ঢাকা বোর্ড ২০২৬
১.

দৃশ্যকল্প-১: রতন নদীর পাড়ে বাস করে। প্রায় প্রতি বছরই তার গ্রাম তিস্তার পানিতে প্লাবিত হয়। বন্যার পানি নেমে গেলে জমিতে পলি পরে মাটি উর্বর হওয়ায় প্রচুর ফসল উৎপাদিত হয়।

দৃশ্যকল্প-২: জিসান তার মামার সাথে পুরানো একটি শহর দেখতে গিয়েছিল। শহরের রাস্তাগুলো ছিল সোজা, পাকা ও প্রশস্ত। রাস্তার উভয় পাশে সারিবদ্ধ লাইটপোস্টগুলো ছিল চমৎকার।

উত্তর হায়ারোগ্লিফিক হলো প্রাচীন মিশরীয়দের উদ্ভাবিত এক ধরনের চিত্রলিপি, যাকে 'পবিত্র অক্ষর' বলা হয়।
উত্তর চীনের হোয়াংহো নদীর ধীর প্রবাহ এর দুই তীরে উর্বর পলিভূমির সৃষ্টি করলেও বর্ষাকালে এই নদী ভয়াবহ রূপ ধারণ করত। প্রবল বৃষ্টির ফলে নদীর দুই কূল ছাপিয়ে যে বিধ্বংসী বন্যার সৃষ্টি হতো, - তাতে মানুষের জানমাল ও ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হতো। বর্ষার এই প্লাবন ও ক্রমাগত জীবনহানির কারণে প্রাচীনকাল থেকেই হোয়াংহো নদী চীনের মানুষের কাছে এক বিভীষিকার নাম ছিল। এ কারণেই ইতিহাসে হোয়াংহো নদীকে 'চীনের দুঃখ' হিসেবে অভিহিত করা হয়।
উত্তর

দৃশ্যকল্প-১-এ বর্ণিত অবস্থার সাথে ইতিহাসের মিশরীয় সভ্যতার মিল খুঁজে পাওয়া যায়।

মিশরীয় সভ্যতার মূল ভিত্তি ছিল নীল নদ। নীল নদের উৎপত্তি আফ্রিকার লেক ভিক্টোরিয়া থেকে। প্রতি বছর নীল নদে বন্যা হতো এবং বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর দুই তীরে পলি জমে ভূমি অত্যন্ত উর্বর হয়ে উঠত। এই উর্বর মাটিতেই প্রাচীন মিশরীয়রা গম, যব ও তুলার মতো প্রচুর ফসল উৎপাদন করত। উদ্দীপকের রতনের গ্রামের অবস্থা ঠিক এমনই, যেখানে তিস্তার বন্যার পর পলি জমে জমি উর্বর হয়।

ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক কারণে মিশরীয় সভ্যতা নীল নদের ওপর নির্ভরশীল ছিল। নীল নদের এই পলিমাটি না থাকলে মিশর একটি মরুভূমিতে পরিণত হতো। এই অবদানের কারণেই ঐতিহাসিক হেরোডোটাস। মিশরকে 'নীল নদের দান' বলে অভিহিত করেছেন। অতএব, উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-১ এ বর্ণিত বন্যার পানি নেমে যাওয়া এবং পলিমাটির মাধ্যমে উর্বরতা ও ফসল উৎপাদনের বিষয়টি সরাসরি নীল নদ ও মিশরীয় সভ্যতার বৈশিষ্ট্যকে প্রতিফলিত করে।

উত্তর

হ্যাঁ, আমি মনে করি দৃশ্যকল্প-২-এ বর্ণিত সিন্ধু সভ্যতার কাছে আধুনিক স্থাপত্যশৈলী ও নগর পরিকল্পনা অনেকাংশেই ঋণী।

দৃশ্যকল্পে জিসানের দেখা সোজা, পাকা রাস্তা এবং সারিবদ্ধ লাইটপোস্ট সংবলিত শহরটি সিন্ধু সভ্যতার হরপ্পা ও মহেঞ্জোদারো নগরীকে নির্দেশ করে। সিন্ধু সভ্যতার নগর পরিকল্পনা ছিল অত্যন্ত আধুনিক। সেখানে রাস্তাগুলো ছিল সুপরিকল্পিত ও সোজা, যা বর্তমান যুগের গ্রিড সিস্টেমের মতো। রাস্তার পাশে ময়লা ফেলার ডাস্টবিন এবং আলোর জন্য লাইটপোস্টের ব্যবস্থা ছিল, যা আধুনিক পৌর ব্যবস্থার আদি রূপ।

সিন্ধু সভ্যতার প্রতিটি বাড়িতে পয়োনিষ্কাশনের জন্য ছোট নর্দমা ছিল, যা রাস্তার মূল নর্দমার সাথে যুক্ত হতো। এই উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থা আজকের আধুনিক শহরের পরিকল্পনার সাথে পুরোপুরি মিলে যায়। এছাড়া সেখানে রোদে পোড়ানো ইট দিয়ে পাকা দালান তৈরি করা হতো এবং নাগরিক সুবিধার জন্য বিশাল স্নানাগার ও কূপের ব্যবস্থা ছিল।

পরিশেষে বলা যায়, হাজার বছর আগে সিন্ধু সভ্যতার মানুষ যে উন্নত নগর ব্যবস্থাপনা ও স্থাপত্যশৈলীর পরিচয় দিয়েছিল, আধুনিক স্থপতি ও নগর পরিকল্পনাবিদগণ আজও সেই ধারণাগুলো ব্যবহার করেন। যাতায়াত ব্যবস্থা থেকে শুরু করে পানি নিষ্কাশন পর্যন্ত তাদের প্রতিটি পদক্ষেপ ছিল বিজ্ঞানসম্মত। তাই আধুনিক স্থাপত্যশৈলী সিন্ধু সভ্যতার কাছে গভীরভাবে ঋণী।

২.

