সিলেট বোর্ড ২০২৬
১. রিনা ও মিনা দশম শ্রেণির ছাত্রী। গল্পান্তে রিনা একজন সুদর্শন মানুষকে দেখে বলল, মানুষের শরীরের গঠন কত সুন্দর! এ সৌন্দর্য অন্য কোনো প্রাণীর মধ্যে নেই। এ মানুষই আবার তার অসৎকর্ম দ্বারা মনুষ্যত্বের স্তর থেকে পশুত্বের স্তরে নেমে যায়। অপরদিকে, মিনা বলল, মানুষ সালাত সম্পর্কে খুব উদাসীন। সালাত আদায় করলেও তা আবার লোক দেখানোর জন্য আদায় করে।
উত্তর পবিত্র কুরআনের পরিভাষায় 'মাউন' শব্দের অর্থ গৃহস্থালির প্রয়োজনীয় ছোটখাটো নিত্যব্যবহার্য জিনিসপত্র (যেমন: সুই, সুতা, লবণ, পাত্র ইত্যাদি)।
উত্তর

ইসলামি শরিয়ত হলো মহান আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত মানুষের জীবন পরিচালনার সম্পূর্ণ দিকনির্দেশনা ও জীবনবিধান; যা মানুষের ব্যক্তিগত, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনকে সুন্দর ও শৃঙ্খলিত করে।

শরিয়তের বিধান মানার মাধ্যমেই পরকালীন মুক্তি লাভ সম্ভব।

উত্তর

রিনার মানুষের সুন্দর গঠন ও পরবর্তীতে অসৎকর্মের কারণে পশুত্বের স্তরে নেমে যাওয়ার কথন পবিত্র কুরআনের ৯৫তম সুরা 'সুরা আত-তীন'-এর সাথে চমৎকারভাবে মিল রয়েছে।

সুরা আত-তীনের ৪ ও ৫ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন— 'নিশ্চয়ই আমি মানুষকে সর্বোত্তম গঠনে সৃষ্টি করেছি, অতঃপর তাকে নামিয়ে দিয়েছি নিকৃষ্টতম অধম স্তরে।' আল্লাহ মানুষকে বিবেক ও সৌন্দর্য দিয়ে সম্মানিত করেছেন, কিন্তু মানুষ যখন পাপে লিপ্ত হয় তখন সে পশুর চেয়েও অধম হয়ে যায়।

রিনা সুরা আত-তীনের এই মহান দার্শনিক সত্যটিই ব্যক্ত করেছে।

উত্তর

চিহ্নিত করলে দেখা যায়— মিনার সালাতের ব্যাপারে উদাসীনতা ও লোকদেখানো সালাতের বক্তব্যটি পবিত্র কুরআনের ১০৭তম সুরা 'সুরা আল-মাউন'-এর প্রতি ইঙ্গিত করে; মানবজীবনে এই সূরার শিক্ষামূলক বাণী নিচে নিরূপণ করা হলো:

১. সালাতে একনিষ্ঠতা ও সময়ানুবর্তিতা: সালাত সময়মতো একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আদায় করতে হবে; সালাতে অলসতা বা রিয়া (লোকদেখানো ভাব) পরিত্যাগ করতে হবে।

২. এতিম ও মিসকিনের প্রতি সহানুভূতি: এতিমকে আদর-স্নেহ করতে হবে এবং অভাবগ্রস্তদের অন্নদানে সমাজকে উৎসাহিত করতে হবে।

৩. প্রতিবেশীর সাথে সদাচরণ: প্রতিবেশীর প্রয়োজনে গৃহস্থালির ছোটখাটো নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি ধার দিয়ে সাহায্য করতে হবে; কৃপণতা বর্জন করতে হবে।

সুতরাং, সুরা আল-মাউন মানুষের অন্তরের কপটতা দূর করে নিঃস্বার্থ মানবসেবা ও একনিষ্ঠ ইবাদতের শিক্ষা দেয়।

২. নিচের ডায়াগ্রাম দেখে সংশ্লিষ্ট প্রশ্নের উত্তর দাও :
উদ্দীপকের ছবি
উত্তর আল্লাহ তায়ালার বাণী, আদেশ ও নিষেধ মানুষের কাছে পৌঁছানোর মহান দায়িত্ব ও বার্তাবাহী নবুয়তি কাজকে 'রিসালাত' বলে।
উত্তর

ইমান হলো মহান আল্লাহ তায়ালার দয়া, ক্ষমতা ও নিয়ামতকে অন্তরে গভীরভাবে উপলব্ধি করা; যখন বান্দা বোঝে যে আল্লাহই তার একমাত্র রব ও প্রতিপালক, তখন অন্তরে আল্লাহর প্রতি গভীর ভালোবাসা ও অনুরাগ সৃষ্টি হয়।

