রাজশাহী বোর্ড ২০২৬
১.

চিত্র-১ : খতিব সাহেব জুমার আলোচনায় পরকালের বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, “সেই ভয়ানক বিভীষিকাময় দিনে সকল মানুষের মাথার ওপর সূর্য থাকবে, প্রচণ্ড গরমে সবাই ঘামতে থাকবে।”

চিত্র-২: জমির মন্ডল আল্লাহকে এক বলে জানেন। মানুষের মুক্তির বার্তা নিয়ে যুগযুগ ধরে পথপ্রদর্শকদের আগমনকেও বিশ্বাস করেন। কিন্তু তিনি মনে করেন, কিয়ামত পর্যন্ত এই পথপ্রদর্শকগণের আগমন চলমান থাকবে।

উত্তর মানুষের মৃত্যুর পর থেকে কিয়ামত বা পুনরুত্থানের পূর্ব পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন অদৃশ্য জীবনের সময়কালকে 'কবরের জীবন' বা 'আলমে বারযাখ' বলে।
উত্তর

মহান আল্লাহ তায়ালা তাঁর সত্তা, গুণাবলি, অসীম ক্ষমতা ও কর্তৃত্বের ক্ষেত্রে একক ও অদ্বিতীয়; তাঁর সাথে কোনো সৃষ্টির রূপ, আকার বা গুণের তুলনা চলে না বোঝাতেই পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে— 'লাইসা কামিসলিহি শাই' অর্থাৎ কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয়।

আল্লাহ তায়ালা সমস্ত সৃষ্টির রূপ ও সীমাবদ্ধতার ঊর্ধ্বে চিরঞ্জীব ও অতুলনীয়।

উত্তর

চিত্র-১ এ খতিব সাহেবের আলোচনায় সকল মানুষের মাথার ওপর সূর্যের প্রচণ্ড তাপে ঘামে হাবুডুবু খাওয়ার বিবরণে পরকালীন জীবনের 'হাশরের ময়দান ও বিচার দিবসের বিভীষিকাময় দিনের' স্তরটি ফুটে উঠেছে।

আখিরাতের বিশ্বাস অনুযায়ী— ইসরাফিল (আ.)-এর দ্বিতীয় ফুৎকারে সকল মৃত মানুষ কবর থেকে পুনরুত্থিত হয়ে আল্লাহর আদালতে হিসাবের জন্য এক বিশাল ময়দানে সমবেত হবে, যাকে হাশর বলে। সেই দিন সূর্য অতি নিকটে থাকবে এবং মানুষ তার কৃতকর্মের অনুপাতে ঘামের সাগরে নিমজ্জিত থাকবে। একমাত্র আরশের ছায়া ছাড়া কোনো ছায়া থাকবে না।

খতিব সাহেব হাশরের সেই কঠিন ও চূড়ান্ত জবাবদিহিতার ময়দানের বাস্তব দৃশ্যই বর্ণনা করেছেন।

উত্তর

চিহ্নিত করলে দেখা যায়— চিত্র-২ এ জমির মন্ডলের কিয়ামত পর্যন্ত নতুন পথপ্রদর্শকদের আগমন চলমান থাকবে বলে বিশ্বাস করায় আকাইদের অন্যতম মৌলিক স্তম্ভ 'খতমে নবুয়ত' (নবুয়তের সমাপ্তি)-এর বিশ্বাসের চরম ঘাটতি পরিলক্ষিত হয়েছে; ইসলামি আকাইদে এই বিশ্বাসের গুরুত্ব অপরিসীম।

খতমে নবুয়ত হলো এই দৃঢ় বিশ্বাস পোষণ করা যে— হযরত মুহাম্মদ (স.) হলেন আল্লাহ প্রেরিত নবি ও রাসুলগণের ধারাক্রমের সর্বশেষ ও চূড়ান্ত নবি; তাঁর পর কিয়ামত পর্যন্ত আর কোনো নবি বা রাসুল আসবেন না। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করেছেন— 'মুহাম্মদ (স.) তোমাদের কোনো পুরুষের পিতা নন, বরং তিনি আল্লাহর রাসুল এবং সর্বশেষ নবি (খাতামুন নাবিয়্যিন)' (সুরা আল-আহযাব: ৪০)।

জমির মন্ডল অন্যান্য নবিদের মানলেও রাসুলুল্লাহ (স.)-এর চূড়ান্ত ও সমাপ্তকারী নবুয়তকে অস্বীকার করে ভ্রষ্টতায় পতিত হয়েছে। নবুয়তের সমাপ্তি অস্বীকার করলে ব্যক্তির সামগ্রিক ইমান বাতিল হয়ে যায়।

সুতরাং, হযরত মুহাম্মদ (স.)-কে শেষ নবি হিসেবে দ্বিধাহীনভাবে মনেপ্রাণে বিশ্বাস করাই খাঁটি ঈমানের অপরিহার্য শর্ত।

২. ইসমাইল রমযানের রোযা শেষে শাওয়াল মাসের প্রথম দিনের জন্য নির্ধারিত সম্মিলিত বিশেষ নামাযে অংশগ্রহণ না করে চায়ের দোকানে আড্ডা দিয়ে কাটিয়ে দেয়। তার এলাকার শফিক মিয়া একজন মুদি দোকানদার। তিনি ক্রেতাদের সাথে ভালো ব্যবহার করেন। ক্রেতার চাহিদামতো প্রয়োজনীয় পণ্য সঠিকভাবে ওজন করে প্রদান করেন। তিনি মনে করেন, তার এ কাজের ফলে কিয়ামতের দিন ইসলামের পথে জীবনদানকারীদের সাথে অবস্থান করবেন।
উত্তর পবিত্র কুরআনের কোনো সুরা বা নির্দিষ্ট আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার ঐতিহাসিক পটভূমি ও কারণকে 'শানে নুযুল' (বা সববে নুযুল) বলে।
উত্তর

আল্লাহ তায়ালার পরিচয়, সঠিক ইবাদতের নিয়ম এবং পরকালীন মুক্তির পথ নবি-রাসুলগণের মাধ্যমেই মানুষ জানতে পেরেছে; তাই রিসালাতে বিশ্বাস ছাড়া তাওহিদ ও সৎকর্মের কোনো বাস্তব ভিত্তি থাকে না বলেই এতে বিশ্বাস অপরিহার্য।

