দৃশ্যপট-১ : সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রায়ই দেখা যায় যে, জনৈক ব্যক্তি 'ক'-কে তার অনুসারীরা সিজদা করছে।
দৃশ্যপট-২: জামান সাহেব তার সহকর্মীদের কাছ হতে কোনো কিছু ধার নিলে তা যথাসময়ে ফেরত দেন না। তার কাছে কোনো কিছু গচ্ছিত রাখলে তা যথাযথভাবে ফেরত দেন না।
তকদির হলো আল্লাহর নির্ধারিত ভাগ্য ও পরম প্রজ্ঞা; তকদিরে বিশ্বাস মানুষকে জীবনে চরম বিপর্যয়ে ধৈর্য ধারণ করতে এবং বড় সাফল্যেও অহংকারমুক্ত থাকতে শেখায় বলেই এতে বিশ্বাস গুরুত্বপূর্ণ।
তকদিরে বিশ্বাস ঈমানের অন্যতম মূল স্তম্ভ।
দৃশ্যপট-১ এ জনৈক ব্যক্তি 'ক'-কে তার অনুসারীদের সিজদা করার মাঝে ইসলামে ক্ষমার অযোগ্য জঘন্যতম মহাপাপ 'শিরক' (আল্লাহর ক্ষমতায় ও অধিকারে সৃষ্টিকে অংশীদার স্থাপন) প্রকাশ পেয়েছে।
ইসলামে সিজদা কেবল একমাত্র মহান আল্লাহর জন্য নির্ধারিত। কোনো মানুষ, পীর, সাধক বা সৃষ্টিকে সিজদা করা সুস্পষ্ট শিরক ও কুফর। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করেছেন— 'নিশ্চয়ই শিরক হলো সবচেয়ে বড় জুলুম' (সুরা লুকমান: ১৩)।
শিরককারী ব্যক্তির সমস্ত নেক আমল বাতিল হয়ে যায় এবং তওবা না করলে সে চিরকাল জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে।
চিহ্নিত করলে দেখা যায়— দৃশ্যপট-২ এ জামান সাহেবের ধার করা জিনিস ফেরত না দেওয়া এবং গচ্ছিত জিনিসের খেয়ানত করার কর্মকাণ্ডে খাঁটি 'মুনাফিকি ও আমানতের খেয়ানত' ফুটে উঠেছে; সমাজজীবনে এর কুফল অত্যন্ত মারাত্মক।
হাদিস শরিফে রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেছেন— 'মুনাফিকের লক্ষণ তিনটি: যখন কথা বলে মিথ্যা বলে, যখন ওয়াদা করে ভঙ্গ করে এবং যখন তার কাছে আমানত রাখা হয় খেয়ানত করে' (সহিহ বুখারি)।
জামান সাহেবের মতো মানুষের কারণে সমাজে পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাস চিরতরে ধ্বংস হয়ে যায়, ব্যবসা-বাণিজ্য ও ধারকর্জের লেনদেন বন্ধ হয়ে যায় এবং সমাজে বিশৃঙ্খলা ও বিদ্বেষ ছড়িয়ে পড়ে। পরকালে আমানতের খেয়ানতকারীর জন্য রয়েছে জাহান্নামের কঠিন আজাব।
সুতরাং, জামান সাহেবের অবিলম্বে এই পাপ বর্জন করে সকলের হক ফিরিয়ে দেওয়া অপরিহার্য।
প্রেক্ষাপট-১ : মুদি দোকানি সালাম সাহেব আকাইদের এমন এক বিষয়ের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস রাখেন, যা তার দুনিয়ার সকল কাজকর্মকে সৎ ও ন্যায়ের পথে পরিচালিত করতে সহায়তা করে। তিনি আরও বিশ্বাস করেন যে, তার সকল কাজকর্মের হিসাব আল্লাহর সামনে দিতে হবে।
প্রেক্ষাপট-২ : আকাশ ও আযাদ দুই বন্ধু। আকাশ মহানবি (স.)-কে নবি হিসেবে বিশ্বাস করলেও সর্বশেষ নবি হিসেবে বিশ্বাস করে না। পক্ষান্তরে। আকাশের বন্ধু আযাদ মনে-প্রাণে বিশ্বাস করে হযরত মুহাম্মদ (স.) সর্বশেষ নবি ও রাসুল, তার পরে আর কোনো নবি ও রাসুল আসবেন না।
আল্লাহ তায়ালা প্রত্যেক সৃষ্টির জন্য একটি নির্দিষ্ট আয়ু নির্ধারণ করেছেন; দুনিয়ার কোনো প্রাণীই মৃত্যুর হাত থেকে রেহাই পাবে না বোঝাতেই পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে— 'কুল্লু নাফসিন যায়িক্বাতুল মাওত'।
