দিনাজপুর বোর্ড ২০২৬
১.

'ক' নদের তীরে গড়ে ওঠে এক বিশাল নগর সভ্যতা। এখানকার মানুষেরা মাটির ফলকে বর্ণ ব্যবহার করে লেখালেখি করত।

অন্যদিকে, সুরমা নদীর নিয়মিত বন্যায় ঐ এলাকার মানুষের জীবনকে সমৃদ্ধ করেছিল। তারা বিভিন্ন ধরনের নির্মাণ, স্থপতি, বিজ্ঞানে বিশেষ সাফল্য অর্জন করে।

উত্তর দজলা ও ফোরাত নদীর মধ্যবর্তী বাঁকানো চাঁদের মতো উর্বর পলিবিধৌত ভূমিরূপকে 'ফার্টাইল ক্রিসেন্ট' বা উর্বর অর্ধচন্দ্র বলা হয়।
উত্তর চীনের হোয়াংহো নদীতে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যা এবং এর ফলে হওয়া ব্যাপক জীবন ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির কারণে একে ইতিহাসে 'চীনের দুঃখ' বলা হয়। হোয়াংহো নদীর ধীর প্রবাহ এর দুই তীরে বিস্তীর্ণ উর্বর পলিভূমির সৃষ্টি করলেও, বর্ষাকালে নদীটি ভয়ংকর রূপ ধারণ করত। প্রবল বৃষ্টির ফলে নদীর দুই কূল ছাপিয়ে যে প্রলয়ংকরী বন্যার সৃষ্টি হতো, তাতে মানুষের বাড়িঘর, ফসল ও জীবন ব্যাপকভাবে ধ্বংস হতো। জীবনহানির এই বিস্তীর্ণ ধ্বংসযজ্ঞের কারণেই নদীটি এই অশুভনাম পেয়েছে।
উত্তর

উদ্দীপকের প্রথম অংশে বর্ণিত সভ্যতার সাথে প্রাচীন 'মেসোপটেমীয় সভ্যতা'র মিল রয়েছে।

মেসোপটেমীয় সভ্যতায় নদী অববাহিকায় বেশ কিছু সুপরিকল্পিত, নগররাষ্ট্র গড়ে উঠেছিল, যার মধ্যে উর, ইউরুক ও লাগাশ অন্যতম। এই নগররাষ্ট্রগুলো প্রাচীন গ্রামগুলোর চেয়ে আকারে অনেক বড় ছিল এবং এগুলো ছিল অর্থনীতি ও রাজনীতির মূল কেন্দ্রবিন্দু। নগরের যাতায়াত ও ফসল পরিবহণের সুবিধার্থে নির্মিত বেশিরভাগ রাস্তাই ছিল বেশ প্রশস্ত।

উদ্দীপকে বলা হয়েছে যে, বিশাল নগর সভ্যতার মানুষেরা মাটির ফলকে বর্ণ ব্যবহার করে লিখত। এটি মেসোপটেমীয়দের কাদামাটির ওপর নলখাগড়া দিয়ে লেখার (কিউনিফর্ম) পদ্ধতির সাথে হুবহু মিলে যায়। এই সভ্যতার নগর পরিকল্পনার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য ছিল। দুর্গের ব্যবহার। নদীর তীরে অবস্থিত এই শহর গুলোর কেন্দ্রভাগ রোদে শুকানো ইট দিয়ে তৈরি শক্তিশালী দুর্গ দ্বারা পরিবেষ্টিত থাকত। যেমন, ইউরুক শহরে ৬ মাইল দীর্ঘ দুর্গের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে, যা তাদের উন্নত নগর প্রতিরক্ষা ও পরিকল্পনার অকাট্য প্রমাণ দেয়।

উত্তর

উদ্দীপকের দ্বিতীয় অংশে প্রাচীন 'মিশরীয় সভ্যতা'র চিত্র ফুটে উঠেছে, বিশ্বসভ্যতায় বিজ্ঞান চর্চা ও আবিষ্কারের ক্ষেত্রে যাদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

প্রাচীন মিশরীয়রা মূলত তাদের প্রাত্যহিক জীবনের নানা প্রয়োজন মেটাতে বিজ্ঞানের চর্চা শুরু করেছিল। কৃষিকাজ, জমির পরিমাপ এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণের তাগিদ থেকে তারা গণিত ও জ্যামিতির উদ্ভাবন করে। পাশাপাশি সময় নির্ধারণ ও চিকিৎসাক্ষেত্রেও তারা সে যুগে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছিল।

উদ্দীপকের দ্বিতীয় অংশে দেখা যায়, সুরমা নদীর নিয়মিত বন্যা একটি অঞ্চলের মানুষের জীবনকে সমৃদ্ধ করেছিল এবং তারা বিজ্ঞান ও নির্মাণে সাফল্য লাভ করেছিল। এর সাথে মিশরের নীল নদের বন্যার সরাসরি মিল রয়েছে। নীল নদের বন্যার পানি নেমে গেলে জমি মাপার জন্য মিশরীয়রা জ্যামিতি ও পাটিগণিতের প্রচলন করে। তারা গণিতের যোগ, বিয়োগ ও ভাগের ব্যবহার জানত। বন্যার হিসাব রাখতে গিয়ে ৪২০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে তারা প্রথম সৌর পঞ্জিকা এবং ৩৬৫ দিনে এক বছরের হিসাব আবিষ্কার করে।

পরিশেষে বলা যায়, বিজ্ঞানের নানা শাখায় মিশরীয়দের বিচরণ ছিল বিস্ময়কর। সময় মাপার জন্য সূর্যঘড়ি, ছায়াঘড়ি ও পানিঘড়ি তাদেরই অনবদ্য আবিষ্কার। চিকিৎসাশাস্ত্রেও তারা বিশেষ অগ্রগতি 'লাভ করেছিল; তারা চোখ, দাঁত ও পেটের রোগ নির্ণয়ে পারদর্শী ছিল। মৃতদেহ মমি করার বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিও তাদের জানা ছিল। উদ্দীপকে বর্ণিত বিজ্ঞানের সাফল্য মূলত মিশরীয়দের এই যুগান্তকারী আবিষ্কারগুলোকেই নির্দেশ করে, যা আধুনিক বিজ্ঞানের প্রাথমিক ভিত্তি তৈরি করে দিয়েছিল।

