুরক্ষার জন্য অশ্বারোহী বাহিনীর পাশাপাশি শক্তিশালী নৌবাহিনী অপরিহার্য। তাই তিনি প্রথম নৌবাহিনীর গোড়াপত্তন করেন। তাছাড়া বার্ষিক 'বন্যার কবল থেকে জনপদ ও শস্যক্ষেত্র রক্ষার্থে তিনি অসংখ্য খাল খনন ও সেতু নির্মাণ করেছিলেন। তার এসব জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপের প্রতিচ্ছবিই উদ্দীপকে ফুটে উঠেছে।
দৃশ্য-২ এর বিচক্ষণ শাসক হলেন নবাব মুর্শিদ কুলি খান, যিনি দেওয়ান থেকে সুবাদার হয়ে নিজ যোগ্যতায় বাংলার রাজস্ব ও শাসন ব্যবস্থায় অতুলনীয় দক্ষতা প্রদর্শন করেছিলেন। আঠারো শতকের শুরুতে মুঘল সম্রাটদের দুর্বলতার সুবাদে বাংলার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা যখন শোচনীয়, তখন তিনি দৃঢ়তার সাথে শাসন পুনরুদ্ধার করেন। রাজধানী মুর্শিদাবাদে স্থানান্তর করে তিনি কার্যত স্বাধীন নবাবি আমলের সূচনা করেন।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, শাসক দেওয়ান হিসেবে নিয়োগ পেয়ে বিচক্ষণতার সাথে বাংলার গতিপথ বদলে দেন এবং রাজস্ব ব্যবস্থার সংস্কার করেন। ইতিহাসের মুর্শিদ কুলি খানের ক্ষেত্রেও আমরা একই চিত্র দেখতে পাই। তিনি ভূমি জরিপ করে রায়তদের সামর্থ্য অনুযায়ী রাজস্ব নির্ধারণ করেন এবং ১৭২২ খ্রিষ্টাব্দে 'মালজামিনি' প্রথা নামে এক নতুন ভূমি বন্দোবস্ত চালু করেন, যা তার সর্বাধিক আলোচিত কীর্তি। মুর্শিদ কুলি খান মধ্যস্থতাকারীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করে প্রজাদের হয়রানি থেকে মুক্তি দিয়েছিলেন। তিনি বিদেশি বণিকদের উৎসাহ প্রদান করে ব্যবসা-বাণিজ্যের ব্যাপক প্রসার ঘটান। তার এই সুনিপুণ অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা ও দৃঢ় নেতৃত্বের ফলেই বিপর্যস্ত বাংলা অর্থনীতি ফিরে পেয়েছিল এক নতুন সমৃদ্ধি। তাই শাসক হিসেবে তার অসামান্য দক্ষতার বিষয়টি ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে সম্পূর্ণ যথার্থ।
উদ্দীপকের 'ক' ছকের তথ্যগুলো ১৭৫৭ সালের ঐতিহাসিক 'পলাশীর যুদ্ধ'-এর সাথে সম্পৃক্ত।
ছকে উল্লিখিত মীর মদন, মোহন লাল ও ফরাসি সেনাপতি সিনফ্রে ছিলেন নবাব সিরাজউদ্দৌলার বিশ্বস্ত সেনাপতি যারা পলাশীর যুদ্ধে প্রাণপণ লড়াই করেছিলেন। অন্যদিকে, মীর জাফর ছিলেন নবাবের প্রধান সেনাপতি, যিনি এই যুদ্ধে ইংরেজদের সাথে আঁতাত করে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিলেন। এই চরিত্রগুলো সরাসরি পলাশীর যুদ্ধের সাথে জড়িত।
