কুমিল্লা বোর্ড ২০২৬
১. খবির মিয়া দুনিয়ার লোভে এতোই লিপ্ত যে, অন্যের ক্ষতি করতে কুণ্ঠাবোধ করে না। লোক সমাজে চলাফেরা করার সময় তার ব্যবহার খুবই মার্জিত কিন্তু লোক চক্ষুর অন্তরালে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে বেড়ায়। এমনকি লেনদেনের ক্ষেত্রে কথা ও কাজের মিল নেই। অপরদিকে, দবির মিয়ার ধারণা পৃথিবীতে যখন মানবতার চরম বিপর্যয় ঘটবে তখন আল্লাহ পাক তাদের সংশোধনের জন্য মহামানব প্রেরণ করবেন।
উত্তর ইসলামি পরিভাষায় মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর পবিত্র জীবনচরিত ও জীবনযাত্রার ধারাবাহিক ইতিহাসকে 'সিরাত' বলে।
উত্তর

মানবজাতিকে সত্য, ন্যায় ও একত্ববাদের সঠিক পথে পরিচালনার জন্য আল্লাহ তায়ালা পৃথিবীর প্রতিটি জাতি ও জনপদে যুগে যুগে নবি-রাসুল ও পথপ্রদর্শক প্রেরণ করেছিলেন বোঝাতেই পবিত্র কুরআনে এ কথা বলা হয়েছে।

আল্লাহ তায়ালা কোনো জাতিকে সতর্ককারী পথপ্রদর্শক ছাড়া ছেড়ে দেননি।

উত্তর

খবির মিয়ার লোকসমাজে মার্জিত ব্যবহার করা অথচ লোকচক্ষুর অন্তরালে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা এবং লেনদেনে কথা ও কাজের মিল না রাখার মাঝে চরম জঘন্য পাপ 'নিফাক' (কপটতা বা মুনাফিকি) প্রকাশ পেয়েছে।

হাদিস শরিফে রাসুলুল্লাহ (স.) মুনাফিকের তিনটি মূল লক্ষণ বর্ণনা করেছেন— 'যখন কথা বলে মিথ্যা বলে, যখন ওয়াদা করে ভঙ্গ করে এবং আমানত রাখলে খেয়ানত করে' (সহিহ বুখারি)। খবির মিয়া প্রকাশ্যে ভালো সেজে গোপনে অন্যায়ে লিপ্ত হয়ে খাঁটি মুনাফিকের চরিত্র ধারণ করেছে।

মুনাফিকদের এই দ্বিমুখী চরিত্র সমাজ ও ধর্মের চরম শত্রু।

উত্তর

চিহ্নিত করলে দেখা যায়— দবির মিয়ার ভবিষ্যতে আবার নতুন মহামানব বা পথপ্রদর্শক আগমনের ধারণাটি আকাইদের মৌলিক স্তম্ভ 'খতমে নবুয়ত' (নবুয়তের সমাপ্তি)-এর বিশ্বাসের সম্পূর্ণ পরিপন্থি; এতে বিশ্বাস রাখা ঈমানের জন্য অপরিহার্য।

খতমে নবুয়তের অকাট্য আকিদা হলো— হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর আগমনের মাধ্যমেই নবুয়তের ধারাক্রম চিরতরে সমাপ্ত হয়েছে; কিয়ামত পর্যন্ত আর কোনো নবি বা রাসুল আসবেন না। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা সুস্পষ্ট ঘোষণা করেছেন— 'মুহাম্মদ (স.) তোমাদের কোনো পুরুষের পিতা নন, বরং তিনি আল্লাহর রাসুল এবং সর্বশেষ নবি' (সুরা আল-আহযাব: ৪০)।

দবির মিয়া কিয়ামত পর্যন্ত নতুন নবি আসার সম্ভাবনা বিশ্বাস করে কুরআনের এই অকাট্য ঐশী ঘোষণাকে অমান্য করেছে। খতমে নবুয়ত অস্বীকার করলে মানুষের সমস্ত ইমান বাতিল হয়ে যায়।

সুতরাং, রাসুলুল্লাহ (স.)-কে শেষ নবি হিসেবে পূর্ণাঙ্গ অন্তরে বিশ্বাস করাই ইসলামের অপরিহার্য মূলভিত্তি।

২. জনাব আব্দুল হাকিম একজন শিল্পপতি। তিনি তার এলাকার অসহায় দরিদ্র পরিবারের সকল প্রকার সহযোগিতা করেন। তাই ওই এলাকার সকল অসহায় পরিবার তাকে রিজিকদাতা মনে করে। পক্ষান্তরে, জনাব আব্দুল হাকিমের বন্ধু জনাব হেমায়েত এলাকায় একটি মেলা চালু করে। তাতে মদ ও জুয়ার আসর বসিয়ে টাকা উপার্জনকে অবৈধ মনে করেন না।
উত্তর কুরআন, সুন্নাহ ও ইজমার মধ্যে কোনো বিষয়ের স্পষ্ট সমাধান না পেলে প্রতিষ্ঠিত বিধানের কার্যকর কারণের সাথে তুলনা করে নতুন সমস্যার সমাধান নির্ণয় করাকে 'কিয়াস' বলে।
উত্তর

