নবি-রাসুলগণ ছিলেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মানব; তাঁদের চরিত্র ছিল নিষ্কলুষ, পুতপবিত্র ও নিষ্পাপ এবং তাঁদের মাধ্যমেই আল্লাহ মানবজাতিকে সর্বোত্তম চরিত্রের বাস্তব শিক্ষা দিয়েছেন বোঝাতেই এ কথা বলা হয়েছে।
তাঁদের চরিত্র ছিল মানবজাতির জন্য অনুপম আদর্শ।
রিনির বাহ্যিকভাবে ধর্মীয় আচার পালন করা সত্ত্বেও অন্তরে ইসলামবিরোধী চিন্তা লালন করা এবং মানুষকে ধোঁকা দেওয়ার মাঝে চরম জঘন্য পাপ 'নিফাক' (কপটতা বা মুনাফিকি) প্রকাশ পেয়েছে।
মুখে মুসলমান দাবি করে অন্তরে কুফর গোপন রাখাই নিফাক। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন— 'মুনাফিকের লক্ষণ তিনটি: কথা বললে মিথ্যা বলে, ওয়াদা করলে ভঙ্গ করে এবং আমানত রাখলে খেয়ানত করে' (সহিহ বুখারি)। রিনির এই দ্বিমুখী আচরণ তাকে খাঁটি মুনাফিকের কাতারে শামিল করেছে।
চিহ্নিত করলে দেখা যায়— রিতার সৌভাগ্যের আংটিকে নিজের সব সফলতার কারণ মনে করার বিশ্বাসটি ইসলামি আকাইদের দৃষ্টিতে মারাত্মক 'শিরক'; এ বিষয়ে তাসলিমার 'তোমার ধারণা সঠিক নয়' বক্তব্যটি শতভাগ কুরআনসম্মত ও যথার্থ।
ইসলামি তাওহিদের মূল ভিত্তি হলো— লাভ-ক্ষতি, ভাগ্য ও সফলতার একমাত্র একক মালিক মহান আল্লাহ তায়ালা। কোনো আংটি, পাথর বা জড়বস্তু মানুষের ভাগ্যে কল্যাণ বা অকল্যাণ সাধনের বিন্দুমাত্র ক্ষমতা রাখে না। জড়বস্তুকে সৌভাগ্যের কারণ মনে করা আল্লাহর রুবুবিয়্যাত ও তকদিরে শিরক করার শামিল।
তাসলিমা রিতার এই অন্ধবিশ্বাস দূর করে খাঁটি তাওহিদের আলোয় সঠিক ধারণা দিয়েছেন। শিরক হলো ক্ষমার অযোগ্য মহাপাপ।
সুতরাং, তাসলিমার বক্তব্যটি তাওহিদের মূল চেতনার সাথে সম্পূর্ণ সংগতিপূর্ণ।
তথ্য-১ : মামুন সাহেব বিশ্বাস করেন মাজলুম ফিলিস্তিনিদের রক্ষা করতে এবং বিধর্মীদের ওপর মুসলমানদের, বিজয়ী করতে আল্লাহ তায়ালা আবার পয়গাম্বর প্রেরণ করবেন। ইহার প্রেক্ষিতে তার দাদা আল-কুরআনের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, "মুহাম্মদ (স.) তোমাদের মধ্যে কোনো পুরুষের পিতা নন, বরং তিনি আল্লাহর রসুল এবং শেষ নবি।”
তথ্য-২ : সেলিম সাহেব নামায-রোযাসহ অন্যান্য মৌলিক ইবাদত পালন করেন। পাশাপাশি সৎভাবে জীবনযাপন করার চেষ্টা করেন এবং সব ধরনের পাপাচার ও অশ্লীল কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখার চেষ্টা করেন। তিনি মনে প্রাণে বিশ্বাস করেন, মৃত্যুর পর আল্লাহর কাছে সকল কাজের জবাবদিহি করতে হবে।
কিয়ামতের ভয়াবহ দিনে মহান আল্লাহ তায়ালা বিশ্বনবি হযরত মুহাম্মদ (স.)-কে পাপী বান্দাদের মার্জনা ও জান্নাতে মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য সুপারিশ করার বিশেষ ক্ষমতা দান করবেন বোঝাতেই রাসুল (স.) এ কথা বলেছেন।
মহানবি (স.)-এর শাফাআত মুমিনের পরম আশ্রয়।
মামুন সাহেবের 'আল্লাহ আবার নতুন পয়গাম্বর পাঠাবেন' ভ্রান্ত বিশ্বাসের বিপরীতে তাঁর দাদার সুরা আহযাবের ৪০ নম্বর আয়াতের উদ্ধৃতি আকাইদের অন্যতম মৌলিক স্তম্ভ 'খতমে নবুয়ত' (নবুয়তের সমাপ্তি)-কে প্রমাণ করে।
