সিলেট বোর্ড ২০২৬
১. 'ক' রাষ্ট্রের জনগণ সরাসরি ভোট দিয়ে প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনায় অংশগ্রহণ করত। 'খ' রাষ্ট্রের নাগরিকদের ছোটোবেলা থেকেই কঠোর সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো এবং যুদ্ধকে জীবনের প্রধান উদ্দেশ্য মনে করা হতো।
উত্তর 'মেসোপটেমিয়া' শব্দের অর্থ হলো 'দুই নদীর মধ্যবর্তী ভূমি'।
উত্তর ইনকা সভ্যতার নারীরা লম্বা একখণ্ড কাপড় দিয়ে তৈরি বিশেষ ধরনের পোশাক পরিধান করতেন। এই পোশাকটি এমনভাবে তৈরি করা হতো যা কাঁধ থেকে শুরু করে পায়ের গোড়ালি পর্যন্ত তাদের পুরো শরীরকে ঢেকে রাখত। ইনকা নারীরা লম্বা চুল রেখে মাথার মাঝখানে সিঁথি করতেন এবং সব শ্রেণির নারীই গলায় হার পরতে পছন্দ করতেন, যা তাদের দৈনন্দিন সাজসজ্জা ও পোশাকের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল।
উত্তর

উদ্দীপকে বর্ণিত 'ক' রাষ্ট্রের শাসন ব্যবস্থার সাথে প্রাচীন গ্রিক সভ্যতার গণতান্ত্রিক নগররাষ্ট্র এথেন্সের হুবহু মিল পাওয়া যায়, যা বিশ্ব ইতিহাসে গণতন্ত্রের সূতিকাগার হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

প্রাচীন গ্রিসের এথেন্সেই সর্বপ্রথম রাজতন্ত্র ও অভিজাততন্ত্রের অবসান ঘটিয়ে জনগণের মতামতের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনার ব্যবস্থা গড়ে ওঠে। সোলন ও পেরিক্লিসের মতো মনীষীদের যুগান্তকারী সংস্কারের ফলে এথেন্সের সাধারণ নাগরিকরা প্রশাসন, আইন প্রণয়ন ও বিচার বিভাগে সরাসরি অংশগ্রহণের সুযোগ পায়। পেরিক্লিসের সময়কালকে তাই গ্রিক সভ্যতার 'স্বর্ণযুগ' বলা হয়। উদ্দীপকের 'ক' রাষ্ট্রে দেখা যায়, জনগণ সরাসরি ভোট দিয়ে প্রতিনিধি নির্বাচন করে রাষ্ট্র পরিচালনায় অংশ নিচ্ছে। এথেন্সের শাসন ব্যবস্থাও ঠিক এমনই ছিল, যেখানে নাগরিকরা স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের অধিকার রাখত। আধুনিক বিশ্বের কল্যাণ কামী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র কাঠামো ও নাগরিক অধিকারের ধারণাটি প্রাচীন এথেন্সের কাছেই গভীরভাবে ঋণী। এই রাজনৈতিক ও মানবিক উৎকর্ষের কারণেই এথেন্স ইতিহাসজুড়ে এত গুরুত্বপূর্ণ।

উত্তর

জন এফ. কেনেডির উক্তিটি উদ্দীপকের 'খ' রাষ্ট্র অর্থাৎ প্রাচীন গ্রিসের সামরিক নগররাষ্ট্র স্পার্টার যুদ্ধভিত্তিক সমাজব্যবস্থা ও তার পরিণতির সাপেক্ষে সম্পূর্ণ যথার্থ।

স্পার্টা নগররাষ্ট্রটি ছিল সম্পূর্ণ সমরতান্ত্রিক। স্পার্টানদের জীবনের একমাত্র লক্ষ্য ছিল সামরিক শক্তি সঞ্চয় ও যুদ্ধ পরিচালনা করা। মানবিক বা সাংস্কৃতিক উন্নয়নের দিকে তাদের কোনো নজর ছিল না। ছোটবেলা থেকেই নাগরিকদের কঠোর সামরিক শৃঙ্খলায় বড় করা হতো, যেন তারা রাষ্ট্রের নির্ভীক যোদ্ধা হতে পারে। উদ্দীপকের 'খ' রাষ্ট্রেও নাগরিকদের ছোটবেলা থেকে কঠোর সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় এবং যুদ্ধকে জীবনের প্রধান উদ্দেশ্য মানা হয়, যা নিখুঁত ভাবে স্পার্টার প্রতিচ্ছবি। স্পার্টার শাসকরা ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে সর্বদা যুদ্ধের প্রস্তুতি নিত এবং নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে এথেন্সের সাথে দীর্ঘ পেলোপনেসীয় যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছিল। যুদ্ধের এই উন্মাদনা স্পার্টাকে সামরিক ক্ষেত্রে সাময়িক শ্রেষ্ঠত্ব দিলেও, শেষ পর্যন্ত তা তাদের ধ্বংস ডেকে আনে। অবিরাম যুদ্ধ স্পার্টাকে আর্থিকভাবে পঙ্গু ও দুর্বল করে দেয়। যুদ্ধের অবসান না ঘটানোয় একসময় মেসিডোনিয়ার মতো বিদেশি শক্তির আক্রমণের মুখে স্পার্টার চরম পতন ঘটে। কেনেডির উক্তিটি তাই স্পার্টার ক্ষেত্রে অক্ষরে অক্ষরে।

সত্যি; কারণ কেবল যুদ্ধকে আঁকড়ে ধরে স্পার্টা সভ্যতার বিকাশই ব্যাহত করেনি পরিশেষে নিজেদের অস্তিত্বেরও অবসান ঘটিয়েছিল।

২.