২. জনাব রবিন রসুলপুর ইউনিয়নের একজন যোগ্য চেয়ারম্যান। তার। মৃত্যুর পর যোগ্য নেতৃত্বের অভাবে চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়।। পরবর্তীতে ইউনিয়নবাসীর আমিন সাহেবকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত। করেন। তিনি অরাজকতার অবসান ঘটিয়ে শান্তি ফিরিয়ে আনতে। সক্ষম হন। তার মৃত্যুর পর হাবীব সাহেব পিতার যোগ্য উত্তরসূরি। হিসেবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তিনি প্রথমে একটি সংঘর্ষে জড়িয়ে। পড়েন, তবে পরবর্তীকালে সবকিছু সামলে নেন। তিনি অনেক শিক্ষা। প্রতিষ্ঠান তৈরি করেন এবং অন্য ধর্মের প্রতি সহনশীল ছিলেন।
উত্তর প্রাচীন বাংলায় গুপ্ত রাজাদের অধীনে কোনো বৃহৎ অঞ্চল বা নির্দিষ্ট স্থানের ক্ষমতাশালী শাসক বা রাজপ্রতিনিধিকে মহাসামন্ত বলা হতো।
উত্তর

সেন রাজারা প্রথমে ব্রাহ্মণ ছিলেন এবং পরবর্তীতে পেশা পরিবর্তন করে যুদ্ধবিদ্যা গ্রহণ করায় তাঁদের 'ব্রহ্মক্ষত্রিয়' বলা হয়।

প্রাচীন বাংলার ইতিহাসে যারা ব্রাহ্মণ্যবৃত্তি ত্যাগ করে দেশ শাসনের দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তাঁদেরকে এই উপাধি দেওয়া হয়। কর্ণাটক থেকে আগত সেন রাজারাও শুরুতে ব্রাহ্মণ ছিলেন, কিন্তু পরবর্তীতে তাঁরা অস্ত্রধারণ করে সাম্রাজ্য বিস্তার করেছিলেন বলেই তাঁদেরকে ব্রহ্মক্ষত্রিয় বলা হয়।

উত্তর

রবিনের মৃত্যুর পর যে অরাজকতা সৃষ্টি হয় তা প্রাচীন বাংলায় 'মাৎস্যন্যায়' নামে অভিহিত।

প্রাচীন বাংলায় রাজা শশাঙ্কের মৃত্যুর পর প্রায় এক শতাব্দীকাল ধরে কোনো যোগ্য শাসক না থাকায় চরম রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা বিরাজ করছিল। এ সময়ে শক্তিশালী ভূস্বামীরা ক্ষুদ্র রাজ্য গুলোকে জোরপূর্বক গ্রাস করতে থাকে। পুকুরে বড় মাছ যেমন ছোট মাছকে গিলে খায়, সমাজেও ঠিক তেমনি পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল, যাকে কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্রে 'মাৎস্যন্যায়' বলা হয়েছে।

উদ্দীপকে রসুলপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রবিনের মৃত্যুর পর যোগ্য নেতৃত্বের অভাবে এলাকায় চরম বিশৃঙ্খলা ও অরাজকতা দেখা দেয়। এই ঘটনাটি প্রাচীন বাংলার রাজা শশাঙ্কের মৃত্যুর পরবর্তী অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। সেসময় বাংলায় কেন্দ্রীয় শাসনের অভাবে প্রভাবশালী সামন্ত রাজারা নিজেদের মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্বে লিপ্ত। হয়ে সাধারণ মানুষের জীবন সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত করে তুলেছিল। উদ্দীপকের রবিনের মৃত্যু পরবর্তী এই রাজনৈতিক শূন্যতা, পেশিশক্তির প্রভাব এবং সার্বিক বিশৃঙ্খলা মূলত বাংলার ইতিহাসের সেই অন্ধকারাচ্ছন্ন 'মাৎস্যন্যায়' অবস্থাটিকেই সুস্পষ্ট ভাবে নির্দেশ করে।

উত্তর

উদ্দীপকের হাবীব সাহেবের সাথে পাল বংশের শ্রেষ্ঠ শাসক রাজা ধর্মপালের সাদৃশ্য রয়েছে, শিক্ষাক্ষেত্রে যার অবদান অবিস্মরণীয়।

রাজা ধর্মপাল পাল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা গোপালের পুত্র। সিংহাসনে আরোহণের পর ত্রিপক্ষীয় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লেও পরবর্তীতে তিনি সাম্রাজ্য বিস্তার করেন। বৌদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও তিনি পরধর্ম সহিষ্ণু ছিলেন এবং জ্ঞান বিস্তারের লক্ষ্যে সুবিশাল বিহার নির্মাণ করেছিলেন।

উদ্দীপকে হাবীব সাহেব পিতার উত্তরসূরি হয়ে ক্ষমতা নেন, শুরুতে সংঘর্ষে জড়ান এবং পরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণসহ পরধর্ম সহিষ্ণুতার পরিচয় দেন। পাঠ্যবইয়ের ধর্মপালও পিতা গোপালের পর ক্ষমতায় আসেন, ত্রি-শক্তির সংঘর্ষে জড়ান এবং শিক্ষা প্রসারে উদ্যোগী হন। তাই হাবীব সাহেবের কার্যাবলি ধর্মপালের জীবন ও দর্শনের সাথেই মিলে যায়।

প্রাচীন বাংলায় শিক্ষাক্ষেত্রে ধর্মপালের অবদান সত্যিই অবিস্মরণীয়। তিনি নওগাঁর পাহাড়পুরে সুবিশাল 'সোমপুর মহাবিহার' প্রতিষ্ঠা করেন, যা বর্তমানে ইউনেস্কো স্বীকৃত বিশ্ব ঐতিহ্য। এছাড়া ভাগলপুরে 'বিক্রমশীল বিহার' এবং ওদন্তপুরীতেও তিনি মঠ নির্মাণ করেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত বিহারগুলো নবম থেকে বারো শতক পর্যন্ত সমগ্র ভারতবর্ষে বিখ্যাত শিক্ষাকেন্দ্র হিসেবে প্রসিদ্ধি লাভ করেছিল। জ্ঞান বিস্তারে ধর্মপালের এই অসামান্য কীর্তিগুলোই তাঁকে ইতিহাসে চির অমর করে রেখেছে।

৩.