এই অনুরাগ বান্দাকে আল্লাহর সকল আদেশের অনুগত বানায়।

উত্তর

ডায়াগ্রামের প্রথম বিষয় 'কুফর' (অবিশ্বাস) মানুষকে পরকালের জবাবদিহিতা ও আল্লাহর ভয় থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়; ফলে মানুষের মনে কোনো ঐশী ভয় থাকে না।

পরকাল ও বিচার দিবসে বিশ্বাস না থাকায় কাফির ব্যক্তি পার্থিব ক্ষণস্থায়ী সুখের লোভে অবাধে ব্যভিচার, মদ্যপান, সুদ, ঘুষ, অবিচার ও জুলুমে লিপ্ত হয়। ফলে ব্যক্তি ও সমাজে চরম অনৈতিকতার প্রসার ঘটে এবং নৈতিক মূল্যবোধ ধ্বংস হয়ে যায়।

উত্তর

চিহ্নিত করলে দেখা যায়— ডায়াগ্রামের শেষ বিষয় 'নিফাক' (কপটতা) মানবসমাজে চরম সন্দেহ, অবিশ্বাস ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে; পাঠ্যবইয়ের আলোকে এর প্রভাব অত্যন্ত ধ্বংসাত্মক।

মুনাফিকরা মুখে মিষ্টি কথা ও বন্ধুত্বের দাবি করলেও অন্তরে শত্রুতা ও কুফর গোপন রাখে। তারা প্রকাশ্যে মুসলিমদের সাথে থাকলেও সুযোগ পেলেই সমাজ ও রাষ্ট্রের চরম ক্ষতি সাধন করে। তাদের এই দ্বিমুখী আচরণের কারণে সমাজে কেউ কাউকে বিশ্বাস করতে পারে না এবং পারস্পরিক আস্থা নষ্ট হয়।

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা মুনাফিকদের ষড়যন্ত্র সম্পর্কে মুমিনদের সতর্ক করেছেন এবং তাদের স্থান জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে ঘোষণা করেছেন (সুরা আন-নিসা: ১৪৫)।

সুতরাং, নিফাক সমাজের সংহতি ও ভ্রাতৃত্বকে সমূলে ধ্বংস করে দেয়।

৩. নিচের ডায়াগ্রামটি দেখে সংশ্লিষ্ট প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
উদ্দীপকের ছবি
উত্তর কোনো বিষয়ের বাস্তব রূপ, তত্ত্ব ও সঠিক তথ্য জানাকে শরিয়তের পরিভাষায় 'ইলম' বা জ্ঞান বলে।
উত্তর

জিহাদের মূল লক্ষ্য কোনো ভূখণ্ড দখল বা ব্যক্তিস্বার্থ উদ্ধার নয়; বরং অন্যায় ও জুলুমের অবসান ঘটিয়ে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা করে একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি ও দ্বীনকে সমুন্নত করাই এর উদ্দেশ্য বোঝাতেই উক্তিটি করা হয়েছে।

ইখলাসই জিহাদের আত্মিক প্রাণ।

উত্তর

ডায়াগ্রামের প্রথম বিষয় 'সালাত' (নামাজ) জামায়াতে আদায়ের মাধ্যমে সমাজের সকল স্তরের মানুষ দৈনিক পাঁচবার কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়ায়।

এতে ধনী-দরিদ্র, রাজা-প্রজা ও জাতি-বর্ণের সমস্ত বৈষম্য দূর হয়ে যায়। মুসল্লিদের মাঝে পারস্পরিক দেখা-সাক্ষাৎ, খোঁজখবর নেওয়া এবং সুখ-দুঃখের অংশীদার হওয়ার ফলে সমাজে এক সুদৃঢ় আত্মিক ও সামাজিক বন্ধন তৈরি হয়।

উত্তর

হ্যাঁ, আমি দৃঢ়ভাবে মনে করি যে— ডায়াগ্রামের শেষ বিষয় 'সাওম ও যাকাত' সমাজের নিরন্ন ও অভাবীদের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশে সরাসরি সহায়ক; পাঠ্যবইয়ের আলোকে এর বিশ্লেষণ নিম্নে দেওয়া হলো:

১. সাওমের ভূমিকা: ধনী ব্যক্তিরা যখন সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সারাদিন ক্ষুধা ও পিপাসার যন্ত্রণা ভোগ করে, তখন তারা দরিদ্র ও অনাহারী মানুষের বাস্তব কষ্টের তীব্রতা অন্তরে উপলব্ধি করতে পারে। এর ফলে তাদের অন্তরে গরিবদের প্রতি গভীর সহানুভূতি ও দানের মানসিকতা জাগ্রত হয়।