দৃশ্যকল্প-১: মিতালী টিভিতে সিনেমা দেখছিল। সিনেমা থেকে সে প্রাচীন যুগের একটি শহর সম্পর্কে জানতে পারলো। শহরটি শিল্প ও সাহিত্যে অনেক সমৃদ্ধ ছিল। এই শহরটিতেই সর্বপ্রথম গণতন্ত্রের সূচনা হয়েছিল।

দৃশ্যকল্প-২: প্রাচীন সভ্যতার ইতিহাসে ইউরোপের একটি শহরের লোকজন সবসময় যুদ্ধ-বিগ্রহে ব্যস্ত থাকতো বলে জানা যায়। তারা সামরিক ক্ষেত্রেও অত্যন্ত শক্তিশালী ছিল।

উত্তর সক্রেটিস ছিলেন প্রাচীন গ্রিসের একজন খ্যাতিমান দার্শনিক।
উত্তর প্রাচীন গ্রিকদের ধর্মীয় জীবন ছিল বহু দেব-দেবীর পূজানির্ভর এবং তারা বিভিন্ন প্রাকৃতিক শক্তির উপাসনা করত। গ্রিকদের বারোটি প্রধান দেব-দেবীর মধ্যে জিউস ছিলেন দেবতাদের রাজা, অ্যাপোলো ছিলেন সূর্য দেবতা, পসিডন সাগরের এবং এথেনা ছিলেন জ্ঞানের দেবী। তারা পরকালের চেয়ে পার্থিব জীবনকেই বেশি গুরুত্ব দিত এবং বীর যোদ্ধাদেরও পূজা করত। ডেলোস দ্বীপে অবস্থিত ডেলফির মন্দিরে গ্রিসের বিভিন্ন নগররাষ্ট্রের মানুষ সমবেত হয়ে একত্রে অ্যাপোলো উপাসনা করত।
উত্তর

দৃশ্যকল্প-১-এ বর্ণিত শহরের সাথে প্রাচীন গ্রিসের গণতান্ত্রিক নগররাষ্ট্র এথেন্সের সাদৃশ্য রয়েছে।

গ্রিক সভ্যতার ইতিহাসে এথেন্স ছিল শিল্প, সাহিত্য, বিজ্ঞান ও দর্শনের মূল কেন্দ্রবিন্দু। উদ্দীপকে মিতালীর দেখা শহরটির মতো এথেন্সও একটি সমৃদ্ধ জনপদ ছিল। এথেন্সের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এখানেই বিশ্বের ইতিহাসে সর্বপ্রথম 'গণতন্ত্রের সূচনা হয়েছিল। খ্রিষ্টপূর্ব সপ্তম শতকে রাজতন্ত্রের পতনের পর সোলন, ক্লিসথেনিস এবং পরবর্তীতে পেরিক্লিসের হাত ধরে এথেন্সে গণতান্ত্রিক ধারা পূর্ণতা পায়। পেরিক্লিসের শাসনামলকে গ্রিক সভ্যতার 'স্বর্ণযুগ' বলা হয়, কারণ তখন নাগরিকরা প্রশাসন ও বিচার বিভাগে অবাধে অংশগ্রহণের সুযোগ পেত। জ্ঞান-বিজ্ঞান, দর্শন, সাহিত্য ও রাজনীতি সর্বক্ষেত্রে বিশ্বসভ্যতার অবিস্বরণীয় অবদান রাখে এথেন্স। উদ্দীপকের শহরটিতে শিল্প-সাহিত্যের সমৃদ্ধি এবং গণতন্ত্রের প্রবর্তনের যে কথা বলা হয়েছে, তা এককভাবে গ্রিসের এথেন্স নগররাষ্ট্রের অর্জনের সাথেই সংগতিপূর্ণ।

উত্তর দৃশ্যকল্প-২-এ বর্ণিত শহরটি হলো গ্রিসের সামরিক নগররাষ্ট্র স্পার্টা প্রাচীন গ্রিসের অসংখ্য নগররাষ্ট্রের একটি ছিল স্পার্টা। এ নগররাষ্ট্রের অবস্থান ছিল দক্ষিণ গ্রিসের পেলোপনেসাস নামক অঞ্চলে। অন্যান্য নগররাষ্ট্র থেকে স্পার্টা ছিল আলাদা। স্পার্টানদের প্রকৃতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সমরতন্ত্র দ্বারা তারা প্রভাবিত ছিল। মানুষের মানবিক উন্নতির দিকে নজর না দিয়ে সামরিক শক্তি সঞ্চয়ের দিকে তাদের দৃষ্টি ছিল বেশি। ৮০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে দীর্ঘ যুদ্ধের পর ডোরীয় যোদ্ধারা স্পার্টা দখল করতে সক্ষম হয়েছিল। এই পরাজিত স্থানীয় অধিবাসীদের ভূমিদাস বা হেলট বলা হতো। এরা সুযোগ পেলেই বিদ্রোহ করত। ফলে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখা আর বিদ্রোহ দমন ছাড়া স্পার্টার রাজাদের মাথায় আর কোনো চিন্তা ছিল না। স্পার্টানদের জীবন স্পার্টা রক্ষার জন্যই নিয়োজিত ছিল। স্পার্টান সমাজ তৈরি হয়েছিল যুদ্ধের প্রয়োজনে। সরকারের মূল উদ্দেশ্য ছিল যুদ্ধের জন্য নাগরিকদের প্রস্তুত করা ও যুদ্ধ পরিচালনা করা। সামরিক দিকে অত্যধিক মনোযোগ দেওয়ার কারণে সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে তারা ছিল অনগ্রসর।
৩.

