কিয়ামতের দিন মহান আল্লাহ তায়ালা মিজান স্থাপন করে সকল বান্দার ভালো ও মন্দ কাজের সূক্ষ্ম ও নিরপেক্ষ বিচার করবেন এবং কারো প্রতি কোনো অবিচার করা হবে না বোঝাতেই আল্লাহ এ কথা বলেছেন।
এদিন অনুপরিমাণ কাজেরও হিসাব নেওয়া হবে।
আলিয়ার বাবার পীরের পায়ে মাথা নত করে সন্তান চাওয়া এবং পীরের নামে গরু জবাই করার মানতের মাঝে ইসলামে ক্ষমার অযোগ্য জঘন্য মহাপাপ 'শিরক' (আল্লাহর ক্ষমতায় ও অধিকারে সৃষ্টিকে অংশীদার করা) প্রকাশ পেয়েছে।
সন্তান দেওয়া, রোগমুক্তি দান ও কল্যাণ করার নিরঙ্কুশ ক্ষমতা একমাত্র মহান আল্লাহর। কোনো পীর বা সৃষ্টির কাছে সন্তান চাওয়া এবং আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে পশু জবাই করা সুস্পষ্ট শিরক ও হারাম। আল-কুরআনে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন— 'নিশ্চয়ই শিরক হলো সবচেয়ে বড় জুলুম' (সুরা লুকমান: ১৩)।
শিরককারী তওবা না করলে চিরকাল জাহান্নামে জ্বলবে।
উম্মতে মুহাম্মাদি হলো শ্রেষ্ঠ উম্মত; কারণ তাদের ওপর সমগ্র মানবজাতিকে সৎকাজের আদেশ দেওয়া ও অসৎকাজ থেকে নিষেধ করার এবং বিশ্বময় শান্তি প্রতিষ্ঠার মহান দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে বোঝাতেই আল্লাহ এ কথা বলেছেন।
এই দায়িত্ব পালনের মাধ্যমেই শ্রেষ্ঠত্বের মর্যাদা রক্ষা পায়।
ইসলাম শিক্ষা শিক্ষক কাফিরদের অত্যাচারে মহানবি (স.)-কে সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য অবতীর্ণ যে সুরার প্রতি ইঙ্গিত করেছেন, তা হলো পবিত্র কুরআনের ৯৩তম সুরা 'সুরা আদ-দুহা' (ও ৯৪তম সুরা আল-ইনশিরাহ)।
সুরা আদ-দুহার শিক্ষা হলো— কাফিরদের ঠাট্টা-বিদ্রূপে হতাশ হওয়া যাবে না; মহান আল্লাহ কখনো তাঁর প্রিয় রাসুল ও মুমিন বান্দাদের পরিত্যাগ করেন না। পার্থিব জীবনের সাময়িক কষ্টের পর পরকালে রয়েছে অফুরন্ত কল্যাণ ও সাফল্য।
বিপদে আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা রাখা ও এতিম-মিসকিনকে সাহায্য করাই এই সুরার শিক্ষা।
চিহ্নিত করলে দেখা যায়— খতিব সাহেবের আলোচনায় শপথের মাধ্যমে মানুষকে শ্রেষ্ঠ অবয়বে সৃষ্টির যে সুরার শিক্ষা ফুটে উঠেছে, তা হলো পবিত্র কুরআনের ৯৫তম সুরা 'সুরা আত-তীন'; মানবজীবনে এই সুরার শিক্ষা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
সুরা আত-তীনে আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করেছেন— 'লাক্বাদ খালাক্বনাল ইনসানা ফি আহসানি তাক্বওয়ীম' অর্থাৎ আমি মানুষকে সর্বোত্তম গঠনে সৃষ্টি করেছি। আল্লাহ মানুষকে জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও সর্বোত্তম অবয়ব দিয়ে সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ মর্যাদা দিয়েছেন। তবে মানুষ যদি তার এই মর্যাদা ভুলে পাপে লিপ্ত হয়, তবে সে পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট স্তরে নেমে যায়।
মানুষের এই শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখার একমাত্র উপায় হলো আল্লাহর প্রতি খাঁটি ঈমান আনা এবং নেক আমল সম্পাদন করা।