২. যাকাতের ভূমিকা: যাকাত প্রদানের মাধ্যমে ধনীদের সম্পদ থেকে নির্ধারিত হক দরিদ্র ও ক্ষুধার্ত মানুষের কাছে পৌঁছে যায়, যা তাদের অন্নের ব্যবস্থা করে সমাজে সাম্য প্রতিষ্ঠা করে।

সুতরাং, সাওম ও যাকাত মানুষের মধ্যে সহমর্মিতা ও মানবিক ভ্রাতৃত্বের অনন্য অনুভূতি তৈরি করে।

৪. তানিয়া একজন মহীয়সী নারী। তিনি মনে করেন- নিশ্চয়ই কষ্টের সাথে স্বস্থি আছে। তাই যখনই তিনি সময় পান তখনই ইবাদতে লিপ্ত থাকেন এবং তার প্রতিপালকের প্রতি মনোনিবেশ করেন। তার বোন তানিসা বেগম সালাত, সাওম ও ইবাদতের ব্যাপারে চরম উদাসীন। এছাড়া তিনি সংসারের প্রয়োজনীয় ছোটো-খাটো জিনিস কাউকে দিতে রাজি না। তার প্রতিবেশী সামান্য সুঁচ ধার চাইতে আসলে তিনি দিতে অস্বীকৃতি জানান।
উত্তর পবিত্র কুরআনের সুরা আত-তীনে 'বালাদুল আমীন' বা নিরাপদ নগরী দ্বারা বরকতময় ও পবিত্র নগরী 'মক্কা মুকাররমা'-র প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
উত্তর

সুরা আত-তীনের শেষাংশে সেইসব মুমিন বান্দাদের সম্পর্কে বলা হয়েছে যাঁরা ঈমান আনয়ন করেছেন ও সৎকর্ম সম্পাদন করেছেন; যাঁদের জন্য রয়েছে অফুরন্ত ও অবিরাম পুরস্কার।

তাঁরা সৃষ্টির শ্রেষ্ঠত্বের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখেন।

উত্তর

তানিয়ার 'কষ্টের সাথেই স্বস্তি আছে' বিশ্বাস করা এবং অবসর সময়ে ইবাদতে মগ্ন থাকার মহতী আচরণে পবিত্র কুরআনের ৯৪তম সুরা 'সুরা আল-ইনশিরাহ' (বা আশ-শারহ)-এর প্রতিফলন ঘটেছে।

সুরা আল-ইনশিরাহের ৫ থেকে ৮ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন— 'নিশ্চয়ই কষ্টের সাথেই স্বস্তি রয়েছে... অতএব যখনই আপনি অবসর পান তখনই ইবাদতে কঠোর পরিশ্রম করুন এবং আপনার প্রতিপালকের প্রতি মনোনিবেশ করুন।' তানিয়া এই সুরার শিক্ষা হুবহু জীবনে ধারণ করেছে।

ধৈর্য ও ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভই এই সুরার শিক্ষা।

উত্তর

চিহ্নিত করলে দেখা যায়— তানিসা বেগমের সালাতে উদাসীনতা এবং প্রতিবেশীকে সামান্য সুইয়ের মতো প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি ধার দিতে অস্বীকৃতি জানানোর চরিত্রে পবিত্র কুরআনের ১০৭তম সুরা 'সুরা আল-মাউন'-এর বিষয়বস্তু ফুটে উঠেছে; মানবজীবনে এই সূরার শিক্ষাগুলো নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:

১. এতিম-অসহায়দের অধিকার রক্ষা: সমাজে এতিম ও দরিদ্রদের অবহেলা করা যাবে না; তাদের ভালোবাসা ও সাহায্য করতে হবে।

২. সালাতে একনিষ্ঠতা: সালাতে অলসতা ও উদাসীনতা পরিত্যাগ করে আন্তরিকতার সাথে নির্ধারিত সময়ে সালাত কায়েম করতে হবে।

৩. প্রতিবেশীর সহযোগিতা ও উদারতা: প্রতিবেশীর প্রয়োজনে গৃহস্থালির ছোটখাটো নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র দিয়ে সাহায্য করতে হবে; কৃপণতা বর্জন করতে হবে।

সুতরাং, তানিসা বেগমের উচিত সুরা আল-মাউনের শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সালাতনিষ্ঠ হওয়া এবং প্রতিবেশীর সাথে উদার আচরণ করা।

৫. ভোক্তা অধিকার বিষয়ক এক সেমিনারে প্রথম বক্তা বলেন, আমরা যা কিছু খাই সবকিছু আমাদের জন্য কল্যাণকর নয়। আর আমাদের সু-স্বাস্থ্যের জন্য যা উপযোগী তা গ্রহণ করার জন্য আল্লাহ তায়ালা আদেশ করেছেন। অপর বক্তা বলেন, যেহেতু নিষিদ্ধ বিষয়গুলোর সংখ্যা সীমিত তাই সেগুলো চিনে রাখা ও বর্জন করা আমাদের সকলের একান্ত কর্তব্য।
উত্তর ইসলামি শরিয়তের যেসব বিধান কুরআন ও সুন্নাহর অকাট্য দলিলের মাধ্যমে প্রমাণিত এবং যা পালন করা বাধ্যতামূলক ও অস্বীকারকারী কাফির, তাকে 'ফরজ' বলে।
উত্তর