দৃশ্যকল্প-১: প্রাচীন বাংলার বিখ্যাত একজন শাসক তার জনহিতকর বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে এক বিশাল বিহার প্রতিষ্ঠা' করেন। পরবর্তীকালে উক্ত নিদর্শনটি বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতির লাভ করে।

দৃশ্যকল্প-২: বাংলার অপর একজন শাসক সুপুতি হিসেবে যেমন তার লেখনী প্রতিভার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন ঠিক তেমনি বিশেষ ধর্মের পৃষ্ঠপোষকতা করেছিলেন।

উত্তর সেন বংশের রাজাদের ব্রহ্মক্ষত্রীয় বলা হয়। তারা প্রথমে ব্রাহ্মণ ছিলেন এবং পরবর্তীতে পেশা পরিবর্তন করে দেশ শাসন করেন, এজন্য তাঁদের 'ব্রহ্মক্ষত্রীয়' বলা হয়।
উত্তর

শশাঙ্ক ছিলেন প্রাচীন বাংলার গৌড় জনপদের প্রথম স্বাধীন ও সার্বভৌম রাজা, যিনি গুপ্ত সাম্রাজ্যের পতনের পর একটি শক্তিশালী রাজ্য গড়ে তোলেন।

ষষ্ঠ শতকের শেষের দিকে গুপ্ত রাজাদের দুর্বলতার সুযোগে মহাসামন্ত শশাঙ্ক ক্ষমতা অধিকার করে স্বাধীন গৌড় রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি কেবল নিজ রাজ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেননি; বরং দুভুক্তি, উৎকল, কঙ্গোদ এবং মগধ অধিকার করে বারাণসী পর্যন্ত রাজ্যসীমা বিস্তার করে নিজেকে বাংলার প্রথম শক্তিশালী ও সার্বভৌম শাসক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। এই প্রাচীন বাংলার ইতিহাসে শশাঙ্কই প্রথম সার্বভৌম শাসক।

উত্তর

দৃশ্যকল্প-১ এ বর্ণিত তথ্যাবলি পাল বংশের শ্রেষ্ঠ শাসক রাজা ধর্মপাল কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত 'সোমপুর মহাবিহার'-এর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটকে নির্দেশ করে।

ধর্মপাল ছিলেন পাল সাম্রাজ্যের একজন সুযোগ্য শাসক ও বৌদ্ধ ধর্মের একনিষ্ঠ পৃষ্ঠপোষক। তিনি প্রায় ৪০ বছর অত্যন্ত সুনামের সাথে রাজত্ব করেন এবং জ্ঞান বিস্তারের লক্ষ্যে বিভিন্ন স্থানে বেশ কয়েকটি সুবিশাল বিহার বা মঠ নির্মাণ করেছিলেন।

উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-১ এ উল্লেখ করা হয়েছে যে, একজন বিখ্যাত শাসক বিশাল রিহার প্রতিষ্ঠা করেন যা পরে বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পায়। যা রাজা ধর্মপালের সোমপুর বিহারকে নির্দেশ করে। রাজা ধর্মপাল নওগাঁ জেলার পাহাড়পুরে 'সোমপুর মহাবিহার' প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, যা ছিল দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম বিহার। এই প্রাচীন নিদর্শনটির অনন্য স্থাপত্যশৈলী ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব অনুধাবন করে জাতিসংঘের ইউনেস্কো একে 'ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ' হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করেছে। তাই দৃশ্যকল্পের ঘটনাটি মূলত ধর্মপালের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় নির্মিত সোমপুর মহাবিহারকেই নির্দেশ করে।

উত্তর

হ্যাঁ, আমি মনে করি আমি মনে করি দৃশ্যকল্প-২ এ বর্ণিত কার্যাবলি প্রাচীন বাংলার সেন রাজবংশের অন্যতম পণ্ডিত শাসক বল্লাল সেনেরই সুস্পষ্ট প্রতিচ্ছবি।

বিজয় সেনের পুত্র বল্লাল সেন একাধারে রণকুশলী শাসক ও বিশিষ্ট পণ্ডিত ছিলেন। বেদ, স্মৃতি ও পুরাণ শাস্ত্রে অগাধ পাণ্ডিত্যের অধিকারী এই রাজা সংস্কৃত সাহিত্যে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখেন এবং হিন্দু ব্রাহ্মণ্য ধর্মের প্রবল পৃষ্ঠপোষকতা করেন।
উদ্দীপকে বাংলার একজন শাসকের সুপণ্ডিত হিসেবে লেখনী প্রতিভা এবং বিশেষ ধর্মের পৃষ্ঠপোষকতার কথা বলা হয়েছে। পঠিত কন্টেন্ট অনুযায়ী, রাজা বল্লাল সেন ছিলেন একজন সুপণ্ডিত। তিনি সংস্কৃত ভাষায় 'দানসাগর' ও 'অদ্ভুতসাগর' নামক দুটি অমূল্য গ্রন্থ রচনা করেন। এছাড়াও তিনি তান্ত্রিক হিন্দুধর্মের প্রবল পৃষ্ঠপোষকতা করেন। তার এই পৃষ্ঠপোষকতার ফলেই সেসময় ব্রাহ্মণ্য ধর্মের প্রতিপত্তি বৃদ্ধি পায় এবং সমাজে হিন্দু রীতিনীতি রক্ষার্থে 'কৌলীন্য প্রথা' প্রবর্তিত হয়।