দৃশ্যকল্প-১: জাহিদ নগর পরিকল্পনায় লেখাপড়া করে। সে জানতে পারে আরব সাগরের তীরে একটি প্রাচীন জনবসতি ছিল। তাদের সমাজ ব্যবস্থা ছিল মাতৃতান্ত্রিক। তারা যে স্থানগুলোতে বসবাস করত সেগুলো ছিল সুবিন্যস্ত।

দৃশ্যকল্প-২: শিহাব গবেষণার কাজে রসুলপুর গ্রামে গিয়ে জানতে পারে যে, গ্রামের মানুষ পারস্পরিক বন্ধুত্ব বজায় রাখতে কতক গুলো নিয়ম মেনে চলে। এই গ্রামে প্রত্যেক মানুষের সমান অধিকার ছিল। জীবন ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় বিষয় থেকে কেউ বঞ্চিত হতো না। আর নিয়ম গুলো ছিল সবার জন্য সমান।

উত্তর গ্রিক উপদ্বীপের প্রধান নগররাষ্ট্র এথেন্সকে কেন্দ্র করে প্রাচীন গ্রিসে যে সংস্কৃতির বিকাশ ঘটেছিল, ইতিহাসে তা হেলেনিক সংস্কৃতি নামে পরিচিত।
উত্তর প্রাচীন মিশরের অর্থনীতি ও সভ্যতার বিকাশ সম্পূর্ণ ভাবে নীল নদের ওপর নির্ভরশীল ছিল বলে একে 'নীল নদের দান' বলা হয়। নীল নদের উৎপত্তি আফ্রিকার লেক ভিক্টোরিয়া থেকে। প্রতি বছর বর্ষাকালে এই নদে বন্যা হতো এবং বন্যার পানি নেমে গেলে নদীর দুই তীরে উর্বর পলিমাটি জমে উঠত। এই উর্বর পলিমাটিতে মিশরীয়রা প্রচুর কৃষিজ ফসল উৎপাদন করত। নীল নদ না থাকলে মিশর বিস্তীর্ণ মরুভূমিতে পরিণত হতো, তাই ঐতিহাসিক হেরোডোটাস এই মন্তব্য করেছেন।
উত্তর

দৃশ্যকল্প-১-এ বর্ণিত জাহিদের পঠিত প্রাচীন জনবসতি টি ইতিহাসে সিন্ধু সভ্যতাকে নির্দেশ করে।

পাঞ্জাব থেকে আরব সাগর পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে গড়ে ওঠা সিন্ধু সভ্যতার মানুষ সমাজবদ্ধ পরিবেশে বসবাস করত। সমাজে একক পরিবার পদ্ধতি চালু ছিল এবং তাদের সমাজব্যবস্থা ছিল মূলত মাতৃতান্ত্রিক। সমাজ ধনী ও দরিদ্র এই দুই শ্রেণিতে বিভক্ত ছিল। নারীদের সামাজিক মর্যাদা উন্নত ছিল এবং তারা খুবই শৌখিন জীবন-যাপন করত। উদ্দীপকের জাহিদের পঠিত সভ্যতায় দেখা যায় যে, আরব সাগরের তীরে অবস্থিত এই জনবসতির সমাজ ব্যবস্থা ছিল মাতৃতান্ত্রিক এবং তাদের বসবাসের স্থান গুলো ছিল সুবিন্যস্ত। সিন্ধু সভ্যতার হরপ্পা ও মহেঞ্জোদারো নগরীর সামাজিক অবস্থাও ঠিক এমনই ছিল। সেখানে ধনী এবং দরিদ্র শ্রমিকদের জন্য আলাদা বাসস্থানের ব্যবস্থা ছিল। কৃষকরা গ্রামে বসবাস করে কৃষিকাজ করত এবং শহরের মানুষ উন্নত ও পরিপাটি নগরে বসবাস করত। মাতৃতান্ত্রিক সমাজ, সুবিন্যস্ত নগর এবং শ্রেণিবিন্যাসের এই বৈশিষ্ট্য গুলো সিন্ধু সভ্যতার সামাজিক অবস্থারই নিখুঁত প্রতিচ্ছবি।

উত্তর

দৃশ্যকল্প-২ এর নির্দেশিত বিষয়টি দ্বারা মূলত প্রাচীন রোমান সভ্যতার প্রণীত সার্বজনীন 'আইন ব্যবস্থা' বা আইনের শাসনকে বোঝানো হয়েছে, যার জন্য তারা চিরস্মরণীয়।

বিশ্বসভ্যতায় রোমানদের সর্বশ্রেষ্ঠ অবদান হচ্ছে আইন প্রণয়ন। রোমান আইনের মূল কথাই ছিল আইনের দৃষ্টিতে সকল মানুষ সমান। তারা সর্বপ্রথম দেওয়ানি, ফৌজদারি ও প্রাকৃতিক আইন সুষ্ঠুভাবে সংকলিত করে ব্রোঞ্জ পাতে খোদাই করেছিল। এই আইন জনগণের অধিকার রক্ষা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় অনন্য ভূমিকা রেখেছিল।

উদ্দীপকের শিহাব দেখে রসুলপুর গ্রামের মানুষ সমাজে শান্তি বজায় রাখতে কিছু নিয়ম মেনে চলে এবং সকলের সমান অধিকার নিশ্চিত করে। জীবনধারণের মৌলিক অধিকার থেকে কেউ বঞ্চিত হয় না। এই নিয়মতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রাচীন রোমান আইনেরই বাস্তব রূপ। রোমানদের 'প্রাকৃতিক আইন'-এ মূলত নাগরিকদের মৌলিক অধিকার রক্ষার কথাই সুস্পষ্ট ভাবে বলা হয়েছিল।

