দৃশ্যপট-১ : খাদিজার বাবা বাড়ি নির্মাণ করার সময় বিশাল একটি। গুদাম ঘর নির্মাণ করলেন- কারণ তিনি কৃষিজীবী। ফসল। গুদামজাতকরণের জন্য বেশি জায়গার প্রয়োজন। তিনি তার গোসলখানায় সুন্দর একটি বাথটাবও লাগালেন।
দৃশ্যপট-২: রেজা প্রাচীন সভ্যতার ওপর ডকুমেন্টারি নির্মাণ করে। তার একটি ডকুমেন্টারিতে দেখা গেল, নদীর তীরে গড়ে ওঠা একটি সভ্যতার লোকেরা বিজ্ঞান, ভাস্কর্য, চিকিৎসা, লিখন পদ্ধতি সব ক্ষেত্রেই পারদর্শী ছিল।
দৃশ্যপট-১ এ বর্ণিত খাদিজার বাবার নির্মিত গোসলখানা ও শস্য গুদামের ধারণাটি প্রাচীন 'সিন্ধু সভ্যতা'র উন্নত নগর পরিকল্পনার দিকটিকে নির্দেশ করে।
সিন্ধু সভ্যতার মানুষেরা নগর নির্মাণে সবচেয়ে বেশি পারদর্শী ছিল। তাদের হরপ্পা ও মহেঞ্জোদারো নগরীতে স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতার দিকে লক্ষ্য রেখে প্রতিটি বাড়িতে ব্যক্তিগত স্নানাগার তৈরি করা হয়েছিল। এছাড়া মহেঞ্জোদারোতে একটি 'বৃহৎ স্নানাগার' আবিষ্কৃত হয়েছে। তাদের অর্থনীতি কৃষিনির্ভর হওয়ায় উৎপাদিত উদ্বৃত্ত ফসল ভবিষ্যৎ প্রয়োজনের জন্য সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে তারা নগরে বড় বড় শস্যাগার বা গুদামঘর নির্মাণ করেছিল।
উদ্দীপকের দৃশ্যপট-১ এ দেখা যায়, খাদিজার বাবা কৃষিজীবী হওয়ায় তিনি ফসল সংরক্ষণের জন্য বিশাল গুদামঘর নির্মাণ করেছেন এবং নিজের গোসলখানায় একটি সুন্দর বাথটাব লাগিয়েছেন। খাদিজার বাবার এই সুপরিকল্পিত গৃহনির্মাণ শৈলীর সাথে প্রাচীন সিন্ধুবাসীদের উন্নত জীবনযাত্রার হুবহু মিল রয়েছে। প্রাচীনকালেও তারা ঠিক একইভাবে বাড়িতে উন্নত স্নানাগার এবং ফসল সংরক্ষণের জন্য শস্যাগার তৈরি করেছিল। তাই দৃশ্যপট-১ সিন্ধু সভ্যতাকেই নির্দেশ করে।
"দৃশ্যপট-২ মিশরীয় সভ্যতারই প্রতিচ্ছবি"- মন্তব্যটি সম্পূর্ণ যথার্থ। কারণ উদ্দীপকের নদীকেন্দ্রিক জ্ঞান-বিজ্ঞানের বহুমুখী উৎকর্ষ প্রাচীন মিশরের অবদানের সাথেই সাদৃশ্যপূর্ণ।
প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতা নীল নদের অববাহিকায় গড়ে উঠেছিল। মিশরীয়রা তাদের প্রয়োজনে জ্ঞান-বিজ্ঞানে অভাবনীয় উন্নতি সাধন করেছিল। তারা মনের ভাব প্রকাশের জন্য হায়ারোগ্লিফিক বা পবিত্র অক্ষর নামে নিজস্ব চিত্রলিপি উদ্ভাবন করে। চিকিৎসাশাস্ত্রে অগ্রগতি লাভ করে তারা মানবদেহের বিভিন্ন রোগ নির্ণয়ে পারদর্শী হয়ে ওঠে। এছাড়া তাদের নির্মিত সুবিশাল স্ফিংক্স ও পিরামিড বিশ্ব ভাস্কর্য ও স্থাপত্য শিল্পের চরম উৎকর্ষের প্রমাণ।
উদ্দীপকের দৃশ্যপট-২ এ রেজার ডকুমেন্টারিতে একটি নদী অববাহিকায় গড়ে ওঠা সভ্যতার কথা বলা হয়েছে। ঐ সভ্যতার লোকেরা বিজ্ঞান, ভাস্কর্য, চিকিৎসাবিদ্যা এবং লিখনপদ্ধতি-সব ক্ষেত্রেই অত্যন্ত পারদর্শী ছিল। এই প্রতিটি বৈশিষ্ট্যই নীল নদের তীরে গড়ে ওঠা প্রাচীন মিশরীয়দের উদ্ভাবন ও অর্জনের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। মিশরীয়দের এই বহুমুখী প্রতিভাই মূলত রেজার ডকুমেন্টারিতে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।