দাদার পঠিত আয়াতে আল্লাহ স্পষ্ট ঘোষণা করেছেন— 'মুহাম্মদ (স.) তোমাদের কোনো পুরুষের পিতা নন, বরং তিনি আল্লাহর রাসুল এবং সর্বশেষ নবি (খাতামুন নাবিয়্যিন)।' রাসুলুল্লাহ (স.)-এর আগমনের মাধ্যমেই নবুয়তের দরজা চিরতরে বন্ধ হয়ে গেছে; কিয়ামত পর্যন্ত আর কোনো নবি আসবেন না।
মামুন সাহেব নতুন নবির আশা পোষণ করে কুরআনের অকাট্য আকিদা লঙ্ঘন করেছিলেন, যা তাঁর দাদা নিখুঁতভাবে সংশোধন করে দিয়েছেন।
চিহ্নিত করলে দেখা যায়— সেলিম সাহেবের পাপাচার ও অশ্লীলতা থেকে মুক্ত থেকে সৎ জীবনযাপনের পেছনে আকাইদের মূল স্তম্ভ 'আখিরাতে বিশ্বাস ও আল্লাহর কাছে জবাবদিহিতার অনুভূতি' কাজ করেছে; এর প্রভাব পাঠ্যবইয়ের আলোকে অপরিসীম।
যে ব্যক্তি মনেপ্রাণে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে— মৃত্যুর পর হাশরের ময়দানে তার জীবনের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র ভালো ও মন্দ প্রতিটি কাজের হিসাব আল্লাহর সামনে দিতে হবে, সে কখনোই কোনো অন্যায়, দুর্নীতি, মিথ্যাচার বা পাপাচারে লিপ্ত হতে পারে না।
এই পরকালীন জবাবদিহিতাই মানুষের অন্তরে আত্মনিয়ন্ত্রণ ও নৈতিকতার সর্বশ্রেষ্ঠ পাহারাদার হিসেবে কাজ করে। এর ফলে ব্যক্তি পুতপবিত্র জীবনের অধিকারী হয় এবং সমাজে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।
সুতরাং, আখিরাতে বিশ্বাসের কারণেই সেলিম সাহেব একজন আদর্শ ও পুণ্যবান মুমিন হতে পেরেছেন।
পার্থিব জীবনকে সুন্দর, সুশৃঙ্খল ও উৎপাদনশীল করার লক্ষ্যে জ্ঞানবিজ্ঞান, চিকিৎসা ও প্রযুক্তি সংক্রান্ত জ্ঞান অর্জন করা জরুরি; কারণ এর মাধ্যমে সমাজ ও মানবজাতির সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত হয়।
জাগতিক জ্ঞান দ্বীনের সেবায় সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
আতিক সাহেবের সেফু মিয়াকে দিয়ে কাজ করিয়ে নিয়ে তাৎক্ষণিক মজুরি না দিয়ে 'পরে দিব' বলে বিদায় করায় ইসলামে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ 'শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার' লঙ্ঘিত হয়েছে।
ইসলামে শ্রমিকের অধিকারকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (স.) সুস্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন— 'শ্রমিকের গায়ের ঘাম শুকানোর পূর্বেই তার পারিশ্রমিক পরিশোধ করো' (ইবনে মাজাহ)। সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও শ্রমিকের মজুরি আটকে রাখা বা বিলম্ব করা চরম জুলুম।
আতিক সাহেব সেফু মিয়ার মনোকষ্ট দিয়ে মারাত্মক অবিচার করেছেন।
চিহ্নিত করলে দেখা যায়— তানিমের দাদার সাথে মসজিদে গিয়ে নিয়মিতভাবে আদায়কৃত মৌলিক ইবাদতটি হলো 'সালাত' (নামাজ); নিচে এর সামাজিক গুরুত্ব বিশ্লেষণ করা হলো:
১. সামাজিক সাম্য ও ভ্রাতৃত্ব: জামায়াতে সালাত আদায়ের ফলে সমাজের ধনী-দরিদ্র, উচ্চ-নীচ নির্বিশেষে সবাই একই কাতারে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়ায়। এতে সামাজিক ভেদাভেদ দূর হয়ে সুদৃঢ় ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়।
২. অশ্লীলতা ও অপরাধমুক্ত সমাজ: পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেছেন— নিশ্চয়ই সালাত মানুষকে অশ্লীল ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে (সুরা আল-আনকাবুত: ৪৫)।
৩. পারস্পরিক সহানুভূতি ও একতা: দৈনিক পাঁচবার দেখা-সাক্ষাতের মাধ্যমে মুসল্লিদের পারস্পরিক খোঁজখবর নেওয়া ও ঐক্য বজায় থাকে।
সুতরাং, সালাত একটি পরিচ্ছন্ন, সুশৃঙ্খল ও শান্তিময় সমাজ গঠনের প্রধান চাবিকাঠি।
ঋণ প্রদানের মাধ্যমে মূলধনের চেয়ে অতিরিক্ত কোনো লাভ বা সুবিধা গ্রহণ করাকে শরিয়তে 'রিবা' বা সুদ বলা হয়েছে; কারণ এটি কোনো পরিশ্রম বা বিনিময়হীন অবৈধ শোষণ।
সুদ সমাজ থেকে সহানুভূতি ধ্বংস করে দেয়।
তাহসানের বিদেশ থেকে ফিরে এসে নিজে দেশীয় পণ্য ব্যবহার করা এবং অন্যদের দেশীয় পণ্য ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করার মহতী কর্মে আখলাকে হামিদাহর অন্যতম শ্রেষ্ঠ শাখা 'স্বদেশপ্রেম' (হুব্বুল ওয়াতন) ও 'দেশসেবা' ফুটে উঠেছে।
ইসলামে নিজের দেশকে ভালোবাসা ও দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখা ঈমানের দাবি। তাহসান দেশীয় শিল্পের বিকাশ ও দেশের অর্থনীতিকে মজবুত করার মাধ্যমে নাগরিক ও ধর্মীয় দায়িত্ব পালন করেছেন।
মাতৃভূমির কল্যাণে তাহসানের এই ভূমিকা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।
চিহ্নিত করলে দেখা যায়— আদিবের বন্ধুকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করে এড়িয়ে যাওয়ার আচরণে আখলাকে হামিদাহর অন্যতম প্রধান স্তম্ভ 'ওয়াদা ও অঙ্গীকার রক্ষা' লঙ্ঘিত হয়েছে; এ বিষয়ে শিক্ষকের 'এটি মুমিনের বৈশিষ্ট্য নয়' মন্তব্যটি শতভাগ যথার্থ।
ইসলামে কৃত ওয়াদা ও প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা ফরজের মতো আবশ্যক। আল-কুরআনে আল্লাহ তায়ালা নির্দেশ দিয়েছেন— 'তোমরা অঙ্গীকার পূরণ করো; নিশ্চয়ই অঙ্গীকার সম্পর্কে জবাবদিহি করতে হবে' (সুরা বনি ইসরাইল: ৩৪)।
হাদিস শরিফে রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেছেন— 'যার মধ্যে ওয়াদা রক্ষার নীতি নেই, তার কোনো দ্বীন নেই' (বায়হাকি)। ওয়াদা ভঙ্গ করা মুনাফিকির সুস্পষ্ট আলামত। আদিবের দায়িত্বহীনতায় বন্ধুত্বের পবিত্র সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সুতরাং, ধর্মীয় শিক্ষকের দিকনির্দেশনা অনুযায়ী আদিবের অবিলম্বে অনুতপ্ত হয়ে ওয়াদা রক্ষা করা কর্তব্য।
নিজের নফস ও অন্তরের কুপ্রবৃত্তির দাসত্ব থেকে মুক্ত থাকার জন্য যাবতীয় পাপ ও খারাপ বাসনাকে দমন করার আত্মিক সংগ্রামই হলো নফসের জিহাদ; যাকে রাসুল (স.) 'জিহাদে আকবর' বলেছেন।
