দৃশ্যকল্প-১ : নাফিস সাহেব ভুলে মোবাইল ফোন বন্ধ না করে নামাযের জামাআতে শরিক হলেন। হঠাৎ মোবাইল ফোন বেজে উঠলে তিনি নামায নষ্ট হবে মনে করে মোবাইল ফোন বন্ধ করেননি। নামায শেষে ইমাম সাহেব বললেন, "কিবলা ঠিক রেখে চুপিসারে মোবাইল ফোন বন্ধ করে দিবেন। বর্তমানে বিজ্ঞ আলেমগণ এ ব্যাপারে একমত হয়েছেন।”
দৃশ্যকল্প-২ : উপজেলা পরিষদে জনপ্রতিনিধির অনুপস্থিতিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে বিভিন্ন সমস্যা তিনি বিবেকবুদ্ধি প্রয়োগ করে সমাধান দেন। তিনি বলেন, “মানবজীবন পরিবর্তনশীল। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অতীতের সিদ্ধান্তের আলোকে নতুন সমস্যার সমাধান দেওয়া বিধিসম্মত।”
কুরআন মাজিদ তাড়াহুড়ো না করে তাজবিদসহ হরফের সঠিক উচ্চারণ, অর্থ ও মর্ম উপলব্ধি করে ধীরে ধীরে তিলাওয়াত করার নির্দেশ দিয়ে আল্লাহ তায়ালা এ কথা বলেছেন।
ধীরস্থিরভাবে তিলাওয়াত করলে অন্তরে আল্লাহর ভীতি ও কুরআনের নূর প্রবেশ করে।
দৃশ্যকল্প-১ এ ইমাম সাহেবের মোবাইল বেজে উঠলে চুপিসারে বন্ধ করার ব্যাপারে বিজ্ঞ আলেমদের একমত হওয়ার ঘোষণায় ইসলামি শরিয়তের তৃতীয় উৎস 'ইজমা' (ঐকমত্য)-এর প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
রাসুলুল্লাহ (স.)-এর ওফাতের পর কোনো যুগে সমকালীন বিজ্ঞ মুজতাহিদ আলেমদের কোনো শরিয়তি সিদ্ধান্তে সর্বসম্মত ঐকমত্য পোষণ করাকে ইজমা বলে। নামাযের বিঘ্ন রোধে কিবলা ঠিক রেখে একহাতে সামান্য নড়াচড়া (আমলে কালিল) করে মোবাইল সাইলেন্ট করার ব্যাপারে আধুনিক ফকিহগণ সর্বসম্মত রায় দিয়েছেন।
ইমাম সাহেব ইজমার এই আধুনিক সময়োপযোগী সিদ্ধান্তটিই মুসল্লিদের ব্যাখ্যা করেছেন।
চিহ্নিত করলে দেখা যায়— দৃশ্যকল্প-২ এ অতীতের সিদ্ধান্তের আলোকে বর্তমান নতুন সমস্যার সমাধান করার প্রক্রিয়াটি শরিয়তের চতুর্থ উৎস 'কিয়াস' (আইনি সাদৃশ্যমূলক অনুমান)-এর সাথে সংগতিপূর্ণ; ইসলামি আইনশাস্ত্রে এর প্রয়োজনীয়তা ও মন্তব্যের যথার্থতা অনস্বীকার্য।
ইসলামি শরিয়তে যে সকল নতুন বিষয়ের প্রত্যক্ষ সমাধান কুরআন, হাদিস বা ইজমায় পাওয়া যায় না, সে ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী প্রতিষ্ঠিত বিধানের মূল কারণের (ইল্লত) সাথে সাদৃশ্য বিচার করে পদ্ধতিগত সমাধান বের করাকে কিয়াস বলে। মানুষের জীবন ও যুগ সর্বদা পরিবর্তনশীল; নতুন প্রযুক্তি ও সংস্কৃতির সাথে নিত্যনতুন সমস্যার সৃষ্টি হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা যেমন বাস্তবতার নিরিখে অতীত আইনের মূল চেতনার সাথে সমন্বয় করে সিদ্ধান্ত দেন, মুজতাহিদগণও তেমনি কিয়াসের মাধ্যমে শরিয়তের মূল চেতনা বজায় রেখে নতুন সংকটের সমাধান দেন।
সুতরাং, ইসলামি আইনের সার্বজনীনতা ও গতিশীলতা রক্ষায় কিয়াসের গুরুত্ব অপরিসীম।
আল্লাহ তায়ালা মানুষকে দুনিয়াতে স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি দিয়ে পাঠিয়েছেন যাতে তিনি পরীক্ষা করতে পারেন কারা তাঁর আদেশ মেনে সৎকর্ম করে আর কারা পাপাচার করে; তাই পার্থিব জীবন হলো আখিরাতের পরীক্ষাগার।
এই পরীক্ষার ফলাফলের ওপরই পরকালের জান্নাত বা জাহান্নাম নির্ধারিত হবে।