পলাশী যুদ্ধের পেছনে ইংরেজদের ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণই প্রধান কারণ ছিল। নবাব সিরাজউদ্দৌলা সিংহাসনে বসার পর ইংরেজরা তাঁকে কোনো উপঢৌকন পাঠায়নি এবং সৌজন্য সাক্ষাৎ করেনি। তারা নবাবের নিষেধ অমান্য করে কলকাতায় দুর্গ নির্মাণ অব্যাহত রাখে এবং বাণিজ্যের ছাড়পত্র 'দস্তক'-এর চরম অপব্যবহার করে। এছাড়া রাজবল্লভের পুত্র কৃষ্ণদাসকে কলকাতায় আশ্রয় দেওয়া এবং তাকে ফেরত আনতে যাওয়া নবাবের দূতকে অপমান করে তাড়িয়ে দেওয়ার কারণেই নবাব ক্ষুব্ধ হয়ে ইংরেজদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করতে বাধ্য হন।
উদ্দীপকের 'খ' ছকের ব্যক্তিবর্গ ১৭৬৪ সালের ঐতিহাসিক 'বক্সারের যুদ্ধ'-এর সাথে সম্পৃক্ত। এই যুদ্ধের ফলাফল বাংলা তথা পুরো উপমহাদেশের ইতিহাসে সত্যিই অপরিসীম ছিল।
ছকে উল্লিখিত বাংলার নবাব মীর কাসিম, অযোধ্যার নবাব সুজাউদ্দৌলা (উদ্দীপকে সুজাউদ্দীন) এবং দিল্লির সম্রাট শাহ আলম একত্রিত হয়ে ইংরেজ সেনাপতি মেজর মনরোর বাহিনীর বিরুদ্ধে বক্সার নামক স্থানে যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছিলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে এই সম্মিলিত বাহিনী ইংরেজদের কাছে পরাজিত হয়। বক্সার যুদ্ধের ফলে মীর কাসিমের স্বাধীনতা রক্ষার শেষ চেষ্টাও সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়ে যায়। এ যুদ্ধে শুধু বাংলার নবাবই পরাজিত হননি, বরং ভারতবর্ষের সম্রাট এবং অযোধ্যার নবাবও পরাজিত হয়েছিলেন। ভারতবর্ষের তিন বৃহৎ শক্তির এই যৌথ পরাজয়ের ফলে ইংরেজদের ক্ষমতা, প্রভাব-প্রতিপত্তি ও সামরিক মর্যাদা বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। তারা বিনা বাধায় এই অঞ্চলে আধিপত্য বিস্তারের একচেটিয়া সুযোগ লাভ করে। বক্সারের যুদ্ধের সবচেয়ে সুদূরপ্রসারী ও অপরিসীম ফলাফল ছিল দেওয়ানি লাভ। এই যুদ্ধের পরপরই ১৭৬৫ সালে রবার্ট ক্লাইভ দিল্লির সম্রাটের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দেওয়ানি বা রাজস্ব আদায়ের পূর্ণ ক্ষমতা লাভকরেন। এর ফলে ইংরেজদের অধিকার যেমন আইনগত স্বীকৃতি পায়, তেমনি তারা অর্থনৈতিকভাবেও অসীম ক্ষমতার অধিকারী হয়ে ওঠে। স্বাধীন নবাব পরিণত হন ক্ষমতাহীন পুতুলে। মূলত বক্সারের যুদ্ধের মাধ্যমেই বাংলায় প্রত্যক্ষ ঔপনিবেশিক শাসনের শক্ত ভিত রচিত হয়েছিল। তাই প্রশ্নোক্ত উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ।
উদ্দীপকে অয়ন বিশ্বাস কর্তৃক কৃষকদের জমি স্থায়ীভাবে বরাদ্দ দেওয়ার বিষয়টি পাঠ্যপুস্তকের লর্ড কর্নওয়ালিস প্রবর্তিত 'চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত' বা স্থায়ী ভূমি ব্যবস্থার সাথে সম্পৃক্ত।