পরিশেষে বলা যায়, রোমান সভ্যতার এই আইনি কাঠামো কেবল অতীত নয়, আধুনিক বিচারব্যবস্থারও মূল ভিত্তি। আজকে বিশ্বের প্রায় সব গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নাগরিক অধিকার, আইনের শাসন এবং সমতার যে চর্চা আমরা দেখি, তা মূলত রোমানদেরই অবদান। মানুষের অধিকার রক্ষায় আইনের এই সার্বজনীন প্রয়োগের কারণেই মন্তব্যটি সম্পূর্ণ যথার্থ এবং রোমানরা বিশ্ব ইতিহাসে চিরস্মরণীয়।

৩. উদ্দীপকটি পড়ো এবং নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
উদ্দীপকের ছবি
উত্তর প্রাচীন বাংলার সেন বংশের প্রতাপশালী শাসক রাজা বল্লাল সেন মূলত তান্ত্রিক হিন্দুধর্মের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন।
উত্তর

প্রাচীন বাংলার পাল বংশের রাজা দ্বিতীয় মহীপালের শাসনকালে এগারো শতকে বরেন্দ্র অঞ্চলে সাধারণ মানুষের অংশ গ্রহণে যে বিদ্রোহ সংঘটিত হয়েছিল, ইতিহাসে তা 'কৈবর্ত বিদ্রোহ' নামে পরিচিত।

সাম্রাজ্যের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও দুর্বলতার সুযোগে সামন্তরা প্রকাশ্যে এই বিদ্রোহ ঘোষণা করে। এ বিদ্রোহের প্রধান নেতা ছিলেন কৈবর্ত বা মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের নেতা দিব্যোক বা দিব্য। বাংলার ইতিহাসে এটিই সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে সংঘটিত প্রথম বিদ্রোহ, যার মাধ্যমে দ্বিতীয় মহীপালকে হত্যা করে সামন্তরা বরেন্দ্র অঞ্চল দখল করে নিয়েছিল।

উত্তর

উদ্দীপকের 'তথ্য ছক-ক'-এ বর্ণিত তথ্যাবলি প্রাচীন বাংলার প্রথম স্বাধীন ও সার্বভৌম শাসক রাজা শশাঙ্কের রাজত্বকালের সাথে সম্পর্কিত।

তথ্য ছকে বলা হয়েছে উক্ত শাসক একজন মহাসামন্ত ছিলেন, যিনি বারাণসী পর্যন্ত রাজ্য বিস্তার করেছিলেন এবং শৈব ধর্মের উপাসক ছিলেন। পাঠ্যবই থেকে আমরা জানতে পারি, শশাঙ্ক গুপ্ত রাজাদের অধীনে একজন মহাসামন্ত ছিলেন এবং তিনি প্রবলভাবে শৈব ধর্মের অনুসারী ছিলেন। তাই এই ছকটি নিঃসন্দেহে রাজা শশাঙ্ককেই নির্দেশ করে।

শশাঙ্ক ষষ্ঠ শতকের শেষের দিকে গৌড় রাজ্যের অধিকার লাভ করে স্বাধীন রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর রাজধানী ছিল কর্ণসুবর্ণ। তিনি অত্যন্ত পরাক্রমশালী শাসক ছিলেন। তিনি নিজের রাজ্যসীমা বৃদ্ধি করে দণ্ডভুক্তি, উড়িষ্যার উৎকল ও কঙ্গোদ এবং বিহারের মগধ জয় করে পশ্চিমে বারাণসী পর্যন্ত সাম্রাজ্য বিস্তার করেছিলেন। উত্তর ভারতের আধিপত্য নিয়ে তিনি মালবরাজের সাথে মৈত্রী চুক্তি করে মৌখরি ও পুষ্যভূতি রাজাদের বিরুদ্ধে সফল যুদ্ধ পরিচালনা করেন। তাঁর এই বলিষ্ঠ রাজত্বকাল বাংলার ইতিহাসে এক স্বাধীন যুগের সূচনা করেছিল।

উত্তর

উদ্দীপকের 'তথ্য ছক-খ'-এ বর্ণিত তথ্যাবলি পাল বংশের শ্রেষ্ঠ রাজা ধর্মপালকে নির্দেশ করে; তবে আমি মনে করি, বৌদ্ধধর্ম পুনরুজ্জীবিত করার মূল কৃতিত্ব ধর্মপালের নয়, বরং তাঁর পুত্র দেবপালের।

তথ্য ছক-খ অনুযায়ী, এই শাসকের রাজত্বকাল ছিল ৭৮১-৮২১ খ্রিষ্টাব্দ, তিনি ভাগলপুরে মঠ নির্মাণ করেন এবং তাঁর উপাধি ছিল 'বিক্রমশীল'। এই সমস্ত বৈশিষ্ট্য রাজা ধর্মপালের সাথে মিলে যায়। তিনি তাঁর রাজত্বকালে বৌদ্ধধর্ম শিক্ষার জন্য পাহাড়পুরে 'সোমপুর মহাবিহার' ও ভাগলপুরে 'বিক্রমশীল বিহার-সহ প্রায় ৫০টি শিক্ষাকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

ধর্মপাল বৌদ্ধধর্মের প্রসারে ব্যাপক অবদান রাখলেও, উত্তর ভারতে প্রায় হারিয়ে যাওয়া বৌদ্ধধর্মকে পুনরুজ্জীবিত করার মূল কাজটি করেছিলেন তাঁর সুযোগ্য উত্তরসূরি রাজা দেবপাল। দেবপাল মগধের বৌদ্ধ মঠগুলোর সংস্কার করেন এবং নালন্দায় কয়েকটি মঠ নির্মাণ করেন। তাঁর পৃষ্ঠপোষকতায় নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় তৎকালীন এশিয়ায় বৌদ্ধ সংস্কৃতির প্রধান প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হয়েছিল। রাজা ধর্মপাল বৌদ্ধধর্মের বিস্তারে ও শিক্ষাকেন্দ্র প্রতিষ্ঠায় এক অসামান্য ভিত্তি রচনা করেছিলেন। কিন্তু নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে বৌদ্ধশাস্ত্রের চরম উৎকর্ষ সাধন এবং উত্তর ভারতে এই ধর্মের পুনরুজ্জীবন ঘটেছিল মূলত রাজা দেবপালের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায়। তাই তথ্যছক-খ 'এর ইঙ্গিতকৃত পাল রাজার (ধর্মপাল) কারণেই বৌদ্ধধর্ম পুনরুজ্জীবিত হয়েছিল-এই বক্তব্যটি পুরোপুরি সঠিক নয়।

৪.