সুতরাং, সুরা আত-তীন মানবজাতিকে আত্মশুদ্ধি ও নৈতিকতার শীর্ষ চূড়ায় আরোহণের পথ নির্দেশ করে।
মহানবি (স.) সমগ্র মানবজাতিকে অজ্ঞতার অন্ধকার থেকে মুক্ত করে ঐশী জ্ঞান, নৈতিকতা ও আদর্শ চরিত্রের শিক্ষাদানকারী হিসেবে আল্লাহ কর্তৃক প্রেরিত হয়েছিলেন বোঝাতেই তিনি এ কথা বলেছেন।
তিনি ছিলেন মানবতার সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ শিক্ষক।
মায়মুনার ঝগড়া থেকে বিরত থাকা ও যার প্রতিদান আল্লাহ নিজে দেওয়ার কথা বলায় সে ইসলামের অন্যতম ফরজ স্তম্ভ 'সাওম' (রোজা) পালন করেছে।
সাওমের নৈতিক শিক্ষা হলো— এটি মানুষকে আত্মসংযম, ধৈর্য, পরোপকার ও সহনশীলতা শিক্ষা দেয়। হাদিসে রাসুলুল্লাহ (স.) নির্দেশ দিয়েছেন— 'রোজা থাকা অবস্থায় কেউ ঝগড়া করতে এলে সে যেন বলে: আমি রোজাদার' (সহিহ বুখারি)। সাওম পালনের মাধ্যমে অন্তরে তাকওয়া সৃষ্টি হয় এবং হিংসা-বিদ্বেষ দূর হয়।
মায়মুয়া সাওমের এই নৈতিক শিক্ষাই বাস্তবে প্রয়োগ করেছে।
চিহ্নিত করলে দেখা যায়— সাবিহার পিতার মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকা এবং কিয়ামতে সর্বপ্রথম হিসাব গ্রহণকৃত যে ইবাদতটি পালনের কথা বলেছেন, তা হলো ইসলামের দ্বিতীয় স্তম্ভ 'সালাত' (নামাজ); এর ধর্মীয় গুরুত্ব অপরিসীম।
সালাত হলো মুমিনের জন্য শ্রেষ্ঠ দৈহিক ইবাদত এবং দ্বীন ইসলামের মূল খুঁটি। রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেছেন— 'কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম বান্দার সালাতের হিসাব নেওয়া হবে' (তিরমিজি)। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন— 'নিশ্চয়ই সালাত মানুষকে অশ্লীল ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে' (সুরা আল-আনকাবুত: ৪৫)।
সালাতের মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর নৈকট্য লাভ করে এবং তার সমস্ত গুনাহ মাফ হয়ে যায়। সালাত ত্যাগকারী ঈমানের গণ্ডি থেকে দূরে সরে যায়।
সুতরাং, সাবিহার পিতার উপদেশ অনুযায়ী নিয়মিত সালাত কায়েম করাই পরকালীন মুক্তির একমাত্র পথ।
দৃশ্যকল্প-১: শরীফ সাহেব দীর্ঘদিন বিদেশে পড়াশোনা করে দেশে ফিরে আসেন। তার নিজ গ্রামে এসে দেখেন গ্রামের উত্তর পাড়া ও দক্ষিণ পাড়ার মধ্যকার দীর্ঘদিনের বিবাদ এখনো চলমান। তিনি এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করে উক্ত বিবাদ সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। সকলের সহযোগিতায় কিছু গুরুত্বপূর্ণ ধারা সম্বলিত একটি নীতিমালা তৈরি করেন, যা সকল গ্রামবাসী মেনে নিতে বাধ্য হয়।
দৃশ্যকল্প-২: হাবীব সাহেব এলাকার জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়ে সম্মিলিত জনতার উদ্দেশ্যে প্রদত্ত ভাষণে তিনি বলেন, আজ থেকে এলাকার ধনী-দরিদ্র সকলে সমান অধিকার ভোগ করবে। ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি চলবে না। অধীনস্তদের সাথে সৎ ব্যবহার করতে হবে। আজ যারা উপস্থিত আছেন, তারা অনুপস্থিতদের কাছে আমার বক্তব্য পৌঁছে দিবেন।
