যশোর বোর্ড ২০২৬
১. বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক আলিশা। প্যারিস অলিম্পিক ২০২৪ এর পদক প্রাপ্তিতে প্রথম স্থান অধিকার করে যুক্তরাষ্ট্র। এতে আলিশা গর্ববোধ করে।
উত্তর প্রাচীন গ্রিসের পেলোপনেসীয় যুদ্ধে স্পার্টার বিরুদ্ধে এথেন্স তার মিত্র রাষ্ট্র গুলোকে নিয়ে যে জোট গঠন করেছিল, তার নাম ছিল 'ডেলিয়ান লীগ'।
উত্তর

আধুনিক বিশ্ব প্রধানত আধুনিক আইনি ব্যবস্থার পরিচালনার রূপরেখার জন্য রোমান সভ্যতার কাছে গভীর ভাবে ঋণী।

বিশ্বসভ্যতায় রোমানদের সর্বশ্রেষ্ঠ অবদান হচ্ছে তাদের আইন প্রণয়ন। তারা সর্বপ্রথম দেওয়ানি ও ফৌজদারি আইনকে সুষ্ঠুভাবে লিপিবদ্ধ করে। রোমানদের প্রণীত বেসামরিক আইন, জনগণের আইন এবং প্রাকৃতিক আইনের ওপর ভিত্তি করেই আধুনিক বিশ্বের প্রায় সকল গণতান্ত্রিক দেশের আইনি ও বিচার ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে।

উত্তর

উদ্দীপকের তথ্যটি আমাদের প্রাচীন 'গ্রিক সভ্যতা' সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দেয়।

প্রাচীন গ্রিসের অধিবাসীদের শরীরচর্চা ও খেলাধুলার প্রতি যথেষ্ট আগ্রহ ছিল। দেবতা জিউসের সম্মানে প্রতি চার বছর পরপর গ্রিসে অলিম্পিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হতো। এই প্রতিযোগিতায় দৌড়ঝাঁপ, মল্লযুদ্ধ, মুষ্টিযুদ্ধ, চাকা নিক্ষেপ ইত্যাদি খেলা থাকত এবং বিজয়ীদের জলপাই পাতার তৈরি মালা দিয়ে পুরস্কৃত করা হতো। নগররাষ্ট্র গুলোর মধ্যে শত্রুতার বদলে সৌহার্দ্যপূর্ণ মনোভাব গড়ে তোলাই ছিল এর মূল লক্ষ্য।

উদ্দীপকে আলিশার গর্ববোধের কারণ হিসেবে 'প্যারিস অলিম্পিক ২০২৪'-এর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বর্তমানে বিশ্বে যে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক গেমস অত্যন্ত জাঁকজমকের সাথে অনুষ্ঠিত হয়, তার শেকড় প্রোথিত রয়েছে প্রাচীন গ্রিক সভ্যতায়। গ্রিকদের শুরু করা সেই প্রাচীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আদলেই আজকের আধুনিক বিশ্ব অলিম্পিক গেমস আয়োজন করে আসছে। তাই, অলিম্পিকের এই সরাসরি যোগসূত্রের কারণেই বলা যায়, উদ্দীপকে গ্রিক সভ্যতার চিত্র ফুটে উঠেছে।

উত্তর

গ্রিক সভ্যতার অন্যতম শ্রেষ্ঠ এবং স্থায়ী অবদান হলো তাদের দর্শনচর্চা, যা প্রাচীন ও আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানের মূল ভিত্তি হিসেবে আজও স্বীকৃত।

পৃথিবী কীভাবে সৃষ্টি হয়েছে এবং এর প্রাত্যহিক পরিবর্তন কীভাবে ঘটছে-প্রাকৃতিক এসব বিষয় নিয়ে কৌতূহল ও যুক্তিনির্ভর ভাবনা থেকেই প্রাচীন গ্রিসে দর্শনের সূত্রপাত হয়। থালেস ছিলেন গ্রিসের প্রথম দিককার দার্শনিক, যিনি সর্বপ্রথম সূর্যগ্রহণের প্রাকৃতিক কারণ ব্যাখ্যা করেছিলেন। এরপর সেখানে যুক্তিবাদী 'সফিস্ট' দার্শনিকদের আবির্ভাব ঘটে, যাঁরা বিশ্বাস করতেন চূড়ান্ত সত্য বলতে কিছু নেই। গ্রিক দর্শনের চরম উৎকর্ষ সাধিত হয় বিশ্ববিখ্যাত তিন দার্শনিকের হাত ধরে। সক্রেটিস ছিলেন দার্শনিকদের মধ্যে সবচেয়ে খ্যাতিমান, যাঁর শিক্ষার মূল লক্ষ্য ছিল আদর্শ রাষ্ট্র গঠন ও সৎ নাগরিক তৈরি করা। তিনি অন্যায় শাসনের প্রতিবাদ করার শিক্ষাও দিয়েছিলেন। তাঁর যোগ্য শিষ্য প্লেটো দর্শনশাস্ত্রকে চরম উন্নতির দিকে এগিয়ে নেন। পরবর্তীতে - প্লেটোর শিষ্য অ্যারিস্টটলও দর্শনের জগতে বিশাল অবদান রাখেন।