ইউসুফ সাহেবের আল্লাহ তাঁকে দেখছেন এবং আল্লাহর সামনে দাঁড়াতে হবে এই ভয়ে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ নষ্ট করে দেওয়ার মহতী আচরণে আখলাকে হামিদাহর শ্রেষ্ঠ ভিত্তি 'তাকওয়া' (আল্লাহভীতি ও খোদাভীতি) ফুটে উঠেছে।
তাকওয়া হলো গোপনে ও প্রকাশ্যে সর্বদা আল্লাহ তায়ালাকে হাজির-নাজির জেনে যাবতীয় হারাম ও ধোঁকাবাজি থেকে বেঁচে থাকা। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন— 'যে ধোঁকা দেয় সে আমার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত নয়' (সহিহ মুসলিম)।
ইউসুফ সাহেব নিজের আর্থিক ক্ষতির চেয়ে আল্লাহর ভয় ও মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষাকে প্রাধান্য দিয়ে খাঁটি মুত্তাকির পরিচয় দিয়েছেন।
চিহ্নিত করলে দেখা যায়— নজরুল সাহেবের চোখের সামনে একজন নিরীহ রিকশাচালককে শারীরিকভাবে নির্যাতিত হতে দেখেও কোনো প্রতিবাদ না করার কারণে তাঁকে পরিপূর্ণ মুমিন বলা যায় না; কারণ তিনি মুমিনের অপরিহার্য সামাজিক দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন।
হাদিস শরিফে রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেছেন— 'তোমাদের কেউ যখন কোনো অন্যায় বা অপরাধ সংঘটিত হতে দেখে, সে যেন তা নিজ হাত (শক্তি) দিয়ে প্রতিহত করে; তা সম্ভব না হলে কথার মাধ্যমে প্রতিবাদ করে; আর তাও সম্ভব না হলে অন্তর দিয়ে ঘৃণা করে— আর এটি হলো ঈমানের দুর্বলতম স্তর' (সহিহ মুসলিম)।
নজরুল সাহেব অন্যায়ের বিরুদ্ধে মৌখিক বা কার্যকর কোনো প্রতিবাদই করেননি। সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও মজলুমকে জালেমের হাত থেকে রক্ষা না করা মুমিনের আদর্শের পরিপন্থি।
সুতরাং, অন্যায়ের বিরুদ্ধে কার্যকর ভূমিকা না নেওয়ায় তাঁর ঈমান অপূর্ণাঙ্গ ও দুর্বল রয়ে গেছে।
প্রেক্ষাপট-১ : আব্দুল্লাহ ইবনে উবাই মহানবি (স.)-এর সাথে আন্তরিকভাবে চলাফেরা করে উহুদ যুদ্ধেও যায়। সে মহানবি (স.)-কে যুদ্ধে অংশগ্রহণের কথা দিয়েও যুদ্ধ শুরুর পূর্বেই কিছু লোক নিয়ে মদিনায় ফিরে আসে।
প্রেক্ষাপট-২ : জাহেদ ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার পর তার বাবা জনৈক সাধকের কাছে গিয়ে তার পা ধরে লুটিয়ে পড়ে বলে, "আপনিই একমাত্র আমার সন্তানকে সুস্থ করে দিতে পারেন।"
আখিরাতে বিশ্বাস মানুষকে দুনিয়ায় জবাবদিহিমূলক, সত্যবাদী ও পাপাচারমুক্ত পবিত্র জীবনযাপনে বাধ্য করে এবং চরম ত্যাগের মধ্যেও ন্যায়নিষ্ঠ থাকার অনুপ্রেরণা জোগায় বলেই এতে বিশ্বাস অপরিহার্য।
পরকালের বিশ্বাস ছাড়া মানুষ লাগামহীন হয়ে পড়ে।
প্রেক্ষাপট-১ এ আব্দুল্লাহ ইবনে উবাইয়ের মহানবি (স.)-এর সাথে আন্তরিকতার ভান করা সত্ত্বেও উহুদ যুদ্ধের মুখে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে তিনশত লোক নিয়ে ফিরে যাওয়ার আচরণে চরম 'নিফাক' (কপটতা বা মুনাফিকি) প্রকাশ পেয়েছে।
আব্দুল্লাহ ইবনে উবাই ছিল মদিনার মুনাফিকদের সর্দার। সে মুখে ইসলামের কথা বললেও অন্তরে চরম কুফর ও মুসলিমদের প্রতি শত্রুতা পোষণ করত। সংকটের মুহূর্তে মুসলমানদের ত্যাগ করে সে খাঁটি মুনাফিকের লক্ষণ প্রকাশ করেছে।