উদ্দীপকের অয়ন বিশ্বাস ১০০০ বিঘা জমির মালিক হিসেবে কৃষকদের দীর্ঘমেয়াদি দাবির প্রেক্ষিতে জমি স্থায়ীভাবে বরাদ্দ দেন। পাঠ্যবইয়ে উল্লিখিত চিরস্থায়ী বন্দোবস্তেও ব্রিটিশ সরকার জমিদারদের একইভাবে জমির স্থায়ী মালিকানা দিয়েছিল। চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত জমিদারদের জমির স্থায়ী মালিকে পরিণত করে এরবং জমিদাররা জমির মালিকানা স্বত্ব লাভ করে। রাজস্বের পরিমাণ নির্দিষ্ট করে দেওয়ার ফলে নিয়মিত রাজস্ব প্রদানের বিনিময়ে জমিদার জমিদারি ভোগের চিরস্থায়ী অধিকার লাভ করে। এ প্রথা চালু হওয়ার ফলে। জমিদারদের প্রশাসনিক ক্ষমতা বিলুপ্ত হয়। সরকার স্বয়ং শান্তি রক্ষা ও নিরাপত্তার দায়িত্ব গ্রহণ করে। খাজনা বাকি পড়লে জমিদারদের ভূমির কিছু অংশ বিক্রি করে রাজস্ব আদায় করার ব্যবস্থা ছিল। নতুন এক জমিদার শ্রেণি গড়ে ওঠে। যাদের সাথে প্রজাদের প্রায় সম্পর্ক ছিল না। এই জমিদার শ্রেণির অধিকাংশই ছিল উঠতি পুঁজিপতি। তারাই ব্রিটিশ শাসনের অন্যতম প্রধান সমর্থক শ্রেণি ও ভিত্তি ছিলো।
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত 'চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত' তখনকার দিনে ব্রিটিশ সরকারের আয় নিশ্চিত করে বাজেটের ভারসাম্য ও অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছিল।
চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত চালুর আগে রাজস্ব আদায়ে ব্যাপক অনিশ্চয়তা ছিল। কিন্তু এই ব্যবস্থায় রাজস্বের পরিমাণ নির্দিষ্ট করে দেওয়ায় সরকারের আয়ের পরিমাণ সুনির্দিষ্ট হয়। ফলে ব্রিটিশ সরকারের জন্য বাজেট প্রণয়ন, অর্থনৈতিক পরিকল্পনা গ্রহণ ও বিভিন্ন কাজ বাস্তবায়ন করা সহজতর হয়।
উদ্দীপকে অয়ন বিশ্বাস ছোট চাষিদের জমি স্থায়ীভাবে বরাদ্দ দেন, যা তাকে বারবার জমি লিজ দেওয়ার ঝামেলা থেকে মুক্তি দেয় এবং একটি স্থিতিশীল ব্যবস্থা তৈরি করে। একইভাবে, ব্রিটিশ সরকারও চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের মাধ্যমে জমিদারদের জমির মালিকানা দিয়ে একটি নির্দিষ্ট ও 'নিয়মিত আয়ের উৎস নিশ্চিত করেছিল। এটি প্রশাসনিক ব্যয় কমিয়ে অর্থনৈতিক শৃঙ্খলার ভিত্তি মজবুত করেছিল। কৃষকদের জন্য এই প্রথা ক্ষতিকর হলেও, রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে এটি সরকারের অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা দূর করেছিল। নির্দিষ্ট রাজস্ব ব্যবস্থার কারণে প্রশাসনিক কাঠামো সুসংগঠিত হওয়ার সুযোগ পায়। তাই আয় নিশ্চিতকরণ ও পরিকল্পিত অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা নির্মাণে চিরস্থায়ী বন্দোবস সত্যিই সহায়ক ভূমিকা রেখেছিল।