দৃশ্যপট-১ : মাহমুদ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত অবস্থায় প্রশিক্ষণ নিয়ে সরাসরি মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেন।

দৃশ্যপট-২ : মাহমুদের বড়োভাই ফ্রান্সে থাকে। সেখান থাকা অবস্থায় মুক্তিযুদ্ধের জন্য অর্থ সংগ্রহ করে পাঠাতেন। তার বাবা ও বোন মুক্তিযোদ্ধাদের খাবার ও অন্যান্য সেবা প্রদানসহ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত গড়ে তোলতে সহায়তা করেন।

উত্তর 'চরমপত্র' হলো এ আর আখতার মুকুল প্রচারিত স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে সম্প্রচারিত একটি অনুষ্ঠান।
উত্তর ১৯৭০ সালের নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জনকারী দল আওয়ামী লীগের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরে পাকিস্তানি সামরিক জান্তার অনীহা ও টালবাহানার প্রতিবাদে মূলত অসহযোগ আন্দোলন সংঘটিত হয়েছিল। নির্বাচনে বিজয়ের পর আওয়ামী লীগের সরকার গঠন আইন সম্মত হলেও ইয়াহিয়া খান ষড়যন্ত্র করে জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত ঘোষণা করেন। এর প্রতিবাদে শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সারা দেশের মানুষ বিক্ষোভে ফেটে পড়ে এবং স্কুল-কলেজ, অফিস-আদালত বন্ধ করে দিয়ে পাকিস্তানি শাসকদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলন গড়ে তোলে।
উত্তর

দৃশ্যপট-১ এ মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী 'ছাত্রসমাজ' বা 'ছাত্র-ছাত্রী' শ্রেণির গৌরবময় অবদানকে নির্দেশ করা হয়েছে।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম একটি গণযুদ্ধ হলেও এতে ছাত্র সমাজের ভূমিকা ছিল সবচেয়ে অগ্রগণ্য। মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ কারী যোদ্ধাদের মধ্যে সংখ্যা গরিষ্ঠ ছিল এই ছাত্ররা। তারা প্রাথমিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার পাশাপাশি দেশের ভেতরে ও ভারতে গিয়ে সশস্ত্র যুদ্ধ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে এবং সরাসরি রণাঙ্গনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে অসীম সাহসিকতার সাথে যুদ্ধ করে।
উদ্দীপকের দৃশ্যপট-১ এ আমরা দেখতে পাই, মাহমুদ রাজশাহী

বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত অবস্থায় মুক্তিযুদ্ধের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে এবং সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। পাঠ্যবইয়ের আলোকে বলা যায়, মাহমুদের এই সাহসী পদক্ষেপ মূলত মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশের আপামর ছাত্র সমাজের অকুতোভয় ভূমিকারই প্রতিচ্ছবি। সে সময়ের তরুণ শিক্ষার্থীরা খাতা-কলম ফেলে এভাবেই অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছিল বলেই স্বাধীনতা সংগ্রাম এতো তীব্রতর হয়েছিল।

উত্তর

"মাহমুদের পরিবারের সদস্যদের মতো ব্যক্তিবর্গের ভূমিকার কারণেই আমাদের স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে"--উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ, কারণ এখানে সাধারণ জনগণ, নারী ও প্রবাসী বাঙালিদের অসামান্য অবদানের কথা বলা হয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধ ছিল একটি সর্বাত্মক জনযুদ্ধ, যেখানে আপামর জনসাধারণের অংশগ্রহণ ছিল স্বতঃস্ফূর্ত। সাধারণ মানুষ ও নারীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয়, তথ্য, খাবার ও চিকিৎসা দিয়ে সাহায্য করেছেন। পাশাপাশি প্রবাসীরাও আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায় ও তহবিল গঠনের মাধ্যমে স্বাধীনতার সংগ্রামকে বেগবান করেছেন।

উদ্দীপকের দৃশ্যপট-২ এ মাহমুদের প্রবাসী ভাই বিদেশ থেকে অর্থ সংগ্রহ করেছেন এবং তার বাবা ও বোন মুক্তিযোদ্ধাদের খাবার ও অন্যান্য সেবা প্রদান করে জনমত গড়ে তুলেছেন। তাদের এই কার্যক্রম পাঠ্যবইয়ে উল্লিখিত সাধারণ জনগণ ও নারীদের নিঃস্বার্থ অবদানের সাথে হুবহু মিলে যায়, যাঁরা পর্দার আড়ালে থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের পরম নির্ভরতার প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন।

পরিশেষে বলা যায়, রণাঙ্গনের যোদ্ধাদের পাশাপাশি এই সাধারণ মানুষ, নারী ও প্রবাসীদের সম্মিলিত প্রয়াস ছাড়া এত বড় যুদ্ধে জয়লাভ অসম্ভব ছিল। তাদের জুগিয়ে যাওয়া অর্থ, সাহস ও সেবাই মুক্তিযোদ্ধাদের মনোবল অটুট রেখেছিল। তাই সর্বস্তরের মানুষের এই অসামান্য আত্মত্যাগ ও সহযোগিতার ফলেই বাংলাদেশের চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়েছে।