পরিশেষে বলা যায়, গ্রিক দার্শনিকদের এই যুক্তিবাদী, চিন্তাধারা মানব সমাজকে অন্ধবিশ্বাস থেকে বের করে সত্য অনুসন্ধানে উদ্বুদ্ধ করেছিল। রাষ্ট্রনীতি, নৈতিকতা এবং প্রাত্যহিক জীবনবোধ সম্পর্কে তাঁরা যে তাত্ত্বিক ধারণা প্রদান করেছিলেন, তা আধুনিক দর্শন শাস্ত্রেরও প্রাণভোমরা। তাই মানুষের জ্ঞানভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে প্রাচীন গ্রিক দর্শনের অবদান সত্যিই অতুলনীয় ও চিরস্মরণীয়।

২. ইউফ্রেটিস নদী
↓
খেজুর গাছের বেষ্টনি
↓
চাকা আবিষ্কার
↓
মূল বাহন গাধা
উত্তর সক্রেটিসের শিক্ষার মূল দিক ছিল আদর্শ রাষ্ট্র ও সৎ নাগরিক গড়ে তোলা এবং অন্যায় শাসনের প্রতিবাদ করা।
উত্তর

গ্রিক বীর আলেকজান্ডারের নেতৃত্বে মিশরের আলেকজান্দ্রিয়া নগরীকে কেন্দ্র করে গ্রিক ও অ-গ্রিক সংস্কৃতির সংমিশ্রণে যে নতুন এক সংস্কৃতির জন্ম হয়, তাকে হেলেনিস্টিক সংস্কৃতি বলা হয়।

আলেকজান্ডার যখন বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন, তখন প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের মেলবন্ধন ঘটে।' এই প্রক্রিয়ায় এথেন্সের হেলেনিক বা গ্রিক জ্ঞান-বিজ্ঞান, দর্শন এবং শিল্পের সাথে মিশরসহ অন্যান্য প্রাচ্যের সংস্কৃতির এক অপূর্ব সমন্বয় সাধিত হয়। এর ফলেই হেলেনিস্টিক সংস্কৃতির বিকাশ ঘটে।

উত্তর

ছকে উল্লিখিত তথ্যগুলি প্রাচীন মেসোপটেমীয় সভ্যতাকে নির্দেশ করেছে।

দজলা ও ফোরাত (ইউফ্রেটিস) নদীর মধ্যবর্তী উর্বর ভূমিতে মেসোপটেমীয় সভ্যতার বিকাশ ঘটেছিল। কৃষিকাজে সেচ ব্যবস্থা এবং যাতায়াতের জন্য চাকার আবিষ্কার ছিল এই সভ্যতার যুগান্তকারী অর্জন। তারা ফসল ও বাগানকে বাইরের তৃণভোজী প্রাণীদের হাত থেকে রক্ষা করতে মাটির দেওয়াল বা খেজুর গাছের বেষ্টনি তৈরি করত। এছাড়া, স্থলপথে ফসল ও পণ্য পরিবহণের জন্য গাধা ছিল তাদের অন্যতম প্রধান বাহন।

উদ্দীপকের ছকে আমরা দেখতে পাচ্ছি 'ইউফ্রেটিস নদী', 'খেজুর গাছের বেষ্টনি', 'চাকা আবিষ্কার' এবং 'মূল বাহন গাধা' নামক বৈশিষ্ট্য গুলো। এই প্রতিটি উপাদান সরাসরি প্রাচীন মেসোপটেমিয়ার কৃষি, প্রযুক্তি ও পরিবহন ব্যবস্থার সাথে সম্পৃক্ত। ইউফ্রেটিস নদীর তীরে গড়ে ওঠা এই সভ্যতার মানুষেরাই প্রথম চাকার ব্যবহার শুরু করে পরিবহন ও কৃষিতে বিপ্লব এনেছিল। তাই ছকের তথ্য গুলো নিশ্চিত ভাবে মেসোপটেমীয় সভ্যতাকেই নির্দেশ করে।

উত্তর

আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় প্রাচীন মেসোপটেমীয় সভ্যতার, বিশেষ করে রাজা হাম্বুরাবির অবদান বিশ্ব ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অবিস্মরণীয়।

মেসোপটেমিয়ার সমাজ ব্যবস্থায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য আইন প্রণয়নের বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। পারস্যের সিপার দুর্গে আবিষ্কৃত একটি কালো-সবুজ পাথরের স্মৃতিস্তম্ভে হাম্বুরাবির প্রণীত ২৮২টি আইনের ধারা খোদাই করা অবস্থায় পাওয়া গিয়েছে।এই আইনগুলো তৎকালীন সমাজের বিভিন্ন অপরাধ, শাস্তি এবং বিচারিক প্রক্রিয়াকে সুনির্দিষ্ট করেছিল, যা বর্তমানে প্যারিসের ল্যুভজাদুঘরে সংরক্ষিত আছে।

উদ্দীপকে উল্লিখিত মেসোপটেমীয় সভ্যতা কেবল কৃষি বা প্রযুক্তি নয়, প্রশাসনিক শৃঙ্খলার ক্ষেত্রেও অগ্রগামী ছিল। চাকা আবিষ্কার বা কৃষির উন্নয়নের বা পাশাপাশি সমাজের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তারা একটি শক্তিশালী আইনি কাঠামো তৈরি করেছিল। হাম্বুরাবির আইন সংকলন সেই কাঠামোরই শ্রেষ্ঠ নিদর্শন। এর মাধ্যমে সমাজে অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী শাস্তির বিধান নিশ্চিত করা হয়েছিল, যা সুষ্ঠু রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য অপরিহার্য ছিল।