দৃশ্য-১: ইকবাল সাহেব উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান। তিনি তার উপজেলার উন্নয়ন কল্পে বহু রাস্তাঘাট ও সেতু নির্মাণ করেন। ইকবাল সাহেব জনগণের কল্যাণের কথা মাথায় রেখে উৎপাদিত পণ্য অল্প দামে বিক্রির উদ্যোগ নেন।

দৃশ্য-২: রাসেল সাহেব একজন বড়ো ব্যবসায়ী। তিনি চট্টগ্রাম থেকে মালামাল এনে ঢাকায় বিক্রি করেন। তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কর্মচারী নিয়োগের ব্যাপারে হিন্দু-মুসলমান ভেদাভেদ করে না। কর্মচারীদের কাছে তিনি অত্যন্ত জনপ্রিয়।

উত্তর মুঘল আমলে যখন সুবাদারগণ দিল্লির সম্রাটের নামমাত্র আনুগত্য স্বীকার করে বাংলার রাজস্ব ও শাসনকার্য প্রায় স্বাধীনভাবে পরিচালনা করতেন, তখন সেই সুবাকে বা শাসনব্যবস্থাকে 'নিজামত' বলা হতো।
উত্তর ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ বখতিয়ার খলজিকে ভাগ্যান্বেষী সৈনিক বলা হয় কারণ তিনি নিজ জন্মভূমি আফগানিস্তান ত্যাগ করে উন্নত জীবিকা ও ভাগ্যের সন্ধানে বিভিন্ন দরবারে ঘুরে বেরিয়েছিলেন। তিনি ১১৯৫ খ্রিষ্টাব্দে জীবিকার অন্বেষণে গজনিতে আসেন। কিন্তু শারীরিক ত্রুটির কারণে গজনি ও দিল্লির সেনাবাহিনীতে চাকরি পেতে ব্যর্থ হয়ে অবশেষে তিনি সামান্য বেতনে বদাউনে যোগ দেন। এরপর নিজের শক্তিতে সেনা সংগ্রহ করে রাজ্য জয়ের মাধ্যমে ভাগ্য পরিবর্তনের পথে নামেন বলেই তাকে ভাগ্যান্বেষী বলা হয়।
উত্তর

উদ্দীপকের দৃশ্য-১ এর উপজেলা চেয়ারম্যান ইকবাল সাহেব মুঘল আমলের বিখ্যাত সুবাদার শায়েস্তা খানের জনকল্যাণমূলক কর্মকান্ডকে অনুসরণ করে অল্প দামে পণ্য বিক্রির চমৎকার উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।

সুবাদার শায়েস্তা খান বাংলার ইতিহাসে একজন দূরদর্শী ও প্রজাহিতৈষী শাসক হিসেবে অবিস্মরণীয় হয়ে আছেন। তিনি তার শাসনামলে জনকল্যাণে সাম্রাজ্যের সর্বত্র অসংখ্য সরাইখানা, প্রশস্ত রাস্তা এবং টেকসই সেতু নির্মাণ করেছিলেন। তার সময়ে কৃষির পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্যের ব্যাপক উন্নতি সাধিত হওয়ায় দ্রব্যমূল্য অত্যন্ত সস্তা ছিল, যার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হলো সে যুগে টাকায় আট মণ চাল পাওয়া যেত।

উদ্দীপকে আমরা দেখতে পাই, জনপ্রতিনিধি ইকবাল সাহেব তার উপজেলার সার্বিক উন্নয়নের জন্য শায়েস্তা খানের মতোই রাস্তাঘাট ও সেতু নির্মাণ করেছেন। শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়নই নয়, সাধারণ - মানুষের কল্যাণের কথা বিবেচনা করে তিনি উৎপাদিত পণ্য সাশ্রয়ী ও - অল্প দামে বিক্রির যুগান্তকারী পদক্ষেপও নিয়েছেন। তার এই জনদরদি কর্মকাণ্ডের মাঝেই সুবাদার শায়েস্তা খানের ঐতিহাসিক ও গৌরবময় সশাসনের সম্পষ্ট প্রতিচ্ছবি প্রতিফলিত হয়েছে।

উত্তর

দৃশ্য-২ এ উল্লিখিত ব্যবসায়ী রাসেল সাহেব তার অসাম্প্রদায়িক নীতির মাধ্যমে স্বাধীন সুলতানি যুগের হুসেনশাহি বংশের সর্বশ্রেষ্ঠ শাসক সুলতান আলাউদ্দিন হুসেন শাহের প্রতিনিধিত্ব করছেন।

আলাউদ্দিন হুসেন শাহ ছিলেন মধ্যযুগের বাংলার অন্যতম প্রজাহিতৈষী ও উদার নরপতি। গোঁড়া সুন্নি মুসলমান হওয়া সত্ত্বেও তিনি শাসনকার্য পরিচালনায় হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে বিন্দুমাত্র বৈষম্য করতেন না। মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে তিনি হিন্দুদের উচ্চ রাজপদে নিয়োগ দিতেন, যার ফলে উভয় সম্প্রদায়ের মধ্যে গভীর সম্প্রীতি স্থাপিত হয়েছিল এবং তিনি অত্যন্ত জনপ্রিয় শাসকে পরিণত হয়েছিলেন।