৫. নাজমুল খুব অল্প বয়সে 'ক' প্রদেশের সিংহাসনে বসেন। সিংহাসনে বসে তাকে পারিবারিক, নিকট আত্মীয় ও বিভিন্ন অঞ্চলের বণিক শ্রেণির ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করতে হয়। ত্রিমুখী ষড়যন্ত্রের ফলে নাজমুল এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে পরাজিত হয়। পরবর্তীতে স্বাধীনচেতা মিনহাজ বিদেশি বণিক শ্রেণির বিরুদ্ধে শক্তি পরীক্ষায় অবতীর্ণ হয়ে দুর্ভাগ্যক্রমে ব্যর্থ হন এবং 'ক' রাষ্ট্রের সার্বভৌত্ব উদ্ধারের সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যায়।
উত্তর দিনেমার বা ডেনিশরা ইউরোপের ডেনমার্ক নামক দেশের অধিবাসী ছিলেন।
উত্তর ১৭৬৫ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি দেওয়ানি লাভের পর বাংলায় যে অভিনব ও অদ্ভুত শাসনব্যবস্থা চালু করে, ইতিহাসে তা 'দ্বৈত শাসন' নামে পরিচিত। এই ব্যবস্থায় শাসন কাঠামো 'মূলত দুটি ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। একদিকে কোম্পানি লাভ করে দায়িত্বহীন ক্ষমতা, অর্থাৎ তারা শুধু রাজস্ব বা খাজনা আদায়ের অধিকার পায়। অন্যদিকে বাংলার নবাব পরিণত হন ক্ষমতাহীন শাসকে, যার ওপর রাজ্য পরিচালনার সব দায়িত্ব থাকলেও কোনো অর্থ বা প্রকৃত ক্ষমতা ছিল না। ফলে রাজ্যে চরম প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়।
উত্তর

উদ্দীপকে উল্লিখিত নাজমুলের যুদ্ধটি বাংলার ইতিহাসের অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ 'পলাশীর যুদ্ধকে' (১৭৫৭) স্মরণ করিয়ে দেয়, যেখানে নবাব সিরাজউদ্দৌলা ত্রিমুখী ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে পরাজিত হয়েছিলেন।

পলাশীর যুদ্ধের পেছনে অন্যতম প্রধান কারণ ছিল তরুণ নবাব সিরাজউদ্দৌলার প্রতি ইংরেজদের চরম ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ ও অবাধ্যতা। নবাব সিংহাসনে বসার পর নিয়ম অনুযায়ী ইংরেজরা তাকে কোনো উপঢৌকন পাঠায়নি এবং বাণিজ্যের ছাড়পত্র 'দস্তক'-এর চরম অপব্যবহার করতে থাকে। এছাড়া নবাবের নিষেধ অমান্য করে কলকাতায় দুর্গ নির্মাণ অব্যাহত রাখা এবং নবাবের অবাধ্য প্রজাদের আশ্রয় দেওয়াই ছিল যুদ্ধের প্রধান কারণ।

উদ্দীপকের নাজমুল খুব অল্প বয়সে সিংহাসনে বসে পারিবারিক ও বণিকদের ষড়যন্ত্রের কারণে যুদ্ধে পরাজিত হন। একইভাবে, নবাব সিরাজউদ্দৌলাও মাত্র ২২ বছর বয়সে সিংহাসনে বসে বড় খালা ঘসেটি বেগম ও সেনাপতি মীরজাফরসহ আপনজনদের বিশ্বাস ঘাকতার সম্মুখীন হন। এর সাথে যুক্ত হয়েছিল উমিচাঁদ, জগৎ শেঠের মতো বণিকশ্রেণি এবং ধূর্ত ইংরেজদের চক্রান্ত। ইংরেজদের এই অবাধ্যতা এবং প্রাসাদ ষড়যন্ত্রই মূলত পলাশীর যুদ্ধের প্রেক্ষাপট তৈরি করেছিল।

উত্তর

উদ্দীপকে উল্লিখিত স্বাধীনচেতা মিনহাজের ব্যথতা বলতে মূলত ১৭৬৪ সালের ঐতিহাসিক বক্সারের যুদ্ধে বাংলার নবাব মীর কাশিমের পরাজয়কে বোঝানো হয়েছে, যা বাংলায় ইংরেজ বণিকদের আধিপত্য সম্পূর্ণ পাকাপোক্ত করে।

মীর কাশিম ছিলেন একজন দূরদর্শী শাসক, যিনি চেয়েছিলেন ইংরেজদের অন্যায্য বাণিজ্যিক সুবিধা ও দস্তকের অপব্যবহার বন্ধ করে বাংলার অর্থনীতি ও প্রশাসনকে প্রভাবমুক্ত রাখতে। কিন্তু ইংরেজরা ক্ষুব্ধ হয়ে যুদ্ধ ঘোষণা করলে তিনি দিল্লির সম্রাট শাহ আলম ও অযোধ্যার নবাব সুজাউদ্দৌলার সাথে সম্মিলিত বাহিনী গঠন করেও মেজর মনরোর কাছে পরাজিত হন।

উদ্দীপকের মিনহাজ স্বাধীনচেতা শাসক হিসেবে বিদেশি বণিকদের বিরুদ্ধে শক্তি পরীক্ষায় অবতীর্ণ হয়ে যেমন ব্যর্থ হন, ইতিহাসেও মীর কাশিম একইভাবে বাংলার সার্বভৌমত্ব রক্ষার শেষ চেষ্টা হিসেবে বক্সারের যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছিলেন। তাঁর এই পরাজয়ের মাধ্যমেই বাংলার স্বাধীনতা উদ্ধারের সর্বশেষ সম্ভাবনাটুকু চিরতরে ধূলিসাৎ হয়ে যায়।