পরিশেষে বলা যায়, প্রাচীন মেসোপটেমীয়দের এই আইনি কাঠামো পরবর্তী সভ্যতাগুলোকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। একটি সাম্রাজ্যকে আইনের অধীনে এনে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার যে দৃষ্টান্ত তারা স্থাপন করেছিল, তা আইনের শাসনের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ। তাই বিশ্বসভ্যতার বিকাশে ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় মেসোপটেমীয় সভ্যতার অবদান অনস্বীকার্য এবং অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

৩. উদ্দীপকটি পড়ো এবং নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
উদ্দীপকের ছবি
উত্তর প্রাচীন বাংলায় গুপ্ত রাজাদের অধীনে কোনো বৃহৎ অঞ্চল বা নির্দিষ্ট স্থানের ক্ষমতাশালী শাসনকর্তাকে মহাসামন্ত বলা হতো।
উত্তর

একাদশ শতকে বিদেশি শক্তির শক্তিশালী আক্রমণের মুখে প্রাচীন বাংলার স্বাধীন 'চন্দ্র বংশ'-এর রাজত্বের চূড়ান্ত অবসান ঘটে।

চন্দ্র বংশের শেষ রাজা ছিলেন গোবিন্দচন্দ্র। তাঁর রাজত্বকালে বাংলার বাইরে থেকে দুটি বৈদেশিক আক্রমণ আসে। দাক্ষিণাত্যের চোলরাজ রাজেন্দ্র চোল এবং কলচুরিরাজ কর্ণ বঙ্গ আক্রমণ করেন। এই দুই প্রবল পরাক্রান্ত শক্তির কাছে গোবিন্দচন্দ্র পরাজিত হন এবং এর মাধ্যমেই দক্ষিণ-পূর্ব বাংলায় দেড়শ বছরের চন্দ্র শাসনের পতন ঘটে।

উত্তর

উদ্দীপকের চিত্র সোমপুর বিহার রাজা ধর্মপালের সময়কালকে (৭৮১-৮২১ খ্রি.) স্মরণ করিয়ে দেয়।

পাল বংশের প্রতিষ্ঠাতা গোপালের পর তথা পুত্র ধর্মপাল ৭৮১ খ্রিষ্টাব্দে পাল বংশের ক্ষমতায় আসেন। পাল বংশের শ্রেষ্ঠ রাজা ধর্মপাল পিতা গোপালের মতো বৌদ্ধ ছিলেন। পাল রাজাদের মধ্যে ধর্মপালই সর্বোচ্চ সার্বভৌম উপাধি পরমেশ্বর, পরমভট্টারক, মহারাজাধিরাজ উপাধি ধারণ করেছিলেন। ধর্মপাল তার শাসনামলে বেশকিছু বৌদ্ধ শিক্ষাকেন্দ্র ও বিহার নির্মাণ করেছিলেন যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো সোমপুর বিহার। নাটোর জেলার পাহাড়পুর নামক স্থানে তিনি এ বিশাল বিহার প্রতিষ্ঠা করেন। এ স্থাপত্যকর্মটি জাতিসংঘের ইউনেস্কো কর্তৃক বিশ্বসভ্যতার নিদর্শন (ওয়ার্ল্ড হ্যারিটেজ) হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে। এ বিহারের ন্যায় প্রকাণ্ড বিহার ভারতবর্ষের আর কোথাও এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত হয়নি।

সুতরাং উদ্দীপকের চিত্রের সোমপুর বিহার ধর্মপালের শাসনামলের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।

উত্তর

উক্ত শাসক তথা ধর্মপাল ছিলেন প্রাচীন বাংলার ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ শাসকদের অন্যতম। -মন্তব্যটি যথার্থ ও যুক্তিযুক্ত।

গোপালের মৃত্যুর পর ধর্মপাল বাংলার ৭৮১ খ্রিষ্টাব্দে সিংহাসনে বসেন। পাল রাজাদের মধ্যে তিনিই ছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ। বাংলা ও বিহারব্যাপী তার শাসন প্রতিষ্ঠিত ছিল। তিনি বারানসি জয় করে গঙ্গা ও যমুনার মধ্যবর্তী অঞ্চল পর্যন্ত রাজ্য বিস্তার করেন। কেউ কেউ মনে করেন ধর্মপাল নেপাল জয় করেছিলেন। তিনি প্রায় ৪০ বছর (৭৮১-৮২১ খ্রি.) রাজত্ব করেন। পিতার মতো রাজা ধর্মপাল বৌদ্ধধর্মের অনুসারী ছিলেন। পাল রাজাদের মধ্যে তিনিই সর্বোচ্চ সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী হন। তিনি পরমেশ্বর, পরভট্টারক, মহারাজাধিরাজ উপাধি ধারণ করেছিলেন। তিনি ভাগলপুরে বিক্রমশীল বিহার নির্মাণ করেন, যা ভারতবর্ষে বিখ্যাত বৌদ্ধবিহার ও শিক্ষাকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল।