শরিয়তের আহকামে ওয়াজিবের স্থান ফরজের পরেই; এটি পালন করা আবশ্যক এবং ইচ্ছাকৃতভাবে ত্যাগকারী ফাসিক ও মারাত্মক গুনাহগার হয়।

ওয়াজিব অস্বীকারকারী কাফির না হলেও চরম পথভ্রষ্ট।

উত্তর

সেমিনারে প্রথম বক্তার 'সুস্বাস্থ্যের জন্য উপযোগী ও পবিত্র বস্তু গ্রহণের ঐশী আদেশ' বক্তব্যে পাঠ্যবইয়ের 'হালাল ভক্ষণ ও হালাল উপার্জনের' মৌলিক বিষয়টি ফুটে উঠেছে।

আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেছেন— 'হে মানবজাতি! তোমরা জমিনের হালাল ও পবিত্র বস্তু ভক্ষণ করো' (সুরা আল-বাকারা: ১৬৮)। ইসলাম সর্বদা মানুষের শারীরিক ও আত্মিক স্বাস্থ্যের সুরক্ষায় পবিত্র ও কল্যাণকর বস্তু গ্রহণের নির্দেশ দেয়।

হালাল খাদ্য গ্রহণ মানবজীবনে তাকওয়া ও ইবাদতের স্পৃহা বৃদ্ধি করে।

উত্তর

চিহ্নিত করলে দেখা যায়— সেমিনারে শেষ বক্তার বক্তব্যে শরিয়তের 'হারাম ও নিষিদ্ধ বিষয়াবলি বর্জন করার' গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে; সংশ্লিষ্ট কিছু প্রধান হারাম দ্রব্যের তালিকা ও মানবজীবনে এর ক্ষতিকর প্রভাব নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:

হারাম দ্রব্যের সংক্ষিপ্ত তালিকা:
১. মদ ও সমস্ত প্রকার মাদকদ্রব্য;
২. শূকরের গোশত, মৃত প্রাণী ও রক্ত;
৩. আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে উৎসর্গীকৃত পশু;
৪. সুদ ও ঘুষের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ;
৫. জুয়া ও লটারির মাধ্যমে অর্জিত সম্পদ।

মানবজীবনে হারামের মারাত্মক প্রভাব:
হারাম খাদ্য ও উপার্জন মানুষের বিবেক ও চরিত্র ধ্বংস করে, শারীরিক মারাত্মক রোগব্যাধির সৃষ্টি করে এবং অন্তরে পাপাচারের বিস্তার ঘটায়। হাদিস অনুযায়ী— হারাম খাদ্যে গঠিত শরীর জান্নাতে যাবে না এবং হারামখোরের কোনো দোয়া ও ইবাদত কবুল হয় না।

অতএব, ব্যক্তি ও সমাজকে সুরক্ষিত রাখতে সমস্ত হারাম বস্তু কঠোরভাবে বর্জন করা অপরিহার্য।

৬. নিচের ডায়াগ্রাম দেখে সংশ্লিষ্ট প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
উদ্দীপকের ছবি
উত্তর 'আল-ইনশিরাহ' শব্দের অর্থ বক্ষ প্রশস্ত করা বা উন্মোচন করা; এটি পবিত্র কুরআনের ৯৪তম সুরার নাম।
উত্তর

বাক্য দুটি হলো মহান আল্লাহর অপরিসীম মহিমা ও পবিত্রতা বর্ণনাকারী কালিমাতান ('সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি, সুবহানাল্লাহিল আযীম'); এতে আল্লাহর প্রতি খাঁটি তাওহিদ ও শুকরিয়া প্রকাশ পায় বলেই তা মিযানের পাল্লায় অত্যন্ত ভারী।

রাসুল (স.) এই তাসবিহের ফজিলত বর্ণনা করেছেন।

উত্তর

ডায়াগ্রামের শেষ বিষয় 'কিয়াস' (আইনি সাদৃশ্যমূলক অনুমান) নতুন যুগ, সভ্যতা ও সংস্কৃতির পরিবর্তনের সাথে সাথে উদ্ভূত আধুনিক জটিল ধর্মীয় সমস্যার চমৎকার সমাধান দিতে সহায়তা করে।