মীর কাশিমের এই ব্যর্থতার ফলে ইংরেজরা সমগ্র উপমহাদেশে অপ্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিতে পরিণত হয়। এর পরপরই ১৭৬৫ সালে রবার্ট ক্লাইভ আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দেওয়ানি লাভকরেন, যার ফলে কোম্পানি আইনগত ভাবে অসীম ক্ষমতার অধিকারী হয়। এভাবেই বক্সারের যুদ্ধে মীর কাশিমের পতনের মধ্য দিয়ে বাংলায় সরাসরি বিদেশি ঔপনিবেশিক শাসনের ভিত্তি সুদৃঢ় হয় ও তাদের আধিপত্য বিস্তারের চূড়ান্ত সুযোগ তৈরি হয়।

৬. জনাব 'ক' একজন সমাজ সচেতন ব্যক্তি। সমাজের বিভিন্ন অনাচার ও কুসংস্কারের বিরোধিতা করেন। বিশেষ করে নারীদের ২য় বিবাহ চালু করার বিষয়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। অপরদিকে, জনাব 'খ' দানশীল, পরোপকারী, সততা ও মানব প্রেমের জন্য সবার কাছে শ্রদ্ধার পাত্র ছিলেন।
উত্তর "The Spirit of Islam" গ্রন্থের লেখক হলেন সৈয়দ আমির আলি।
উত্তর

বাঙালি মুসলমানদের আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে তাদের সার্বিক কল্যাণের উদ্দেশ্যে নওয়াব আবদুল লতিফ মোহামেডান লিটারারি সোসাইটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

ঊনবিংশ শতাব্দীতে বাংলার মুসলমান সমাজ আধুনিক ও পাশ্চাত্য শিক্ষা থেকে অনেক পিছিয়ে ছিল। তাই মুসলমান সম্প্রদায়ের উন্নতি ও অগ্রগতির জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ, ইংরেজি শিক্ষায় তাদের আগ্রহী করে তোলা এবং ইংরেজ সরকারের সাথে মুসলমানদের বিদ্বেষ দূর করে সুসম্পর্ক স্থাপনের লক্ষ্যেই ১৮৬৩ সালে কোলকাতায় তিনি এই সোসাইটি বা মুসলিম সাহিত্য সমাজ প্রতিষ্ঠা করেন।

উত্তর

উদ্দীপকের জনাব 'ক'-এর কর্মকাণ্ডের সাথে বাংলার নবজাগরণের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মনীষী ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের সমাজ সংস্কারমূলক কর্মকাণ্ডের হুবহু মিল রয়েছে।

বিদ্যাসাগর ছিলেন উনিশ শতকের বাংলার একজন প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ও সফল সমাজ-সংস্কারক। হিন্দু সমাজে প্রচলিত নানা অমানবিক প্রথা ও কুসংস্কার দূর করে একটি সুস্থ সমাজ গঠনে তিনি আজীবন নিরলস সংগ্রাম করে গেছেন।

উদ্দীপকে দেখা যায়, জনাব 'ক' সমাজের অনাচার ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে নারীদের দ্বিতীয় বিবাহ বা বিধবা বিবাহ চালুর ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। পাঠ্যবইয়ের ইতিহাসেও আমরা দেখি, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর হিন্দু সমাজের চরম রক্ষণশীলতাকে উপেক্ষা করে কন্যাশিশু হত্যা ও বহুবিবাহ প্রথার বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলেন। বিশেষ করে, বাল্যবিধবাদের করুণ দুর্দশা মোচনের জন্য তিনি হিন্দু সমাজে বিধবা বিবাহের পক্ষে তীব্র জনমত তৈরি করেন। তাঁরই একক ও নিরলস প্রচেষ্টায় ১৮৫৬ সালে ব্রিটিশ সরকার বিধবা বিবাহ আইন পাস করতে বাধ্য হয়। সুতরাং, সমাজ সংস্কারে বিদ্যাসাগরের এই যুগান্তকারী অবদানই উদ্দীপকের জনাব 'ক'-এর মাঝে প্রতিফলিত হয়েছে।

উত্তর

উদ্দীপকের জনাব 'খ'-এর দানশীলতা ও পরোপকারের সাথে বাংলার প্রখ্যাত শিক্ষানুরাগী ও দানবীর হাজী মুহম্মদ মহসীনের মিল রয়েছে।

হাজী মুহম্মদ মহসীন ছিলেন অগাধ পাণ্ডিত্যের অধিকারী, পরোপকারী এবং মানবপ্রেমিক এক মহাপুরুষ। তিনি তাঁর বিপুল উত্তরাধিকারলব্ধ সম্পত্তি নিজের ভোগের জন্য নয়, বরং বাংলার পিছিয়ে পড়া মানুষের শিক্ষা, চিকিৎসা ও জনহিতকর কাজে অকাতরে বিলিয়ে দিয়েছিলেন।