মৃত্যুর মাধ্যমেই পরকালের চিরন্তন জীবনের সূচনা হয়।
প্রেক্ষাপট-১ এ সালাম সাহেবের দুনিয়ার সকল কাজের হিসাব আল্লাহর সামনে দিতে হবে বলে বিশ্বাস করার মাঝে আকাইদের মৌলিক স্তম্ভ 'আখিরাতে বিশ্বাস' ফুটে উঠেছে; এর গুরুত্ব অপরিসীম।
আখিরাতে বিশ্বাস মানুষকে সততা, আমানতদারি ও ন্যায়পরায়ণতার সাথে জীবিকা অর্জনের অনুপ্রেরণা জোগায়। যে মুমিন বিশ্বাস করে যে তার প্রতিটি ওজনের হিসাব আল্লাহর কাছে দিতে হবে, সে কখনোই পণ্যে ভেজাল দিতে বা ওজনে কম দিতে পারে না।
সালাম সাহেব এই বিশ্বাসের কারণেই একজন নীতিবান ও আদর্শ ব্যবসায়ীতে পরিণত হয়েছেন।
চিহ্নিত করলে দেখা যায়— আকাশ ও আযাদের বিশ্বাসের মধ্যে আকাইদের মৌলিক স্তম্ভ 'খতমে নবুয়ত' (নবুয়তের সমাপ্তি)-এর বিষয়টি ফুটে উঠেছে; এখানে আযাদের বিশ্বাসই শতভাগ সঠিক ও কুরআন-সুন্নাহর অকাট্য প্রমাণের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত।
ইসলামি আকাইদের চূড়ান্ত আকিদা হলো— হযরত মুহাম্মদ (স.) হলেন সমগ্র মানবজাতির জন্য আল্লাহ প্রেরিত সর্বশেষ ও চূড়ান্ত রাসুল। তাঁর পর কিয়ামত পর্যন্ত আর কোনো নবি বা রাসুল আসবেন না। পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ তায়ালা সুস্পষ্ট ঘোষণা করেছেন— 'মুহাম্মদ (স.) তোমাদের কোনো পুরুষের পিতা নন, বরং তিনি আল্লাহর রাসুল এবং সর্বশেষ নবি (খাতামুন নাবিয়্যিন)' (সুরা আল-আহযাব: ৪০)। হাদিসেও রাসুল (স.) বলেছেন— 'লা নাবিয়্যা বা’দী' অর্থাৎ আমার পর কোনো নবি নেই।
আকাশ রাসুল (স.)-কে শেষ নবি না মেনে কুরআনের অকাট্য বিধানকে অস্বীকার করে চরম বিভ্রান্তিতে পতিত হয়েছে। খতমে নবুয়ত অস্বীকার করলে মানুষের সমস্ত ঈমান বাতিল হয়ে যায়।
সুতরাং, আযাদের ধারণকৃত খতমে নবুয়তের পূর্ণাঙ্গ বিশ্বাসই খাঁটি ঈমানের অপরিহার্য শর্ত।
তথ্য-১ : বার্ষিক তাফসির মাহফিলে প্রধান অতিথির আলোচনায় মাওলানা সালমান কুরআনের একটি সূরার তাফসির করতে গিয়ে বলেন, মহানবি (স.) ইসলামের দাওয়াত দিলে মক্কার লোকেরা তাকে কবি, গণক ও জাদুকর বলে কষ্ট দিত। নামাযরত অবস্থায় সেজদায় গেলে উটের নাড়ি-ভুঁড়ি উপরে চাপিয়ে দিত।
তথ্য-২: জুমার আলোচনায় খতিব সাহেব একটি সূরার ব্যাখ্যায় বলেন, আল্লাহ তায়ালা মানুষকে সুন্দর আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন। তাই মানুষের উচিত আল্লাহ পাকের আদেশ-নিষেধ মেনে চলা।
কুরআন মাজিদ হলো স্বয়ং আল্লাহর বাণী; এর প্রতিটি হরফ তিলাওয়াতে দশটি করে নেকি লাভ হয় এবং এটি মানুষের অন্তরকে পরিশুদ্ধ করে আল্লাহর নৈকট্য দান করে বলেই একে শ্রেষ্ঠ ইবাদত বলা হয়েছে।
কুরআন তিলাওয়াতকারীর জন্য পরকালে সুপারিশ করবে।
তথ্য-১ এ মাওলানা সালমানের আলোচিত মক্কার কাফিরদের মহানবি (স.)-কে উপহাস ও সিজদারত অবস্থায় কষ্ট দেওয়ার প্রেক্ষাপট পবিত্র কুরআনের ১১১তম সুরা 'সুরা আল-লাহাব' (বা আল-মাসাদ)-এর প্রতি ইঙ্গিত বহন করে।