এছাড়াও তিনি পাহাড়পুরে সোমপুর বিহার নামে আরেকটি বিহার নির্মাণ করেন, যা বর্তমানে বিশ্বসভ্যতার নিদর্শন হিসেবে স্বীকৃত। তারনাথের মতে ধর্মপাল ৫০টি শিক্ষাকেন্দ্র নির্মাণ করেন। তিনি নিজে বৌদ্ধধর্মের হলেও অন্যান্য ধর্মের প্রতি তার কোনো বিদ্বেষ ছিল না। এমনকি ধর্মপালের প্রধানমন্ত্রী গর্গ ছিলেন একজন ব্রাহ্মণ। পঞ্চাশ বছর পূর্বের অরাজকতা দূর করে তিনি প্রবল শক্তিশালী একজন শাসক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন।

পরিশেষে বলা যায়, চিত্রের সোমপুর বিহারের নির্মাতা তথা ধর্মপাল ছিলেন প্রাচীন বাংলার পাল বংশের শ্রেষ্ঠ শাসক।

৪. সীমা মুন্সীগঞ্জ বেড়াতে গেলে 'ইন্দ্রাকপুর কেল্লা' নামক একটি স্থাপনা দেখতে পায়। ইট ও চুন-সুরকি দিয়ে নির্মিত এই কেল্লা মুঘল আমলে ব্যবহৃত হতো জলদস্যুদের হাত থেকে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জকে রক্ষা করতে, যা দেখে তার ব্রিটিশ বিরোধী এক নেতার সংগ্রামের কথা মনে পড়ে।
উত্তর 'নীলদর্পণ' নাটকের রচয়িতা হলেন দীনবন্ধু মিত্র।
উত্তর সৈয়দ আমির আলি মুসলমানদের রাজনৈতিক অধিকার ও স্বার্থরক্ষার উদ্দেশ্যে ১৮৭৭ সালে 'সেন্ট্রাল মোহামেডান অ্যাসোসিয়েশন' গঠন করেন। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন, মুসলমানদের দাবি-দাওয়া সরকারের কাছে তুলে ধরতে এবং তাদের অধিকার আদায়ে একটি নিজস্ব রাজনৈতিক সংগঠনের কোনো বিকল্প নেই। বাংলার পিছিয়ে পড়া মুসলিম সমাজকে রাজনৈতিকভাবে সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ করার গভীর উদ্দেশ্যেই তিনি এই সমিতি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
উত্তর

উদ্দীপকটিতে সীমার দেখা কেল্লাটি ঐতিহাসিক তিতুমিরের 'বাঁশের কেল্লা' কেন্দ্রিক প্রতিরোধ সংগ্রামকে নির্দেশ করছে।

মীর নিসার আলী বা তিতুমির ১৮৩১ সালে নারিকেল বাড়িয়া গ্রামে একটি-শক্তিশালী বাঁশের কেল্লা নির্মাণ করেছিলেন। মূলত ব্রিটিশ জমিদার ও নীলকরদের অত্যাচার থেকে বাংলার শোষিত কৃষক সমাজকে রক্ষা করার জন্যই তিনি এই দুর্গটি তৈরি করেন এবং একটি সুদক্ষ লাঠিয়াল বাহিনী গড়ে তোলেন।

উদ্দীপকে উল্লিখিত মুন্সীগঞ্জের ইন্দ্রাকপুর কেল্লা জলদস্যুদের আক্রমণ থেকে সাধারণ মানুষকে রক্ষা করার জন্য ব্যবহৃত হতো। একই ভাবে তিতুমিরের বাঁশের কেল্লাও নির্মিত হয়েছিল শোষক জমিদার, নীলকর এবং ইংরেজ বাহিনীর আক্রমণ থেকে বাংলার অসহায় কৃষক ও তাঁতিদের রক্ষা করার জন্য। কেল্লা বা দুর্গ নির্মাণের এই ঐতিহাসিক সাদৃশ্যের কারণেই সীমার মনে তিতুমিরের সেই বীরত্বপূর্ণ সংগ্রামের কথা ভেসে উঠেছে।

উত্তর

তিতুমিরের বাঁশের কেল্লার সংগ্রামটি সত্যিই ছিল পরাধীনতার বিরুদ্ধে অসীম দুঃসাহস এবং প্রগাঢ় দেশপ্রেমের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

১৮২৭ সালে তিতুমীর যে ধর্মীয় সংস্কার কাজে আত্মনিয়োগ করেন তার এ আন্দোলনে বহু মুসলমান, কৃষক, তাঁতি যোগদান করে। ইংরেজ, জমিদার, নীলকরদের দ্বারা নির্যাতিত কৃষকরা দলে দলে তিতুমীরের বাহিনীতে যোগ দিলে ধর্ম সংস্কারে রূপ নেয়। ফলে শাসক-শোষক জমিদার শ্রেণি কৃষকদের সংঘবদ্ধতা এবং তিতুমীরের শক্তি বৃদ্ধিতে শঙ্কিত হয়ে ওঠে। শেষপর্যন্ত ১৮৩১ সালে তিতুমীরের বিরুদ্ধে ইংরেজ সরকার এক বিশাল সুশিক্ষিত সেনাবাহিনী প্রেরণ করে। মেজর স্কটের নেতৃত্বে এ বাহিনী তিতুমীরের নারিকেলবাড়িয়া বাঁশের কেল্লা আক্রমণ করে। ইংরেজদের কামান-বন্দুকের সামনে বীরের মতো লড়াই করে পরাজিত হয় তিতুমীরের বাহিনী। তিনি যুদ্ধে শহিদ হন। গোলার আঘাতে বাঁশের কেল্লা ভেঙে যায়। এভাবেই পরিসমাপ্তি ঘটে একটি সুসংগঠিত কৃষক আন্দোলনের। তিতুমীর ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ব্যাপক কৃষক আন্দোলন গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছিলেন। ইংরেজদের গোলাবারুদ, নীলকর, জমিদারদের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের মুখে তার বাঁশের কেল্লা ছিল দুঃসাহস আর দেশপ্রেমের প্রতীক, যা যুগে যুগে বাঙালিকে অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে সাহস যুগিয়েছে, প্রেরণা যুগিয়েছে স্বাধীনতার পথে এগিয়ে যেতে।