কারণ যেসব আধুনিক প্রযুক্তি, চিকিৎসা ও অর্থনৈতিক বিষয়ের প্রত্যক্ষ উল্লেখ অতীত গ্রন্থে নেই, মুজতাহিদগণ কিয়াসের মাধ্যমে কুরআন-সুন্নাহর মূল ইল্লতের সাথে তুলনা করে পদ্ধতিগত সমাধান প্রদান করেন। ফলে ইসলামি আইন সর্বদা গতিশীল থাকে।

উত্তর

হ্যাঁ, আমি মনে করি যে— ডায়াগ্রামের প্রথম বিষয় 'আল-কুরআন ও সুন্নাহ' ইসলামি শরিয়তের অকাট্য ও চূড়ান্ত দলিল হিসেবে সাব্যস্ত; পাঠ্যপুস্তকের আলোকে এর যৌক্তিক বিশ্লেষণ নিম্নে দেওয়া হলো:

১. কুরআন মাজিদ: স্বয়ং আল্লাহর নির্ভুল ও সংরক্ষিত ওহি। এর প্রতিটি আয়াত সন্দেহাতীত ও শরিয়তের মূল স্তম্ভ। কুরআন হলো সকল আইনের উৎস।

২. সুন্নাহ বা হাদিস: রাসুলুল্লাহ (স.)-এর বাণী ও জীবনাদর্শ। কুরআনের নির্দেশাবলির বাস্তব প্রয়োগ ও ব্যাখ্যা সুন্নাহর মাধ্যমেই নিখুঁতভাবে নির্ধারিত হয়েছে।

আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে ঘোষণা করেছেন— 'রাসুল তোমাদের যা দেন তা গ্রহণ করো এবং যা থেকে নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো' (সুরা আল-হাশর: ৭)। কুরআন ও সুন্নাহর কোনো বিধানের বিরোধিতা করার অধিকার কারো নেই।

সুতরাং, কুরআন ও সুন্নাহই ইসলামি জীবনবিধানের মূল ও অপরিবর্তনীয় অকাট্য ভিত্তি।

৭. জনাব সালাম মিশর আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে হাদিস অধ্যয়ন করে জানতে পারে যে, তাজিকিস্তানের এক মহামনীষী হাদিসশাস্ত্রে এক বিশুদ্ধতম গ্রন্থ সংকলন করেন। অপরদিকে, অন্য এক মনীষী হাদিসশাস্ত্রে তুলনামূলকভাবে কম মনোনিবেশ করলেও কুরআন-হাদিস গবেষণা করে ইসলামে নতুন এক বিধি-বিধান উপহার দেন। বাদশাহের আদেশ না মানায় উক্ত মনীষীকে বিষ প্রয়োগে হত্যা করা হয়।
উত্তর প্রাক-ইসলামি আরবে উকাজ মেলায় অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শ্রেষ্ঠ সাতটি আরবি ঝুলন্ত দীর্ঘ কবিতাকে 'আস-সাবউল মুআল্লাকাত' বলে।
উত্তর

আইয়ামে জাহেলিয়াত যুগে আরবরা তাওহিদের মূল শিক্ষা ভুলে গিয়ে এক আল্লাহর ঘরের ভেতর ৩৬০টি বিভিন্ন মূর্তি স্থাপন করে মূর্তিপূজার আখড়ায় পরিণত করেছিল।

এভাবেই তারা পবিত্র কাবা গৃহকে পৌত্তলিকদের মন্দিরে রূপান্তর করেছিল।

উত্তর

জনাব সালাম মিশর আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে হাদিসশাস্ত্রে যে শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ সংকলনকারী মহামনীষী সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করেছেন, তিনি হলেন হাদিসসম্রাট 'ইমাম বুখারি (র.)' (১৯৪-২৫৬ হি.)।

তিনি মধ্য এশিয়ার বোখারায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি কঠোর যাচাই-বাছাই ও বর্ণনাকারীদের চরিত্র বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রায় ছয় লক্ষ হাদিস থেকে বিশুদ্ধতম হাদিসগুলো নিয়ে সংকলন করেন কালজয়ী গ্রন্থ 'সহিহ বুখারি'। কুরআনের পর মুসলিম বিশ্বে এটি সর্বাধিক বিশুদ্ধ গ্রন্থের মর্যাদা লাভ করেছে।

উত্তর

চিহ্নিত করলে দেখা যায়— উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত দ্বিতীয় মনীষী হলেন ফিকহশাস্ত্রের জনক 'ইমাম আবু হানিফা (র.)' (৮০-১৫০ হি.); নিচে তাঁর সংক্ষিপ্ত পরিচয় ও অবদান বর্ণনা করা হলো:

পরিচয়: তাঁর প্রকৃত নাম নোমান ইবনে সাবিত। তিনি ৮০ হিজরিতে কুফায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি একজন প্রখ্যাত তাবেয়ি ও অনন্য ধীসম্পন্ন মুজতাহিদ ছিলেন।