তকদির হলো আল্লাহর নির্ধারিত ভাগ্য ও পরিমাপ; তকদিরে বিশ্বাস মানুষকে বিপদে ধৈর্য ধারণ করতে শেখায় এবং চরম সাফল্যেও অহংকারমুক্ত রেখে আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রাখতে শেখায় বলেই এতে বিশ্বাস গুরুত্বপূর্ণ।

তকদিরে বিশ্বাস ঈমানের অন্যতম স্তম্ভ।

উত্তর

উদ্দীপকে দরিদ্র লোকদের শিল্পপতি আব্দুল হাকিমকে 'রিজিকদাতা' মনে করার বিশ্বাসে অজ্ঞতাবশত চরম মারাত্মক পাপ 'শিরক' (আল্লাহর ক্ষমতায় অন্যকে অংশীদার স্থাপন) প্রকাশ পেয়েছে।

ইসলামি আকাইদ অনুযায়ী একমাত্র মহান আল্লাহ তায়ালা হলেন নিখিল জাহানের একক 'রাযযাক' বা রিজিকদাতা। মানুষ কেবল আল্লাহর দেওয়া নিয়ামত বিতরণের একটি বাহ্যিক মাধ্যম মাত্র। কাউকে প্রকৃত রিজিকদাতা মনে করা আল্লাহর রুবুবিয়্যাত বা প্রভৃত্বের বৈশিষ্ট্যে সরাসরি অংশীদারিত্বের শামিল।

দরিদ্রদের এই অন্ধবিশ্বাস তাওহিদের মূল চেতনার পরিপন্থি।

উত্তর

চিহ্নিত করলে দেখা যায়— জনাব হেমায়েতের মদ ও জুয়ার আসর বসিয়ে টাকা উপার্জনকে অবৈধ মনে না করার কর্মে 'হারামকে হালাল মনে করার কুফরি বিশ্বাস' ফুটে উঠেছে; সমাজে ও পরকালে এর পরিণতি অত্যন্ত ধ্বংসাত্মক।

ইসলামি শরিয়তে মদ ও জুয়াকে আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে স্পষ্টভাবে হারাম ঘোষণা করেছেন (সুরা আল-মায়িদা: ৯০)। আল্লাহর অকাট্য হারাম বিধানকে জেনে-বুঝে হালাল বা বৈধ মনে করা সুস্পষ্ট কুফর, যা মানুষকে ইসলাম থেকে বের করে দেয়।

মদ ও জুয়ার কারণে সমাজে পারিবারিক কলহ, অপরাধপ্রবণতা, মারামারি, চুরি-ডাকাতি ও নৈতিক অবক্ষয় ছড়িয়ে পড়ে। পরকালে হারাম উপার্জনের শাস্তি হলো জাহান্নামের লেলিহান আগুন।

অতএব, হেমায়েতের উচিত অবিলম্বে এই পাপাচার থেকে ফিরে এসে আল্লাহর কাছে খাঁটি দিলে তাওবা করা।

৩. সামী তার বন্ধুবান্ধবদের সাথে গল্প করার সময় অন্যের অনুপস্থিতে প্রায়ই দোষ-ত্রুটি নিয়ে সমালোচনা করে। আত্মীয়স্বজনেরও দোষ খুঁজে বেড়ায়। অপরদিকে, জামি এলাকার মানুষকে ঋণ দিয়ে মূল টাকার চেয়ে বেশি অর্থ আদায় করে থাকে। এ কাজে তার বাবা অনেকবার নিষেধ করলেও তাতে কোনো কর্ণপাত করে না।
উত্তর নিজের জন্মভূমি ও দেশকে আন্তরিকভাবে ভালোবাসা এবং দেশের উন্নয়ন ও স্বাধীনতা রক্ষায় দায়িত্বশীল থাকাকে 'স্বদেশপ্রেম' বলে।
উত্তর

সমাজে অন্যায় ও অপকর্ম হতে দেখলে একজন সচেতন মুমিনের দায়িত্ব হলো যথাসম্ভব শক্তি দিয়ে তা প্রতিহত করা, তা সম্ভব না হলে কথার মাধ্যমে প্রতিবাদ করা এবং তাও সম্ভব না হলে অন্তর দিয়ে ঘৃণা করা।

অন্যায় রুখে দেওয়া ইসলামি সমাজের সমষ্টিগত ঈমানি দায়িত্ব।

উত্তর

সামীর বন্ধুবান্ধবদের সাথে গল্প করার সময় অন্যের অনুপস্থিতিতে দোষ-ত্রুটি নিয়ে সমালোচনা করা ও আত্মীয়দের খুঁত ধরার মাঝে আখলাকে যামিমাহর জঘন্য রূপ 'গিবত' (পরনিন্দা) ফুটে উঠেছে।

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন— 'তোমরা পরস্পরের গিবত করো না; তোমাদের কেউ কি তার মৃত ভাইয়ের গোশত খাওয়া পছন্দ করবে? বস্তুত তোমরা তো একে ঘৃণাই করো' (সুরা আল-হুজুরাত: ১২)। হাদিসে গিবতকে ব্যভিচারের চেয়েও মারাত্মক পাপ বলা হয়েছে।