উদ্দীপকের চিত্র-১ এ প্রদর্শিত ব্যক্তি হলেন বাংলার নবজাগরণের স্রষ্টা রাজা রামমোহন রায়, যিনি ধর্ম ও সমাজ সংস্কারের পাশাপাশি শিক্ষাবিস্তারে যুগান্তকারী ভূমিকা রেখেছেন। তিনি হিন্দু সমাজের সতীদাহ প্রথা, বাল্যবিবাহ ও কৌলীন্য প্রথার মতো অমানবিক কুসংস্কার দূর করতে তীব্র সংগ্রাম করেন। আদি একেশ্বরবাদ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তিনি 'আত্মীয় সভা' ও 'ব্রাহ্মসমাজ' গড়ে তোলেন এবং আধুনিক চিন্তা প্রসারে 'সম্বাদ কৌমুদী'র মতো পত্রিকা প্রকাশ করেন।
সমাজ সংস্কারের পাশাপাশি আধুনিক শিক্ষায় তাঁর কর্মকান্ড ছিল অসামান্য। তিনি অনুধাবন করেছিলেন যে, প্রকৃত উন্নতির জন্য সংস্কৃত শিক্ষার চেয়ে পাশ্চাত্য ও বিজ্ঞান শিক্ষা বেশি জরুরি। তাই তিনি 'অ্যাংলো-হিন্দু স্কুল' প্রতিষ্ঠা করেন এবং সরকারের কাছে সংস্কৃতের বদলে ইংরেজি ও বিজ্ঞান শিক্ষায় অর্থ ব্যয়ের জোরালো দাবি জানান।। তাঁর এই বহুমুখী কর্মকাই বাঙালিকে কুসংস্কারমুক্ত করে আধুনিকতার পথ দেখিয়েছিল।
উদ্দীপকের চিত্র-২ এর ব্যক্তি হলেন প্রখ্যাত মুসলিম নেতা সৈয়দ আমির আলি, যাঁর রাজনৈতিক সংগঠন ও শিক্ষামূলক উদ্যোগ বাংলার পিছিয়ে পড়া মুসলমানদের স্বার্থ রক্ষায় অসামান্য ভূমিকা পালন করেছিল।
উনিশ শতকের শেষার্ধে বাংলার মুসলিম সমাজ শিক্ষা ও রাজনীতিতে অনেকটা পিছিয়ে ছিল। সৈয়দ আমির আলি বিশ্বাস করতেন, মুসলমানদের দাবি-দাওয়া আদায় এবং সরকারি সুযোগ-সুবিধা লাভের জন্য নিজেদের একটি পৃথক ও শক্তিশালী রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম থাকা একান্ত প্রয়োজন। মুসলমানদের এই অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে তিনি ১৮৭৭ সালে কোলকাতায় 'সেন্ট্রাল মোহামেডান অ্যাসোসিয়েশন' প্রতিষ্ঠা করেন। এটি ছিল মুসলমানদের স্বার্থরক্ষার প্রথম নিজস্ব রাজনৈতিক সংগঠন। এর পাশাপাশি তিনি পত্র-পত্রিকায় মুসলমানদের পিছিয়ে পড়ার কারণগুলো তুলে ধরে জনমত গঠন করেন, যার ফলে ব্রিটিশ সরকার মুসলমানদের শিক্ষায় এগিয়ে নিতে বিভিন্ন ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে বাধ্য হয়। পরিশেষে বলা যায়, তিনি কেবল রাজনৈতিক সংগঠকই ছিলেন। শিক্ষাবিস্তারেও ছিলেন দূরদর্শী। তিনি কোলকাতা ও করাচি আধুনিক কলেজ প্রতিষ্ঠায় উৎসাহ দেন এবং আধুনিক ভারতের উন্নতি জন্য হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতির ওপর জোর দেন। তাঁর প্রতিষ্ঠি রাজনৈতিক ভিত এবং শিক্ষাবিস্তারের নিরলস প্রচেষ্টাই বাঙাি মুসলমানদের পশ্চাৎপদতা দূর করে তাদের অধিকার সুরক্ষায় সবচে কার্যকর ভূমিকা রেখেছিল।
উদ্দীপকের চিত্র-১ এ প্রদর্শিত সাভারের 'জাতীয় স্মৃতিসৌধ' মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে আত্মদানকারী বীর শহিদদের অসামান্য ত্যাগ এবং বাঙালির অহংকার ও মর্যাদার প্রতীক।