উদ্দীপকের দৃশ্য-২ এ ব্যবসায়ী রাসেল সাহেবের চরিত্রেও ঠিক একই রকম মানবিক গুণাবলি পরিলক্ষিত হয়। তিনি নিজের প্রতিষ্ঠানে -কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে হিন্দু-মুসলমান কোনো ভেদাভেদ করেন না। সুলতান হুসেন শাহ যেমন সব ধর্মের মানুষের কাছে প্রিয় ছিলেন, রাসেল সাহেবও তার এই অসাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গির কারণেই অধীনস্থ কর্মচারীদের কাছে ভীষণ জনপ্রিয়।

অসাম্প্রদায়িক নীতি ছাড়াও আলাউদ্দিন হুসেন শাহের উন্নয়ন কার্যক্রম ছিল বহুমুখী। তার শান্তিপূর্ণ শাসনামলে হিন্দু পণ্ডিতদের সহায়তায় বাংলা সাহিত্যের অভাবনীয় উৎকর্ষ সাধিত হয়। পাশাপাশি তিনি ছোট সোনামসজিদের মতো অসংখ্য স্থাপনা নির্মাণ করে স্থাপত্যকলার চরম বিকাশ ঘটান। সুশাসন ও সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমেই তিনি বাংলার এই যুগকে 'স্বর্ণযুগ'-এ পরিণত করেছিলেন।

৪. উদ্দীপকটি পড়ো এবং নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
উদ্দীপকের ছবি
উত্তর ম্যাগনাকার্টা হলো ১২১৫ সালে ইংল্যান্ডের রাজা জন কর্তৃক স্বাক্ষরিত একটি ঐতিহাসিক সনদ, যা রাজার ক্ষমতা সীমাবদ্ধ করে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং প্রজাদের অধিকার রক্ষার ভিত্তি স্থাপন করেছিল।
উত্তর

নবাব সিরাজউদ্দৌলা কলকাতা দখলের পর ইংরেজ কর্মকর্তা হলওয়েল কর্তৃক প্রচারিত একটি মিথ্যা ও অতিরঞ্জিত কাহিনী বাংলার ইতিহাসে 'অন্ধকূপ হত্যা' নামে পরিচিত।

হলওয়েল প্রচার করেন যে, নবাবের নির্দেশে ১৮ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১৪.১০ ফুট প্রস্থের একটি ছোট ঘরে ১৪৬ জন ইংরেজকে বন্দি করে রাখা হয়েছিল। এর ফলে প্রচণ্ড গরমে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে ১২৩ জনের মৃত্যু হয়। ইংরেজদের উত্তেজিত করে যুদ্ধের উসকানি দেওয়াই ছিল এই কাল্পনিক প্রচারণার মূল উদ্দেশ্য।

উত্তর

উদ্দীপকের চিত্র-১ এ নির্দেশিত ব্যক্তি হলেন নবাব মুর্শিদকুলী খান তিনি রাজস্ব সংস্কারের জন্য বিখ্যাত।

১৭০০ সালে বাংলার ক্ষমতায় আসেন মুর্শিদকুলি খান। তিনি ১৭২৭সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিলেন। প্রথমে তাকে বাংলার দেওয়ান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। সম্রাট ফররুখ শিয়ারের রাজত্বকালে মুর্শিদকুলি খান বাংলার সুবাদার নিযুক্ত হন। রাজস্ব সংস্কার মুর্শিদকুলি খানের সর্বাধিক আলোচিত কীর্তি। তিনি ভূমি জরিপ করে রায়তদের সামর্থ্য অনুযায়ী রাজস্ব নির্ধারণ করেছিলেন। রাজস্ব আদায়কে নিশ্চিত ও নিয়মিত করার জন্য তিনি উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিলেন। তিনি কর্মচারীদের সাহায্যে ভূমির প্রকৃত উৎপাদিকা শক্তি ও বাণিজ্য করের সঠিক তথ্য সংগ্রহ করতেন। এ পদ্ধতিতে মধ্যস্থ ব্যক্তিদের দ্বারা প্রজাদের হয়রানির কোনো সুযোগ ছিল না। তার রাজস্ব সংস্কারের ব্যবস্থাকে মালজামিনি ব্যবস্থা বলা হয়। এর মাধ্যমে রাজস্ব আদায়ে মুর্শিদকুলি খান নির্দিষ্ট ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন। মুর্শিদকুলি খান দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য ব্যবসা বাণিজ্যে প্রসারের গুরুত্ব বিশেষভাবে উপলব্ধি করেছিলেন। ব্যবসায়ীরা যাতে নির্দিষ্ট হারে প্রচলিত কর প্রদান করে এবং তাদের প্রতি যাতে কোনো অবিচার করা না হয় সেদিকে দৃষ্টি রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের তিনি নির্দেশ দিয়েছিলেন।

উত্তর

উদ্দীপকের চিত্র-২ এ নির্দেশিত ব্যক্তি হলেন ব্রিটিশ কর্মকর্তা রবার্ট ক্লাইভ। তাঁর প্রবর্তিত অভিনব শাসন ব্যবস্থা 'দ্বৈত শাসন' সত্যিকার অর্থেই বাংলার জনগণের জন্য চরম অভিশাপ ছিল।

১৭৬৫ সালে রবার্ট ক্লাইভ দিল্লির সম্রাটের নিকট থেকে আনুষ্ঠানিক ভাবে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দেওয়ানি বা রাজস্ব আদায়ের ক্ষমতা লাভ করেন। এরপর তিনি যে নতুন প্রশাসনিক কাঠামো তৈরি করেন, ইতিহাসে তা দ্বৈত শাসন নামে পরিচিত। এই ব্যবস্থায় কোম্পানি লাভ করে দায়িত্বহীন ক্ষমতা আর নবাব পান ক্ষমতাহীন দায়িত্ব। এই অদ্ভুত শাসনব্যবস্থার ফলে বাংলার মানুষের জীবনে চরম দুর্ভোগ নেমে আসে। কোম্পানির হাতে শুধু রাজস্ব আদায়ের ক্ষমতা থাকায় তারা জনকল্যাণের কোনো তোয়াক্কা করেনি। অন্যদিকে নবাবের কাঁধে রাজ্য পরিচালনার ভার থাকলেও অর্থ না থাকায় তিনিও ব্যর্থ হন। কোম্পানির কর্মচারীরা বিনাশুল্কে অবাধ বাণিজ্য শুরু করলে দেশীয় বণিকরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বাংলার বিপুল সম্পদ ইংল্যান্ডে পাচার হতে থাকে।

