১. উদ্দীপকটি পড়ো এবং নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও
স্ক্রু-গজের বৃত্তাকার স্কেল এক ভাগ ঘোরালে তার প্রান্ত যতটুকু সরণ করে, তাকে স্ক্রু-গজের ন্যূনাঙ্ক বলে।
ন্যূনাঙ্ক = স্ক্রুর পিচ/বৃত্তাকার স্কেলের মোট ভাগসংখ্যা।
ভার্নিয়ার ধ্রুবক,
VC = 1 mm/20
= 0.05 mm
= 0.005 cm।
পরিমাপ 4.06 cm-এ মূল স্কেল পাঠ = 4.00 cm ধরলে ভার্নিয়ার অংশের পাঠ,
= 4.06 − 4.00
= 0.06 cm।
ভার্নিয়ার সমপাতন n হলে,
n × 0.005 = 0.06
অতএব n = 12।
শূন্য ত্রুটি না থাকলে ভার্নিয়ার স্কেলের 12তম দাগ মূল স্কেলের কোনো দাগের সঙ্গে মিলে যায়।
গোলকের আয়তন,
V = (π/6)d³।
লগারিদমিক অন্তরীকরণ বা সর্বোচ্চ আপেক্ষিক ত্রুটির নিয়মে,
ΔV/V = 3Δd/d।
উভয় পাশে 100% গুণ করলে,
আয়তনের শতকরা আপেক্ষিক ত্রুটি = 3 × ব্যাসের শতকরা আপেক্ষিক ত্রুটি
= 3 × 1%
= 3%।
অতএব গোলকের আয়তন পরিমাপের আপেক্ষিক ত্রুটি ব্যাস পরিমাপের আপেক্ষিক ত্রুটির তিনগুণ।
২. উদ্দীপকটি পড়ো এবং নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও
প্রথম 1 min 20 s = 80 s। বেগ–সময় লেখের নিচের ক্ষেত্রফলই অতিক্রান্ত দূরত্ব।
0–60 s-এ ত্রিভুজের ক্ষেত্রফল,
s₁ = ½ × 60 × 12
= 360 m।
60–80 s-এ আয়তক্ষেত্রের ক্ষেত্রফল,
s₂ = 20 × 12
= 240 m।
মোট দূরত্ব,
s = s₁ + s₂
= 360 + 240
= 600 m।
0–60 s-এ বেগ 0 থেকে 12 m s⁻¹-এ সমভাবে বাড়ে। তাই,
a₁ = (12 − 0)/(60 − 0)
= +0.2 m s⁻²।
60–80 s-এ বেগ ধ্রুব 12 m s⁻¹, তাই a₂ = 0।
80–120 s-এ বেগ 12 থেকে 0 m s⁻¹-এ সমভাবে কমে। তাই,
a₃ = (0 − 12)/(120 − 80)
= −0.3 m s⁻²।
অতএব ত্বরণ–সময় লেখটি 0–60 s-এ +0.2 m s⁻², 60–80 s-এ শূন্য এবং 80–120 s-এ −0.3 m s⁻²-এর তিনটি অনুভূমিক অংশ। সংযুক্ত চিত্রে লেখটি দেখানো হয়েছে।
৩. উদ্দীপকটি পড়ো এবং নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও
t সময় পরে A-এর অতিক্রান্ত দূরত্ব,
sA = 25t + ½ × 0.5t²
= 25t + 0.25t²।
একই সময়ে B-এর অতিক্রান্ত দূরত্ব,
sB = 20t + ½ × 0.4t²
= 20t + 0.20t²।
সংঘর্ষের সময় sA + sB = 187.2। তাই,
45t + 0.45t² = 187.2
বা, 0.45t² + 45t − 187.2 = 0।
সমাধান করে ধনাত্মক মূল পাই,
t = 4 s।
প্রাথমিক মোট গতিশক্তি,
K₁ = ½ × 8 × 25² + ½ × 2 × 20²
= 2500 + 400
= 2900 J।
4 s পরে সংঘর্ষের ঠিক আগে A-এর বেগ,
vA = 25 + 0.5 × 4
= 27 m s⁻¹।
B-এর বেগের মান,
vB = 20 + 0.4 × 4
= 21.6 m s⁻¹।
তখন মোট গতিশক্তি,
K₂ = ½ × 8 × 27² + ½ × 2 × 21.6²
= 2916 + 466.56
= 3382.56 J।
এখানে K₂ ≠ K₁; গতিশক্তি 482.56 J বেড়েছে। কারণ চলার সময় মার্বেল দুটির ওপর ত্বরণ সৃষ্টিকারী বাহ্যিক বল কাজ করেছে। তাই প্রাথমিক অবস্থা থেকে সংঘর্ষের মুহূর্ত পর্যন্ত ঘটনাটি গতিশক্তি সংরক্ষণ নীতি মেনে চলে না। সংঘর্ষের পরের গতিশক্তি বিচার করতে হলে সংঘর্ষোত্তর বেগও প্রয়োজন।