আত্মশুদ্ধি অর্জনের জন্য এই জিহাদ অপরিহার্য।
সাকিলের ক্লাসে দেরিতে আসা, পড়াশোনায় অনীহা এবং সহপাঠীদের সাথে ঝগড়া করার আচরণে পাঠ্যবইয়ে বর্ণিত 'আদর্শ শিক্ষার্থীর গুণাবলির' চরম বৈপরীত্য ফুটে উঠেছে।
আদর্শ শিক্ষার্থীর মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ:
১. সময়নিষ্ঠ হওয়া এবং নিয়মিত ও মনোযোগের সাথে পাঠে অংশগ্রহণ করা;
২. শিক্ষককে পরম শ্রদ্ধা, ভক্তি ও আনুগত্য প্রদর্শন করা;
৩. সহপাঠীদের সাথে সৌহার্দ্যপূর্ণ ও ভ্রাতৃত্বসুলভ আচরণ করা;
৪. যাবতীয় অশ্লীলতা, পাপাচার ও উচ্ছৃঙ্খলতা বর্জন করে চরিত্রবান হওয়া।
সাকিল এসব গুণাবলি বর্জন করে নিজের শিক্ষা জীবনকে কলুষিত করেছে।
চিহ্নিত করলে দেখা যায়— আমিন সাহেব কর্তৃক সুরা আয-যারিয়াতের ১৯ নম্বর আয়াতের আলোকে প্রতিবছর নির্দিষ্ট সময়ে আমলকৃত ফরজ বিধানটি হলো ইসলামের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ 'যাকাত'; নিম্নে এর বিশ্লেষণ দেওয়া হলো:
আয়াতে আল্লাহ তায়ালা স্পষ্ট ঘোষণা করেছেন— ধনীদের সম্পদে অভাবগ্রস্ত ও বঞ্চিতদের ন্যায্য অধিকার রয়েছে। এটি কোনো অনুদান নয়, বরং গরিবের পাওনা। আমিন সাহেব এই ঐশী বিধান মেনে সম্পদে বরকত আনয়ন করেছেন এবং সমাজের দায় পরিশোধ করেছেন।
যাকাত ব্যবস্থার ফলে সমাজে সম্পদের সুষম বণ্টন হয়, দরিদ্র মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় এবং ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য দূর হয়ে সামাজিক শান্তি কায়েম হয়।
সুতরাং, আমিন সাহেবের মতো নিয়মিত যাকাত আদায়ই সমাজ থেকে চিরতরে দারিদ্র্য বিমোচনের একমাত্র পথ।
সুদ সমাজের অর্থনৈতিক ভারসাম্য ও সহানুভূতি ধ্বংস করে শোষণ বাড়ায় এবং ঘুষ ন্যায়বিচারকে হত্যা করে দুর্নীতির প্রসার ঘটায় বলেই ইসলামে সুদ ও ঘুষকে সর্বাবস্থায় হারাম ও জাহান্নামের কারণ ঘোষণা করা হয়েছে।
এ দুটি অপরাধ সমাজকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয়।
সাদিয়ার সহপাঠী হালিমার অনুপস্থিতিতে তার গোপনীয় তথ্য অন্যদের কাছে প্রচার করে দুর্নাম ছড়ানোর মাঝে আখলাকে যামিমাহর জঘন্য রূপ 'গিবত' (পরনিন্দা) ও 'গোপনীয়তার আমানত ভঙ্গ' ফুটে উঠেছে।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন— 'তোমরা পরস্পরের গিবত করো না; তোমাদের কেউ কি তার মৃত ভাইয়ের গোশত খেতে পছন্দ করবে? বস্তুত তোমরা তো একে ঘৃণাই করো' (সুরা আল-হুজুরাত: ১২)। হাদিসে গিবতকে ব্যভিচারের চেয়েও মারাত্মক পাপ বলা হয়েছে।
সাদিয়া সহপাঠীর সম্মানহানি করে মারাত্মক কবিরা গুনাহে লিপ্ত হয়েছে।
চিহ্নিত করলে দেখা যায়— অন্যের গাছের ফল চুরির প্রলোভনে রহিমের 'এটি অন্যায় এবং আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে' বক্তব্যে আখলাকে হামিদাহর মূল ভিত্তি 'তাকওয়া ও আমানতদারি' প্রকাশ পেয়েছে; পাঠ্যবইয়ের আলোকে তাঁর বক্তব্যের যথার্থতা অপরিসীম।