৫.

"দন্তকের দাবি ছড়ায় আগুনের ভাষা,

মীর কাশিম-মনরোর দ্বন্দ্ব,

শেষে বাড়ল এমন টানাপোড়েন,

যেন চারদিকে ঘনিয়ে এলো যুদ্ধ।"

উত্তর হল্যান্ডের অধিবাসী ওলন্দাজ বা ডাচরা ১৬০২ সালে 'ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি' গঠন করে।
উত্তর

নবাব সিরাজউদ্দৌলা কর্তৃক কলকাতা দখলের পর হলওয়েল নামক একজন ইংরেজ যে অতিরঞ্জিত মিথ্যা প্রচারণা চালিয়েছিলেন, তাকেই 'অন্ধকূপ হত্যা' বলা হয়।

প্রচারণাটি ছিল এমন- ১৮ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১৪.১০ ফুট প্রস্থের একটি ছোট ঘরে ১৪৬ জন ইংরেজকে বন্দি করে রাখা হয়েছিল। প্রচণ্ড গরমে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে ১২৩ জনের মৃত্যু হয়। প্রকৃতপক্ষে এটি ছিল একটি কাল্পনিক কাহিনী, যার উদ্দেশ্য ছিল মাদ্রাজের ইংরেজদের উত্তেজিত করে নবাবের বিরুদ্ধে যুদ্ধের উসকানি দেওয়া।

উত্তর

উদ্দীপকটি ঐতিহাসিক 'বক্সারের যুদ্ধ' (১৭৬৪) নামক ঘটনাটিকে স্মরণ করিয়ে দেয়।

১৭১৭ সালে সম্রাট ফাররুখশিয়ারের দেওয়া ফরমান বা 'দস্তক'-এর অপব্যবহার নিয়ে ইংরেজদের সাথে নবাব মীর কাশিমের যে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছিল, তারই চূড়ান্ত রূপ ছিল বক্সারের যুদ্ধ।

উদ্দীপকে বলা হয়েছে 'দস্তকের দাবি' এবং 'মীর কাশিম-মনরোর দ্বন্দ্ব'। পাঠ্যবই অনুসারে, মীর কাশিম যখন ইংরেজদের দস্তকের অপব্যবহার রোধে সবার জন্য বাণিজ্য শুল্ক তুলে দেন, তখন ইংরেজরা ক্ষুব্ধ হয়। এর ফলে ১৭৬৩ সালে ইংরেজদের সাথে নবাবের কয়েকটি খণ্ডযুদ্ধ হয়। পরিশেষে ১৭৬৪ সালে বিহারের বক্সার নামক স্থানে মেজর মনরোর নেতৃত্বাধীন ইংরেজ বাহিনীর সাথে মীর কাশিমের সম্মিলিত বাহিনীর চূড়ান্ত যুদ্ধ সংঘটিত হয়।

উদ্দীপকের 'টানাপোড়েন' এবং 'ঘনিয়ে এলো যুদ্ধ' শব্দগুলো সেই সময়ের চরম রাজনৈতিক অস্থিরতা ও যুদ্ধের আগের পরিস্থিতিকেই নির্দেশ করে। মীর কাশিম ও মেজর মনরোর নাম সরাসরি উল্লেখ থাকায় এটি সন্দেহাতীত ভাবে বক্সারের যুদ্ধকেই ফুটিয়ে তুলেছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকটি বক্সারের যুদ্ধের প্রেক্ষাপট ও ঘটনার সাথে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ।

উত্তর

আমি উদ্দীপকে বর্ণিত বক্সারের যুদ্ধ এবং এর পরবর্তী ফলাফল বিশ্লেষণ করে প্রশ্নোক্ত উক্তিটির সাথে একমত পোষণ করছি।

বক্সারের যুদ্ধের পরাজয় বাংলার স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারের শেষ চেষ্টাকে ব্যর্থ করে দিয়ে সরাসরি ইংরেজদের আধিপত্য নিশ্চিত করেছিল। বক্সারের যুদ্ধের ফলে শুধু মীর কাশিমই পরাজিত হননি, বরং অযোধ্যার নবাব এবং দিল্লির সম্রাট শাহ আলমও পরাজিত হন। এই বিশাল জয়ের ফলে ১৭৬৫ সালে রবার্ট ক্লাইভ দিল্লির সম্রাটের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার 'দেওয়ানি' বা রাজস্ব আদায়ের ক্ষমতা লাভ করেন। এই দেওয়ানি লাভের মধ্য দিয়েই কোম্পানি বাংলায় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে একচ্ছত্র অধিপতি হয়ে ওঠে।