পরিশেষে বলা যায়, মিশরীয়রা কেবল কৃষিতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চায়ও তারা অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল। তাদের চিকিৎসা পদ্ধতি, ক্যালেন্ডার আবিষ্কার, লিখনপদ্ধতি এবং মমি সংরক্ষণ প্রক্রিয়া বিজ্ঞান ও শিল্পকলার ইতিহাসে তাদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করে। সার্বিক দিক বিবেচনায় তাই নির্দ্বিধায় বলা যায়, দৃশ্যপট-২ নিশ্চিতভাবেই প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতার নিখুঁত প্রতিচ্ছবি এবং মন্তব্যটি সম্পূর্ণ যথার্থ।
উদ্দীপকের মমিনপুর এলাকার চেয়ারম্যান দিলীপ কুমারের কর্মকান্ডের সাথে প্রাচীন বাংলার পাল বংশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ রাজা ধর্মপালের কর্মকাণ্ডের সুস্পষ্ট সাদৃশ্য রয়েছে।
রাজা ধর্মপাল নিজে বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারী হলেও তিনি অত্যন্ত পরধর্মসহিষ্ণু ছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন যে, রাজার ব্যক্তিগত ধর্মের সাথে রাজ্য শাসনের কোনো সম্পর্ক নেই। তাই তিনি হিন্দু নারায়ণের একটি মন্দিরের জন্য করমুক্ত ভূমি দান করেছিলেন। জ্ঞান বিস্তারের জন্য তিনি পাহাড়পুরে 'সোমপুর মহাবিহার' ও ভাগলপুরে 'বিক্রমশীল বিহার' প্রতিষ্ঠা করেন, যেখানে তিব্বতসহ বিভিন্ন স্থান থেকে বহু শিক্ষার্থী পড়াশোনা করতে আসতো।
উদ্দীপকে আমরা দেখতে পাই, চেয়ারম্যান দিলীপ কুমার একজন ধর্মনিরপেক্ষ ও শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি। তিনি তাঁর এলাকায় হিন্দুদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের জন্য জমি দান করেছেন এবং অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণ করেছেন যেখানে বিভিন্ন অঞ্চল থেকে শিক্ষার্থীরা পড়তে আসে। এই চিত্রটি মূলত রাজা ধর্মপালেরই ঐতিহাসিক শাসনব্যবস্থার হুবহু প্রতিফলন। রাজা ধর্মপালও ঠিক একইভাবে হিন্দু মন্দিরে জমি দান এবং বিক্রমশীল বিহারের মতো আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণ করে ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন। তাই বলা যায়, দিলীপ কুমারের কর্মকাণ্ডে রাজা ধর্মপালেরই প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে।
হ্যাঁ, আমি মনে করি উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত শাসক রাজা ধর্মপাল সার্বিক দিক বিবেচনায় পাল বংশের অন্যতম এবং সর্বশ্রেষ্ঠ শাসক ছিলেন।
রাজা গোপাল পাল বংশের প্রতিষ্ঠা করলেও সাম্রাজ্যের প্রকৃত বিস্তার ও গৌরব বৃদ্ধি করেছিলেন তাঁর পুত্র ধর্মপাল। প্রায় চল্লিশ বছরের রাজত্বকালে তিনি শুধু রাজ্য সীমাই বাড়াননি, বরং শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় এমন কিছু অসাধারণ কাজ করেছিলেন যা তাঁকে পাল রাজাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি নাম, যশ ও খ্যাতির অধিকারী করেছে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত চেয়ারম্যান দিলীপ কুমারের ধর্মনিরপেক্ষতা ও শিক্ষানুরাগ মূলত রাজা ধর্মপালেরই গুণাবলিকে নির্দেশ করে। ধর্মপাল নিজে বৌদ্ধ হয়েও পরধর্মের প্রতি যে সহনশীলতা দেখিয়েছেন এবং হিন্দু নারায়ণের মন্দিরে ভূমি দান করেছেন, তা একজন আদর্শ শাসকের পরিচয় বহন করে। তিনি পাহাড়পুরে দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম সোমপুর মহাবিহার এবং বিক্রমশীল বিহার প্রতিষ্ঠা করে শিক্ষাক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছিলেন।রাজনৈতিক, সামরিক ও সাংস্কৃতিক-সব দিক দিয়েই ধর্মপালের রাজত্বকাল ছিল অত্যন্ত গৌরবময়। মাৎস্যন্যায়ের অবসান ঘটিয়ে তাঁর পিতা যে শান্তি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, ধর্মপাল তাকে এক বিশাল ও শক্তিশালী সাম্রাজ্যে রূপ দেন। পাল রাজাদের মধ্যে তিনিই সর্বপ্রথম সর্বোচ্চ সার্বভৌম উপাধি 'পরমেশ্বর, পরমভট্টারক, মহারাজাধিরাজ' ধারণ করেন। শাসনকারে্য দক্ষতা, প্রজা কল্যাণ এবং শিক্ষা ও সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষকতার এই অসামান্য সমন্বয়ের কারণেই তাঁকে পাল বংশের সর্বশ্রেষ্ঠ শাসক হিসেবে অভিহিত করা সম্পূর্ণ যুক্তিসংগত।
উদ্দীপকের ছক-১ এ উল্লিখিত ব্যক্তিবর্গ, যেমন-ঈসা খান, মুসা খান, চাঁদ রায় প্রমুখ মধ্যযুগের বাংলার ইতিহাসে অবিসংবাদিত 'বারোভূঁইয়া' নামে সুপরিচিত।
ষোলো শতকের মাঝামাঝি থেকে সতেরো শতকের মধ্যবর্তী সময়ে বাংলার যে সকল শক্তিশালী ও স্বাধীনচেতা জমিদার মুঘল আধিপত্য মেনে নেননি, তাদেরকেই বারোভূঁইয়া বলা হয়। নিজেদের স্বাধীনতা ও স্বকীয়তা বজায় রাখার জন্য এই দেশপ্রেমিক জমিদারদের নিজস্ব শক্তিশালী সৈন্যবাহিনী এবং সুসজ্জিত নৌবহর ছিল।
উদ্দীপকে আমরা ঈসা খান, মুসা খানসহ বিখ্যাত জমিদারদের নাম দেখতে পাই, যারা বারোভূঁইয়াদের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। সম্রাট আকবর যখন আফগানদের হটিয়ে সমগ্র বাংলার ওপর মুঘল আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করেন, তখন এই বারোভূঁইয়ারা একজোট হয়ে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। ঈসা খানের দূরদর্শী নেতৃত্বে তারা মানসিংহের মতো বিখ্যাত মুঘল সেনাপতিদের আক্রমণ বারবার প্রতিহত করেন। নিজ মাতৃভূমির স্বাধীনতা রক্ষায় তাদের এই ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম ও বীরত্ব বাংলার ইতিহাসে অনন্য গৌরবময় অধ্যায়।
হ্যাঁ, আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, উদ্দীপকের ছক-২ এ প্রদত্ত বৈশিষ্ট্যসমূহ মধ্যযুগে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠাকারী বীর সেনাপতি ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ বখতিয়ার খলজিরই সুস্পষ্ট প্রতিনিধিত্ব করছে। বখতিয়ার খলজি ছিলেন জাতিতে তুর্কি এবং বৃত্তিতে একজন ভাগ্যান্বেষী সৈনিক। শারীরিক ত্রুটির কারণে রাজদরবারে চাকরি পেতে ব্যর্থ হলেও, অদম্য উচ্চাকাঙ্ক্ষার জোরে তিনি সৈন্য সংগ্রহ করে ১২০৪ খ্রিষ্টাব্দে নদীয়া জয়ের মাধ্যমে বাংলায় মুসলিম শাসনের ভিত রচনা করেন।
উদ্দীপকের ছক-২ তে উল্লিখিত 'ভাগ্যান্বেষী সৈনিক', 'তুর্কি বীর', 'উচ্চাভিলাষী' এবং 'বঙ্গ বিজেতা' বিশেষণগুলো বখতিয়ার খলজির জীবনের সাথে হুবহু মিলে যায়। জীবিকার সন্ধানে দেশ ছেড়ে আসা এই তুর্কি বীর নিজ উচ্চাকাঙ্ক্ষা পূরণে প্রথমে বিহার ও পরবর্তীতে সামান্য সংখ্যক সৈন্য নিয়ে রাজা লক্ষণ সেনকে বিতাড়িত করে সফলভাবে বঙ্গ বিজয় সম্পন্ন করেছিলেন।