স্থপতি মঈনুল হোসেনের নকশায় নির্মিত এই স্মৃতিসৌধের সাত জোড়া ত্রিভুজাকার দেয়াল মূলত আমাদের স্বাধিকার আদায়ের সাতটি গৌরবময় ঐতিহাসিক আন্দোলনের স্মৃতি বহন করে। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত ধারাবাহিক দীর্ঘ সংগ্রামের মধ্য দিয়েই বাঙালি পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে স্বাধীনতা অর্জন করে।
উদ্দীপকের চিত্র-১ এ আমরা সেই স্মৃতিসৌধটি দেখতে পাচ্ছি, যা এই দীর্ঘ মুক্তি সংগ্রামের এক অমর নিদর্শন। এর বেদিতে পৌঁছানোর উঁচু-নিচু পথ আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের কণ্টকাকীর্ণ পথকে নির্দেশ করে, আর পাশেই রয়েছে লাখো শহিদের রক্তে ভেজা গণকবর। স্বাধীনতায় এই বিশাল স্থাপনাটি দাঁড়িয়ে আছে আমাদের চূড়ান্ত বিজয়ের এক চিরন্তন স্মারক হিসেবে। তাই এটি নিঃসন্দেহে আমাদের জাতীয় অহংকার, অপরিমেয় গৌরব এবং মাথা উঁচু করে বাঁচার পরম মর্যাদার প্রতীক।
উদ্দীপকের চিত্র-২ এ নির্দেশিত স্বাধীন বাংলাদেশের 'জাতীয় পতাকা' সত্যিই একটি স্বাধীন ভূখণ্ডের আপামর জনসাধারণের আশা-আকাঙ্ক্ষা এবং জাতীয় চেতনার মূর্ত প্রতীক।
একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় পরিচয় বহন করে তার নিজস্ব পতাকা। বাংলাদেশের পতাকার সবুজ রং এদেশের শস্য-শ্যামল প্রকৃতি ও তারুণ্যের অদম্য প্রাণশক্তির কথা বলে, আর মাঝের উজ্জ্বল লাল বৃত্তটি মনে করিয়ে দেয় স্বাধীনতার রক্তিম সূর্য এবং স্বাধীনতা সংগ্রামে আত্মদানকারী লাখো শহিদের পবিত্র রক্তের কথা।
উদ্দীপকের চিত্র-২ এ আমরা সেই ঐতিহাসিক পতাকারই একটি কাঠামোগত রূপ দেখতে পাচ্ছি। ১৯৭১ সালের ২রা মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবারের মতো এই পতাকা উত্তোলন করা হয়েছিল। পরবর্তীতে পটুয়া কামরুল হাসান বর্তমান পতাকার নকশা চূড়ান্ত করেন। এই লাল-সবুজ পতাকাই মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিকামী বাঙালির মনে অসীম সাহস ও উদ্দীপনা জুগিয়েছিল এবং একটি স্বাধীন দেশের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে প্রেরণা জুগিয়েছিল। পরিশেষে বলা যায়, দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত এই পতাকা কেবল একখণ্ড রঙিন কাপড় নয়, বরং এটি বাঙালির হাজার বছরের পরাধীনতা ঘোচানোর দলিল। এর নিচেই সমগ্র জাতি তাদের ভবিষ্যৎ আশা-আকাঙ্ক্ষা ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে একতাবদ্ধ হয়। তাই স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা নিঃসন্দেহে আমাদের সকল আশা ও পরম আকাঙ্ক্ষার এক অনন্য ও উজ্জ্বল প্রতীক।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।