অনুমতি ছাড়া অন্যের বাগানের ফল বা সম্পদ গ্রহণ করা স্পষ্ট চুরি ও হারাম। রাসুলুল্লাহ (স.) ঘোষণা করেছেন— 'কোনো মুসলমানের সম্পদ তার আন্তরিক সম্মতি ছাড়া গ্রহণ করা হালাল নয়' (বায়হাকি)।
রহিমের অন্তরে আল্লাহর ভয় ও আখিরাতের জবাবদিহিতার অনুভূতি জাগ্রত থাকায় সে লোভ সংবরণ করতে পেরেছে। একজন আদর্শ মুমিনের চরিত্র এমনই হওয়া উচিত যে কেউ না দেখলেও সে বিশ্বাস করে আল্লাহ সবকিছু প্রত্যক্ষ করছেন।
সুতরাং, রহিমের বক্তব্যটি কুরআন ও সুন্নাহর তাকওয়ার শিক্ষার সাথে শতভাগ সামঞ্জস্যপূর্ণ।
তথ্য-১ : ইমাম সাহেব তার বক্তব্যে কোনো একজন মনীষী সম্পর্কে বলেন, যিনি ছিলেন হাদিস বিশারদ। যিনি' ছোটকাল থেকেই হাদিস সংগ্রহে গভীর আগ্রহ দেখিয়েছিলেন তিনি সত্য ও নির্ভরযোগ্য সূত্র যাচাই করেই হাদিস সংগ্রহ করতেন। তার একটি হাদিস গ্রন্থ ইসলামি জ্ঞানের অমূল্য ভান্ডার।
তথ্য-২ : একজন জনদরদি ব্যক্তি হিসেবে জনাব 'X' এর সুনাম রয়েছে। জনগণের চোখে তিনি ছিলেন নয়নের মনি। তিনি একবার এক বিশাল মাঠে উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে বলেন, "আমি কি আমার উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে পেরেছি"? উপস্থিত জনতা আওয়াজ দিলেন, 'হ্যাঁ'। এছাড়াও বিভিন্ন উপদেশমূলক দিক নির্দেশনা তার ভাষণে স্থান পায়।
ইসলামের আবির্ভাবের পূর্বে আরবে প্রচলিত অন্ধকারাচ্ছন্নতা, মূর্তিপূজা, ব্যভিচার, অরাজকতা ও নৈতিক অধঃপতনের চরম রূপের কারণেই সে যুগকে 'আইয়ামে জাহেলিয়াত' (অজ্ঞতার যুগ) বলা হয়।
সে যুগে কোনো কেন্দ্রীয় আইন বা মানবিক মূল্যবোধ ছিল না।
তথ্য-১ এ ইমাম সাহেব নির্ভরযোগ্য সূত্র যাচাই করে হাদিস সংগ্রহকারী যে মহান মনীষীর প্রতি ইঙ্গিত করেছেন, তিনি হলেন হাদিসসম্রাট 'ইমাম বুখারি (র.)' (১৯৪-২৫৬ হি.); হাদিসশাস্ত্রে তাঁর অবদান অবিসংবাদিত।
তিনি বাল্যকাল থেকেই অসাধারণ স্মৃতিশক্তির অধিকারী ছিলেন। তিনি দীর্ঘ ১৬ বছর কঠোর সাধনা করে প্রায় ছয় লক্ষ হাদিস থেকে বর্ণনাকারীদের সততা ও সূত্র নিখুঁতভাবে যাচাই করে সংকলন করেন কালজয়ী গ্রন্থ 'সহিহ বুখারি'। কুরআনের পর মুসলিম বিশ্বে এটি সর্বাধিক বিশুদ্ধ গ্রন্থের মর্যাদা লাভ করেছে।
চিহ্নিত করলে দেখা যায়— তথ্য-২ এ জনাব 'X' এর জনসমুদ্রে 'আমি কি আমার দায়িত্ব পালন করতে পেরেছি' প্রশ্ন করা এবং দায়িত্বশীলতার দিকনির্দেশনা মহানবি (স.)-এর ঐতিহাসিক 'বিদায় হজের ভাষণ'-এর এক নিখুঁত প্রতিচ্ছবি।
১০ম হিজরিতে আরাফাতের ময়দানে লক্ষাধিক সাহাবির সমাবেশে মহানবি (স.) তাঁর বিদায় হজের ঐতিহাসিক ভাষণের শেষে উপস্থিত জনতাকে লক্ষ্য করে জিজ্ঞেস করেছিলেন— 'হে লোকসকল! আমি কি আল্লাহর দ্বীনের পয়গাম তোমাদের কাছে যথাযথভাবে পৌঁছে দিয়েছি?' সাহাবিগণ সমস্বরে উত্তর দিয়েছিলেন— 'হ্যাঁ, নিশ্চয়ই আপনি আপনার দায়িত্ব পূর্ণ করেছেন।' তখন রাসুল (স.) আকাশের দিকে হাত তুলে বলেছিলেন— 'হে আল্লাহ! আপনি সাক্ষী থাকুন।'