পরিশেষে বলা যায়, একজন রাজার শ্রেষ্ঠত্ব কেবল রাজ্য বিস্তারে নয়, বরং জ্ঞানচর্চা ও সমাজ সংগঠনেও নিহিত। বল্লাল সেন স্বীয় পাণ্ডিত্যে গ্রন্থ রচনা এবং ব্রাহ্মণ্য ধর্মের বিকাশে অবদান রেখে বাংলার ইতিহাসে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। দৃশ্যকল্পের বিবরণটি তাই রাজা বল্লাল সেনের ঐতিহাসিক চরিত্রের সাথেই পরিপূর্ণভাবে মিলে যায়।

৪. একজন মুসলিম শাসকের রাজত্বকালে হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে সৌহার্দ বিরাজমান ছিল। বৈষ্ণব ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা এই সময়ে আবির্ভূত হন। সত্য পীরের আরাধনা সমসাময়িক সময়ের একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। বাংলা সাহিত্যের উৎকর্ষ তার রাজত্বকালকে মহিমান্বিত করেছিল।
উত্তর ঐতিহাসিক জিয়াউদ্দিন বারানীর মতে 'বুলগাকপুর' হলো মধ্যযুগের বিদ্রোহ-বিশৃঙ্খলায় পূর্ণ বাংলা প্রদেশ, যার অর্থ 'বিদ্রোহের নগরী'।
উত্তর খণ্ডিত বাংলাকে ঐক্যবদ্ধ করে বৃহত্তর স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অনন্য কৃতিত্বের জন্যই সুলতান শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহকে শাহ-ই-বাঙ্গালা এবং শাহ-ই-বাঙালিয়ান বলা হয়। লখনৌতির শাসক হওয়ার পর তিনি সাতগাঁও ও সোনারগাঁ অধিকার করে সমগ্র বাংলার উপর নিরঙ্কুশ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেন। এই অবিস্মরণীয় বিজয়ের পর থেকেই এ অঞ্চলের সব মানুষ প্রথমবার বাঙালি নামে পরিচিতি লাভ করে। বৃহত্তর বাংলা সৃষ্টির জন্যই তিনি এ উপাধি নেন।
উত্তর

এ উদ্দীপকে বর্ণিত মহান শাসক হলেন স্বাধীন বাংলার সুলতান আলাউদ্দিন হুসেন শাহ, যিনি অন্যায়, অবিচার ও চরম রক্তপাতে পরিপূর্ণ হাবসি শাসনের চূড়ান্ত অবসান ঘটিয়ে বাংলায় হুসেন শাহি রাজবংশ সফলভাবে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

তুর্কিস্তানের তিরমিজ শহর থেকে বাংলায় এসে তিনি প্রথমদিকে হাবসি সুলতান মুজাফফর শাহের অধীনে একটি সামান্য চাকরিতে যোগদান করেন। নিজের প্রবল মেধা ও অসাধারণ কর্মদক্ষতার গুণে তিনি ধীরে ধীরে উজির বা প্রধান মন্ত্রী পদে উন্নীত হন। সে সময় বাংলায় হাবসিদের ভয়ানক দুঃশাসন ও রাজনৈতিক নৈরাজ্য চলছিল, যা সবাইকে অতিষ্ঠ করে তোলে।

উদ্দীপকে উল্লিখিত সাংস্কৃতিক উৎকর্ষের মহানায়ক হুসেন শাহের ক্ষমতায় উত্থান ঘটে এই অরাজক পরিস্থিতির সঠিক সুযোগ নিয়েই। অত্যাচারী শাসক মুজাফফর শাহের বিরুদ্ধে গৌড়ের সম্ভ্রান্ত মুসলমানরা যখন প্রবল বিদ্রোহ শুরু করে, তখন উজির হুসেন সেই বিদ্রোহীদের সাথে যোগ দেন। তার বিচক্ষণ নেতৃত্বে বিদ্রোহীরা কাঙ্ক্ষিত সফলতা লাভ করে এবং মুজাফফর শাহ নিহত হন। এভাবেই তিনি বাংলার শূন্য সিংহাসন নিজের সুদৃঢ় অধিকারে নিয়ে নেন। প্রতীপুরে বর্ণিত শাসক