রিসালাতে বিশ্বাস মানুষকে সৎ, চরিত্রবান ও আদর্শবান রূপে গড়ে তোলে।

উত্তর

ইসমাইলের রমজানের রোজা শেষে শাওয়াল মাসের প্রথম দিনে অনুষ্ঠিত সম্মিলিত বিশেষ নামাজে অংশগ্রহণ না করে আড্ডায় সময় কাটানোর মাঝে ইসলামি শরিয়তের অন্যতম সুদৃঢ় 'ওয়াজিব' বিধান (ঈদুল ফিতরের সালাত) লঙ্ঘিত হয়েছে।

ইসলামি শরিয়তে দুই ঈদের (ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা) সালাত জামায়াতের সাথে আদায় করা প্রত্যেক সুস্থ ও সামর্থ্যবান মুসলিম পুরুষের ওপর ওয়াজিব। শাওয়াল মাসের প্রথম দিন রোজা রাখা হারাম এবং সেদিনের প্রধান ইবাদত হলো সর্বস্তরের মুসলিমদের সাথে ঈদগাহে সম্মিলিত আনন্দ ও সালাত আদায় করা।

ইসমাইল কোনো ওজর ছাড়াই শরিয়তের এই আবশ্যক ওয়াজিব হুকুম বর্জন করে গুনাহগার হয়েছে।

উত্তর

চিহ্নিত করলে দেখা যায়— শফিক মিয়ার সততার সাথে ব্যবসা করা এবং সঠিক ওজনে পণ্য দেওয়ার বিশ্বাস মহানবি (স.)-এর 'সত্যবাদী আমানতদার ব্যবসায়ীদের পরকালীন মর্যাদা সংক্রান্ত' হাদিসের সাথে হুবহু সামঞ্জস্যপূর্ণ; সমাজকল্যাণে এর প্রভাব অপরিসীম।

রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেছেন— 'সত্যবাদী ও বিশ্বস্ত আমানতদার ব্যবসায়ী কিয়ামতের দিন নবি, সিদ্দিক ও শহীদগণের সাথে থাকবে' (তিরমিজি)। ব্যবসা একটি মহান পেশা, যদি তা সততা, নিখুঁত ওজন ও ন্যায়পরায়ণতার সাথে পরিচালিত হয়।

ব্যবসায়ীরা শফিক মিয়ার মতো সৎ ও অমায়িক হলে সমাজে ভোক্তাদের অধিকার সুরক্ষিত হয়, পণ্যদ্রব্যে ভেজাল ও ওজনে কম দেওয়ার অভিশাপ দূর হয় এবং বাজারব্যবস্থায় কৃত্রিম সংকট ও অসাধু সিন্ডিকেটের অবসান ঘটে। এর ফলে সমাজে অর্থনৈতিক স্থায়িত্ব ও গণমানুষের আস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়।

অতএব, ব্যবসায় সততা রক্ষা করা সমাজ থেকে অবিচার ও দুর্নীতি নির্মূলের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার।

৩.

প্রেক্ষাপট-১ : ইমাম সাহেব জুমার খুতবায় একটি সূরার গুরুত্ব ও ফজিলত নিয়ে আলোচনা করছিলেন। আলোচনার একপর্যায়ে তিনি বললেন, মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এরশাদ করেন, “নিশ্চয়ই আমি মানুষকে অতি উত্তম গঠনে সৃষ্টি করেছি।”

প্রেক্ষাপট-২ : আলমনগর বিদ্যালয়ের শিক্ষক আমজাদ হোসেন মাসিক সভায় অতিরিক্ত গরমের কারণে গ্রীষ্মকালীন সমাবেশ শ্রেণিকক্ষে করার প্রস্তাব করেন। উপস্থিত সকল শিক্ষক এই প্রস্তাবের পক্ষে মতামত প্রদান করেন। সকলে একমত হওয়ার ফলে প্রধান শিক্ষক প্রস্তাবটি পাশ হলো মর্মে ঘোষণা দেন। ফলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অতিরিক্ত গরমে মাঠে সমাবেশ করা থেকে মুক্তি পায়।

উত্তর কুরআন, সুন্নাহ ও ইজমার মধ্যে কোনো বিষয়ের স্পষ্ট সমাধান না থাকলে পূর্ববর্তী প্রতিষ্ঠিত বিধানের কার্যকর কারণের (ইল্লত) সাথে তুলনা করে নতুন বিষয়ের সিদ্ধান্ত নির্ণয় করাকে 'কিয়াস' বলে।
উত্তর

আল্লাহ তায়ালা বান্দার বাহ্যিক অবয়বের চেয়ে তার অন্তরের উদ্দেশ্য ও নিয়তের বিশুদ্ধতা বিচার করে প্রতিদান দান করেন; তাই ইখলাসপূর্ণ নিয়ত ছাড়া কোনো ইবাদত বা সৎকাজের সাওয়াব লাভ করা যায় না।

রাসুলুল্লাহ (স.) স্পষ্ট ঘোষণা করেছেন— 'ইন্নামাল আমালু বিন নিয়্যাত' অর্থাৎ নিশ্চয়ই সকল কাজের ফলাফল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল।

উত্তর

প্রেক্ষাপট-১ এ ইমাম সাহেবের তিলাওয়াতকৃত 'নিশ্চয়ই আমি মানুষকে অতি উত্তম গঠনে সৃষ্টি করেছি' আয়াতটি পবিত্র কুরআনের ৯৫তম সুরা 'সুরা আত-তীন'-এর চতুর্থ আয়াত (লাক্বাদ খালাক্বনাল ইনসানা ফি আহসানি তাক্বওয়ীম)।

সুরা আত-তীনে মহান আল্লাহ তায়ালা তীন, যায়তুন, সিনাই পর্বত ও নিরাপদ নগরী মক্কার শপথ করে মানুষের শারীরিক ও মানসিক শ্রেষ্ঠ অবয়বের কথা ঘোষণা করেছেন। আল্লাহ মানুষকে জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও সর্বোত্তম রূপ দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। তবে মানুষ যদি তার এই মর্যাদা ভুলে পাপে লিপ্ত হয়, তবে সে সৃষ্টির অধম স্তরে পতিত হয়।