সামী অন্যের সম্মানহানি করে মারাত্মক কবিরা গুনাহে লিপ্ত হয়েছে।

উত্তর

চিহ্নিত করলে দেখা যায়— জামির ঋণ দিয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের কর্মকাণ্ডটি হলো ইসলামে চরম অভিশপ্ত 'সুদ' (রিবা); ইসলামি শরিয়তে এর সামাজিক ও পরকালীন পরিণাম অত্যন্ত ভয়াবহ।

আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে সুদকে সম্পূর্ণ হারাম ঘোষণা করে ইরশাদ করেছেন— 'আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং সুদকে হারাম করেছেন' (সুরা আল-বাকারা: ২৭৫)। সুদের মাধ্যমে ধনীরা দরিদ্রের ওপর নির্মম শোষণ চালায় এবং সমাজে বৈষম্য চরম আকার ধারণ করে।

সুদখোরদের বিরুদ্ধে আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (স.) যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। হাদিসে সুদখোর, সুদের লেখক ও সাক্ষীদের ওপর অভিশাপ দেওয়া হয়েছে। কিয়ামতের দিন সুদখোররা পাগল বা শয়তানের স্পর্শে বিকৃত মস্তিষ্কের মানুষের মতো পুনরুত্থিত হবে।

সুতরাং, জামির এই সর্বনাশা সুদি কারবার অবিলম্বে ত্যাগ করা অপরিহার্য।

৪. সবুজ সকাল বেলা রাস্তা দিয়ে হাটছিল। সে দেখল তার এলাকার কিশোররা পরিবেশ নষ্ট করছে। সবুজ তাদেরকে বোঝায় নিজ মাতৃভূমিকে এভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা ঠিক নয়। অন্যদিকে, রাকিব তার বন্ধুর কাছে থেকে তিন দিনের মধ্যে ফেরৎ দেওয়ার শর্তে কিছু টাকা ধার নেয়। কিন্তু সময় অতিবাহিত হলেও সে উক্ত ঋণ পরিশোধ করে না।
উত্তর আল্লাহর ভয়ে যাবতীয় পাপাচার ও হারাম থেকে নিজেকে বিরত রেখে পুতপবিত্র জীবনযাপন করাকে শরিয়তের পরিভাষায় 'তাকওয়া' বলে।
উত্তর

মানুষকে ইসলামের সুন্দর নীতি, ন্যায়পরায়ণতা, ইবাদত ও সমাজকল্যাণমূলক ভালো কাজের উপদেশ ও উৎসাহ দেওয়াকে 'আমর বিল মারুফ' বা সৎকাজের আদেশ বলে।

সৎকাজের নির্দেশের মাধ্যমে সমাজে শান্তি ও কল্যাণ ছড়িয়ে পড়ে।

উত্তর

সবুজের মাতৃভূমির পরিবেশ নষ্ট না করার জন্য কিশোরদের বোঝানোর বক্তব্যে আখলাকে হামিদাহর অন্যতম শ্রেষ্ঠ শাখা 'স্বদেশপ্রেম' (হুব্বুল ওয়াতন) প্রকাশ পেয়েছে।

ইসলামে নিজ দেশের পরিবেশ, সম্পদ ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করা দেশপ্রেমের অবিচ্ছেদ্য অংশ। রাসুলুল্লাহ (স.) নিজের জন্মভূমি মক্কা ও হিজরতের ভূমি মদিনার পবিত্রতা ও কল্যাণের জন্য সর্বদা সচেষ্ট ছিলেন। সবুজ দেশের পরিবেশ সুরক্ষার সচেতনতা সৃষ্টি করে নাগরিক ও ধর্মীয় দায়িত্ব পালন করেছে।

মাতৃভূমির প্রতি ভালোবাসা ও দায়িত্বশীলতার দিক থেকেই সবুজের কাজটি অত্যন্ত প্রশংসনীয়।

উত্তর

চিহ্নিত করলে দেখা যায়— রাকিবের নির্দিষ্ট সময়ে ঋণ পরিশোধ না করে সময়ক্ষেপণ করার কর্মকাণ্ডে আখলাকে হামিদাহর অন্যতম প্রধান স্তম্ভ 'ওয়াদা ও অঙ্গীকার রক্ষা' লঙ্ঘিত হয়েছে; মানবজীবনে এর গুরুত্ব অপরিসীম।

ইসলামে কৃত ওয়াদা ও শর্ত পূরণ করা ফরজের মতো গুরুত্বপূর্ণ। আল-কুরআনে আল্লাহ তায়ালা নির্দেশ দিয়েছেন— 'তোমরা প্রতিশ্রুতি পূরণ করো; নিশ্চয়ই প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে' (সুরা বনি ইসরাইল: ৩৪)। ওয়াদা রক্ষা না করা মুনাফিকির লক্ষণ।

সমাজে পারস্পরিক লেনদেন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সামাজিক শান্তি বজায় রাখার মূলভিত্তি হলো ওয়াদা পালন। ওয়াদা ভঙ্গ করলে মানুষের পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাস নষ্ট হয়ে যায়।

অতএব, রাকিবের উচিত অবিলম্বে ঋণ পরিশোধ করে কৃত অঙ্গীকার রক্ষা করা।

৫.

