দৃশ্যপট -১: মীরপুর স্কুলের শিক্ষার্থীরা শীতলক্ষ্যা থেকে বুড়িগঙ্গার তীর পর্যন্ত নৌকা ভ্রমণ করল। শিক্ষক জানালেন, এই উর্বর নদী তীরই ছিল ঢাকার জন্ম ও বিকাশের মূল ভিত্তি, যেখানে মানুষ এক সময় কৃষি ও পশুপালনে নিয়োজিত ছিলেন।
দৃশ্যপট-২: সোহেল সেনাবাহিনীতে কর্মরত থাকায় রাজশাহী সেনানিবাসে অবস্থান করেন। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তিনি সর্বদা যুদ্ধের প্রস্তুতিতে শৃঙ্খলাবদ্ধ থেকে সামরিক শক্তি অক্ষুণ্ণ রাখার দিকে সতর্ক থাকেন।
দৃশ্যপট-১ এ বর্ণিত উর্বর নদীকেন্দ্রিক কৃষি ও পশুপালনভিত্তিক জীবনধারার সাথে প্রাচীন মেসোপটেমীয় সভ্যতার মিল রয়েছে। প্রাচীন মেসোপটেমীয় সভ্যতা দজলা ও ফোরাত নদীর মধ্যবর্তী পলল বিধৌত উর্বর ভূমিতে গড়ে উঠেছিল। এই উর্বর ভূমিরূপকে 'ফার্টাইল ক্রিসেন্ট' বা উর্বর অর্ধচন্দ্র বলা হতো। নদী তীরবর্তী সমতল ভূমিতে সেচ ব্যবস্থা কাজে লাগিয়ে তারা কৃষিকাজে ব্যাপক উন্নতি লাভকরেছিল। কৃষির পাশাপাশি পশুপালন, বিশেষ করে ভেড়া ও ছাগল পালন ছিল তাদের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি।
উদ্দীপকের দৃশ্যপটে দেখা যায়, ঢাকার জন্ম ও বিকাশের মূলে রয়েছে বুড়িগঙ্গা ও শীতলক্ষ্যা নদীর উর্বর তীর, যেখানে প্রাচীনকালের মানুষের প্রধান পেশা ছিল কৃষি ও পশুপালন। ঢাকার এই নদীকেন্দ্রিক বিকাশের চিত্রটি সরাসরি প্রাচীন মেসোপটেমিয়ার নগররাষ্ট্রগুলোর উত্থানকে স্মরণ করিয়ে দেয়। প্রাচীনকালে উর বা ব্যবিলনের মতো নগররাষ্ট্রগুলো ঠিক একইভাবে নদীর পানির সহজলভ্যতা ও উর্বর পলিমাটিকে কেন্দ্র করে কৃষিভিত্তিক সমাজ গঠনের মাধ্যমে সভ্যতার সূচনা করেছিল। তাই ঢাকার আদি জীবনধারা প্রাচীন মেসোপটেমীয় সভ্যতার প্রতিচ্ছবি।
দৃশ্যপট-২ এ বর্ণিত সেনাবাহিনীর সুশৃঙ্খল জীবন এবং যুদ্ধের প্রস্তুতির ঘটনাটি প্রাচীন গ্রিসের সামরিক নগররাষ্ট্র স্পার্টার সুস্পষ্ট প্রতিচ্ছবি।
প্রাচীন গ্রিসের পেলোপনেসাস অঞ্চলে অবস্থিত স্পার্টা ছিল একটি ব্যতিক্রমী নগররাষ্ট্র। অন্যান্য গ্রিক শহরগুলো শিল্প, সাহিত্য ও দর্শনে মনোযোগ দিলেও স্পার্টানদের পুরো সমাজব্যবস্থা ছিল সমরতন্ত্র দ্বারা প্রভাবিত। ভূমিদাসদের বিদ্রোহ দমন এবং রাষ্ট্রের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার স্বার্থে স্পার্টার নাগরিকদের মূল কাজই ছিল সামরিক শক্তি সঞ্চয় করা। তাদের সরকার ও সমাজের একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল প্রতিটি নাগরিককে যুদ্ধের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত করা এবং কঠোর শৃঙ্খলায় আবদ্ধ রেখে যুদ্ধ পরিচালনা করা।
উদ্দীপকের দৃশ্যপট-২ এ আমরা দেখতে পাই, সেনাসদস্য সোহেল রাজশাহী সেনানিবাসে অবস্থান করে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য সর্বদা যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তিনি সামরিক শৃঙ্খলায় আবদ্ধ থেকে দেশের সামরিক শক্তি অক্ষুণ্ণ রাখার প্রতি সচেষ্ট। সোহেলের এই পেশাগত দায়িত্ব পালন এবং সর্বদা সামরিক প্রস্তুতির বিষয়টি প্রাচীন স্পার্টার নাগরিকদের যুদ্ধকেন্দ্রিক জীবনের সাথে সরাসরি সাদৃশ্যপূর্ণ।
পরিশেষে বলা যায়, স্পার্টার সমাজব্যবস্থায় সামরিক শক্তিই ছিল রাষ্ট্রের টিকে থাকার একমাত্র চাবিকাঠি। উদ্দীপকের সোহেলের সেনানিবাসের জীবনও ঠিক একই রকম সামরিক নিয়ম-কানুন ও যুদ্ধ প্রস্তুতির ইঙ্গিত দেয়। যদিও বর্তমান যুগে সোহেল দেশের প্রতিরক্ষায় নিয়োজিত, কিন্তু তার এই কঠোর শৃঙ্খলাপরায়ণ সামরিক জীবনযাত্রা প্রাচীন স্পার্টার সমরতান্ত্রিক আদর্শ ও যুদ্ধমুখী সমাজ কাঠামোরই একটি নিখুঁত আধুনিক প্রতিফলন।