ইমাম সাহেব সুরা আত-তীনের এই আয়াতের মাধ্যমে মানব সৃষ্টির অতুলনীয় মহত্ত্ব ও দায়িত্বশীলতার শিক্ষা তুলে ধরেছেন।

উত্তর

চিহ্নিত করলে দেখা যায়— প্রেক্ষাপট-২ এ গরমের কারণে গ্রীষ্মকালীন সমাবেশ শ্রেণিকক্ষে করার সর্বসম্মত প্রক্রিয়াটি ইসলামি শরিয়তের তৃতীয় উৎস 'ইজমা' (ঐকমত্য)-এর সাথে সংগতিপূর্ণ; এর গুরুত্ব ও তাৎপর্য অপরিসীম।

ইসলামি শরিয়তে কোনো যুগ বা পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞদের সর্বসম্মত ঐকমত্যকে ইজমা বলে। রাসুলুল্লাহ (স.) ঘোষণা করেছেন— 'আমার উম্মত কখনো পথভ্রষ্টতার ওপর একমত হবে না' (তিরমিজি)। ইজমা হলো শরিয়তের একটি গতিশীল উৎস, যা যেকোনো যুগে উদ্ভূত সামাজিক সমস্যা সমাধানে সম্মিলিত প্রজ্ঞার পথ উন্মোচন করে।

বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষক সর্বসম্মতভাবে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় যে সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা ইজমার বাস্তব কাঠামোরই রূপ। ইসলাম মানুষের কষ্ট দূরীকরণ ও সহজীকরণের নীতিকে সর্বদা প্রাধান্য দেয়।

সুতরাং, সামষ্টিক কল্যাণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে ইজমার গুরুত্ব অনস্বীকার্য।

৪. জনাব আনিস স্থানীয় বিদ্যালয়ে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা লাভ করে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের আশায় সৌদি আরবের উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ে গমন করেন। সেখানে পাঁচ বছর অবস্থান করে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশেষ পাণ্ডিত্য অর্জন করেন। দেশে ফিরে এসে মানুষকে আল্লাহর পথে আহ্বান করার কাজে আত্মনিয়োগ করেন। অপরদিকে, তার ভাই আশরাফ সাহেব একজন ব্যবসায়ী। তিনি তার দোকানের কর্মচারীদেরকে অত্যন্ত ভালোবাসেন। সময়মতো কর্মচারীদের মাসিক বেতন ও অন্যান্য ভাতাদি পরিশোধ করেন। তার দোকানের কর্মচারী আলআমীন অসুস্থ হলে ঢাকায় নিয়ে সু-চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। চিকিৎসা চলাকালীন তার পরিবারের সমস্ত ব্যয়ভার বহন করেন।
উত্তর যাঁরা দ্বীনি ও নৈতিক জ্ঞান অর্জন এবং সত্য ও ন্যায়ের পথ অনুসন্ধানে নিষ্ঠার সাথে অধ্যয়ন করেন, তাঁদের শরিয়তের পরিভাষায় 'তালিবুল ইলম' বা জ্ঞানার্থী শিক্ষার্থী বলা হয়।
উত্তর

নিজের নফস ও কুপ্রবৃত্তির দাসত্ব থেকে মুক্ত থেকে অন্তরের যাবতীয় পাপ ও খারাপ বাসনাকে দমন করার আত্মিক সংগ্রামই হলো জিহাদের সর্বোচ্চ স্তর, যাকে মহানবি (স.) 'জিহাদে আকবর' (সবচেয়ে বড় জিহাদ) বলেছেন।

আত্মশুদ্ধি ও তাকওয়া অর্জনের মাধ্যমেই এই জিহাদের পূর্ণতা আসে।

উত্তর

জনাব আনিস সৌদি আরবের উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দ্বীনের উচ্চতর জ্ঞান ও পাণ্ডিত্য অর্জন করে মানুষকে আল্লাহর পথে আহ্বানের কাজে আত্মনিয়োগ করায় তিনি 'ইলমে দ্বীন বা ধর্মীয় কল্যাণমুখী উচ্চশিক্ষা' অর্জন করেছেন।

ইসলামে জ্ঞান অর্জন করা প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ। রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেছেন— 'তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি উত্তম, যে নিজে কুরআন শেখে এবং অন্যকে তা শেখায়' (সহিহ বুখারি)। আনিস সাহেব বিশুদ্ধ জ্ঞান অর্জন করে দাওয়াতে দ্বীনের কাজে ব্যয় করে নবিগণের উত্তরসূরির দায়িত্ব পালন করছেন।

জ্ঞান অর্জন করে তা সমাজের মানুষের কল্যাণে প্রচার করাই ইসলামি শিক্ষার মূল লক্ষ্য।

উত্তর

চিহ্নিত করলে দেখা যায়— আশরাফ সাহেবের কর্মচারীদের সময়মতো ন্যায্য বেতন-ভাতা প্রদান ও অসুস্থতায় চিকিৎসা খরচ বহন করার মহতী কর্মকাণ্ডে 'শ্রমিকের অধিকার ও মালিক-শ্রমিক ভ্রাতৃত্বের নীতি' ফুটে উঠেছে; মানবকল্যাণে এর ভূমিকা অপরিসীম।

ইসলামে শ্রমিকের মর্যাদাকে সর্বোচ্চ স্থান দেওয়া হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (স.) নির্দেশ দিয়েছেন— 'শ্রমিকের গায়ের ঘাম শুকানোর পূর্বেই তার পারিশ্রমিক পরিশোধ করো' (ইবনে মাজাহ)। তিনি আরও বলেছেন— অধীনস্থ কর্মচারীরা তোমাদেরই ভাই, তোমরা যা খাবে তাদেরও তা খাওয়াবে এবং তাদের সাধ্যাতীত কাজের বোঝা চাপাবে না।

আশরাফ সাহেবের মতো মানবিক মালিক সমাজে থাকলে শ্রমিকদের শোষণ ও কর্মক্ষেত্রের অসন্তোষ চিরতরে বন্ধ হয়। এতে মালিক ও শ্রমিকের মধ্যে সৌহার্দ্য বৃদ্ধি পায়, উৎপাদনশীলতা বাড়ে এবং অর্থনীতিতে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠিত হয়।

অতএব, শ্রমিকের মানবিক অধিকার নিশ্চিত করাই একটি শোষণমুক্ত ও মানবিক সমাজ গঠনের ভিত্তি।

৫.