৪. উদ্দীপকটি পড়ো এবং নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও
প্রথম মোটরের কার্যকর ক্ষমতা,
Pout = ηPin
= 0.70 × 1000
= 700 W।
5 min = 300 s-এ কার্যকর কাজ,
W = Poutt
= 700 × 300
= 210000 J।
পানি তুলতে W = mgh। তাই,
m = W/(gh)
= 210000/(9.8 × 30)
≈ 714.3 kg।
অতএব প্রথম মোটরটি 5 min-এ প্রায় 714 kg পানি 30 m উচ্চতায় তুলতে পারবে।
দ্বিতীয় মোটরের কার্যকর ক্ষমতা,
Pout = mgh/t
= (1000 × 9.8 × 10)/120
≈ 816.7 W।
এর কর্মদক্ষতা,
η₂ = (Pout/Pin) × 100%
= (816.7/2000) × 100%
≈ 40.8%।
প্রথম মোটরের কর্মদক্ষতা 70%, যা দ্বিতীয় মোটরের 40.8%-এর চেয়ে বেশি। একই উপযোগী উত্তোলনকাজে প্রথম মোটরে শক্তির অপচয় কম হবে। তাই শক্তি-সাশ্রয় ও কর্মদক্ষতার বিচারে প্রথম মোটর নির্বাচন করব। তবে নির্দিষ্ট সময়ে বেশি পানি তোলাই একমাত্র লক্ষ্য হলে দ্বিতীয় মোটরের কার্যকর ক্ষমতা 816.7 W, যা প্রথমটির 700 W-এর চেয়ে বেশি—সেক্ষেত্রে দ্বিতীয়টি দ্রুততর।
৫. উদ্দীপকটি পড়ো এবং নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও
তরঙ্গের তীব্রতা I তার বিস্তার A-এর বর্গের সমানুপাতিক, অর্থাৎ I ∝ A²। বিস্তার দ্বিগুণ হলে A₂ = 2A₁। তাই,
I₂/I₁ = (A₂/A₁)²
= 2²
= 4।
অতএব শব্দতরঙ্গের বিস্তার দ্বিগুণ হলে তীব্রতা চারগুণ হয়।
30°C-এ শব্দের বেগ,
v = 330 + 0.6 × 30
= 348 m s⁻¹।
তরঙ্গদৈর্ঘ্য λ = 15 cm = 0.15 m।
কম্পাঙ্ক,
f = v/λ
= 348/0.15
= 2320 Hz।
পর্যায়কাল,
T = 1/f
= 1/2320
≈ 4.31 × 10⁻⁴ s।
প্রতিফলকের বিপরীত দিকে দৌড়ানোর সময় t = 0.5 s-এ শব্দের মোট পথ,
2d + ut = vt।
অতএব প্রাথমিক দূরত্ব,
d = (v − u)t/2
= (348 − 10) × 0.5/2
= 84.5 m।
একই প্রাথমিক দূরত্ব থেকে প্রতিফলকের দিকে 10 m s⁻¹ বেগে দৌড়ালে প্রতিধ্বনির সময় t′ হবে,
2d − ut′ = vt′
অথবা t′ = 2d/(v + u)
= 169/(348 + 10)
≈ 0.472 s।
0.472 s < 0.5 s। তাই প্রতিফলকের দিকে দৌড়ালে রাফিয়া একই সময় পরে নয়, প্রায় 0.472 s পরেই প্রতিধ্বনি শুনত।
৬. উদ্দীপকটি পড়ো এবং নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও
নতুন কার্তেসীয় চিহ্নরীতিতে অবতল দর্পণের জন্য,
f = −20 cm এবং u = −50 cm।
দর্পণ সূত্র,
1/f = 1/v + 1/u।
তাই,
1/v = 1/f − 1/u
= −1/20 + 1/50
= −3/100।
অতএব v = −100/3 cm ≈ −33.3 cm।
বিম্বটি দর্পণের সামনে 33.3 cm দূরে গঠিত হয়; এটি বাস্তব ও উল্টো।
বস্তুটি প্রধান ফোকাস F-এ, অর্থাৎ দর্পণের সামনে 20 cm দূরে রাখলে প্রতিফলিত রশ্মিগুলো পরস্পরের সমান্তরাল হয়ে যায়। দর্পণ সূত্রেও u = f হলে,
1/v = 1/f − 1/u = 0
অতএব v → ∞।
অর্থাৎ রশ্মিগুলো কোনো সসীম দূরত্বে মিলিত হয় না; প্রতিবিম্ব অসীমে গঠিত বলে পর্দায় সসীম অবস্থানে প্রতিবিম্ব পাওয়া যায় না। সংযুক্ত রশ্মিচিত্রে সমান্তরাল প্রতিফলিত রশ্মি দেখানো হয়েছে।