দৃশ্যকল্প-১: রাশেদ সাহেব ক্ষুধা ও পিপাসায় তীব্র যন্ত্রণা সহ্য করে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত পালন করে।

দৃশ্যকল্প-২: হাসান সাহেব একজন ধনাঢ্য ব্যবসায়ী। তিনি এ বছর রমযান মাসে গ্রামের কিছু গরিব লোকের মাঝে শাড়ি ও লুঙ্গি বিতরণ করেছেন।

দৃশ্যকল্প-৩: সরোয়ার সাহেব একজন সরকারি কর্মকর্তা। তিনি তার সমুদয় সম্পদ হিসাব করে নির্দিষ্ট হারে যে পরিমাণ টাকা হয় তা দিয়ে কয়েকটি সেলাই মেশিন কিনে গ্রামের কয়েকজন গরিব ও অসহায় মহিলাকে প্রদান করেন।

উত্তর সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নিয়তসহ যাবতীয় পানাহার ও ইন্দ্রিয়তৃপ্তি থেকে বিরত থাকাকে 'সাওম' বলে।
উত্তর

ইসলামে মালিক ও শ্রমিকের সম্পর্ক হলো ভ্রাতৃত্ব ও সহানুভূতির; যেখানে মালিক শ্রমিককে ভাই মনে করে সাধ্যাতীত কাজের বোঝা চাপাবে না এবং ঘাম শুকানোর আগেই ন্যায্য পারিশ্রমিক প্রদান করবে।

উভয়ের পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধে কর্মক্ষেত্রের শৃঙ্খলা ও শান্তি নিশ্চিত হয়।

উত্তর

দৃশ্যকল্প-১ এ রাশেদ সাহেবের ক্ষুধা ও পিপাসার তীব্র কষ্ট সহ্য করে পালনকৃত গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতটি হলো ইসলামের অন্যতম ফরজ স্তম্ভ 'সাওম' (রোজা)।

সাওমের মূল লক্ষ্য হলো অন্তরে তাকওয়া বা আল্লাহভীতি সৃষ্টি করা এবং গরিব-অনাহারীদের কষ্টের অনুভূতি জাগ্রত করে আত্মসংযম শিক্ষা দেওয়া। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন— 'তোমাদের ওপর সাওম ফরজ করা হয়েছে যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো' (সুরা আল-বাকারা: ১৮৩)।

রাশেদ সাহেব এই আত্মশুদ্ধিমূলক মহান ইবাদত পালন করে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করছেন।

উত্তর

চিহ্নিত করলে দেখা যায়— দৃশ্যকল্প-২ ও ৩ এ হাসান সাহেব ও সরোয়ার সাহেবের পালনকৃত ইবাদতটি হলো 'যাকাত'; তবে যাকাত বণ্টনের দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা ও সমাজকল্যাণের ক্ষেত্রে সরোয়ার সাহেবের পদ্ধতিটিই অধিক উপযোগী ও বিজ্ঞানসম্মত।

হাসান সাহেব কেবল সাময়িক ত্রাণ হিসেবে শাড়ি-লুঙ্গি বিতরণ করেছেন, যা দিয়ে দরিদ্র মানুষের অভাব স্থায়ীভাবে দূর হয় না। পক্ষান্তরে, সরোয়ার সাহেব সম্পদের নিখুঁত হিসাব করে সেই অর্থ দিয়ে দরিদ্র নারীদের সেলাই মেশিন প্রদান করেছেন, যা তাদের জন্য স্থায়ী আয়ের পথ উন্মুক্ত করেছে।

ইসলামে যাকাতের মূল দর্শন হলো— দরিদ্র ব্যক্তিকে এমনভাবে পুনর্বাসন করা যাতে সে ভবিষ্যতে নিজেই সাবলম্বী হয়ে ওঠে এবং পরনির্ভরশীলতা চিরতরে ঘুচে যায়। সরোয়ার সাহেবের সেলাই মেশিন কিনে দেওয়ার মাধ্যমে দরিদ্র পরিবারগুলো স্থায়ী সচ্ছলতা লাভ করেছে।

সুতরাং, টেকসই দারিদ্র্য বিমোচন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রে সরোয়ার সাহেবের পদ্ধতিই ইসলামের যাকাত ব্যবস্থার সাথে সর্বাধিক সংগতিপূর্ণ।

৬. রবিউল ইয়াতিমদের সাহায্য করে না। কখনো সালাত আদায় করে; কখনো আদায় করে না। প্রতিবেশীরা চাইলেও বাসার ছোটোখাটো দ্রব্যাদি রবিউল তাদের দেয় না। আর তার বন্ধু সাখাওয়াত এমন একটি ফজিলতপূর্ণ বাক্য সকলকে শিখালেন যা মিযানের পাল্লায় খুবই ভারী হবে।
উত্তর কুরআন মাজিদের দিকে তাকিয়ে দেখে দেখে তাজবিদ মেনে বিশুদ্ধভাবে তিলাওয়াত করাকে 'নাযিরা তিলাওয়াত' বলে।
উত্তর

ইসলামি শরিয়ত হলো মানুষের ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও আন্তর্জাতিক জীবনের সম্পূর্ণ নির্ভুল পথপ্রদর্শক; আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন ও পরকালীন মুক্তির জন্য শরিয়তের বিধান মানা অপরিহার্য।

শরিয়ত অনুসরণের মাধ্যমেই সমাজে শান্তি, সাম্য ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়।