দ্বৈত শাসনের এই চরম দায়িত্বহীনতা এবং কোম্পানির শোষণের চূড়ান্ত মাসুল দিতে হয় এদেশের সাধারণ কৃষক ও জনগণকে। শোষণের ফলে অর্থনীতি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে এবং ১৭৭০ সালে বাংলায় 'ছিয়াত্তরের মন্বন্তর' নামক ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। এতে জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ মৃত্যুমুখে পতিত হয়। তাই নির্দ্বিধায় বলা যায় ক্লাইভের এই ব্যবস্থা ছিল বাংলার জন্য এক ভয়ংকর অভিশাপ।

৫. বিশ্বের ইতিহাসে যুগেযুগে অনেক যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে। কিন্তু উপমহাদেশে একটি যুদ্ধ আজও প্রতিটি বাঙালির হৃদয়ে প্রতিনিয়ত নাড়া দেয়। বৌলাই নদীর তীরে সংঘটিত এই যুদ্ধ ছিল বাংলার ভাগ্য নির্ধারণের যুদ্ধ। কাছের মানুষের বিশ্বাস ঘাতকতার জন্য যুদ্ধে মহান অধিপতি চরমভাবে পরাজিত হন। ধীরে ধীরে এদেশে শুরু হয় বিদেশি বণিকদের ক্ষমতা দখল এবং শাসন। এ আমলে একটি ধর্মীয় আন্দোলন কৃষক আন্দোলনে রূপ নেয়।
উত্তর নবাব আবদুল লতিফের জীবন কর্মের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল বাংলার পিছিয়ে পড়া মুসলিম সমাজকে আধুনিক ইংরেজি শিক্ষায় শিক্ষিত করে তাদের আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক উন্নয়ন ঘটানো।
উত্তর অঢেল সম্পত্তির মালিক হয়েও জনকল্যাণ ও শিক্ষাবিস্তারে নিজের সমস্ত সম্পদ অকাতরে বিলিয়ে দেওয়ার কারণেই হাজী মুহম্মদ মহসীনকে ইতিহাসে 'দানশীল' বা 'দানবীর' বলা হয়। তিনি নিজের ব্যক্তিগত সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের কথা না ভেরে তাঁর বিশাল পৈতৃক সম্পত্তি দিয়ে 'মহসীন ফান্ড' বা ট্রাস্ট গঠন করেন। এই ফান্ডের টাকায় উপমহাদেশে অসংখ্য স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা স্থাপিত হয় এবং গরিব শিক্ষার্থীদের বিনা বেতনে পড়ার সুযোগ ও বৃত্তি প্রদান করা হয়। তাঁর এই নিঃস্বার্থ দানের জন্যই তিনি চিরস্মরণীয়।
উত্তর

উদ্দীপকে বাংলার ভাগ্য নির্ধারণকারী ঐতিহাসিক 'পলাশীর যুদ্ধ'-এর প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।

১৭৫৭ সালের ২৩শে জুন ভাগীরথী নদীর তীরে পলাশীর প্রান্তরে বাংলার নবাব সিরাজউদ্দৌলার সাথে ইংরেজদের এই যুদ্ধ সংঘটিত হয়। যুদ্ধের সুদূরপ্রসারী ফলাফল ছিল বাংলার জন্য অত্যন্ত ভয়াবহ। এর মাধ্যমে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরাজয় ও মৃত্যু ঘটে এবং বাংলায় স্বাধীন নবাবি শাসনের চিরতরে অবসান হয়। ইংরেজরা মীরজাফরকে নামেমাত্র নবাব বানিয়ে প্রকৃত ক্ষমতা নিজেদের হাতে তুলে নেয়। ফলে বাংলার রাজনৈতিক স্বাধীনতা অস্তমিত হয় এবং ইংরেজদের একচেটিয়া বাণিজ্য ও শোষণের পথ সুগম হয়।

উদ্দীপকে বলা হয়েছে যে, কাছের মানুষের বিশ্বাস ঘাতকতার কারণে মহান অধিপতি পরাজিত হন এবং বিদেশিরা ক্ষমতা দখল করে। ইতিহাসের সাথে মিলিয়ে দেখলে বোঝা যায়, মহান অধিপতি হলেন নবাব সিরাজউদ্দৌলা এবং কাছের মানুষটি হলেন তাঁর প্রধান সেনাপতি মীরজাফর। মীরজাফরের চরম বিশ্বাস ঘাতকতার ফলেই নবাব পরাজিত হন এবং বাংলায় ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের সূচনা ঘটে। উদ্দীপকের এই বিষয়গুলো পলাশীর যুদ্ধের করুণ ফলাফলকেই সুস্পষ্ট ভাবে নির্দেশ করে।

উত্তর

উদ্দীপকের শেষাংশে উল্লিখিত ধর্মীয় আন্দোলন থেকে কৃষক আন্দোলনে রূপ নেওয়া ঐতিহাসিক ঘটনাটি হলো 'ফরায়েজি আন্দোলন'। বাংলার শোষিত কৃষকদের অধিকার আদায়ে এই আন্দোলনের গুরুত্ব অপরিসীম।