ইসলামি ফিকহশাস্ত্রকে সুবিন্যস্ত প্রাতিষ্ঠানিক রূপদান এবং মানবজীবনের যাবতীয় ধর্মীয় ও আইনি সমস্যার পদ্ধতিগত সমাধানে ইমাম আবু হানিফা (র.)-এর গবেষণা ছিল পথপ্রদর্শক বলেই ইমাম শাফেয়ী (র.) এ কথা বলেছেন।
ফিকহশাস্ত্রে তাঁর অবদান অবিসংবাদিত।
জনাব শরীফ সাহেবের বিবাদমান দুই পক্ষের বিরোধ মীমাংসায় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে লিখিত চুক্তি প্রণয়নের মহতী উদ্যোগ মহানবি (স.)-এর ঐতিহাসিক 'মদিনা সনদ' (৬২২ খ্রি.) প্রণয়নের সাথে চমৎকারভাবে সাদৃশ্যপূর্ণ।
মদিনায় হিজরতের পর আওস ও খাজরাজ গোত্রের দীর্ঘদিনের রক্তক্ষয়ী বিবাদ এবং মুসলিম ও ইহুদিদের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য রাসুলুল্লাহ (স.) ৪৭টি ধারাসংবলিত লিখিত মদিনা সনদ সম্পাদন করেছিলেন।
শরীফ সাহেবও মহানবি (স.)-এর সেই যুগান্তকারী সনদের অনুকরণে সমাজে স্থায়ী শান্তি ফিরিয়ে এনেছেন।
চিহ্নিত করলে দেখা যায়— হাবীব সাহেবের ভাষণে ধনী-দরিদ্রের সমঅধিকার, ধর্মীয় সম্প্রীতি এবং অনুপস্থিতদের কাছে বার্তা পৌঁছানোর আহ্বান মহানবি (স.)-এর ঐতিহাসিক 'বিদায় হজের ভাষণ'-এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ; মানবসমাজে এই ভাষণের গুরুত্ব অপরিসীম।
দশম হিজরিতে আরাফাতের ময়দানে মহানবি (স.) প্রদত্ত বিদায় হজের ভাষণ হলো সমগ্র মানবজাতির জন্য সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মানবাধিকারের দলিল। এই ভাষণে তিনি বর্ণবাদ ও সামাজিক বৈষম্য বিলোপ করে সকল মানুষকে ভাই ভাই ঘোষণা করেন। তিনি নারীর সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন এবং অধীনস্তদের সাথে ভাইয়ের মতো আচরণের নির্দেশ দেন।
তিনি দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ ঘোষণা করে কুরআন ও সুন্নাহকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরার নির্দেশ দেন এবং উপস্থিত সাহাবিদের নির্দেশ দেন অনুপস্থিতদের কাছে এই বাণী পৌঁছে দিতে।
সুতরাং, বিদায় হজের শ্বাশত শিক্ষাই একটি শোষণমুক্ত, সমতাভিত্তিক ও শান্তিময় সমাজ প্রতিষ্ঠার একমাত্র ভিত্তি।
পাপ ও অবাধ্যতা মানুষের আত্মিক চোখ অন্ধ করে দেয় এবং অন্তরের নূর বিনষ্ট করে; তাই ইলমের পবিত্র নূর অন্তরে ধারণ করার পূর্বশর্ত হলো যাবতীয় পাপ বর্জন করা।
ইমাম শাফেয়ী (র.) তাঁর উস্তাদ ইমাম ওয়াকির বরাতে এই পরম সত্য ব্যক্ত করেছিলেন।
শাফি সাহেবের শ্রমিকদের ন্যায্য বোনাস ও মজুরি প্রদানে গড়িমসি করার কর্মকাণ্ডে ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ 'শ্রমিকের হক নষ্ট ও আমানতের খেয়ানত করার' মারাত্মক অবিচার প্রকাশ পেয়েছে।
ইসলামে শ্রমিকের অধিকারকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (স.) নির্দেশ দিয়েছেন— 'শ্রমিকের গায়ের ঘাম শুকানোর আগেই তার পারিশ্রমিক পরিশোধ করো' (ইবনে মাজাহ)। হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করেছেন— কিয়ামতের দিন তিনি নিজেই ঐ ব্যক্তির বিরুদ্ধে বাদী হবেন যে শ্রমিকের দ্বারা কাজ করিয়ে নিয়ে তার ন্যায্য মজুরি দেয় না।