অবদান: তিনি ইসলামি ফিকহশাস্ত্রকে সুশৃঙ্খল ও আধুনিক প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেন। তিনি ৪০ জন শীর্ষ আলেমের সমন্বয়ে ফিকহ বোর্ড গঠন করে কুরআন, সুন্নাহ ও কিয়াসের ভিত্তিতে তৎকালীন ও ভবিষ্যৎ জীবনের প্রায় ৮৩ হাজার জটিল মাসআলার সমাধান সংকলন করেন, যা হানাফি মাজহাব নামে বিশ্বজুড়ে সমাদৃত।

আব্বাসীয় খলিফা মানসুর তাঁকে প্রধান বিচারপতির পদ নিতে চাপ দিলে তিনি স্বাধীন ফতোয়া দেওয়ার স্বার্থে তা প্রত্যাখ্যান করেন। ফলে তাঁকে কারাগারে নিক্ষেপ করা হয় এবং ১৫০ হিজরিতে কারাগারেই বিষপ্রয়োগে তিনি শাহাদাতবরণ করেন।

৮. নিচের ডায়াগ্রামটি দেখে সংশ্লিষ্ট প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
উদ্দীপকের ছবি
উত্তর ৬২২ খ্রিস্টাব্দে মহানবি (স.) মদিনায় হিজরতের পর মুসলিম, ইহুদি ও অন্যান্য সম্প্রদায়ের মধ্যে শান্তি ও সম্প্রীতি স্থাপনের জন্য প্রণীত বিশ্বের প্রথম লিখিত চুক্তিকে 'মদিনা সনদ' বলে।
উত্তর

মহানবি (স.)-এর চরিত্র ছিল কুরআনের বাস্তব জীবন্ত রূপ এবং মহান আল্লাহ তাঁকে সমগ্র মানবজাতির জন্য সর্বোত্তম অনুপম আদর্শ (উসওয়াতুন হাসানাহ) হিসেবে পাঠিয়েছেন বলেই তাঁর জীবনাদর্শ অনুকরণীয়।

তাঁর সুন্নাহ অনুসরণ ছাড়া দ্বীনের সঠিক পথ পাওয়া যায় না।

উত্তর

ডায়াগ্রামের শেষ বিষয় 'আরবি সাহিত্য ও উচ্চাঙ্গের কাব্যচর্চা' (যেমন: সাবউল মুআল্লাকাত) প্রাচীন আরবদের অনন্য অলঙ্কার ও বিশ্বখ্যাতি অর্জনে সহায়তা করেছিল।

আরবরা ভাষা ও ছন্দোবদ্ধ কাব্যের ক্ষেত্রে অত্যন্ত পারদর্শী ছিল। তাদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকলেও আরবি ভাষার গভীরতা ও প্রাঞ্জল কবিতা রচনার মাধ্যমে তারা বিশ্বসাহিত্যে চিরন্তন শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছিল।

উত্তর

চিহ্নিত করলে দেখা যায়— ডায়াগ্রামের প্রথম বিষয় 'আইয়ামে জাহেলিয়াত' (অজ্ঞতার যুগ) প্রাক-ইসলামি আরবের কলুষিত সমাজব্যবস্থার এক মূর্ত ও জীবন্ত প্রতীক; নিম্নে এর বিশ্লেষণ দেওয়া হলো:

আইয়ামে জাহেলিয়াত যুগে আরবের সামাজিক ও নৈতিক অবস্থা চরম অধঃপতনে নিমজ্জিত ছিল। সমাজে কোনো কেন্দ্রীয় সরকার বা আইনের শাসন ছিল না; জোর যার মুল্লুক তার নীতিতে সমাজ চলত। কন্যাশিশুকে জীবন্ত কবর দেওয়া হতো, নারীদের পণ্য হিসেবে গণ্য করা হতো এবং ব্যভিচার, মদ্যপান ও জুয়া সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ছড়িয়ে পড়েছিল।

গোত্রে গোত্রে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে দশকের পর দশক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ লেগেই থাকত। এই চরম অন্ধকার ও বর্বর সমাজব্যবস্থার নিখুঁত চিত্রই হলো আইয়ামে জাহেলিয়াত।

সুতরাং, উক্তিটি প্রাক-ইসলামি আরবের চরম নৈতিক সংকটের বাস্তব প্রতিচ্ছবি।

বিস্তারিত উত্তর

ইমান হলো অন্তরের অভ্যন্তরীণ সুদৃঢ় বিশ্বাস আর ইসলাম হলো আল্লাহর বিধিনিষেধের কাছে আত্মসমর্পণ করে বাস্তব আমল ও আনুগত্য প্রদর্শন করা।

ইমান হলো মূল ভিত্তি আর ইসলাম হলো তার বাহ্যিক রূপ। অন্তরে বিশ্বাস ছাড়া বাহ্যিক আনুগত্য মূল্যহীন, আবার বাস্তব আমল ছাড়া অন্তরের ঈমানের পূর্ণতা অর্জিত হয় না। তাই ইমান ও ইসলাম পরস্পর অবিচ্ছেদ্য ও পরিপূরক।