পরিশেষে বলা যায়, ছকের প্রতিটি শব্দই তার অবিস্মরণীয় ঐতিহাসিক পরিচয়কে নিখুঁতভাবে নির্দেশ করে। তার এই অভাবনীয় বঙ্গ বিজয়ের ফলেই এ দেশে দীর্ঘস্থায়ী মুসলিম শাসন এবং নতুন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের অবিস্মরণীয় সূচনা হয়েছিল। তাই বিশ্লেষণাত্মক দৃষ্টিকোণ থেকে ছক-২ সম্পূর্ণভাবে বখতিয়ার খলজিকেই তুলে ধরেছে।
উদ্দীপকের 'ছক-ক'-তে সন্নিবেশিত তথ্যসমূহ প্রাচীন বাংলার স্বাধীন গৌড় রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা রাজা শশাঙ্ককে নির্দেশ করে। রাজা শশাঙ্ক ছিলেন প্রাচীন বাংলার গৌড় জনপদের প্রথম স্বাধীন ও সার্বভৌম শাসক। তিনি প্রথমে গুপ্ত রাজাদের অধীনে একজন 'মহাসামন্ত' হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন এবং পরবর্তীতে নিজের অসামান্য সামরিক ও রাজনৈতিক দক্ষতার মাধ্যমে একটি বিশাল ও স্বাধীন রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
উদ্দীপকের 'ছক-ক'-তে এমন একজন রাজ্য প্রতিষ্ঠাতার কথা বলা হয়েছে যিনি একসময় মহাসামন্ত ছিলেন এবং ৬৩৭ খ্রিষ্টাব্দের সাথে তাঁর সম্পর্ক রয়েছে। পাঠ্যবই থেকে আমরা জানতে পারি যে, মহাসামন্ত শশাঙ্ক ষষ্ঠ শতকের শেষের দিকে ক্ষমতা অধিকার করে স্বাধীন গৌড় রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর এই শক্তিশালী রাজত্বকাল স্থায়ী হয়েছিল ৬৩৭ খ্রিষ্টাব্দের কিছু আগে তাঁর মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত। সুতরাং, ছক-ক এর এই সুনির্দিষ্ট ঐতিহাসিক তথ্যগুলো গৌড়ের রাজা শশাঙ্কের গৌরবময় শাসনকাল ও জীবনের সাথেই পরিপূর্ণভাবে মিলে যায়।
হ্যাঁ, উদ্দীপকের 'ছক-খ'-এর তথ্য এবং পঠিত কন্টেন্টের সার্বিক বিশ্লেষণের আলোকে আমি রাজা ধর্মপালকে চারশ বছরব্যাপী পাল রাজবংশের সর্বশ্রেষ্ঠ রাজা বলে মনে করি। রাজা গোপাল পাল বংশের প্রতিষ্ঠা করলেও সাম্রাজ্যের প্রকৃত বিস্তার এবং সাংস্কৃতিক উৎকর্ষের চূড়ান্ত বিকাশ ঘটেছিল তাঁর সুযোগ্য পুত্র ধর্মপালের দীর্ঘ চল্লিশ বছরের (৭৮১-৮২১ খ্রিষ্টাব্দ) রাজত্বকালে। তিনি একাধারে দিগ্বিজয়ী বীর, শিক্ষানুরাগী এবং ধর্মনিরপেক্ষ এক মহান শাসক ছিলেন।
উদ্দীপকের 'ছক-খ'-তে এমন একজন শাসকের কথা বলা হয়েছে যিনি ধর্ম নিরপেক্ষ ছিলেন, 'পরমেশ্বর' উপাধি ধারণ করেছিলেন এবং ৮২১ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত রাজত্ব করেছিলেন। পঠিত ইতিহাস অনুযায়ী, রাজা ধর্মপালই পাল রাজাদের মধ্যে প্রথম সর্বোচ্চ 'পরমেশ্বর' উপাধি ধারণ করেন। তিনি নিজে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী হওয়া সত্ত্বেও চরম ধর্মনিরপেক্ষতার পরিচয় দিয়ে হিন্দুদের মন্দির নির্মাণে ভূমি দান করেছিলেন এবং ৮২১ খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন। রাজা ধর্মপালের শ্রেষ্ঠত্বের মূল কারণ কেবল তাঁর বিশাল সাম্রাজ্য বিস্তার নয়, বরং তাঁর অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রনীতি এবং শিক্ষার প্রতি অসীম পৃষ্ঠপোষকতা। পাহাড়পুরের 'সোমপুর মহাবিহার' ও ভাগলপুরের 'বিক্রমশীল বিহার' প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি সমগ্র ভারতবর্ষে শিক্ষার যে অভূতপূর্ব প্রসার ঘটিয়েছিলেন, তা সত্যিই বিরল। রাজনৈতিক দূরদর্শিতা, ধর্মীয় সম্প্রীতি ও শিক্ষা বিস্তারে এই অভাবনীয় সফলতার কারণেই রাজা ধর্মপালকে পাল বংশের সর্বশ্রেষ্ঠ শাসক হিসেবে বিবেচনা করা সর্বতোভাবে যৌক্তিক।