'ক' ও 'খ' দুইজন সহপাঠী। 'ক' হঠাৎ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় ঠিকমতো পড়াশোনা করতে পারেনি। তাই তার পরীক্ষার ফলাফল আশানুরূপ হয়নি। 'খ' তার বন্ধুদের সাথে বিষয়টিকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করে এবং ইশারা-ইঙ্গিতে তাকে নিয়ে নানা রকম মনগড়া কথা বলে। বন্ধুদের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে 'ক' অত্যন্ত মন খারাপ করে।

অপরদিকে, জনাব পিয়ার আলী একটি বেসরকারি কোম্পানির মানবসম্পদ উন্নয়ন বিভাগের প্রধান। সম্প্রতি তিনি বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা নিয়োগ দেন। নিয়োগ লাভের শর্ত হিসেবে তিনি প্রত্যেকের নিকট থেকে পাঁচ লক্ষ টাকা মূল্যমানের উপঢৌকন গ্রহণ করেন।

উত্তর পবিত্র কুরআনের পরিভাষায় অন্যকে যাবতীয় ভালো, সৎ ও কল্যাণকর কাজের উপদেশ বা নির্দেশ দেওয়াকে 'আমর বিল মারুফ' বলে।
উত্তর

সুদ সমাজের ধনীদের অলস ও শোষকে পরিণত করে এবং দরিদ্রদের চরম নিঃস্ব ও ঋণের বেড়াজালে বন্দি করে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও মানবিক সহানুভূতি ধ্বংস করে সামাজিক অবক্ষয় ডেকে আনে।

সুদের কারণে সমাজে কৃত্রিম মুদ্রাস্ফীতি, দারিদ্র্য ও ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য চরম আকার ধারণ করে।

উত্তর

'খ'-এর অসুস্থতার কারণে পিছিয়ে পড়া সহপাঠী 'ক'-এর ব্যাপারে বন্ধুদের কাছে নেতিবাচক কথা বলা ও ইশারা-ইঙ্গিতে অপপ্রচার করার মাঝে ইসলামে চরম নিষিদ্ধ 'গিবত' (পরনিন্দা) ও 'খোঁটা দেওয়া/উপহাস করার' জঘন্য পাপ প্রকাশ পেয়েছে।

ইসলামে অসাক্ষাতে কারো ত্রুটি আলোচনা করা বা কাউকে হেয়প্রতিপন্ন করাকে কঠোরভাবে হারাম ঘোষণা করা হয়েছে। আল-কুরআনে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন— 'তোমরা পরস্পরের গিবত করো না; তোমাদের কেউ কি তার মৃত ভাইয়ের গোশত খেতে পছন্দ করবে? বস্তুত তোমরা তো একে ঘৃণাই করো' (সুরা আল-হুজুরাত: ১২)।

'খ' সহপাঠীর দুঃসময়ে সহানুভূতি দেখানোর পরিবর্তে তার নামে কুৎসা রটনা করে ইসলামি ভ্রাতৃত্ব ও নৈতিকতার চরম অবমাননা করেছে।

উত্তর

চিহ্নিত করলে দেখা যায়— জনাব পিয়ার আলীর চাকরি দেওয়ার শর্তে প্রত্যেকের নিকট থেকে পাঁচ লক্ষ টাকা করে অবৈধ অর্থ গ্রহণ করায় আখলাকে যামিমাহর জঘন্য রূপ 'ঘুষ গ্রহণ' (রিশওয়াত) প্রকাশ পেয়েছে; এর সামাজিক ও পরকালীন পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ।

ইসলামি শরিয়তে ঘুষ সম্পূর্ণ হারাম ও কবিরা গুনাহ। রাসুলুল্লাহ (স.) স্পষ্ট ভাষায় অভিশাপ দিয়ে ইরশাদ করেছেন— 'আর-রাশী ওয়াল মুরতাশী কিলাহুমা ফিন নার' অর্থাৎ ঘুষদাতা ও ঘুষ গ্রহণকারী উভয়েই জাহান্নামি (তিরমিজি)। ঘুষ সমাজের মেধা ও ন্যায়বিচারকে হত্যা করে এবং অযোগ্য ব্যক্তিদের উচ্চপদে বসিয়ে পুরো সমাজব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দেয়।

ঘুষখোর ব্যক্তি পরকালে আল্লাহর চরম লানত ও জাহান্নামের কঠিন আজাবের মুখোমুখি হবে। দুনিয়াতেও সে মানুষের ঘৃণা ও অভিশাপের পাত্র হয় এবং তার পরিবারে হারাম উপার্জনের অশান্তি নেমে আসে।

অতএব, জনাব পিয়ার আলীর এই অপরাধ থেকে তাওবা করে সমস্ত ঘুষের অর্থ ফেরত দিয়ে সৎপথে চলা অপরিহার্য।

৬. জনাব রফিকুল্লাহ এমন একটি ইবাদত পালন করেন, যা ইমান ও কুফরের মধ্যে পার্থক্য তৈরি করে। তার বড়ো বোন সাফিয়া খাতুন তার নিকট থাকা স্বর্ণের গহনার বাজার মূল্য ২০ লক্ষ টাকা থেকে পঞ্চাশ হাজার টাকায় গ্রামের কয়েকজন অসহায় মহিলাকে সেলাই মেশিন কিনে দেন। কয়েক বছরের মধ্যেই তারা সেলাই মেশিনের কাজের মাধ্যমে পারিবারিকভাবে সচ্ছল হয়ে উঠে।
উত্তর সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নিয়তসহ যাবতীয় পানাহার ও জৈবিক প্রবৃত্তি থেকে বিরত থাকাকে শরিয়তের পরিভাষায় 'সাওম' (রোজা) বলে।
উত্তর