ঘটনা-১: উনবিংশ শতকের মধ্যভাগে বাংলার গ্রামীণ সমাজে এক বিশেষ ধরনের রং চাষের কারণে কৃষকরা শোষণ ও নির্যাতনের শিকার হয়। নিজেদের অধিকার রক্ষায় তারা একত্রিত হয়ে বিদেশি বাগান মালিকদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে।
ঘটনা-২: নাটোরের রাণী ভবানী একজন প্রভাবশালী ও জনহিতকর নারী জমিদার ও সমাজ সেবিকা ছিলেন। ক্ষমতা ও সৎ নেতৃত্বের জন্য তিনি 'রাণী' উপাধিতে ভূষিত হয়েছিলেন। তিনি শিক্ষা, সাহিত্য পৃষ্ঠপোষকতা, রাস্তা, পুকুর ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নির্মাণের মাধ্যমে প্রজাদের জীবনমান উন্নত করেছিলেন।
উদ্দীপকের ঘটনা-২ এ বর্ণিত রাণী ভবানীর সমাজসেবামূলককাজের সাথে পাঠ্যবইয়ের মহীয়সী নারী নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানীর জনহিতকর কর্মকারে গভীর মিল রয়েছে।
নবাব ফয়জুন্নেছা ছিলেন কুমিল্লার পশ্চিমগাঁও-এর একজন প্রজাবৎসল জমিদার ও নারীশিক্ষার অগ্রদূত। তিনি শুধু সুচারুরূপে বিশাল জমিদারিই পরিচালনা করেননি, বরং নিজ এলাকার মানুষের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়নে দাতব্য চিকিৎসালয়, স্কুল, রাস্তাঘাট এবং দিঘি খনন করে সমাজে অসামান্য অবদান রেখেছিলেন।
উদ্দীপকে রাণী ভবানী যেভাবে শিক্ষা, সাহিত্য ও জনকল্যাণে ভূমিকা রেখেছিলেন, নবাব ফয়জুন্নেছাও ঠিক একইভাবে তাঁর সম্পদ প্রজাদের কল্যাণে ব্যয় করেছেন। ফয়জুন্নেছা নারী শিক্ষার জন্য কুমিল্লায় বালিকা বিদ্যালয় এবং নারীদের চিকিৎসার জন্য 'ফয়জুন্নেছা জেনানা হাসপাতাল' প্রতিষ্ঠা করেন। রাণী ভবানীর মতো তিনিও রাস্তাঘাট নির্মাণ ও পত্র-পত্রিকায় আর্থিক সহায়তা দিয়ে সমাজ সংস্কারে যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করেন। তাই বলা যায়, জনকল্যাণের ক্ষেত্রে উভয়ের কর্মপ্রচেষ্টা ও আদর্শ একই সূত্রে গাঁথা।
উদ্দীপকের ঘটনা-১ এর সাথে পাঠ্যবইয়ে উল্লিখিত ব্রিটিশবিরোধী 'নীল বিদ্রোহের' মিল পাওয়া যায়।
আঠারো শতকের শেষভাগে ইংরেজরা বাংলার কৃষকদের জোরপূর্বক খাদ্যফসলের পরিবর্তে বাণিজ্যফসল হিসেবে নীল চাষ করতে বাধ্য করত। নীলকরদের দেওয়া দাদনের ফাঁদ, অবৈতনিক ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে বিচারহীনতার সুযোগ এবং অবাধ্য চাষিদের ওপর চরম নিষ্ঠুরতার ফলে বাংলার কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছিল।
উদ্দীপকের ঘটনা-১ এ দেখা যায়, এক বিশেষ ধরনের রং চাষের কারণে কৃষকরা শোষিত হয় এবং বিদেশি বাগান মালিকদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে। পাঠ্যবইয়ের ইতিহাসেও আমরা দেখি, নীলকর সাহেবরা কৃষকদের সবচেয়ে উর্বর জমিতে নীল চাষ করতে বাধ্য করত। চাষিরা রাজি না হলে তাদের ওপর পাশবিক অত্যাচার চালানো হতো। সুবিচার পাওয়ার কোনো আইনি পথ খোলা না থাকায় দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া চাষিরা নিজেদের অধিকার রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলে। ১৮৫৯ সালে সাধারণ কৃষকদের ঐক্যবদ্ধ সশস্ত্র প্রতিরোধ এবং শিক্ষিত মধ্যবিত্ত সমাজের সমর্থন এই বিদ্রোহকে সফলতার দিকে নিয়ে যায়। ফলে বাধ্য হয়ে সরকার 'নীল কমিশন' গঠন করে এবং বাংলার কৃষকদের ইচ্ছাশক্তির জয় হয়।
পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকের রং চাষের প্রতিবাদ মূলত বাংলার ঐতিহাসিক নীল বিদ্রোহেরই প্রতিচ্ছবি।
দৃশ্যকল্প-১: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সবুজ ছুটিতে সোনারগাঁও ভ্রমণে গিয়ে ছোটো ভাইকে জানাল, এখানেই এক শাসক দিল্লির কর্তৃত্ব অস্বীকার করে নিজেকে স্বাধীন ঘোষণা করেন, যার মাধ্যমে বাংলায় প্রায় দুইশ বছরের স্বাধীন সুলতানি আমলের সূচনা হয়।
