প্রাচীন মিশরীয়দের আবিষ্কৃত চিত্রলিপি বা লিখন পদ্ধতিকে হায়ারোগ্লিফিক বা 'পবিত্র অক্ষর' বলা হয়।
প্রাচীন কালে মিশরীয়রা তাদের মনের ভাব প্রকাশের জন্য সর্বপ্রথম বর্ণমালার উদ্ভাবন করে। শুরুতে তারা বিভিন্ন অর্থবোধক ছবি এঁকে এই লিখনপদ্ধতি ব্যবহার করত, যাকে চিত্রলিপি বলা হতো। এই চিত্রলিপি গুলোর মাধ্যমেই মিশরীয়রা মন্দিরের গায়ে তাদের ধর্মীয় ও প্রশাসনিক কার্যাবলি সংরক্ষণ করত বলে এটি পবিত্র অক্ষর নামেও পরিচিতি লাভ করে।
উদ্দীপকের চিত্র-১ এ প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতার অনন্য স্থাপত্য শিল্প পিরামিডকে নির্দেশ করা হয়েছে।
প্রাচীন মিশরীয়দের ধর্মবিশ্বাস ছিল অত্যন্ত সুদৃঢ়। তারা পরকালে গভীরভাবে বিশ্বাস করত এবং মনে করত মৃত ব্যক্তি একদিন আবার বেঁচে উঠবে। তাই মৃতদেহকে পচন থেকে চিরকাল রক্ষা করার জন্য তারা বিশেষ প্রক্রিয়ায় মমি তৈরি করত। ফারাও বা রাজাদের এই মমি গুলোকে নিরাপদে সংরক্ষণের উদ্দেশ্যেই তারা বিশাল আকৃতির ত্রিভুজাকার পাথরের সমাধি তৈরি করত, যা পিরামিড নামে পরিচিত।
উদ্দীপকের প্রথম চিত্রটিতে আমরা ঐতিহাসিক পিরামিডের ছবি দেখতে পাচ্ছি। মিশরীয়রা বিশালাকার পাথর কেটে নিখুঁত জ্যামিতিক মাপে এসব পিরামিড নির্মাণ করেছিল, যা তাদের স্থাপত্যবিদ্যা ও প্রকৌশল জ্ঞানের চরম উৎকর্ষের প্রমাণ দেয়। ফারাও খুফুর পিরামিড এর মধ্যে সবচেয়ে বড় ও উল্লেখযোগ্য। এই বিস্ময়কর স্থাপত্যকর্মগুলো হাজার হাজার বছর ধরে প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতার গৌরবময় ইতিহাস ও তাদের গভীর ধর্ম বিশ্বাসের নীরব সাক্ষী হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
উদ্দীপকের চিত্র-২ এ উল্লিখিত ভাস্কর্যটি হলো গিজার 'স্ফিংকস', যা প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতার ধর্মীয় বিশ্বাস ও ফারাওদের ঐশ্বরিক ক্ষমতার প্রতীক হিসেবে গভীর প্রভাব ফেলেছিল।
প্রাচীন মিশরীয় ধর্মে মূর্তিপূজা এবং জীবজন্তুর পূজার ব্যাপক প্রচলন ছিল। স্ফিংকস হলো এমন একটি কাল্পনিক ও রহস্যময় মূর্তি, যার দেহ সিংহের মতো কিন্তু মাথা মানুষের মতো। সিংহ হলো শক্তি ও শৌর্য্যের প্রতীক এবং মানুষের মাথা হলো প্রজ্ঞার প্রতীক। মিশরীয়রা তাদের ফারাওদের সূর্য দেবতার বংশধর বা ঈশ্বর মনে করত, তাই এই ভাস্কর্যটি মূলত রাজাদের ঐশ্বরিক ক্ষমতা বোঝাতে নির্মিত হয়েছিল।
উদ্দীপকের দ্বিতীয় চিত্রে এই স্ফিংক্সের মুখাবয়ব স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। মিশরীয়রা তাদের ফারাওদের মৃতদেহ বা মমি পিরামিডের ভেতরে সংরক্ষণ করত। এই পবিত্র সমাধিগুলো এবং ধর্মীয় মন্দির গুলোর অতিপ্রাকৃত সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য পাহারাদার হিসেবে অতিকায় স্ফিংক্স মূর্তি নির্মাণ করা হতো।
পরিশেষে বলা যায়, স্ফিংকস কেবল একটি পাথরের ভাস্কর্য ছিল না, বরং এটি মিশরীয়দের ধর্মীয় কাঠামোর একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল। ফারাওদের অতিমানবিক ক্ষমতা প্রদর্শন এবং আত্মিক সুরক্ষার যে গভীর বিশ্বাস তাদের ধর্মে নিহিত ছিল, স্ফিংকস তারই বাস্তব রূপ। তাই প্রাচীন মিশরীয়দের ধর্মীয় জীবন ও মৃত্যু-পরবর্তী জীবনের সুরক্ষার ধারণায় এই ভাস্কর্যটির প্রভাব ছিল অত্যন্ত সুদূর প্রসারী।
তথ্য-ক
‘ঈসা খান’
‘কেদার রায়’
‘বাহাদুর গাজি’