ছাত্র-শিক্ষকের সম্পর্ক হওয়া উচিত স্নেহ, শ্রদ্ধা, ভক্তি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের; যেখানে শিক্ষক ছাত্রকে সন্তানের মতো স্নেহ দিয়ে নৈতিক শিক্ষায় আলোকিত করবেন এবং ছাত্র শিক্ষককে আজীবন পরম শ্রদ্ধা ও আনুগত্য প্রদর্শন করবে।

শিক্ষকের প্রতি বিনয় ও সম্মান প্রদর্শন ছাড়া প্রকৃত ইলমের বরকত অর্জন করা যায় না।

উত্তর

জনাব রফিকুল্লাহর ঈমান ও কুফরের মধ্যে পার্থক্যকারী হিসেবে নিয়মিত আদায়কৃত ইবাদতটি হলো ইসলামের দ্বিতীয় স্তম্ভ 'সালাত' (নামাজ)।

হাদিস শরিফে রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেছেন— 'বান্দা এবং কুফর ও শিরকের মাঝে একমাত্র পার্থক্য হলো সালাত ত্যাগ করা' (সহিহ মুসলিম)। সালাত হলো দ্বীনের খুঁটি; যা মানুষকে যাবতীয় অশ্লীল, অন্যায় ও পাপাচার থেকে বিরত রাখে এবং মহান আল্লাহর নৈকট্য দান করে।

রফিকুল্লাহ এই সর্বশ্রেষ্ঠ দৈহিক ইবাদত পালনের মাধ্যমে নিজের খাঁটি মুসলিম পরিচয় ও আল্লাহর প্রতি অবিচল আনুগত্যের প্রমাণ দিয়েছেন।

উত্তর

চিহ্নিত করলে দেখা যায়— সাফিয়া খাতুনের ২০ লক্ষ টাকা মূল্যের স্বর্ণের গহনার বিপরীতে দরিদ্র নারীদের সেলাই মেশিন কিনে দেওয়ার মাধ্যমে ইসলামি শরিয়তের অন্যতম মৌলিক স্তম্ভ 'যাকাত' আদায় হয়েছে; জাতীয় ও পারিবারিক অর্থনীতিতে এর গুরুত্ব অপরিসীম।

যাকাত হলো একটি বাধ্যতামূলক আর্থিক ইবাদত, যার মূল লক্ষ্য সমাজে দারিদ্র্য দূরীকরণ ও সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করা। আল-কুরআনে আল্লাহ তায়ালা নির্দেশ দিয়েছেন— 'তোমরা সালাত কায়েম করো এবং যাকাত প্রদান করো' (সুরা আল-বাকারা: ৪৩)।

সাফিয়া খাতুন যাকাতের অর্থ দিয়ে দরিদ্র নারীদের কর্মসংস্থানের উপকরণ (সেলাই মেশিন) প্রদান করায় তারা নিজেরাই উপার্জনক্ষম হয়ে উঠেছে। এর ফলে সমাজে স্থায়ীভাবে দারিদ্র্য বিমোচন ঘটে, পরনির্ভরশীলতা দূর হয় এবং জাতীয় অর্থনীতি মজবুত হয়।

সুতরাং, সঠিক পরিকল্পনায় যাকাত বণ্টন করলে সমাজ থেকে চিরতরে অভাব ও বৈষম্য দূর করা সম্ভব।

৭.

দৃশ্যকল্প-১: জনাব 'ক' একটি কোম্পানির প্রধান নির্বাহী পদে পদোন্নতি পান। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি সকলের উদ্দেশ্যে একটি ভাষণ প্রদান করেন। ভাষণে তিনি ধর্মীয় সম্প্রীতি এবং অধীনস্তদের সাথে সদ্ব্যবহার করার নির্দেশ প্রদান করেন।

দৃশ্যকল্প-২: ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। তিনি অল্প বয়সে কুরআন হিফজ করেন। পরবর্তীতে একটি বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হাদিসশাস্ত্রে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি বিভিন্ন মৌলিক গ্রন্থ রচনা করেন। তাঁর লিখিত হাদিস গ্রন্থটি শ্রেষ্ঠ হাদিস গ্রন্থ হিসেবে সর্বমহলে বিশেষ স্বীকৃতি লাভ করে।

উত্তর প্রাক-ইসলামি যুগে আরবের উকাজ মেলায় অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শ্রেষ্ঠ সাতটি দীর্ঘ আরবি কবিতাকে 'আস-সাবউল মুআল্লাকাত' (সাতটি ঝুলন্ত গীতি-কবিতা) বলা হয়।
উত্তর

আইয়ামে জাহেলিয়াত বা অজ্ঞতার যুগে আরবের সামাজিক অবস্থা ছিল চরম বর্বর ও নীতিহীন; ব্যভিচার, মদ্যপান, জুয়া, দুর্বলদের শোষণ এবং কন্যাসন্তানকে জীবন্ত কবর দেওয়ার মতো পৈশাচিকতায় সমাজ নিমজ্জিত ছিল।

গোত্রীয় অহংকার ও তুচ্ছ কারণে দশকের পর দশক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ লেগেই থাকত।

উত্তর

জনাব 'ক'-এর দায়িত্ব গ্রহণের পর ধর্মীয় সম্প্রীতি ও অধীনস্তদের সাথে সদ্ব্যবহার করার নির্দেশ দিয়ে দেওয়া ভাষণটি রাসুলুল্লাহ (স.)-এর ঐতিহাসিক 'বিদায় হজের ভাষণ'-এর মহান শিক্ষার সাথে চমৎকারভাবে সাদৃশ্যপূর্ণ।

দশম হিজরিতে আরাফাতের ময়দানে লক্ষাধিক সাহাবির সামনে মহানবি (স.) তাঁর বিদায় হজের ঐতিহাসিক ভাষণে সুস্পষ্ট ঘোষণা করেছিলেন— সকল মানুষ আদম (আ.)-এর সন্তান, অনারবের ওপর আরবের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই; নারীদের সাথে উত্তম ব্যবহার করবে এবং অধীনস্তদের সাথে ভাই ভাই হিসেবে আচরণ করবে।