উদ্দীপকের 'ছক-ক'-তে সন্নিবেশিত তথ্যসমূহ প্রাচীন বাংলার স্বাধীন গৌড় রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা রাজা শশাঙ্ককে নির্দেশ করে। রাজা শশাঙ্ক ছিলেন প্রাচীন বাংলার গৌড় জনপদের প্রথম স্বাধীন ও সার্বভৌম শাসক। তিনি প্রথমে গুপ্ত রাজাদের অধীনে একজন 'মহাসামন্ত' হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন এবং পরবর্তীতে নিজের অসামান্য সামরিক ও রাজনৈতিক দক্ষতার মাধ্যমে একটি বিশাল ও স্বাধীন রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
উদ্দীপকের 'ছক-ক'-তে এমন একজন রাজ্য প্রতিষ্ঠাতার কথা বলা হয়েছে যিনি একসময় মহাসামন্ত ছিলেন এবং ৬৩৭ খ্রিষ্টাব্দের সাথে তাঁর সম্পর্ক রয়েছে। পাঠ্যবই থেকে আমরা জানতে পারি যে, মহাসামন্ত শশাঙ্ক ষষ্ঠ শতকের শেষের দিকে ক্ষমতা অধিকার করে স্বাধীন গৌড় রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর এই শক্তিশালী রাজত্বকাল স্থায়ী হয়েছিল ৬৩৭ খ্রিষ্টাব্দের কিছু আগে তাঁর মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত। সুতরাং, ছক-ক এর এই সুনির্দিষ্ট ঐতিহাসিক তথ্যগুলো গৌড়ের রাজা শশাঙ্কের গৌরবময় শাসনকাল ও জীবনের সাথেই পরিপূর্ণভাবে মিলে যায়।
হ্যাঁ, উদ্দীপকের 'ছক-খ'-এর তথ্য এবং পঠিত কন্টেন্টের সার্বিক বিশ্লেষণের আলোকে আমি রাজা ধর্মপালকে চারশ বছরব্যাপী পাল রাজবংশের সর্বশ্রেষ্ঠ রাজা বলে মনে করি। রাজা গোপাল পাল বংশের প্রতিষ্ঠা করলেও সাম্রাজ্যের প্রকৃত বিস্তার এবং সাংস্কৃতিক উৎকর্ষের চূড়ান্ত বিকাশ ঘটেছিল তাঁর সুযোগ্য পুত্র ধর্মপালের দীর্ঘ চল্লিশ বছরের (৭৮১-৮২১ খ্রিষ্টাব্দ) রাজত্বকালে। তিনি একাধারে দিগ্বিজয়ী বীর, শিক্ষানুরাগী এবং ধর্মনিরপেক্ষ এক মহান শাসক ছিলেন।
উদ্দীপকের 'ছক-খ'-তে এমন একজন শাসকের কথা বলা হয়েছে যিনি ধর্ম নিরপেক্ষ ছিলেন, 'পরমেশ্বর' উপাধি ধারণ করেছিলেন এবং ৮২১ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত রাজত্ব করেছিলেন। পঠিত ইতিহাস অনুযায়ী, রাজা ধর্মপালই পাল রাজাদের মধ্যে প্রথম সর্বোচ্চ 'পরমেশ্বর' উপাধি ধারণ করেন। তিনি নিজে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী হওয়া সত্ত্বেও চরম ধর্মনিরপেক্ষতার পরিচয় দিয়ে হিন্দুদের মন্দির নির্মাণে ভূমি দান করেছিলেন এবং ৮২১ খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন। রাজা ধর্মপালের শ্রেষ্ঠত্বের মূল কারণ কেবল তাঁর বিশাল সাম্রাজ্য বিস্তার নয়, বরং তাঁর অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রনীতি এবং শিক্ষার প্রতি অসীম পৃষ্ঠপোষকতা। পাহাড়পুরের 'সোমপুর মহাবিহার' ও ভাগলপুরের 'বিক্রমশীল বিহার' প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি সমগ্র ভারতবর্ষে শিক্ষার যে অভূতপূর্ব প্রসার ঘটিয়েছিলেন, তা সত্যিই বিরল। রাজনৈতিক দূরদর্শিতা, ধর্মীয় সম্প্রীতি ও শিক্ষা বিস্তারে এই অভাবনীয় সফলতার কারণেই রাজা ধর্মপালকে পাল বংশের সর্বশ্রেষ্ঠ শাসক হিসেবে বিবেচনা করা সর্বতোভাবে যৌক্তিক।