সুরা আল-লাহাবের শিক্ষা হলো— সত্য ও দ্বীনের দাওয়াত দিতে গিয়ে নবি-রাসুল ও তাঁদের অনুসারীদের চরম বিরোধিতার মুখোমুখি হতে হয়েছে। কিন্তু আবু লাহাব ও তার স্ত্রীর মতো ইসলামের চরম শত্রুদের চূড়ান্ত পরিণতি সর্বদা লাঞ্ছনা ও জাহান্নামের লেলিহান আগুন।
সত্যের সংগ্রামীদের ধৈর্য ও আল্লাহর ওপর আস্থার শিক্ষাই এই সূরায় ফুটে উঠেছে।
চিহ্নিত করলে দেখা যায়— তথ্য-২ এ খতিব সাহেবের আলোচনায় পবিত্র কুরআনের ৯৫তম সুরা 'সুরা আত-তীন'-এর মিল পাওয়া যায়; মানবজীবনে এই সূরার শিক্ষা ও তাৎপর্য অপরিসীম।
সুরা আত-তীনে আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করেছেন— 'লাক্বাদ খালাক্বনাল ইনসানা ফি আহসানি তাক্বওয়ীম' অর্থাৎ আমি মানুষকে সর্বোত্তম গঠনে সৃষ্টি করেছি। আল্লাহ মানুষকে বিবেক, জ্ঞান ও সৌন্দর্য দিয়ে শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি করেছেন। তবে মানুষ যদি ঈমান ও সৎকর্ম ত্যাগ করে পাপাচার করে, তবে সে পশুর চেয়েও অধম নিকৃষ্টতম স্তরে নেমে যায়।
এই সূরার মূল শিক্ষা হলো— মানুষের উচিত অহংকার ত্যাগ করে আল্লাহর আনুগত্য করা, সালাত ও সৎকর্মের মাধ্যমে সৃষ্টির শ্রেষ্ঠত্বের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখা।
সুতরাং, সুরা আত-তীন মানবজাতিকে আত্মশুদ্ধি ও নৈতিকতার শীর্ষ চূড়ায় আরোহণের শিক্ষা দেয়।
কিয়ামতের দিন মহান আল্লাহ তায়ালা বিশ্বনবি হযরত মুহাম্মদ (স.)-কে পাপী বান্দাদের মার্জনা ও জান্নাতে মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য সুপারিশের বিশেষ অধিকার দান করবেন বোঝাতেই রাসুল (স.) এ কথা বলেছেন।
মহানবি (স.)-এর শাফাআত মুমিনদের মুক্তির অন্যতম উসিলা।
নাইমা জাহানের এতিম ক্ষুধার্ত নয়নকে রূঢ়ভাবে তাড়িয়ে দেওয়ার মাঝে পবিত্র কুরআনের ১০৭তম সুরা 'সুরা আল-মাউন'-এর মৌলিক শিক্ষা লঙ্ঘিত হয়েছে।
সুরা আল-মাউনে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন— 'ফা যালিকাল্লাযী ইয়াদু’উল ইয়াতীম, ওয়ালা ইয়াহুদ্দু আলা তায়ামিল মিসকীন' অর্থাৎ সে তো সেই ব্যক্তি যে এতিমকে রূঢ়ভাবে তাড়িয়ে দেয় এবং মিসকিনকে খাদ্যদানে উৎসাহিত করে না। বাহ্যিক নামাজ পড়া সত্ত্বেও অসহায়দের অবহেলা করা মুনাফিকির চরিত্র।
নাইমা জাহান এতিমের হক নষ্ট করে চরম গুনাহের কাজ করেছেন।
চিহ্নিত করলে দেখা যায়— সালমার বাগানে বৃক্ষরোপণ এবং তা থেকে মানুষ ও প্রাণিকুলের উপকৃত হওয়ার মাঝে মহানবি (স.)-এর সুপ্রসিদ্ধ 'বৃক্ষরোপণ ও সদকায়ে জারিয়া সংক্রান্ত' হাদিসের শিক্ষা ফুটে উঠেছে; সমাজজীবনে এর প্রভাব অপরিসীম।
রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেছেন— 'কোনো মুসলমান যদি একটি বৃক্ষ রোপণ করে আর তা থেকে কোনো মানুষ, পাখি বা চতুষ্পদ প্রাণী ভক্ষণ করে, তবে তা তার জন্য সদকা হিসেবে গণ্য হবে' (সহিহ বুখারি)।
বৃক্ষরোপণের ফলে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা হয়, প্রাকৃতিক বিপর্যয় রোধ হয় এবং সমাজ নির্মল অক্সিজেন ও পুষ্টিকর ফলমূল লাভ করে। এর চেয়েও বড় বিষয় হলো রোপণকারীর মৃত্যুর পরও কবরে অবিরাম সাওয়াব জারি থাকে।