উনবিংশ শতাব্দীর শুরুতে হাজী শরীয়তুল্লাহ বাংলায় মুসলমানদের ধর্মীয় কুসংস্কার দূর করার জন্য ফরায়েজি আন্দোলনের সূচনা করেন। কিন্তু তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর সুযোগ্য পুত্র দুদু মিয়ার নেতৃত্বে এই আন্দোলন একটি শক্তিশালী কৃষক আন্দোলনে রূপ নেয়। তিনি ঘোষণা করেন, "জমির মালিক আল্লাহ, তাই কর ধার্য করার অধিকার কারও নেই।"

উদ্দীপকে বলা হয়েছে যে, একটি ধর্মীয় আন্দোলন ধীরে ধীরে কৃষক আন্দোলনে পরিণত হয়। ফরায়েজি আন্দোলনের ক্ষেত্রেও ঠিক তাই ঘটেছিল। হিন্দু জমিদার ও ব্রিটিশ নীলকরদের অমানবিক অত্যাচার, বেআইনি কর এবং শোষণের বিরুদ্ধে দুদু মিয়া বাংলার গরিব কৃষকদের ঐক্যবদ্ধ করেন। কৃষকরা তাঁর নেতৃত্বে জমিদারদের লাঠিয়াল বাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলে এবং নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হয়, যা উদ্দীপকের বক্তব্যের সাথে সম্পূর্ণ সাদৃশ্যপূর্ণ।

'পরিশেষে বলা যায়, ফরায়েজি আন্দোলন শুধু ধর্মীয় সংস্কারে সীমাবদ্ধ থাকেনি; এটি বাংলার হতদরিদ্র কৃষকদের মনে সাহস ও আত্মবিশ্বাস জাগ্রত করেছিল। জমিদার ও নীলকরদের শোষণের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের যে বিশাল দৃষ্টান্ত এই আন্দোলন স্থাপন করেছিল, তা পরবর্তীকালে উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং বৃহত্তর কৃষক বিদ্রোহের শক্ত ভিত রচনা করেছিল। তাই ইতিহাসে ফরায়েজি আন্দোলনের গরত অনস্বীকার্য।

৬.

দৃশ্যকল্প-১: লক্ষ্মীপুর একটি প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল, যেখানে এখনও আধুনিকতার ছোঁয়া লাগেনি। রাস্তা থেকে শুরু করে শিক্ষার আলো শতভাগ পৌছায় নাই। বিশেষ করে এই গ্রামের লোকজন এখনও কুসংস্কারে বিশ্বাসী। এসব ধর্মীয় ও সামাজিক কুসংস্কার দূর করার জন্য জনাব রফিক সাহেব একটি আন্দোলনের সূচনা করেন।

দৃশ্য-২: জামিলা পারিবারিক সহায়তায় শিক্ষা লাভ করেন। তিনি মেয়েদের পক্ষে কথা বলা ও শিক্ষার আলো ছড়ানোর জন্য বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি কুসংস্কার দূরীকরণ ও নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করেন।

উত্তর নীলকরদের চরম অত্যাচার ও শোষণের হাত থেকে বাঁচার জন্য বাংলার কৃষকেরা ১৮৫৯ সালে নীল চাষ বন্ধ করে যে ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম গড়ে তুলেছিল, ইতিহাসে তা নীল বিদ্রোহ নামে পরিচিত।
উত্তর ডিরোজিও তাঁর 'ইয়াং বেঙ্গল' আন্দোলনের মাধ্যমে তরুণদের অন্ধবিশ্বাস পরিহার করে যুক্তিবাদী হতে শিখিয়েছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, যুক্তিহীন অন্ধবিশ্বাস মানুষের চিন্তাশক্তির অপমৃত্যু ঘটায়। তাই তিনি 'একাডেমি অ্যাসোসিয়েশন' ও বিভিন্ন পত্রিকার মাধ্যমে সনাতন ধর্মীয় গোঁড়ামির মূলে আঘাত হানেন। তরুণদের পুরনো ধ্যান-ধারণা পাল্টে স্বাধীন চিন্তা ও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টি ভঙ্গিতে উদ্বুদ্ধ করে আধুনিক সমাজ গড়াই ছিল তাঁর লক্ষ্য।
উত্তর

দৃশ্যকল্প-১ এ মূলত হাজী শরীয়তউল্লাহ কর্তৃক প্রবর্তিত ধর্মীয় ও সামাজিক সংস্কার আন্দোলন তথা 'ফরায়েজি আন্দোলন'-এর ইঙ্গিত করা হয়েছে।

উনিশ শতকের প্রথমার্ধে বাংলার মুসলমানরা ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা থেকে দূরে সরে গিয়ে নানা কুসংস্কার ও অনাচারে লিপ্ত হয়েছিল। তাদের এই ধর্মীয় ও সামাজিক অবক্ষয় দূর করে ইসলাম অননুমোদিত রীতিনীতি ত্যাগ করার জন্য হাজী শরীয়তউল্লাহ যে সংস্কার আন্দোলনের সূচনা করেন, তা-ই ফরায়েজি আন্দোলন।

উদ্দীপকের রফিক সাহেব লক্ষ্মীপুরের মতো প্রত্যন্ত গ্রামে ধর্মীয় ও সামাজিক কুসংস্কার দূর করতে একটি আন্দোলনের সূচনা করেন। তাঁর এই কর্মকান্ডের সাথে হাজী শরীয়তউল্লাহর ফরায়েজি আন্দোলনের ঐতিহাসিক মিল রয়েছে। শরীয়তউল্লাহও ফরিদপুরের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ধর্মীয় কুসংস্কারমুক্ত সমাজ গড়তে এবং সাধারণ মানুষকে ইসলামের সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন। রফিক সাহেবের মতো তিনিও গ্রামের সাধারণ মানুষকে নিয়ে কুসংস্কারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন, যা পরবর্তীকালে বৃহত্তর আন্দোলনে রূপ নেয়।

উত্তর

উদ্দীপকের জামিলা বাংলার নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের প্রতিনিধিত্ব করছেন, যাঁর অবদান নারী সমাজ বিনির্মাণে অনস্বীকার্য।