এ দৃশ্য-১ এর চিত্রটি বাংলার ইতিহাসের ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ 'ছিয়াত্তরের মন্বন্তর'-এর করুণ পরিণতির প্রতিনিধিত্ব করেছে।১৭৬৫ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি দেওয়ানি লাভের পর বাংলায় 'দ্বৈত শাসন' চালু করে। এর ফলে কোম্পানির চরম অর্থলোভ ও নির্মম শোষণের শিকার হয়ে এদেশের সাধারণ কৃষক ও জনগনের অর্থনৈতিক মেরুদ্র সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে।
উদ্দীপকের চিত্রে কঙ্কালসার ও অভুক্ত মানুষের যে করুণ ছবি ফুটে উঠেছে, তা ১৭৭০ সালের (বাংলা ১১৭৬) দুর্ভিক্ষের বাস্তব চিত্র। দ্বৈত শাসনে কোম্পানির দায়িত্বহীন ক্ষমতা এবং নবাবের ক্ষমতাহীন দায়িত্বের কারণে সৃষ্ট শাসনতান্ত্রিক বিশৃঙ্খলার চূড়ান্ত ফল ছিল এই মন্বন্তর। ফসল না থাকা সত্ত্বেও জোরপূর্বক রাজস্ব আদায়ের কারণে বাংলার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ অনাহারে মৃত্যুবরণ করেছিল। দৃশ্য-১ এর চিত্রটি মূলত কোম্পানির সেই চরম শোষণের শিকার হওয়া ক্ষুধার্ত মানুষের করুণ আর্তনাদকেই চিত্রিত করেছে।
হ্যাঁ, আমি মনে করি দৃশ্য-২ এর জনাব মিজানের ভূমি বন্দোবস্ত লর্ড কর্নওয়ালিশ প্রবর্তিত ঐতিহাসিক 'চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত' নামক ভূমি ব্যবস্থার সম্পূর্ণ অনুরূপ। ১৭৯৩ সালে লর্ড কর্নওয়ালিস নির্দিষ্ট রাজস্ব পরিশোধের বিনিময়ে জমিদারদের জমির ওপর যে চিরস্থায়ী বা দীর্ঘমেয়াদি মালিকানা স্বত্ব প্রদান করেন, তাকে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত বলে। এর মাধ্যমে সরকারের নির্দিষ্ট আয় নিশ্চিত হয়েছিল।
উদ্দীপকের দৃশ্য-২ এ দেখা যায়, জনাব মিজান বাৎসরিক বন্দোবস্ত লাভজনক মনে না করে জমির দীর্ঘমেয়াদি বন্দোবস্তের সিদ্ধান্ত নেন। পাঠ্যবইয়ে লর্ড কর্নওয়ালিসও বার্ষিক বা স্বল্পমেয়াদি বন্দোবস্তের অনিশ্চয়তা দূর করতে জমিদারদের সাথে স্থায়ী চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছিলেন। এর ফলে নির্দিষ্ট খাজনার বিনিময়ে জমিদাররা জমির স্থায়ী মালিক হয়ে ওঠেন এবং কোম্পানির রাজস্ব আয় সুনিশ্চিত হয়। জনাব মিজানের সিদ্ধান্তের সাথে লর্ড কর্নওয়ালিসের এই প্রক্রিয়ার হুবহু মিল রয়েছে।
পরিশেষে বলা যায়, উভয় ক্ষেত্রেই স্বল্পমেয়াদি বন্দোবস্তের ঝামেলা এড়িয়ে দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী বন্দোবস্তের দিকে নজর দেওয়া হয়েছে। লর্ড কর্নওয়ালিস যেমন কোম্পানির অর্থনৈতিক শৃঙ্খলার জন্য চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত চালু করেছিলেন, জনাব মিজানও নিজের লাভজনক স্বার্থে ঠিক একই পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন। তাই দৃশ্য-২ এর ভূমি ব্যবস্থাটি লর্ড কর্নওয়ালিশের ভূমি ব্যবস্থারই একটি ক্ষুদ্র সংস্করণ।
দৃশ্যপট-১: জনাব রাশেদ সাহেব দীর্ঘদিন দেশের বাইরে শিক্ষা লাভকরে দেশে ফেরেন। দেশে ফিরে গ্রামের লোকদের অবস্থা দেখে মর্মাহত হন। কারণ গ্রামের লোকেরা অশিক্ষা, অনাচার ও কুসংস্কারে লিপ্ত। এসব থেকে তিনি গ্রামের লোকদের মুক্ত করার জন্য নানা ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
দৃশ্যপট-২: অনাথ আশ্রম থেকে রহিমকে এক নিঃসন্তান দম্পতি দত্তক নেন। মৃত্যুর আগে সেই দম্পতি তাদের সমস্ত সম্পত্তি রহিমকে দান করেন। বিশাল সম্পত্তির মালিক হলেও রহিম অত্যন্ত সহজসরল জীবনযাপন করতেন। তার সম্পত্তি তিনি দরিদ্র মুসলমান শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান, দাতব্য চিকিৎসালয় এবং অন্যান্য জনহিতকর কাজে দান করেন।