জনাব 'ক' রাসুলুল্লাহ (স.)-এর এই কালজয়ী বিদায় হজের ভাষণের মৌলিক মানবাধিকারের নীতিগুলোই ব্যক্ত করেছেন।

উত্তর

চিহ্নিত করলে দেখা যায়— দৃশ্যকল্প-২ এ অল্প বয়সে কুরআন হিফজ, হাদিসশাস্ত্রে পাণ্ডিত্য ও শ্রেষ্ঠ হাদিস গ্রন্থ রচনার কর্মকাণ্ড মহান মনীষী 'ইমাম বুখারি (র.)'-এর জীবনের সাথে হুবহু সাদৃশ্যপূর্ণ; ইলমে হাদিসে তাঁর অবদান অবিসংবাদিত।

ইমাম বুখারি (র.) (১৯৪-২৫৬ হি.) হলেন হাদিসশাস্ত্রের শ্রেষ্ঠতম ইমাম। তিনি দীর্ঘ ১৬ বছর কঠোর সাধনা ও যাচাই-বাছাই করে প্রায় ছয় লক্ষ হাদিস থেকে বিশুদ্ধতম হাদিসগুলো সংকলন করে রচনা করেন তাঁর অমর গ্রন্থ 'আল-জামে আস-সহিহ' (সহিহ বুখারি)। পবিত্র কুরআনের পর মুসলিম বিশ্বে এই গ্রন্থটিকে সর্বাধিক বিশুদ্ধ ও নির্ভরযোগ্য গ্রন্থের মর্যাদা দেওয়া হয়েছে।

তাঁর এই বৈপ্লবিক অবদানের ফলে রাসুলুল্লাহ (স.)-এর বিশুদ্ধ সুন্নাহ চিরদিনের জন্য বিকৃতি ও জাল হাদিস থেকে মুক্ত হয়ে সংরক্ষিত হয়েছে। সমগ্র মুসলিম উম্মাহ আজও তাঁর এই অবদানের কাছে চিরঋণী।

সুতরাং, হাদিস সংরক্ষণে ইমাম বুখারি (র.)-এর সাধনা ও অবদান ইসলামের ইতিহাসে অতুলনীয়।

৮. হাদি ও সাদি দুই বন্ধু। হাদি রমযান মাসে দিনের বেলায় হোটেলে পেটভরে আহার করে। আযানের শব্দ শুনেও মসজিদে যায় না। এ বিষয়ে তাকে জিজ্ঞেস করা হলে সে বলে এসব অপ্রয়োজনীয় কাজ। তার ধারণা, এসব কাজের জন্য আল্লাহ তাকে শাস্তি দিবেন না। অন্যদিকে, সাদি নিয়মিত সালাত আদায় করলেও মাঝে মাঝে মাজারে গিয়ে সিজদা করে। সে মনে করে, বিশাল জগৎ পরিচালনায় একাধিক শক্তি বিদ্যমান। তার এহেন কর্মকাণ্ড সম্পর্কে স্থানীয় মসজিদের ইমাম সাহেবকে অবহিত করলে তিনি বলেন, এ ধরনের অপরাধ আল্লাহ কখনই ক্ষমা করেন না।
উত্তর মুখে ইমানের কথা স্বীকার করলেও অন্তরে কুফর ও অবিশ্বাস গোপন রাখার কপট মানসিকতাকে ইসলামি পরিভাষায় 'নিফাক' বলে।
উত্তর

তকদির হলো আল্লাহর পূর্বনির্ধারিত জ্ঞান ও পরিমাপ; তকদিরে বিশ্বাস মানুষকে জীবনে চরম বিপদে ধৈর্য ধারণ করতে শেখায় এবং অপরিসীম সাফল্যেও অহংকারমুক্ত রেখে আল্লাহর প্রতি তাওয়াক্কুলশীল রাখে বলেই এতে বিশ্বাস জরুরি।

তকদিরে বিশ্বাস ঈমানের সাতটি মৌলিক বিষয়ের অন্যতম।

উত্তর

হাদির রমজান মাসে রোজা ও সালাতকে অপ্রয়োজনীয় ভাবা এবং আল্লাহর শাস্তিকে তোয়াক্কা না করার দাম্ভিক মানসিকতায় আকাইদের মূল বিষয় 'কুফর ও আখিরাতের জবাবদিহিতাকে অস্বীকার করার' প্রবণতা প্রকাশ পেয়েছে।

ইসলামি শরিয়তের কোনো ফরজ বা মৌলিক বিধানকে অপ্রয়োজনীয় ভাবা কিংবা তা নিয়ে উপহাস করা সুস্পষ্ট কুফরি। আল্লাহ তায়ালা সুরা আল-বাকারায় সালাত ও সাওমকে মুমিনের জন্য ফরজ করেছেন।

হাদি আল্লাহর ফরজ বিধানকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে ইসলামের মৌলিক সীমারেখা লঙ্ঘন করেছে এবং কুফরে লিপ্ত হয়েছে।

উত্তর

চিহ্নিত করলে দেখা যায়— সাদির নিয়মিত সালাত আদায় করা সত্ত্বেও মাজারে সিজদা করা এবং জগৎ পরিচালনায় একাধিক শক্তির অস্তিত্বে বিশ্বাস করার জঘন্য পাপটি হলো 'শিরক'; এ বিষয়ে ইমাম সাহেবের 'আল্লাহ এ পাপ কখনোই ক্ষমা করেন না' বক্তব্যটি শতভাগ কুরআনসম্মত ও যথার্থ।

ইসলামের মূল ভিত্তি হলো তাওহিদ বা আল্লাহর নিরঙ্কুশ একত্ববাদ। সিজদা কেবল একমাত্র মহান আল্লাহর প্রাপ্য। মাজার বা কোনো সৃষ্টিকে সিজদা করা এবং আল্লাহর ক্ষমতায় অন্য শক্তিকে অংশীদার করা ক্ষমার অযোগ্য মহাপাপ।

পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ তায়ালা সুস্পষ্ট ঘোষণা করেছেন— 'নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সাথে শিরক করার অপরাধ ক্ষমা করেন না; এছাড়া অন্য যেকোনো পাপ যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন' (সুরা আন-নিসা: ৪৮)। তিনি আরও বলেছেন— নিশ্চয়ই শিরক হলো সবচাইতে বড় জুলুম (সুরা লুকমান: ১৩)।

সুতরাং, সাদির এই মারাত্মক শিরকি কর্মকাণ্ড থেকে অবিলম্বে খাঁটি দিলে তাওবা করে এক আল্লাহর ইবাদতে ফিরে আসা অপরিহার্য।

বিস্তারিত উত্তর

রিসালাত অর্থ বার্তা বহন বা পয়গাম পৌঁছানো। নবি-রাসুলগণ মানবজাতিকে সত্য, ন্যায়, একত্ববাদ ও সুন্দর নৈতিক জীবনের পথ দেখিয়েছেন।

রিসালাতে বিশ্বাসের মাধ্যমে মানুষ আল্লাহর আদেশ-নিষেধ ও শরিয়তের বিধান জানার সুযোগ পায় এবং রাসুলুল্লাহ (স.)-এর সুন্নাহ ও চরিত্রকে অনুসরণ করে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবন পরিচালনা করে। এর ফলে দুনিয়ায় শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হয় এবং পরকালে চিরন্তন কল্যাণ ও জান্নাত লাভ নিশ্চিত হয়।

বিস্তারিত উত্তর

ইমান অর্থ অন্তরের গভীর বিশ্বাস এবং ইসলাম অর্থ আল্লাহর নির্দেশের কাছে পূর্ণ আত্মসমর্পণ ও বাস্তব আনুগত্য প্রদর্শন।

ইমান হলো গাছের মূল বা শিকড়ের মতো আর ইসলাম হলো তার শাখা-প্রশাখা ও ফলের মতো। অন্তরে ইমান না থাকলে বাহ্যিক আমল গ্রহণযোগ্য হয় না, আবার বাহ্যিক আনুগত্য বা আমল ছাড়া খাঁটি ইমানের পূর্ণতা প্রকাশ পায় না। তাই ইমান ও ইসলাম একটি অপরটির পরিপূরক ও অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত।

বিস্তারিত উত্তর

আখিরাত বা পরকালের চিরন্তন জীবনে বিশ্বাস করা ঈমানের অন্যতম মৌলিক স্তম্ভ। আখিরাতে বিশ্বাস মানুষকে দুনিয়ায় জবাবদিহিমূলক, সংযমী ও পুতপবিত্র জীবনযাপনে বাধ্য করে।

যে ব্যক্তি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে মৃত্যুর পর হাশরের ময়দানে প্রতিটি অণু পরিমাণ ভালো ও মন্দ কাজের বিচার হবে, সে কখনো পাপাচার, দুর্নীতি বা জুলুমে লিপ্ত হতে পারে না। ফলে সমাজে শান্তি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়।

বিস্তারিত উত্তর

কুরআন মাজিদ দেখে দেখে তাজবিদ ও হরফের সঠিক মাখরাজ-সিফাত মেনে তিলাওয়াত করাকে 'নাযিরা তিলাওয়াত' বলে।

শুদ্ধ উচ্চারণে কুরআন তিলাওয়াত শেখার জন্য নাযিরা তিলাওয়াত অত্যন্ত জরুরি। কারণ দেখে দেখে তারতিলের সাথে পড়ার মাধ্যমেই আরবি হরফের সঠিক রূপ, উচ্চারণরীতি, হরকত ও মদের সঠিক পরিমাপ আয়ত্তে আসে; যা স্মৃতি থেকে তিলাওয়াতের ভুলভ্রান্তি প্রতিরোধ করে।

বিস্তারিত উত্তর

পবিত্র কুরআনের কোনো সুরা বা আয়াত নাজিল হওয়ার ঐতিহাসিক কারণ ও পটভূমিকে 'শানে নুযুল' বা 'সববে নুযুল' বলে।

শানে নুযুল জানার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট আয়াতের সঠিক অর্থ, উদ্দেশ্য ও হুকুমের তাৎপর্য নিখুঁতভাবে অনুধাবন করা যায়। এর ফলে আয়াতের অপব্যাখ্যার অবকাশ থাকে না এবং শরিয়তের বিধান প্রয়োগের প্রেক্ষাপট সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে।

বিস্তারিত উত্তর

সজিব মিয়ার সড়কের পাশে ফলদ বৃক্ষের চারা রোপণের মহতী কাজে মহানবি (স.)-এর 'বৃক্ষরোপণ ও সদকায়ে জারিয়া সংক্রান্ত' হাদিসের শিক্ষা প্রতিফলিত হয়েছে।

রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেছেন— 'কোনো মুসলমান যদি একটি বৃক্ষ রোপণ করে কিংবা শস্য ফলায়, অতঃপর তা থেকে কোনো মানুষ, পাখি বা চতুষ্পদ জন্তু ভক্ষণ করে, তবে তা তার জন্য সদকা হিসেবে গণ্য হবে' (সহিহ বুখারি)।

বিস্তারিত উত্তর

যুদ্ধক্ষেত্রে ঢাল যেমন শত্রুর তরবারি বা তিরের প্রাণঘাতী আঘাত থেকে সৈনিকের জীবন রক্ষা করে, সাওমও তেমনি মুমিন বান্দাকে শয়তানের প্ররোচনা, কুপ্রবৃত্তি ও যাবতীয় অনৈতিক পাপ থেকে রক্ষা করে।

সাওম পালনের মাধ্যমে অন্তরে তাকওয়া সৃষ্টি হয়, যা বান্দাকে জাহান্নামের আগুন থেকে হেফাজত করে। এ কারণেই হাদিস শরিফে রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেছেন— 'আস-সাওমু জুন্নাহ' অর্থাৎ সাওম হলো ঢালস্বরূপ।

বিস্তারিত উত্তর

জিহাদ ও সন্ত্রাসবাদ সম্পূর্ণ বিপরীতধর্মী দুটি প্রত্যয়। জিহাদ অর্থ অন্যায়, অবিচার, জুলুম ও শয়তানি শক্তির বিরুদ্ধে আত্মরক্ষা, সত্য প্রতিষ্ঠা ও ন্যায়ের সংগ্রামে চূড়ান্ত প্রচেষ্টা চালানো; যার মূল লক্ষ্য সমাজে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা করা।