বিশ শতকের শুরুতে রক্ষণশীল সমাজে মুসলমান মেয়েরা সব অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। বেগম রোকেয়া নিজে গোপনে শিক্ষা লাভ করে উপলব্ধি করেন যে, নারীদের বন্দিদশা ও কুসংস্কার থেকে মুক্তির একমাত্র উপায় হলো শিক্ষা।

উদ্দীপকের জামিলার মতো বেগম রোকেয়াও পরিবারের সহায়তায় শিক্ষিত হয়ে নারী শিক্ষায় স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। সমাজের শত বাধা উপেক্ষা করে কোলকাতায় 'সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুল' স্থাপন করে তিনি মেয়েদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়েছিলেন, যা জামিলার সমাজ সেবামূলক কাজের হুবহু প্রতিচ্ছবি। রোকেয়ার অবদান কেবল স্কুল প্রতিষ্ঠায় সীমাবদ্ধ ছিল না। 'অবরোধবাসিনী'র মতো লেখনীর মাধ্যমে তিনি সমাজকে সচেতন করেন এবং 'আঞ্জুমান খাওয়াতিনে ইসলাম' প্রতিষ্ঠা করে নারীর কর্মসংস্থান ও আইনগত অধিকার নিয়ে সোচ্চার হন। তাঁর এই নিরলস ও বহুমুখী সংগ্রামই মূলত বাঙালি মুসলমান নারীকে অন্ধকার থেকে আধুনিকতার আলোয় এনেছিল।

৭. উদ্দীপকটি পড়ো এবং নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
উদ্দীপকের ছবি
উত্তর ইউনেস্কো (UNESCO) হলো জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক একটি বিশেষায়িত আন্তর্জাতিক সংস্থা।
উত্তর বাংলাদেশের নির্বাচিত গণপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা না দিয়ে সামরিক শাসক ইয়াহিয়া খান যখন বাঙালি নিধনে তৎপর, তখন জাতিসংঘ বলতে গেলে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে। নারকীয় হত্যাযজ্ঞ, মৌলিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে জাতিসংঘ কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেনি। তবে শরণার্থীদের সহায়তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে জাতিসংঘ।
উত্তর

উদ্দীপকের চিত্র-১ এ প্রদর্শিত 'অপরাজেয় বাংলা' ভাস্কর্যটি মূলত বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে 'ছাত্র ও তরুণদের' গৌরবময় ত্যাগকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য তৈরি করা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবন চত্বরে অবস্থিত এই ভাস্কর্যটির স্থপতি হলেন মুক্তিযোদ্ধা ভাস্কর সৈয়দ আবদুল্লাহ খালিদ। এখানে অসম সাহসী তিনজন তরুণ-তরুণী মুক্তিযোদ্ধার অবয়ব ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এতে রাইফেল হাতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ তরুণ এবং কাঁধে ঔষধের ব্যাগ নিয়ে সেবায় নিবেদিতপ্রাণ তরুণীর মাধ্যমে বাঙালির প্রতিবাদী মনোভাব ও লড়াকু চেতনার প্রকাশ ঘটেছে।।

আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে অংশগ্রহণ করলেও তাদের মধ্যে সংখ্যায় সবচেয়ে বেশি ছিল ছাত্র ও তরুণ সমাজ। তারা কেবল প্রাথমিক প্রতিরোধই গড়ে তোলেনি, বরং ভারতে গিয়ে সশস্ত্র প্রশিক্ষণ নিয়ে সম্মুখ সমরেও বীরত্বের সাথে অংশ নিয়েছে। উদ্দীপকের চিত্র-১ এর ভাস্কর্যটি সেই অকুতোভয় ছাত্র-তরুণদের অসামান্য বীরত্বকেই নির্দেশ করে। তাই বলা যায়, তরুণ সমাজের এই নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগ ও সাহসিকতাকে চিরস্মরণীয় করে রাখতেই ভাস্কর্যটি নির্মিত হয়েছে।

উত্তর

উদ্দীপকের চিত্র-২ এ প্রদর্শিত সাভারের 'জাতীয় স্মৃতিসৌধ' আমাদের মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে আত্মদানকারী বীর শহিদদের অসামান্য ত্যাগ এবং বাঙালির অহংকার ও মর্যাদার প্রতীক।

স্থপতি মঈনুল হোসেনের নকশায় নির্মিত এই স্মৃতিসৌধের সাত জোড়া ত্রিভুজাকার দেয়াল মূলত আমাদের স্বাধিকার আদায়ের সাতটি গৌরবময় ঐতিহাসিক আন্দোলনের স্মৃতি বহন করে। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত ধারাবাহিক দীর্ঘ সংগ্রামের মধ্য দিয়েই বাঙালি জাতি স্বাধীনতা অর্জন করেছে।

উদ্দীপকের চিত্র-২ এ আমরা সেই স্মৃতিসৌধটি দেখতে পাচ্ছি, যা এই দীর্ঘ মুক্তি সংগ্রামের এক অমর নিদর্শন। এর বেদিতে পৌঁছানোর দীর্ঘ উঁচু-নিচু পথ আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের কণ্টকাকীর্ণ পথকে নির্দেশ করে। আর পাশেই রয়েছে লাখো শহিদের রক্তে ভেজা গণকবর, যাদের অমূল্য জীবনের বিনিময়ে এদেশ চূড়ান্ত ভাবে শত্রুমুক্ত হয়েছে।

বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত এই দীর্ঘ ধারাবাহিক সংগ্রামের মধ্য দিয়েই বাঙালি পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙেছে। স্বাধীনতা অর্জনে অকাতরে জীবন উৎসর্গকারী সেই বীর শহিদদের পরম ত্যাগের প্রতি সম্মান জানাতেই এই বিশাল স্থাপনাটি নির্মিত। তাই এটি যুগ যুগ ধরে আমাদের জাতীয় জীবনে বীরত্ব, অপরিমেয় গৌরব এবং মাথা উঁচু করে বাঁচার এক চিরন্তন প্রতীক হিসেবে সগৌরবে দাঁড়িয়ে আছে।