৭. উদ্দীপকটি পড়ো এবং নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও
qP = +60 C, qQ = +30 C এবং r = 30 cm = 0.30 m।
কুলম্বের সূত্রে,
F = K|qPqQ|/r²
= (9 × 10⁹ × 60 × 30)/(0.30)²
= 1.8 × 10¹⁴ N।
আধান দুটি সমধর্মী বলে বলটি বিকর্ষণধর্মী।
R বিন্দুতে P-এর জন্য তড়িৎ প্রাবল্য,
EP = KqP/(PR)²
= 9 × 10⁹ × 60/(0.22)²
≈ 1.12 × 10¹³ N C⁻¹, Q-এর দিকে।
Q-এর জন্য তড়িৎ প্রাবল্য,
EQ = KqQ/(QR)²
= 9 × 10⁹ × 30/(0.08)²
≈ 4.22 × 10¹³ N C⁻¹, P-এর দিকে।
অতএব EP ≠ EQ; Q-এর ক্ষেত্রপ্রাবল্য প্রায় 3.78 গুণ বেশি। দুটি ক্ষেত্র বিপরীতমুখী হওয়ায় লব্ধ প্রাবল্য,
E = EQ − EP
≈ 3.10 × 10¹³ N C⁻¹, P-এর দিকে।
তাই R বিন্দুতে P ও Q-এর জন্য তড়িৎ প্রাবল্য একই নয়।
ভর হলো বস্তুর পদার্থের পরিমাণ এবং জড়তার পরিমাপ। এটি একটি মৌলিক স্কেলার রাশি; SI একক kg এবং মাত্রা [M]। স্থান পরিবর্তনে ভর অপরিবর্তিত থাকে।
ওজন হলো পৃথিবী বা অন্য জ্যোতিষ্কের মহাকর্ষীয় আকর্ষণ বল, W = mg। এটি একটি লব্ধ ভেক্টর রাশি; SI একক N এবং মাত্রা [MLT⁻²]। g-এর মান স্থানভেদে বদলায় বলে ওজনও বদলায়।
অতএব ভর ও ওজনের প্রকৃতি, একক, মাত্রা এবং স্থাননির্ভরতা ভিন্ন; তাই তারা একই ধরনের রাশি নয়।
সরণের সময়ের সাপেক্ষে পরিবর্তনের হারই বেগ। বায়ুর বাধা উপেক্ষা করলে মুক্তভাবে পড়ন্ত বস্তুর ওপর অভিকর্ষ বল ক্রিয়া করে এবং বস্তুটি প্রায় ধ্রুব অভিকর্ষজ ত্বরণ g লাভ করে। তাই,
v = u + gt
অর্থাৎ সময়ের সঙ্গে বেগ বাড়ে। ফলে সমান সমান সময় অন্তরে বস্তুটি ক্রমে বেশি দূরত্ব অতিক্রম করে; n-তম সেকেন্ডের সরণ sₙ = u + ½g(2n − 1)। তাই মুক্তপতনে সরণ পরিবর্তনের হার বা বেগ সর্বদা একই থাকে না।
নিউটনের দ্বিতীয় সূত্র অনুযায়ী কোনো বস্তুর ওপর ক্রিয়াশীল লব্ধ বল,
F = ma।
লব্ধ বাহ্যিক বল শূন্য হলে F = 0। ভর m শূন্য নয়, তাই a = 0। আবার a = (v − u)/t = 0 হলে v = u; অর্থাৎ বেগের মান ও দিক অপরিবর্তিত থাকে। ফলে স্থির বস্তু স্থির থাকে এবং গতিশীল বস্তু সমবেগে সরলরেখায় চলতে থাকে। এটিই নিউটনের প্রথম গতিসূত্র।
বাস্তব প্রতিবিম্বে প্রতিফলিত বা প্রতিসরিত আলোকরশ্মি সত্যিই একটি বিন্দুতে মিলিত হয়; অবাস্তব প্রতিবিম্বে রশ্মিগুলো বাস্তবে মিলিত হয় না, কেবল তাদের পেছনের বর্ধিতাংশ মিলিত বলে মনে হয়।
বাস্তব প্রতিবিম্ব পর্দায় ধরা যায়, কিন্তু অবাস্তব প্রতিবিম্ব পর্দায় ধরা যায় না। দর্পণ বা একক লেন্সে বাস্তব প্রতিবিম্ব সাধারণত উল্টো হয়, আর অবাস্তব প্রতিবিম্ব সাধারণত সোজা হয়। বাস্তব প্রতিবিম্ব দর্পণের সামনে বা লেন্সের বিপরীত পাশে গঠিত হতে পারে; অবাস্তব প্রতিবিম্ব দর্পণের পেছনে বা লেন্সে বস্তুর একই পাশে গঠিত হয়।