উত্তর হ্যাঁ, আমি সম্পূর্ণভাবে একমত যে, উদ্দীপকে বর্ণিত শাসক সুলতান আলাউদ্দিন হুসেন শাহের সুদীর্ঘ শাসনকালকে মধ্যযুগে বাংলার মুসলিম শাসনের ইতিহাসে সর্বাঙ্গীণ বিচারে একটি গৌরবোজ্জ্বল 'স্বর্ণযুগ' হিসেবে অভিহিত করা অত্যন্ত যৌক্তিক কাজ। হুসেন শাহি বংশের শ্রেষ্ঠ শাসক ছিলেন আলাউদ্দিন হুসেন শাহ। তিনি দীর্ঘ ২৬ বছর (১৪৯৩-১৫১৯) রাজত্ব করেন। আলাউদ্দিন হুসেন | শাহের পূর্বে সাম্রাজ্যে অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলা ছিল। তিনি এ বিশৃঙ্খলা দূর করে রাজ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। এছাড়া তিনি দেহরক্ষী বাহিনীর ক্ষমতা বিনাশ করেন। তদস্থলে হিন্দু ও মুসলমানদের নিয়ে একটি নতুন বাহিনী গঠন করেন। শাসনব্যবস্থা পুনর্গঠন এবং জনকল্যাণ সাধনের উদ্দেশ্যে তিনি যথেষ্ট উদ্যম, নিষ্ঠা ও বিচক্ষণতার পরিচয় দেন। শাসনকার্য পরিচালনায় ও প্রজাপালনের ক্ষেত্রে তিনি জাতি-ধর্মের কোনো পার্থক্য সৃষ্টি করেননি। হিন্দু ও মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ের মধ্যে সৌহার্দ ও সম্প্রীতি স্থাপনের দ্বারা একটি সুষ্ঠু, সুন্দর ও কল্যাণমুখী শাসনব্যবস্থার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি বিভিন্ন ধর্মের মানুষকে যোগ্যতা অনুসারে শাসনকার্যে নিয়োগ করেছিলেন। হিন্দুদেরকে উৎসাহিত করার জন্য তিনি তাদেরকে বিভিন্ন উপাধিও প্রদান করতেন। হুসেন শাহের এ ধর্মীয় উদারতা তার উত্তরাধিকারীদেরও উৎসাহিত করেছিল। হুসেন শাহের হিন্দু-মুসলমান সম্প্রীতি স্থাপনের প্রচেষ্টা তৎকালীন সমাজজীবনকেও প্রভাবিত করেছিল। তার শাসনকালেই আবির্ভাব ঘটে বৈষ্ণব ধর্মের প্রবর্তক শ্রীচৈতন্যের। হুসেন শাহ তার প্রতি উদার মনোভাব পোষণ করেন এবং তাকে ধর্মপ্রচারে সব রকমের সহায়তা দেন।
৫. জনাব আলী আজগর শেভবন ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডিং নামে একটি কোম্পানির মালিক ছিলেন। মৃত্যুর আগে তিনি তার ছোট ছেলে আলী হোসেনকে কোম্পানির চেয়ারম্যান হিসেবে মনোনীত করেন। আলী হোসেন দায়িত্ব গ্রহণ করলে কিছু প্রভাবশালী কর্মকর্তা ও আত্মীয়স্বজন তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে।
উত্তর ১৭৯৩ সালে লর্ড কর্নওয়ালিস নির্দিষ্ট রাজস্ব পরিশোধের বিনিময়ে জমিদারদের জমির স্থায়ী মালিকানা দান করে যে ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন, তাকে 'চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত' বলা হয়।
উত্তর দ্বৈতশাসন ছিল একটি দায়িত্বহীন ক্ষমতা ও ক্ষমতাহীন দায়িত্বের অদ্ভুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা। এর ফলে বাংলার শাসনব্যবস্থায় চরম বিশৃঙ্খলা ও জটলা তৈরি হয়। এই ব্যবস্থায় ইংরেজরা রাজস্ব আদায়ের পূর্ণ ক্ষমতা পেলেও জনকল্যাণের কোনো দায়িত্ব নেয়নি। অন্যদিকে নবাবের হাতে শাসনের দায়িত্ব থাকলেও ছিল না পর্যাপ্ত অর্থ। এই চরম শোষণ ও দায়িত্বহীনতার ফলে ১৭৭০ সালে বাংলায় ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়, যা জনজীবন বিধ্বস্ত করে দেয়।
উত্তর

উদ্দীপকের আলী হোসেনের সাথে বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলার চারিত্রিক ও পারিপার্শ্বিক অবস্থার গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।

উদ্দীপকে দেখা যায়, জনাব আলী আজগর তার মৃত্যুর আগে ছোট ছেলে আলী হোসেনকে উত্তরাধিকারী মনোনীত করেন। সিরাজউদ্দৌলা ছিলেন নবাব আলিবর্দি খাঁর প্রিয় দৌহিত্র, যিনি তরুণ বয়সে বাংলার সিংহাসনে আরোহণ করেছিলেন। সিরাজউদ্দৌলার ক্ষেত্রেও দেখা যায় তার নানা আলিবর্দি খাঁ তাকে সিংহাসনের উত্তরাধিকারী মনোনীত করেছিলেন। আলী হোসেন দায়িত্ব নেওয়ার পর যেমন কর্মকর্তা ও আত্মীয়দের ষড়যন্ত্রের শিকার হন, সিরাজউদ্দৌলাও সিংহাসনে বসার পর একই পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছিলেন। নবাব সিরাজউদ্দৌলার বড় খালা ঘসেটি বেগম ও খালাতো ভাই শওকতজঙ্গ তার বিরুদ্ধে তীব্র ষড়যন্ত্র শুরু করেন। তাদের সাথে হাত মেলায় মীরজাফরের মতো বিশ্বাসঘাতক সেনাপতিরা। আলী হোসেনের মতো সিরাজউদ্দৌলাকেও পরিবারের ভেতর ও বাইরের প্রভাবশালীদের বাধা মোকাবিলা করতে হয়েছিল। তাই উত্তরাধিকার মনোনয়ন এবং আপনজনদের ষড়যন্ত্রের শিকার হওয়ার প্রেক্ষিতে আলী হোসেনের সাথে সিরাজউদ্দৌলার মিল সুস্পষ্ট।

উত্তর

আমি মনে করি, উদ্দীপকে উল্লিখিত আলী হোসেনের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ চরিত্র নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতনের জন্য কেবল আত্মীয়দের ষড়যন্ত্রই যথেষ্ট ছিল না; বরং দেশি-বিদেশি বণিকদের স্বার্থ এবং নবাবের রাজনৈতিক অদূরদর্শিতাও সমানভাবে দায়ী ছিল।