৮. উদ্দীপকটি পড়ো এবং নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
উদ্দীপকের ছবি
উত্তর প্রাচীন বাংলার গুপ্ত শাসনামলে বর্তমান সময়ের বিভাগের সমতুল্য 'ভুক্তি' নামক প্রশাসনিক অঞ্চলের প্রধান শাসনকর্তাকে 'উপরিক' বলা হতো।
উত্তর একাদশ শতকে পাল রাজা দ্বিতীয় মহীপালের শাসনকালে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে কৈবর্ত বা মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের নেতা দিব্যোকের নেতৃত্বে বরেন্দ্র অঞ্চলে যে বিদ্রোহ সংঘটিত হয়েছিল, তা-ই কৈবর্ত বিদ্রোহ। পাল সাম্রাজ্যের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও দুর্বলতার সুযোগে বাংলার উত্তরাংশের সামন্তবর্গ প্রকাশ্যে এই বিদ্রোহ ঘোষণা করেছিল। এটি ছিল বাংলার ইতিহাসে প্রথম সাধারণ মানুষের বিদ্রোহ, যার মাধ্যমে সামন্তরা রাজা দ্বিতীয় মহীপালকে হত্যা করে বরেন্দ্র অঞ্চল নিজেদের দখলে নিয়ে নেয়।
উত্তর

উদ্দীপকের 'ক' তথ্য ছকে উল্লিখিত ১০৯৮ থেকে ১১৬০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত সময়কালটি প্রাচীন বাংলার সেন রাজবংশের অন্যতম শক্তি শালী শাসক রাজা বিজয় সেনের শাসনকালকে নির্দেশ করে।

রাজা বিজয় সেন ছিলেন অত্যন্ত সুনিপুণ ও রণকুশলী শাসক, যার সুদীর্ঘ রাজত্বকালেই সেন বংশের শাসন এক স্বাধীন ও সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। তিনি নানাবিধ যুদ্ধ কৌশল ও বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে বাংলার বিচ্ছিন্ন অঞ্চল গুলোকে একত্রিত করে একটি বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিলেন।

উদ্দীপকের 'ক' ছকে ১০৯৮-১১৬০ খ্রিষ্টাব্দ সময়কালটি দেওয়া হয়েছে। পঠিত ইতিহাস অনুযায়ী, বিজয় সেন শূর বংশের রাজকন্যাকে বিয়ে করে দক্ষিণ রাঢ় অধিকার করেন এবং বর্ম রাজাকে পরাজিত করে পূর্ব ও দক্ষিণ বাংলা নিজ কর্তৃত্বে আনেন। পরবর্তীতে তিনি শেষ পাল রাজা মদনপালকে পরাজিত করে উত্তর বাংলা থেকে পালদের চিরতরে বিতাড়িত করেন। এছাড়া তিনি কামরূপ, কলিঙ্গ ও মিথিলাতেও সফল আক্রমণ পরিচালনা করেন। তাঁর এই পরাক্রমশালী শাসন কার্য্যের ফলেই প্রথমবারের মতো সমগ্র বাংলা একক সেন রাজার অধীনে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল।

উত্তর

উদ্দীপকের 'খ' তথ্য ছকে উল্লিখিত ১১৭৮-১২০৪ খ্রিষ্টাব্দ। সময়কালটি সেন বংশের শেষ প্রতাপশালী শাসক রাজা লক্ষণ সেনের রাজত্বকালকে নির্দেশ করে, যার পরাজয়ের মধ্য দিয়েই বাংলায় তুর্কিদের মুসলিম শাসনের সূচনা ঘটে।

লক্ষণ সেন তাঁর রাজত্বকালের প্রথমদিকে একজন দক্ষ যোদ্ধা ও যোগ্য শাসক ছিলেন এবং গৌড়, কলিঙ্গ ও মগধ জয় করেছিলেন। কিন্তু শেষ বয়সে এসে বার্ধক্যজনিত শারীরিক দুর্বলতা এবং রাজসভার অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও ষড়যন্ত্রের কারণে তাঁর কেন্দ্রীয় শাসন ব্যবস্থা অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়ে।

উদ্দীপকের 'খ' ছকে ১১৭৮-১২০৪ খ্রিষ্টাব্দ সময়কালের কথা বলা। হয়েছে, যা ইতিহাস অনুযায়ী লক্ষণ সেনের রাজত্বকাল। দীর্ঘস্থায়ী। যুদ্ধবিগ্রহ ও শাসকের বার্ধক্যের সুযোগে সাম্রাজ্যে চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। এ সময়ে সুন্দরবন এলাকায় ডোম্মন পাল স্বাধীন রাজ্য। প্রতিষ্ঠা করে বসেন, যা মূলত সেন সাম্রাজ্যের চূড়ান্ত ভাঙনেরই সুস্পষ্ট। ইঙ্গিত ছিল। এই চরম অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সুযোগ গ্রহণ করে বহিরাগত শক্তি। ঠিক এমন এক নাজুক মুহূর্তে, ১২০৪ খ্রিষ্টাব্দে তুর্কি সেনাপতি ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বখতিয়ার খলজি অতর্কিতে নদীয়া আক্রমণ করেন। বৃদ্ধ ও দুর্বল লক্ষণ সেন কোনো প্রকার প্রতিরোধ। গড়ে তুলতে না পেরে বিনা যুদ্ধেই নদীপথে বিক্রমপুরে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন। তাঁর এই পরাজয়ের ফলেই বাংলায় দীর্ঘস্থায়ী সেন শাসনের অবসান ঘটে এবং লক্ষণাবতীকে কেন্দ্র করে তুর্কিদের মাধ্যমে মুসলিম শাসনের শক্ত ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত হয়।

তাই প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে সম্পূর্ণ যথার্থ।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।