শাফি সাহেব দায়িত্বহীন আচরণ করে কারখানায় চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছেন।
চিহ্নিত করলে দেখা যায়— কাফি সাহেবের সম্পদের নির্দিষ্ট অংশ দরিদ্রদের মাঝে বিতরণ করার কর্মকাণ্ডটি ইসলামের অন্যতম মৌলিক স্তম্ভ 'যাকাত'; সমাজ থেকে দারিদ্র্য দূরীকরণে এর ভূমিকা অপরিসীম।
সুরা আয-যারিয়াতের ১৯ নম্বর আয়াত অনুযায়ী— ধনীদের সম্পদে অভাবগ্রস্তদের নির্ধারিত হক রয়েছে। এটি কোনো দয়া নয়, বরং গরিবের ন্যায্য অধিকার। কাফি সাহেব এই ঐশী বিধান মেনে সমাজে সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করেছেন।
যাকাত ব্যবস্থার মাধ্যমে অলস সম্পদ উৎপাদনশীল খাতে প্রবাহিত হয়, দরিদ্র মানুষের কর্মসংস্থান ও চিকিৎসার ব্যবস্থা হয় এবং ধনী-দরিদ্রের মধ্যকার সামাজিক দূরত্ব দূর হয়ে ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়। এর ফলে সমাজে অপরাধপ্রবণতা হ্রাস পায় এবং স্থায়ীভাবে দারিদ্র্য নির্মূল হয়।
সুতরাং, কাফি সাহেবের মতো যাকাত প্রদানই একটি সুখী ও সমৃদ্ধ সমাজ গঠনের চাবিকাঠি।
দৃশ্যকল্প-১: রিহান স্থানীয় এক বিক্রেতার কাছ থেকে পনেরো দিন পর টাকা পরিশোধ করে দেওয়ার শর্তে বাকিতে দশ বস্তা সিমেন্ট ক্রয় করে। নির্দিষ্ট সময় পর বাকি টাকা পরিশোধের জন্য বলা হলে সে বলে আগামী মাসে বেতন পেয়েই তোমার টাকা পরিশোধ করে দিব। এভাবে প্রায় ছয় মাস অতিবাহিত হয়ে যায় কিন্তু সে টাকা পরিশোধ করেনি। এতে ক্রেতা-বিক্রেতার মাঝে সম্পর্কের অবনতি ঘটে।
দৃশ্যকল্প-২: মিলন মিয়া 'ক' বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার সহপাঠী আশরাফের নামে নানা রকম অঙ্গভঙ্গি ও কটু কথার মাধ্যমে অন্যান্য সহপাঠীদের কাছে সমালোচনা করে। এই বিষয়টি জানতে পেরে আশরাফ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক রহমত আলী স্যারের কাছে নালিশ করে। রহমত আলী স্যার মিলনকে ডেকে নিয়ে বললেন, তোমার এই কাজটি অত্যন্ত ঘৃণিত। তুমি নিশ্চয়ই তোমার মৃত ভাইয়ের গোশত খেতে ভালোবাসবে না।
নিজের জন্মভূমি ও মাতৃভূমিকে আন্তরিকভাবে ভালোবাসা এবং দেশের স্বাধীনতা ও সম্পদ রক্ষা করা ঈমানের অন্যতম বহিঃপ্রকাশ ও দাবি বোঝাতেই এ কথা বলা হয়েছে।
দেশপ্রেম মানুষকে দেশের সেবায় আত্মনিয়োগের প্রেরণা জোগায়।
রিহানের পনেরো দিনের শর্তে সিমেন্ট কিনে বারবার সময়ক্ষেপণ করে ছয় মাস পরও টাকা পরিশোধ না করার মাঝে আখলাকে হামিদাহর অন্যতম প্রধান স্তম্ভ 'ওয়াদা ও অঙ্গীকার রক্ষা' চরমভাবে লঙ্ঘিত হয়েছে।
ইসলামে যেকোনো শর্ত ও প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা ওয়াজিব। আল-কুরআনে আল্লাহ তায়ালা নির্দেশ দিয়েছেন— 'তোমরা প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করো; নিশ্চয়ই প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে' (সুরা বনি ইসরাইল: ৩৪)। ওয়াদা ভঙ্গ করা মুনাফিকির আলামত।