তথ্য- খ
‘লালবাগ কেল্পা’
‘পরি বিবির মাজার’
‘হোসেনী দালান’
তথ্য-ক এ উল্লিখিত বারো ভূঁইয়ারা মুঘল সুবাদার ইসলাম খানের সুপরিকল্পিত সামরিক কৌশল এবং শক্তিশালী নৌবাহিনীর কারণে শেষ পর্যন্ত পরাজিত হয়েছিলেন।
সতেরো শতকের প্রথম দিকে বাংলার এই স্বাধীন জমিদারগণ মুঘল আধিপত্য মেনে নেননি। তারা দীর্ঘদিন নিজেদের স্বাধীনতা বজায় রাখলেও মুঘলদের সুসংগঠিত বিশাল সামরিক শক্তির কাছে শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে পারেননি।
উদ্দীপকে ঈসা খান, কেদার রায় ও বাহাদুর গাজির নাম রয়েছে, যাঁরা ছিলেন স্বাধীন বারোভূঁইয়াদের পরাক্রমশালী নেতা। সম্রাট জাহাঙ্গীরের নির্দেশে সুবাদার ইসলাম খান ১৬০৮ সালে বাংলায় এসে ঢাকাকে রাজধানী করেন। তিনি বারোভূঁইয়াদের শায়েস্তা করতে এক বিশাল ও আধুনিক নৌবহর প্রস্তুত করেন। মুঘলদের এই সম্মিলিত নৌ-আক্রমণ এবং ইসলাম খানের উন্নত রণকৌশলের কাছেই বিচ্ছিন্ন বারোভূঁইয়ারা। আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হন।
তথ্য-খ তে উল্লিখিত স্থাপত্য গুলোর অনন্য নির্মাণ শৈলী ও। অপরিসীম শৈল্পিক উৎকর্ষের কারণেই সুবাদার শায়েস্তা খান বাংলার ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন।
শায়েস্তা খানের সুবাদারি আমলকে বাংলায় মুঘল স্থাপত্য শিল্পের 'স্বর্ণযুগ' হিসেবে অভিহিত করা হয়। তার নিবিড় তত্ত্বাবধানেই তৎকালীন ঢাকা নগরী অপরূপ সব ইমারত ও শৈল্পিক সৌধমালায় সুসজ্জিত হয়ে উঠেছিল।
উদ্দীপকের তথ্য-খ তে লালবাগ কেল্লা, পরি বিবির মাজার এবং হোসেনী দালানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, যা শায়েস্তা খানের অবিস্মরণীয় কীর্তি। তিনি সুশাসকের পাশাপাশি দারুণ সৌন্দর্যরসিক ছিলেন। তার সরাসরি পৃষ্ঠপোষকতায় নির্মিত এই নান্দনিক ইমারত গুলো তৎকালীন উন্নত মুঘল রুচি ও নিখুঁত নির্মাণকৌশলের উজ্জ্বল পরিচয় বহন করে। অন্য কোনো মুঘল শাসনকর্তা ঢাকায় তার মতো এত বিপুল ও দৃষ্টিনন্দন স্থাপত্যের স্মৃতি রেখে যেতে পারেননি। বস্তুত তার নির্মিত এই ইমারত গুলো কেবল ইট-পাথরের দেয়াল নয়, বরং তৎকালীন বাংলার বিপুল অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও সাংস্কৃতিক বিকাশের জীবন্ত প্রতীক।
এ কারণেই স্থাপত্য কীর্তির জন্য ইতিহাসে তার স্মরণীয় হয়ে থাকার বিবৃতিটি সম্পূর্ণ যথার্থ।
নারী শিক্ষার প্রসারে চিত্র 'A'-তে প্রদর্শিত ব্যক্তি অর্থাৎ বেগম রোকেয়ার অবদান অপরিসীম। তাকে বাঙালি নারী জাগরণের অগ্রদূত এবং প্রথম বাঙালি নারীবাদী হিসেবে অভিহিত করা হয়।
বেগম রোকেয়া সমাজের অবহেলিত নারীদের পক্ষে তখনই কলম ধরেছিলেন যখন নারীরা শিক্ষা অর্জনের অধিকার পেত না, তাদেরকে পর্দার অন্তরালে থাকতে হতো, পুরুষরা ছিল পরিবারের কর্তা আর নারীদেরকে পুরুষের সমকক্ষ ভাবা হতো না। বেগম রোকেয়া তার 'মতিচুর' গ্রন্থে নারী-পুরুষের সমকক্ষতার যুক্তি দিয়ে নারীদের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জন করে সম-অধিকার প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি তার প্রবন্ধ, গল্প ও উপন্যাসের মধ্য দিয়ে নারী শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা আর লিঙ্গ সমতার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেছেন। তার স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি স্বামীর নামে ভাগলপুরে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করেন। ১৯১১ সালে তিনি কোলকাতায় সাখাওয়াত মেমোরিয়াল উর্দু প্রাইমারি স্কুল স্থাপন করেন। ১৯৩১ সালে এটি উচ্চ ইংরেজি গার্লস স্কুলে উন্নীত হয়। নারী অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য ১৯১৬ সালে কোলকাতায় আঞ্জুমানে খাওয়াতিনে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করেন।