উদ্দীপকের জনাব 'খ' যেমন মানবপ্রেম ও দানশীলতার জন্য সবার কাছে শ্রদ্ধার পাত্র, হাজী মহসীনও ঠিক তেমনি ছিলেন। তিনি বোনের বিশাল সম্পত্তির মালিক হয়েও অত্যন্ত সাধারণ জীবন যাপন করতেন। ঐ সময়ে বাংলার মুসলমানদের চরম আর্থিক সংকটের কারণে লেখাপড়ার সুযোগ ছিল না। এই দুর্দিনে তিনি শিক্ষা বিস্তারের জন্য হুগলীতে একটি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন এবং ঢাকা চট্টগ্রাম ও যশোরের বিভিন্ন মাদ্রাসার উন্নয়নে প্রচুর অর্থ দান করেন
১৮০৬ সালে তিনি তাঁর সমস্ত সম্পত্তি নিয়ে 'মহসীন ফান্ড' গঠন করেন। এই ফান্ডের অর্থায়নে পরবর্তীতে হুগলী মহসীন ফান্ড, দাতব্য চিকিৎসালয় এবং বিভিন্ন স্থানে মাদ্রাসা ও ছাত্রাবাস স্থাপিত হয়। মহসীন ফান্ডের বৃত্তির অর্থেই সৈয়দ আমির আলির মতো হাজার হাজার মুসলমান তরুণ উচ্চশিক্ষা লাভের সুযোগ পেয়েছিল। বস্তুত, তাঁর এই নিঃস্বার্থ দানশীলতা এবং শিক্ষা বিস্তারে যুগান্তকারী উদ্যোগই বাঙালি মুসলমানদের আধুনিক শিক্ষার পথ সুগম করেছিল, যা চিরস্মরণীয়।

৭.

ঘটনা-১: 'ক' নামক একজন ব্যক্তি সোনারগাঁ ঘুরতে গিয়ে জানতে পারে ১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দে এখানকার এক শাসনকর্তার মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুর পর এক কর্মচারী তখন সিংহাসনে বসেন। এভাবে সূচনা হয় বাংলার স্বাধীন একটি যুগের।

ঘটনা-২: শাসক হিসেবে জনাব 'খ' এর নাম ছড়িয়ে পড়েছিল সবখানে। তিনি তার রাজ্যকে শক্তিশালী ও সুদৃঢ় করতে সচেষ্ট ছিলেন। ব্যবসা বাণিজ্যের সুবিধার কথা চিন্তা করে তিনি রাজধানীকে নদীর তীরবর্তী অঞ্চলে স্থানান্তর করেন। তিনি রাজ্য সম্প্রসারণের জন্য অশ্বারোহী বাহিনীর পাশাপাশি নৌবাহিনীর গোড়াপত্তন করেন।

উত্তর মুঘল আমলে সাম্রাজ্যের অন্তর্গত প্রশাসনিক প্রদেশ গুলো 'সুবা' নামে পরিচিত ছিল।
উত্তর

ষোলো শতকের মাঝামাঝি থেকে সতেরো শতকের মধ্যবর্তী সময়ে বাংলায় মুঘলদের আধিপত্য অস্বীকার করে যে স্বাধীন জমিদারগণ সংগ্রাম করেছিলেন, ইতিহাসে তারাই 'বারোভূঁইয়া' নামে পরিচিত।

সম্রাট আকবর সমগ্র বাংলায় মুঘল অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চাইলে বড় জমিদারগণ তা মেনে নেননি। নিজেদের শক্তিশালী সৈন্য ও নৌবহর নিয়ে স্বাধীনতা রক্ষার জন্য ঈসা খান, কেদার রায়ের মতো জমিদাররা ঐক্যবদ্ধ হয়ে মুঘলদের বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরোধ গড়তেন।

উত্তর

ঘটনা-১ এ বর্ণিত শাসক ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ ১৩৩৮ খ্রিষ্টাব্দে সোনারগাঁয়ের ক্ষমতা দখল করার মাধ্যমে মধ্যযুগে বাংলার স্বাধীন সুলতানি যুগের সফল সূচনা করেন।

দিল্লির সুলতান মুহম্মদ বিন তুঘলক বাংলাকে লখনৌতি, সাতগাঁও ও সোনারগাঁ-এই তিনটি প্রশাসনিক ইউনিটে ভাগ করেছিলেন। ১৩৩৮ খ্রিষ্টাব্দে সোনারগাঁয়ের শাসনকর্তা বাহরাম খানের মৃত্যু হলে তার বর্মরক্ষক ফখরা স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। তিনি 'ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ' নাম নিয়ে সোনারগাঁয়ের সিংহাসনে বসেন। পরবর্তীতে দিল্লির শাসনকর্তারা আক্রমণ করলেও তিনি তা দৃঢ়তার সাথে প্রতিহত করেন।

উদ্দীপকের ঘটনা-১ এ সোনারগাঁয়ের শাসনকর্তার মৃত্যুর পর কর্মচারীর ক্ষমতা দখলের বিষয়টি ফখরুদ্দিন মুবারক শাহের উত্থানকে নির্দেশ করে। দিল্লির সুলতানের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে তিনি নিজ নামে মুদ্রা প্রচলন করেন এবং স্বাধীন রাজ্যের সীমানা বিস্তৃত করেন। ফখরুদ্দিন সর্বপ্রথম চট্টগ্রাম জয় করে রাজপথ তৈরি করেন। দিল্লির প্রতিনিধিরা তাকে দমনের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। এভাবেই তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে দুইশ বছরের স্বাধীন সুলতানি যুগের গোড়াপত্তন ঘটেছিল।

উত্তর

হ্যাঁ, ঘটনা-২ এ বর্ণিত শাসক সুলতান গিয়াসউদ্দিন ইওজ খলজি কেবল একজন সুদক্ষ প্রশাসক ও সেনাপতিই ছিলেন না, তিনি শিল্প ও সাহিত্যের একনিষ্ঠ পৃষ্ঠপোষকও ছিলেন।

মুসলিম রাজ্যকে সুদৃঢ় করতে তিনি লখনৌতিতে রাজধানী স্থানান্তর করেন। নদীমাতৃক বাংলায় শুধু অশ্বারোহী বাহিনী যথেষ্ট নয় বুঝে তিনি নৌবাহিনীর গোড়াপত্তন করেন। রাজ্যের প্রতিরক্ষায় পরিখা, বন্যা রোধে খাল ও সেতু নির্মাণ করে তিনি প্রজাহিতৈষী শাসকের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।