সুতরাং, বৃক্ষরোপণ সমাজের প্রাকৃতিক সুরক্ষা ও পরকালীন কল্যাণের এক মহৎ মাধ্যম।
ওয়াদা পালন করা ঈমানের অবিচ্ছেদ্য অংশ; যে ব্যক্তি চুক্তি ভঙ্গ করে ও প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে না, সে দ্বীনের অন্যতম মৌলিক নির্দেশ অমান্য করে বলেই রাসুল (স.) এ কথা বলেছেন।
ওয়াদা ভঙ্গ করা মুনাফিকির সুস্পষ্ট আলামত।
নাসির সাহেবের দৈনিক পাঁচবার বাধ্যতামূলকভাবে পবিত্রতার সাথে আদায়কৃত শারীরিক ইবাদতটি হলো ইসলামের দ্বিতীয় স্তম্ভ 'সালাত' (নামাজ)।
সালাত হলো মুমিনের জন্য শ্রেষ্ঠতম শারীরিক ইবাদত ও দ্বীনের খুঁটি। রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেছেন— 'সালাত হলো জান্নাতের চাবিকাঠি' (তিরমিজি)। সালাত মানুষকে যাবতীয় অশ্লীল ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে এবং আল্লাহর নৈকট্য এনে দেয়।
নাসির সাহেব পরিবারসহ এই ফরজ বিধান পালন করে খাঁটি মুমিনের দায়িত্ব পালন করছেন।
চিহ্নিত করলে দেখা যায়— নাজিম সাহেবের বছরান্তে উদ্বৃত্ত সম্পদ থেকে রিকশা, ভ্যান ও সেলাই মেশিন কিনে বিতরণ করার কর্মকাণ্ডটি ইসলামের তৃতীয় স্তম্ভ 'যাকাত'-এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ; সমাজ গঠনে এর গুরুত্ব অপরিসীম।
নাজিম সাহেব সাময়িক ত্রাণের পরিবর্তে দারিদ্র্যপীড়িতদের কর্মসংস্থানের স্থায়ী উপকরণ (রিকশা, সেলাই মেশিন) প্রদান করেছেন। এর ফলে দরিদ্র পরিবারগুলো নিজেরাই উপার্জনক্ষম হয়ে উঠেছে এবং এলাকা থেকে স্থায়ীভাবে দারিদ্র্য দূর হয়েছে।
যাকাতের মূল দর্শনই হলো সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করা, বেকারত্ব দূর করা এবং ধনী-দরিদ্রের মধ্যকার বৈষম্য ঘুচিয়ে একটি স্বনির্ভর ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলা।
সুতরাং, নাজিম সাহেবের মতো টেকসই যাকাত ব্যবস্থাপনাই একটি সমাজকে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এনে দিতে পারে।
কিয়ামতের দিন মহান আল্লাহ তায়ালা মিজান স্থাপন করে সকল মানুষের আমলের সূক্ষ্ম ও নিখুঁত বিচার করবেন এবং কারো ওপর কোনো জুলুম করা হবে না বোঝাতেই আল্লাহ এ কথা বলেছেন।
এদিন অনুপরিমাণ ভালো ও মন্দ কাজেরও প্রতিদান দেওয়া হবে।
রাফি সাহেবের বিদেশের বিপুল বেতনের লোভ প্রত্যাখ্যান করে দেশের মাটি ও মানুষের সেবায় জীবন উৎসর্গ করার মাঝে আখলাকে হামিদাহর অন্যতম শ্রেষ্ঠ গুণ 'স্বদেশপ্রেম' (হুব্বুল ওয়াতন) প্রকাশ পেয়েছে।
ইসলামে নিজের দেশকে ভালোবাসা ও দেশের সমৃদ্ধির জন্য নিঃস্বার্থভাবে কাজ করা ঈমানের দাবি। রাসুলুল্লাহ (স.) নিজের জন্মভূমি মক্কাকে অত্যন্ত ভালোবাসতেন। রাফি সাহেব ব্যক্তিগত লোভের ঊর্ধ্বে মাতৃভূমির প্রতি গভীর দায়িত্বশীলতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
তাঁর এই আত্মত্যাগ ও দেশসেবা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।
চিহ্নিত করলে দেখা যায়— কমরু মিয়ার চরম অভাবের মাঝেও দুধে পানি না মিশিয়ে 'আল্লাহ সবকিছু দেখছেন' বলে সততা বজায় রাখার চরিত্রে আখলাকে হামিদাহর মূলভিত্তি 'তাকওয়া' (আল্লাহভীতি) প্রকাশ পেয়েছে; নৈতিক জীবন গঠনে এর প্রভাব অপরিসীম।