বিস্তারিত উত্তর

রাসুলুল্লাহ (স.) সুপ্রসিদ্ধ হাদিসে মুনাফিকের তিনটি মূল আলামত বা চিহ্ন বর্ণনা করেছেন (সহিহ বুখারি):

১. কথা বললে মিথ্যা বলে;
২. ওয়াদা বা অঙ্গীকার করলে তা ভঙ্গ করে; এবং
৩. কারো আমানত রাখলে তাতে খেয়ানত বা আত্মসাৎ করে।

এসব চারিত্রিক দোষ যার মধ্যে থাকে সে খাঁটি মুনাফিকের অন্তর্ভুক্ত।

বিস্তারিত উত্তর

ইসলামি শরিয়তের প্রধান ও মৌলিক দুটি উৎস হলো:

১. আল-কুরআন: মহান আল্লাহ তায়ালার সরাসরি অবতীর্ণ ও সংরক্ষিত ঐশী বাণী, যা শরিয়তের সর্বপ্রথম ও মূল ভিত্তি।

২. সুন্নাহ বা হাদিস: মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর পবিত্র কথা, কাজ ও মৌনসম্মতি; যা কুরআনের ব্যাখ্যা এবং শরিয়তের দ্বিতীয় অপরিহার্য উৎস।

বিস্তারিত উত্তর

কাফির ব্যক্তি পরকাল, হাশরের হিসাব-নিকাশ এবং জান্নাত-জাহান্নামের প্রতি বিশ্বাস রাখে না; ফলে তার মনে কোনো ঐশী জবাবদিহিতার ভয় থাকে না।

আল্লাহর ভয় ও পরকালের শাস্তি থেকে মুক্ত ভেবে সে পার্থিব ভোগবিলাস, লোভ, মিথ্যাচার, ব্যভিচার ও জুলুমে অবাধে লিপ্ত হয়; যা সমাজে চরম অনৈতিকতার প্রসার ঘটায়।

বিস্তারিত উত্তর

মৃত মানুষ যেমন নিজের আত্মরক্ষা করতে পারে না এবং তার গোশত কাটা অত্যন্ত ঘৃণ্য ও বীভৎস কাজ, তেমনি একজন মানুষের অনুপস্থিতিতে তার দোষ বলে সম্মানহানি করাও চরম কাপুরুষোচিত ও জঘন্য অন্যায়।

এ কারণেই পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ তায়ালা গিবতকে নিজের মৃত ভাইয়ের গোশত খাওয়ার মতো ঘৃণ্য পাপের সাথে তুলনা করেছেন (সুরা আল-হুজুরাত: ১২)।

বিস্তারিত উত্তর

ইসলামের আবির্ভাবের পূর্বে আরবে প্রচলিত অন্ধকারাচ্ছন্ন, বর্বর, পৌত্তলিক ও নৈতিকতাহীন যুগকে 'আইয়ামে জাহেলিয়াত' (অজ্ঞতার যুগ) বলা হয়।

এ যুগে মানুষ এক আল্লাহর পরিবর্তে মূর্তিপূজা করত, ব্যভিচার ও মদ্যপানে নিমজ্জিত ছিল, দুর্বলদের ওপর শোষণ চালাত এবং কন্যাসন্তানকে জীবন্ত কবর দিত।

বিস্তারিত উত্তর

আমর বিল মারুফ (সৎকাজে আদেশ) ও নাহি আনিল মুনকার (অসৎকাজে নিষেধ) হলো সমাজকে অবক্ষয় ও অন্যায় থেকে রক্ষা করার ঐশী সুরক্ষা ব্যবস্থা।

যখন সমাজে ভালো কাজের চর্চা বাড়ে এবং অন্যায়ের প্রতিবাদ করা হয়, তখন পাপাচার নির্মূল হয়ে সমাজে শান্তি, শৃঙ্খলা ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠিত হয়। অন্যথায় সমাজের ওপর আল্লাহর গজব নেমে আসে।

বিস্তারিত উত্তর

ইমাম বুখারি (র.) দীর্ঘ ১৬ বছর সাধনা করে প্রায় ছয় লক্ষ হাদিস থেকে বর্ণনাকারীদের চরিত্র ও নির্ভরযোগ্যতার সর্বোচ্চ কঠিন মানদণ্ড এবং প্রতিটি হাদিসের ক্ষেত্রে ইস্তিখারা ও গোসল করে যাচাই-বাছাইপূর্বক বিশুদ্ধতম হাদিসগুলো সংকলন করেন।