পরিশেষে বলা যায়, বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের হাত ধরেই বাংলার মুসলিম জাগরণ সূচিত হয় এবং বর্তমান নারী সমাজের অগ্রগতিতে তার অবদান অপরিসীম।
"আধুনিক সমাজ বিনির্মাণে চিত্র 'B'-তে প্রদর্শিত ব্যক্তি তথা রাজা রামমোহন রায়ের ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য।" মন্তব্যটি যথার্থ।
উদ্দীপকে চিত্র-B তে দেখানো ব্যক্তি হলেন রাজা রামমোহন রায়। সমাজ সংস্কারে তার অবদান অপরিসীম। বাংলার নবজাগরণের স্রষ্টা ভারতের প্রথম আধুনিক পুরুষ ছিলেন রাজা রামমোহন রায়। ১৭৭৪ সালে হুগলী জেলার রাধানগর গ্রামে তার জন্ম। অসাধারণ পাণ্ডিত্যের অধিকারী ছিলেন রাজা রামমোহন রায়। আধুনিক ভারতের রূপকার রাজা রামমোহন তৎকালীন সমাজের সামাজিক ও রাজনৈতিক গতিধারা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। নিজের চিন্তাধারার আলোকে নতুন সমাজ গঠনে প্রয়াসী হন। তিনি হিন্দু সমাজের সতীদাহ, বাল্যবিবাহ, কৌলীন্য প্রথা ও অন্যান্য কুসংস্কার দূর করতে প্রচেষ্টা চালান। তাছাড়া তিনি সব কুসংস্কার দূর করে আদি একেশ্বরবাদের ভিত্তিতে হিন্দুধর্ম পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে সচেষ্ট হন। হিন্দুধর্মের সংস্কার তথা নিজ ধর্মীয় মতবাদ প্রচারের উদ্দেশ্যে আত্মীয় সভা নামে একটি সমিতি গঠন করেন। ১৮২৮ সালের ২০ আগস্ট তিন ব্রাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠা করেন। এর পরে ব্রাহ্মসমাজের উপাসনালয় স্থাপন করেন। তার ব্রাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠা উপমহাদেশের ধর্মীয় ইতিহাসে এক নবযুগের সূচনা করে। শুধু সামাজিক আর ধর্মীয় বিষয় নয়, শিক্ষা বিস্তারেও তার অবদান ছিল। রাজা রামমোহন ১৮২২ সালে কোলকাতায় 'অ্যাংলো-হিন্দু স্কুল' প্রতিষ্ঠা করেন।
'দস্তক' হলো ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রতিনিধিদের ব্যবহৃত এক ধরনের বাণিজ্যিক ছাড়পত্র বা অনুমতিপত্র।
দিল্লির সম্রাটের ফরমান অনুযায়ী ইংরেজরা এই দস্তক দেখিয়ে বিনাশুল্কে বাংলায় ব্যবসা-বাণিজ্য করার অধিকার লাভ করেছিল। তবে এই দস্তকের অপব্যবহার কোম্পানি ও দেশীয় বণিকদের মধ্যে বৈষম্য তৈরি করে। কোম্পানির কর্মচারীরা ব্যক্তিগত ব্যবসায় দস্তক ব্যবহার শুরু করলে দেশীয় বণিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং নবাবের রাজস্ব আয়ও কমে যায়। এটি মূলত ইংরেজদের সাথে নবাব সিরাজউদ্দৌলা ও মীর কাশিমের বিরোধের অন্যতম প্রধান কারণ ছিল।