উত্তর

সাখাওয়াতের মিযানের পাল্লায় ভারী হওয়ার ফজিলতপূর্ণ বাক্যটি রাসুলুল্লাহ (স.)-এর সুপ্রসিদ্ধ 'কালিমাতানে হাবিবার সংক্রান্ত' হাদিসের আলোকে শিক্ষণীয় জিকির।

হাদিস শরিফে রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেছেন— 'দুটি বাক্য এমন রয়েছে যা মুখে উচ্চারণ করতে অত্যন্ত সহজ, মিযানের পাল্লায় অত্যন্ত ভারী এবং দয়াময় আল্লাহর নিকট অত্যন্ত প্রিয়; বাক্য দুটি হলো: সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি, সুবহানাল্লাহিল আযীম' (সহিহ বুখারি)।

সাখাওয়াত এই পুণ্যময় জিকির শিখিয়ে আল্লাহর নৈকট্য ও পরকালীন মুক্তির সহজ পথ দেখিয়েছে।

উত্তর

চিহ্নিত করলে দেখা যায়— রবিউলের এতিমদের সাহায্য না করা, অনিয়মিত সালাত আদায় এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় তৈজসপত্র আটকে রাখার চরিত্রে পবিত্র কুরআনের ১০৭তম সুরা 'সুরা আল-মাউন'-এর বিষয়বস্তু ফুটে উঠেছে; মানবজীবনে এই সূরার শিক্ষা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

সুরা আল-মাউনে আল্লাহ তায়ালা বিচার দিবস অস্বীকারকারী ও কপট মানুষের চারিত্রিক ত্রুটি তুলে ধরে ইরশাদ করেছেন— যারা এতিমদের তাড়িয়ে দেয়, মিসকিনদের অন্নদানে উৎসাহিত করে না, সালাতের ব্যাপারে উদাসীন ও লোকদেখানোর জন্য পড়ে এবং গৃহস্থালির প্রয়োজনীয় ছোটখাটো সাহায্য দানে বিরত থাকে— তাদের জন্য রয়েছে ধ্বংস।

রবিউল এই সূরার প্রতিটি নির্দেশ লঙ্ঘন করে নিজের আত্মিক অধঃপতনের প্রমাণ দিয়েছে। এই সূরার শিক্ষা হলো— সালাতে আন্তরিক হওয়া, এতিম-মিসকিনকে ভালোবাসা এবং প্রতিবেশীকে ছোটখাটো গৃহস্থালি দ্রব্যাদি দিয়ে সাহায্য করে ভ্রাতৃত্ব রক্ষা করা।

সুতরাং, সুরা আল-মাউনের শিক্ষাকে বাস্তব জীবনে ধারণ করাই খাঁটি মুমিনের পরিচয়।

৭. মালিয়াট গ্রামের বড়ো মসজিদের ইমাম আব্দুর রহমান সাহেব একদিন জুমার খুতবায় একজন মুসলিম মনীষী সম্পর্কে বলেন, “তিনি মাত্র ছয় বছর বয়সে কুরআন হিফয করেন এবং ষোল বছর সাধনা করে বিশ্বখ্যাত একটি হাদিস গ্রন্থ সংকলন করেন। অপরদিকে, ওই গ্রামে বার্ষিক ওয়াজ মাহফিলে প্রধান বক্তা জাহেদ সাহেব বলেন, 'একজন মুসলিম মনীষী আছেন যিনি ত্রিশ বছর একটানা রোযা রেখেছিলেন এবং প্রতি রমযানে অসংখ্যবার কুরআন খতম করতেন।”
উত্তর ইসলামের আবির্ভাবের পূর্বে আরবে প্রচলিত ধর্মীয় কুসংস্কার, পৌত্তলিকতা, বর্বরতা, ব্যভিচার ও অরাজকতার যুগকে 'আইয়ামে জাহেলিয়াত' (অজ্ঞতার যুগ) বলে।
উত্তর

৬২২ খ্রিস্টাব্দে মহানবি (স.) মদিনায় বসবাসরত সকল ধর্ম ও গোত্রের মানুষের মৌলিক অধিকার ও শান্তি নিশ্চিত করতে লিখিত চুক্তি সম্পাদন করেছিলেন, যা বিশ্বের প্রথম নিরপেক্ষ আইনগত দলিল বিধায় একে ইতিহাসের প্রথম লিখিত সংবিধান বলা হয়।

এই সনদে নাগরিক অধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতা সুস্পষ্টভাবে লিপিবদ্ধ ছিল।

উত্তর

ইমাম আব্দুর রহমান সাহেবের আলোচিত মনীষী হলেন হাদিসজগতের অবিসংবাদিত সম্রাট 'ইমাম বুখারি (র.)' (১৯৪-২৫৬ হি.)।

তিনি অল্প বয়সে কুরআন হিফজ করেন এবং বিশ্ববিখ্যাত হাদিস বিশারদদের কাছ থেকে হাদিস শিক্ষা লাভ করেন। তিনি কঠোর পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর প্রায় ছয় লক্ষ হাদিস থেকে বিশুদ্ধতম হাদিসগুলো সংকলন করে রচনা করেন কালজয়ী গ্রন্থ 'সহিহ বুখারি'।

কুরআনের পর সর্বাধিক বিশুদ্ধ গ্রন্থ হিসেবে এই সংকলনটি মুসলিম বিশ্বে সমাদৃত।

উত্তর

চিহ্নিত করলে দেখা যায়— জাহেদ সাহেবের বক্তব্যে উল্লেখিত মনীষী হলেন মহান ফকিহ 'ইমাম আবু হানিফা (র.)' (৮০-১৫০ হি.); ইসলামি ফিকহশাস্ত্রে তাঁর অবদান অবিসংবাদিত।