উদ্দীপকের রাশেদ সাহেবের কর্মকান্ডে বাংলার সামাজিক ও ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলন তথা হাজী শরীয়তউল্লাহ পরিচালিত 'ফরায়েজি আন্দোলন'-এর সুস্পষ্ট প্রভাব লক্ষ করা যায়।
ফরায়েজি আন্দোলনের প্রবক্তা হাজী শরীয়তউল্লাহ মাদারীপুর জেলায় ১৭৮২ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি দীর্ঘ বিশ বছর মক্কায় অবস্থান করেন। দেশে ফিরে তিনি বুঝতে পারেন, বাংলার মুসলমানরা ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা থেকে অনেক দূরে সরে গেছে। তাদের মধ্যে অনৈসলামিক রীতিনীতি, কুসংস্কার, অনাচার প্রবেশ করেছে। ইসলাম ধর্মকে কুসংস্কার হতে মুক্ত করতে তিনি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হন। এ প্রতিজ্ঞার বশবর্তী হয়ে তিনি উনিশ শতকের প্রথমার্ধে বাংলার মুসলমানদের মধ্যে এক ধর্মীয়-সামাজিক সংস্কার আন্দোলনের সূত্রপাত করেন। হাজী শরীয়তউল্লাহর এ ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলনের নামই 'ফরায়েজি আন্দোলন'। তিনি ভারতবর্ষকে 'দারুল হারব' অর্থাৎ 'বিধর্মীর দেশ' বলে ঘোষণা করেন। বাংলার শোষিত, নির্যাতিত দরিদ্র রায়ত, কৃষক, তাঁতি, তেলি সম্প্রদায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই আন্দোলনে যোগদান করেন। মুসলমানদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে জমিদাররা বাধা প্রদান করতে থাকে। তিনি প্রজাদের অবৈধ কর দেওয়া থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেন এবং জমিদারদের সব অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতেরোধ গড়ে তোলার জন্য প্রস্তুতি নেন। জমিদারশ্রেণি নানা অজুহাতে ফরায়েজি প্রজাদের ওপর অত্যাচার শুরু করলে প্রজাদের রক্ষার জন্য তিনি লাঠিয়াল বাহিনী গঠনের সিদ্ধান্ত নেন। ১৮৪০ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
হ্যাঁ, আমি দৃঢ়ভাবে মনে করি বাংলার মুসলিম সমাজে শিক্ষা বিস্তারে উদ্দীপকের রহিমের ন্যায় দানশীল মহাপুরুষ হাজী মুহম্মদ মহসীনের ব্যাপক ও অসামান্য অবদান ছিল।হাজী মুহম্মদ মুহসীন ছিলেন অত্যন্ত সাধারণ জীবনযাপনে অভ্যস্ত একজন নিঃস্বার্থ, দানবীর। তিনি নিঃসন্তান বোনের বিপুল সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হয়েও তা নিজের জন্য ভোগ না করে বাংলার পিছিয়ে পড়া মানুষের শিক্ষা, চিকিৎসা এবং জনকল্যাণমূলক কাজে অকাতরে বিলিয়ে দিয়েছিলেন।
উদ্দীপকের দৃশ্যপট-২ এর রহিমও দত্তক সূত্রে পাওয়া বিশাল সম্পত্তির মালিক হয়ে সাধারণ জীবনযাপন করেন এবং তাঁর সমস্ত সম্পদ দরিদ্র শিক্ষার্থীদের বৃত্তি ও দাতব্য চিকিৎসালয়ে দান করেন। রহিমের এই জনহিতৈষী কর্মকান্ডের সাথে হাজী মুহম্মদ মহসীনের মানবপ্রেম ও মহৎ উদ্যোগের হুবহু মিল রয়েছে। মহসীন ফান্ড গঠন করে তিনিও মুসলমানদের শিক্ষার পথ সুগম করেছিলেন। তৎকালীন বাংলার মুসলমানদের চরম আর্থিক সংকটে শিক্ষার সুযোগ প্রায় ছিল না বললেই চলে। এমন দুঃসময়ে তিনি হুগলীতে বিদ্যালয় স্থাপন করেন এবং মহসীন ফান্ডের অর্থে অসংখ্য স্কুল, মাদ্রাসা ও ছাত্রাবাস গড়ে ওঠে। এই ফান্ডের বৃত্তির কল্যাণেই সৈয়দ আমির আলির মতো হাজারো মুসলমান শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেয়েছিল। তাই বলা যায়, রহিমের মতো এই মহৎ ব্যক্তির নিঃস্বার্থ অনুদানই মুসলিম সমাজের আধুনিক শিক্ষার মজবুত ভিত্তি রচনা করেছিল।