দৃশ্যকল্প-২: মিনার দাদু মারাঠা জাতির ইতিহাস পড়ে শোনালেন, সেখানে শিবাজির নেতৃত্বে তারা মোগলদের বিরুদ্ধে সাহসিকতার সঙ্গে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। দাদু আরও বললেন, মধ্যযুগে বাংলার এক আঞ্চলিক নেতা স্থানীয় শাসকদের ঐক্যবদ্ধ করে আমৃত্যু স্বাধীনতা অক্ষুণ্ণ রাখার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন।
দৃশ্যকল্প-১ এ সবুজের বর্ণনায় সোনারগাঁয়ের শাসনকর্তা ফখরুদ্দিন মুবারক শাহের স্বাধীন সুলতানি শাসন প্রতিষ্ঠার চিত্র ফুটে উঠেছে। ১৩৩৮ খ্রিষ্টাব্দে দিল্লির সুলতানের অধীনে সোনারগাঁয়ের শাসনকর্তা বাহরাম খানের মৃত্যুর পর তার বর্মরক্ষক ফখরা স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। তিনি 'ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ' নাম নিয়ে সোনারগাঁয়ের সিংহাসনে বসেন এবং দিল্লির শাসনকর্তাদের আক্রমণ প্রতিহত করে বাংলায় দুইশ বছরের স্বাধীন সুলতানি যুগের সূচনা করেন।
উদ্দীপকের সবুজ তার ভাইকে সোনারগাঁয়ে যে শাসকের কথা বলেছে, ইতিহাসে তিনিই ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ। তিনি শুধু স্বাধীনতাই ঘোষণা করেননি, বরং নিজ নামে মুদ্রাও প্রচলন করেছিলেন। তার রাজত্বকালে রাজ্যের সীমা দক্ষিণ-পূর্ব দিকে বৃদ্ধি পায় এবং তিনি সর্বপ্রথম চট্টগ্রাম জয় করেন। দিল্লির সুলতানের পক্ষে তখন বাংলার দিকে নজর দেওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে ফখরুদ্দিনের মাধ্যমে সোনারগাঁয়ে যে স্বাধীনতার বীজ বপন করা হয়েছিল, তা পরবর্তী দুই শতাব্দী ধরে বাংলায় স্বাধীন সুলতানি আমলের ভিত্তি হিসেবে টিকে ছিল।
দৃশ্যকল্প-২ এ মিনার দাদুর শেষ উক্তিটি বারোভূঁইয়াদের অবিসংবাদিত নেতা ঈসা খানের মুঘল বিরোধী অদম্য প্রতিরোধ ও স্বাধীনতাপ্রেমের দৃষ্টান্ত তুলে ধরে, যা সম্পূর্ণ যথার্থ।
বাংলার স্বাধীন জমিদারগণ মুঘলদের অধীনতা মেনে নেননি। সম্রাট আকবরের সময় মুঘল আধিপত্য বিস্তারের তীব্র চেষ্টাকে তারা সম্মিলিতভাবে রুখে দেন। এই জমিদার বা ভূঁইয়াদের প্রধান নেতা ছিলেন সোনারগাঁয়ের ঈসা খান।
উদ্দীপকে শিবাজির মুঘল প্রতিরোধের সাথে দাদু বাংলার যে নেতার তুলনা করেছেন, তিনি হলেন ঈসা খান। সম্রাট আকবর মানসিংহের মতো প্রখ্যাত সেনাপতিদের পাঠালেও তারা ঈসা খানকে চূড়ান্তভাবে পরাজিত করতে পারেননি। ঈসা খান অন্যান্য জমিদারদের ঐক্যবদ্ধ করে শক্তিশালী নৌবহর ও সৈন্যবাহিনীর সাহায্যে মুঘল আক্রমণ বারবার শক্ত হাতে প্রতিহত করেন।
পরিশেষে বলা যায়, দাদুর উক্তিটি ঐতিহাসিক সত্য। ১৫৯৯ সালে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ঈসা খান বাংলার স্বাধীনতা অক্ষুণ্ণ রাখেন। তিনি মুঘলদের বিরুদ্ধে 'মসনদ-ই-আলা' উপাধি ধারণ করে স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। তার এই অসম সাহসী নেতৃত্ব ও দেশপ্রেম বাংলার ইতিহাসে সত্যিই অনন্য। তাই দাদুর উক্তিটি সর্বাংশে যথার্থ।
দৃশ্যকল্প-১: রাজা প্রতাপাদিত্য সাধারণ পরিবার থেকে উঠে জনগণের সমর্থনে নিজ বংশের প্রতিষ্ঠাতা হন। অরাজকতা দূর করে প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা ও শান্তি প্রতিষ্ঠা করেন। তার পরবর্তী শাসকরা বংশীয়ভাবে শাসনভার নিয়ে স্থিতিশীলতা বজায় রাখেন।
দৃশ্যকল্প- ২: লিনা টেলিভিশনে একটি পুরনো প্রামাণ্যচিত্র দেখছিল। যেখানে বার্ধক্যগ্রস্ত শাসক শেষ পর্যন্ত হেরে গেলেন, শত্রু রাজ্যে প্রবেশ করলো, কিন্তু তার পতনের ধ্বংসস্তূপ থেকে জন্ম নিল নতুন যুগের আলো, যা প্রজা ও সংস্কৃতিকে নতুন দিশা দেখালো।