পবিত্র কুরআনে মুনাফিকদের স্থান জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে (দারকুল আসফাল) ঘোষণা করা হয়েছে।
চিহ্নিত করলে দেখা যায়— প্রেক্ষাপট-২ এ জাহেদের বাবার অসুস্থ সন্তানের রোগমুক্তির জন্য একজন সাধকের পায়ে লুটিয়ে পড়ে 'আপনিই একমাত্র সুস্থ করতে পারেন' বলা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক, বিভ্রান্তিকর এবং ইসলামি আকাইদের দৃষ্টিতে মারাত্মক শিরক।
ইসলামে জীবন-মৃত্যু, রোগ-শোক ও রোগমুক্তির নিরঙ্কুশ মালিক একমাত্র মহান আল্লাহ তায়ালা। কোনো পীর, সাধক বা সৃষ্টি রোগমুক্তি দেওয়ার অসীম ক্ষমতার অধিকারী নয়। হযরত ইব্রাহিম (আ.) বলেছিলেন— 'আর যখন আমি অসুস্থ হই, তখন তিনিই (আল্লাহ) আমাকে সুস্থতা দান করেন' (সুরা আশ-শুআরা: ৮০)।
আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো সৃষ্টির পায়ে সিজদার মতো লুটিয়ে পড়া এবং তাকে রোগদাতা মনে করা তাওহিদের মূলে কুঠারাঘাত। শিরক হলো ক্ষমার অযোগ্য মহাপাপ।
সুতরাং, জাহেদের পিতার উচিত অবিলম্বে এই শিরকি বিশ্বাস থেকে তওবা করে একমাত্র আল্লাহর কাছে সন্তানের সুস্থতার জন্য দোয়া ও সঠিক চিকিৎসা গ্রহণ করা।
আল্লাহ তায়ালা মানুষের বাহ্যিক আমলের চেয়ে অন্তরের খাঁটি উদ্দেশ্য ও ইখলাস বিবেচনা করে প্রতিদান দান করেন; নিয়ত ভালো না হলে কোনো নেক আমলের সাওয়াব মেলে না বলেই রাসুলুল্লাহ (স.) এ কথা বলেছেন।
খাঁটি নিয়তই সফলতার চাবিকাঠি।
জনাব ফারুক তাঁর নির্বাচনি ইশতেহারে দেশ পরিচালনার জন্য পৃথিবীর প্রথম লিখিত সংবিধানের অনুরূপ যে সনদের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন, তা হলো মহানবি (স.) কর্তৃক প্রণীত ঐতিহাসিক 'মদিনা সনদ' (৬২২ খ্রি.)।
মদিনায় হিজরতের পর মহানবি (স.) মুসলিম, ইহুদি ও অন্যান্য সম্প্রদায়ের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি, সমঅধিকার ও নিরাপত্তার জন্য ৪৭টি ধারাসংবলিত এক ঐতিহাসিক সনদ স্বাক্ষর করেন। এটি ছিল বিশ্বের সর্বপ্রথম লিখিত গণতান্ত্রিক ও মানবাধিকারের সংবিধান।
জনাব ফারুক এই সনদের অনুকরণে সর্বজনীন সুশাসন কায়েমের অঙ্গীকার করেছেন।
চিহ্নিত করলে দেখা যায়— জনাব নাসিরের বক্তব্যে মহানবি (স.)-এর ঐতিহাসিক 'বিদায় হজের ভাষণ'-এর মানবাধিকারের মূল বিষয়গুলোর প্রতিফলন ঘটলেও নিজের নতুন মতবাদ প্রতিষ্ঠার দাবিটি ইসলামের মৌলিক শিক্ষার সাথে সাংঘর্ষিক ও ত্রুটিপূর্ণ।
১০ম হিজরিতে আরাফাতের ময়দানে মহানবি (স.) তাঁর বিদায় হজের ঐতিহাসিক ভাষণে সুস্পষ্ট মানবাধিকারের রূপরেখা দেন। তিনি বলেন— অনারবের ওপর আরবের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই, সকল মানুষ ভাই ভাই, নারীর অধিকার সংরক্ষণ করতে হবে এবং কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরে চলতে হবে। তিনি আরও ঘোষণা করেন যে তিনি দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করে গেছেন।