রিহান ওয়াদা ভঙ্গ করে পারস্পরিক বিশ্বাস ও ব্যবসায়িক সম্পর্কের চরম ক্ষতি করেছে।
চিহ্নিত করলে দেখা যায়— দৃশ্যকল্প-২ এ মিলনের সহপাঠী আশরাফের অনুপস্থিতিতে নানা অঙ্গভঙ্গিতে সমালোচনা করার কর্মকাণ্ডটি হলো ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ জঘন্যতম পাপ 'গিবত' (পরনিন্দা); এ বিষয়ে রহমত আলী স্যারের উক্তিটির তাৎপর্য নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন— 'তোমরা পরস্পরের গিবত করো না; তোমাদের কেউ কি তার মৃত ভাইয়ের গোশত খেতে পছন্দ করবে? বস্তুত তোমরা তো একে ঘৃণাই করো' (সুরা আল-হুজুরাত: ১২)। হাদিস শরিফে রাসুলুল্লাহ (স.) ঘোষণা করেছেন— 'গিবত ব্যভিচারের চেয়েও মারাত্মক পাপ' (মিশকাত)।
গিবতের মাধ্যমে মানুষের সামাজিক সম্মান ও মর্যাদা ধূলিসাৎ করা হয়। রহমত আলী স্যার মিলনের বিবেক জাগ্রত করতে কুরআনের সেই রূপক দৃষ্টান্ত তুলে ধরেছেন যে— পরনিন্দা করা মৃত মানুষের গোশত খাওয়ার মতোই নিকৃষ্ট কাজ।
সুতরাং, মিলনকে অবিলম্বে আশরাফের কাছে ক্ষমা চেয়ে আল্লাহর দরবারে তাওবা করা অপরিহার্য।
দেশের স্বাধীনতা রক্ষা, জাতীয় সম্পদের হেফাজত এবং দেশবাসীর সেবায় নিয়োজিত থাকা আল্লাহর সন্তুষ্টির কারণ বিধায় এটি শরিয়তে এক মহৎ ইবাদত হিসেবে গণ্য হয়।
দেশসেবা মুমিনের ধর্মীয় দায়িত্বের অংশ।
ব্যবসায়ী সুমনের দরিদ্র প্রতিবেশীর দশ হাজার টাকা ধারের বিপরীতে বারো হাজার টাকা ফেরত নেওয়ার শর্ত দেওয়ার মাঝে আখলাকে যামিমাহর চরম অভিশপ্ত রূপ 'সুদ' (রিবা) প্রকাশ পেয়েছে।
ইসলামি শরিয়তে সুদ সম্পূর্ণ হারাম ও কবিরা গুনাহ। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন— 'আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং সুদকে হারাম করেছেন' (সুরা আল-বাকারা: ২৭৫)। সুদের মাধ্যমে মানুষ অন্যের অভাবের সুযোগ নিয়ে শোষণ চালায়।
সুমন প্রতিবেশীত্ব ও মানবিকতার অবমাননা করে মারাত্মক পাপে লিপ্ত হয়েছে।
চিহ্নিত করলে দেখা যায়— সাবিহা খাতুনের স্বামীর দুধে পানি মেশানোর প্রস্তাব দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করার চরিত্রে আখলাকে হামিদাহর শ্রেষ্ঠ ভিত্তি 'তাকওয়া ও সততা' প্রকাশ পেয়েছে; এ বিষয়ে তাঁর 'এতে সাময়িক লাভ হলেও প্রকৃত সফলতা থেকে বঞ্চিত হব' উক্তিটি শতভাগ সত্য ও যথার্থ।
ইসলামে পণ্যে ভেজাল মেশানো এবং ধোঁকা দেওয়া সম্পূর্ণ হারাম। রাসুলুল্লাহ (স.) সুস্পষ্ট ঘোষণা করেছেন— 'মান গাশ্শা ফาลัยসা মিন্না' অর্থাৎ যে ব্যক্তি প্রতারণা বা ভেজাল দেয়, সে আমার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত নয় (সহিহ মুসলিম)।
দুধে পানি মিশিয়ে সাময়িক কিছু অবৈধ টাকা আয় করা গেলেও তা হারাম উপার্জন, যার কারণে পরিবারে বরকত নষ্ট হয় এবং পরকালে কঠিন জাহান্নামের শাস্তি নিশ্চিত হয়। সাবিহা খাতুন আল্লাহর ভয়কে প্রাধান্য দিয়ে খাঁটি মুমিনের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