জনাব 'X' মহানবি (স.)-এর সেই কালজয়ী বিদায় হজের আত্মমূল্যায়ন ও জবাবদিহিতার সুন্নাহ অনুসরণ করেছেন।
দৃশ্যপট-১: জনাব 'ক' ঠিকমতো সালাত আদায় করেন না। তিনি সালাত সম্পর্কে উদাসীন। তার কাছে সালাতের ফজিলত ও গুরুত্ব অর্থহীন। পাশাপাশি তিনি ইয়াতিমদের প্রতি কঠোর ও তাদের সম্পদ জবরদখলকারী।
দৃশ্যপট-২: জনাব 'খ' একজন সৎ ও বিশ্বস্ত ব্যবসায়ী। তিনি ভেজাল মিশিয়ে, পণ্যের দোষত্রুটি গোপন করে বা কালোবাজারী করে ব্যবসায় পরিচালনা করেন না।
পবিত্র মক্কা নগরীতে যুদ্ধবিগ্রহ ও রক্তপাত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং মহান আল্লাহ এই নগরীতে সকল মানুষ ও প্রাণীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছেন বলেই একে 'বালাদুল আমীন' (নিরাপদ নগরী) বলা হয়।
পবিত্র কাবা শরিফ এই নগরীতেই অবস্থিত।
জনাব 'ক'-এর সালাতের প্রতি চরম উদাসীনতা এবং এতিমদের প্রতি কঠোর আচরণ ও তাদের সম্পদ জবরদখল করায় পবিত্র কুরআনের ১০৭তম সুরা 'সুরা আল-মাউন'-এর মৌলিক শিক্ষা লঙ্ঘিত হয়েছে।
সুরা আল-মাউনে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন— 'সে তো সেই ব্যক্তি যে এতিমকে রূঢ়ভাবে তাড়িয়ে দেয় এবং যারা তাদের সালাতের ব্যাপারে চরম উদাসীন।' জনাব 'ক' এতিমের হক নষ্ট করে এবং সালাতকে অর্থহীন মনে করে এই সূরায় বর্ণিত ধ্বংসপ্রাপ্তদের বৈশিষ্ট্য ধারণ করেছেন।
এই সূরার মূল শিক্ষা হলো সালাতে নিষ্ঠাবান হওয়া এবং এতিম-অসহায়দের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা।
চিহ্নিত করলে দেখা যায়— জনাব 'খ'-এর ভেজালমুক্ত, সততা ও বিশ্বস্ততার সাথে ব্যবসা পরিচালনা করার মহতী কর্মে মহানবি (স.)-এর 'সৎ ব্যবসায়ীর মর্যাদা সংক্রান্ত' সুপ্রসিদ্ধ হাদিস প্রতিফলিত হয়েছে; নিম্নে এর বিশ্লেষণ দেওয়া হলো:
রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেছেন— 'সত্যবাদী ও বিশ্বস্ত আমানতদার ব্যবসায়ী কিয়ামতের দিন নবি, সিদ্দিক ও শহীদগণের সাথে থাকবে' (তিরমিজি)। তিনি আরও ইরশাদ করেছেন— 'যে ব্যক্তি পণ্যে ভেজাল বা ধোঁকা দেয়, সে আমার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত নয়' (সহিহ মুসলিম)।
জনাব 'খ' পণ্যের ত্রুটি গোপন না করে এবং কালোবাজারি বর্জন করে হালাল উপার্জনের সর্বোচ্চ আদর্শ কায়েম করেছেন। তাঁর এই আচরণ সমাজে ক্রেতাদের অধিকার নিশ্চিত করে এবং বাজারব্যবস্থায় স্থিতিশীলতা ও বরকত এনে দেয়।
সুতরাং, জনাব 'খ' হাদিসের বাস্তব অনুশীলনের মাধ্যমে দুনিয়ায় মানুষের আস্থা এবং পরকালে জান্নাতের সুসংবাদ অর্জন করেছেন।
ইমান অর্থ অন্তরের গভীর বিশ্বাস এবং ইসলাম অর্থ আল্লাহর নির্দেশের কাছে পূর্ণ আত্মসমর্পণ ও বাস্তব আনুগত্য প্রদর্শন।
ইমান হলো গাছের মূলের মতো আর ইসলাম হলো তার কাণ্ড ও শাখা-প্রশাখার মতো। অন্তরে বিশ্বাস ছাড়া বাহ্যিক আনুগত্য মূল্যহীন, আবার আমল ছাড়া অন্তরের ঈমানের পূর্ণতা প্রকাশ পায় না। তাই ইমান ও ইসলাম পরস্পর অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত ও অবিচ্ছেদ্য।