জনাব নাসির বিদায় হজের সাম্য ও সম্প্রীতির কথা বললেও নিজের মতবাদ প্রতিষ্ঠার যে ইচ্ছা ব্যক্ত করেছেন, তা নবুয়তের পূর্ণাঙ্গতা ও সুন্নাহর সার্বভৌমত্বের পরিপন্থি। ইসলাম একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ জীবনবিধান; এতে নতুন কোনো মানবীয় মতবাদের প্রয়োজন নেই।
সুতরাং, বিদায় হজের শ্বাশত আদর্শ ধারণ করে সুন্নাহর পূর্ণাঙ্গ অনুসরণ করাই একমাত্র সঠিক পথ।
শিক্ষক ছাত্রকে সন্তানের মতো স্নেহ দিয়ে নৈতিকতা ও জ্ঞানের আলোয় গড়ে তোলেন এবং ছাত্র শিক্ষককে আজীবন পরম ভক্তি ও শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে; উভয়ের এই পবিত্র নিঃস্বার্থ আত্মিক সম্পর্কের কারণেই একে আত্মার সম্পর্ক বলা হয়।
শিক্ষকের প্রতি ভালোবাসা জ্ঞানের বরকত বৃদ্ধি করে।
মাহফুজ সাহেব মহান আল্লাহর প্রতি আনুগত্যের সর্বশ্রেষ্ঠ মাধ্যম ও বিচার দিবসে সর্বপ্রথম হিসাব গ্রহণকৃত যে ইবাদতটি পালনে সচেষ্ট, তা হলো ইসলামের দ্বিতীয় স্তম্ভ 'সালাত' (নামাজ)।
সালাত হলো মুমিনের জন্য শ্রেষ্ঠ দৈহিক ইবাদত এবং দ্বীনের স্তম্ভ। হাদিসে রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেছেন— 'কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম বান্দার সালাতের হিসাব নেওয়া হবে' (তিরমিজি)। সালাত মানুষকে অন্যায় ও অশ্লীল কাজ থেকে মুক্ত রাখে।
মাহফুজ সাহেব এই মহান ফরজ ইবাদতের মাধ্যমে রবের সন্তুষ্টি অর্জনে ব্রতী হয়েছেন।
চিহ্নিত করলে দেখা যায়— নিয়াজ ও ইজাজের আদায়কৃত ইবাদতটি হলো ইসলামের অন্যতম প্রধান আর্থিক স্তম্ভ 'যাকাত'; তবে সমাজকল্যাণ ও দারিদ্র্য দূরীকরণের স্থায়ী প্রভাবের বিচারে ইজাজের আদায়ের পদ্ধতিটিই অধিকতর যুক্তিযুক্ত ও বিজ্ঞানসম্মত।
নিয়াজ শাড়ি-লুঙ্গি কিনে সাময়িক সহায়তা করেছেন, যা দিয়ে দরিদ্র মানুষের তাৎক্ষণিক প্রয়োজন মিটলেও তারা আজীবন দরিদ্রই থেকে যায়। পক্ষান্তরে, ইজাজ দুইজন অসহায় মহিলাকে উৎপাদনশীল সম্পদ হিসেবে গাভি কিনে দিয়েছেন। এর দুধ বিক্রি করে ও বাছুর লালন-পালন করে মহিলারা স্থায়ীভাবে স্বাবলম্বী হতে পারবে এবং পরিবারে সচ্ছলতা আসবে।
ইসলামে যাকাত ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য হলো দরিদ্রদের স্থায়ীভাবে কর্মক্ষম ও স্বাবলম্বী করে তোলা, যেন ভবিষ্যতে তারা নিজেরাই যাকাতদাতার স্তরে উন্নীত হতে পারে।
সুতরাং, টেকসই দারিদ্র্য বিমোচনে ইজাজের সম্পদ প্রদানের পদ্ধতিই ইসলামের মূল চেতনার সাথে সর্বাধিক সংগতিপূর্ণ।
গাছপালা প্রাণিকুলকে অক্সিজেন, ফলমূল ও ছায়া দিয়ে পরিবেশ রক্ষা করে এবং রাসুলুল্লাহ (স.) বৃক্ষরোপণকে সদকায়ে জারিয়া ও মহৎ সাওয়াবের কাজ ঘোষণা করেছেন বলেই বৃক্ষরোপণ পুণ্যের কাজ।
রোপিত বৃক্ষ থেকে কেউ উপকৃত হলে রোপণকারী কবরেও সাওয়াব পায়।
ত্রাণ সহায়তাকারীর 'বিপদ দূর করে আল্লাহ শান্তির পরিবেশ ফিরিয়ে দিবেন' আশাবাদী মন্তব্যে পবিত্র কুরআনের ৯৪তম সুরা 'সুরা আল-ইনশিরাহ' (বা আশ-শারহ)-এর মহান শিক্ষা প্রতিফলিত হয়েছে।
সুরা আল-ইনশিরাহে মহান আল্লাহ তায়ালা মুমিনদের সান্ত্বনা ও সুসংবাদ দিয়ে দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেছেন— 'নিশ্চয়ই কষ্টের সাথেই স্বস্তি রয়েছে, নিশ্চয়ই কষ্টের সাথেই স্বস্তি রয়েছে' (আয়াত: ৫-৬)।