সুতরাং, সততা ও হালাল উপার্জনেই ইহলৌকিক বরকত ও পরকালীন চিরন্তন সফলতা নিহিত।
তকদির হলো আল্লাহর পূর্বনির্ধারিত জ্ঞান ও পরিমাপ; তকদিরে বিশ্বাস মানুষকে জীবনে চরম বিপদে ধৈর্য ধারণ করতে এবং বড় সাফল্যেও অহংকারমুক্ত থাকতে শেখায় বলেই এতে বিশ্বাস জরুরি।
তকদিরে বিশ্বাস ঈমানের অন্যতম মৌলিক স্তম্ভ।
হামজার জন্ম-মৃত্যুকে কেবল প্রাকৃতিক নিয়ম মনে করা এবং কাউকে এর নিয়ন্ত্রক না ভেবে দায়িত্বহীন জীবনযাপনের মাঝে আকাইদের মূল স্তম্ভ 'আল্লাহর রুবুবিয়্যাত (প্রভুত্ব) ও তকদিরে বিশ্বাস' চরমভাবে লঙ্ঘিত হয়েছে।
ইসলামি আকাইদ অনুযায়ী— প্রতিটি মানুষের জীবন, মৃত্যু, রিযিক ও ভাগ্যের চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রণ একমাত্র মহান আল্লাহর হাতে। জন্ম-মৃত্যুকে প্রাকৃতিক কাকতালীয় ঘটনা ভাবা নাস্তিক্যবাদী দৃষ্টিভঙ্গি, যা তাওহিদকে অস্বীকার করার শামিল।
হামজা ভ্রান্ত ধারণায় পতিত হয়ে ইসলামের মৌলিক বিশ্বাস থেকে বিচ্যুত হয়েছে।
চিহ্নিত করলে দেখা যায়— আশিকের আসরের সালাত বর্জন করা এবং সালাত পড়াকে 'সময় নষ্ট' বলে তাচ্ছিল্য করার জঘন্য কর্মে 'কুফরি ও দ্বীনের ফরজের চরম অবমাননা' ফুটে উঠেছে; এ বিষয়ে আমিরের 'এদের স্থান জাহান্নামে' উক্তিটি শতভাগ কুরআনসম্মত ও যথার্থ।
সালাত হলো ইসলামের দ্বিতীয় স্তম্ভ ও ফরজে আইন। শরিয়তের কোনো স্পষ্ট ফরজ বিধানকে অপ্রয়োজনীয় ভাবা বা তা নিয়ে তাচ্ছিল্য করা সুস্পষ্ট কুফর, যা মানুষকে ঈমানের গণ্ডি থেকে বের করে দেয়।
পবিত্র কুরআনের সুরা আল-মুদ্দাচ্ছিরে বলা হয়েছে— জান্নাতবাসীরা জাহান্নামিদের জিজ্ঞেস করবে: 'তোমাদের কোন জিনিসটি সাকার জাহান্নামে নিক্ষেপ করেছে? তারা বলবে: আমরা সালাত আদায়কারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম না' (আয়াত: ৪২-৪৩)।
সুতরাং, আমিরের সতর্কবাণী আশিকের চরম পাপ ও পরকালীন ভয়াবহ শাস্তির বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছে।
আখিরাতের প্রথম গুরুত্বপূর্ণ স্তর হলো 'কবরের জীবন' বা 'আলমে বারযাখ'।
মানুষের মৃত্যুর পর থেকে কিয়ামতে পুনরুত্থানের পূর্ববর্তী সময়কালকে বারযাখ বলে। কবরে মুনকার ও নাকির নামক দুজন ফেরেশতা এসে বান্দাকে তার রব, দ্বীন ও নবি সম্পর্কে তিনটি প্রশ্ন করবেন। নেককার বান্দা সঠিক উত্তর দিয়ে শান্তিতে থাকবে আর পাপী বান্দা কঠিন আজাবে নিপতিত হবে।
ইমান ও ইসলামের সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়, অবিচ্ছেদ্য ও পরিপূরক।
ইমান হলো অন্তরের সুদৃঢ় বিশ্বাস আর ইসলাম হলো সেই বিশ্বাসের আলোকে আল্লাহর যাবতীয় হুকুমের সামনে আত্মসমর্পণ ও বাস্তব আমল। অন্তরে বিশ্বাস ছাড়া বাহ্যিক আমল বৃথা, আবার বাস্তব আনুগত্য ছাড়া ঈমানের দাবি অসম্পূর্ণ। তাই একটি ছাড়া অপরটি অর্থহীন।
পবিত্র কুরআনের সুরা আল-আহযাবের ৪০ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ তায়ালা হযরত মুহাম্মদ (স.)-কে 'খাতামুন নাবিয়্যিন' অর্থাৎ নবিগণের সিলমোহর বা সমাপ্তকারী ঘোষণা করেছেন।