তাকওয়া হলো মানুষের মনে এই অনুভূতি জাগ্রত রাখা যে— মানুষ গোপনে বা প্রকাশ্যে যা-ই করুক না কেন, আল্লাহ তায়ালা সবকিছু প্রত্যক্ষ করছেন। রাসুলুল্লাহ (স.) ঘোষণা করেছেন— 'যে ব্যক্তি পণ্যে ভেজাল বা ধোঁকা দেয়, সে আমার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত নয়' (সহিহ মুসলিম)।
কমরু মিয়ার মতো তাকওয়াবান কৃষক ও ব্যবসায়ীরা সমাজে থাকলে খাদ্যে ভেজাল, ওজনে কম দেওয়া ও প্রতারণা চিরতরে বন্ধ হয়। তাকওয়া মানুষকে সৎ, লোভহীন ও পরকালীন জবাবদিহিতার আলোয় আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে।
সুতরাং, নৈতিক ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনে কমরু মিয়ার মতো তাকওয়ার চর্চা অপরিহার্য।
শিক্ষক ছাত্রকে সন্তানের মতো পরম স্নেহ দিয়ে জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করেন এবং ছাত্র শিক্ষককে আজীবন শ্রদ্ধা ও ভক্তি প্রদর্শন করে; এই আধ্যাত্মিক ও আন্তরিক বন্ধনের কারণেই একে আত্মার সম্পর্ক বলা হয়।
উভয়ের শ্রদ্ধা ও স্নেহের মাঝেই শিক্ষার পূর্ণতা আসে।
আবু অনভিজ্ঞ হওয়া সত্ত্বেও সরকারি কর্মকর্তাকে অতিরিক্ত উপঢৌকন দিয়ে কাজ বাগিয়ে নেওয়ার মাঝে আখলাকে যামিমাহর জঘন্য রূপ 'ঘুষ' (রিশওয়াত) প্রকাশ পেয়েছে।
ইসলামি শরিয়তে ঘুষ সম্পূর্ণ হারাম ও কবিরা গুনাহ। রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেছেন— 'ঘুষদাতা ও ঘুষ গ্রহণকারী উভয়েই জাহান্নামি' (তিরমিজি)। ঘুষের কারণে যোগ্য ব্যক্তিরা বঞ্চিত হয়, অযোগ্যদের দ্বারা রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় ঘটে এবং অবকাঠামো দুর্বল হয়ে সমাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
আবু দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে সমাজে অবিচার ছড়িয়ে দিয়েছে।
চিহ্নিত করলে দেখা যায়— সোহাগের মূলধনের ওপর নির্দিষ্ট অতিরিক্ত টাকার বিনিময়ে ঋণ দেওয়া এবং একে ঝুঁকিহীন মনে করে টাকার পাহাড় গড়ার কার্যকলাপ আখলাকে যামিমাহর চরম অভিশপ্ত বিষয় 'সুদ' (রিবা)-এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ; সমাজজীবনে এর কুফল ও পরিণতি অত্যন্ত ধ্বংসাত্মক।
আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে সুদকে সম্পূর্ণ হারাম ঘোষণা করে ইরশাদ করেছেন— 'আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং সুদকে হারাম করেছেন' (সুরা আল-বাকারা: ২৭৫)। সুদের মাধ্যমে ধনীরা দরিদ্রদের শ্রম ও কষ্টকে শোষণ করে স্ফীত হয় এবং সমাজে অর্থনৈতিক ভারসাম্য ধ্বংস হয়।
সুদখোরদের বিরুদ্ধে আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (স.) যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। হাদিসে সুদখোর ও সুদের সাক্ষীদের ওপর অভিশাপ দেওয়া হয়েছে। পরকালে সুদখোররা জাহান্নামের কঠিন আজাবে নিপতিত হবে।
অতএব, সোহাগের উচিত অবিলম্বে এই অবৈধ সুদি কারবার বন্ধ করে হালাল উপার্জনে ফিরে আসা।