দেওয়ানি লাভের ফলে তৈরি হয় 'দ্বৈত শাসন', যেখানে নবাব পরিণত হন এক ক্ষমতাহীন শাসকে আর কোম্পানি লাভ করে দায়িত্বহীন ক্ষমতা। নবাবের হাতে শাসনের দায়িত্ব থাকলেও পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় তিনি প্রশাসনিকভাবে ব্যর্থ হন। অন্যদিকে কোম্পানি নির্বিচারে বাংলার অর্থ সম্পদ ইংল্যান্ডে পাচার করতে থাকে এবং রাজস্ব আদায়ের নামে সাধারণ মানুষের ওপর চরম শোষণ শুরু করে। এই ব্যবস্থার ফলেই ১৭৭০ সালে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়।
পরিশেষে বলা যায়, পলাশীর যুদ্ধ ছিল ইংরেজদের ক্ষমতা দখলের সূচনা মাত্র, কিন্তু বক্সারের যুদ্ধ ও পরবর্তী দেওয়ানি লাভ তাদের অধিকারকে আইনগত স্বীকৃতি দান করে। এর মাধ্যমেই নবাবের নামমাত্র শাসন বিলুপ্তির পথে

অগ্রসর হয় এবং বাংলায় সরাসরি ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের ভিত্তি সুদৃঢ় হয়। তাই উক্তিটি যথার্থ।

৬. উদ্দীপকটি পড়ো এবং নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
উদ্দীপকের ছবি
উত্তর A Short History of the Saracens' গ্রন্থের লেখক হলেন সৈয়দ আমির আলি।
উত্তর অষ্টাদশ শতকের শেষার্ধে ইউরোপীয় আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের (শিল্প ও ফরাসি বিপ্লব) সংস্পর্শে এসে ইংরেজি শিক্ষায় শিক্ষিত বাঙালিদের মনে নবজাগরণের সূচনা হয়। পাশ্চাত্য ভাবধারা ও আধুনিক শিক্ষার প্রভাবে বাঙালি সমাজ যুক্তিবাদ, ব্যক্তিস্বাধীনতা এবং বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গিতে উদ্বুদ্ধ হয়। তাছাড়া দেশি-বিদেশি উদারচেতা প্রশাসক এবং খ্রিষ্টান মিশনারিদের প্রতিষ্ঠিত ছাপাখানাও মধ্যযুগীয় চিন্তা-চেতনা দূর করে এই নবজাগরণ প্রসারে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
উত্তর

উদ্দীপকের ছক-২ বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রবর্তক এবং 'ইয়াং বেঙ্গল' বা তরুণ বাংলা আন্দোলনের প্রবক্তা হেনরি লুই ডিরোজিও-র কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।

ডিরোজিও ছিলেন একজন তরুণ, যুক্তিবাদী ও প্রতিভাবান শিক্ষক, যিনি ইতিহাস, সাহিত্য ও দর্শনে গভীর জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন। তৎকালীন তরুণ সমাজকে তিনি অন্ধবিশ্বাস ও কুসংস্কারের উর্ধ্বে উঠে যুক্তিবাদী হতে শিখিয়েছিলেন। তরুণদের পুরোনো ধ্যান-ধারণা পাল্টে দিতে এবং আধুনিক চিন্তায় উদ্বুদ্ধ করতে তিনি বিভিন্ন সংগঠন ও পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন।
উদ্দীপকের ছক-২ এ উল্লিখিত 'একাডেমি অ্যাসোসিয়েশন'; 'পার্থেনন'

এবং 'হিসপাবাস'-এই সবকটিই ডিরোজিওর প্রতিষ্ঠিত বা অনুপ্রাণিত সংগঠন ও পত্রিকা। ১৮২৮ সালে তিনি তরুণদের নিয়ে 'একাডেমি অ্যাসোসিয়েশন' গড়ে তোলেন। তাঁরই অনুপ্রেরণায় ১৮৩০ সালে ছাত্ররা 'পার্থেনন' নামক পত্রিকা প্রকাশ করে এবং ১৮৩১ সালে তিনি নিজে 'হিসপাবাস' পত্রিকা সম্পাদনা করেন। সুতরাং, ছক-২ এর তথ্যগুলো স্পষ্টভাবে ডিরোজিওর আধুনিক চিন্তা প্রসারের ঐতিহাসিক পদক্ষেপগুলোকেই নির্দেশ করছে।

উত্তর

উদ্দীপকের ছক-১ এ নির্দেশিত ব্যক্তি হলেন বাংলার নবজাগরণের স্রষ্টা রাজা রামমোহন রায়, যিনি সমাজ ও ধর্ম সংস্কারের পাশাপাশি আধুনিক শিক্ষাবিস্তারে যুগান্তকারী অবদান রেখেছিলেন।

রাজা রামমোহন রায় বহুভাষাবিদ ও পণ্ডিত ছিলেন। সমাজ থেকে সতীদাহের মতো কুসংস্কার দূর করতে তিনি 'আত্মীয় সভা' ও 'ব্রাহ্মসমাজ' গঠন করেন এবং 'মিরাতুল আখবার' প্রকাশ করেন। তবে, দেশবাসীর প্রকৃত উন্নতির জন্য তিনি পাশ্চাত্য ও আধুনিক বিজ্ঞান শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা গভীরভাবে উপলব্ধি করেছিলেন।