দৃশ্যকল্প-১ এ রাজা প্রতাপাদিত্যের কার্যক্রমের সাথে প্রাচীন বাংলার পাল বংশের প্রতিষ্ঠাতা রাজা গোপালের কার্যক্রমের মিল খুঁজে পাওয়া যায়।রাজা শশাঙ্কের মৃত্যুর পর বাংলায় প্রায় এক শতাব্দী ধরে চরম অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলা বিরাজ করছিল, যাকে ঐতিহাসিক পরিভাষায় 'মাৎস্যন্যায়' বলা হয়। এই চরম অরাজকতা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য তৎকালীন নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ সাধারণ পরিবার থেকে আসা - গোপালকে রাজা নির্বাচিত করে সিংহাসনে বসান। গোপালের ক্ষমতা গ্রহণের মাধ্যমেই বাংলায় চারশ বছরের দীর্ঘস্থায়ী পাল শাসনের -সূচনা হয় এবং রাজ্যে শান্তি ফিরে আসে।
উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-১ এ আমরা দেখতে পাই, রাজা প্রতাপাদিত্য সাধারণ পরিবার থেকে এসে জনগণের সমর্থনে ক্ষমতা গ্রহণ করেন এবং অরাজকতা দূর করে নিজ বংশের শাসন প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর এই পদক্ষেপ রাজ্যে স্থিতিশীলতা নিয়ে আসে, যা পরবর্তীতে তাঁর বংশধররা ধরে রাখেন। এই ঘটনাটি বাংলার মাৎস্যন্যায়ের অবসান ঘটিয়ে রাজা গোপালের পাল বংশ প্রতিষ্ঠার ঐতিহাসিক ঘটনার হুবহু প্রতিফলন। তাই বলা যায়, প্রতাপাদিত্যের কার্যাবলির সাথে রাজা গোপালের কার্যাবলির সাদৃশ্য রয়েছে।
দৃশ্যকল্প-২ এ লিনার দেখা প্রামাণ্যচিত্রে প্রাচীন বাংলার সেন শাসনের অবসান এবং মুসলিম শাসনের সূচনার প্রতিফলন ঘটেছে। এর ফলাফল ছিল সুদূরপ্রসারী, যার মাধ্যমে বাংলায় মধ্যযুগের সূচনা হয়।
সেন বংশের বয়োবৃদ্ধ রাজা লক্ষণ সেনের রাজত্বকালের শেষভাগে নানা ষড়যন্ত্র ও দুর্বলতার কারণে সাম্রাজ্যে অস্থিরতা দেখা দেয়। এই সুযোগে ১২০৪ খ্রিষ্টাব্দে তুর্কি সেনাপতি ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বখতিয়ার খলজি' নদীয়া আক্রমণ করেন। বিনা প্রতিরোধে লক্ষণ সেন পরাজিত হয়ে নদীপথে বিক্রমপুরে পালিয়ে যান এবং বাংলায় তুর্কিদের মুসলিম শাসনের সূত্রপাত ঘটে।
উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-২ এ লিনা এমন এক বার্ধক্যগ্রস্ত শাসকের পতন দেখতে পায়, যার পরাজয়ের মধ্য দিয়ে বিদেশি শত্রুর প্রবেশ ঘটে এবং একটি নতুন যুগের সূচনা হয়। রাজা লক্ষণ সেনের শেষ বয়সও ছিল ঠিক এমনই। তাঁর পরাজয়ের ফলে দীর্ঘদিনের সেন শাসনের পতন ঘটে এবং তুর্কিদের মাধ্যমে এক নতুন ধর্ম, সংস্কৃতি ও শাসনব্যবস্থার উন্মেষ ঘটে। এই অবসান বাংলার ইতিহাসে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন নিয়ে আসে। সেন শাসনের পতনের ফলে প্রাচীন যুগের সমাপ্তি ঘটে এবং নতুন যুগের আলো হিসেবে মধ্যযুগের সূচনা হয়। নতুন এই মুসলিম শাসনে বাংলার সমাজ, সংস্কৃতি, ভাষা ও জীবনযাত্রায় ব্যাপক পরিবর্তন আসে, যা বাংলার প্রজাদের নতুন এক দিশা দেখায়। সুতরাং, দৃশ্যকল্পের ঘটনাটি সেন বংশের পতনের ওই সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তনেরই সুস্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করে।
দৃশ্য-১: মুক্তিযুদ্ধের সময় গ্রামের এক তরুণ মিজান রাতে রেডিওর সংবাদ শুনত। দেশের বিভিন্ন স্থানে মুক্তিকামী মানুষের সাহসিকতার খবর শুনে তার মনে জেগে উঠত আশা ও উদ্দীপনা। সেই খবরই তাকে মুক্তিযোদ্ধাদের পাশে দাঁড়াতে অনুপ্রাণিত করেছিল।
দৃশ্য-২: লাবীব রাজধানী শহর থেকে কিছু দূরে ঘুরতে গিয়েছিল। সেখানে ১৫০ ফুট উচ্চতার একটি বিশাল স্থাপনায় সাত জোড়া ত্রিভুজাকার দেয়াল তার চোখে পড়ল, যা মুক্তিযোদ্ধাদের সাহস, ত্যাগ ও সংগ্রামের গল্প মনে করিয়ে দেয়। আজও এটি মানুষের ঐক্য ও জাতীয় চেতনা শক্তিশালী করে।