ইসলামের প্রাথমিক যুগে মহানবি (স.) যখন মক্কার কাফিরদের চরম অত্যাচার, বিরোধিতা ও বিদ্রূপে মানসিক ব্যথায় ভারাক্রান্ত হয়ে পড়েন, তখন তাঁকে সান্ত্বনা ও সাহস জোগানোর জন্য আল্লাহ তায়ালা সুরা আল-ইনশিরাহ নাজিল করেন।
এই সুরায় আল্লাহ সুসংবাদ দেন যে কষ্টের পরেই স্বস্তি ও মহা বিজয় আসন্ন।
যুদ্ধক্ষেত্রে ঢাল যেমন শত্রুর তরবারি বা তিরের আক্রমণ থেকে সৈনিককে রক্ষা করে, সাওমও তেমনি মুমিন বান্দাকে শয়তানের প্ররোচনা, কুপ্রবৃত্তি ও যাবতীয় পাপ থেকে রক্ষা করে।
সাওম পালনের মাধ্যমে অন্তরে তাকওয়া সৃষ্টি হয়, যা বান্দাকে জাহান্নামের আগুন থেকে হেফাজত করে। এ কারণেই রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেছেন— 'আস-সাওমু জুন্নাহ' অর্থাৎ সাওম হলো ঢালস্বরূপ।
বৃক্ষ প্রাণিকুলকে অক্সিজেন দেয়, বাতাস থেকে ক্ষতিকর কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে, মাটির ক্ষয় রোধ করে এবং পরিবেশের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করে।
গাছপালা না থাকলে পৃথিবী মরুভূমিতে পরিণত হতো। এ কারণেই রাসুলুল্লাহ (স.) বৃক্ষরোপণকে মহৎ ইবাদত ও সদকায়ে জারিয়া হিসেবে ঘোষণা করেছেন।
হারাম খাদ্য ও অবৈধ উপার্জন মানুষের আত্মিক পবিত্রতা নষ্ট করে, অন্তরে পাপাচারের স্পৃহা বাড়ায় এবং মানুষকে আল্লাহর রহমত থেকে দূরে সরিয়ে দেয়।
হারামখোরের কোনো ইবাদত বা দোয়া আল্লাহর দরবারে কবুল হয় না এবং তার ঠিকানা হয় জাহান্নাম। তাই ব্যক্তি ও সমাজের সার্বিক কল্যাণে হারাম চিরতরে বর্জনীয়।
ইসলামি শরিয়তের যেসব বিধান সমাজের কিছুসংখ্যক মুসলিম আদায় করলে সমাজের বাকি সকলের ওপর থেকে দায়মুক্তি ঘটে, তাকে 'ফরজে কিফায়া' বলে (যেমন: জানাজার নামাজ)।
তবে সমাজের কেউই যদি তা আদায় না করে, তবে ঐ সমাজের সকলেই গুনাহগার হবে। তাই এটি প্রত্যেকের ওপর ব্যক্তিগতভাবে ফরজ নয়।
হারাম খাদ্য ও উপার্জন মানুষের বিবেক ও চরিত্র ধ্বংস করে, আত্মিক নূর কেড়ে নেয় এবং অন্তরে নির্লজ্জতা ও পাপাচারের জন্ম দেয়।
হাদিসে রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেছেন— 'যে দেহ হারাম খাদ্যে গঠিত হয়েছে, তা জান্নাতে প্রবেশ করবে না; জাহান্নামই তার উপযুক্ত স্থান' (তিরমিজি)।
জামাআতে সালাত আদায়ের মাধ্যমে মুসলমানদের মধ্যে সাম্য, একতা, শৃঙ্খলা ও ভ্রাতৃত্ববোধ সুদৃঢ় হয় এবং ধনী-দরিদ্রের সামাজিক বৈষম্য দূর হয়।
হাদিস শরিফে রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেছেন— 'একাকী সালাত আদায়ের চেয়ে জামাআতে সালাত আদায় করলে সাতাশ গুণ বেশি সাওয়াব লাভ হয়' (সহিহ বুখারি)।
জিহাদ ও সন্ত্রাসবাদ সম্পূর্ণ বিপরীতধর্মী দুটি প্রত্যয়। জিহাদ অর্থ অন্যায়, অবিচার, জুলুম ও শয়তানি শক্তির বিরুদ্ধে আত্মরক্ষা, সত্য প্রতিষ্ঠা ও ন্যায়ের সংগ্রামে চূড়ান্ত প্রচেষ্টা চালানো; যার মূল লক্ষ্য সমাজে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা করা।