হযরত আদম (আ.) থেকে শুরু হওয়া নবুয়তের ধারাক্রম মহানবি (স.)-এর মাধ্যমেই পূর্ণতা লাভ করে চিরতরে সমাপ্ত হয়েছে; তাঁর পর কিয়ামত পর্যন্ত আর কোনো নবি বা রাসুল আসবেন না বলেই তাঁকে খাতামুন নাবিয়্যিন বলা হয়।
মানবজাতিকে পথভ্রষ্টতা, পৌত্তলিকতা ও অন্ধকারের হাত থেকে রক্ষা করে এক আল্লাহর তাওহিদের পথে পরিচালিত করার উদ্দেশ্যেই নবি-রাসুলগণকে প্রেরণ করা হয়েছিল।
তাঁরা মানুষকে হালাল-হারামের সীমারেখা শিক্ষা দিয়েছেন, উত্তম চরিত্রের বাস্তব জীবনাদর্শ দেখিয়েছেন এবং আল্লাহর নির্দেশিত পথে চলে পরকালে জান্নাত লাভের উপায় প্রদর্শন করেছেন।
মীমের ফলদ আমগাছের বাগান তৈরি করার মহতী কাজে মহানবি (স.)-এর 'বৃক্ষরোপণ ও সদকায়ে জারিয়া সংক্রান্ত' হাদিসের শিক্ষা প্রতিফলিত হয়েছে।
রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেছেন— 'কোনো মুসলমান যদি একটি বৃক্ষ রোপণ করে আর তা থেকে কোনো মানুষ বা প্রাণী ফল আহার করে, তবে তা তার জন্য সদকা হিসেবে গণ্য হবে' (সহিহ বুখারি)। এর শিক্ষা হলো বৃক্ষরোপণ পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি মৃত্যুর পরও অব্যাহত নেকি পাওয়ার এক মহান উপায়।
৬২২ খ্রিস্টাব্দে মহানবি (স.) মদিনায় হিজরতের পর মুসলিম, ইহুদি ও অন্যান্য সম্প্রদায়ের মধ্যে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রণীত বিশ্বের প্রথম লিখিত সংবিধানকে 'মদিনা সনদ' বলে।
এর গুরুত্বপূর্ণ দুটি ধারা হলো:
১. সনদে স্বাক্ষরকারী সকল সম্প্রদায় পূর্ণ ধর্মীয় স্বাধীনতা ভোগ করবে; কেউ কারো ধর্মে হস্তক্ষেপ করবে না।
২. মদিনা আক্রান্ত হলে সকল সম্প্রদায় যৌথভাবে শত্রুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।
জিহাদ ও সন্ত্রাসবাদ সম্পূর্ণ বিপরীতধর্মী দুটি প্রত্যয়। জিহাদ অর্থ অন্যায়, অবিচার, জুলুম ও শয়তানি শক্তির বিরুদ্ধে আত্মরক্ষা, সত্য প্রতিষ্ঠা ও ন্যায়ের সংগ্রামে চূড়ান্ত প্রচেষ্টা চালানো; যার মূল লক্ষ্য সমাজে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা করা।
পক্ষান্তরে সন্ত্রাসবাদ হলো ব্যক্তিস্বার্থ বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নিরপরাধ মানুষ হত্যা, ভয়ভীতি সৃষ্টি ও বিশৃঙ্খলা ছড়ানো। ইসলামে নিরপরাধ মানুষ হত্যা ও সন্ত্রাসকে সম্পূর্ণ হারাম ও ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
আল্লাহ তায়ালা বান্দার বাহ্যিক শারীরিক অবয়ব দেখেন না; বরং অন্তরের বিশুদ্ধ নিয়ত ও ইখলাস বিবেচনা করে আমলের সাওয়াব নির্ধারণ করেন।
রাসুলুল্লাহ (স.) স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেছেন— 'ইন্নামাল আমালু বিন নিয়্যাত' অর্থাৎ নিশ্চয়ই সকল কাজের ফলাফল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল (সহিহ বুখারি)। নিয়ত যদি একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য না হয়ে লোকদেখানোর জন্য হয়, তবে তা মূল্যহীন হয়ে যায়।