সিরাজউদ্দৌলার পতনের মূলে ছিল বহুমুখী ষড়যন্ত্র। আত্মীয়দের মধ্যে ঘসেটি বেগমের ঈর্ষা যেমন ছিল, তেমনি ইংরেজদের ক্রমবর্ধমান উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও ধূর্তামি ছিল প্রধান প্রভাবক। এছাড়া জগৎ শেঠ ও উমিচাঁদের মতো প্রভাবশালী বণিকশ্রেণি নিজেদের ব্যবসায়িক স্বার্থে ইংরেজদের পক্ষ নিয়েছিল, যা নবাবের শক্তিকে ভেতর থেকে দুর্বল করে দেয়। নবাবের নিজস্ব কিছু সীমাবদ্ধতাও তার পতনের পথ সুগম করেছিল। তরুণ নবাবের অভিজ্ঞতা ও বিচক্ষণতার অভাব ছিল লক্ষণীয়। তিনি মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতার কথা জানলেও বারবার তার ওপরই নির্ভর করেছেন এবং যুদ্ধের চূড়ান্ত মুহূর্তে পিছু হটে ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। ইংরেজদের উন্নত রণকৌশল' ও রবার্ট ক্লাইভের 'কূটবুদ্ধির মোকাবিলা করার মতো দূরদর্শিতা নবাব দেখাতে পারেননি।

পরিশেষে বলা যায়, আত্মীয়দের ষড়যন্ত্র ছিল যুদ্ধের কেবল একটি প্রেক্ষাপট। কিন্তু ইংরেজদের সাম্রাজ্য বিস্তারের লালসা, দরবারের প্রভাবশালী অমাত্যদের বিশ্বাসঘাতকতা এবং নবাবের রাজনৈতিক ও সামরিক কৌশলের ব্যর্থতা মিলেই মূলত সিরাজউদ্দৌলার চূড়ান্ত পতন নিশ্চিত করেছিল।

৬. উদ্দীপকটি পড়ো এবং নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
উদ্দীপকের ছবি
উত্তর কফকির-সন্ন্যাসী আন্দোলন হলো পলাশী যুদ্ধের পর থেকে শুরু হওয়া বাংলার স্বাধীনচেতা ফকির ও সন্ন্যাসীদের দ্বারা পরিচালিত একটি দীর্ঘস্থায়ী ব্রিটিশবিরোধী প্রতিরোধ আন্দোলন।
উত্তর ইসলাম ধর্মের প্রকৃত শিক্ষা সমাজে ফিরিয়ে আনতে এবং কুসংস্কার ও অনাচার দূর করতে হাজী শরীয়তউল্লাহর নেতৃত্বে ফরায়েজি আন্দোলন সংঘটিত হয়েছিল। বাংলার মুসলমানরা ইসলামি রীতিনীতি থেকে দূরে সরে যাওয়ায় তিনি এই ধর্মীয়-সামাজিক সংস্কার শুরু করেন। পরবর্তীকালে জমিদার ও নীলকরদের অত্যাচার থেকে দরিদ্র কৃষকদের রক্ষার জন্য এটি একটি সশস্ত্র কৃষক আন্দোলনে রূপ নেয়।
উত্তর

উদ্দীপকের ছবিটি ব্রিটিশ বিরোধী মীর নিসার আলী ওরফে তিতুমীরের ধর্মীয় সংস্কার বা ওয়াহাবি আন্দোলনের তথা কৃষক বিদ্রোহের সাক্ষ্য বহন করে।

উদ্দীপকের ছবিটি ঐতিহাসিক বাঁশের কেল্লার, যা তিতুমীরের স্বাধীনতা সংগ্রামের নিদর্শন। উনিশ শতকে ভারতবর্ষে মুসলমান সমাজে এক ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলনের সূত্রপাত হয়েছিল। বাংলায় তার দুটি ধারা ছিল যার একটি হলো ওয়াহাবি আন্দোলন। তিতুমীর এ আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। ১৮২৭ সালে হজব্রত পালন শেষে তিতুমীর দেশে ফিরে ধর্ম সংস্কার কাজে আত্মনিয়োগ করেন। তার এ ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলনে বহু মুসলমান বিশেষ করে চব্বিশ পরগনা, নদীয়া জেলার বহু কৃষক, তাঁতি সাড়া দেয়। ফলে জমিদাররা মুসলমান প্রজাদের ওপর নানা ধরনের নিষেধাজ্ঞা জারি করে এবং তাদের প্রতি নানা নির্যাতনমূলক আচরণ শুরু করে। তিতুমীর এ অত্যাচারের বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষের কাছে শান্তিপূর্ণভাবে সুবিচার চেয়ে ব্যর্থ হন। শেষপর্যন্ত তিনি ও তার অনুসারীরা সশস্ত্র প্রতিরোধের পথ অবলম্বন করেন। ১৮৩১ সালে নারিকেলবাড়িয়া এসে তিতুমীর তার প্রধান ঘাঁটি স্থাপন করেন। নির্মাণ করেন শক্তিশালী এক বাঁশের কেল্লা।

অতএব উদ্দীপকের ছবিটি ইংরেজ শাসনামলের তিতুমীরের বিদ্রোহকে নির্দেশ করে।

উত্তর

উক্ত আন্দোলন তথা তিতুমীরের বিদ্রোহ প্রেরণা জুগিয়েছে স্বাধীনতা অর্জনে। মন্তব্যটি যথার্থ।