ছক-১ এর শব্দগুলো রাজা রামমোহন রায়ের সমাজ সংস্কারমূলক কাজের প্রতিচ্ছবি। এই সংস্কারের পাশাপাশি তিনি শিক্ষাক্ষেত্রেও বিপ্লব এনেছিলেন। ১৮২২ সালে তিনি কোলকাতায় 'অ্যাংলো-হিন্দু স্কুল' প্রতিষ্ঠা করেন, যেখানে ইংরেজি, দর্শন ও আধুনিক বিজ্ঞান পড়ানো হতো। সংস্কৃত পণ্ডিত হওয়া সত্ত্বেও তিনি ১৮২৩ সালে সরকারি সংস্কৃত কলেজ প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করে আধুনিক শিক্ষার দাবি জানান। রামমোহন রায় ছিলেন আধুনিক ভারতীয় শিক্ষার রূপকার। সরকারের বরাদ্দকৃত অর্থ সংস্কৃত শিক্ষার বদলে আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানে ব্যয় করার জন্য তিনি লর্ড আমহার্স্টকে চিঠি লেখেন। তাঁর এই নিরলস প্রচেষ্টার ফলেই ১৮৩৫ সালে ইংরেজি ভাষায় শিক্ষা দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। তাই আধুনিক শিক্ষাক্ষেত্রে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য।

৭. উদ্দীপকটি পড়ো এবং নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
উদ্দীপকের ছবি
উত্তর সম্রাট আকবরের সময় থেকে সমগ্র বাংলা প্রদেশটি 'সুবাহ বাংলা' নামে পরিচিতি লাভ করে।
উত্তর বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে প্রবাসী বাঙালিরা আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায় ও তহবিল গঠনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। তারা যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সংগ্রাম পরিষদ গঠন করেন এবং সভা-সমাবেশের মাধ্যমে পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যার চিত্র বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরেন। প্রবাসীদের এই অক্লান্ত কূটনৈতিক তৎপরতা ও অর্থ সাহায্য বাংলাদেশের পক্ষে বিশ্বজনমত গঠনে এবং চূড়ান্ত বিজয় অর্জনে ব্যাপক সহায়তা করেছিল।
উত্তর

উদ্দীপকের চিত্র-১ এ প্রদর্শিত সাভারের 'জাতীয় স্মৃতিসৌধ' মূলত আমাদের মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে আত্মদানকারী বীর শহিদদের পরম ত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।

স্থপতি মঈনুল হোসেনের নকশায় নির্মিত এই স্মৃতিসৌধটি বাঙালির দীর্ঘ ধারাবাহিক সংগ্রামের এক অনন্য প্রতীক। এর সাত জোড়া দেয়াল ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত স্বাধিকার আদায়ের সাতটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক আন্দোলনের স্মৃতি বহন করে।

চিত্র-১ এ আমরা যে বিশাল স্থাপনাটি দেখতে পাচ্ছি, তা সেই বার মুক্তিযোদ্ধাদেরই প্রতিনিধিত্ব করে যাঁরা পাকিস্তানি শোষণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন। এই স্মৃতিসৌধের পাদদেশে দাঁড়ালে পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙতে অকাতরে জীবন বিলিয়ে দেওয়া সেই অকুতোভয় শহিদদের বীরত্বগাথাই আমাদের চোখে ভেসে ওঠে। তাই এটি আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের বীর শহিদদেরই স্মরণ করিয়ে দেয়।

উত্তর

উদ্দীপকের চিত্র-২ এ নির্দেশিত স্বাধীন বাংলাদেশের 'জাতীয় পতাকা', সত্যিই আমাদের জাতীয় চেতনা, অহংকার এবং অনন্য গৌরবের এক উজ্জ্বল প্রতীক।

বাঙালি জাতি দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী আন্দোলনের ফলশ্রুতিতে লাভ করেছে স্বাধীনতা। ত্রিশ লাখ বাঙালির জীবনের বিনিময়ে, দুই লাখের অধিক মা-বোনদের ওপর পাশবিক নির্যাতনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে। আর স্বাধীন বাংলাদেশের অহংকার আর গৌরবের প্রতীক হলো জাতীয় পতাকা। অনেক রক্ত আর ত্যাগের বিনিময়ে লাল-সবুজের এই পতাকা এদেশের জনগণ অর্জন করেছে। জাতীয় পতাকার সবুজ আয়তক্ষেত্র বাংলাদেশের সবুজ প্রকৃতির প্রতীক, আর বৃত্তের লাল রং মুক্তিযুদ্ধে জীবন উৎসর্গকারী শহিদদের রক্তের প্রতীক। এ রক্ত ছাত্র, কৃষক, শ্রমিক, নারী, শিক্ষক, কবি, সাংবাদিক, চিকিৎসক, শিল্পীসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের। যারা সংগ্রামের মাধ্যমে এ স্বাধীন পতাকা উপহার দিয়েছে। যেহেতু বাঙালির দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা এবং লক্ষ বাঙালির জীবনের বিনিময়ে এই পতাকা।

৮. উদ্দীপকটি পড়ো এবং নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
উদ্দীপকের ছবি
উত্তর মুঘল সম্রাট হুমায়ুন গৌড়ের চমৎকার প্রাসাদ ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে এর নামকরণ করেন 'জান্নাতাবাদ'।
উত্তর