দৃশ্য-১ এর ঘটনাটি মুক্তিযুদ্ধে গণমাধ্যম, বিশেষ করে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র ও রেডিওর গৌরবময় ভূমিকাকে নির্দেশ করে, যা সাধারণ মানুষকে যুদ্ধে অংশগ্রহণে প্রবলভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে গণমাধ্যমের ভূমিকা ছিল অপরিসীম। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র সংবাদ, দেশাত্মবোধক গান, মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বগাথা রণাঙ্গনের নানা ঘটনা দেশ ও জাতির সামনে তুলে ধরে সাধারণ মানুষকে যুদ্ধে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে অনুপ্রাণিত করে; মুক্তিযোদ্ধাদের সাহস জুগিয়ে বিজয়ের পথ সুগম করে। এছাড়া মুজিবনগর সরকারের প্রচার সেলের তত্ত্বাবধানে প্রকাশিত পত্রিকা মুক্তিযুদ্ধে ব্যাপক ভূমিকা পালন করে। মুক্তিযুদ্ধের সময় রেডিও এবং সংবাদপত্রগুলো রণাঙ্গনের খবরাখবর, মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বগাথা এবং দেশাত্মবোধক গান প্রচার করে জনমনে প্রেরণা জোগাত। 'চরমপত্র' এবং 'জল্লাদের দরবার'-এর মতো জনপ্রিয় অনুষ্ঠানগুলো মুক্তিযোদ্ধাদের মনোবল বৃদ্ধির পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করে স্বাধীনতা সংগ্রামে যুক্ত হতে সাহায্য করেছিল।
উদ্দীপকের দৃশ্য-১ এ তরুণ মিজান রেডিওতে দেশের বিভিন্ন স্থানে মুক্তিকামী মানুষের সাহসিকতার খবর শুনে আশা ও উদ্দীপনা লাভকরে এবং মুক্তিযোদ্ধাদের পাশে দাঁড়াতে অনুপ্রাণিত হয়। এটি মূলত পাঠ্যবইয়ে উল্লিখিত স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের অবদানেরই একটি বাস্তব প্রতিফলন। গণমাধ্যমের এই প্রচারণার ফলেই মিজানের মতো অসংখ্য সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিল।
হ্যাঁ, আমি মনে করি দৃশ্য-২ এ লাবীবের দেখা স্থাপনাটি-অর্থাৎ সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধ-বাঙালির অদম্য সাহস, ধারাবাহিক 'সংগ্রাম ও জাতীয় অহংকারের এক অনন্য প্রতীক।
উদ্দীপকের দৃশ্য-২ এ লাবীব রাজধানী থেকে দূরে যে সাত জোড়া ত্রিভুজাকার দেয়ালবিশিষ্ট বিশাল স্থাপনা দেখেছে, তা অবিকল সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধের বর্ণনা। এই স্থাপনাটি লাবীবের মনে মুক্তিযোদ্ধাদের সাহস ও ত্যাগের গল্প স্মরণ করিয়ে দেয়, যা আজও জাতির ঐক্য ও চেতনাকে শক্তিশালী করার অনুপ্রেরণা জোগায়। জাতীয় স্মৃতিসৌধ মূলত বাঙালির গৌরবময় সংগ্রামের প্রতীক জাতীয় মুক্তিসংগ্রামের ধারাবাহিক ঘটনাগুলোকে সাত জোড়া দেয়ালের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনি বিজয়, ১৯৫৬ সালের সংবিধান, ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ছয় দফা, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ-এসব ঘটনাই বাঙালি জাতির জন্য গৌরবের। বাঙালি জাতি তাদের অমূল্য জীবনের বিনিময়ে আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামকে ইতিহাসে স্মরণীয় করে রেখেছেন। '৫২ থেকে '৭১ সালের মহান এই মুক্তি সংগ্রামের ফলেই পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে বাঙালি স্বাধীনতা অর্জনে সক্ষম হয়েছে। স্থপতি মইনুল হোসেনের নকশায় নির্মিত লক্ষ লক্ষ নাম না জানা শহিদের মহান মুক্তিসংগ্রামে আত্মোৎসর্গের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের প্রতীক স্মৃতিসৌধ বাঙালি জাতির অহংকার ও গৌরবের প্রতীক।
শিক্ষকের বক্তব্য-১ : "১৯শ শতকের বাংলার একটি গ্রামের কথা ভাবো। যেখানে কৃষকরা কঠোর পরিশ্রম করে ফসল ফলাতো। জমিদারদের ভূমিকর আদায়ের অধিকার স্থায়িভাবে দেওয়ার ফলে তারা নতুন পুঁজিপতি হয়ে ওঠে এবং কৃষকরা করের চাপের কারণে দারিদ্র্যের মধ্যে পড়ে।”