উদ্দীপকে শাহীন সুলতানার ভ্রমণকৃত শহরটি প্রাচীন 'ইনকা সভ্যতার ঐতিহাসিক শহর মাচুপিচুর প্রতি ইঙ্গিত বহন করে। ইনকা সভ্যতা লাতিন আমেরিকার পেরুর আন্দিজ পর্বতমালার সুউচ্চ পাহাড়ি অঞ্চলে গড়ে উঠেছিল। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২৪০০ ফুট উঁচুতে - অবস্থিত মাচুপিচু ছিল এই সভ্যতার অন্যতম চমৎকার ও সুরক্ষিত নগরী। পাহাড়ি এলাকার মানুষ হওয়ায় ইনকারা প্রধানত নিরামিষভোজী ছিল এবং গোল আলু ছিল তাদের প্রধান খাদ্য। যাতায়াত ও লোমের জন্য তারা লামা ও আলপাকার মতো উটজাতীয় প্রাণী পালন করত।
উদ্দীপকে দেখা যায়, শাহীন সুলতানা লাতিন আমেরিকার ২৪০০ ফুট উঁচু একটি প্রাচীন শহরের ধ্বংসাবশেষ দেখতে পান, যেখানে মানুষের প্রধান খাদ্য ছিল গোল আলু এবং তারা উট পালন করত। এই প্রতিটি বৈশিষ্ট্য সরাসরি ইনকাদের জীবনযাপন ও তাদের শহর মাচুপিচুর বর্ণনার সাথে মিলে যায়। পাহাড়ি পরিবেশে কৃষিকাজ এবং উটজাতীয় প্রাণী পালনের মাধ্যমে তারা যে চমৎকার সভ্যতা গড়ে তুলেছিল, উদ্দীপকে ঠিক সেই ইনকা সভ্যতারই সুনির্দিষ্ট চিত্র ফুটে উঠেছে।
হ্যাঁ, আমি মনে করি উদ্দীপকে বর্ণিত ইনকা সভ্যতাটি ধ্বংসের পেছনে মহামারির পাশাপাশি স্পেনীয় দস্যুদের নির্মম আক্রমণ ও লুণ্ঠনই ছিল প্রধান ও প্রকৃত কারণ। ইনকা সাম্রাজ্য অত্যন্ত সমৃদ্ধ ও সুসংগঠিত হলেও এর স্থায়িত্ব বেশি দিন ছিল না। ১৫৩২ সালের দিকে স্পেনীয় স্প্যানেতা ফ্রান্সিসকো পিজারোর নেতৃত্বে একদল আগ্রাসনকারী ইনকা সাম্রাজ্যে আক্রমণ চালায়। স্প্যানিশরা মূলত ইনকাদের বিপুল স্বর্ণ ও সম্পদের লোভে সেখানে ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছিল।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, সভ্যতাটি শত বছর না পেরোতেই ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় এবং কেউ কেউ মনে করেন মহামারির কারণে এমনটি হয়েছে, যদিও এ নিয়ে মতভেদ আছে। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় যে, মাচুপিচু ১৪৫০ সালে নির্মিত হওয়ার পর খুব দ্রুতই পরিত্যক্ত হয়ে যায়। ইউরোপীয়দের আগমনের ফলে সেখানে নতুন রোগের প্রাদুর্ভাব বা মহামারি দেখা দিয়েছিল ঠিকই, যা অনেক মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছিল। তবে কেবল মহামারিই এর একমাত্র কারণ ছিল না।
প্রকৃতপক্ষে, ইনকা সভ্যতার চূড়ান্ত পতন ঘটেছিল স্প্যানিশদের প্রত্যক্ষ সামরিক আক্রমণের কারণেই। মহামারিতে ইনকারা যখন দুর্বল হয়ে পড়েছিল, স্প্যাযানিশ দস্যুরা সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ইনকা সম্রাট আতাহুয়ালপাকে পরাজিত করে এবং তাদের সুসজ্জিত নগর লুটপাট করে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করে। তাই বলা যায়, মহামারি সভ্যতাটিকে দুর্বল করলেও, এর চূড়ান্ত ধ্বংসের প্রকৃত কারণ ছিল ইউরোপীয় তথা স্প্যানিশদের নির্মম লুণ্ঠন ও আগ্রাসন।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।