উদ্দীপকের ঘটনার সাথে পাঠ্যবইয়ের ১৭৫৭ সালের ঐতিহাসিক 'পলাশীর যুদ্ধের' ঘটনার গভীর সাদৃশ্য রয়েছে। জনাব 'X'-এর রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও পরাজয় মূলত নবাব সিরাজউদ্দৌলার জীবনের শেষ অধ্যায়কে নির্দেশ করে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, জনাব 'X' একজন স্বাধীন শাসক ছিলেন যার বিরুদ্ধে তাঁর আত্মীয়রা ষড়যন্ত্র শুরু করে। সিরাজউদ্দৌলার ক্ষেত্রেও তাঁর বড় খালা ঘসেটি বেগম ও খালাতো ভাই শওকতজঙ্গ ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছিলেন। উদ্দীপকের 'P' নামক যুদ্ধে জনাব 'X'-এর প্রধান সেনাপতির বিশ্বাসঘাতকতার কথা বলা হয়েছে। এটি সরাসরি পলাশীর যুদ্ধে নবাবের প্রধান সেনাপতি মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতাকে মনে করিয়ে দেয়। পলাশীর প্রান্তরে মীরজাফর তাঁর সৈন্যবাহিনী নিয়ে নিষ্ক্রিয় দর্শকের ভূমিকা পালন করেন, যার ফলে নবাবের বিজয় আসন্ন হওয়া সত্ত্বেও পরাজয় ঘটে।
উদ্দীপকের জনাব 'X'-এর পরাজয় ও শাসনের অবসান যেমন বিশ্বাস ঘাতকতার ফল, সিরাজউদ্দৌলার ক্ষেত্রেও তা ধ্রুব সত্য। তাই সার্বিক বিচারে উদ্দীপকের এই ঘটনাটি পলাশীর যুদ্ধেরই একটি প্রতিচ্ছবি।
পলাশীর যুদ্ধে সংঘটিত বিশ্বাস ঘাতকতাই মূলত বাংলার স্বাধীনতার সূর্যকে অস্তমিত করেছিল। মন্তব্যটি যথার্থ।
কেননা এই বিশ্বাস ঘাতকতার ফলে বাংলার রাজনৈতিক ও সার্বভৌমত্বের যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছিল তা দীর্ঘ ২০০ বছরের পরাধীনতা বয়ে আনে। পলাশীর যুদ্ধে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরাজয় কোনো সামরিক দুর্বলতার কারণে হয়নি। নবাবের পক্ষে মীর মদন ও মোহনলালের মতো দেশপ্রেমিক যোদ্ধারা প্রাণপণ লড়েছিলেন। কিন্তু প্রধান সেনাপতি মীরজাফর যখন কোরআন স্পর্শ করে শপথ করার পরও যুদ্ধের ময়দানে বিশ্বাস ঘাতকতা করেন, তখন নবাবের পরাজয় অনিবার্য হয়ে পড়ে। এই একটি ঘটনাই বাংলার শাসনের নিয়ন্ত্রণ বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার পথ সুগম করে দেয়। মীরজাফরের এই বিশ্বাস ঘাতকতার সুদূরপ্রসারী প্রভাব ছিল ভয়াবহ। এর ফলে ইংরেজরা মীরজাফরকে পুতুল নবাব বানিয়ে প্রকৃত ক্ষমতা নিজেদের হাতে তুলে নেয়। বাংলার ধন-সম্পদ অবাধে লুণ্ঠন শুরু হয় এবং রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বাংলার শাসকদের হাত থেকে ইংরেজদের কাছে চলে যায়। ১৭৫৭ সালের সেই বিশ্বাস ঘাতকতার কারণেই বাংলার দীর্ঘ কালীন স্বাধীনতা বিলুপ্ত হয় এবং ঔপনিবেশিক শাসনের কালো ছায়া নেমে আসে।
পরিশেষে বলা যায়, মীরজাফর ও তাঁর সহযোগীদের ব্যক্তিগত লোভও বিশ্বাস ঘাতকতা না থাকলে ইংরেজরা পলাশীর যুদ্ধে জয়ী হতে পারত না। ফলে বাংলার স্বাধীনতা আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারত। তাই উক্তিটি যথার্থ যে, এই বিশ্বাস ঘাতকতাই বাংলার স্বাধীনতার চিরস্থায়ী অবসান ঘটিয়েছিল।
তেরো শতকের শুরুতে তুর্কি সেনাপতি ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বখতিয়ার খলজির বাংলা আক্রমণের মধ্য দিয়ে প্রাচীন বাংলার সেন বংশের অবসান ঘটে।
সেন বংশের বয়োবৃদ্ধ রাজা লক্ষণ সেনের শাসনামলের শেষদিকে সাম্রাজ্যে চরম বিশৃঙ্খলা ও অভ্যন্তরীণ কোন্দল দেখা দেয়। এই দুর্বলতার সুযোগে ১২০৪ খ্রিষ্টাব্দে বখতিয়ার খলজি অতর্কিতে নদীয়া আক্রমণ করলে লক্ষণ সেন রাজধানী ছেড়ে পালিয়ে যান, যার ফলে বাংলায় দীর্ঘস্থায়ী সেন শাসনের পতন ঘটে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত ঘটনাটি পাঠ্যবইয়ের প্রাচীন বাংলার ইতিহাসে রাজা শশাঙ্কের মৃত্যুর পর সংঘটিত চরম অরাজকতা বা 'মাৎস্যন্যায়' এবং এর অবসানে গোপালের নির্বাচনের মাধ্যমে পাল বংশ প্রতিষ্ঠার ঘটনার সাথে সম্পূর্ণ সাদৃশ্যপূর্ণ।