ইমাম আবু হানিফা (র.) ইসলামি আইনশাস্ত্রকে সুশৃঙ্খল ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার জন্য শীর্ষ চল্লিশজন মুজতাহিদ ফকিহ ও আলেমের সমন্বয়ে যে আইন সংকলন পরিষদ গঠন করেছিলেন, তাকে 'ফিকাহ বোর্ড' বলা হয়।
এই বোর্ড দীর্ঘ ত্রিশ বছর কঠোর গবেষণা করে কুরআন-সুন্নাহ ও কিয়াসের ভিত্তিতে মানবজীবনের প্রায় ৮৩ হাজার জটিল মাসআলার সমাধান সংকলন করে হানাফি মাজহাবের ভিত্তি স্থাপন করেছিল।
'ক' কর্মকর্তার উৎকোচ বা ঘুষ ছাড়া ফাইলে স্বাক্ষর না করার জঘন্য অপরাধের মারাত্মক কুফল নিচে দেওয়া হলো:
১. সামাজিক ধ্বংস: ঘুষের কারণে সাধারণ মানুষ তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হয় এবং সমাজে দুর্নীতি ও অবিচার চরম আকার ধারণ করে।
২. পরকালীন শাস্তি: হাদিস শরিফে রাসুলুল্লাহ (স.) ঘোষণা করেছেন— 'ঘুষদাতা ও ঘুষ গ্রহণকারী উভয়েই জাহান্নামি' (তিরমিজি)। ঘুষখোর ব্যক্তি আল্লাহর অভিশাপের পাত্র হয়।
নিজ দেশকে ভালোবাসার সর্বোত্তম উপায় হলো— দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা, জাতীয় সম্পদের যত্ন নেওয়া ও অপচয় রোধ করা, আইন মেনে চলা, সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করা এবং দেশ ও দেশবাসীর কল্যাণে নিঃস্বার্থভাবে কাজ করা।
মাতৃভূমির শান্তি ও সমৃদ্ধিতে অবদান রাখাই দেশপ্রেমের বাস্তব প্রকাশ।
পিতামাতা সন্তানকে জন্ম দিয়ে শারীরিক লালন-পালন করেন, আর শিক্ষক শিক্ষার্থীকে অজ্ঞানতার অন্ধকার থেকে মুক্ত করে জ্ঞান, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধের আলোয় আত্মিকভাবে আলোকিত ও আদর্শ মানুষ রূপে গড়ে তোলেন।
আত্মিক জীবন গঠনে অসামান্য অবদানের কারণেই ইসলামে পিতামাতার পরেই শিক্ষকের মর্যাদা সর্বোচ্চ স্থানে নির্ধারণ করা হয়েছে।
কিয়াসের মৌলিক দুটি নীতিমালা হলো:
১. মূল বিধানের অস্তিত্ব: যে বিষয়ের সাথে তুলনা করা হবে, তার বিধান অবশ্যই কুরআন, সুন্নাহ বা ইজমার সুস্পষ্ট দলিলের মাধ্যমে প্রমাণিত হতে হবে।
২. কার্যকর কারণের সমতা: মূল বিষয় এবং নতুন বিষয়ের মধ্যে কার্যকর কারণ (ইল্লত) হুবহু একই হতে হবে; কোনো বৈসাদৃশ্য থাকা চলবে না।
কুরআন মাজিদ দেখে দেখে তাজবিদ মেনে বিশুদ্ধভাবে পাঠ করাকে নাযিরা তিলাওয়াত বলে।
আরবি হরফের সঠিক মাখরাজ, সিফাত, হরকত ও মদের নিয়মগুলো স্মৃতিতে স্থায়ীভাবে গেঁথে নেওয়ার জন্য নাযিরা তিলাওয়াত অত্যন্ত জরুরি। দেখে দেখে নিয়মিত চর্চা না করলে তিলাওয়াতে মারাত্মক ভুলত্রুটির সৃষ্টি হয়, যা সালাতকেও নষ্ট করে দিতে পারে।
মিযানের অসাধারণ স্মৃতির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ প্রখ্যাত মনীষী হলেন হাদিসসম্রাট 'ইমাম বুখারি (র.)'।
তিনি শৈশবেই মাত্র এগারো বছর বয়সে হাজার হাজার হাদিস সনদসহ মুখস্থ করেছিলেন। তাঁর স্মৃতিশক্তি এত প্রখর ছিল যে কোনো কিতাব একবার দেখলেই তা হুবহু তাঁর স্মৃতিতে সংরক্ষিত হয়ে যেত। তিনি সনদসহ প্রায় এক লক্ষ বিশুদ্ধ এবং দুই লক্ষ অন্যান্য হাদিস মুখস্থ রেখেছিলেন।