উদ্দীপকের ঘটনা-২ এ জনাব 'খ' এর রাজধানী নদীর তীরে স্থানান্তর, নৌবাহিনীর গঠন এবং সেতু ও খাল নির্মাণের কথা বলা হয়েছে, যা সুলতান ইওজ খলজির ঐতিহাসিক কার্যাবলির হুবহু প্রতিফলন। সামরিক ও প্রশাসনিক কাঠামোর পাশাপাশি তিনি রাজ্যের ভৌত অবকাঠামো উন্নয়নে অসামান্য অবদান রেখেছিলেন। প্রশাসনিক যোগ্যতার বাইরে ইওজ খলজি শিল্প-সংস্কৃতিতেও অনন্য অবদান রাখেন। তার পৃষ্ঠপোষকতায় গৌড়ের জুমা মসজিদসহ বেশ কয়েকটি সুরম্য মসজিদ নির্মিত হয়। তার আমন্ত্রণে পারস্য থেকে বহু জ্ঞানী ব্যক্তি ও সুফি সাধক বাংলায় আসেন। তাদের আগমনে লখনৌতি সে যুগে শিক্ষা ও সংস্কৃতির অন্যতম প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়েছিল। তাই তিনি যে শিল্প-সাহিত্যের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন, তা শতভাগ যথার্থ।

৮. উদ্দীপকটি পড়ো এবং নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
উদ্দীপকের ছবি
উত্তর ১৭৫৭ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি নবাব সিরাজউদ্দৌলা ও ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মধ্যে যে সন্ধি স্বাক্ষরিত হয়, তা আলীনগর সন্ধি নামে পরিচিত। এ সন্ধিতে কোম্পানিকে পুরোনো বাণিজ্যিক সুবিধা ফিরিয়ে দেওয়া হয় এবং কলকাতা সুরক্ষিত করার অধিকার দেওয়া হয়।
উত্তর

মীর কাসিম স্বাধীনভাবে শাসন পরিচালনা ও রাজস্বব্যবস্থা সংস্কারের উদ্যোগ নিলে ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সঙ্গে তাঁর বিরোধ সৃষ্টি হয়। কোম্পানির কর্মচারীরা দস্তকের অপব্যবহার করে শুল্কমুক্ত ব্যক্তিগত ব্যবসা করত। বৈষম্য দূর করতে মীর কাসিম সব ব্যবসায়ীর অভ্যন্তরীণ শুল্ক তুলে দিলে ইংরেজরা ক্ষুব্ধ হয় এবং ১৭৬৩ সালে সংঘর্ষ শুরু হয়।

পরাজিত মীর কাসিম অযোধ্যার নবাব সুজাউদ্দৌলা ও মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলমের সঙ্গে জোট গঠন করেন। এই সম্মিলিত বাহিনীর সঙ্গে ইংরেজ সেনাপতি হেক্টর মনরোর বাহিনীর সংঘর্ষের মধ্য দিয়েই ১৭৬৪ সালের বক্সারের যুদ্ধের পটভূমি তৈরি হয়।

উত্তর

তথ্যছক-১ ১৭৬৫ সালে লর্ড ক্লাইভ প্রবর্তিত বাংলার দ্বৈত শাসনকে নির্দেশ করে।

বক্সারের যুদ্ধে জয়ের পর ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলমের কাছ থেকে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দেওয়ানি বা রাজস্ব আদায়ের অধিকার লাভ করে। অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা ও বিচারসহ নিজামতের দায়িত্ব নামমাত্র নবাবের হাতে রাখা হয়। বাস্তবে কোম্পানি ক্ষমতা ভোগ করলেও প্রশাসনিক দায় নবাবের ওপর চাপায়। একই অঞ্চলে কোম্পানি ও নবাবের এই দুই ধরনের কর্তৃত্বই দ্বৈত শাসন নামে পরিচিত।

উত্তর

তথ্যছক-২ ১৭৯৩ সালে লর্ড কর্নওয়ালিস প্রবর্তিত চিরস্থায়ী বন্দোবস্তকে নির্দেশ করে। এ ব্যবস্থায় জমিদারদের জমির স্থায়ী মালিক হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে সরকারের প্রাপ্য রাজস্ব চিরদিনের জন্য নির্দিষ্ট করা হয়।

এর সুবিধা ছিল—সরকার নির্দিষ্ট সময়ে স্থির রাজস্ব পাওয়ার নিশ্চয়তা লাভ করে, একটি অনুগত জমিদার শ্রেণি গড়ে ওঠে এবং জমিদারদের কৃষির উন্নয়নে বিনিয়োগের প্রেরণা সৃষ্টি হওয়ার কথা ছিল।

কিন্তু বাস্তবে অসুবিধাই ছিল বেশি। জমিদাররা কৃষকের কাছ থেকে ইচ্ছামতো খাজনা আদায় ও অত্যাচার করত; কৃষকের জমির অধিকার স্বীকৃত হয়নি। বহু জমিদার শহরে বসবাস করায় মধ্যস্বত্বভোগী শ্রেণি তৈরি হয়। নির্ধারিত সময়ে রাজস্ব দিতে না পারলে জমিদারি নিলামে উঠত। উৎপাদন ও মূল্যের বৃদ্ধি থেকেও সরকার বাড়তি রাজস্ব পেত না।

অতএব চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত রাজস্ব আদায়ে সাময়িক স্থিতি আনলেও কৃষকশোষণ, অনুপস্থিত জমিদারি ও গ্রামীণ দারিদ্র্য বাড়িয়ে বাংলার সমাজ ও অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করে।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।