রাজা শশাঙ্কের মৃত্যুর পর বাংলায় প্রায় এক শতাব্দীকাল ধরে কোনো যোগ্য শাসক ছিলেন না। ফলে পুকুরে বড় মাছ যেমন ছোট মাছকে গিলে খায়, তেমনি শক্তিশালী নেতারা দুর্বলদের উপর অত্যাচার শুরু করে; যাকে 'মাৎস্যন্যায়' বলা হয়। পরবর্তীতে এই অরাজকতা দূর করতে নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিরা মিলে গোপালকে নেতা বা রাজা হিসেবে নির্বাচিত করেন এবং পাল বংশের সূচনা হয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, 'ক' অঞ্চলের চেয়ারম্যানের মৃত্যুর পর ক্ষমতাশালী ব্যক্তিরা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে, যা মাৎস্যন্যায় পরিস্থিতির প্রতিচ্ছবি। পরবর্তীতে এলাকার জনগণ যোগ্য ব্যক্তি হিসেবে একজনকে নির্বাচিত করেন, যিনি সুদীর্ঘ সময় শাসন করে শান্তি আনেন। উদ্দীপকের এই নির্বাচিত ব্যক্তি মূলত বাংলার ইতিহাসের প্রথম নির্বাচিত রাজা গোপালেরই প্রতিনিধিত্ব করেন। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের ঘটনাটি মাৎস্যন্যায়ের অবসান ও পাল বংশ প্রতিষ্ঠার হুবহু প্রতিফলন।
উদ্দীপকে উল্লিখিত নির্বাচিত ব্যক্তির পুত্র বলতে প্রাচীন বাংলার পাল বংশের শ্রেষ্ঠ শাসক রাজা ধর্মপালকে বোঝানো হয়েছে। তিনি তাঁর শাসনামলে শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ধর্মের প্রসারে নানাবিধ জনকল্যাণ মূলক কাজ করেছিলেন।
ধর্মপাল ছিলেন পাল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা রাজা গোপালের সুযোগ্য পুত্র। তিনি কেবল একজন রাজ্যবিজয়ী বীরই ছিলেন না, বরং প্রজাদের সার্বিক জ্ঞান ও নৈতিক উন্নয়নের জন্য তিনি রাজ্যজুড়ে বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং ধর্মীয় উপাসনালয় নির্মাণ করে সুখ্যাতি অর্জন করেছিলেন।
উদ্দীপকে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নির্বাচিত ব্যক্তির পুত্র এলাকার জন্য অনেক কল্যাণ মূলক কাজ করে বিখ্যাত হন। পাঠ্যবইয়ের ইতিহাসেও আমরা দেখি, ধর্মপাল জ্ঞান বিস্তারের জন্য ভাগলপুরে 'বিক্রমশীল বিহার' এবং নওগাঁর পাহাড়পুরে সুবিশাল 'সোমপুর মহাবিহার' প্রতিষ্ঠা করেন। এছাড়া ওদন্তপুরীতেও তিনি একটি বিহার নির্মাণ করেছিলেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত এসব বিহার সেসময় সমগ্র ভারতবর্ষে বিখ্যাত শিক্ষাকেন্দ্র হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছিল। রাজা ধর্মপাল নিজে বৌদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও পরধর্মসহিষ্ণু ছিলেন। তিনি হিন্দুদের একটি নারায়ণ মন্দিরের জন্য করমুক্ত ভূমি দান করেছিলেন এবং ব্রাহ্মণদের পৃষ্ঠপোষকতা করেছিলেন।
উদ্দীপকের ইঙ্গিত অনুযায়ী, রাজা ধর্মপালের শিক্ষা বিস্তার ও ধর্মীয় সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার এসব অসাধারণ উদ্যোগই মূলত তাঁর শ্রেষ্ঠ কল্যাণ মূলক কাজ।
সমগ্র খন্ডিত বাংলাকে ঐক্যবদ্ধ করে একটি বৃহত্তর ও স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের অনন্য রাজনৈতিক সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ সুলতান শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহকে 'শাহ-ই-বাঙ্গালা' বলা হয়।