শিক্ষকের বক্তব্য-২ : "রাজ্যে অস্থিরতা ও অবিশ্বাস বাড়ছিল। বিদেশি বণিকরা রাজকার্যে হস্তক্ষেপ শুরু করে। আর রাজপরিবারের মধ্যে সৃষ্টি হয় বিভক্তি। একদিনের যুদ্ধেই রাজশক্তির পতন ঘটে, বিদেশি শক্তি শাসনের নিয়ন্ত্রণ নেয়। শুরু হয় নতুন যুগের পথচলা।"
শিক্ষকের বক্তব্য-১ এ বর্ণিত ব্যবস্থার সাথে আমার পাঠ্যবইয়ের 'চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত' ব্যবস্থার মিল রয়েছে।
১৭৯৩ সালে লর্ড কর্নওয়ালিস নির্দিষ্ট রাজস্ব পরিশোধের বিনিময়ে জমিদারদের জমির স্থায়ী মালিকানা প্রদান করে এই ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন। উদ্দীপকে বলা হয়েছে, জমিদারদের ভূমির অধিকার স্থায়ীভাবে দেওয়ার ফলে তারা নতুন পুঁজিপতি হয়ে ওঠে। পাঠ্যবই অনুসারে, চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের ফলে একটি অনুগত ও ধনী জমিদার শ্রেণি তৈরি হয় যারা ছিল ব্রিটিশ শাসনের প্রধান সমর্থক। তারা নির্দিষ্ট তারিখে সূর্যাস্তের আগে রাজস্ব জমা দিয়ে বংশপরম্পরায় জমির মালিকানা ভোগ করত। অন্যদিকে, এই ব্যবস্থার ফলে সাধারণ কৃষকরা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। উদ্দীপকের বক্তব্যের মতোই কৃষকরা জমিদারের করের চাপে পড়ে দারিদদ্র্যের শিকারে পরিণত হয়। কারণ জমিতে তাদের পুরনো স্বত্ব বিলুপ্ত হওয়ায় জমিদাররা যেকোনো সময় কৃষকদের উচ্ছেদ করতে পারতেন। নায়েব-গোমস্তাদের অত্যাচার ও করের বোঝার কারণে কৃষকদের অর্থনৈতিক মেরুদ্র ভেঙে পড়েছিল। তাই উভয় ক্ষেত্রেই বৈশিষ্ট্যগুলো চিরস্থায়ী বন্দোবস্তকেই নির্দেশ করে।
শিক্ষকের বক্তব্য-২ এ ইঙ্গিতকৃত যুদ্ধটি হলো ১৭৫৭ সালের ঐতিহাসিক 'পলাশীর যুদ্ধ'। এই যুদ্ধটি বাংলার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ইতিহাসে এক যুগান্তকারী ও নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল।
রাজনৈতিক প্রভাবের ক্ষেত্রে, এই যুদ্ধের মাধ্যমে বাংলায় স্বাধীন নবাবী শাসনের অবসান ঘটে এবং দীর্ঘ দুইশ বছরের ঔপনিবেশিক শাসনের পথ প্রশস্ত হয়। নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরাজয়ের পর মীরজাফরকে সিংহাসনে বসানো হলেও প্রকৃত ক্ষমতা ছিল রবার্ট ক্লাইভের হাতে। এর ফলে বাংলার সার্বভৌমত্ব ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হাতে চলে যায় এবং পর্যায়ক্রমে পুরো ভারতীয় উপমহাদেশে তাদের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। অর্থনৈতিক প্রভাব ছিল আরও ভয়াবহ। পলাশী যুদ্ধের পর ইংরেজরা বাংলায় একচেটিয়া ব্যবসায়ের অধিকার লাভ করে এবং দেশীয় বণিকরা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ে। কোম্পানি ও তাদের কর্মচারীরা বিনাশুল্কে বাণিজ্যের সুযোগ পেয়ে ব্যক্তিগতভাবে ফুলেফেঁপে ওঠে। এছাড়া যুদ্ধ ও রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগে বাংলার ধন-সম্পদ ইংল্যান্ডে পাচার হতে থাকে, যা ইংল্যান্ডের শিল্প বিপ্লবে ভূমিকা রাখলেও বাংলার অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দেয়।
পরিশেষে বলা যায়, পলাশীর যুদ্ধ কেবল একটি সামরিক সংঘর্ষ ছিল না, বরং এটি ছিল বাংলার স্বাধীনতা হারানোর সূচনা। রাজনৈতিকভাবে এটি ক্ষমতা হস্তান্তরের মাধ্যমে পরাধীনতার গ্লানি নিয়ে আসে এবং অর্থনৈতিকভাবে বাংলাকে সম্পদশালী থেকে একটি দরিদ্র ও শোষিত অঞ্চলে পরিণত করে।
দৃশ্যপট-১: মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারীরা "সাহসী লড়াকু" খেতাবের যোগ্য, কারণ তারা গোপন তথ্য সরবরাহ, খাদ্য ও চিকিৎসা সেবা পৌছে দেওয়া এবং অনেক সময় সরাসরি যুদ্ধে অংশ নিয়ে স্বাধীনতার সংগ্রামকে শক্তিশালী করেছেন।