ইমাম আবু হানিফা (র.) ছিলেন অনন্য সাধক ও মুজতাহিদ। তিনি ইসলামি আইনশাস্ত্রকে সুশৃঙ্খল ও কাঠামোগত রূপ দিতে চল্লিশজন শ্রেষ্ঠ আলেমের সমন্বয়ে ফিকহ একাডেমি প্রতিষ্ঠা করেন। দীর্ঘ ত্রিশ বছর গবেষণা করে তাঁরা কুরআন ও সুন্নাহর ভিত্তিতে তৎকালীন ও ভবিষ্যৎ জীবনের প্রায় ৮৩ হাজার জটিল সমস্যার আইনি সমাধান লিপিবদ্ধ করেন।

তাঁর এই অনন্য গবেষণার ওপর ভিত্তি করেই হানাফি মাজহাবের গোড়াপত্তন হয়। তাঁর ফিকহি নীতিমালার ফলেই ইসলামি আইন যুগোপযোগী ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করে।

সুতরাং, ফিকহশাস্ত্রে ইমাম আবু হানিফা (র.)-এর অবদান ইসলামের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

৮. রাড়ী পাড়া গ্রামবাসীর মধ্যে সালাত শেষে হাত তুলে মুনাজাত করাকে কেন্দ্র করে এক সংঘাতের জন্ম দেয়। বিষয়টি উপলব্ধি করে ওই গ্রামের কয়েকজন আলেম ও ইমাম মিলে একটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। সকলে তাদের সিদ্ধান্ত মেনে নেয়। ওই গ্রামের একজন বাসিন্দা কামাল সুদি কারবার করে এবং আদালতে মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়।
উত্তর যেসব বিধানের বাধ্যবাধকতা কুরআনের দলিলের মাধ্যমে প্রমাণিত কিন্তু ফরজের চেয়ে কিছুটা কম স্তরের এবং যা পালন করা আবশ্যক ও অস্বীকারকারী ফাসিক, তাকে 'ওয়াজিব' বলে।
উত্তর

যেসব আমল রাসুলুল্লাহ (স.) সর্বদা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পালন করেছেন এবং কোনো বিশেষ কারণ ছাড়া কখনো বর্জন করেননি, তাকে 'সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ' বলে (যেমন: ফজরের ফরজের পূর্বের দুই রাকাত সালাত)।

এটি বর্জন করা গুনাহের কাজ।

উত্তর

রাড়ী পাড়া গ্রামের ইমাম ও আলেমগণের সম্মিলিতভাবে সালাত শেষে মোনাজাতের বিষয়ে সর্বসম্মত সমাধানের মাঝে ইসলামি শরিয়তের তৃতীয় উৎস 'ইজমা' (ঐকমত্য)-এর পরিচয় পাওয়া যায়।

রাসুলুল্লাহ (স.)-এর ওফাতের পর কোনো যুগে ফকিহ ও আলেমগণের কোনো দ্বীনি বিষয়ে সর্বসম্মত মতৈক্য পোষণ করাকে ইজমা বলে। রাসুলুল্লাহ (স.) ঘোষণা করেছেন— 'আমার উম্মত কখনো ভ্রষ্টতায় একমত হবে না' (তিরমিজি)।

গ্রামের আলেমদের এই যৌথ সিদ্ধান্ত ইজমার নীতি অনুযায়ী সামাজিক সংঘাত দূর করে শান্তি ফিরিয়ে এনেছে।

উত্তর

চিহ্নিত করলে দেখা যায়— কামালের সুদি কারবার ও আদালতে মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার কর্মকাণ্ডে ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ 'রিবা (সুদ) ও মিথ্যা সাক্ষ্য (শাহাদাতুজ জুর)'-এর কবিরা গুনাহ প্রকাশ পেয়েছে; মানবজীবনে এর প্রভাব অত্যন্ত মারাত্মক ও ধ্বংসাত্মক।

১. সুদের প্রভাব: সুদ সমাজে অর্থনৈতিক শোষণ তৈরি করে, ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য বৃদ্ধি করে এবং মানুষের অন্তরের দয়ামায়া ধ্বংস করে দেয়। আল-কুরআনে সুদখোরদের সাথে আল্লাহ যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন।

২. মিথ্যা সাক্ষ্যের প্রভাব: মিথ্যা সাক্ষ্য আদালতের ন্যায়বিচারকে হত্যা করে, নিরপরাধ মানুষকে শাস্তি দেয় এবং প্রকৃত অপরাধীকে ছাড় দেয়। রাসুলুল্লাহ (স.) মিথ্যা সাক্ষ্যকে অন্যতম প্রধান কবিরা গুনাহ আখ্যা দিয়েছেন।

কামালের এই দুটি কাজ সমাজকে দুর্নীতির অতল গহ্বরে নিক্ষেপ করে এবং পরকালে কঠিন জাহান্নামের আজাব ডেকে আনে। তার উচিত অবিলম্বে তাওবা করে সৎপথে ফিরে আসা।