দৃশ্যপট-১ : ইছাপুর গ্রামের যুব পরিষদের উদ্দ্যোগে বার্ষিক ওয়াজ মাহফিলের প্রধান অতিথির আলোচনায় মাওলানা ইমাদ উদ্দীন একজন মুসলিম মহামনীষীর জীবনী আলোচনার এক পর্যায়ে বলেন, তিনি এমন এক মহামানব ছিলেন যার সংকলিত গ্রন্থটিকে আল কোরআনের পর সবচেয়ে বিশুদ্ধ গ্রন্থ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
দৃশ্যপট-২ : সুলতানপুর গ্রামের মসজিদ কমিটির উদ্যোগে “মাসয়ালা-মাসাইল শিক্ষা” বিষয়ক সেমিনারে বিশেষ অতিথি মাওলানা ছালিক আহমদ তার আলোচনার এক পর্যায়ে একজন মহামনীষীর অবদানের কথা স্মরণ করে বলেন, তিনি রাষ্ট্রের বিভিন্ন আইনের তত্ত্বকে বোর্ড গঠনের মাধ্যমে সহজ করে জনসাধারণের জন্য তুলে ধরেন। এ জন্য সরকারপ্রধান তাকে রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ দিতে চাইলে তিনি তা নিতে রাজি হননি। যার ফলে তিনি অনেক যুলুম-নির্যাতনের শিকার হন।
মক্কা বিজয়ের দিন মহানবি (স.) তাঁর দীর্ঘদিনের চরম অত্যাচারী মক্কার কুরাইশদের প্রতিশোধ না নিয়ে নিঃশর্ত সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করে পৃথিবীর ইতিহাসে ক্ষমার অনন্য শ্রেষ্ঠ নজির স্থাপন করে এ কথা বলেছিলেন।
তিনি শত্রুকেও পরম ক্ষমা দিয়ে আপন করে নিয়েছিলেন।
দৃশ্যপট-১ এ মাওলানা ইমাদ উদ্দীনের আলোচনায় কুরআন মাজিদের পর সর্বাধিক বিশুদ্ধ গ্রন্থ 'সহিহ বুখারি'-র রচয়িতা যে মহান মনীষীর প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে, তিনি হলেন হাদিসসম্রাট 'ইমাম বুখারি (র.)' (১৯৪-২৫৬ হি.)।
তিনি ইলমে হাদিসের সংরক্ষণে বৈপ্লবিক অবদান রাখেন। তিনি দীর্ঘ ১৬ বছর কঠোর সাধনা করে প্রায় ছয় লক্ষ হাদিস থেকে পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে বিশুদ্ধতম হাদিসগুলো সংকলন করেন। তাঁর সংকলিত 'সহিহ বুখারি' মুসলিম বিশ্বে 'আসাহহুল কুতুব বা’দা কিতাবিল্লাহ' (কুরআনের পর সর্বাধিক বিশুদ্ধ গ্রন্থ) হিসেবে সর্বজনস্বীকৃত।
তাঁর এই অবদানের ফলেই রাসুল (স.)-এর সুন্নাহ জাল হাদিসের মিশ্রণ থেকে চিরতরে রক্ষা পায়।
চিহ্নিত করলে দেখা যায়— দৃশ্যপট-২ এ বোর্ড গঠনের মাধ্যমে আইন সংকলন এবং সরকারের পদ প্রত্যাখ্যান করে জুলুমের শিকার হওয়া মহান মনীষী হলেন ফিকহশাস্ত্রের স্থপতি 'ইমাম আবু হানিফা (র.)' (৮০-১৫০ হি.); ফিকহশাস্ত্রে তাঁর অবদান অবিসংবাদিত।
ইমাম আবু হানিফা (র.) ছিলেন ফিকহশাস্ত্রের জনক ও হানাফি মাজহাবের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি ইসলামি আইনকে নিয়মতান্ত্রিক প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার জন্য ৪০ জন শ্রেষ্ঠ মুজতাহিদ ফকিহর সমন্বয়ে বিশ্বের প্রথম 'ফিকহ একাডেমি' বা আইন সংকলন বোর্ড প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁরা ত্রিশ বছর গবেষণা করে সমকালীন ও ভবিষ্যৎ জীবনের প্রায় ৮৩ হাজার জটিল মাসআলার সমাধান লিপিবদ্ধ করেন।
শাসক মানসুর তাঁকে প্রধান বিচারপতির পদ নিতে চাপ দিলে তিনি শরিয়তের স্বাধীন ব্যাখ্যার স্বার্থে তা প্রত্যাখ্যান করে কারাবরণ করেন এবং কারাগারেই বিষপ্রয়োগে শাহাদাতবরণ করেন।