তাঁর এই নজিরবিহীন নিখুঁত সংকলন পদ্ধতির কারণে সমগ্র মুসলিম উম্মাহ সর্বসম্মতভাবে 'সহিহ বুখারি'-কে কুরআনের পর সর্বাধিক বিশুদ্ধ গ্রন্থের মর্যাদা দিয়েছে।

বিস্তারিত উত্তর

মুত্তাকি হলেন সেইসব পুণ্যবান বান্দা যাঁরা দুনিয়াতে সর্বদা আল্লাহর ভয়ে যাবতীয় পাপ ও হারাম বর্জন করে নিষ্ঠার সাথে শরিয়তের হুকুম পালন করেছেন।

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করেছেন— 'নিশ্চয়ই মুত্তাকিদের জন্য রয়েছে মহাসফলতা' (সুরা আন-নাবা: ৩১)। কারণ আল্লাহ তাঁদের জীবনের সমস্ত ভুলত্রুটি ক্ষমা করে চিরস্থায়ী শান্তির জান্নাত ও অফুরন্ত নিয়ামত দান করবেন।

বিস্তারিত উত্তর

আল্লাহ তায়ালা বান্দার বাহ্যিক শারীরিক অবয়বের চেয়ে অন্তরের খাঁটি উদ্দেশ্য ও ইখলাস বিবেচনা করে আমলের সাওয়াব ও প্রতিদান নির্ধারণ করেন।

রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেছেন— 'ইন্নামাল আমালু বিন নিয়্যাত' অর্থাৎ নিশ্চয়ই সকল কাজের ফলাফল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল (সহিহ বুখারি)। নিয়ত বিশুদ্ধ না হলে কোনো সৎকাজেরই পরকালীন সাওয়াব পাওয়া যায় না।

বিস্তারিত উত্তর

ইলম হলো একটি আরবি শব্দ, যার আভিধানিক অর্থ জ্ঞান, জানা বা উপলব্ধি করা। ইসলামি পরিভাষায় কোনো বিষয়ের বাস্তব রূপ, সত্য ও তথ্য যথাযথভাবে জানাকে 'ইলম' বলে।

ইসলামে দ্বীনি ও নৈতিক জ্ঞান অর্জন করা ফরজ। জ্ঞান মানুষকে অন্ধকারের পথ থেকে মুক্ত করে হেদায়েত, তাওহিদ ও আলোর পথে পরিচালিত করে।

বিস্তারিত উত্তর

নবুয়ত ও রিসালাতের ধারাক্রমের চিরন্তন সমাপ্তিকে ইসলামি শরিয়তের পরিভাষায় 'খতমে নবুয়ত' বলে।

হযরত আদম (আ.) থেকে শুরু হওয়া নবি-রাসুলদের আগমন হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর মাধ্যমেই পূর্ণতা লাভ করে চিরতরে সমাপ্ত হয়েছে; তাঁর পর কিয়ামত পর্যন্ত আর কোনো নবি আসবেন না (সুরা আল-আহযাব: ৪০)।

বিস্তারিত উত্তর

কিয়াসের গুরুত্বপূর্ণ দুটি মূল নীতিমালা হলো:

১. কুরআন-সুন্নাহর মূল বিধানের উপস্থিতি: যে বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে তুলনা করা হবে (আসল), তার বিধান অবশ্যই কুরআন, সুন্নাহ বা ইজমার সুস্পষ্ট দলিলের মাধ্যমে প্রমাণিত হতে হবে।

২. কার্যকর কারণের (ইল্লত) হুবহু মিল: মূল বিধান এবং নতুন উদ্ভূত বিষয়ের মধ্যে কার্যকর কারণ বা অন্তর্নিহিত মূল কারণ সম্পূর্ণ এক হতে হবে।

বিস্তারিত উত্তর

ইসলামি শরিয়তের যেসব ফরজ বিধান সমাজের বা এলাকার কিছুসংখ্যক মুসলিম আদায় করলে সবার পক্ষ থেকে দায়িত্ব আদায় হয়ে যায়, তাকে 'ফরজে কিফায়া' বলে (যেমন: জানাজার সালাত)।

তবে সমাজের কেউই যদি তা আদায় না করে, তবে ঐ সমাজের সকলেই গুনাহগার হবে।

বিস্তারিত উত্তর

পবিত্র কুরআনের সুরা আল-মুমিনুনের ১০০ নম্বর আয়াতে মানুষের মৃত্যুর পর থেকে কিয়ামতে পুনরুত্থানের পূর্ব পর্যন্ত মধ্যবর্তী সময়কালের অদৃশ্য জীবনকে 'আলমে বারযাখ' বা কবরের জীবন বলা হয়েছে।

এই সময় মৃত মানুষ দুনিয়ার সাথে কোনো যোগাযোগ করতে পারে না এবং সে তার কর্মফল অনুযায়ী কবরে শান্তি বা শাস্তি ভোগ করতে থাকে।