বিস্তারিত উত্তর

পবিত্র কুরআনের সুরা আন-নাবার ৩১ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন— 'ইন্না লিল মুত্তাক্বীনা মাফাযা' অর্থাৎ নিশ্চয়ই মুত্তাকিগণের জন্য রয়েছে মহাসাফল্য।

মুত্তাকি হলেন সেইসব ব্যক্তি যাঁরা আল্লাহর ভয়ে যাবতীয় হারাম ও পাপাচার বর্জন করে নিষ্ঠার সাথে শরিয়তের আদেশ-নিষেধ মেনে চলেন। আল্লাহ তায়ালা পরকালে মুত্তাকিদের সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে তাঁদের জান্নাতের চিরস্থায়ী সুখ-শান্তি ও নিয়ামত দান করবেন; তাই তাঁদের জন্যই চূড়ান্ত সফলতা অবধারিত।

বিস্তারিত উত্তর

ইসলামি পরিভাষায় মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর সামগ্রিক পুণ্যময় জীবনচরিত, কর্ম, চরিত্র ও নবুয়তি জীবনযাত্রার ধারাবাহিক ইতিহাসকে 'সিরাত' (বা আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ) বলে।

সিরাত অধ্যয়নের মাধ্যমে রাসুলুল্লাহ (স.)-এর নিখুঁত জীবনাদর্শ জেনে বাস্তব জীবনে তা হুবহু অনুসরণের অনুপ্রেরণা পাওয়া যায়।

বিস্তারিত উত্তর

মানুষের অন্তর বা নফস সবসময় মানুষকে পাপ, লোভ-লালসা, অহংকার ও শয়তানি প্ররোচনার দিকে আহ্বান করে। নফসের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে কুপ্রবৃত্তি দমন করা না গেলে খাঁটি মুমিন হওয়া যায় না।

এ কারণেই রাসুলুল্লাহ (স.) নফস বা কুপ্রবৃত্তির বিরুদ্ধে সংগ্রামকে 'জিহাদে আকবর' বা সবচেয়ে বড় জিহাদ আখ্যা দিয়েছেন। আত্মশুদ্ধি অর্জন ও খাঁটি চরিত্র গঠনের জন্য নফসের জিহাদ সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ।

বিস্তারিত উত্তর

পবিত্র কুরআনের কোনো সুরা বা নির্দিষ্ট আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার অন্তর্নিহিত ঐতিহাসিক কারণ, পটভূমি ও বিশেষ ঘটনাকে 'শানে নুযুল' (বা সববে নুযুল) বলে।

শানে নুযুল জানার মাধ্যমে কুরআনের আয়াতের সঠিক ভাবার্থ, আইনগত প্রয়োগ ও ঐশী নির্দেশের মূল উদ্দেশ্য নিখুঁতভাবে বোঝা সম্ভব হয়।

বিস্তারিত উত্তর

আল্লাহ তায়ালা বান্দার বাহ্যিক শারীরিক অবয়ব দেখেন না; বরং অন্তরের বিশুদ্ধ উদ্দেশ্য ও ইখলাস বিচার করে আমলের সাওয়াব ও প্রতিদান নির্ধারণ করেন।

রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেছেন— 'ইন্নামাল আমালু বিন নিয়্যাত' অর্থাৎ নিশ্চয়ই সকল কাজের ফলাফল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল (সহিহ বুখারি)। কোনো ভালো কাজের নিয়ত খাঁটি না হলে বা লোকদেখানোর উদ্দেশ্যে করা হলে তা সম্পূর্ণ নিষ্ফল হয়ে যায়।

বিস্তারিত উত্তর

শাফাআত অর্থ সুপারিশ করা। কিয়ামতের চরম বিচার দিবসে হিসাব-নিকাশের ভয়াবহ পরিস্থিতিতে এবং বান্দার ত্রুটি-বিচ্যুতির ক্ষমার জন্য শাফাআত অত্যন্ত প্রয়োজন।

মানুষের আমলের ঘাটতি দূর করতে এবং জাহান্নামের কঠিন আজাব থেকে মুক্তি পেয়ে জান্নাতে উচ্চমর্যাদা লাভের জন্য মহানবি (স.) আল্লাহর অনুমতিক্রমে উম্মতের জন্য শাফাআত করবেন।

বিস্তারিত উত্তর

গিবত বা পরনিন্দা মানুষের সামাজিক সম্মান, মর্যাদা ও পারস্পরিক ভ্রাতৃত্বের বন্ধনকে ধ্বংস করে সমাজে মারাত্মক শত্রুতা ও কলহ সৃষ্টি করে।

হাদিস শরিফে রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেছেন— 'আল-গীবাতু আশাদ্দু মিনায যিনা' অর্থাৎ পরনিন্দা ব্যভিচার অপেক্ষাও মারাত্মক পাপ (মিশকাত)। ব্যভিচারী তওবা করলে আল্লাহ ক্ষমা করতে পারেন, কিন্তু গিবতের মাধ্যমে যার সম্মান নষ্ট করা হয়েছে সে ক্ষমা না করলে আল্লাহও তা ক্ষমা করেন না।

বিস্তারিত উত্তর

প্রাক-ইসলামি আরবে উকাজ মেলায় অনুষ্ঠিত বার্ষিক কাব্য প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শ্রেষ্ঠ সাতজন কবির সাতটি দীর্ঘ আরবি কবিতাকে 'আস-সাবউল মুআল্লাকাত' (সাতটি ঝুলন্ত গীতি-কবিতা) বলা হয়।