সুতরাং, ফিকহশাস্ত্রে ইমাম আবু হানিফা (র.)-এর এই আত্মত্যাগ ও অবদান চিরদিন মানবজাতির পথপ্রদর্শক হয়ে থাকবে।
ইমান অর্থ অন্তরের সুদৃঢ় বিশ্বাস এবং ইসলাম অর্থ আল্লাহর নির্দেশের কাছে নিজেকে সঁপে দিয়ে বাস্তব জীবনে আনুগত্য প্রদর্শন করা।
ইমান হলো মূল ভিত্তি আর ইসলাম হলো তার বহিঃপ্রকাশ। অন্তরে খাঁটি বিশ্বাস ছাড়া কোনো বাহ্যিক আনুগত্য যেমন গ্রহণযোগ্য নয়, তেমনি সৎ আমল ছাড়া অন্তরের ঈমানের পূর্ণতা অর্জিত হয় না। তাই ইমান ও ইসলাম পরস্পর অবিচ্ছেদ্য।
কাফির ব্যক্তি আল্লাহর অসীম ক্ষমতা, রহমত ও আখিরাতের চিরন্তন জীবনে বিশ্বাস করে না; ফলে পার্থিব জীবনের সাময়িক বিপদ-আপদ বা ব্যর্থতায় সে কোনো আত্মিক আশ্রয় খুঁজে পায় না।
তকদির ও আল্লাহর সাহায্য থেকে বঞ্চিত ভেবে সে চরম মানসিক বিষাদ ও হতাশায় নিমজ্জিত হয় এবং অনেক সময় আত্মহত্যার মতো পথ বেছে নেয়।
নিফাক বা কপটতা হলো অন্তরে কুফর গোপন রেখে মুখে মুসলমান দাবি করা। নিফাকের কারণে মানুষের চরিত্র ধ্বংস হয় এবং সমাজে বিশ্বাসহীনতা ও চরম বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে।
আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে ঘোষণা করেছেন— মুনাফিকদের স্থান হবে জাহান্নামের সর্বনিম্ন ও সর্বাপেক্ষা যন্ত্রণাদায়ক স্তরে (সুরা আন-নিসা: ১৪৫)। তাই পরকালের কঠিন আজাব থেকে বাঁচতে নিফাক বর্জন অপরিহার্য।
জান্নাত হলো পরকালে মুমিন বান্দাদের জন্য মহান আল্লাহর প্রস্তুতকৃত চিরস্থায়ী পরম শান্তির আবাস্থল।
জান্নাতে এমন সব অতুলনীয় নিয়ামত রয়েছে যা কোনো চোখ কখনো দেখেনি, কোনো কান কখনো শোনেনি এবং কোনো মানুষের অন্তরেও কখনো কল্পিত হয়নি। সেখানে কোনো দুঃখ, রোগশোক বা বার্ধক্য নেই; মুমিনগণ সেখানে চিরকাল অফুরন্ত আনন্দ ও আল্লাহর সন্তুষ্টিতে বসবাস করবেন।
ইসলামি শরিয়ত হলো মহান আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত মানবজাতির সামগ্রিক ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ, অর্থনীতি ও বিচার পরিচালনার পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান।
শরিয়তের মাধ্যমেই মানুষ হালাল-হারাম, ন্যায়-অন্যায়ের সুস্পষ্ট সীমারেখা জানতে পারে এবং একটি সুখী, সুশৃঙ্খল ও পাপমুক্ত সমাজ গঠন করে পরকালীন মুক্তির পথ খুঁজে পায়।
তাজবিদ মেনে হরফের সঠিক মাখরাজ ও সিফাত অনুযায়ী শুদ্ধ উচ্চারণে কুরআন পাঠ করা অত্যন্ত জরুরি।
আরবি ভাষায় সামান্য উচ্চারণের তারতম্যে শব্দের অর্থ সম্পূর্ণ বদলে যায়; যার ফলে আয়াতের মূল অর্থ বিকৃত হয়ে মারাত্মক পাপ হতে পারে এবং সালাত নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই শুদ্ধভাবে কুরআন তিলাওয়াত করতে তাজবিদ শেখা আবশ্যক।
রাসুলুল্লাহ (স.)-এর ওফাতের পর কোনো যুগের সমকালীন বিজ্ঞ মুজতাহিদ আলেমগণের কোনো ধর্মীয় বিষয়ে সর্বসম্মত ঐকমত্য পোষণ করাকে 'ইজমা' বলে।
রাসুলুল্লাহ (স.) ঘোষণা করেছেন— 'আমার উম্মত কখনো পথভ্রষ্টতার ওপর একমত হবে না' (তিরমিজি)। ইজমার মাধ্যমে পরিবর্তিত যুগে নতুন সমস্যার সম্মিলিত সমাধান নিশ্চিত হয় বলেই এটি শরিয়তের তৃতীয় অবিসংবাদিত উৎস।