ত্রাণকর্মী এই সুরার শ্বাশত বার্তার মাধ্যমেই চরম সংকটেও আল্লাহর রহমত ও আসন্ন শান্তির গভীর আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
চিহ্নিত করলে দেখা যায়— উদ্দীপকের শেষাংশে 'আমরা সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি অথচ কৃতকর্মের কারণে পশুত্বের স্তরে নেমে যাই' মন্তব্যে পবিত্র কুরআনের ৯৫তম সুরা 'সুরা আত-তীন'-এর ৪ ও ৫ নম্বর আয়াতের অন্তর্নিহিত শিক্ষা ফুটে উঠেছে।
সুরা আত-তীনে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন— 'লাক্বাদ খালাক্বনাল ইনসানা ফি আহসানি তাক্বওয়ীম, ছুম্মা রাদাদনাহু আসফালা সাফিলীন' অর্থাৎ নিশ্চয়ই আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি সর্বোত্তম অবয়ব ও গঠনে, অতঃপর তাকে নামিয়ে দিয়েছি নিকৃষ্টতম অধম স্তরে (যদি সে পাপাচার করে)।
মানুষ যখন তার বিবেক, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ হারিয়ে হিংসা ও কলহে লিপ্ত হয়, তখন সে পশুর চেয়েও অধম স্তরে পতিত হয়। একমাত্র ঈমান ও সৎকর্মের মাধ্যমেই মানুষ তার সৃষ্টির শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখতে পারে।
সুতরাং, সুরা আত-তীনের আলোকে আত্মশুদ্ধি অর্জন করে নৈতিক চরিত্রের বিকাশ ঘটানোই প্রতিটি মানুষের কর্তব্য।
রোজা এমন এক গোপন ইবাদত যাতে কোনো রিয়া বা লোকদেখানোর সুযোগ নেই; বান্দা একমাত্র আল্লাহর ভালোবাসায় ক্ষুধার কষ্ট সহ্য করে বলেই আল্লাহ স্বয়ং এর সীমাহীন প্রতিদান দান করবেন ঘোষণা করেছেন।
হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ সাওমের এই অনন্য মর্যাদার কথা ব্যক্ত করেছেন।
'ক'-এর বিশ্বকাপ খেলা দেখে সালাত বর্জন করা এবং সালাত পড়াকে 'অযথা সময় নষ্ট' বলায় আকাইদের মৌলিক স্তম্ভ 'কুফর ও দ্বীনের ফরজ বিধানকে উপহাস করার জঘন্য পাপ' প্রকাশ পেয়েছে।
সালাত হলো ইসলামের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ ও ফরজে আইন। শরিয়তের কোনো স্পষ্ট ফরজ বিধানকে অপ্রয়োজনীয় ভাবা বা তা নিয়ে তাচ্ছিল্য করা সুস্পষ্ট কুফরি, যা মানুষকে ঈমানের গণ্ডি থেকে বের করে দেয়।
'ক' তার অজ্ঞতা ও দাম্ভিকতার কারণে আল্লাহর ফরজের অবমাননা করে মারাত্মক গুনাহে লিপ্ত হয়েছে।
চিহ্নিত করলে দেখা যায়— ড. ইউসুফ কারযাভীর ভবিষ্যতে আর কোনো নতুন পথপ্রদর্শক বা নবি না আসার প্রেক্ষিতে 'না' বলা আকাইদের অবিসংবাদিত ভিত্তি 'খতমে নবুয়ত' (নবুয়তের সমাপ্তি)-এর আলোকে শতভাগ কুরআনসম্মত ও যথার্থ।
খতমে নবুয়ত হলো এই দৃঢ় বিশ্বাস যে— হযরত মুহাম্মদ (স.) হলেন সমগ্র মানবজাতির জন্য আল্লাহ প্রেরিত সর্বশেষ ও চূড়ান্ত রাসুল। তাঁর পর কিয়ামত পর্যন্ত আর কোনো নবি বা রাসুল আসবেন না। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করেছেন— 'মুহাম্মদ (স.) তোমাদের কোনো পুরুষের পিতা নন, বরং তিনি আল্লাহর রাসুল এবং সর্বশেষ নবি' (সুরা আল-আহযাব: ৪০)। রাসুলুল্লাহ (স.) নিজেও বলেছেন— 'লা নাবিয়্যা বা’দী' অর্থাৎ আমার পর আর কোনো নবি নেই।
ড. কারযাভী নব্য মুসলিমদের আকাইদের এই মৌলিক সত্যটিই দ্ব্যর্থহীনভাবে জানিয়ে দিয়েছেন। নবুয়তের সমাপ্তি স্বীকার করা ঈমানের অপরিহার্য শর্ত।