১৮২৭ সালে তিতুমীর যে ধর্মীয় সংস্কার কাজে আত্মনিয়োগ করেন তার এ আন্দোলনে বহু মুসলমান, কৃষক, তাঁতি যোগদান করে। ইংরেজ, বাহিনীতে যোগ দিলে ধর্ম সংস্কারে রূপ নেয়। ফলে শাসক-শোষক জমিদার শ্রেণি কৃষকদের সংঘবদ্ধতা এবং তিতুমীরের শক্তি বৃদ্ধিতে শঙ্কিত হয়ে ওঠে। শেষপর্যন্ত ১৮৩১ সালে তিতুমীরের বিরুদ্ধে ইংরেজ সরকার এক বিশাল সুশিক্ষিত সেনাবাহিনী প্রেরণ করে। মেজর স্কটের নেতৃত্বে এ বাহিনী তিতুমীরের নারিকেলবাড়িয়া বাঁশের কেল্লা আক্রমণ করে। ইংরেজদের কামান-বন্দুকের সামনে বীরের মতো লড়াই করে পরাজিত হয় তিতুমীরের বাহিনী। তিনি যুদ্ধে শহিদ হন। গোলার আঘাতে বাঁশের কেল্লা ভেঙে যায়। এভাবেই পরিসমাপ্তি ঘটে একটি - সুসংগঠিত কৃষক আন্দোলনের। তিতুমীর ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ব্যাপক কৃষক আন্দোলন গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছিলেন। ইংরেজদের গোলাবারুদ, নীলকর, জমিদারদের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের মুখে তার বাঁশের কেল্লা ছিল দুঃসাহস আর দেশপ্রেমের প্রতীক, যা যুগে যুগে বাঙালিকে অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে সাহস যুগিয়েছে, প্রেরণা যুগিয়েছে স্বাধীনতার পথে এগিয়ে যেতে।

৭. ইসরাইলি সেনাবাহিনীর নির্বিচার আক্রমণের ফলে ফিলিস্তিনের জনগণ ব্যাপক প্রাণহানির সম্মুখীন হচ্ছে। অনেক ফিলিস্তিনি প্রাণভয়ে মিশর, লেবানন ও ইরানে আশ্রয় নিচ্ছে। দেশগুলো তাদের সামর্থ অনুযায়ী নিরীহ ফিলিস্তিনিদের সাহায্য করছে।
উত্তর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণে বঙ্গবন্ধুর উত্থাপিত দাবিগুলোর ১ম দাবিটি ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং মানুষের মুক্তির দিকনির্দেশনা প্রদান করা।
উত্তর মুক্তিযুদ্ধ সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য ১৯৭১ সালের ১০ই এপ্রিল গঠিত বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকারই মুজিবনগর সরকার নামে পরিচিত। ১৭ই এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলায় এ সরকার শপথ গ্রহণ করে এবং নাম অনুসারে জায়গাটির নতুন নামকরণ করা হয় মুজিবনগর। এ সরকারের রাষ্ট্রপতি ছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তাজউদ্দীন আহমদ। এ সরকার মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা এবং স্বাধীন বাংলাদেশের পক্ষে বিশ্বজনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
উত্তর

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে উদ্দীপকে উল্লিখিত ইসরাইলকে ১৯৭১ সালের দখলদার পাকিস্তানের সাথে তুলনা করা যেতে পারে।
১৯৭১ সালে পাকিস্তান শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা হস্তান্তর না করে উল্টো পূর্ব পাকিস্তানের নিরীহ মানুষের ওপর বর্বরোচিত আক্রমণ ও নির্মম গণহত্যা চালায়। তাদের লক্ষ্য ছিল এ ভূখণ্ডের মানুষদের হত্যা করে কেবল ভূমির দখল নেওয়া। এর ফলে লাখ লাখ মানুষ প্রাণভয়ে পার্শ্ববর্তী দেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়।

উদ্দীপকে দেখা যায়, ইসরাইলি সেনাবাহিনীর নির্বিচার আক্রমণের কারণে ফিলিস্তিনের নিরীহ জনগণ ব্যাপক প্রাণহানির সম্মুখীন হচ্ছে এবং প্রাণভয়ে তারা মিশর, লেবানন ও ইরানে আশ্রয় নিচ্ছে। এই পরিস্থিতি ১৯৭১ সালে ২৫শে মার্চের পর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর 'অপারেশন সার্চলাইট' এবং তৎপরবর্তী হত্যাযজ্ঞের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়, যার কারণে প্রাণভয়ে ও নিরাপত্তার সন্ধানে লাখ লাখ মানুষ ভারতে আশ্রয় নিয়েছিল। তাই ইসরাইলের এই আগ্রাসী রূপের সাথে সেসময়ের পাকিস্তান বাহিনীর আচরণের সম্পূর্ণ মিল পাওয়া যায়।

উত্তর

উদ্দীপকে উল্লিখিত দেশগুলোর মতো ১৯৭১ সালে ভারত ও সোভিয়েত ইউনিয়নসহ বিদেশি বন্ধুদের, সাহায্যমূলক কর্মকাণ্ড প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশের চূড়ান্ত বিজয়কে ত্বরান্বিত করেছিল।

মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারত প্রায় এক কোটি শরণার্থীকে আশ্রয় দেয় এবং মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র দিয়ে সাহায্য করে। সোভিয়েত ইউনিয়ন জাতিসংঘে পাকিস্তানের পক্ষে আনা যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে 'ভেটো' দিয়ে তা বাতিল করে দেয়। এছাড়াও ব্রিটেন ও অন্যান্য দেশের গণমাধ্যম বিশ্বজনমত গঠনে বিশাল ভূমিকা রাখে।

উদ্দীপকে ফিলিস্তিনের নিরীহ জনগণ যখন ইসরাইলি আগ্রাসনে প্রাণভয়ে মিশর, লেবানন ও ইরানে আশ্রয় নিচ্ছে, তখন এই দেশগুলো তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী সাহায্য করছে। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সময়ও ঠিক এভাবেই পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত আমাদের আশ্রয় ও সামরিক সহায়তা দিয়েছিল এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে আমাদের পক্ষে শক্ত অবস্থান নিয়েছিল।