লখনৌতির ক্ষমতা দখলের পর ইলিয়াস শাহ সাতগাঁও এবং সোনারগাঁ জয় করে সমগ্র বাংলার ওপর নিরঙ্কুশ অধিকার প্রতিষ্ঠা করেন। তার এই যুগান্তকারী বিজয়ের ফলেই বাংলার বিভিন্ন অঞ্চল প্রথমবারের মতো একটি একক রাজনৈতিক পরিচয়ে একত্রিত হয়। এই বৃহত্তর বাংলা সৃষ্টির জন্যই তিনি 'শাহ-ই-বাঙ্গালা' উপাধি গ্রহণ করেছিলেন।
উদ্দীপকে উল্লিখিত রাজবংশ 'ক' হলো বাংলার ইতিহাসে সুপরিচিত 'ইলিয়াস শাহি বংশ', যা শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহের নেতৃত্বে খণ্ডিত বাংলাকে একত্রিত করে স্বাধীনভাবে শাসন করেছিল।
১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দে বাংলায় স্বাধীন সুলতানি যুগের সূচনা হলেও তা বিভিন্ন অঞ্চলে বিভক্ত ছিল। ইলিয়াস শাহ ১৩৪২ খ্রিস্টাব্দে লখনৌতির ক্ষমতা দখল করেন। পরবর্তীতে তিনি সাতগাঁও এবং ১৩৫২ খ্রিস্টাব্দে সোনারগাঁ জয় করে সমগ্র বাংলাকে একটি স্বাধীন একক রাষ্ট্রে পরিণত করেন। তিনি দিল্লির সুলতান ফিরোজ শাহ তুঘলকের আক্রমণ দৃঢ়তার সাথে প্রতিহত করে বাংলার স্বাধীনতা অক্ষুণ্ণ রাখেন।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, 'ক' বংশের শক্তিশালী শাসক 'খ' স্থানে (বাংলায়) সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। এই শক্তিশালী শাসক হলেন ইলিয়াস শাহ, যিনি নিজ নামে খুতবা পাঠ ও মুদ্রা জারি করে দিল্লির বশ্যতা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন। একডালা দুর্গের যুদ্ধে তিনি দিল্লির আক্রমণ রুখে দিয়ে বাংলার ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক স্বাধীনতা সুনিশ্চিত করেছিলেন। তার বিচক্ষণ সামরিক নীতি এবং সফল প্রজাপালনের মাধ্যমেই এই রাজবংশ বাংলায় স্বাধীনভাবে শাসন করেছিল।
ইলিয়াস শাহি রাজবংশের 'ক' পরবর্তী দিকের সুলতানদের অদূরদর্শিতা, রাজদরবারে ক্ষমতা দখলের ষড়যন্ত্র এবং হাবসি ক্রীতদাসদের মাত্রাতিরিক্ত ক্ষমতা ও প্রশ্রয়ের কারণেই শেষ পর্যন্ত দাসরা তাদের পরাজিত করে ক্ষমতা দখল করেছিল।
সুলতান রুকনউদ্দিন বরবক শাহ রাজ্যে নিজের একটি অনুগত দল গঠনের উদ্দেশ্যে আবিসিনিয়া থেকে প্রায় আট হাজার হাবসি ক্রীতদাস সংগ্রহ করে সেনাবাহিনী ও প্রাসাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দিয়েছিলেন। তার সময়ে এই ব্যবস্থা কাজ করলেও, পরবর্তী দুর্বল সুলতানদের আমলে এই উচ্চা ভিলাষী ক্রীতদাসরাই সাম্রাজ্যের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হয়ে দাঁড়ায়।
উদ্দীপকে উল্লেখ আছে যে, 'ক' রাজবংশের শাসনামল মাঝে মাঝে তাদের দাসদের দ্বারা বিঘ্নিত হয়েছিল। ইতিহাসে দেখা যায়, ইলিয়াস শাহি বংশের শেষ সুলতান জালালউদ্দিন ফতেহ শাহ যখন দেখলেন হাবসি ক্রীতদাসরা চরম ক্ষমতাশালী হয়ে উঠেছে, তখন তিনি তাদের প্রতিপত্তি কমানোর চেষ্টা করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সমস্ত হাবসি ক্রীতদাস একজোট হয়ে সুলতানের বিরুদ্ধে ভয়ংকর ষড়যন্ত্র শুরু করে।
অবশেষে প্রাসাদরক্ষী দলের প্রধান সুলতান শাহজাদা অন্যান্য দাসদের প্রলোভন দেখিয়ে ফতেহ শাহকে প্রাসাদের অভ্যন্তরে নির্মমভাবে হত্যা করেন। অর্থাৎ, রাষ্ট্রীয় উচ্চপদে বিশ্বস্ততার পরিবর্তে দাসদের ওপর অন্ধ বিশ্বাস, অতিরিক্ত ক্রীতদাস-নির্ভরতা এবং পরবর্তী শাসকদের সামরিক অযোগ্যতার ফলেই বাংলার এই গৌরবময় স্বাধীন রাজবংশটিকে তাদেরই নিযুক্ত দাসদের হাতে পতন ও পরাজয় বরণ করতে হয়েছিল।