অতএব, খতমে নবুয়তের অকাট্য আকিদা অনুযায়ী ড. কারযাভীর বক্তব্য সম্পূর্ণ নির্ভুল ও যুক্তিযুক্ত।
সততা ও বিশ্বস্ততার সাথে ব্যবসা পরিচালনা করলে বাজারে ভোক্তা ও ব্যবসায়ীদের মাঝে আস্থা সৃষ্টি হয়, পণ্য ভেজালমুক্ত থাকে এবং সমাজ থেকে শোষণ দূর হয় বলেই এটি ইসলামে এক মহৎ গুণ।
সত্যবাদী আমানতদার ব্যবসায়ী পরকালে নবি ও শহীদদের সাথে থাকবে।
প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যানের যোগ্য প্রার্থী বাদ দিয়ে গোপনে আর্থিক লেনদেনের (অবৈধ অর্থ গ্রহণের) মাধ্যমে চাকরি দেওয়ার কর্মকাণ্ডে আখলাকে যামিমাহর জঘন্য রূপ 'ঘুষ গ্রহণ' (রিশওয়াত) প্রকাশ পেয়েছে।
ইসলামি শরিয়তে ঘুষ সম্পূর্ণ হারাম ও কবিরা গুনাহ। রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেছেন— 'ঘুষদাতা ও ঘুষ গ্রহণকারী উভয়েই জাহান্নামি' (তিরমিজি)। ঘুষের কারণে যোগ্য প্রার্থীরা বঞ্চিত হয় এবং অযোগ্যরা দায়িত্বে এসে পুরো প্রতিষ্ঠানের সর্বনাশ ঘটায়।
চেয়ারম্যান আমানতের খেয়ানত করে মারাত্মক সামাজিক ও ধর্মীয় অপরাধ করেছেন।
চিহ্নিত করলে দেখা যায়— তোহফার প্রতিবেশীর দুই লক্ষ টাকার বিনিময়ে এক বছর পর অতিরিক্ত পঞ্চাশ হাজার টাকা (মোট আড়াই লক্ষ টাকা) দাবি করা সম্পূর্ণ অন্যায্য, শরিয়তবিরোধী এবং চরম হারাম 'সুদ' (রিবা)।
ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী কোনো ঋণ দিয়ে শরিয়তসম্মত বৈধ ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব ছাড়া নির্দিষ্ট অতিরিক্ত টাকা আদায় করা সুস্পষ্ট সুদ। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে ঘোষণা করেছেন— 'আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং সুদকে হারাম করেছেন' (সুরা আল-বাকারা: ২৭৫)।
সুদের মাধ্যমে মানুষ অন্য মানুষের দুর্বলতা ও অভাবের সুযোগ নিয়ে শোষণ চালায়। এটি সমাজে ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য সৃষ্টি করে এবং পারস্পরিক সহানুভূতি নষ্ট করে। রাসুলুল্লাহ (স.) সুদখোর, দাতা ও এর সাক্ষীদের ওপর লানত দিয়েছেন।
সুতরাং, প্রতিবেশীর এই সুদি শর্ত সম্পূর্ণ অবৈধ ও হারাম; তোহফার উচিত এই সুদি ফাঁদ বর্জন করা।
জান্নাত হলো পরকালে মুমিন ও পুণ্যবান বান্দাদের জন্য মহান আল্লাহর প্রস্তুতকৃত চিরস্থায়ী পরম শান্তির আবাস্থল।
জান্নাতে এমন সব অতুলনীয় নিয়ামত ও সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য রয়েছে যা কোনো চোখ কখনো দেখেনি, কোনো কান কখনো শোনেনি এবং কোনো মানুষের কল্পনাতেও কখনো আসেনি। সেখানে কোনো দুঃখ, রোগশোক, ক্লান্তি বা বার্ধক্য নেই; মুমিনগণ সেখানে চিরকাল অফুরন্ত আনন্দ ও আল্লাহর সন্তুষ্টিতে বসবাস করবেন।
পবিত্র কুরআনের কোনো সুরা বা নির্দিষ্ট আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার ঐতিহাসিক কারণ ও পটভূমিকে 'শানে নুযুল' বলে।
শানে নুযুল জানার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট আয়াতের সঠিক অর্থ, উদ্দেশ্য ও হুকুমের তাৎপর্য নিখুঁতভাবে অনুধাবন করা যায়। এর ফলে আয়াতের অপব্যাখ্যার অবকাশ থাকে না এবং শরিয়তের বিধান প্রয়োগের প্রেক্ষাপট সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে।