সুলতান নুসরত শাহ তার প্রজাদের সুপেয় পানির কষ্ট নিবারণের উদ্দেশ্যে বাগেরহাটে 'মিঠাপুকুর' খনন করেছিলেন।

সুলতান নুসরত শাহ ছিলেন একজন প্রজাহিতৈষী ও সহৃদয় শাসক। সে যুগে সাধারণ মানুষের পানীয় জলের তীব্র সংকট ছিল। এইমানবিক সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে তিনি রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে বহু কূপ ও বিশাল পুকুর খননের উদ্যোগ গ্রহণ করেন, যার মধ্যে বাগেরহাটের মিঠাপুকুর অন্যতম প্রধান কীর্তি হিসেবে আজও টিকে আছে।

উত্তর

উদ্দীপকের ছক-ক-তে উল্লিখিত ঈসা খান, কেদার রায়, সোনা গাজি এবং বীর হামির মধ্যযুগের বাংলার স্বাধীনচেতা 'বারোভূঁইয়া'দের শাসনামলকে নির্দেশ করছে।

ষোলো শতকের মাঝামাঝি থেকে সতেরো শতকের মধ্যবর্তী সময়ে বাংলার যেসব শক্তিশালী জমিদার মুঘলদের বশ্যতা অস্বীকার করে নিজেদের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য সংগ্রাম করেছিলেন, তারাই ইতিহাসে 'বারোভূঁইয়া' নামে পরিচিত। স্বাধীনতা রক্ষার মহান ব্রতে তারা সর্বদা ঐক্যবদ্ধ হয়ে মুঘল সেনাপতিদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতেন।

উদ্দীপকের ছক-ক-তে আমরা বাংলার চারজন প্রতাপশালী জমিদারের নাম দেখতে পাই। পাঠ্যপুস্তকের আলোকে আমরা জানি, সোনারগাঁয়ের ঈসা খান, শ্রীপুরের কেদার রায়, সরাইলের সোনা গাজি এবং বিষ্ণুপুরের বীর হামির ছিলেন বারোভূঁইয়াদের অন্যতম প্রধান নেতা। সম্রাট আকবর সমগ্র বাংলার ওপর অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চাইলে এই ভূঁইয়ারা একজোট হয়ে মুঘলদের প্রবল বাধা দেন। মূলত উদ্দীপকে এই বিদ্রোহী এবং স্বাধীনতা প্রিয় দেশপ্রেমিক জমিদারদের শাসনকাল ও বীরত্বপর্ণ প্রতিরোধের প্রতিচ্ছবিই স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।

উত্তর

হ্যাঁ, আমি মনে করি উদ্দীপকের ছক-খ-তে উল্লিখিত মুঘল শাসক ও সেনাপতিরাই ধারাবাহিকভাবে ছক-ক-এর স্বাধীন জমিদার বা 'বারোভূঁইয়া'দের চূড়ান্ত পতনের জন্য দায়ী।

বাংলার বারোভূঁইয়ারা দীর্ঘকাল ধরে মুঘল আধিপত্য মেনে নেননি। সম্রাট আকবর তার সেনাপতিদের পাঠিয়েও তাদের সম্পূর্ণরূপে দমন করতে ব্যর্থ হন। পরবর্তীতে সম্রাট জাহাঙ্গীরের সুনিপুণ কৌশল এবং তার সুযোগ্য সুবাদার ইসলাম খানের সুসংগঠিত সামরিক অভিযানের ফলেই বারোভূঁইয়াদের পতন নিশ্চিত হয়।

ছক-ক-তে স্বাধীনতাপ্রিয় বারোভূঁইয়াদের নাম এবং ছক-খ-তে মুঘল সম্রাট ও সুবাদারদের নাম রয়েছে। সম্রাট আকবর প্রথম বারোভূঁইয়াদের দমনের উদ্যোগ নিয়ে মানসিংহকে বাংলায় পাঠান। মানসিংহ কিছুটা সফল হলেও ঈসা খানকে পুরোপুরি হারাতে পারেননি। এরপর সম্রাট জাহাঙ্গীর বাংলার সুবাদার হিসেবে ইসলাম খানকে পাঠান। ইসলাম খান ঢাকায় রাজধানী স্থানান্তর করে শক্তিশালী নৌবহর নিয়ে বারোভূঁইয়াদের ঘাঁটিতে সুপরিকল্পিত আক্রমণ চালান। ইসলাম খানের এই বিধ্বংসী আক্রমণ বারোভূঁইয়াদের শক্তি ভেঙে দেয়। ১৬১১ সালে ঈসা খানের পুত্র মুসা খানের পতন ঘটলে অন্যান্য জমিদাররাও নিরাশ হয়ে আত্মসমর্পণ করেন।

সুতরাং, ঘটনা প্রবাহ বিশ্লেষণ করলে প্রমাণিত হয় যে, সম্রাট আকবর ও জাহাঙ্গীরের নিরবচ্ছিন্ন সামরিক প্রচেষ্টা এবং মানসিংহ ও ইসলাম খানের বাস্তবায়িত সমরনীতির কারণেই পরাক্রমশালী বারোভূঁইয়াদের স্বাধীন অস্তিত্বের অবসান ঘটেছিল।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।