রাজা লক্ষণ সেনের প্রধান দুর্বলতা ছিল তার অদূরদর্শিতা এবং আসন্ন রাজনৈতিক ও সামরিক বিপদ মোকাবিলায় কার্যকর পূর্বপ্রস্তুতির চরম অভাব।
বখতিয়ার খলজি যখন বিহার দখল করেন, তখন সেন সাম্রাজ্যে গভীর ভীতি ছড়িয়ে পড়ে। পণ্ডিতরা রাজধানী নদীয়া ত্যাগ করার পরামর্শ দিলেও লক্ষণ সেন তা অগ্রাহ্য করেন। তিনি রাজ্যের নিরাপত্তা ও। গিরিপথ গুলোর প্রতিরক্ষায় চরম অবহেলা প্রদর্শন করেন। ফলে। অতর্কিত আক্রমণে তিনি কোনো প্রতিরোধ না গড়েই পালিয়ে যান।
উদ্দীপকে উল্লিখিত জনাব 'ক'-এর সাথে মধ্যযুগে বাংলায় মুসলিম শাসনের সূচনাকারী তুর্কি সেনাপতি ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ বখতিয়ার খলজির উত্থান ও শাসন প্রতিষ্ঠার ঐতিহাসিক মিল রয়েছে।
বখতিয়ার খলজি ছিলেন বৃত্তিতে একজন সাধারণ ভাগ্যান্বেষী সৈনিক। নিজ অদম্য সাহসিকতায় তিনি প্রথমে ভাগবত ও ভিউলি পরগনার জায়গির লাভ করেন এবং পরবর্তীতে ১২০৪ খ্রিষ্টাব্দে বিহার ও নদীয়া জয় করে বাংলায় প্রথম বারের মতো মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
উদ্দীপকের জনাব 'ক' যেমন ভাগ্যান্বেষী থেকে নিজ দক্ষতায় বিহার ও বাংলার পূর্বাংশ জয় করে নতুন ধর্মভিত্তিক শাসন ব্যবস্থার সূচনা করেন, বখতিয়ার খলজিও ঠিক তাই করেছিলেন। গজনি ও দিল্লিতে চাকরি পেতে ব্যর্থ হয়েও তিনি নিজ রণকৌশলে সৈন্য সংগ্রহ করে অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠেন। তিনি রাজা লক্ষণ সেনকে বিতাড়িত করে গৌড়ে রাজধানী স্থাপন করেন এবং মাদ্রাসা, মক্তব ও অসংখ্য মসজিদ নির্মাণের মাধ্যমে বাংলায় ইসলাম ধর্ম ও মুসলিম সংস্কৃতির শক্তিশালী ভিত্তি গড়ে তোলেন, যা উদ্দীপকের ঘটনার সাথে পুরোপুরি মিলে যায়।
বখতিয়ার খলজির বঙ্গ বিজয়ের মধ্য দিয়ে বাংলায় যে মুসলিম শাসনের সূত্রপাত ঘটে, তা এদেশের সমাজ, ধর্ম, অর্থনীতি, ভাষা ও শিল্পকলায় এক যুগান্তকারী ও সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলেছিল।
মুসলিম-
১২০৪ খ্রিষ্টাব্দে সেন শাসনের অবসান ঘটিয়ে বাংলায় আধিপত্য সুপ্রতিষ্ঠিত হয়। এই শাসনব্যবস্থা কেবল রাজনৈতিক ক্ষমতার পালাবদল ছিল না, বরং এটি ছিল একটি দীর্ঘস্থায়ী স্থিতিশীলতা এবং নতুন আদর্শিক ও সাংস্কৃতিক জাগরণের সূচনা, যা প্রায় সাড়ে পাঁচশ বছর ধরে অত্যন্ত সফলভাবে টিকে ছিল।
রাজনৈতিক বিজয়ের পাশাপাশি মুসলিম শাসকরা বাংলায় সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের বাণী প্রচার করেন। তারা অসংখ্য মসজিদ ও মাদ্রাসা নির্মাণ করে শিক্ষা ও সংস্কৃতির নতুন দ্বার উন্মোচন করেন। ফলে উভয় সম্প্রদায়ের মধ্যে চমৎকার মিশ্র সংস্কৃতির বিকাশ ঘটে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের ব্যাপক প্রসার সাধিত হয়।
পরিশেষে বলা যায়, বাংলায় দীর্ঘস্থায়ী মুসলিম শাসনের প্রভাব ছিল বহুমুখী ও ইতিবাচক। শাসকগোষ্ঠীর উদার পৃষ্ঠপোষকতায় হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতি গড়ে ওঠে এবং বাংলা সাহিত্যের অভাবনীয় উৎকর্ষ সাধিত হয়। জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে বাংলায় সে সময় যে অভূতপূর্ব শান্তি ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জিত হয়েছিল, তা বাংলার ইতিহাসকে এক অনন্য গৌরবময়-যুগে রূপান্তরিত করেছিল।
'মরা মানুষের ঢিবি' বলতে মূলত সিন্ধু সভ্যতার প্রাচীন ও ঐতিহাসিক নগরী মহেঞ্জোদারোকে বোঝানো হয়।
পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের লারকানা জেলায় অবস্থিত মহেঞ্জোদারো শহরে প্রাচীনকালে উঁচু উঁচু মাটির ঢিবি ছিল, যাকে স্থানীয় লোকেরা 'মরা মানুষের ঢিবি' বলত। যা মহেঞ্জোদারো নামে পরিচিত ছিল। পরবর্তীতে বাঙালি পুরাতত্ত্ববিদ রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে সেখানে খননকাজ চালালে অপ্রত্যাশিত ভাবে তাম্রযুগের এক উন্নত নগর সভ্যতার প্রাচীন নিদর্শন বেরিয়ে আসে, যা এই নামের সার্থকতা প্রমাণ করে।
উদ্দীপকের তথ্য-১ এ উল্লিখিত 'ইশতার', 'এনকি' ও 'শামাশ' দেবতারা মূলত প্রাচীন মেসোপটেমীয় সভ্যতাকে নির্দেশ করে।
মেসোপটেমীয় সভ্যতার মানুষেরা বহু দেবতায় বিশ্বাসী ছিল এবং তাদের প্রাথমিক ধর্মবিশ্বাস ছিল মূলত পার্থিব বা ঐহিক। তারা পরকালের অস্তিত্বে তেমন বিশ্বাস করত না, বরং ইহকালের সুখ-শান্তি ও নিরাপত্তার জন্যই তারা বিভিন্ন দেবতার উপাসনা করত। তাদের উপাসনার জন্য পাহাড়সদৃশ উঁচু মন্দির তৈরি করা হতো, যাকে 'জিগুরাত' বলা হতো।
উদ্দীপকের তথ্য-১ এ 'ইশতার', 'এনকি' এবং 'শামাশ'-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে, যারা প্রাচীন মেসোপ-টেমীয়দের প্রধান ও জনপ্রিয় দেবতা ছিলেন। এর মধ্যে শামাশ ছিলেন সূর্য ও ন্যায়ের দেবতা এবং ইশতার ছিলেন প্রেম ও উর্বরতার দেবী। প্রাচীন মেসোপটেমীয়রা নিজেদের জীবনকে সুরক্ষিত রাখতে এবং পার্থিব উন্নতি লাভের আশায় এই দেবতাদের সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করত। তাই উদ্দীপকের এই দেবতাদের তালিকাটি নিশ্চিত ভাবে প্রাচীন মেসোপটেমিয়ার ধর্মবিশ্বাস ও সভ্যতাকেই প্রতিফলিত করে।
তথ্য-২ এ উল্লিখিত মাইরন, ফিদিয়াস এবং প্রাকসিটেলেস হলেন প্রাচীন গ্রিক সভ্যতার প্রখ্যাত ভাস্কর্য শিল্পী, যাঁরা বিশ্ব শিল্পকলায় এক অভাবনীয় স্বর্ণযুগের সূচনা করেছিলেন।
প্রাচীন গ্রিসে শিল্পকলার অন্যান্য শাখার পাশাপাশি স্থাপত্য ও ভাস্কর্যে চরম, উৎকর্ষ সাধিত হয়েছিল। গ্রিকরা বড় বড় স্তম্ভের ওপর অপূর্ব কারুকার্যখচিত দেব-দেবীর মন্দির নির্মাণ করত। ভাস্কর্য নির্মাণে তারা এমন এক অতুলনীয় দক্ষতা অর্জন করেছিল, যা পৃথিবীর শিল্পকলার ইতিহাসে এক অনন্য ও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে আছে।
উদ্দীপকের তথ্য-২ এ উল্লেখিত মাইরন, ফিদিয়াস ও প্রাকসিটেলেস ছিলেন এই গ্রিক ভাস্কর্যশিল্পের প্রধান রূপকার। তাঁরা পাথর ও ব্রোঞ্জ ব্যবহার করে দেব-দেবী, বীরযোদ্ধা এবং সাধারণ মানুষের জীবন্ত ও নিখুঁত সব মূর্তি তৈরি করেছিলেন। তাঁদের হাতের ছোঁয়ায় পাথর যেন প্রাণ ফিরে পেত। এথেন্সের অ্যাক্রোপলিস বা পার্থেনন মন্দিরের দেবী এথেনার মূর্তিসহ অন্যান্য ভাস্কর্য গুলো আজও গ্রিক সভ্যতার শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ বহন করে।
পরিশেষে বলা যায়, এই মহান ভাস্কর্য শিল্পীদের অবদান কেবল প্রাচীন গ্রিসের ভৌগোলিক সীমানাতেই আবদ্ধ ছিল না, বরং তা বিশ্ব সভ্যতার অমূল্য সম্পদে পরিণত হয়েছে। তাঁদের নান্দনিক সৃষ্টি, মানবদেহের নিখুঁত গঠন ও শিল্পের প্রতি গভীর ভালোবাসা পরবর্তী সভ্যতা গুলোকে এবং আধুনিক যুগের ভাস্কর্য শিল্পীদেরও গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। তাই বিশ্বসভ্যতায় তাঁদের শৈল্পিক অবদান চিরস্মরণীয়।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।