যখন কুরআন, সুন্নাহ এবং ইজমার মধ্যে কোনো নবসৃষ্ট সমকালীন সমস্যার সরাসরি সমাধান পাওয়া যায় না, তখন কিয়াসের প্রয়োগ অপরিহার্য হয়ে পড়ে।
মুজতাহিদ আলেমগণ কুরআন ও সুন্নাহর প্রতিষ্ঠিত মূল বিধানের কার্যকর কারণের (ইল্লত) সাথে নতুন সমস্যার তুলনা করে শরিয়তের মূল চেতনার আলোকে সমাধান প্রদান করেন।
যাকাত ধনী ও দরিদ্রের মধ্যকার বৈষম্য এবং দূরত্বের প্রাচীর ভেঙে দিয়ে উভয়ের মাঝে পারস্পরিক সহানুভূতি, ভালোবাসা ও সৌহার্দ্যের বন্ধন তৈরি করে।
হাদিস শরিফে রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেছেন— 'যাকাত হলো ইসলামের সেতুবন্ধ' (বায়হাকি)। যাকাতের মাধ্যমে ধনীদের সম্পদে গরিবদের অধিকার আদায় হয় এবং সমাজে শান্তি ও অর্থনৈতিক ভারসাম্য কায়েম হয়।
শ্রমিকের সম্মান ও অধিকার নিশ্চিত করতে মহানবি (স.) এই কালজয়ী নির্দেশনা দিয়েছেন।
এই হাদিসের মর্মবাণী হলো— শ্রমিকের কাজের ন্যায্য মজুরি কোনো প্রকার বিলম্ব বা টালবাহানা ছাড়া অবিলম্বে পরিশোধ করতে হবে। শ্রমিকের মজুরি আটকে রাখা বা কম দেওয়া ইসলামে চরম অবিচার ও ক্ষমার অযোগ্য পাপ।
জ্ঞান বা ইলম ছাড়া মানুষ তার স্রষ্টা মহান আল্লাহকে চিনতে পারে না এবং সঠিক ইবাদত ও হালাল-হারামের পার্থক্য অনুধাবন করতে পারে না।
জ্ঞানহীন মানুষ বিভ্রান্তি ও পাপে লিপ্ত হয়। এ কারণেই রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেছেন— 'প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর ওপর ইলম অর্জন করা ফরজ' (ইবনে মাজাহ)।
ইসলামি শরিয়তের পরিভাষায় সমাজের যেকোনো প্রকার অন্যায়, অপরাধ, পাপাচার, দুর্নীতি ও অশ্লীল কাজ থেকে মানুষকে বিরত রাখা বা নিষেধ করাকে 'নাহি আনিল মুনকার' বলে।
এটি সমাজকে অবক্ষয় থেকে রক্ষা করার জন্য একটি অপরিহার্য সমষ্টিগত দায়িত্ব।
কারো অনুপস্থিতিতে তার এমন কোনো দোষ-ত্রুটি বা দুর্বলতা অন্যের কাছে প্রকাশ করা যা শুনলে সে কষ্ট পায় বা অসন্তুষ্ট হয়, তাকে 'গিবত' বা পরনিন্দা বলে।
বর্ণিত বিষয়টি সত্য হলেও তা গিবত হিসেবে গণ্য হয়, আর মিথ্যা হলে তা হয় অপবাদ (বুহতান); যা আরও মারাত্মক পাপ।
মক্কার কুরাইশদের অসহনীয় জুলুম-নির্যাতন, ইসলাম প্রচারে প্রচণ্ড বাধা এবং মহানবি (স.)-কে হত্যার ষড়যন্ত্রের প্রেক্ষিতে মহান আল্লাহর সুস্পষ্ট নির্দেশে তিনি মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করেন।
হিজরতের মূল লক্ষ্য ছিল সত্য দ্বীনকে সুরক্ষা দেওয়া এবং মদিনায় একটি স্বাধীন, শান্তিময় ও আদর্শ ইসলামি রাষ্ট্র কায়েম করা।
দশম হিজরিতে আরাফাতের ময়দানে মহানবি (স.) প্রদত্ত বিদায় হজের ঐতিহাসিক ভাষণ হলো সমগ্র মানবজাতির জন্য সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মানবাধিকার সনদ।
এই ভাষণে তিনি বর্ণবাদ ও সামাজিক বৈষম্যের বিলোপ, নারীর মর্যাদা ও অধিকার, দাস-শ্রমিকের সুরক্ষা, আমানত রক্ষা এবং কুরআন ও সুন্নাহ অনুসরণের চূড়ান্ত রূপরেখা ঘোষণা করে দ্বীনের পূর্ণাঙ্গতা নিশ্চিত করেছিলেন।