পক্ষান্তরে সন্ত্রাসবাদ হলো ব্যক্তিস্বার্থ বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নিরপরাধ মানুষ হত্যা, ভয়ভীতি সৃষ্টি ও বিশৃঙ্খলা ছড়ানো। ইসলামে নিরপরাধ মানুষ হত্যা ও সন্ত্রাসকে সম্পূর্ণ হারাম ও ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

বিস্তারিত উত্তর

ইসলামি ফিকহশাস্ত্রে অসামান্য পাণ্ডিত্য, সূক্ষ্ম ধীশক্তি, অগাধ দূরদর্শিতা ও তাকওয়ার কারণে ইমাম আবু হানিফা (র.)-কে 'ইমামে আযম' বা সর্বশ্রেষ্ঠ ইমাম উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছে।

তিনিই সর্বপ্রথম কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে মানবজীবনের লক্ষাধিক জটিল ধর্মীয় ও আধুনিক আইনি সমস্যার পদ্ধতিগত সমাধান লিপিবদ্ধ করে ফিকহশাস্ত্রকে সুসংগঠিত প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেন।

বিস্তারিত উত্তর

মুয়িদের সীমান্তে নিয়োজিত থেকে দেশের অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার কাজটি আখলাকে হামিদাহর অন্যতম শ্রেষ্ঠ শাখা 'দেশপ্রেম ও জাতীয় দায়িত্বশীলতা' (হুব্বুল ওয়াতন)-র এক অনুপম নিদর্শন।

রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেছেন— 'আল্লাহর রাস্তায় একদিন ও একরাত সীমান্ত পাহারা দেওয়া এক মাসের অবিরাম সিয়াম পালন ও রাত জেগে সালাত আদায়ের চেয়েও উত্তম' (সহিহ মুসলিম)। মুয়িদের এই আত্মত্যাগ দেশের নিরাপত্তা ও শান্তি নিশ্চিত করার মহতী ইবাদত।

বিস্তারিত উত্তর

আমর বিল মারুফ (সৎ কাজের আদেশ) ও নাহি আনিল মুনকার (অসৎ কাজের নিষেধ) হলো ইসলামি সমাজের সুরক্ষাকবচ।

যখন সমাজের মানুষ পারস্পরিক কল্যাণে ভালো কাজে উৎসাহিত করে এবং মন্দ ও দুর্নীতি প্রতিরোধ করে, তখন সমাজে অন্যায়কারী কোণঠাসা হয়ে পড়ে। ফলে অপরাধের বিস্তার রোধ হয় এবং সমাজে সাম্য, সম্প্রীতি ও ন্যায়ভিত্তিক নৈতিক পরিবেশ বজায় থাকে।

বিস্তারিত উত্তর

ওয়াদা বা চুক্তি পালন করা ঈমানের অপরিহার্য দাবি এবং আখলাকে হামিদাহর প্রধান ভিত্তি। ওয়াদা পালনের মাধ্যমে মানুষের অন্তরে সততা ও বিশ্বস্ততার বিকাশ ঘটে।

সমাজে পারস্পরিক আস্থা, নির্ভরতা ও বাণিজ্য-চুক্তির স্থায়িত্ব নিশ্চিত হয়। আল্লাহ তায়ালা অঙ্গীকার পূরণকারীকে ভালোবাসেন এবং পরকালে তার জন্য জান্নাতের সুসংবাদ রয়েছে।

বিস্তারিত উত্তর

মদিনা সনদের গুরুত্বপূর্ণ দুটি ধারা হলো:

১. পূর্ণ ধর্মীয় স্বাধীনতা: সনদে স্বাক্ষরকারী মুসলিম, ইহুদি ও পৌত্তলিক সকল সম্প্রদায় নিজ নিজ ধর্ম স্বাধীনভাবে পালন করবে; কেউ কারো ধর্মীয় কাজে হস্তক্ষেপ করবে না।

২. যৌথ প্রতিরক্ষা ও নিরপেক্ষ বিচার: বহিঃশত্রু কর্তৃক মদিনা আক্রান্ত হলে সকল সম্প্রদায় যৌথভাবে মদিনা রক্ষা করবে এবং কোনো অপরাধী বা জালিমকে কোনো সম্প্রদায় আশ্রয় দেবে না।

বিস্তারিত উত্তর

প্রাক-ইসলামি আরবে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষালয় বা আধুনিক জ্ঞানবিজ্ঞান চর্চা ছিল না; তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক ও সাংস্কৃতিক অহংকারের একমাত্র অবলম্বন ছিল আরবি ভাষার চমৎকার কাব্যচর্চা।

তারা মুখে মুখে ছন্দোবদ্ধ উচ্চাঙ্গের দীর্ঘ কবিতা রচনা করত এবং বিখ্যাত 'উকাজ' মেলায় কবিতা আবৃত্তির প্রতিযোগিতায় বিজয়ী কবিতা স্বর্ণাক্ষরে কাবাঘরের দেয়ালে ঝুলিয়ে রাখা হতো, যা তাদের সাহিত্যের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ ছিল।

বিস্তারিত উত্তর

ইসলামি ফিকহশাস্ত্রের মূল উদ্ভাবক ও প্রতিষ্ঠাতা হলেন প্রখ্যাত তাবেয়ি ইমাম আবু হানিফা (র.) (প্রকৃত নাম নোমান ইবনে সাবিত)। তিনি ৮০ হিজরি (৬৯৯ খ্রি.) কুফায় জন্মগ্রহণ করেন।

তিনি অনন্য ধীশক্তি ও সততার অধিকারী ছিলেন। তিনি ৪০ জন শীর্ষ মুজতাহিদ আলেমের সমন্বয়ে ফিকহ বোর্ড গঠন করে কুরআন-সুন্নাহর ভিত্তিতে জীবনঘনিষ্ঠ জটিল সমস্যার সমাধান সংকলন করে হানাফি মাজহাবের ভিত্তি স্থাপন করেন।