পক্ষান্তরে সন্ত্রাসবাদ হলো ব্যক্তিস্বার্থ বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নিরপরাধ মানুষ হত্যা, ভয়ভীতি সৃষ্টি ও বিশৃঙ্খলা ছড়ানো। ইসলামে নিরপরাধ মানুষ হত্যা ও সন্ত্রাসকে সম্পূর্ণ হারাম ঘোষণা করা হয়েছে।
তাকওয়া বা আল্লাহভীতি হলো মানুষের মনে সর্বদা এই চেতনা জাগ্রত রাখা যে আল্লাহ সবকিছু দেখছেন এবং তাঁর কাছে জবাবদিহি করতে হবে।
অন্তরে তাকওয়া থাকলে মানুষ গোপনে বা প্রকাশ্যে সকল প্রকার পাপ, দুর্নীতি ও অন্যায় থেকে বিরত থাকে এবং সত্য ও ন্যায়ের পথে চলে। তাই তাকওয়াই হলো সমস্ত নৈতিক ও চারিত্রিক সৎগুণের মূল উৎস।
মক্কার কুরাইশদের অমানুষিক জুলুম-নির্যাতন, দ্বীন প্রচারে চরম বাধা এবং মহানবি (স.)-কে হত্যার ষড়যন্ত্রের প্রেক্ষিতে মহান আল্লাহর সুস্পষ্ট নির্দেশে তিনি মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করেছিলেন।
হিজরতের মূল উদ্দেশ্য ছিল সত্য দ্বীনকে সুরক্ষা দেওয়া এবং মদিনায় একটি শান্তিময় আদর্শ ইসলামি রাষ্ট্র কায়েম করা।
ইসলামি শরিয়ত কেবল ব্যক্তিগত উপাসনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং মানুষের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ, অর্থনীতি, রাজনীতি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও বিচারব্যবস্থার সামগ্রিক বিধান শরিয়তে বিধৃত রয়েছে।
জীবনের প্রতিটি স্তরে নির্ভুল দিকনির্দেশনা দেওয়ার কারণেই শরিয়তের পরিধি এত ব্যাপক ও সার্বজনীন।
জ্ঞান বা ইলম হলো অন্ধকার দূর করে হেদায়েত ও সত্যের আলোর দিশারী। ইলম ছাড়া মানুষ তার স্রষ্টাকে চিনতে পারে না এবং সঠিক ইবাদত ও হালাল-হারাম বুঝতে পারে না।
এ কারণেই রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেছেন— 'প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর ওপর ইলম অর্জন করা ফরজ' (ইবনে মাজাহ)।
জাহান্নামের চিরস্থায়ী কঠিন আজাব থেকে মুক্তি লাভের উপায়সমূহ হলো:
১. শিরক ও কুফরমুক্ত খাঁটি ঈমান অন্তরে পোষণ করা;
২. নিয়মিত সালাত, সাওম, যাকাত ও নেক আমল আদায় করা;
৩. আল্লাহর ভয়ে যাবতীয় কবিরা গুনাহ ও পাপ বর্জন করা এবং কৃত ভুলের জন্য খাঁটি দিলে তাওবা করা; এবং
৪. বেশি বেশি রাসুল (স.)-এর সুন্নাহ অনুসরণ ও জাহান্নাম থেকে মুক্তির দোয়া করা।
৬২২ খ্রিস্টাব্দে মহানবি (স.) মদিনায় হিজরত করে বিভিন্ন ধর্ম ও গোত্রের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক নিরাপত্তা, নাগরিক সমঅধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে ৪৭টি ধারাসংবলিত লিখিত মদিনা সনদ প্রণয়ন করেন।
এই সনদের মাধ্যমেই বিশ্বের সর্বপ্রথম সার্বজনীন ইসলামি কল্যাণ রাষ্ট্রের সাংবিধানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি স্থাপিত হয়েছিল।