দৃশ্যপট-২: মুক্তিযুদ্ধের সময় একটি জাতীয় চিহ্ন তৈরি হয়েছিল। সবুজ ক্ষেত্র দেশের শস্য-সমৃদ্ধ ভূমি ও স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষার প্রতীক, আর লাল চক্র জাতির ত্যাগ ও রক্তস্রোতকে প্রকাশ করে। এটি কেবল একটি চিহ্ন নয়; দেশের জনগণের ঐক্য, সংগ্রাম ও জাতির অহংকারের প্রতীক।
দৃশ্যপট-১ এ বর্ণিত "সাহসী লড়াকু” অংশগ্রহণকারীদের দ্বারা মূলত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে 'নারী' শ্রেণির বীরত্বপূর্ণ অবদানের প্রতিফলন ঘটেছে।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ছিল একটি সর্বাত্মক গণযুদ্ধ। এ যুদ্ধে স্বতঃস্ফূর্তভাবে দেশের আপামর সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেছিল। সাধারণ মানুষ নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয়, প্রয়োজনীয় তথ্য, খাবার ও ওষুধ দিয়ে সাহায্য করেছে। আবার নারীরাও সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেওয়াসহ নানাভাবে সহায়তা করেছেন। এই সাধারণ মানুষের নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগ ছাড়া মুক্তিযুদ্ধে জয়লাভ করা প্রায় অসম্ভব ছিল।
উদ্দীপকের দৃশ্যপট-১ এ দেখা যায়, অংশগ্রহণকারীরা গোপন তথ্য সরবরাহ, খাদ্য ও চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দেওয়া এবং সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে স্বাধীনতার সংগ্রামকে শক্তিশালী করেছে। এই কার্যাবলির সাথে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে বর্ণিত সাধারণ মানুষ ও নারীদের অবদানের হুবহু মিল রয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধে নারীদের ভূমিকা ছিল গৌরবোজ্জ্বল। ১৯৭১ সালের মার্চের প্রথম থেকেই দেশের প্রতিটি অঞ্চলে যে সংগ্রাম পরিষদ গঠন করা হয় তাতে নারীদের বিশেষত ছাত্রীদের অংশগ্রহণ ছিল স্বতঃস্ফূর্ত। তারা পুরুষের পাশাপাশি মিটিং মিছিল করতেন। তাছাড়া মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয় দিয়ে, সেবা দিয়ে, খাবার দিয়ে এবং প্রত্যক্ষ যুদ্ধে অংশ নেন। তারামন বিবি, ডা. সেতারা বেগম বীর প্রতীক উপাধি পান। প্রায় দু লক্ষ নারী পাকিস্তানি বাহিনী কর্তৃক নির্যাতিত হন যারা বীরাঙ্গনা খেতাব লাভ করেন।
দৃশ্যপট-২ এ উল্লিখিত জাতীয় প্রতীকটি হলো স্বাধীন বাংলাদেশের 'জাতীয় পতাকা', যা বাঙালি জাতির ঐক্য, সংগ্রাম এবং জাতীয় চেতনা বিকাশে অনন্য সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
১৯৭১ সালের ২রা মার্চ প্রথমবারের মতো জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে বাঙালি জাতির স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের আকাঙ্ক্ষা স্পষ্টভাবে রূপ লাভ করে। পতাকার সবুজ রং আমাদের শস্য-শ্যামল প্রকৃতি ও তারুণ্যের উদ্দীপনার প্রতীক, আর মাঝের লাল বৃত্তটি স্বাধীনতা সংগ্রামে আত্মদানকারী লাখো শহিদের রক্তের প্রতীক। এই পতাকা পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙার প্রেরণা জোগায়।
উদ্দীপকের দৃশ্যপট-২ এ বর্ণিত পতাকার সবুজ ক্ষেত্র এবং লাল চক্রের তাৎপর্য আমাদের জাতীয় পতাকার অন্তর্নিহিত অর্থকেই তুলে ধরে। মুক্তিযুদ্ধের সময় এই পতাকা মুক্তিকামী মানুষের মনে অসীম সাহস ও উদ্দীপনার সঞ্চার করেছিল। ২৩শে মার্চ সারা দেশে এই পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতি পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর প্রতি অনাস্থা জানিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে স্বাধীনতার পথে পা বাড়িয়েছিল।