হাসানের ইচ্ছাকৃতভাবে এক ওয়াক্তের সালাত অন্য ওয়াক্তে আদায় করা বা সালাতে অলসতা প্রদর্শনের কর্মকাণ্ডে সুরা আল-মাউনে বর্ণিত 'সালাতে অবহেলাকারী ও উদাসীনদের' নিন্দনীয় আচরণ প্রকাশ পেয়েছে।
সুরা আল-মাউনে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন— 'সুতরাং ধ্বংস সেই সালাত আদায়কারীদের জন্য, যারা তাদের সালাতের ব্যাপারে উদাসীন/অমনোযোগী' (আয়াত: ৪-৫)। সময়মতো সালাত আদায় না করা মুনাফিকের বৈশিষ্ট্য।
সালাতের রুকু থেকে সোজা হয়ে স্থিরভাবে দাঁড়ানো (কওমা) ইসলামি শরিয়তের আহকামে 'ওয়াজিব' (তা’দিলে আরকান বা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ স্থির রাখা)।
শাহিন রুকু থেকে সোজা হয়ে না দাঁড়িয়ে তাড়াহুড়ো করে সিজদায় চলে যাওয়ায় সালাতের গুরুত্বপূর্ণ ওয়াজিব বিধান লঙ্ঘিত হয়েছে। কোনো ওয়াজিব ভুলবশত ছুটলে সাহু সিজদা দিতে হয়, আর ইচ্ছাকৃতভাবে ছেড়ে দিলে সালাত পুনরায় আদায় করা আবশ্যক।
জামাআতে সালাত আদায়ের মাধ্যমে মুসলমানদের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সাম্য, একতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ সুদৃঢ় হয় এবং ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য দূর হয়।
হাদিস শরিফে রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেছেন— 'একাকী সালাত আদায়ের চেয়ে জামাআতে সালাত আদায় করলে সাতাশ গুণ বেশি সাওয়াব পাওয়া যায়' (সহিহ বুখারি)। একতার শক্তি ও পারস্পরিক সম্প্রীতি বৃদ্ধির জন্যই জামাআতে নামাজ আদায় করতে হয়।
জিহাদ ও সন্ত্রাসবাদ সম্পূর্ণ বিপরীতধর্মী দুটি প্রত্যয়। জিহাদ অর্থ অন্যায়, অবিচার, জুলুম ও শয়তানি শক্তির বিরুদ্ধে আত্মরক্ষা, সত্য প্রতিষ্ঠা ও ন্যায়ের সংগ্রামে চূড়ান্ত প্রচেষ্টা চালানো; যার মূল লক্ষ্য সমাজে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা করা।
পক্ষান্তরে সন্ত্রাসবাদ হলো ব্যক্তিস্বার্থ বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নিরপরাধ মানুষ হত্যা, ভয়ভীতি সৃষ্টি ও বিশৃঙ্খলা ছড়ানো। ইসলামে নিরপরাধ মানুষ হত্যা ও সন্ত্রাসকে সম্পূর্ণ হারাম ঘোষণা করা হয়েছে।
ইসলামের চতুর্থ খলিফা হযরত আলী (রা.) ছাত্র-শিক্ষকের মর্যাদা ও কৃতজ্ঞতাবোধের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেছিলেন— 'যিনি আমাকে একটি অক্ষরও শিখিয়েছেন, আমি তাঁর কৃতদাস; তিনি ইচ্ছে করলে আমাকে বিক্রি করতে পারেন, আবার ইচ্ছে করলে আজাদও করতে পারেন।'
তাঁর এই কালজয়ী বাণী শিক্ষকের প্রতি আজীবন বিনয়, শ্রদ্ধা ও আনুগত্যের চূড়ান্ত দৃষ্টান্ত।
গিবত বা পরনিন্দা মানুষের সামাজিক সম্মান ও মর্যাদা হরণ করে সমাজে পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব ও ভালোবাসার বন্ধন ধ্বংস করে দেয়।
রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেছেন— 'আল-গীবাতু আশাদ্দু মিনায যিনা' অর্থাৎ পরনিন্দা ব্যভিচারের চেয়েও মারাত্মক পাপ। ব্যভিচারের পাপ তওবা দ্বারা মাফ হলেও গিবত যার বিরুদ্ধে করা হয়েছে সে ক্ষমা না করলে আল্লাহ মাফ করেন না।
মক্কার কাফির ও কুরাইশদের অসহনীয় জুলুম-নির্যাতন, ইসলাম প্রচারে চরম বাধা এবং মহানবি (স.)-কে হত্যার ষড়যন্ত্রের প্রেক্ষিতে মহান আল্লাহর সুস্পষ্ট নির্দেশে তিনি মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করেছিলেন।
হিজরতের মূল উদ্দেশ্য ছিল সত্য দ্বীনকে হেফাজত করা এবং মদিনায় একটি স্বাধীন, শান্তিময় ও আদর্শ ইসলামি সমাজব্যবস্থা ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা।
প্রাচীন আরবে আধুনিক জ্ঞানবিজ্ঞান চর্চার প্রাতিষ্ঠানিক রূপ ছিল না; তাদের যুদ্ধবিগ্রহ, প্রেম-ভালোবাসা, গোত্রীয় ঐতিহ্য, বীরত্ব ও জীবনের বাস্তব চিত্র ছন্দোবদ্ধ দীর্ঘ কবিতার মাধ্যমেই লিপিবদ্ধ থাকত।
এ কারণেই বলা হয় যে— 'কবিতা হলো প্রাচীন আরবদের জীবনালেখ্য বা জীবন্ত ইতিহাস'; যেখানে তাদের সমগ্র জীবনধারা ফুটে উঠত।
যুদ্ধক্ষেত্রে ঢাল যেমন শত্রুর তরবারি বা তিরের আঘাত থেকে সৈনিককে রক্ষা করে, সাওমও তেমনি মুমিন বান্দাকে শয়তানের প্ররোচনা, কুপ্রবৃত্তি ও যাবতীয় অনৈতিক পাপ থেকে রক্ষা করে।
সাওম পালনের মাধ্যমে অন্তরে তাকওয়া সৃষ্টি হয়, যা বান্দাকে জাহান্নামের আগুন থেকে হেফাজত করে। এ কারণেই হাদিস শরিফে সাওমকে ঢাল বলা হয়েছে।
আখিরাতের প্রথম পর্যায় বা কিয়ামতের দিন ইসরাফিল (আ.)-এর দ্বিতীয় ফুৎকারে সমস্ত মৃত মানুষ আল্লাহর নির্দেশে পুনরায় জীবিত হয়ে কবর থেকে উত্থিত হওয়ার দিবসকে 'ইয়াওমুল বা'আছ' বা পুনরুত্থান দিবস বলে।
এদিন সকল মানুষ পুনরুজ্জীবিত হয়ে হাশরের ময়দানে তাদের কৃতকর্মের চূড়ান্ত হিসাব দেওয়ার জন্য সমবেত হবে।
ওয়াদা বা অঙ্গীকার পূরণ করা ঈমানের অন্যতম প্রধান দাবি এবং খাঁটি মুমিনের চারিত্রিক ভূষণ।
মুমিন ব্যক্তি যেকোনো মূল্যে নিজের চুক্তি ও প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে। আল-কুরআনে আল্লাহ তায়ালা নির্দেশ দিয়েছেন— 'তোমরা অঙ্গীকার পূরণ করো; নিশ্চয়ই অঙ্গীকার সম্পর্কে জবাবদিহি করতে হবে' (সুরা বনি ইসরাইল: ৩৪)। পক্ষান্তরে ওয়াদা ভঙ্গ করা মুনাফিকের লক্ষণ।
বুখারার তৎকালীন গভর্নর খালিদ ইবনে আহমদ জুহলি ইমাম বুখারি (র.)-কে তাঁর প্রাসাদে এসে গভর্নরের সন্তানদের এককভাবে হাদিস পড়ানোর নির্দেশ দেন।
ইমাম বুখারি (র.) ইলমে হাদিসের মর্যাদা রক্ষার্থে দ্ব্যর্থহীনভাবে বলেন— 'আমি হাদিসকে লাঞ্ছিত করে শাসকদের দরবারে নিয়ে যেতে পারি না; যার প্রয়োজন সে আমার মাদরাসায় বা মসজিদে এসে শিখবে।' এতে ক্ষুব্ধ হয়ে গভর্নর তাঁকে বুখারা ত্যাগ করতে বাধ্য করেন।
ইসলামি বিশেষজ্ঞ ও মনীষীদের মতে শরিয়তের বিষয়বস্তুকে প্রধানত তিনটি মৌলিক বিভাগে ভাগ করা হয়েছে:
১. আকাইদ বা বিশ্বাসগত বিষয়: তাওহিদ, রিসালাত, আখিরাত, ফেরেশতা ও তকদিরে বিশ্বাস।
২. আখলাক বা নৈতিকতা ও আচরণবিধি: সৎগুণাবলি অর্জন এবং অসৎ চরিত্র বর্জন সংক্রান্ত নিয়মাবলী।
৩. আহকাম বা বিধানাবলী: ইবাদত, মুয়ামালাত (লেনদেন), মুনাকাহাত (পারিবারিক আইন) ও উকুবাাত (দণ্ডবিধি)।