তৎকালীন আরবরা এই কবিতাগুলোকে স্বর্ণাক্ষরে লিখে কাবাঘরের দেয়ালে ঝুলিয়ে রেখেছিল, যা ছিল প্রাচীন আরবি সাহিত্যের অনন্য শ্রেষ্ঠ স্মারক।

বিস্তারিত উত্তর

গাছপালা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে, প্রাণিকুলকে অক্সিজেন, ফলমূল ও ছায়া দেয় এবং মানুষের বেঁচে থাকার অপরিহার্য উপাদান সরবরাহ করে।

রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেছেন— কোনো মুসলমান যদি বৃক্ষ রোপণ করে আর তা থেকে কোনো মানুষ, পশুপাখি আহার করে, তবে তা তার জন্য সদকা হিসেবে গণ্য হবে (সহিহ বুখারি)। মৃত্যুর পরও এর সাওয়াব অব্যাহত থাকে বলেই বৃক্ষরোপণ একটি মহৎ পুণ্যের কাজ।

বিস্তারিত উত্তর

আমিরুলের জাতীয় সম্পদ যথাযথভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করার মাঝে আখলাকে হামিদাহর অন্যতম শ্রেষ্ঠ গুণ 'দেশপ্রেম ও আমানতদারি' প্রকাশ পেয়েছে।

জাতীয় সম্পদ হলো জনগণের আমানত। এর অপচয় বা ক্ষতি রোধ করা এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদকে নিজের সম্পদের মতো যত্ন নেওয়া প্রতিটি সচেতন নাগরিক ও মুমিনের ধর্মীয় কর্তব্য।

বিস্তারিত উত্তর

ইমান হলো অন্তরের অভ্যন্তরীণ সুদৃঢ় বিশ্বাস আর ইসলাম হলো সেই বিশ্বাসের আলোকে কায়মনোবাক্যে আল্লাহর নির্দেশের বাস্তব আনুগত্য ও আমল।

ইমান ছাড়া বাহ্যিক ইসলাম অসার, আবার বাহ্যিক আমল ছাড়া অন্তরের ইমানের অস্তিত্ব প্রমাণ করা যায় না। তাই ইমান ও ইসলাম একটি অপরটির পরিপূরক এবং এদের সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও অবিচ্ছেদ্য।

বিস্তারিত উত্তর

ঋণ বা বিক্রির ক্ষেত্রে শরিয়তসম্মত কোনো বিনিময় ছাড়াই অতিরিক্ত অর্থ বা সুবিধা গ্রহণ করাকে ইসলামি শরিয়তের পরিভাষায় 'রিবা' বা সুদ বলে।

সুদ একটি জঘন্য সামাজিক অপরাধ ও হারাম উপার্জন। এটি সমাজে ধনী-দরিদ্রের চরম বৈষম্য তৈরি করে এবং দুর্বল মানুষের ওপর অর্থনৈতিক জুলুম চাপিয়ে দেয়। আল্লাহ তায়ালা আল-কুরআনে সুদকে সম্পূর্ণ হারাম ঘোষণা করেছেন।

বিস্তারিত উত্তর

ইমাম সাহেবের আলোচিত সর্বাগ্রে হিসাব গ্রহণকৃত ইবাদতটি হলো ইসলামের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ 'সালাত' (নামাজ)।

হাদিস শরিফে রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেছেন— 'কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম বান্দার সালাতের হিসাব নেওয়া হবে। সালাত সঠিক হলে তার অন্যান্য সকল আমলও শুদ্ধ হবে' (তিরমিজি)। সালাত হলো দ্বীনের মূল স্তম্ভ।

বিস্তারিত উত্তর

ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের অন্যতম মৌলিক আর্থিক ইবাদত 'যাকাত' সম্পদের পবিত্রতা ও বৃদ্ধি ঘটায়।

যাকাত শব্দের আভিধানিক অর্থই হলো পবিত্রতা ও বৃদ্ধি। নির্ধারিত নিসাব পরিমাণ সম্পদের বাৎসরিক ২.৫% দরিদ্রদের মাঝে বিতরণ করলে সম্পদে আল্লাহর বিশেষ বরকত ও প্রবৃদ্ধি নেমে আসে এবং ধনীর অবশিষ্ট সম্পদ যাবতীয় অপবিত্রতা থেকে মুক্ত হয়।

বিস্তারিত উত্তর

ইসলামি ফিকহশাস্ত্রের মহান স্থপতি ও হানাফি মাজহাবের প্রতিষ্ঠাতা প্রখ্যাত তাবেয়ি ইমাম আবু হানিফা (র.)-কে 'ইমামে আযম' (সর্বশ্রেষ্ঠ ইমাম) বলা হয়।

ইসলামি আইনশাস্ত্রে তাঁর অতুলনীয় মেধা, যুক্তি, দূরদর্শিতা এবং চল্লিশজন মুজতাহিদ ফকিহের সমন্বয়ে ফিকহ বোর্ড গঠন করে মানবজীবনের জটিল সমস্যার কুরআন-সুন্নাহভিত্তিক সংকলনের বৈপ্লবিক অবদানের জন্য তাঁকে এই উপাধিতে ভূষিত করা হয়।