একটি স্বাধীন দেশের সবচেয়ে বড় পরিচয় হলো তার নিজস্ব পতাকা। উদ্দীপকে যথার্থই বলা হয়েছে যে, এটি কেবল একটি সাধারণ খন্ড বস্ত্র বা চিহ্ন নয়; এটি আমাদের জাতির অহংকার। এই লাল-সবুজ পতাকাই আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের মহান ত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করে। তাই, স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় চেতনা, সংহতি ও দেশপ্রেম বিকাশে জাতীয় পতাকার গুরুত্ব অপরিসীম।
উদ্দীপকে মাহীনের ভ্রমণকৃত দেশটিতে প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতার সুস্পষ্ট চিত্র ফুটে উঠেছে।
আফ্রিকার উত্তর-পূর্ব অংশে নীল নদের অববাহিকায় গড়ে ওঠা মিশরীয় সভ্যতা প্রাচীন ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সভ্যতা। প্রাচীন মিশরীয়রা পরকালে বিশ্বাস করত এবং তারা মনে করত মৃত্যুর পরও আত্মা বেঁচে থাকে। তাই মৃতদেহকে পচন থেকে চিরকাল রক্ষা করার জন্য তারা বিশেষ কৌশলে 'মমি' তৈরি করত। আর এই মমিগুলোকে নিরাপদে সংরক্ষণের জন্যই তারা নদীর তীরে ত্রিভুজাকৃতির বিশাল সমাধি বা পিরামিড নির্মাণ করেছিল।
উদ্দীপকে আমরা দেখতে পাই, মাহীন এমন একটি দেশে ভ্রমণ করেছে যেখানে শাসকরা মৃতদেহকে পচনরোধ করে নদীর তীরে ত্রিভুজাকৃতি স্থাপনায় সংরক্ষণ করতেন। এই বর্ণনার সাথে প্রাচীন মিশরের ফারাওদের মমি তৈরি এবং তা সংরক্ষণে নীল নদের তীরে গিজার পিরামিড নির্মাণের সরাসরি মিল রয়েছে। ফারাওরা নিজেদের। মৃতদেহকে অবিনশ্বর রাখার জন্যই এই পদ্ধতি ব্যবহার করত। তাই নির্দ্বিধায় বলা যায়, মাহীনের দেখা দেশটিতে প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতারই প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে।
উদ্দীপকে শাহীর পঠিত প্রাচীন সভ্যতাটি হলো রোমান সভ্যতা, যার প্রণীত আইন ব্যবস্থা আধুনিক বিশ্বের বিচার ও আইন কাঠামোর মূল ভিত্তি হিসেবে গভীর প্রভাব ফেলেছে।
প্রাচীন রোমানরা ৫৪০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে ১২টি ব্রোঞ্জ পাতে সর্বপ্রথম তাদের আইনগুলো খোদাই করে লিপিবদ্ধ করেছিল। রোমান আইনকে মূলত তিনটি শাখায় ভাগ করা হয়েছিল: বেসামরিক আইন, জনগণের আইন এবং প্রাকৃতিক আইন। এই আইনের মূল দর্শন ছিল-আইনের চোখে সকল মানুষ সমান। রোমানরা নাগরিক অধিকার রক্ষা, সুষ্ঠু বিচার প্রদান এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে এই আইনের সফল প্রয়োগ করেছিল।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, শাহী এমন একটি সভ্যতা সম্পর্কে পড়ে যারা ন্যায় ও শৃঙ্খলাকে সমাজের ভিত্তি মনে করত এবং তাদের আইন নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় অনন্য ভূমিকা রেখেছিল। এটি রোমান সভ্যতার আইনি কাঠামোর সাথে সম্পূর্ণ সাদৃশ্যপূর্ণ, কারণ রোমানরাই প্রথম ফৌজদারি ও দেওয়ানি আইনের সুস্পষ্ট বিভাজন করেছিল। তাদের প্রণীত 'প্রাকৃতিক আইন' মূলত মানুষের জন্মগত ও মৌলিক অধিকার রক্ষার কথা বলে, যা আজকের আধুনিক রাষ্ট্রগুলোর সংবিধানেও গুরুত্বের সাথে দেখা যায়।
আধুনিক বিচারব্যবস্থায় রোমান আইনের এই প্রভাব অনস্বীকার্য। বর্তমান বিশ্বের প্রায় সব গণতান্ত্রিক দেশের আইনি কাঠামো, দেওয়ানি ও ফৌজদারি বিধিমালার বিভাজন এবং সবার জন্য সমান আইনি অধিকারের ধারণা মূলত রোমানদের কাছ থেকেই নেওয়া। যষ্ঠ শতকে সম্রাট জাস্টিনিয়ান প্রণীত আইনের সংকলন আধুনিক আইনশাস্ত্রের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। তাই বলা যায়, রোমান আইন আধুনিক বিচারব্যবস্থায় কেবল প্রভাবই ফেলেনি, বরং একটি আদর্শ মানদণ্ড হিসেবে কাজ করছে।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।