পরিশেষে বলা যায়, কেবল নিজেদের শক্তির ওপর নির্ভর করে নয় মাসের মধ্যে এত বড় একটি যুদ্ধে জয়লাভ করা কঠিন ছিল। ভারত ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মতো বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সমর্থন, জাতিসংঘের সাহায্য এবং বিশ্ব গণমাধ্যমের প্রচার আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের মনোবল বাড়ানোর পাশাপাশি পাকিস্তানি বাহিনীকে আন্তর্জাতিকভাবে কোণঠাসা করে ফেলে। তাই বিদেশি বন্ধুদের এই অবিস্মরণীয় সহায়তা আমাদের বিজয়কে দ্রুত ও নিশ্চিত করেছিল।

৮.

দৃশ্যকল্প-১: 'ক' নামক দেশে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে দেশের পূর্বাঞ্চলের একটি রাজনৈতিক দল নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে।

দৃশ্যকল্প-২: পাকিস্তানি সেনারা রাতের অন্ধকারে নিরীহ ও নিরস্ত্র জনসাধারণকে হত্যা শুরু করে। এটি ইতিহাসে একটি কলঙ্কজনক ঘটনাই শুধু নয় বরং জঘন্য পরিকল্পনার অংশ।

উত্তর মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসরদের দ্বারা যে সকল নারী পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন, তাদের 'বীরাঙ্গনা' বলা হয়।
উত্তর বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ছাত্র সমাজ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে প্রাথমিক প্রতিরোধ গড়ে তোলায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিল। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ছাত্র-ছাত্রীদের সংখ্যাই ছিল সবচেয়ে বেশি। তারা শুধু দেশের ভেতরেই গণআন্দোলন ও প্রতিরোধ গড়ে তোলেনি, বরং অসংখ্য কিশোর ও ছাত্র মুক্তিযুদ্ধের সশস্ত্র প্রশিক্ষণের জন্য ভারতে যায় এবং দেশে ফিরে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে বীরত্বের সাথে যুদ্ধ করে।
উত্তর

উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-১ এ পাকিস্তানের ইতিহাসে অনুষ্ঠিত প্রথম সাধারণ নির্বাচন অর্থাৎ ১৯৭০ সালের নির্বাচনের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, যা স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের ক্ষেত্রে ১৯৭০ নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে। ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনের পর এটিই ছিল সবচেয়ে অবাধ ও নিরপেক্ষ একমাত্র জাতীয় নির্বাচন। ১৯৪৭ সালের পর থেকে বাঙালি জাতি ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি সর্বক্ষেত্রে যে স্বতন্ত্র দাবি করে আসছিল, ১৯৭০ সালের নির্বাচনে তার বিজয় অর্জিত হয়। এছাড়া পূর্বাঞ্চলের জনগণ স্বায়ত্তশাসনের যে দাবি করে আসছিল তা পশ্চিমাঞ্চলের সরকার অবৈধ ঘোষণা করে। এ নির্বাচনের ফলে ছয় দফাভিত্তিক স্বায়ত্তশাসনের দাবির বৈধতা প্রমাণিত হয়। সর্বোপরি ইয়াহিয়া খানের ঘোষণা অনুযায়ী নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের সময় এলে তিনি তা না করে নিরীহ বাঙালির ওপর সেনাবাহিনী লেলিয়ে দেন এবং তারই ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয়।

উত্তর

"দৃশ্যকল্প-২ এর ঘটনাটি ছিল একটি সামগ্রিক অভিযানের সূচনামাত্র"-উক্তিটি যথার্থ, কারণ এখানে ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চের কালরাত্রিতে পাকিস্তানি বাহিনীর 'অপারেশন সার্চলাইট' নামক বর্বরোচিত গণহত্যার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

ক্ষমতা হস্তান্তরে টালবাহানা করে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ২৫শে মার্চ মধ্যরাতে নিরীহ বাঙালির ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স এবং পিলখানায়, ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ চালানোর মাধ্যমে তারা মূলত বাঙালি জাতিকে মেধাশূন্য ও নেতৃত্বহীন করার এক গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়।

উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-২ এ পাকিস্তানি সেনাদের রাতের অন্ধকারে নিরীহ মানুষ হত্যার যে জঘন্য পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে, তা মূলত ২৫শে মার্চের কালরাত্রিরই বাস্তব চিত্র। এই আকস্মিক ও পরিকল্পিত আক্রমণ কেবল সেরাতেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং এটি ছিল দীর্ঘ নয় মাসব্যাপী চলা ইতিহাসের নিকৃষ্টতম 'ধ্বংসলীলার প্রথম পদক্ষেপ।

পাকিস্তানি বাহিনীর লক্ষ্য ছিল হত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞের মাধ্যমে এই ভূখণ্ডের দখল নেওয়া। ২৫শে মার্চের পর থেকে ১৬ই ডিসেম্বর পর্যন্ত তারা সারা দেশে তাদের এদেশীয় দোসরদের সহায়তায় ৩০ লাখ বাঙালিকে হত্যা করে। তারা পরিকল্পিতভাবে পোড়ামাটি নীতি গ্রহণ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ঘরবাড়ি ও হাসপাতাল ধ্বংস করে। তাই পরিশেষে বলা যায়, ২৫শে মার্চের এই নৃশংস আক্রমণ কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল না, বরং এটি ছিল সমগ্র বাংলাদেশ জুড়ে দীর্ঘমেয়াদি গণহত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞের এক ভয়ংকর সূচনামাত্র।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।